আমার প্রিয় পোস্ট

……ভাঙ্গতে চাইলে… ভাঙ্গারও অনেক আইন আছে-

ব্রাক এর সমালোচনা- পাতি মধ্যবিত্তের আস্ফালন

১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৬

শেয়ার করুন:                   Facebook

ব্রাকের ঋন গ্রহিতা দরিদ্র রিক্সা চালক আবদুর রশীদ এর হত্যাকান্ড সাম্প্রতিক সময়ের একটি মর্মান্তিক ঘটনা। স্পষ্টতই ব্রাকের স্থানীয় পর্যায়ের কর্মীদের এ হত্যাকান্ডের বিষয়ে দায়ী করা হয়েছে। স্থানীয় সুত্রের খবর অনুযায়ী টাকা আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগের পন্থায় ইচ্ছা অথবা অনিচ্ছায় এই দুঃখ জনক মৃত্যু অথবা হত্যা কান্ডটি ঘটেছে। পরবর্তী কালে ব্রাক একটা আপোষ রফার মধ্য দিয়ে টাকা পয়সা খরচ করে বিষয়টা মিটিয়ে ফেলতে চাচ্ছে বলে পত্রিকা সুত্রে খবর প্রকাশিত হয়েছে।যে অভিযোগ সত্য বলে মনে করার পক্ষে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমান ব্রাক কর্মকর্তাদের ভাষ্যেই পাওয়া গেছে।

দরিদ্র রিক্সা চালক আবদুর রশীদ এর এই মর্মান্তিক হত্যাকান্ড নিয়ে সংবেদনশীল ব্লগার গন তাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন- ব্রাক কে আসামির কাঠ গড়ায় দাড় করিয়েছেন। অতি উৎসাহী কেউ কেউ ব্রাক এবং তাদের যাবতীয় পন্য কে বয়কট করার ডাক দিয়েছেন।

যে সমস্ত প্রতিক্রিয়া মন্তব্য হিসাবে পাওয়া গেছে তার মধ্যে অধিকাংশই ক্ষোভ এবং আবেগে ভরা।পুরা বিষয়টায় কোন ধরনের গোছান ভাবনা চিন্তা আমার নজরে আসেনি- বরং ভাবনা চিন্তার বিপরীতে যে কাজটা করা সবচেয়ে আরামপ্রদ, ব্লগারগন তাই করেছেন। কষে ব্রাককে গালি দিয়েছেন।

এ সমস্ত মৃত্যু-শোক-দুর্ভোগ-যন্ত্রনাকে শহুরে মধ্যবিত্ত সবসময়ই তার দুধভাত আর সুখশয্যা উপভোগে উৎপাত হিসাবে দেখে। ব্রাকের প্রতি গোস্বা হওয়াটা তাই যুক্তিসংগত বৈকি………

যারা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন তাদের কেউ কেউ…… “শ্রেনী শত্রু খতমের জন্য চারু মজুমদারের পথ অনুশরণ করা”…… অথবা “একটা ৭১............! সেই ৭১ হবে জনযুদ্ধের............” ডাক দিয়েছেন।

এর মধ্যে কেউ কেউ “বাংলাদেশের অবহেলিত মানুষরা” যে বিদ্রোহ করে বসে উঁচু দালান কোঠায় যারা থাকেন সে সব অবহেলিত নন এমন মানুষের ঘুমানোতে ব্যঘাত ঘটায়নি সেজন্য কৃতজ্ঞ হয়ে তাদের “আসলেই সত্যিকারের মানুষ.....” বলে পিঠ চাপড়ে দিয়েছেন। কি সাংঘাতিক প্রশংসা!!!

