আমার প্রিয় পোস্ট

jbond.bd@gmail.com

সনাতন ধর্ম (হিন্দু ) ও ইসলাম এর মধ্যে যোগ সম্পর্ক-৩ (কুরবানী / যজ্ঞ / বলিদান)

০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:১১

শেয়ার করুন:                   Facebook



আমি আমার আগের পোষ্টগুলোতে উল্লেখ করেছিলাম যে, সনাতনপন্হীগণ সম্ভবতঃ হযরত নূহ (আঃ) ও হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর উম্মত । সে হিসেবে বেদে কাবা শরীফের কিছু উল্লেখ পাওয়া যায় এবং তাদের অনেক ধর্মীয় রীতিনীতিতে কাবা শরীফ কেন্দ্রিকতার ছোয়া পাওয়া যায় । ঠিক তেমনিভাবে কুরবানীর ঘটনাও হযরত ইব্রাহীম ও তার পুত্র ঈসমাঈল (আঃ) কে কেন্দ্র করে এবং যেহেতু তাদের সাথে ইব্রাহীম (আঃ) এর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় , সেহেতু তাদের ধর্মগ্রন্হে এত বড় ঘটনার উল্লেখ না থেকে পারেনা । মুসলমান মাত্রই জানেন , আমরা কুরবানী ঈদ পালন করি হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর চরম আত্নত্যাগপূর্ণ কর্ম উনার ছেলে হযরত ঈসমাঈল (আঃ) এর কে কুরবানী করতে উদ্যত হয়ে দুম্বা কুরবানীকে স্বরণ করে ।

------------ শুরু ------------
নিম্নে ধর্মাচার্য অধ্যাপক ড. বেদপ্রকাশ উপাধ্যায় লিখিত "হিন্দু ধর্মগ্রন্হ বেদ ও পূরাণে আল্লাহ ও হযরত মোহম্মদ" হতে উদ্বৃত করা হল--

পুরুষ মেধযজ্ঞ
আদিকালে ব্রক্ষার (ইব্রাহীম-আব্রাহাম-ব্রাহাম-ব্রক্ষা) দুই পুত্র ছিলো-১. অথর্ব এবং ২. অঙ্গিরা ।
তিনি ঐশী প্রত্যাদেশ প্রাপ্ত হইয়া জৈষ্ঠ পুত্র অথর্বকে বলি দিতে উদ্যত হন । শাস্ত্রে উহা 'পুরূষ মেধযজ্ঞ' নামে খ্যাত । অদ্যাবধি নরবলির স্হলে পশুবলি দ্বারা উহা পালিত হইতেছে এবং বলি দেওয়ার সময উক্ত পুরূষ মেধযজ্ঞের সুক্ত গুলি পঠনের বিধান আছে ।

মূর্ধানমস্য সংসী ব্যাথর্বা হৃদয়ং চ যৎ
মস্তিস্কাদধ্বঃ প্রৈরয়ৎ পবমানোহধি র্শীর্ষতঃ
তদ বা অথর্বণঃ শিরো দেবকোশঃ সমুজিতঃ ।
তৎ প্রাণো অভি রক্ষতি শিরো অন্নমথো মনঃ ।।
উর্ধ্বো নু সৃষ্টাস্তির্য্যঙ নু সৃষ্টাঃ সর্বা দিশঃ পুরুষ আ বভুবাঁ ।
পুরং যো ব্রক্ষণো বেদ যস্যাং পুরুষ উচ্যতে ।।
যো বৈ তাং ব্রক্ষণো বেদামৃতেনাব্রতং পুরম্ ।
তষ্মৈ ব্রক্ষ চ ব্রক্ষশ্চ চক্ষুঃ প্রাণং প্রজাং দদুঃ ।।
ন বৈ তং চক্ষুর্জহতি ন প্রাণো জরসঃ সুরা ।
পুরং যো ব্রক্ষণো বেদ যস্যাং পুরুষ উচ্যতে ।।
অষ্টাচক্রা নবদ্বারা দেবানাং পুরয়োধ্যা ।
তস্যাং হিরণ্যায়াঃ কোশঃ স্বর্গো জোতিষাবৃতঃ ।।
তস্মিন হিরণ্যয়ে কোশে ত্র্যরে ত্রিপ্যাপ্রষ্ঠিত ।
তস্মিন যদ সক্ষমাত্নন্বৎ তদ বৈ ব্রক্ষবিদো বিদুঃ
প্রভাজমানাং হরিণীং যশসা সংপরীবিতাম ।
পুরং হিরণ্যায়ীং ব্রক্ষা বিবেশা পরাজিতাম ।।
[অথর্ববেদ ১০ম কান্ড ১ম অনুবাক ২য় সুক্ত ২৬-৩৩ মন্ত্র]

