একমাত্র ইসলামের সাথেই সন্ত্রাসকে সম্পৃক্ত করা পশ্চিমাদের এক অনপোনীয় অপরাধ। ইহুদি মিলিশিয়ারা ফিলিস্তিনে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস করেছে। কয়েক দশক পূর্বেই তামিল টাইগাররা সুইসাইড ইউনিফর্ম তৈরি করেছে, একেই বিশ্বব্যাপী সুইসাইড হামলা ও সন্ত্রাসের সূচনা হিসেবে গণ্য করা হয় ; তামিল টাইগাররা সুইসাইডের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী রাজিব গান্ধীকে হত্যা করে। অন্যদিকে, গ্রিসের সন্ত্রাসীরা এথেন্সে আমেরিকান কুটনীতিকদের বিরুদ্ধে গুপ্ত হামলা চালায়। সংঘবদ্ধ শিখ সন্ত্রাসীরা ইন্দিরা গান্ধীকে হত্যা করে, তখন ইন্ডিয়ার এক চতুর্থাংশ এলাকা জুড়ে চরম বিশৃঙ্খল অবস্থার তৈরি হয়, কানাডার সমুদ্রে মিলিত হয়ে তারা একক নীতিমালার শপথ নেয়, যা তাদেরকে সংঘবদ্ধ রাখবে। ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান আটলান্টিক মহাসাগরে ভূপাতিত করে। পুরো বলকান এলাকা জুড়ে ম্যাসিডোনিয়ার গুপ্ত সন্ত্রাসীদের ভীষণ ভয় পায়। উনিশ শতকের শুরুতে এবং বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন এলাকাজুড়ে ঘটা সন্ত্রাসী ঘটনাও এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, যা পরবর্তীতে ব্যাপকভাবে সন্ত্রাসী কর্ম বিস্তারে ভূমিকা রাখে। আয়ারল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় বাহিনী দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ব্রিটেনের সাথে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে, এর সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্য আছে ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশক জুড়ে মালয় কমিউনিস্টদের সন্ত্রাসী কর্ম এখনও বিস্মৃত হয়নি কেউ, ইংরেজদের বিরুদ্ধে কেনিয়ার মাও মাও গোষ্ঠীর সন্ত্রাসী কর্মকে আমরা কি অভিধায় বিচার করব ? বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ঘটা সন্ত্রাসী ঘটনার উল্লেখ কেবল আমাদের কলেবরই বৃদ্ধি করবে। এই উদাহরণগুলো আমাদেরকে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সাহায্য করে যে, সন্ত্রাসের উৎপত্তির জন্য একমাত্র মুসলমানগণই দায়ী নন।
সন্ত্রাসের একেবারে নিকট অতীতের ঘটনাগুলো কোনভাবে এর চেয়ে ভিন্ন চিত্রের নয় ; ইউরোপিয়ান অপরাধ পলিসি রিপোর্ট অনুসারে, ২০০৬ সালের ৪৯৮ টি অপরাধ কর্ম কেবল যুক্তরাজ্যেই ঘটেছে। এর মাঝে ৪২৪ টি অপরাধ ঘটেছে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি গ্রুপের হাতে, ৫৫ টি বামপন্থী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে, ১৮ টি অন্যান্য সন্ত্রাসী দ্বারা ঘটেছে, মাত্র একটি ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়, যার সাথে সরাসরি মুসলিমদের সম্পৃক্ততা খুঁজে পাওয়া যায়।
বরং, এমন কয়েকটি উদাহরণও পাওয়া যায় যে, ইসলামী সংস্থাগুলোর নিবিড় পর্যবেক্ষণের ফলে অনেক সন্ত্রাসী ঘটনা ব্যর্থ হয়।
ইসলাম যদি আধুনিক সময়ের এতটা বিরোধীই হয়, তবে মুসলমানগণ কেন নাইন ইলিভেন পর্যন্ত তাদের হামলার জন্য অপেক্ষা করল ? বিশ শতকের সূচনাকালে ইসলামী চিন্তাবিদগণ কেনই বা ইসলামী কালচার রক্ষার পরিবর্তে আধুনিক সময়ের সাথে আদান প্রদানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনায় উত্থাপন করেছেন ?
-----------------------------
সূত্রঃ দ্য ওয়ার্ল্ড উইদাউট ইসলাম
মূল : গ্রাহাম ই ফুলার
ভূমিকা ও অনুবাদ : কাউসার বিন খালেদ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