আমি এ কদিন প্রতিটা মন্তব্য এবং পোষ্ট মন দিয়ে পড়ছিলাম- বোঝার চেষ্টা করছিলাম ব্রাকের বিরুদ্ধে মোটা দাগের অভি্যোগ গুলা কি নিয়ে। দরিদ্র রিক্সা চালক আবদুর রশীদ এর হত্যাকান্ড কিছুতেই সমর্থন যোগ্য নয় এবং এ হত্যাকান্ডের দায় ব্রাককেই নিতে হবে।কিন্ত এ প্রশ্ন ছাড়া আর কি স্পষ্ট সমালোচনা ব্রাকের প্রতি আছে, এ সকল মন্তব্য পড়ে তার কোন নির্দেশনা পেলাম না।

আমার যদি বোঝার ভুল না হয়ে থাকে তবে কিছু বিষয় পরিস্কার করে নেওয়া ভাল—

• আমার ব্লগের বন্ধুরা নিশ্চয় কোন বৈপ্লবিক অর্থনীতির ব্যবস্থা কায়েমের স্বপ্ন দেখছেন না বা তাতে সামিল হওয়ার উদ্দ্যোগ নিচ্ছেন না- সেটা আমরা যতক্ষন না করছি, আমাদের ভুলে যাওয়া ঠিক হবে না যে আমরা বাজার অর্থনীতির মধ্যে বসবাস করছি। এর যা কিছু লক্ষন এবং চিহ্ন তার সবটুকুই এখানে উপস্থিত থাকবে- কিছু যায় আসে না এটা দেখে আমাদের কি প্রতিক্রিয়া হলো বা না হলো।
• ব্রাকের প্রতি সমালোচনা কি তার মাইক্রো ক্রেডিট কর্মসুচি নিয়ে? যদি তাই হয় তবে আমাদের আলোচনাটা সেখানে আমরা কেন্দ্রীভুত করতে পারি। ব্রাক তার ঋন আদায়ের জন্য কি কি পন্থা নিতে পারে- এক্ষেত্রে সরকারের দিক থেকে অতি অবশ্যই পরিস্কার গাইডলাইন থাকা প্রয়োজন- এ ধরনের কোন গাইড লাইন কি আদৌ আছে? ঘরের টিন খুলে নিয়ে নিয়ে আসার কাহিনী আমরা প্রায়ই শুনি- এটার বৈধতা কি ভাবে যাচাই করা যায়?
• মাইক্রোক্রেডিটের আওতাধীন ঋন গ্রহনকারীরা প্রায়শই ঋন পরিশোধে অসমর্থ হয়- এখন এই ঋন কি ব্রাক মাফ করে দেবে বলে আমরা আশা করছি? ঋন আদায়ে নমনীয় হবে? হলে কতটা?
• ব্রাকের পন্যের (এখানে আড়ং ফ্যাশন আউটলেট এর নাম এসেছে) সমালোচনা হিসাবে এসেছে তাদের পন্যের দাম বেশী…… ইত্যাদি ইত্যাদি- এখন মার্কস এন্ড স্পেন্সার যে শার্ট বিক্রি করে- তার চেয়ে অনেক কম দামে শার্ট পাওয়া সত্ত্বেও-- মানুষ যুগ যুগ ধরে বেশি দামেরটাই কিনে আসছে। কারন ব্রান্ড মানে আস্থা, ব্রান্ড মানে কমিটমেন্ট, এর অর্থ কাপড়ের কালার, কোয়ালিটি, বোতাম ছিড়ে যাবে কিনা এগুলো নিয়ে আমাকে ভাবতে হবে না। এভাবেই নির্দিষ্ট মান, সেবা, বাড়তি উপযোগিতা বজায় রেখেই তিলে তিলে একটা ব্রান্ড গড়ে ওঠে। এর জন্য বাড়তি মুল্য তো দিতেই হবে।
• ব্রাকের পন্য বর্জন আমরা কতটুকু সমর্থন যোগ্য মনে করি- যখন এটা একটা শিল্প হিসাবে গড়ে উঠছে- হাজার হাজার লোকের জীবিকা যার সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে? আমরা কি বাংলাদেশীয় ব্রান্ডিং এর গড়ে ওঠার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিবো?
• ব্রাকের যে সমস্ত অপব্যবহার- অব্যবস্থা এবং অবিচার এসবই বাংলাদেশের অবিকশিত অর্থব্যাবস্থা- দুর্বল রাষ্ট্রীয় কাঠামো থেকে উদ্ভুত- এ পরিস্থিতিতে ব্রাক না হয়ে অন্য যে কোন প্রতিষ্ঠান একই কাণ্ড ঘটাত। ফলে প্রতিষ্ঠানটি ব্রাক বলেই এ ঘটনা ঘটেছে এটা অতি সরলীকরন একটা ধারনা, ব্রাককে নিন্দার পাশাপাশি এই সীমাবদ্ধতা নিয়েও আমাদের চিন্তা করা উচিত।

