somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আমরা যাদের মুখাপেক্ষী প্রায় প্রতি মুহূর্ত
ক'দিন আগের এক সন্ধ্যায় কাজ থেকে ফিরে একটু বৈচিত্র্যতা পেতে আমরা বাইরে বেরুবো ঠিক করি। পরের দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিন তাই ভাবলাম আশেপাশের কিছু বাচ্চাদের সাথে নিয়ে ওদের মত করেই আজ কিছুক্ষণ কাটাবো। বেরুতেই দেখি বিশাল খোলামেলা গ্যারেজটার ভেতরে ওরা খুব হৈচৈ করে খেলছে। ওরা তিনজন। ৬ থেকে ৮ বছর বয়সের এই তিনটি শিশুর আশেপাশেই রয়েছে আরও তিনজন যাদের বয়স ১০ থেকে ১২বছরের মধ্য; যারা সর্বক্ষণ দায়িত্বশীল নজর রাখছে ঐ তিনটি শিশুর ওপর!

বল্লাম, 'কে কে আমাদের সাথে এখন খেলতে চায় দেখিতো?( মাঝে মাঝেই আমরা এমন একসাথে খেলি, একসাথে কেক-কুকিজ বেক করি, পার্কে নিয়ে যাই)

আমি আমি আমি; তিনজনই প্রায় ছুটে এলো আমাদের দিকে। ওদের সাথে ছুটে এলো বাকী তিনটি শিশুও, যাদের দায়িত্ব অনেক! এদের মধ্যে একজন অস্ফুটে বলেই ফেল্লো, আমরাও আপনাগো লগে যামু?

আমি ভাবি, খুব ভাল হয় যদি ওরাও সঙ্গী হতে পারে, ওরাও একটুখানি অন্যরকম সময় পাবে। চেষ্টা করে দেখি না একবার! অনুমতি মিললো না ওদের! মায়েরা খুশী হয়ে বাচ্চাদের পাঠিয়ে দিলেন আমাদের সাথে। ওরা শুধু আমাদের বৈচিত্র্যময় জীবন-যাপনের দিকে চেয়ে রইলো। এক রকম অপরাধ বোধ আর বৈচিত্র্যতার কষ্ট আমায় ঘিরে রইলো।

এ,সব নতুন কিছু নয়; বরং আমাদের প্রতিদিনের হাজারো গল্পের একটির ছোট্ট একটি দৃশ্য মাত্র! তবু আমরা কি কখনও একটিবার ওদের কথা ভাবি না? কেউ কেউ তো ভাবেন নিশ্চয়!

প্রকৃতপক্ষে ওরা তো আমাদের পরিবারেরই একজন। আমরা ক'জন ভাবি ওদের প্রকৃত শ্রমের বিনিময় মূল্য ঠিকমত দিচ্ছি কিনা, একটুখানি ভালবাসা, স্নেহ-মমতা, নিদেনপক্ষে দু'টো মিষ্টিকথা আমরা কি ওদের দিয়ে থাকি? যে খাবার আমার জন্যে আর খাদ্য বিবেচনা করছিনা তা কি করে আরেকটি মানুষের হাতে তুলে দেই?

একটি মর্মান্তিক দৃশ্য আমি অনেকবার দেখেছি!

খাবারের দোকানে টেবিল ভরা খাবার নিয়ে খাওয়ায় আর গল্পে মেতে উঠেছে সুখী পরিবার; আর তাদের শিশুটিকে যে দেখাশানা করে (১০/১২ বছর বয়সী আরেকটি প্রায় শিশু) সে দঁাড়িয়ে রয়েছে খানিকটা দুরে। মাঝে মাঝে কর্তৃর হুকুম অনুযায়ী কাছে এসে নানান দায়িত্ব পালন করে আবার দুরে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছে। কেউ একটিবারও ভাবলো না ওর খাওয়ার কথা...! ভোজনানন্দ নিয়ে মহাতৃপ্তিতে ফিরে যায় তারা...!

