(জানুয়ারি -২০০৯ এর রহস্য পত্রিকা সংখ্যা থেকে সংকলিত - লেখক- ফজলুল হক চৌধুরী (১ থকে ৩ নং) আর ৪ নং হল হাদিস )
যে তিনটি অলৈাকিক ঘটনার কথা লিখছি তার প্রথম দুটি আমি (ফজলুল হক) অন্যের কাছে শুনেছি, যারা ওই ঘটনার সাক্ষ্যি । শেষেরটি অবশ্য আমার (ফজলুল হক) নিজের অভিজ্ঞতা ।
১.
ইংরেজী ১৯৪১ সাল । দুনিয়াব্যাপী দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় জাপানীরা কলকাতায় বোমা ফেললে ওই শহর ছেড়ে নিরাপদ মফস্সলের দিকে লোকজন পালিয়ে আত্নীয়দের কাছে আশ্রয় নিচ্ছিল । ফরিদপুরের টেপখোলায় আমাদের ৪টা বাড়ি ছিল । সেখানকার অভিজাত পরিবারের গ্রাম গেরদা ও গট্টীর এক প্রকৌশলী কলকাতা থেকে তার পরিবার সহ আমাদের একটি বাড়ীতে ভাড়াটে হিসাবে আসেন । স্হানীয় অভিভাবক হিসেবে এক সহোদর ভাই তাদের সাথে ছিলেন । ওই প্রকৌশলী প্রতি শনিবার কলকাতায় নিজের বাড়ি থেকে বিকালে এসে পরের সোমবার সকালে ট্রেনে ফিরে যেতেন । তখন ফরিদপুর থেকে শিয়ালদা ট্রেনে ৪ ঘন্টা লাগত ।
সরকারী প্রকৌশলীর বেকার ভাই একদিন কথা প্রসঙ্গে বললেন যে তিনি জেলা স্কুলের হোস্টেল থেকে পড়াশুনা করতেন । প্রকৌশলী সাহেবের ওই ভাই বড় দুষ্ট ছিল । পড়াশোনার চাইতে নানারকম দুষ্টামী করেই তার সময় কাটত । উনার হোষ্টেলের সুপারিন্টেন্ডেট ছিলেন মুর্শিদাবাদের আরবী পারসীর এক মৌলভী । তিনি বড় শান্ত ও বুজুর্গ প্রকৃতির লোক ছিলেন । তার বুজুর্গী এতটাই ছিল যে তার এক ছাত্র স্কুলের মাঠে চরা তার একটা খাসী গোপনে জবাই করে ওই মৈালবীকে পাঠালে তিনি প্রায় চিৎকার করে বলেছিলেন, 'আমার খাসী চুরি করেছ , দাম দাও নাই ।'
কথাটি রাষ্ট্র হয়ে গেলে ওই ছাত্রকে স্কূল থেকে বহিস্কার করা হয় । ক্লাস নাইনেই তার পড়াশোনা শেষ হয় ।
তো হোষ্টেলে থাকতে একদিন খবর আসল যে লাশকাটা ঘরে ২/৩ দিন যাবৎ এক মুসলমানের লাশ পড়ে আছে । শীতকাল বলে লাশে পচন ধরে নাই কিন্তু ফুলে উঠেছে । খবর দেওয়া সত্বেও আত্নীয়রা ওই লাশ নেয় নাই । মৌলভী সাহেব তখন ছাত্রদের নিয়ে যথারীতি মৃতের কবর দিয়ে ফিরে আসার সময় বোমার মত শব্দ করে ওই কবর ধসে যায় এবং ধোঁয়া বেরিয়ে আসতে থাকে । ভয়ে সবাই পালিয়ে যায় ।
পরে শোনা গেল যে ওই বদমেজাজী লোক জমি চাষ দিয়ে বাড়িতে এসে তার বউকে ভাত দিতে বলে । ৮ মাসের গর্ভবতী স্ত্রী ভাত চুলায় আছে বললে লোকটা বউকে টেনে ঢেকির নিচে ফেলে মেরে ফেলে । পাড়া প্রতিবেশীরা মরণ চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে ওই বউকে বাচাঁতে পারেনি । পরে আত্নীয়রা তাকে পুলিশে দেয় ও বিচারে তার ফাসি হয় । ওই রকম আর একটি ঘটনা প্রখ্যাত সাংবাদিক মরহুম ওসমান গনি বলেছিলেন যে তারা আজিমপুর গোরস্হানে কবর জেয়ারত করার সময় একটা গোর থেকে ধোঁয়া ওঠতে দেখেছেন ।
২.