গত কয়েকদিন এই ব্লগ গুলো নিয়মিত পড়ার পর আমি বুঝতে চেয়েছি, এই জরুরী প্রশ্নগুলো নিয়ে আমরা ভেবেছি কিনা।কোন দিক নির্দেশনা খুজেছি কিনা। যদি না ভেবে থাকি তবে এ ধরনের পোষ্ট গুলো মুখরোচক বুলি হিসাবেই থেকে যাবে। পাতি মধ্যবিত্তের আস্ফালন দিয়ে আমরা খুব বেশীদুর যেতে পারবো না।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): আমার সমাজ ভাবনা ;

 

  • ২৯ টি মন্তব্য
  • ২৮৭ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৪ জনের ভাল লেগেছে, ১৩ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১৫
comment by: বিডি আইডল বলেছেন: আপনে কে? হরিদাসের পালের অর্থ জানেন তো?
২. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১৮
comment by: জাতেমাতাল বলেছেন: নিশ্চয়ই বিডি আইডল, তাই কি?
৩. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২০
comment by: হাসিব মাহমুদ বলেছেন:
সবাইরে পাতি মধ্যবিত্ত বৈলা গাইল দিয়া নিজেরে ভিন্ন কিছু ভাবার চেষ্টা করাটা ইগো স্যাটিসফেকশনের পুরানা পদ্ধতি ।

তয় কথা হৈলো এই পদ্ধতিতে না আগায়া আমি চলমান আলোচনায় একটু সাপ্লিমেন্ট করতে আগ্রহি । কি কি ইস্যু উঠা দরকার সেইটা যেমন গুরুত্বপূর্ন তেমনি কোনপ্রকার শ্রেনীভেদ বাদ্দিয়া সেই ইস্যুগুলা নিয়া ম্যাঙ্গোপাবলিকের সাথে আলোচনা চালায়া যাওয়াটাও গুরুত্বপূর্ন ।
১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৫

লেখক বলেছেন: ব্লগারদের ব্যাক্তিগত ভাবে কোন গাইল তো দিই নাই। কারো কারো চিন্তা ভাবনা করার পদ্ধতি কে তুলে ধরেছি মাত্র।

৪. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২১
comment by: অণৃণ্য বলেছেন: পাতি গবেষক:)

আপনার মানসিক দুর্নীতিতে মাইনাস:)
১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৮

লেখক বলেছেন: আপনার আস্ফালনের জন্য ধন্যবাদ।

৫. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৬
comment by: মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: মাইনাস । ব্র্যাক কত দিচ্ছে আপনাকে?
৬. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪০
comment by: জাতেমাতাল বলেছেন: এখনো পর্যন্ত ব্রাক কিছু দেয় নাই। দিলে আপনাকে জানাবো। প্রমিজ।
৭. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪২
comment by: আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: আপনি জাতে মাতাল তো।এইবার মাইনাস খেয়েও তালেও ঠিক হবেন।

ব্র্যাক-এর উচ্চপদস্থ হর্তাকর্তা নাকি?বেতন ভালোই পান মনে লয় :)

আমার কাজিন ব্র্যাকে চাকরি করে।সারাদিন সুদখোর বলে ব্র্যাক গালিগালাজ করে! কেমন চশমখোর দেখছেন! অন্নদাতার বিরুদ্ধে গীবত?