অর্থ - ২৬ , অথর্ব তার মস্তক ও অন্তর একত্রেই (ঐশী আদেশের সঙ্গে) গ্রথিত করিলেন, তখন ধর্মপরায়নতা তাহার ললাটে আবর্তিত হইল । ২৭, অথর্বের মস্তক প্রভুর আবাসস্হল ; উহা আত্না, মস্তক ও অন্তর সর্বদিক দিয়া সংরক্ষিত ছিলো । ২৮, উহার নির্মাণ উচ্চ, উহার প্রাচীরসমূহ সমান হোক বা না হোক, কিন্তু প্রভুকে উহার সর্বত্র দৃষ্ট হয় । যে ব্যাক্তি প্রভুর গ্রহকে অবহিত আছে, সে উহা জানে । কারণ সেখানে প্রভুকে স্বরণ করা হয় । ২৯, যে ব্যাক্তি আধ্যাত্ন-মৃতে পরিপূর্ণ প্রভুর এই পবিত্র ধর্মাধামকে অবহিত থাকে, ব্রক্ষ এবং ব্রক্ষা তাহকে অর্ন্তদৃষ্টি, প্রাণ ও সন্তানাদি দান করেন । ৩০, যে ব্যাক্তি এই পবিত্র গৃহকে অবহিত হয় এবং যাহার অর্ন্তদৃষ্টি ও আত্নশক্তি বিদ্যমান, সে কখনো উহা ত্যাগ করেনা । কারণ সেখানে প্রভুকে স্বরণ করা হয় । ৩১, দেবতাদের এই পবিত্র ধামের আটটি চক্র-পরিক্রম ও নয়টি দ্বার আছে । উহা অপরাজেয় এবং উহা হিরণ্যময় অনন্ত জীবন এবং স্বর্গীয় জ্যোতিতে সমাবৃত । ৩২, তথায় হিরণ্যময় পবিত্র আত্না প্রতিষ্ঠিত আছে । উহা তিনটি স্তম্ভ, তিনটি কড়িকাঠ দ্বারা নির্মিত ; কিন্তু উহা ব্রক্ষাত্নার কেন্দ্রবিন্দু । ৩৩, ব্রক্ষ সেখানে অবস্হান করেন, উহা স্বর্গীয় প্রভায় সমুজ্জল ও স্বর্গীয় আর্শীবাদে পরিপূর্ণ । এ ধাম মানুষকে হিরণ্যময় পনমাত্নার জীবন দান করে এবং উহা অপারজেয় ।


কোরআনের বর্ণনানুযায়ী মহর্ষি ইব্রাহীমের দুই পুত্র ছিলো- ১. ঈসমাঈল ও ২. ইসহাক । তিনি ঐশী প্রত্যাদেশ প্রাপ্ত হইয়া তাহার জৈষ্ঠ পুত্র ঈসমাঈলকে বলি দিতে উদ্যত হন । তখন প্রভু তাহাকে একটি স্বর্গীয় দুম্বা দান করেন এবং তিনি উহা বলি দেন । এই প্রথা অদ্যাবধি প্রতি বৎসর মুসলমানগণ কোরবানী করিয়া পালন করিতেছেন ।

মহর্ষি ইব্রাহীম একটি ধর্মধাম বা ইবাদতগাহ নির্মাণ করেন । বেদের বর্ণনানুযায়ী উহার উচ্চতা অনধিক, প্রাচীরগুলি অসমান, উহাতে তিনটি স্তম্ভ, তিনটি কড়িকাঠ ছিলো, উহার নয়টি দ্বার ও আট পরিক্রমা বিদ্যমান । কোরআনে উহাকে আল্লাহর ধাম এবং অপরাজেয় (সূরা-ফীল) বলা হইয়াছে । ধনবান মুসলিমগণ মক্কার উক্ত প্রভুধামে গমন করিয়া হজ্ব পালন করেন । সুতরাং এইক্ষেত্রে বেদ ও কোরআনের উভয়ের মধ্যে অপূর্ব সামন্জস্য পরিলক্ষিত হয় । হযরত মোহাম্মদ সাহেব হইলেন সেই ঈসমাঈল তথা অথর্ব ঋষির বংশধর ।

