যাক, ছিনতাইয়ের কাহিনী বর্ণনা করা আমার ঊদ্দেশ্য নয়। যেটা বলতে চাই, ছয় বছর আগের সেই ঘটনার পর আর কখনো ছিনতাইয়ের কবলে পড়িনি। ঢাকা শহরের হিসেবে রেকর্ড ভালই বলতে হবে। আজকে তাই ভাবতে বসলাম এর পেছনে নিরেট সৌভাগ্য ছাড়া আর কি কি কারণ থাকতে পারে।
সেদিনের ছিনতাইয়ের পর আমি প্রথমে বোঝার চেস্টা করেছিলাম এত লোক থাকতে কেন আমরাই ছিনতাইয়ের কবলে পড়েছিলাম। কারণটা বোঝা গেলে তার প্রতিকারের উপায় বের করা সহজ হয়। ঐদিন আমরা ৬ বন্ধু ক্লাস শেষ হওয়ার পর সাইন্স ল্যাব মোড়ের 'মালন্চ' তে যাই খেতে। খাওয়ার পর আমরা হোটেলের বাইরে বেশ কিছুক্ষণ গল্পগুজর করি। তারপর মোড়ে রিক্সা নেয়ার সাথে সাথেই ছিনতাইকারীরা আমাদের ধরে। আমার ধারণা ঔ গল্প গুজবের সময়ই আমরা টার্গেট হয়ে যাই। আম্মার বহু কষ্টের টাকায় কেনা নকিয়া সেট টা খোয়াতে হয়।
ঢাকা শহরের যে কোন ব্যস্ত মোড়ে একটু বেশী সময় ধরে গল্পগুজব করা মানে বিপদ ডেকে আনা। আর এর মাঝে যদি আপনি আপনার 'এন ৯৫' টা পকেট থেকে বের করেছেন তো সোনায় সোহাগা, চোখে মলম এই লাগলো বলে। দামী মোবাইল রাস্তাঘাটে শো করা ভীষণ রিস্কি একটা কাজ বিশেষতঃ যদি আপনি হাঁটার উপরে থাকেন। ছিনতাইকারীরা সবসময় গ্রুপে কাজ করে এবং টার্গেট ভিত্তিক কাজ করে। আপনি যদি একবার তাদের টার্গেটে পড়ে যান তবে আলটিমেটলি আপনার রেহাই পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
সামনে যদি লম্বা রাস্তা হেঁটে পার হতে হয় তবে 'খুউব খিয়াল কইরা'। ভীড় থাকলে অবশ্য বিপদ কম তবে নির্জন রাস্তা হলে ফুটপাতে হাঁটারই দরকার নেই, আইল্যান্ড দিয়ে হাঁটুন যথাসম্ভব দ্রুত।
একা একা সি এন জি তে উঠা একেবারে যদি বাদ দিতে পারেন সবচেয়ে ভাল। ঢাকায় এখন প্রচুর বাস সার্ভিস, একটু কস্ট করে হলেও এগুলো ব্যবহার করুন। বাসে পকেটমারের ভয় আছে কিন্তু ছিনতাইয়ের ভয় নাই বললেই চলে। আর বাসে যত আরামে এফ এম বা এম পি থ্রি গান শোনা যায় সি এন জি তে সেটা একেবারেই সম্ভব না।
ছিনতাইকারীরা অনেক সময় পকেটের ফোলা দেখে মোবাইলের দাম বোঝার চেষ্টা করে। আজকালকার সব দামী মোবাইলই তো বেশ ভার ভারিক্কী হয়। এদিকটা একটু খেয়াল রাখতে পারেন। আর খুব ভোরে নাইটকোচ থেকে নেমেই রিক্সা নেবেন না। এই সময়টা আমার কাছে মনে হয় ঢাকা শহরের সবচেয়ে বিপদজনক সময়। আমার কয়েকজন পরিচিতের এই সময়টাতেই ছিনতাই হয়েছিলো। এট লিস্ট সূর্য উঠতে দিন, তারপরে বের হোন বাস কাউন্টার থেকে।
আপাততঃ এটুকুই, পাঠকরা আমার মত ঠেকায় পড়ে আরো যা যা শিখেছেন শেয়ার করতে পারেন।
সুস্থ ও নিরাপদে থাকুন।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