এক অদ্ভুত অনুভূতি আমাকে ছঁিড়ে খঁুড়ে ফেলে। চোখ জ্ব্ালা করতে থাকে...ক্ষুদ্রতার দায়ভার নিজের ভেতরেই অনুভব করি, গড়ার চেয়ে ভাঙ্গার প্রবল ইচ্ছা আমাকে বিভ্রান্ত করে দেয় বারবার...।

আর একটু অন্যভাবে যদি ভেবে দখি? যারা আমাদের সাহায্য(প্রশ্নাতীত বিনিময়ে) করে জীবন ধারণ করে, তাদের সংখ্যা তো কম নয়; একটি বিশাল জনগোষ্ঠি এই পেশায় নির্ভরশীল বলতে পারি। ওদের জন্যে আমাদের ভাবনাটা কি হতে পারে? আমরা যদি 'কাজের লোক' বর্জন করে আত্ননির্ভরশীল হওয়ার কথা ভাবি সেতো ভাল কথা, কিন্তু ওরা কিভাবে বঁাচবে?

ওদের সম্মান-সম্মানি(!!!), নিরাপত্তা, ভালবাসা ও মমতার অধিকার সর্বোপরি সুস্থ বিনিময় নিয়ে আমাদের সচেতনতাই বা কতটুকু? উন্নয়নশীল/ কল্যানমূখী দেশ হলেও এ, দেশে হাতে গোনা দু'একজন ছাড়া, এমন কি যাদের সামান্যই সামর্থ তারা প্রায় সবাইতো ওদের উপর নির্ভরশীল এবং তা ক্রমশ: বেড়েই চলেছে দিন বদলের(সামাজিক প্রেক্ষাপট) প্রেক্ষিতে। আমরা কি প্রকৃতপক্ষে ওদের মুখাপেক্ষী নই? উভয় পক্ষেরই এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সহজ পথ খঁুজে পাওয়া বোধ করি অনিশ্চত সময়সাপেক্ষ।

অন্যদিকে ওদের নিরাপত্তার বিষয়টিও অহরহ ক্ষুন্ন হয় বাড়ির অসৎ পুরুষ সদস্যের কাছে এবং বাড়ির কর্তৃর কাছ থেকে পাওয়া লাঞ্ছনাও তাদের নিত্যপ্রাপ্য! আর এ,ভাবেই পরিবারের ছোটরা জানে, দেখে, শেখে এবং অনুকরণ করে।

আমাদের বোধ আর বিবেককে আমরা যদি জাগিয়ে রাখতে পারি, প্রতিটি পরিবার যদি এ, বিষয়টিতে আন্তরীক হই; সুফল আসবেই। এ,জন্যে পরিবারের দায়িত্বই সবার উপরে। ভাল আর মন্দের শিক্ষা আর চর্চ্চাতো পরিবার থেকেই শুরু হয়।

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতে আবার ঘুমোতে যাবার অনিশ্চিত সময় পর্যন্ত এরা শ্রম দিয়ে যায় আমাদের; রঙহীন, বৈচিত্র্যহীন প্রানহীন এই জীবন-যাপন নিয়ে বোধ করি আমাদের ভাবনা আর দায়িত্ববোধ কোথাও, কোন গভীরে চাপা পড়ে গেছে! তবু আমরাতো হতাশ হই আমাদের একঘেয়েমী এই জীবন-যাপনে!













]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/janablog/28858718 http://www.somewhereinblog.net/blog/janablog/28858718 2008-10-23 18:49:44
চোখের তারায় জলের জোছনা কি দেখছো ওভাবে জলের ভেতর মন ডুবিয়ে?

জল তো কেবল জল নয়; জলীয় আর জলজের জাল বোনার গল্প,
মসৃন লেন্সের ওপর ফুরফুরে হাওয়ায় নীলাভ চুলের ছোট ছোট ঢেউ,
বেগুনী বেদনায় কঁেপে ওঠা কলমীর দল ঢেকে যায় স্বচ্ছ চাদরের আদোরে।

ছোট্ট চাওয়ায় জলের বৃত্ত, বৃত্তের বিন্দু আর নীলাভ ঢেউয়েরা কোথায় হারায় নিভৃতে?