---------------- শেষ -------------------------------

মহান আল্লাহ কুরআনে বলেন," ইব্রাহীমকে তার পালনকর্তা কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি তা পূর্ণ করে দিলেন, তখন পালনকর্তা বললেন,' আমি তোমকে মানবজাতির নেতা করব (সূরা- বাকারা ১২৪) । বর্তমানে তিনি সত্যই মানবজাতির নেতা--ইহুদী, খ্রীস্টান , মুসলমানগণ তাকে পিতা হিসেবে গন্য করে আর সনাতনপন্হীরাও না জেনে তাকে অনুসরণ করছে । উনার মত এত বেশী কঠিন পরীক্ষা মনে হয় আর কোন নবী-রাসূল দেননি । আল্লাহ কর্তৃক উনার প্রতি পরীক্ষাসমূহ ছিল, বাদশাহ নমরূদের অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ, শিশু সন্তানসহ বিবি হাজেরাকে উষর মরুভুমির নির্জন প্রান্তর মক্কায় রেখে আসা এবং কিশোর বয়সের সন্তান হযরত ঈসমাঈল (আঃ) কে আল্লাহর নির্দেশে কুরবানী করা । এই জন্য আল্লাহ উনাকে 'বন্ধু' বা খলিলুল্লাহ বলে সম্বোধন করেছেন ।

কুরবানী সম্পর্কে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, আমি প্রত্যক উম্মতের জন্য কুরবানী নির্ধারিত করে দিয়েছি । যাতে আমি তাদের জীবিকা স্বরৃপ যেসব চতুষ্পদ পশুদান করেছি সেগুলো যবাইকালে আল্লাহর নাম স্বরণ করে । তোমাদের ইবাদত যোগ্য তো একমাত্র আল্লাহ । সুতরাং তোমরা তার নিকট আত্নসমর্পণ কর এবং বিনয়ীগনকে সুসংবাদ দাও (সূরা-হজ্ব -৩৪)

দেখেছেন আল্লাহ কুরআনে কি বলেছেন ? প্রত্যেক উম্মত এর জন্য কুরবানী নির্ধারিত।


 

 

  • ২২ টি মন্তব্য
  • ২২০ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৪ জনের ভাল লেগেছে, ৮ জনের ভাল লাগেনি
১. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:২৬
comment by: নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
মাইনাস দিতে গিয়ে প্লাসে ক্লিক দিয়ে ফেলেছি..........
০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৫৭

লেখক বলেছেন: আমার কিছূ বলার নাই । পড়েছেন এই জন্যই ধন্যবাদ ।

২. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৩০
comment by: দুর্লভ বলেছেন: যাদের উপর কুরবানি ফরয, তাদের জন্যই তো নির্ধারিত, তাই না।
৩. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৩৬
comment by: কাক ভুষুন্ডি বলেছেন: আচ্চা আপ্নার মতে
ইব্রাহীম-আব্রাহাম-ব্রাহাম-ব্রক্ষা

তৈলে হেন্দুরা যে কয় ব্রহ্মার অন্ডের থে মহাবিশ্ব সৃষ্টি তাই এরে ব্রহ্মান্ড কওয়া হয় হের কি হৈবে?
নাকি ইব্রাহীম-আব্রাহাম-ব্রাহাম এর অন্ড থিকা তৈরি হৈছে?
০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৫৬

লেখক বলেছেন: উনারা কালের পরিক্রমায় অনেক কিছুই ঘোট পাকিয়ে ফেলেছেন । এত হাজার হাজার বছরের আগের পুস্তক, এর থেকে সঠিক কথাটা বের করা খুব কঠিন ।