আর যদি নাম কামানো আশায় পোষ্ট দিয়ে থাকেন।তাইলে বলবো বুদ্ধি আপনার নেহায়েৎ কম না।
১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৮:৪৪

লেখক বলেছেন: আপনার যেটা পছন্দ, আপনি সেটাই করবেন। যদি বিতর্কে অংশ গ্রহন কষ্টসাধ্য মনে হয় তবে মাইনাস দিয়ে চলে যাবেন।
মাইনাস বাটনটা তো দেওয়াই হয়েছে আরামপ্রদ মন্তব্য জানানোর জন্য।
চিন্তা ভাবনা করার কাজটা অন্যদের উপর ছেড়ে দেন- নেভার মাইণ্ড।

৮. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৩
comment by: অণৃণ্য বলেছেন: ফ্রুটিকা খাইয়া এসব বলতে পারবেন:)?
১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৭

লেখক বলেছেন: সুন্দর রসিকতা, উপভোগ্য......

৯. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৪
comment by: আরিফ জেবতিক বলেছেন: ৩০% সুদের এই ব্যবসা প্রতিহত করার প্রয়োজন । খুবই প্রয়োজন । দূ:খের বিষয় এটা নিয়ে তেমন জোরালো প্রতিরোধ আসছে না ।
১০. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৮:৩৮
comment by: জাতেমাতাল বলেছেন: আমাদের মনে রাখতে হবে এই পুরো মাইক্রোক্রেডিট সিস্টেমটা কিন্তু একটা বানিজ্যিক কর্মকান্ড, এটা মোটেই দরিদ্র সেবা গোছের কিছু নয়। ফলে বাজার অর্থনীতিতে সুদের হার নির্নয় হবে সরবরাহ আর যোগানের মধ্য দিয়ে। প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে খুব কি লাভ হবে?
তবু আমি আপনার সাথে একমত, যে সমস্ত হতদরিদ্র লোক এই ঋন নিতে বাধ্য হয় তাদের জন্য এটা আসলেই নির্মম। তবে আপনার প্রতিহত শব্দটা আমি বুঝতে চাই …।আপনার বক্তব্য কি ৩০% সহ পুরো ক্রেডিট সিস্টেমটা বন্ধ করার পক্ষে? নাকি সুদের হার কমানোর পক্ষে?

যদি বন্ধ করে দিতে হয় তবে এই যে লক্ষ লক্ষ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যারা কিছু না কিছু সুবিধা এই মাইক্রোক্রেডিট থেকে পাচ্ছেন তাদের জন্য কিছু বিকল্প প্রস্তাবও আমাদের তাহলে ভাবা উচিত।

তবু আপনাকে ধন্যবাদ, চিন্তার কিছু খোরাক যোগালেন বলে। আমার পোষ্টের লিখার পিছনে মুল দুঃখই ছিল আমরা চিন্তা করতে ততটা পছন্দ করি না যতটা পছন্দ করি আবেগের বাস্প জমাতে।

যাত্রা পালা শুনতে ভালো কিন্ত অর্থনীতিও তো আমাদের বুঝতে হবে।
১১. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৮:৪৮
comment by: আরিফ জেবতিক বলেছেন: এটা ঠিকই বলেছেন যে এটা ব্যবসা , জনসেবা গোছের কিছু নয় ।
কিন্তু রাষ্ট্র অবশ্যই তার নাগরিককে এইসব বিষাক্ত ব্যবসা থেকে দূরে রাখতে হবে ।
ঢাকা শহরে সবচাইতে ডিমান্ড হবে হেরোইনের , সাপ্লাই যদি ঠিক থাকে তাহলে ঘরে ঘরে হেরোইঞ্চির দেখা পাওয়া যাবে , তাই বলে রাষ্ট্র এই সাপ্লাই নিশ্চিত করতে আসতে পারে না । তাদের উচিত এটা প্রতিহত করা ।


