somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কল্কি অবতার কে ? মহানবী (সাঃ) ? -২

১২ ই মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দাক্ষিণাত্যের হিন্দুদের সর্ববরেণ্য গুরু রুদ্রমুনি স্বামী এবং শ্রোগানমূর্তিও তার গ্রন্হে সুষ্পষ্টভাবে লিখেছেন- 'দশম অবতার জগৎগুরু আর্বিভাব হয়ে গেছে ।' (শরণলীলা অমৃত, রুদ্রমণির বচন) ।

# ৩. শ্রীমদ্ভাগবতের ১২/২-১৯ এবং ২০ শ্লোকে উল্লেখ , কল্কি অবতার অষ্টগুণ সমর্থিত । । এ গুণগুলো হচ্ছে যথাক্রমে-

...(১). প্রজ্ঞা , (২.) কুলীনতা, (৩.) ইন্দ্রিয় দমন, (৪). শ্রুতি জ্ঞান, (৫). পরাক্রম,(৬). বাগ্মিতা, (৭.) দান, (৮.) কৃতজ্ঞতা । এ সমস্ত গুণ সম্পর্কে মহাভারতে উল্লেখ আছেঃ

"অষ্টেগুণাং পুরুষাং দীপযন্তি প্রজ্ঞা চ কৌলাং চ দমঃ শ্রুতং চ পরাক্রম চ বহুভাষিতা দানং যথাশক্তি কৃতজ্ঞাত চ" । [মহাভারত]

উপরোক্ত সকল গুণই যে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর মধ্যে বিদ্যমান ছিল, তা সুষ্পষ্ট ।

----*১. প্রজ্ঞাঃ অষ্ট গুণের প্রথম গুণ হচ্ছে প্রজ্ঞা । প্রজ্ঞা হল সমস্ত জ্ঞানের নির্যাস বা সারাংশ । যা মহাগ্রন্হ আল-কোরআনের ভাষায় 'হিকমত' । মহানবী (সাঃ) হিকমাতের আধাররূপে পৃথিবীতে আগমণ করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন হযরত ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ এবং হযরত ঈসমাইল (আঃ) এর দোয়ার ফসল । (কোরআন; ২/১২৯) পবিত্র কুরআনের এ আয়াত নবীজীর পূর্বপুরুষদ্বয় আল্লাহর কাছে যে প্রার্থনা করেছিলেন তাতেও 'হিকমত' শব্দটি বিশেষভাবে সন্নিবেশিত আছে । স্বয়ং মহান আল্লাহ বলেনঃ

ক.
'যেমন আমি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদেরই কাছে রাসূল প্রেরণ করেছি যে আমার আয়াতসমূহ তোমাদের কাছে তিলাওয়াত করে তোমাদেরকে পবিত্র করে এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেয় আর তোমরা যা জানতে না তা শিক্ষা দেয় । [২/১৫১]

খ.
'তিনিই (আল্লাহ) নিরক্ষরদের মধ্যে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, তাদের মধ্যে থেকে যে তাদের কাছে আবৃত্তি করে তার (আল্লাহর) আয়াতসমূহ, তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব এবং হিকমত । ইতিপূর্বে এরাইতো ঘোর বিভ্রান্তিতে ছিল । [৬২/২]

...সুতরাং ইসলামের নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন হিন্দু মিথলজীর অবতাররূপী জ্ঞান (ইলম) ও প্রজ্ঞার (হিকমত) মূর্ত প্রতীক ।

-----*২. কুলীনতাঃ কল্কির দ্বিতীয় গুণ 'কৌলাং অর্থাৎ 'কুলীনতা' বা বংশগত মর্যাদা । কল্কি পুরাণ বা ভবিষ্যপুরাণের মতে কল্কি জন্মগ্রহণ করেন শম্ভল দ্বীপে । আরব দেশের প্রধান পুরোহিতের ঘরে । ইসলামের নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) আরব দেশের বিখ্যাত কুরাইশ বংশে এবং পৃথিবীর একমাত্র প্রথম ঘর ও প্রাচীন (ধর্ম মন্দির ) খানায়ে কাবার সেবাকারী বা মুতায়াল্লী আব্দুল মুত্তালিবের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । ফলে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) বংশের দিক থেকেও অতি উচ্চ মর্যাদাশীল বা কুলীন ছিলেন ।