জোনাকীরা ডেকে নেয় আলোর উৎসবে, নির্ভুল মায়ায়, মহুয়ার মাতাল সৌরভে।
পাশেই তো বয়ে চলে জলের চোখ, চোখের জলের বিরামহীন আনন্দে।

তবে যে ময়ূররাতের কাকজোছনায় কাজল পরো,
গুনগুনিয়ে ওঠো অমন করে যঁুথির বনে মেঘমল্লার রাগে?

সেতো কেবল অনেক দুরের রাজার পুরের রথের চাকার সুর!
সুরের সঁাতার গহীন বন পেরিয়ে গভীর হতে হতে নিবিড় হয়ে যায় অনন্তে,
মেঘের চুলে বিলি কেটে একটুখানি জোছনা আনে উতল হাওয়ারা।

জলের জোছনায় মন ডুবিয়ে ওভাবে কি দেখছো মগ্ন হয়ে?

তারাদের জ্বলজ্বলে চোখ, জলজের জলকেলি আর দুরের সুরের অনন্ত সুবাস ।


---------------------------------------------


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/janablog/28832319 http://www.somewhereinblog.net/blog/janablog/28832319 2008-08-19 14:35:17
তোমার অসীমে প্রাণ মন লয়ে, যতদুরে আমি ধাই...........! সুর মানুষকে এভাবে অস্থির করে? মুক্তি চাই, মুক্তি চাই!

উঠে যাই বইপত্র খোলা রেখেই। কি এক ভীষন মমতায় একটি হাত ওর পিঠে রেখে পাশে দঁাড়াই ।

কি হয়েছে তোমার? মন খারাপ?

কিছু না আপুমনি। (একটুখানি হাসি খেলে গেলো ওর মায়াময় মুখটিতে)

এত রাতে বারান্দায় কেন? ঘুম আসছে না তোমার?

অপেক্ষা করতেছি, আপনের পরা শ্যাস হলে আপনেরে এক গেলাস দুধ খাওয়ায়া ঘুমাইতে যাবো। রুজ রুজ আপনে ডিনার খাইতে চান না, আম্মা কষ্ট পায়।

কি আশ্চর্য ! আমি এখন কিছু খাবো না।(অস্বস্তি লাগে আমার)
প্রায় সারাক্ষনই তুমি গুনগুন করে কি গান গাও?

এইটা কোন গান না আপুমনি (রহস্যময় হাসি হেসে) জীবন! মিথ্যা বসত!

আমি ওর কথায় বিষ্মিত হই, একটি অশিক্ষিত দরিদ্র ঘরের মেয়ে.....! যতদুর জানি, ময়মনসিং এর কোন অঞ্চলে তার বাবার বাড়ি। ওর বাবা (ওর ভাষায়) 'গান বাইন্ধা ফকিরি করতো'। তিনি এখন নেই। আমার কথা হারিয়ে যায়। কেবল তাকিয়ে থাকি ওর দিকে।

রাইত হইছে যান, ঘুমান গিয়া আপুমনি! ঘুম না আসলে আমি জানালায় ভারী পদ্দা টাইনা দিয়া চান্দের আলো আটকায়া দেবো। এমুন চান্দের আলো চোক্ষের মাঝে নিয়া ঘুমানো বড় কষ্ট!

