পুরুষের লোভ এবং অন্ধকারের মেয়ে
/গাল জুড়ে পাউডারের আলগা ছোপ, ঠোটে রঙ, কপালে রঙচঙে টিপ, খোপায় জড়ানো কড়া গন্ধের ফুলের মালা, আধ-পুরনো চটকদার শাড়িতে শরীর জড়িয়ে মেয়েটি ভরসন্ধ্যায় রিকশায় চড়ে এদিক-ওদিক চক্কর দেয়। কখনো আধো অন্ধকারে পার্কের কোনা, রাস্তার মোড়ে ঠায় দাড়িয়ে আকারে-ইঙ্গিতে খদ্দের খোজে। তাকে দেখে আপনার চোখে ঘৃণা, ঠোটের কোণে বিদ্রƒপের হাসি। হয়তো মেয়েটির দিকে অনুচ্চারিত একটা কুৎসিত ইঙ্গিত জুড়ে দিয়ে আপনি পাশ কাটান। মনে মনে জপতে থাকেন, আপনার চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র।
/এককালে বাবা-মায়ের রাখা মেয়েটির কোনো একটা নাম থাকলেও এখন তার একটাই পরিচয়Ñ পতিতা। কেউ কেউ সাহিত্য করে বলেন যৌনকর্মী। যে নামেই ডাকুন, মেয়েটির দুর্নাম কমে না একটুও। নিছক বেচে থাকার তাগিদে, পেটের ধান্ধায়, দেহটাকে পেতে দেয় পুরুষের আগ্রাসী ক্ষুধা মেটাতে। পুরুষ যদি সংযত করতো তার ক্ষুধা, মেয়েটির প্রয়োজন হতো না রঙ মেখে এমন সঙ সাজতে।
/একই যাত্রায় যদি পৃথক ফল না থাকে, তবে অসহায় ক্ষুধার্ত মেয়েটির শরীর দিয়ে যে পুরুষটি তার চাহিদা মেটায় তাকেও কেন পতিত বলবেন না? পুরুষ শাসিত সমাজে শুধু পুরুষ হওয়ার কারণেই কি সে পার পেয়ে যাবে আর যতো দোষ এসে জুটবে অসহায় মেয়েটির কপালে।
/আমরা কিন্তু একবারও ভেবে দেখছি না, কেন মেয়েটি তার জীবনটাকে এমন কদর্যতার মধ্যে বয়ে বেড়াচ্ছে। এমন কেউ কি আছে শখ করে নিজেকে বঞ্চিত রাখে সুস্থ আনন্দের মেলা থেকে? নিতান্ত অপারগ না হলে কোনো মেয়ে কি পেটের ক্ষুধা মেটাতে গভীরতম লজ্জাকে অকুণ্ঠে বিসর্জন দেয়!
/আমি খুব ভালো করে জানি, পৃথিবীর কোনো মেয়েই নিছক শখ করে এ পথে পা বাড়ায় না। প্রতিটি মেয়েরই আজন্ম লালিত সাধ, স্বামী-সন্তান নিয়ে একটি সংসার। সেই সাধের ঘরে আগুন লাগায় পুরুষেরই আগ্রাসী ক্ষুধার আগুন। উপায়হীন যে মেয়েটি সে আগুনে আত্মাহুতি দিতে বাধ্য হয়, তাকেই আসামির কাঠগড়ায় দাড় করিয়ে একতরফা রায়ে সব কলঙ্ক তার মাথায় চাপিয়ে দেয়া হয়। উচ্চকণ্ঠে অপবাদ দিতে একটুও বাধে না, দেহের তাড়নায় মেয়েটিই নাকি প্রলোভিত করে তোলে ভালো মানুষ পুরুষগুলোকে।
/যদি প্রশ্ন করি, মেয়েটিকে এ পথে আসতে বাধ্য করেছে কে? জবাব, অবশ্যই পুরুষ। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষে পুরুষ জড়িত থাকেই। প্রেমের প্রলোভনে হোক, ভয় দেখিয়ে বা অপহরণ করে হোক কিংবা ভালো উপার্জনের স্বপ্ন দেখিয়েই হোক, মেয়েটিকে ঘরের বাইরে এনেছে পুরুষের লোভ। উদ্দেশ্য একটাই, ছলে-বলে-কৌশলে যতো বেশি নারীদেহ ভোগ। ভোগ ফুরালো তো পুরুষটি সাধু। কপাল পুড়লো মেয়েটির। শুরু হলো অন্ধকারের জীবন। সুখের সূর্য আর কোনোদিন ওঠে না মেয়েটির জীবনে।
/আচ্ছা, আমাদের সমাজের পুরুষরা কি ক্লেদাক্ত লালসার রাশ টেনে নিষ্কৃতি দিতে পারে না অসহায় মেয়েটিকে। ফিরিয়ে দিতে পারি না ওর স্বপ্নের পৃথিবী। মেয়েটি অবশ্যই আমাদের কারো না কারো মা, বোন বা মেয়ে। তবে দ্বিধা কেন পুনর্বাসিত করে মেয়েটিকে আপন করে নিতে, সমাজে তাকে একটা সম্মানজনক স্থান দিতে?
/আসুন, সবাই মিলে সত্যবদ্ধ হই যেন আমাদের কোনো মা, বোন কিংবা মেয়েকে এ কদর্য জীবনে আর কোনোদিনই টেনে না নামানো হয়। সত্যবদ্ধ হতে আপনার কি দ্বিধা আছে?
লিখেছেন- জেনী চৌধুরী
[email protected]
একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?
হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।