I am a man with straight forward view, no hidden agenda

আমার হজ্বের দিনগুলি- ০৪ (হজ্ব ২০০৭)

০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৫৮

শেয়ার করুন:                   Facebook

ঢাকা টু জেদ্দা

বিমান বন্দরের বর্ণনা বেশী দেবনা। কারণ যারা নিয়মিত বিমানে নিয়মিত আসা যাওয়া করেন তারা এগুলো জানেন। শুধু যেটুকু হজ্বের জন্য প্রযোজ্য সেটুকুই লিখব।

হাজ্বীদের বিমানে উঠা- সে এক অসাধারণ দৃশ্য। সারি বেঁধে সবাই একসাথে গভীর আবেগে বলতে থাকে 'লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক', পরনে সাদা এহরামের কাপড়। সেই আবেগের ঢেউ সবচেয়ে বেশী উপলদ্ধি করা যায় যদি আপনি হন সেই কাফেলারই একজন।

বিমানে জানলাম ফ্রী সিটিং সিস্টেম, অর্থ যে যেখানে পার বস। আমাদের এজেন্সীর লোকজন- তারা পুরনো লোক, আগেই গিয়ে প্রথম দিকের ফাষ্র্ট ক্লাস সীট গুলো দখল করে নিল। আমরা যারা আনাড়ী তারা তো আর জানিনা যে বাসের মত প্লেনেও পেছন দিকে ঝাঁকি লাগে বরং প্লেনে অনেক বেশী ঝাঁকি লাগে। প্লেন আকাশে উঠার আগে চোখ বন্ধ করে ছিলাম। এটাই প্রথম আকাশে ওঠা, মনে হল মানব সভ্যতার অগ্রগতির এই নিদর্শণ যদি না দেখে মরে যেতাম তবে মরার আগে আফসোস থেকে যেত।

প্লেনে থাকা অবস্থায় ভোর হল। মনটা ছটফট করছিল জানালার পাশে বসার জন্য। শেষে গেষ্ট হাউসে পরিচয় হওযা প্রবাসীকে বললাম তার সিট টা আমাকে দিতে। ও সাথে সাথে রাজী, এই পথে একাধিক বার যাওয়া আসা হয়েছে তার। এই ফাঁকে একটা কথা বলে রাখি, প্লেনে উঠার আগে ভাল করে বাথরুম টয়লেট করে নেয়া ভাল। এহরামের কাপড় পরে প্লেনের ছোট টয়লেটে বাথরুম সারলে কাপড় নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কমপক্ষে ৯০%।

জানালা দিয়ে আরবের মরুভূমি দেখলাম প্রায় এক ঘন্টা। মনে হচ্ছিল জাহান্নাম দেখছি। যতদূর দৃস্টি যায় শুধু বালু, জন মানবের কোন চিহ্ন নাই। যত পশ্চিম দিকে যাচ্ছিলাম মরুভূমি আস্তে আস্তে বালু থেকে পাথুড়ে হচ্ছিল, আর পাহাড়ের সংখ্যা বাড়ছিল। কত শত রকমের, কত ডিজাইনের পাহাড়.....প্রকৃতির এই রুক্ষ রূপ সুজলা সুফলা বাংলায় কখনো দেখিনি। বিমান নামার আগে দেখলাম বন্দর নগরী জেদ্দার এক ঝলক। ছবির মত সাজানো, না না ভুল হলো জ্যামিতির নক্সায় সাজানো জেদ্দার এরিয়াল ভিউ এককথায় শ্বাসরুদ্ধকর। সুযোগ পেলে এই দৃশ্য কোনভাবেই মিস না করার অনুরোধ থাকলো।

 

 

  • ৯ টি মন্তব্য
  • ১০৯ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৩ জনের ভাল লেগেছে, ৪ জনের ভাল লাগেনি
১. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:১০
comment by: ...অসমাপ্ত বলেছেন: বাহ.... ভাল লিখছেন। তবে পর্বগুলো ছোট হয়ে যাচ্ছে। আরেকটু বড় করে লিখতে পারেন।

চলুক...
২. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:১১
comment by: ক্যালী বলেছেন: ভাল পোষ্ট
৩. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৩১
comment by: নির্বাক সুশীল বলেছেন: চোখ বন্ধ করে মাইনাস। হজ্জ্বে গেসিলো, সেইটাও পোস্টের বিষয়বস্তু হইতে পারে?
৪. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৩২
comment by: ক্যালী বলেছেন: + দিলাম
৫. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:০২
comment by: আতিকুল হক বলেছেন: ভালো লিখেছেন। যারা হজ্জ্বে যাবেন, তাদের অবশ্যই কাজে লাগবে। ধন্যবাদ। +

@নির্বাক সুশীল: বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার লোক প্রতি বছর হজ্জ্ব করতে যায়। তারা তো আমাদের কারো বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা জানা থাকলে অবশ্যই কাজে দেয়। হজ্জ্বের অভিজ্ঞতা কেন শেয়ার করা যাবে না?
৬. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৬
comment by: জেমসবন্ড বলেছেন: লেখককে এক বস্তা + আর সুশীল কে এক হালি মাইনাচ ।
০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:০৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ....পরে হলেও।

৭. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:০১
comment by: বেয়াকুফ বলেছেন: হ ভাই, তার উপরে পেলেনে পানি দেয় না, হাগামুতার পর টিস্যু পেপারই সম্বল। এক্কেবারে নাপাক অবস্থা। আচ্ছা, হজ্জের ফ্লাইটগুলাতে ওয়াইন রাখে না? আর এয়ার হোস্টেসগো ডেরেসআপ সম্পর্কে জানতে মন চায়, উনারা কি বুরখা-হিজাব পইরা থাকে না মডার্ন, নাপাক ড্রেস এ থাকে? হাজিগো অসুবিধা হয় না কোন?
০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:১২

লেখক বলেছেন: মডার্ন, মডার্ন....আলট্রা মডার্ন। আমার যাওয়ার সময় যারা ছিল- বেশীর ভাগই আরব আর থাইল্যান্ডের। তাদের বর্ণনা দিয়া নাপাক হইতে চাইনা। তবে ওই সময় ব্যাচেলর ছিলাম, অনেক চিত্ত চান্চ্ঞল্য ঘটেছিল এটুকু বলতে পারি।

 

 


আরো বেশী জানতে চাই, পড়তে চাই
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ২৪৬০