অবিশ্বাস্য নাটকীয়তা! ও আমার অনুভুতি কিভাবে পড়তে পারছে?
আমি মন্ত্রচালিত হয়ে নিজের বিছানায় তুলে দিই অবশ নিজেকে! চোখদুটো আটকে যায় জানালায়, অপূর্ব এক আলো-ছায়ার খেলায়।

করিমন! শ্যামলা, মায়াময়, পরিচ্ছন্ন আর কষ্টদগ্ধ চেহারার ২০/২২ বছর বয়সী এই মেয়েটি মাত্র চার দিন আগে জয়েন করেছে আমার মা"কে ঘরের কাজে সহযোগিতা করতে। কোন এক অজানা কারনে সে মাঝে মাঝেই গুনগুনিয়ে ওঠে একই সুর। এক অসাধারণ সুর, আমি অস্থির হয়ে উঠি ওর সুরে কি কথা আছে জানার জন্যে। ও থেমে যায়.......।


আমার পড়ালেখা মাথায় উঠেছে। কি এক যাদুকরী সুরের নেশা আমায় অবশ করে রাখে সারাক্ষন! খুব ইচ্ছে করে করিমনের সাথে বসে একটু গল্প করি; জানতে চাই ওর শৈশব, কৈশর আর ওর "জীবন এবং মিথ্যা বসত" সম্পর্কে। বলতে চায় না।


একদিন আমার মা ওর কঁাধে মমতার হাত রেখে শুনতে চান ওর ঐ সুরের কথাগুলো। আমি উদ্‌গ্রীব হয়ে উঠি আমার মুক্তির আশায়...........!
ও এক অসম্ভব দরদীয়া কন্ঠে গেয়ে ওঠে --


"আমি কেমনে খুলিবো তালা,
আমার ঘরের চাবি যে পরের হাতে।"



--------------------------------------






]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/janablog/28812253 http://www.somewhereinblog.net/blog/janablog/28812253 2008-06-22 02:17:21
পৃথিবী কি অসম্ভব সুন্দর আর আনন্দময়.......।
চা হাতে দরজার ওপাশ থেকে খবরের কাগজ তুলে নেবার সময় একটি ছোট্ট চিরকুট পাওয়া গেল যাতে এভাবে লেখা আছে " ছরি ম্যাডাম, আপনার ওরকিড গাছের একটা ফুলও আর নাই। কেহ বা কাহারা চুরি করিয়া নিয়া গেছে।"

উহঃ! এই 'আর নাই' জাতীয় দু:সংবাদ খবরের কাগজ ছাপিয়ে এবার চিরকুটে এবং তা আমার ভাগ্য? মুহূর্তেই মেজাজ বদলে গেল( প্রিয় অরকিড হারানোর বেদনা আর এলোমেলো অক্ষরে অসাধারণ বাংলায় লেখা আমার মালী বেচারার দায়িত্বশীল চিরকুটের কৌতুক মিলেমিশে যে ভীষন অনুভূতি হলো তার নাম আমার জানা নেই)।

হৃদয়ে রক্তক্ষরণ আর বিশুদ্ধ ক্ষোভ নিয়ে দরজার বাইরে পা বাড়াতেই ইন্টার-কমে ফোন বেজে ওঠে:

হ্যালো! (নিজের কন্ঠস্বর নিজের কানেই কর্কশ ঠেকলো)

গুড মন্‌নিং ম্যাডাম, আমি ইব্রাহিম! (আর কোন কথা নেই)

হুম বলেন ইব্রাহিম! (আমার ঠান্ডা হিম কন্ঠস্বরে অনভ্যস্ত বেচারা ইব্রাহিম খানিকটা অপ্রস্তুত স্বরে যুক্ত করলো, ছ'টা গোলাপ গাছে একটা গোলাপও নেই)

আমি আসছি নীচে আপনি থাকেন। (দুঃখে- বেদনায় চোখ দু'টো আমার ভিজে উঠলো)!

লিফ্টে বন্দী হতে মন চাইলো না বরং ছটফটিয়ে সঁিড়ি বেয়ে নেমে গেলাম। পায়ের চটির ক্রমশঃ বেড়ে চলা শব্দে নিজেই লজ্জা পেয়ে সামলে নিই নিজেকে।

হিমায়িত ইব্রাহিম আমার চোখের সামনে। আমার মত তাকেও বেশ আহত মনে হচ্ছে। আমার ক্ষোভের তীব্রতা হেরে গেলো ওর নিরব সমবেদনায়।

এটা কিভাবে হলো ইব্রাহিম? আমার হাত দুটো পরম মায়ায় প্রিয় গাছগুলো ছঁুয়ে চলে কেবল......। গাছগুলোও কি কষ্ট পাচ্ছে না সৌন্দর্য হারিয়ে?