এক সময় বিকৃতির কিছু নমুনা লিখব ।

৪. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:০৩
comment by: কাক ভুষুন্ডি বলেছেন: শোনেন ভাই আপ্নে যুদি মাইন্ড সেট কৈরা বৈয়া থাকেন যে এক্টা ধর্মকে মহান প্রমাণ কর্বেন,তৈলে তার জইন্য নানা পদ্ধতি আচে। অতএব আপ্নের কাচে যেডি বিকৃতি হৈবো সেডি অইন্যের কাচে হৈবো গ্রহনযোইগ্য। আর আপ্নের কাচে যেডি হৈবো আসোল সেডি হেগো কাচে বিকৃতি।

আপ্নের গত পোস্টের ভিডুটা আচিলো হেন্দুগো ধর্ম এস্লামের আগে আইচে হেডি পোমানের লাইগা। আপ্নে এডিরেই ব্যভার কর্ছেন এস্লাম থিকা হেন্দুরা ঐসব রিচুয়াল লৈসে কৈয়া।
০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৮

লেখক বলেছেন: আমি স্রেফ এটাই দেখাচ্ছি যে, সব একই সুত্র থেকে এসেছে- শয়তানের চক্রান্তের কারণে তা বিকৃত হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে ।

যদি খোলামন নিয়ে আগে ইসলাম এর শুদ্ধ বিষয়টা জানেন , তারপর অন্য ধর্ম গুলো বুঝার চেষ্টা করেন , তাহলে বুঝবেন ।

৫. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:১৩
comment by: নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
আপনি কইলেন:
ইব্রাহীম-আব্রাহাম-ব্রাহাম-ব্রক্ষা

আর বিবেক সত্যি কইছিলেন (Click This Link):
সংস্কৃতে ব্রহ্মা শব্দটির শেষে চন্দ্রবিন্দু লাগালে শব্দটি উচ্চারিত হবে ব্রাহ্মণ, যাকে যদি আবার লেখা হয় শব্দটি পরিনত হবে ব্রাহমান (রাহমান) বা ব্রাহমীম (আর-রহীম)-এ..
.... এখানে আল্লাহ বলার পর একারনেই মনে হয় আবার রহমান শব্দটির মাধ্যমে স্পেসিফিক করা হল !!!!
========>>>>>>>
এখন আপনি কন- এই ব্রহ্মা আসলে কেডা? ইব্রাহীম না স্বয়ং রহামান (আল্লাহ)।
৬. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:২৫
comment by: আরণ্যক যাযাবর বলেছেন: মাইনাস। সব ধর্মরে মাইনাস। মানুষের উর্বর মস্তিষ্ক এই জিনিষের তৈরি করছে।
০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৩

লেখক বলেছেন: মানুষের এত ক্ষমতা , একটা নতুন ধর্ম ইচ্ছমতো চালু করব , তহলে তো পৃথিবীতে অনেক ধর্ম থাকতো ।

হাজার হাজার , সব সময় নবী থাকতো , সবাই নবী হইতে চাইতো । বুইচছেন ।

পড়েন , জানেন এবং বাস্তবতা জানার চেষ্টা করেন ।

৭. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:২৯
comment by: নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
তয়, আপনের পোস্ট একদিক থেকে ভালোই.......
এই মিলগুলো দেখলে বুঝবেন, এমনে কইরাই ইসলাম গঠিত হইছিল, বিভিন্ন ধর্মের পথ পরিক্রমায় ইসলামের আবির্ভাব। ইসলামের নামাজ-রোযা-হজ্জ কোনটাই তার নিজের আবিষ্কার নয়- বিভিন্ন ধর্ম থেকে টুকলিফাই করা।

এমনকি যে শিরক সম্পর্কে ইসলামের এত এলার্জী (আসলে প্যাগানদের সাথে সরাসরি বিরোধ ছিল ইসলামের)- ইসলামের মধ্যেও সেই শিরকের ছোয়া পাওয়া যায়- অবশ্য ভিন্ন ফর্মে......

উপসানালয় বা মসজিদ বা আল্লাহর ঘর- ধারণাটাই ধার করা। উপাসনার জন্য দিক নির্ধারণ, মানে কাবাকে কিবলা নির্ধারণের সাথে শিরকের পার্থক্য কি?