তথাকথিত মাইক্রোক্রেডিটও একই ধরনের বিষয় । এটাকে বন্ধ করার কথ বলছি না , কিন্তু মুনাফাকে নিয়ন্ত্রন করতে হবে ।
সুদের হার নির্দিষ্ঠ করে দিতে হবে এবং সেটি যদি ৮% এর বেশি হয় তাহলে সেটাকে কোনভাবেই সমর্থন করা উচিত হবে না ।
১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:১৩

লেখক বলেছেন: আমার কথাটা ছিল হেরোইন বিক্রি প্রতিহত করা রাষ্ট্রের উচিত কি উচিত না সেই প্রশ্নে নয়। হেরোইনের দাম কি হওয়া উচিত সে প্রশ্নে। ৩০% হেরোইনের দাম আপনি বলছিলেন খুব বেশী- তার উত্তরে আমার বক্তব্য ছিল হেরোইনের দাম নির্ধারন হবে হেরোইনের সরবরাহ আর যোগানের মধ্য দিয়ে। যদি ঢাকা শহরের রাস্তায় হেরোইনের বন্যা হয়ে যায় তবে আপনি আমি চাই বা না চাই হেরোইনের দাম কিন্তু পড়ে যাবে।

সুদের হার কমানোর ব্যাপারে নীতিগত ভাবে আমি আপনার সাথে একমত।মুনাফাকে যদি নিয়ন্ত্রন করা যায়- তবে সে কাজটা কি ভাবে অর্জন করা যাবে এটা ভাবনা চিন্তার বিষয়।

১২. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৯:১৮
comment by: অণৃণ্য বলেছেন:
ব্লগে আপনি গত কয়েকদিন ব্র্যাক বিষয়ক যে পোস্টগুলো দেখেছেন,পর্যবেক্ষন করেছেন ওগুলো লেখা হয়েছে একটাই কারণ ব্র্যাক একজন দরিদ্র রিক্সাচালককে খুন করেছে।এবং এই খুনের বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছেন ব্র্যাকের মানুষ মারা অর্থনীতিবিদ ও জ্ঞানীরা। এই ঘটনায় আপনার ভাষায় যাত্রা দেখা ,অর্থনীতি না বোঝা মানুষরা ব্লগে কটা লেখা লিখেছে। আপনি এসেছেন তার বিশ্লেষণ করতে। ঘৃনা প্রকাশ ও প্রতিবাদের ভাষা আপনার অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোনে সঠিক হয়নি বলছেন।
অর্থনৈতিক জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে আপনার সব কথা বুঝতে পারবো না । আপনি বলছেন,`• মাইক্রোক্রেডিটের আওতাধীন ঋন গ্রহনকারীরা প্রায়শই ঋন পরিশোধে অসমর্থ হয়- এখন এই ঋন কি ব্রাক মাফ করে দেবে বলে আমরা আশা করছি? ঋন আদায়ে নমনীয় হবে? হলে কতটা? '...

আপনিই জবাবটা দিন,অসমর্থ ঋণগ্রহিতার উপর তার কতোটা কঠোর হবেন বলে আপনি আশা করছেন? কতোটা আইন তারা নিজেদের পকেটে পুরে নিলেও আপনি সমর্থন করবেন?তারা হালের বলদ,ঘরের চাল খুলে নেবে?মালামাল ক্রোক করবে?মানুষ মেরে ফেলবে?এই ক্ষেত্রে প্রশাসন দরকার নেই? তাদের বিচার তারা করবে? বিকল্প আইন ?
আপনি মানুষ মারার পক্ষে যুক্তি দিয়ে পরের কথা শুরু করুন।
১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:২৪