গুড মর্নিং আন্টি- ছুটে এসে আমায় দু'হাতে জড়িয়ে ধরে প্রতিবেশী ছয়-সাত বছরের ফুটফুটে মেয়েটি।

গুড মর্নিং সোনামনি! তুমি আজ স্কুলে যাওনি?

না- না, আজকে তো আমার দাদুভাইয়ের হ্যাপি বার্থডে- তুমি জানো না?

ও, তাই নাকি? তা হলে তো খুউ-উ-উব মজা হবে?

হ্যাঁ তো! আজকে আমার দাদুর সেভেনটি টু ইয়ার্স হবে জানো? দাদু অনে--ক বড় হয়ে যাবে। তাই মা আর বাবাও আজকে বাইরে কোথাও যাবে না। আমি আর ভাইয়া অনেক বেলুন হ্যাং করে দাদুর রুম ডেকরেট করেছি। ঘুম থেকে উঠে দাদুতো অবাক হয়ে যাবে- আ' অ্যাম শ্যিয়র.....। আরও অনেক কিছু বলতে চায় ও....।


ওর খুশি আরো একটু বাড়িয়ে দেবার উদ্দেশ্যে আদর করে বলি, 'শোনো আমারও খুব আনন্দ হচ্ছে, বিকেলে আমি তোমার দাদুকে উইশ করতে আসবো।


ও-কে! তা হলে তো তোমাকে শপিং-এ যেতে হবে। তুমি দাদুর জন্য কি গিফ্‌ট কিনতে চাও আন্টি? (কি অসম্ভব নির্দোষ মিষ্টি একটি প্রশ্ন!)


তাই তো! আমার মনে হয় অনেকগুলো লাল গোলাপ আমি কিনতে পারি।


আমার এমন একটি উপহারের আকাংখায় ও খানিকটা নিভে যায়- সাথে সাথেই বলে ওঠে,

না- না! আমিইতো দাদুকে ফুল দিয়ে উইশ করবো। জানো, আমি না এই এখান থেকে অ---নে--ক ফুল তুলে নিয়ে নিজে হাতে একটা বি--উটিফুল 'বুকে' বানিয়ে দাদুর বেডের পাশে রেখে দিয়েছি চুপিচপি। দাদু ঘুম থেকে জেগে ওটাই প্রথম দেখতে পাবে। তুমি কিন্তু এসো, বা-বাই আন্টি..। ছুটে চলে গেল মিষ্টি মেয়েটি।


আমার মন ভালো হয়ে যায়- অসম্ভব আনন্দে আমার হাত দু'টো প্রিয় গাছগুলো ছঁুয়ে যায় কৃতঞ্গতা আর মমতায়.....। ওদের পাতাগুলো কেমন চকচকে সবুজ হয়ে ওঠে! যেন ওরা সবই শুনেছে, সবই বুঝতে পেরেছে।


আমি মনে মনে দেখতে পাই, একটি ফুলের মত শিশুর বিজয়ী হাসি আর একজন বাহাত্তর বছর বয়সী যুবকের একজোড়া বিজয়ী, উজ্জল চোখ আর নির্মল হাসি।





পৃথিবী কি অসম্ভব সুন্দর, আনন্দময়.......।









]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/janablog/28800873 http://www.somewhereinblog.net/blog/janablog/28800873 2008-05-21 14:13:12
আহাজারি থেমে যাওয়া, কান্না শুকিয়ে যাওয়া সহস্র অসহায় চোখ আর ক্ষুদ্র এই আমি...
হেঁটে যাচ্ছি; শরণখোলার সাউথখালির ৪নং সেক্টরের ইট বিছানো সদ্য বিধ্বস্ত এবড়ো-খেবড়ো পথ ধরে। এ যেন প্রলয় পরবর্তি এক অন্য জগত। চারিদিকে প্রায় নিশ্চিহ্ন ঘরদোর, গাছ-গাছালি আর নষ্ট হওয়া সোনার ফসল!

