ছাত্র জীবনটা ছিলো অনেক অনেক.......অনেক বেশী লম্বা। ইন্টারের পর থেকে মাষ্টার্স পর্যন্ত সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাস আর রাজনীতির খপ্পরে পড়ে কেটে গেছে প্রায় ৮ বছর। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড়ি পরিবেশে তীব্র আনন্দে কেটে গেছে সময়টা। কিন্তু কর্মজীবনে প্রবেশ করে উপলদ্ধি করলাম নতুন এই জগতের জন্য যে সমস্ত মাল-মশলা সদাই করে আনা দরকার ছিলো তার কিছুই করা হয়নি। সোজা কথা দীর্ঘ ৮ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় মোটামুটি সময় নষ্ট করেই কাটিয়ে দিয়েছি।
সন্দেহ নেই নতুন প্রজন্ম অনেক সচেতন। কিন্তু তারপরও আমার মত কিছু 'ভাদাইমা' বা দূর্ভাগা তো সব জায়গাতেই আছে। তাদেরকে উদ্দেশ্য করেই আজকের এই লেখা।
পুরো বিশ্বের চাকর- বাকরির বাজারে একটা বিরাট পরিবর্তণ আসতে যাচ্ছে। অফিস আদালতে এসে চাকরী করার কনসেপ্ট টাই আস্তে আস্তে উঠে যাবে। ক্রোম নামক অপারেটিং সিস্টেম দিয়ে গুগল কম্পিউটিং এর ধারণা পাল্টে দিতে যাচ্ছে। অফিসে গিয়ে পিসিতে বসার কোন দরকার নেই, ইন্টারনেটের কানেকশন থাকলে সারা দুনিয়াই আপনার পিসি। কোন সফটওয়ার, গেমস, অপারেটিং সিস্টেম কিছুই ইন্সটল করার দরকার নেই, সবই অনলাইন। গুগল ডকস, গুগল মেইল এবং অন্যান্য চমৎকার সব এপ্লিকেশন নেট থেকেই আপনি ইউজ করতে পারবেন। মাইক্রাসফটও পিছিয়ে নেই, তারাও শেয়ারপয়েন্ট আর স্কাই ড্রাইভ নিয়ে এগুচ্ছে। প্রশ্ন করতে পারেন এসব করে লাভ কি? লাভ হলো যেকেনা জায়গা থেকেই আপনি অফিসের কাজ করতে পারছেন, কাঁড়িকাঁড়ি টাকা দিয়ে কমার্শিয়াল এরিয়ায় বিশাল অফিস স্পেস ভাড়া করতে হচ্ছেনা। সেই সাথে কোলাবরেশনের সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।
নতুন এই পরিস্থিতিতে যেটা হবে নলেজ বেসড কাজের জন্য কোম্পানী গুলো পৃথিবীর যে কোন জায়গা থেকেই ট্যালেন্ট হান্ট করতে পারবে। আপনি হয়ত ভাল পিএইচ পি প্রোগ্রামিং জানেন, বাংলাদেশে বসেই আপনি লন্ডন আমেরিকার কোন প্রতিষ্ঠানে ফুল টাইম কাজ করতে পারবেন। অফিস টাইমে পিসিতে লগ-ইন করবেন, মেইলের মাধ্যমে আপনাকে কাজ দেয়া হবে। শেয়ারপয়েন্ট বা লাইভ মিটিং এর মাধ্যমে কলিগদের সাথে একসাথে কাজ করবেন। কথা বলার দরকার হলে স্কাইপ, গুগলটক তো আছেই। চমৎকার এই পোস্টটা পড়ে দেখতে পারেন।
হ্যাঁ, সুযোগ আছে আর সেটা অনেক বিশালও বটে। কিন্তু সেজন্য আপনাকে আপনার সাইডে সত্যিকারের দক্ষ হতে হবে। 'জ্যাক অব অল' ট্রেড হওয়ার চেষ্ট না করে যে কোন একটি লাইন বেছে নিন। আমাদের দেশে তো কোন রকম যোগ্যতা ছাড়াই মামা-চাচা ধরে লোকজন চাকরীতে ঢুকে পড়ে। কিন্তু অনলাইনে কাজ করতে হলে কোন ফাঁকিঝুকি চলবেনা। বিদেশী কোম্পানী আপনার চেহারা দেখে বা ৯টা ৫টা অফিস করার জন্য টাকা দেবেনা। এই মুহুর্তেই অনলাইনে প্রচুর কাজের সুযোগ আছে। 'ফ্রিল্যান্স ওয়ার্ক বা জব' লিখে গুগলে সার্চ দিয়ে দেখুন। কিন্তু ঐ যে বললাম, সত্যিকারের দক্ষতা থাকতে হবে। পার্ট টাইম ফ্রিল্যান্স কাজ করে আমার পরিচিত কয়েকজন মাসে ২০/৩০ হাজার টাকা কামাচ্ছে।
যতটুকু দেখলাম তাতে মনে হলো নিচের এরিয়া গুলোতে ভাল কাজের সুযোগ আছে।
-পিএইচপি, মাইএস্কিউএল
-এক্সেল
-ভিজিও
-ক্রিয়েটিভ ডিজাইন
-কপি রাইটিং/ ক্রিয়েটিভ রাইটিং
-সার্চ ইন্জিন অপটিমাইজেশন
........এরকম আরো আছে, আগ্রহীরা ওয়েব ঘেটে বের করতে পারেন।
উপরের স্কীল গুলা কাজ চালানোর মত বেশীর ভাগই আমার আছে কিন্তু 'মাষ্টার' হওয়া এখন আর সম্ভব না আমার পক্ষে। মন চাইলেও 'মাঠে' নামতে পারছিনা। তাই ছোট ভাই- বোনদের দিকে তাকিয়ে আছি। আর বড়জোর দুটো বছর পরেই ইউরোপ-আমেরিকার চাকরী এখানে বসেই করতে পারবে। কিন্তু শর্ত একটাই, অন্ততঃ একটি লাইনে 'বস' হতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