লেখক বলেছেন: অণৃণ্য- আপনার কমেন্টটা আমি গতকালই দেখেছি, কিন্ত ইচ্ছা করেই সময় নিচ্ছিলাম প্রাথমিক উত্তেজনাটুকু থিতিয়ে যাওয়ার জন্য।ব্লগে চৎজলদি মন্তব্য অনেক সময়ই আমদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ভুল বুঝাবুঝি তৈরী করে। এখন মনে হয় আমরা শান্ত ভাবে কিছু মত বিনিময় করতে পারবো।

প্রথমতঃ আমি কখনই মানুষ মারার পক্ষে যুক্তি দিতে চাই না…… ব্রাকের এই মানুষ হত্যার কোন সাফাই আমি গাইছি না।নিঃসন্দেহে ব্রাক এখানে খুনী এবং অপরাধী। কিন্তু তার জন্য ব্রাক কে উৎখাত/নির্মুল অথবা বয়কটের ডাক দেওয়া নিঃসন্দেহে হতকারীতা, অনেকাংশে তা দ্বায়ীত্বজ্ঞানহীন তো বটেই।

মাইক্রোক্রেডিট- ব্রাক- এবং এই মর্মান্তিক মৃত্যু এগুলোকে আমাদের আলাদা ভাবেই আলোচনা করতে হবে- ব্রাকের মাইক্রোক্রেডিট এবং অন্যান্য কর্মতৎপরতা যদি আমাদের কারনে ব্যহত হয় তবে কিন্ত আমরা আরও নতুন মৃত্যুর শর্ত তৈরী করবো।

জীবন যুদ্ধে নাজেহাল অনেক দরিদ্র মানুষ হয়ত এই মাইক্রোক্রেডিটের কারনে আত্মহত্যা না করে নতুন জীবন খুজে পেয়েছে- এধরনের সাকসেস স্টোরীও হয়ত পাওয়া যেতে পারে। ফলে ব্রাকের কর্মকান্ড ব্যহত হোক তা আমাদের দাবী হতে পারে না।

শিশু মৃত্যুর জন্য অন্যতম কারন ডায়ারিয়ার বিরুদ্ধে ১৯৭৯ সালে কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়।ব্রাকের কর্মীরা ওরস্যালাইন এর কার্যকারীতা এবং প্রস্তুত প্রনালী বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রচারনা চালায়। দশ বছরের মধ্যে শিশু মৃত্যর হার প্রতি হাজারে ২৮৫ থাকে প্রতিহাজারে ৭৫ এ নেমে আসে।(সুত্র উইকিপিডিয়া)

ব্র্যাক একজন দরিদ্র রিক্সাচালককে খুন করেছে- এখন আমরা কি বিশ্বাস করি ব্রাক এই কাজটা তাদের নীতি হিসাবে করেছে? এইভাবে ঋন আদায় কি তবে মাইক্রোক্রেডিটের পলিশির অন্তর্গত?

যদি আমরা তা বিশ্বাস করি তবে মাইক্রোক্রেডিটের সুফল সীমাবদ্ধতা তার ক্ষতিকর দিক নিয়েও আলোচনা শুরু করা যেতে পারে।

আলোচনা হতে পারে একজন ঋন গ্রহীতার অধিকার এবং স্বার্থ নিশ্চিত করার জন্য সরকার কি কি আইন প্রনয়ন করতে পারে যাতে করে ভবিষ্যতে আর কোন আবদুর রশীদকে এ ধরনের পরিনতি ভোগ করতে না হয়।

১৩. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৯:৫০
comment by: আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন: পাতি মাইনাস!
মোটেও একমত না।
১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:১৬

লেখক বলেছেন: তবুও আপনাকে ধন্যবাদ, মতামত প্রকাশের জন্য।

১৪. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:১১
comment by: আতিকুল হক বলেছেন: পোস্টটা আমার ভালো লেগেছে - কারন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ইস্যু এখানে এসেছে। শিরোনাম এবং লেখার কিছুটা অংশ এতটা আক্রমনাত্মক না হলই ভালো হতো। কারন অক্ষম আবেগের প্রতিও শ্রদ্ধা থাকা উচিত, নিদেনপক্ষে সহনশীল উপেক্ষা। আর শুধুমাত্র এই ব্যাপারটুকুর কারনে পোস্টটার ম্যাসেজটা অনেক ব্লগার পাননি।