পথের দুধারে শত শত ছোট ছোট ঘর। না বাঁশ, কাঠ, খড় কিছুই না, কুড়িয়ে পাওয়া ছেঁড়া কাপড়, বিধস্ত নারকেল-সুপারী গাছের পাতা আর বুভুক্ষু সাহসী শরীর নিয়েই ওরা গড়ে তুলেছে এই ঘর(!)গুলো। তারই ভেতরে গুটি-শুটি হয়ে শুয়ে আছে অসংখ্য মানুষ! আহত, ক্ষুধার্ত আর ক্লান্ত। বাইরে খোলা আকাশের নীচে অনাহারী হাজারো মানুষ। সন্তান, পরিবার আর প্রিয়জনদের একসাথে হারিয়ে ওরা নির্বাক প্রায়। ওদের প্রায় কেউই আর কাঁদছে না। কেবল জানতে চাইছে ঘর-দোর নয়, কাপড় নয় অন্তত একটু খাবার আর পানি ঐ শিশুগুলোর জন্য আমরা দিতে পারি কিনা। খাবার খুঁজে, পানি চেয়ে ক্লান্ত হয়ে অবুঝ শিশুদের অনেকেই মায়ের কোলে ঘুমিয়ে পড়েছে। ক'জন হতভাগা বৃদ্ধের কাতর চাহনি আমার চলা থামিয়ে দেয়। কাছে এগিয়ে যাই। একটু খাবার আর একটুখানি পানিতেই ওদের মুখে আশার আলো ফুটে ওঠে। আমি ওদের মুখে কেবল খুঁজে পেতে থাকি আমার মা, বাবা, ভাই-বোন, স্বামী-সন্তানের মুখ। নিজেকে শেখাই ওদের মত সাহসী হতে, শক্ত হতে। ক্ষুদ্র এই আমার ভেজা চোখ আর আলিঙ্গন ওদের কাছে মূল্যহীন।

বুকভরে নিশ্বাস নিয়ে, পা-দুটো শক্ত করে এগিয়ে যাচ্ছি। এ আমি কোথায়? একি বাস্তব না দু:স্বপ্ন! মানুষ কেমন করে এভাবে বাঁচে? এখানে অসংখ্য শিশু আছে যাদের জন্য আর মায়ের কোলের আশ্রয়টুকুও নেই। মা নেই ওদের, আর কোনদিন ফিরবে না। কি হবে ওদের ?

একজন যুবক উর্ধ্বশ্বাসে ছুটে আসছে আমাদের দিকে। আমাদের পত্রিকা টেলিভিশনের লোক ভেবে গড়গড় করে বলে যেতে লাগলো তার সর্বনাশের কাহিনি। ২৬/২৭ বছর বয়স্ক এই যুবক আসলাম আলী মাত্র ঘন্টা খানেক আগেই তার একমাত্র সন্তানের লাশের সন্ধান পেয়েছে। ৪ বছর বয়সি শিশুটি ঐ রাতে ঘুমিয়ে ছিল তার মায়ের বুকে। ভয়াবহ ঢেউয়ের তোড়ে মাসহ শিশুটি কোথায় হারিয়ে যায় কেউ জানে না। বৃদ্ধ বাবা-মায়ের খোঁজ মেলেনি এই ৫ম দিনেও। স্ত্রী-পুত্র, মা-বাবা, ঘর-সংসার হারিয়ে এই যুবক পাথর হয়ে আছে। হাঁটু অবদি কাদা মাটি। জানালো, নিজে হাতেই কোন মতে মৃত সন্তানের সৎকার করে এলো ...! আমার কণ্ঠ রুদ্ধ হতে থাকে। একটু খাবার আর বিশুদ্ধ পানি ওর হাতে তুলে দিতে হাত কেঁপে যায়।