পাথর বিশেষ হজরে আসওয়াদকে বিশেষ সম্মান দেয়া কি শিরক নয়?

হজ্জের সময় কল্পিত শয়তানের উদ্দেশ্যে পাথর নিক্ষেপকে কেন শিরক বলা হবে না?

তালিকাকে এমন আরো বড় করা যায়।


কেননা- মূর্তি উপাসকরা মূর্তিকে পূজা করলেও মূর্তি আসলে তাদের ঈশ্বর বা কোন দেবতারই প্রতিরূপ, আসলে উপাসনা তো হয় সেই ঈশ্বরের। সামনে শিব মূর্তি রেখে শিবের উপাসনা করা যদি শিরক হবে- তবে দুনিয়ার সমগ্র মুসলিমের কাবার দিকে সেজদা দেয়ার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করাটা কেন শিরক হবে না?
০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৫

লেখক বলেছেন: এখানেই আপনার বিশ্বাসের সাথে সত্যিকারের বিশ্বাসের পার্থক্য ।

টুকলিফাই নয় বিকৃতিকে পরিহার করে আবার শুদ্ধতার প্রচলন ।

কাবা কে সিজদা করা হয় না -- দিক হিসেবে ধরা হয় ।

আল্লাহর রুপ নেই, আকার নেই, ছবি নেই , কোন তুলনা নেই ।

সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ, আদি এবং আসল কথা মানুষের ধারণা বা কল্পনার বাইরে ।

মানুষ ধারণা করতে না পেরে কেউ তার ছবি আকেঁ , মুর্তি গড়ে , অংশী স্হাপন করে যা উনাকে ছোট করা হয় ।

যে তাকে পেয়েছে তার আর কিছু লাগে না , খাওযা, দাওয়া, ঘুম , সব থেকে মুক্ত হয়ে যায় । যেমন - দরবেশ বা ঋষিরা । এদের মধ্যে অন্যতম হলেন মনসুর হাল্লাজ ।

৮. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩২
comment by: নূহান বলেছেন: বেশী কইরা গরম দুধ খাইবেন গো দাদা,
এমনিতেই কল্কিতে বেশী টান পড়তাছে /:)
০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৯

লেখক বলেছেন: একজন ভালো হিন্দুকে জিজ্ঞেস কইরেন কেন তারা পশু বলি দেয়, উত্তর শুনে চমকপ্রদ হয়ে যাবেন, নিঃসন্দেহে ।

৯. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:১৩
comment by: নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
কাবা কে সিজদা করা হয় না -- দিক হিসেবে ধরা হয় ।
=========>>>

কোথায় দেখলেন যে আমি বলেছি কাবাকে সেজদা করা হয়? আমিও কিন্তু বলেছি কাবার দিকে আল্লাহকে সেজদা বা আল্লাহকে ইবাদত করা হয়।

আমার প্রশ্ন ছিল- আল্লাহকে সেজদার জন্য কেবলার দরকার কেন, মসজিদাগমন দরকার কেন?

আপনার মত আমিও মূর্তি উপাসকদের সাথে কিছু মিল দেখাচ্ছিলাম। মূর্তি উপাসকদের অনেককেই পাবেন- সেই মাটি/পিতল/ ধাতব মূর্তিকে পূজার মাধ্যমে তারা আসলে মাটি/ধাতুর পূজা আসলে করেন না- করেন সেই মূর্তি যে দেবতার প্রতিরূপ- সেই দেবতা বা ঈশ্বরকে। আল্লাহর ঘর বা কাবাকে সামনে রেখে যেমন মুসলমানেরা নামাজ পড়ছে- তেমনি দেবতা/ঈশ্বরের একটি আধার কল্পনা করে, মূর্তি গড়ে সেই মূর্তিকে সামনে রেখে আসলে সেই ঈশ্বর/দেবতারই আরাধনা করছে। মুসলমানেরা যেমন বিশেষ বিশেষ দিনে বিশেষ বিশেষ সময়ে বিশেষ বিশেষ অঙ্গভঙ্গী করে আল্লাহকে স্মরণ করে- আল্লাহর কাছে নানা আর্জি জানায়, কৃত কর্মের জন্য অনুশোচনা করে, ভবিষ্যতের জন্য আল্লাহর কৃপা প্রার্থণা করে- তেমনি একাজ গুলোই পৌত্তলিকেরা করে বিশেষ বিশেষ আয়োজনে। আল্লাহকে ডাকার জন্য বিশেষ প্রণালীর অনুমোদন থাকে- তবে দেবতা বা অন্য ঈশ্বরকে ডাকার জন্য তাকতে দোষ কোথায়? দিনে পাঁচ নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট দিকমুখী হয়ে উঠবস করে, বছরের নির্দিষ্ট মাসে দিনের নির্দিষ্ট সময় ধরে না খেয়ে........ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়- তবে অন্যদের নানা আয়োজনে সমস্যা কি?