আমরা নীতিমালার ব্যাপারে কখনই খুব সচেতন ছিলাম না। ব্র্যাক এর ঘটনাটা খুব প্রত্যাশিতই ছিল। মাইক্রোক্রেডিটের মুলেই তো জামানত ছাড়া ঋন। খুব দরিদ্র জনগোষ্ঠী উচ্চ সুদের ঋন পরিশোধে অসমর্থ হবে এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের এনজিও গুলোর ঋন আদায়ের হার ঈর্ষণীয়। খুব সহজ কথা, এই ঋন আদায়ের পথটা স্বচ্ছ নয়। ঘরের চাল খুলে নেয়া, গরু বাছুর কেড়ে নেয়া, ধরে নিয়ে পেটানো - এমন ঘটনা ঘটেই। কোন আইন বা নীতিমালা বলে দেয়না এনজিও গুলো ঋন আদায় কি করে করবে, ঘরের চাল খুলে আনা অন্যায় কিনা। ব্র্যাক এর পণ্য পরিহার করা, এর প্রতি ঘৃণা সবই থাকতে পারে, কারন এগুলো খুব স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া। কিন্তু আর কোন আব্দুর রশীদ যেন সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রনয়ন ও বাস্তবায়নের ব্যাপারটা ভুলে যাওয়া ঠিক হবে না। বরং জোরটা ওদিকেই দেয়া উচিত।
১৫. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৫৫
comment by: জাতেমাতাল বলেছেন: ধন্যবাদ আতিকুল, আপনার সমালোচনার অংশটুকু মাথা পেতে নিলাম।
স্বীকারও করে নিলাম এতটা আক্রমনাত্মক না হলেই হয়ত ভালো হতো।

শুধু এতটুকু যোগ চাইঃ

স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া দিয়ে কোন কিছুর প্রতিবাদ শুরু হতেই পারে- কিন্ত পরবর্তীকালে স্বতঃস্ফূর্ততাকে যুক্তির পায়ে দাড় করানোর তেমন কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি......

আপনার বক্তব্যের সাথে সহমত।
১৬. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:০৩
comment by: আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

নিকের সার্থকতা যথাযথ প্রমাণ করার জন্য সানন্দে প্লাস ।

ভুলে মাইনাস পইড়া গেসে ।
১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৪৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আবদুর রাজ্জাক শিপন, আপনার মতামতের জন্য।

১৭. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:১৭
comment by: মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: আগের মন্তব্য টা একটু অফেনসিভ ছিল।

কিন্তু আপনার কথার সূত্র ধরেই বলি, মাইক্রোক্রেডিট সিস্টেমটা কিন্তু একটা বানিজ্যিক কর্মকান্ড, এটা মোটেই দরিদ্র সেবা গোছের কিছু নয় - কিন্তু মানুষজনের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে ভুল বার্তা। আর সে কাজটি ব্র্যাক বা গ্রামীন ই করছে।

আর কোনভাবেই যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি সমর্থনযোগ্য নয়। এইসব শক্তিশালী সংস্থাগুলো আগেও তাদের পাপ বিভিন্নভাবে চাপা দিয়ে এসেছে।

আর আপনি পোস্টে মৃত্যুর ঘটনাটিকে হালকাভাবে দেখিয়ে ব্র্যাকের লাভজনক অন্যান্য পণ্যের গুনাগুন করে গেছেন, যা সমর্থনযোগ্য নয় কোনভাবেই।

"স্থানীয় সুত্রের খবর অনুযায়ী টাকা আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগের পন্থায় ইচ্ছা অথবা অনিচ্ছায় এই দুঃখ জনক মৃত্যু অথবা হত্যা কান্ডটি ঘটেছে।"

একটি মানুষের মৃত্যুকে টাকা দিয়ে রফা করতে চাওয়া, কতটুকু মানবিকতার প্রকাশ? কি শাস্তি দেয়া হয়েছে ওদের?