এগিয়ে যাচ্ছি সামনের দিকে। একটি সংগঠন এদের শুকনো খাবার আর পুরানো কাপড় দিয়ে সাহায্য করছে। হাজারো অসহায় মানুষের ভিড়ে ২০/২১ বছর বয়সী একটি মেয়ে একটু খাবার আর কাপড় পাওয়ার প্রানপণ চেষ্টা করে বিফল হয়ে ফিরে এলো আমাদের কাছে। "একটু খাবার দেন- সকালে ২কেজি চাল সাহায্য পেয়েছি। কিভাবে রান্না করি ঘর নেই, হাঁড়ি নেই, আগুন নেই পানি নেই। চারিদিকে কেবল পচা বিষাক্ত পানি।'' আমার হাতদুটো খুব শক্ত করে ধরে খুব কাছে এসে দাঁড়িয়ে রইলো যেন আমি ওর অবলম্বন, ওর বোন। আমার প্রশ্নের উত্তর দেয়ার শক্তি ওর নেই। অন্যদের কাছে জানতে পারি ওর একমাত্র সন্তান, স্বামী, আর বৃদ্ধা মাকে হারিয়ে ও এখন কিছুটা মানষিক ভারসাম্যহীন। চতুর্থ দিনে ৩ বছর বয়সী একমাত্র মেয়ের লাশ খুঁজে পেয়েছে। বাকীরা এখনও আঁধারেই। ও জানে কেউই আর ফিরবে না। তবুও সারাক্ষণ খুঁজেই চলছে।

এমন হাজারো মানুষের বেদনা-দুর্দশা! আমি কার কথা বলবো? ওরা তো অসংখ্য! আর ওদের ক'জনের কথাই বা আমি জানতে পেরেছি?

ত্রাণ নিয়ে ওখানে পৌঁছে গেছেন অনেকেই। খাবার পানি, পুরনো কাপড়, কিছু ওষুধ, পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইন, লবণ, দেশলাই, মোমবাতি অনেক কিছুই নিয়ে। কিন্তু তার অপর্যাপ্ততা আর সুষ্ঠু বিতরণ ব্যবস্থার অভাবে ওদের অনেকেরই প্রকৃত সাহায্য হচ্ছে কোথায়? আরও দু:খজনক এবং লজ্জার বিষয় হচ্ছে প্রায় সকলেই তাদের সংস্হার ব্যানার প্রদর্শন আর বিভিন্ন মিডিয়ার নজর কাড়ায় ব্যতিব্যস্ত। এমনকি একটি পুরনো ময়লা কাপড় দান করে টিপসই নেয়ার এবং তার ছবি তুলে রাখার আত্মতৃপ্তিও দেখা গেল অনেকের মধ্যে! হায়.....

৭ বছর বয়সী তোফায়েল বাড়ীর ভাগ্যবান শিশু হোসেন বোঝেনা তাদের সর্বনাশের ভয়াবহতা। ও অন্তত মা-বাবা হারায় নি। ও জানে ওদের ঘরদোর নেই, খাবার নেই। কেবল ক্ষুধাই ওকে কষ্ট দেয়। একটা পুরনো লাল রঙের ফুলহাতা সোয়েটার পরে বেশ খুশি। মিষ্টি চেহারাটা ক্ষুধায় ক্লান্ত। একটা পানির বোতল আর সামান্য খাবার পেয়েই মুখে একটুখানি হাসি ফুটে ওঠে। ওর বৃদ্ধাঙ্গুলিতে অনপনেয় কালীর দাগ দেখে আমার প্রশ্নের জবাবে আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে বললো, " ওরা আমারে এই লাল জামফারটা দিছে। তাই আমার হাতে......." । আমার চোখ ভিজে আসে। বড্ড অসহায় আর অপরাধী মনে হয় নিজেকে। আমার দু'টো পয়সা, একটু পানি আর একটু খাবার এই অসহায় মানুষ আর অবুঝ শিশুদের ক'জনের ক'ফোঁটা সাহায্য?