-----*৩. ইন্দ্রিয় দমনঃ কল্কি অবতারের তৃতীয় গুণ হচ্ছে 'দম' অর্থাৎ ইন্দ্রীয় দমন । জীব দেহীদের ইন্দ্রীয় মো্ট একাদশ । এ একাদশ ইন্দ্রীয়ের প্রধান হল মন । মন-ই অপরাপর ইন্দ্রীয়গুলোকে পরিচালিত করে থাকে । যা হোক, আঁ হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) ইন্দ্রিয় আসক্ত ছিলেন না । তিনি ছিলেন ইন্দ্রিয় দমন কারী একজন মহামানব ।

তিনি এমন একজন বিশ্বস্ত ও আমানতদার যে, তার পরম শত্রু তার কাছে কোন কিছূ গচ্ছিত রেখে ঠিক মতো তা ফেরত পেয়েছে । ধৈর্য, সহিষ্ঞুতা ও আল্লাহর উপর অটল বিশ্বাস তার চরিত্রের অন্যতম ভূষণ । শত্রুদের প্রতি মহানবী (সাঃ) এর ব্যবহার ছিল অত্যন্ত উদার । তায়েফের ময়দানে যারা তার পবিত্র দেহকে ক্ষতবিক্ষত করে তখন তাদের জন্য মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে যে প্রার্থনা করেছিলেন তার দৃষ্টান্ত বিশ্বের ইতিহাসে বিরল ।


-----*৪. শ্রুতি জ্ঞানঃ কল্কি অবতারের চতুর্থ গুণ হচ্ছে 'শ্রতং' । অর্থাৎ তিনি শ্রুতির মাধ্যমে বর্ণনা করেন । এ গুণের ব্যাখ্যা হল- তিনি আল্লাহর বাণী তার কাছে কোন মাধ্যমে পৌছলে তিনি তা শ্রবণ করেছেন এরপর অবিকল তা বর্ণনা করেছেন । আল্লাহর দূত হযরত জীবরাঈল (আঃ) আল্লাহর তরফ থেকে পবিত্র কুরআনের সমস্ত আয়াতগুলো ওহীরূপে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) শ্রুত করিয়েছিলেন এবং নবী করীম (সাঃ) তার সাহাবাগণকে তা আবৃত্তি করে শোনাতেন । কোরআনে আল্লাহ পাক বলেছেনঃ

' এবং তিনি [মুহাম্মদ (সাঃ] মগড়া কথাও বলেন না, এতো ওহী যা তার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়" । [৫৩/৩-৪]

-----*৫.পরাক্রমঃ কল্কি অবতারের পন্চম গুণ হচ্ছে 'পরাক্রম' । এ কথা ইতিহাস খ্যাত যে, নবী করীম (সাঃ) ছিলেন বীর কেশরী এবং অমিততেজী । আরবের এক বিখ্যাত কুস্তীগীরকে তিনি হারিয়ে দিয়েছিলেন । জীবনে অনেক যুদ্ধে তিনি নিজে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন । তিনি ছিলেন যেমন আল্লাহর নবী, তেমনিভাবে সমগ্র মানব জাতির ধর্মীয় গুরু, সমাজ এবং রাষ্ট্রের মহান নেতা এবং বিশৃংখল আরব বাসীদের জন্য এক বিশাল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ।

