somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তিনটি সত্য কবর আযাবের ঘটনা ।

০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(জানুয়ারি -২০০৯ এর রহস্য পত্রিকা সংখ্যা থেকে সংকলিত - লেখক- ফজলুল হক চৌধুরী (১ থকে ৩ নং) আর ৪ নং হল হাদিস )


যে তিনটি অলৈাকিক ঘটনার কথা লিখছি তার প্রথম দুটি আমি (ফজলুল হক) অন্যের কাছে শুনেছি, যারা ওই ঘটনার সাক্ষ্যি । শেষেরটি অবশ্য আমার (ফজলুল হক) নিজের অভিজ্ঞতা ।

১.

ইংরেজী ১৯৪১ সাল । দুনিয়াব্যাপী দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় জাপানীরা কলকাতায় বোমা ফেললে ওই শহর ছেড়ে নিরাপদ মফস্সলের দিকে লোকজন পালিয়ে আত্নীয়দের কাছে আশ্রয় নিচ্ছিল । ফরিদপুরের টেপখোলায় আমাদের ৪টা বাড়ি ছিল । সেখানকার অভিজাত পরিবারের গ্রাম গেরদা ও গট্টীর এক প্রকৌশলী কলকাতা থেকে তার পরিবার সহ আমাদের একটি বাড়ীতে ভাড়াটে হিসাবে আসেন । স্হানীয় অভিভাবক হিসেবে এক সহোদর ভাই তাদের সাথে ছিলেন । ওই প্রকৌশলী প্রতি শনিবার কলকাতায় নিজের বাড়ি থেকে বিকালে এসে পরের সোমবার সকালে ট্রেনে ফিরে যেতেন । তখন ফরিদপুর থেকে শিয়ালদা ট্রেনে ৪ ঘন্টা লাগত ।
সরকারী প্রকৌশলীর বেকার ভাই একদিন কথা প্রসঙ্গে বললেন যে তিনি জেলা স্কুলের হোস্টেল থেকে পড়াশুনা করতেন । প্রকৌশলী সাহেবের ওই ভাই বড় দুষ্ট ছিল । পড়াশোনার চাইতে নানারকম দুষ্টামী করেই তার সময় কাটত । উনার হোষ্টেলের সুপারিন্টেন্ডেট ছিলেন মুর্শিদাবাদের আরবী পারসীর এক মৌলভী । তিনি বড় শান্ত ও বুজুর্গ প্রকৃতির লোক ছিলেন । তার বুজুর্গী এতটাই ছিল যে তার এক ছাত্র স্কুলের মাঠে চরা তার একটা খাসী গোপনে জবাই করে ওই মৈালবীকে পাঠালে তিনি প্রায় চিৎকার করে বলেছিলেন, 'আমার খাসী চুরি করেছ , দাম দাও নাই ।'
কথাটি রাষ্ট্র হয়ে গেলে ওই ছাত্রকে স্কূল থেকে বহিস্কার করা হয় । ক্লাস নাইনেই তার পড়াশোনা শেষ হয় ।
তো হোষ্টেলে থাকতে একদিন খবর আসল যে লাশকাটা ঘরে ২/৩ দিন যাবৎ এক মুসলমানের লাশ পড়ে আছে । শীতকাল বলে লাশে পচন ধরে নাই কিন্তু ফুলে উঠেছে । খবর দেওয়া সত্বেও আত্নীয়রা ওই লাশ নেয় নাই । মৌলভী সাহেব তখন ছাত্রদের নিয়ে যথারীতি মৃতের কবর দিয়ে ফিরে আসার সময় বোমার মত শব্দ করে ওই কবর ধসে যায় এবং ধোঁয়া বেরিয়ে আসতে থাকে । ভয়ে সবাই পালিয়ে যায় ।

পরে শোনা গেল যে ওই বদমেজাজী লোক জমি চাষ দিয়ে বাড়িতে এসে তার বউকে ভাত দিতে বলে । ৮ মাসের গর্ভবতী স্ত্রী ভাত চুলায় আছে বললে লোকটা বউকে টেনে ঢেকির নিচে ফেলে মেরে ফেলে । পাড়া প্রতিবেশীরা মরণ চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে ওই বউকে বাচাঁতে পারেনি । পরে আত্নীয়রা তাকে পুলিশে দেয় ও বিচারে তার ফাসি হয় । ওই রকম আর একটি ঘটনা প্রখ্যাত সাংবাদিক মরহুম ওসমান গনি বলেছিলেন যে তারা আজিমপুর গোরস্হানে কবর জেয়ারত করার সময় একটা গোর থেকে ধোঁয়া ওঠতে দেখেছেন ।

২.