আমার ঠান্ডা হাত দু'টো আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে হোসেনকে। আমার সন্তানের মুখ দেখতে পাই ওর মুখে। বুকের ভেতর এক ধরনের যু্দ্ধ অনুভব করি। মজবুত জুতোর ভেতর অনুভব করি ক্রমশ হীম হয়ে আসা নিজের পা দুটো। ওদের জন্য আমি কি পারি-কতটা পারি? কি হবে ওদের?

ভেতরে ভেতরে আমি কেবল ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হতে থাকি...!

(...চলবে )
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/janablog/28747883 http://www.somewhereinblog.net/blog/janablog/28747883 2007-11-27 11:31:50
চট্টগ্রাম দুর্যোগ - হেল্প ক্যামপেইন – ব্লগারদের উদ্দেশ্যে কিছু তথ্য
ইতিমধ্যে দেশ এবং বিদেশ থেকে অসংখ্য ব্লগার পাচ্ছি যারা দুর্গতদের সাহায্য করার জন্য আকুল হয়ে আছেন এবং নানান পথ খুঁজছেন আর্থিক সহায়তা করার জন্য । বিভিন্ন জন মূল্যবান মতামত এবং পরামর্শও দিয়ে যাচ্ছেন ।

আমরা সামহোয়্যার ইন যেহেতু কোন সাহায্য সংস্থা নই ; কেবলমাত্র সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে আমরা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে চাই এবং আমাদের এই প্রচেষ্টা সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই । এখানে আমরা আমাদের ব্লগ কমিউনিটিকে পেয়েছি যারা স্বেচ্ছায় দুর্গতদের সাহায্য করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন । যারা দেশের বাইরে আছেন তাদের উদ্দ্যেশে বলতে চাই সামহোয়্যার ইন দুর্গতদের সাহায্যের জন্যে কোন অ্যাকাউন্ট খোলেনি কারণ এর যথেষ্ঠ প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে । ব্লগারদের এই উদারতা আর মহত্ব্য সফল করার জন্যে কিছু ব্লগার ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছেন । এ ক্ষেত্রে ব্লগার সাদিক মোহাম্মদ আলম এর এই উদ্যোগ প্রবাসী ব্লগার সহ সকলের উপকারে আসতে পারে ।

এদেশে সরকারী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সাহায্য সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে । এই মুহূর্তে সবচেয়ে দরকার যা তা হলো দুর্গত এলাকা এবং দুর্গতদের বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রয়োজনীয়তা পর্যবেক্ষণ করে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া আর আমরা সেই চেষ্টাটুকু চালিয়ে যাচ্ছি । যে বিশাল ক্ষতি হয়েছে তাতে দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্বাসন বা সহায়তা নিয়েও ভাবার সুযোগ রয়েছে । তাই সকলের কিছুটা সুবিধার্থে আমাদের ব্লগারদের প্রচেষ্টার কতিপয় লিংক এখানে দেয়া হলো :

প্রবাসি ব্লগাররা কিভাবে দূর্গতের পাশে দাড়াবেন, কিছু ভাবনা
প্রবাসীদের ডোনেশনের জন্য পে প্যাল একাউন্ট। চট্রগ্রাম ল্যান্ডস্লাইড ট্রাজেডি
হাত খুলে নয় দাও এবার মন খুলে
ইমারজেন্সি রেস্পন্স - দরকার দক্ষতা এবং সঠিক তথ্য
চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে জন্য দায়ি পরিবেশ সন্ত্রাসীদের বিচার করতে হবে
চট্টগ্রাম- যা করা যেতে পারে ঃ দুই পয়সার জ্ঞান (যদি কারো কাজে লাগে)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/janablog/28715835 http://www.somewhereinblog.net/blog/janablog/28715835 2007-06-13 17:08:47