আপনারে কি আর বলবো....., আপনাকে আমার একটি পোস্ট পড়ার আহবান জানালাম, সময় পেলে পড়বেন। Click This Link
০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৫০

লেখক বলেছেন: ......কেননা প্রকৃতির নিয়ম ঈশ্বরের ইচ্ছাধীন নয়- বরং ঈশ্বর যদি থেকেই থাকেন তবে তিনিই প্রকৃতির নিয়মাধীন।

ভুল কথা । তিনি নিয়ম সৃষ্টি করেছেন সব কিছু সুন্দরভাবে চলার জন্য । স্রষ্টা কখনই তার সৃষ্ট নিয়মের অধীন নয়, এটা হতে পারে না । তিনি নিয়ম সৃষ্টি করেছেন ভাঙ্গার জন্য নয় তাই বলে তাকে নিয়মের অধীন বলা তার অন্যায় এবং সম্মানের খেলাফ ।

এটা স্রেফ মানুষের বুঝার অক্ষমতা । এ জন্যই আল্লাহ ঈসা (আঃ) কে পিতা ছাড়া সৃষ্টি করেছেন যে দেখ আমি নিয়ম বানাই আমিই নিয়ম এর স্রষ্টা । এরকম আরও প্রমাণ আছে - যেমন - কুরআনে কিছূ ব্যাক্তিদের অনেকদিন ঘুমিয়ে থাকার পর জাগরণ । ইব্রাহীম (আঃ) আগুনে না পোড়া , হযরত খাজা খিজির (আঃ) এর কেয়ামত পর্যন্ত আযূ (আমার সত্য কাহিনী সিরিজ এর প্রথম পর্ব)

-----দি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়- তবে অন্যদের নানা আয়োজনে সমস্যা কি?

সমস্যা বিকৃতি আর অংশী স্হাপণ ।

আল্লাহর রুপ নেই, আকার নেই, ছবি নেই , কোন তুলনা নেই । নিরাকার । কেন আকার দিবে ?

আপনার পিতা মানুষ ছিলেন , তাকে যদি ছাগলের ছবির মত বলা হয় আপনার কেমন লাগবে ? যার কোন আকার নেই তাকে কেন তার সৃষ্টির মত কল্পণা করা হবে ?

১০. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:০৫
comment by: আমি হনুমান বলেছেন: যে তাকে পেয়েছে তার আর কিছু লাগে না , খাওযা, দাওয়া, ঘুম , সব থেকে মুক্ত হয়ে যায় । যেমন - দরবেশ বা ঋষিরা । এদের মধ্যে অন্যতম হলেন মনসুর হাল্লাজ ।

আললাহ না ঘুমানোর কারন হিসেবে জানি যে মহিলা তৈরী করার পর তার ঘুম হারাম হয়ে গেছে ;;)
১১. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:১০
comment by: নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
ঈসা পিতা ছাড়া জন্ম নেন নি, তার অবশ্যই পিতা ছিল এবং সেই পিতা একজন রক্ত-মানসের মানুষই ছিল।

আগুনে নিক্ষেপ করার পরে আগুন কখনো ফুল হয়ে যেতে পারে না, কেয়ামত(!) পর্যন্ত কোন মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না........, এই সব রূপকথার গল্প খোকা-খুকিদের শুনাবেন- অনেক মজা পাবে।