আর এটি শুধু একটি মৃত্যুই নয়, সিস্টেমের নোংরা দিকটাও দেখিয়ে দেয়া।
১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৪৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, মোসতফা মনির সৌরভ
দয়া করে আমাকে ভুল বুঝবেন না। আমি মোটেও মৃত্যুর ঘটনাটিকে হাল্কাভাবে দেখাতে চাই না...... আমি কখনই মানুষ মারার পক্ষে যুক্তিও দিতে চাই না…… ব্রাকের এই মানুষ হত্যার কোন সাফাই আমি গাইছি না।নিঃসন্দেহে ব্রাক এখানে খুনী এবং অপরাধী।

কিন্তু আমার কথা হচ্ছে তার জন্য ব্রাক কে উৎখাত/নির্মুল অথবা বয়কটের ডাক দেওয়া নিঃসন্দেহে হতকারীতা, অনেকাংশে তা দ্বায়ীত্বজ্ঞানহীন তো বটেই।
হজ্বেও কিন্তু প্রতি বছর অনেক প্রান হানি ঘটে- সেক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য থাকে কিভাবে আমরা ক্ষয় ক্ষতির পরিমান কমাতে পারি, আরও নিরাপদে হজ্ব করতে পারি। হজ্ব বয়কটের কথা কিন্ত আমরা বলি না।

আমারও একই মত- মাইক্রোক্রেডিটের যদি কিছু অপপ্রয়োগের দিক থাকে তো আলোচনাটা সেদিকে কেন্দ্রিভুত করি। যাতে করে এই পদ্ধতির নোংরা দিকটা আরও পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠে, ঋন গ্রহীতারা আরো অধিকার ভোগ করতে পারে।

ব্রাকের মাইক্রোক্রেডিট এবং অন্যান্য কর্মতৎপরতা যদি আমাদের কারনে ব্যহত হয় তবে কিন্ত আমরা আরও নতুন মৃত্যুর শর্ত তৈরী করবো।

ফলে আলোচনা হোক- একজন ঋন গ্রহীতার অধিকার এবং স্বার্থ নিশ্চিত করার জন্য সরকার কি কি আইন প্রনয়ন করতে পারে যাতে করে ভবিষ্যতে আর কোন আবদুর রশীদকে এ ধরনের পরিনতি ভোগ করতে না হয়।

১৮. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১০:৫৭
comment by: সাদাত চৌধরৗ বলেছেন: আপনার পোস্টটা খুব ভালো লেগেছে - গুরুত্বপূর্ণ একটা ইস্যুর অবতারনা করেছেন। আমরা সবাই খুব হুজুকে কাজ ও মন্তব্য করি। বিন্দু মাত্র constuctive criticism নেই।
১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৪৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, সাদাত চৌধুরী, আপনার মতামত জানানোর জন্য।

১৯. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৪২
comment by: অণৃণ্য বলেছেন: `জীবন যুদ্ধে নাজেহাল অনেক দরিদ্র মানুষ হয়ত এই মাইক্রোক্রেডিটের কারনে আত্মহত্যা না করে নতুন জীবন খুজে পেয়েছে- এধরনের সাকসেস স্টোরীও হয়ত পাওয়া যেতে পারে। ফলে ব্রাকের কর্মকান্ড ব্যহত হোক তা আমাদের দাবী হতে পারে না'

আব্দুর রশিদ আত্মহত্যা করেছে!?কিভাবে জানলেন?নাকি মাইক্রোক্রেডিট নেয়াটাকে আত্মহত্যা বলছেন?

 

 


পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ১০২৯০