আমার এক পুত্রার কাছ থেকে ঘটনাটি শুনেছি । তার ট্রাভেল এজেন্সীর ব্যবসা ছিল । সেই সুত্রে আর এক ব্যবসায়ীর সাথে পরিচয় । তিনি তার লোকজনের সাথে দুর্ব্যবহার করতেন । তাকে দাফন করার সময় যারা গোরে নেমেছিল তাদের একজন দেখতে পায় যে তার প্যান্টের পেছনের পকেটে রাখা পাসপোর্ট, ভিসা, টিকেট নাই এবং পকেটের একটি অংশ বাঁশের খোচায় ছিড়েছে । তিনি বুঝতে পারলেন যে ওই গুলো কবরে পড়ে গেছে । মৃতের কবর আবার খোড়া হলে তারা দেখতে পারল যে ওই লাশ উলঙ্গ । কাফনের কাপড় তার গলায় পেঁচানো । লাশের চোখ ও জিভ ফাসির আসামীর মত বের করা । পাসপোর্ট পাওয়া গেল । ভয়ে তাড়াতাড়ি ওই কবর বন্ধ করে বাড়ি এসে ঘটনা বললে আত্নীয়রা জানাল যে ওই মৃত ব্যক্তি বদমেজাজী ছিল । তার কর্মচারীদের সামান্য ভুলের জন্য গালাগালি ও মারধর করত । সেই জন্য তার উপর গোর আজাব শুরু হয়েছে ।

৩.
তৃতীয় ঘটনা - আমার ছোটভাই আজমল হকের কবর দেয়ার সময় দেখেছিলাম । ওই ভাই কাপ্তাইয়ের 'হাইভেল' প্রোজক্টে হিসাব বিভাগে কাজ করার সময় জুয়া খেলে সরকারী তহবিল তসরূপ করলে সে ক্যাশের চাবি নিয়ে বিনা ছুটিতেই , তারপর আমার অন্ধ বাবাকে ভুল বুঝিয়ে ৪ বিঘা জমি ও ৪ টা বাড়ি মাত্র দশ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় । ফেরার পরে মিরেশ্বরাই রেল ষ্টেশনে বাবাকে নামিয়ে দিয়ে কাপ্তাই অফিসে গিয়ে ওই টাকা জমা দিয়ে তসরুপের মামলার নিষ্পত্তি করে । কয়েক লাখ টাকার ওই সম্পত্তি দামের মধ্যে মাত্র ছয় হাজার টাকা আদায় হয়েছিলো । বাকি টাকা আর পাওয়া যায় নাই । বাবা পরে ওই বিষয়ে আমার আর এক ভাইয়ের কাছ থেকে জানতে পেরে দুঃখে কেদে ফেলেছিলেন । আমি তখন ঠাকুরগায়ে চাকুরী করি । সেই ভাই আমাকে জানালে আমি আজমলের সাথে বহুদিন কথা বলি নাই । প্রজেক্টের নির্বাহী প্রকৌশলীর ছোট বোনকে বিয়ে করে আজমল মামলার নিশ্চিত শাস্তি থেকে রক্ষা পায় । আজমল মারা গেলে তাকে আমরা চট্টগ্রামের গরীবুল্লাহ শাহের মাজারে গোর দিতে নিয়ে যাই । তাকে কবরে শোয়ানোর পরে হঠাৎ করেই গোর ভেঙ্গে তার হা করা মুখ ও বুক চাপা দেয় । আমরা অবাক হয়ে তাকিয়ে ওই তাজ্জব কান্ড দেখছিলাম । গোর খোদকের একজন জানালো যে মৃতের কোন গুরতর অপরাধের কারণে আজাব শুরু হয়েছে । আমরা ভয়ে মৌলবীর সাথে দোয়া দরুদ পড়তে পড়তে চলে আসি । প্রতি বছর আমার ভাইপোরা ওই কবরে মিলাদ পড়ায় ও সিন্নি দেয় ।

৪. হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, একবার নবী করিম (সাঃ) দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন । এমন সময় তিনি বললেনঃ জেনে রেখ, এই দুই কবরবাসীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, তবে কোন বিরাট ব্যাপারে তাদের শাস্তি দেয়া হচ্ছেনা । তাদের একজনের গুনাহ ছিল এই যে, পেশাবকালে আড়াল করতো না (মুসলিমের বর্ণনায় আছে পেশাব থেকে পবিত্র হতো না ) আর অপরজনের গুনাহ ছিলো এই যে, সে চোখলখুরী করে বেড়াত । এরপর তিনি খেজুরের তাজা একটি শাখা আনালেন । তারপর তা দু,টুকরা করে উভয় কবরের উপর একটি করে পুঁতে দিলেন । সাহাবা কিরাম আরয করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন এ কাজ করলেন? তিনি বললেন, সম্ভবত এদের শাস্তি কিছুটা লাঘব করা হবে, যতদিন এ তাজা শাখা দুটো না শুকাবে । (বুখারী ও মুসলিম )
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৬
৫৫টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×