-----*৬.বাগ্মিতাঃ মহানবী (সাঃ) একজন বাগ্মী পুরুষ ছিলেন । নবুয়ত প্রাপ্তির পর তিনি অহরহই ইসলামের দাওয়াতী কার্যে নিয়োজিত ছিলেন । এ জন্য তিনি যথেষ্ঠ নির্যাতন - অত্যাচার সহ্য করেছেন । যেখানে লোকজন জমায়েত দেখতেন, সেখানে-ই তিনি বক্তৃতা আরম্ভ করতেন । তাছাড়া তিনি সাফা পাহাড়ের শিখরে উঠে মানুষদের আহ্বান করতেন । বিদায় হজ্বের ঐতিহাসিক ভাষণ আজও ইতিহাস এ রয়ে গেছে । ফলতঃ হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর বাগ্মিতায় এত বেশি মানুষ আকৃষ্ট হয়েছিল যে, পৃথিবীর অন্য কোন নবী বা ধর্ম প্রবর্তকের পক্ষে তা আদৌ সম্ভব হয় নি ।

-----*৭.দানঃ কল্কি অবতারের সপ্তম গুণ হল 'যথা শক্তি দানং' । হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দানকারী । তার যাবতীয় ধন-সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে গরীব-দুঃখীদের মধ্যে বিলিয়েছিলেন ।
রাসূলে করীম (সাঃ) এর দান খয়রাতের ঘটনা এত বেশি যে, এগুলো পূর্ণরূপে বর্ণনা করার সাধ্য কারও নেই । তার দানশীলতার জন্য কিছু মওজুদ থাকাও জরুরী ছিল না । অভাবগ্রস্তদের জন্য কর্জ করে ব্যয় করা তার সাধারণ নিয়ম ছিল । জনৈক ব্যক্তি হযরত বেলাল (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করল, নবী করিম (সাঃ) এর ব্যয় নির্বাহের কি উপায় ছিল ? বেলাল (রাঃ) বললেন, তার কাছে তো কিছুই থাকতো না । এ ব্যাপারে শেষ অবধি আমি-ই ব্যবস্হাপক ছিলাম । তার অভ্যাস ছিল তিনি যখন কেউ মুসলমান হয়ে খেদমতে হাজির হত এবং তিনি তাকে বস্ত্রহীন দেখতেন, তখন আমাকে এর ব্যবস্হা করতে আদেশ দিতেন । আমি কারও কাছ থেকে কর্জ করে তার বস্ত্র তৈরী করতাম এবং খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্হা করতাম ।


-----*৮.কৃতজ্ঞতাঃ কল্কি অবতারের অষ্টম গুন হচ্ছে কৃতজ্ঞতা ।

মহানবী (সাঃ) ছিলেন সকল গুণের আধার এবং কৃতজ্ঞতাজাপনকারী মহামানব । এ সম্মন্ধে একটা ঘটনা একবার তিনি মা আয়েশা (রাঃ) এর সাথে থাকাকালীন উনি দেখেন যে, মহানবী (সাঃ) রাত জেগে নামাজ পড়ছেন , দীর্ঘসময় দাড়িয়ে থাকার দরূণ উনার পা মোবারক ফুলে গেছে । আর দীর্ঘক্ষণ মোনাজাত করছেন , তখন চোখের পানিতে উনার দাড়ি মোবারক ভিজে যাচ্ছে । নামাজ শেষে তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল ! মহান আল্লাহপাক আপনার পূর্বের এবং পরের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন , তারপরও আপনি কেন এত পরিশ্রম করছেন ? তিনি তখন উত্তর দেন- আমি আল্লাহর একজন শোকরগোজার (কৃতজ্ঞ) বান্দা হব না ?

ফলতঃ এ আলোচনায় প্রমাণিত হয় কলিযুগের শেষ অবতার , (খাতামুন নাবীঈন) হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় ।


........চলবে ।


সূত্রঃ

১. জগৎগুর মুহাম্মদ (সাঃ) [১ম খন্ড] রেনেসাঁ পাবলিকেশন্স
২. বেদ - পুরাণে আল্লাহ ও হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) - ধর্মাচার্য অধ্যাপক ড. বেদপ্রকাশ উপাধ্যায়, ইসলামী সাহিত্য প্রকাশনালয়, ৪৫, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০.
৩. আল-কুরআন ।
৪. মাসিক মদীনা, মার্চ-২০০৯
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৪০
৩৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×