আমার এক পুত্রার কাছ থেকে ঘটনাটি শুনেছি । তার ট্রাভেল এজেন্সীর ব্যবসা ছিল । সেই সুত্রে আর এক ব্যবসায়ীর সাথে পরিচয় । তিনি তার লোকজনের সাথে দুর্ব্যবহার করতেন । তাকে দাফন করার সময় যারা গোরে নেমেছিল তাদের একজন দেখতে পায় যে তার প্যান্টের পেছনের পকেটে রাখা পাসপোর্ট, ভিসা, টিকেট নাই এবং পকেটের একটি অংশ বাঁশের খোচায় ছিড়েছে । তিনি বুঝতে পারলেন যে ওই গুলো কবরে পড়ে গেছে । মৃতের কবর আবার খোড়া হলে তারা দেখতে পারল যে ওই লাশ উলঙ্গ । কাফনের কাপড় তার গলায় পেঁচানো । লাশের চোখ ও জিভ ফাসির আসামীর মত বের করা । পাসপোর্ট পাওয়া গেল । ভয়ে তাড়াতাড়ি ওই কবর বন্ধ করে বাড়ি এসে ঘটনা বললে আত্নীয়রা জানাল যে ওই মৃত ব্যক্তি বদমেজাজী ছিল । তার কর্মচারীদের সামান্য ভুলের জন্য গালাগালি ও মারধর করত । সেই জন্য তার উপর গোর আজাব শুরু হয়েছে ।
৩.
তৃতীয় ঘটনা - আমার ছোটভাই আজমল হকের কবর দেয়ার সময় দেখেছিলাম । ওই ভাই কাপ্তাইয়ের 'হাইভেল' প্রোজক্টে হিসাব বিভাগে কাজ করার সময় জুয়া খেলে সরকারী তহবিল তসরূপ করলে সে ক্যাশের চাবি নিয়ে বিনা ছুটিতেই , তারপর আমার অন্ধ বাবাকে ভুল বুঝিয়ে ৪ বিঘা জমি ও ৪ টা বাড়ি মাত্র দশ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় । ফেরার পরে মিরেশ্বরাই রেল ষ্টেশনে বাবাকে নামিয়ে দিয়ে কাপ্তাই অফিসে গিয়ে ওই টাকা জমা দিয়ে তসরুপের মামলার নিষ্পত্তি করে । কয়েক লাখ টাকার ওই সম্পত্তি দামের মধ্যে মাত্র ছয় হাজার টাকা আদায় হয়েছিলো । বাকি টাকা আর পাওয়া যায় নাই । বাবা পরে ওই বিষয়ে আমার আর এক ভাইয়ের কাছ থেকে জানতে পেরে দুঃখে কেদে ফেলেছিলেন । আমি তখন ঠাকুরগায়ে চাকুরী করি । সেই ভাই আমাকে জানালে আমি আজমলের সাথে বহুদিন কথা বলি নাই । প্রজেক্টের নির্বাহী প্রকৌশলীর ছোট বোনকে বিয়ে করে আজমল মামলার নিশ্চিত শাস্তি থেকে রক্ষা পায় । আজমল মারা গেলে তাকে আমরা চট্টগ্রামের গরীবুল্লাহ শাহের মাজারে গোর দিতে নিয়ে যাই । তাকে কবরে শোয়ানোর পরে হঠাৎ করেই গোর ভেঙ্গে তার হা করা মুখ ও বুক চাপা দেয় । আমরা অবাক হয়ে তাকিয়ে ওই তাজ্জব কান্ড দেখছিলাম । গোর খোদকের একজন জানালো যে মৃতের কোন গুরতর অপরাধের কারণে আজাব শুরু হয়েছে । আমরা ভয়ে মৌলবীর সাথে দোয়া দরুদ পড়তে পড়তে চলে আসি । প্রতি বছর আমার ভাইপোরা ওই কবরে মিলাদ পড়ায় ও সিন্নি দেয় ।
৪. হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, একবার নবী করিম (সাঃ) দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন । এমন সময় তিনি বললেনঃ জেনে রেখ, এই দুই কবরবাসীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, তবে কোন বিরাট ব্যাপারে তাদের শাস্তি দেয়া হচ্ছেনা । তাদের একজনের গুনাহ ছিল এই যে, পেশাবকালে আড়াল করতো না (মুসলিমের বর্ণনায় আছে পেশাব থেকে পবিত্র হতো না ) আর অপরজনের গুনাহ ছিলো এই যে, সে চোখলখুরী করে বেড়াত । এরপর তিনি খেজুরের তাজা একটি শাখা আনালেন । তারপর তা দু,টুকরা করে উভয় কবরের উপর একটি করে পুঁতে দিলেন । সাহাবা কিরাম আরয করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন এ কাজ করলেন? তিনি বললেন, সম্ভবত এদের শাস্তি কিছুটা লাঘব করা হবে, যতদিন এ তাজা শাখা দুটো না শুকাবে । (বুখারী ও মুসলিম )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

