এক সময় ব্যাংকে চাকরী করায় বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সাইজ সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা আছে। কি বিশাল পরিমাণে কাপড় যে তৈরী হয়, শার্ট-প্যান্ট থেকে শুরু করে সোয়েটার, গেন্জী-আন্ডারওয়ার পর্যন্ত। এই কাপড়ের বেশীর ভাগই যায় আমেরিকা আর ইউরোপে। আর ঐ সব দেশে যে শুধু বাংলাদেশের কাপড়ই যায় তা নয়, আরো অনেক দেশের কাপড়ই যায়। বরং ইউরোপ আমেরিকার মার্কেটে বাংলাদেশী কাপড়ের শেয়ার খুব বেশী হলে ১০% হবে। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগে এত কাপড় কারা ব্যবহার করে? কিভাবে ব্যবহার করে? একটা মানুষের বছরে কত কাপড় লাগে?
আমেরিকার ৩০ কোটি মানুষ আমাদের দেশ তো বটেই সেই সাথে চীন, ভিয়েতনাম, ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, মেক্সিকো সহ আরো বহুদেশের রপ্তানী করা কোটি কোটি পিস কাপড় ব্যবহার করছে। যদি তাদের কাপড় ব্যবহারের পরিমাণ আমাদের একটা সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মত হতো তাহলে এই দেশগুলোর রপ্তানী করা এত কাপড় কে ব্যবহার করতো? লক্ষ লক্ষ গার্মেন্টস কি বেকার হয়ে যেতনা? আর ঐ গার্মেন্টসে কাজ করা মানুষগুলোর কথা না হয় বাদই দিলাম। তারমানে কি? অপচয়-ভোগবিলাস জিন্দাবাদ? বাস্তব চিন্তা করলে অবস্থাটা কিন্তু সেরকমই দাঁড়ায়।
শুধু কাপড় কেন মোবাইলের কথাই ধরুন না। নোকিয়া এন ৭০ তো মনে হয় সেদিন এলো কিন্তু তারপর এন সিরিজেরই কত গুলো সেট এসেছে। একটা ভাল ব্র্যান্ডের মোবাইল হেসে খেলে ৩/৪ বছর ব্যবহার করা যায়। ভাগ্যিস সবাই তা করেনা, যদি তাই করতো তাহলে 'নোকিয়া-স্যামসাং-এলজি' এরা সবাই পথে বসে যেত সেই সাথে বেকার হতো অনেক মানুষ। (আমি নিজেই মনে হয় গত ৩ বছরে কমপক্ষে ৩ বার সেট বদলেছি)
তারপর অপারেটিং সিস্টেম, উইন্ডোজ ৯৮ দিয়ে কি এখনো কাজ চলেনা? কিন্তু গত ১০ বছরে কত কিছু এলো গেলো '২০০০', এক্সপি, ভিসতা.......। আমরা না হয় ৫০ টাকার সিডি কিনি, কিন্তু পশ্চিমা দুনিয়ার বেশীরভাগ লোক তো পয়সা দিয়ে কিনছে। যদি পুরনো '৯৮' এই পড়ে থাকতো তাহলে বিল গেটস সাহেবের আর শীর্ষ ধনী হওয়া লাগতোনা।
আরেক অপচয় হয় গাড়িতে, ৩/৪ বছর ব্যবহার করেই ফেলে দাও। অথচ ৪০ বছরের পুরনো ভক্সওয়াগন দিব্যি চলতে দেখি রাস্তায়। কিন্তু না ফেলেই বা উপায় কি বলেন? গাড়ি কোম্পানী গুলোকে তো বাঁচাতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