বুঝলাম- মুসলমানেরা বিশ্বাস করে আল্লাহর কোন রূপ নেই- (অবশ্য জিবরাইল বিভিন্ন রূপ নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিল- ফলে কোন কোন দেবতা অন্যরূপ নিয়েও আসতে পারে- এমনকি স্বয়ং ঈশ্বরও সে কাজ করতে পারে), কিন্তু আমার প্রশ্ন সেখানে ছিল না- আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, এই নিরাকার আল্লাহর ইবাদতের জন্য কেবলার দরকার কি? মসজিদের দরকার কি? কল্পিত শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের দরকার কি? যদি বলেন- আল্লাহ এমন ভাবে ইবাদত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন, তবে পৌত্তলিকেরাও তো বলতে পারে, তাদের ঈশ্বর এভাবে মূর্তি বানিয়ে ঈশ্বর/দেবতার উপাসনা করার নির্দেশ জানিয়েছে।

আমার পিতার তো আমি উপাসনা করতে যাচ্ছি না যে তার মূর্তি বানাতে যাব; ফলে সে আলোচনা অবান্তর।

আমি শুধু এটুকুই বলতে চাচ্ছি- এই ঈশ্বর/ দেবতা/ আল্লাহ/ জিন/ পরী/ গড/ ভূত/ প্রেত পুরা ধারণাটাই কাল্পনিক, এগুলো থেকে রূপকথার আনন্দলাভ ছাড়া আর কিছু নেয়ার নেই।
১২. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:১৪
comment by: নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
আল্লাহর রুপ নেই, আকার নেই, ছবি নেই , কোন তুলনা নেই । নিরাকার । কেন আকার দিবে ?

আল্লাহর রূপ নেই, আকার নেই, ছবি নেই। নিরাকার। আল্লাহর কোন ক্ষমতা নেই, অস্তিত্ব নেই। আল্লাহই বলে কিছুই নেই। অবাস্তব অতিকল্পনা।
১৩. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:০৩
comment by: দৃষ্টির ছায়া বলেছেন: বিতর্কে জড়ানোর সময় নাই। একটি কথা তুলে ধরতে চাইছি-
একজন খুব সাধারণ মুসলমান, যার উচ্চ শিক্ষা নেই, দর্শন বুঝেন না, বিজ্ঞান নিয়ে মাথা ব্যথা নেই; তিনিও শুধুমাত্র কুরআন অধ্যয়ন করে পৃথিবীর সব জটিল প্রশ্নের অত্যন্ত সহজ উত্তর লাভ করে থাকেন। এবং সে অনুযায়ী নিজের চিন্তাকে পরিশুদ্ধ ও নিশ্চিন্ত করতে সক্ষম হন।

খুব সহজ কথা- পৃথিবীতে সত্য বার বার এসেছে আর মানুষেরা বার বার তা থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তাই বার বার নবী প্রেরণের প্রয়োজন হয়েছে। শেষবার স্রষ্টা যখন মানুষকে সংশোধনের জন্য নবী পাঠান, তখন তাঁকে দান করেন সত্যের পরিপূর্ণ রূপ। যা দ্বারা পৃথিবীর ধ্বংসের দিন পর্যন্ত চলা যাবে। তাই আর কোন নবী আসবেন না; বরং পরিপূর্ণ সত্য আল কুরআনকে স্বয়ং আল্লাহ নিজেই হেফাযত করবেন। মানুষেরা এতে বিভ্রান্তির অনুপ্রবেশ করাতে গিয়ে নিজেরা বিভ্রান্ত হয়ে জাহান্নামে চলে যাবে, কিন্তু আল কুরআনে কোনভাবেই পারবে না বিভ্রান্তির অনুপ্রবেশ ঘটাতে।
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:২১

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ ভাই আপনাকে সুন্দর এবং সঠিক মন্তব্য দেয়ার জন্য । এই সহজ বিষয়টাই অনেকে বুঝতে পারেনা বা ইচ্ছা করে বুঝার চেষ্টা করে না ।

১৪. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:২৫
comment by: সোহান বাশার বলেছেন: দৃষ্টির ছায়া@র সাথে আমি একমত।

ধন্যবাদ পোষ্টের জন্য।

 

 


দিন রাত্রির আবর্তন নিয়ে,
হে মুসাফির মাথা ঘামিও না তুমি,
কারণ সময় ও সামান,
বয়স ও বাসস্হান,
সামনে আরও রয়েছে তোমার ।...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৮১০৬