আমার প্রিয় পোস্ট
- রাষ্ট্র ভাবনা: একাত্তরে চীন কেন আমাদের সমর্থন করতে পারে নাই (দ্বিতীয় ও শেষ অংশ) - পি মুন্সী
- মতপ্রকাশ করতে আসছি, নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে কারো সাফাই গাইতে নয় - রাঙা মীয়া
- বীভৎস যৌন নির্যাতন, কিন্তু এড়িয়ে গেছেন সবাই - শেরিফ আল সায়ার
- অমি রহমান পিয়ালের প্রতি নিন্দা ও ফরহাদ মজহারের দুইটা ইন্টারভিউ - ব্রাত্য রাইসু
- অনেকদিন পরে আসলাম, তাই হাবিজাবি কিছু একটা লিখে গেলাম
- বোকা মানুষ
- ব্লগাব্লগিতে বিস্কুট-দৌড় সংস্কৃতি - মানস চৌধুরী
- জামাত বিষয়ক মোকাবিলা ভাবনা: আল্লাহ'র নামে শেরেকি অথবা স্বৈরাচারিতা - ভূপর্যটক
- ইন্টারনেটের প্রকৃত ইতিহাস - ১ম পর্ব (ব্রাউসার যুদ্ধ) - নাফিস ইফতেখার
- কারো কথাতে কান দিয়োনা মেয়ে, এক ফোটা জল অনেক দামী শত বেদনার চেয়ে - ইউনুস খান
- বাংলাদেশে চিরস্থায়ী জরুরী অবস্থা জারী হতে যাচ্ছে............ - মোহাম্মদ আরজু
- ক্রিকেট-অদ্ভূত কিছু শট (অনেকগুলো ছবি, লোড হতে একটু সময় নিতে পারে) - নাফিস ইফতেখার
- বিকল্প কিছু সার্চ ইঞ্জিন - নাসির খান
- খোদার কসম, এই রোদ্দুরে রেডিক্যাল হতে চাওয়া কাজের কথা নয়। বরং আমরা সুবিধামতো একটিভিস্টই থাকি। - রিফাত হাসান
- ছবিব্লগ আপডেট: আগ্রহীরা যোগাযোগের ঠিকানাটা জানান - যীশূ
- সুমন রহমানের ব্লগ পড়লাম - মাহবুব মোর্শেদ
- ঝকঝকে সত্যজিৎ তাও আবার ৬০ টাকায় - শওকত হোসেন মাসুম
- কেন কিনবেন বই যখন ফ্রী পাচ্ছেন? - তামিম
- আমার Sadist তোমার Masochist ও আমাদের Violent প্রেমের কাব্য - জিগ স
- আমার স্ত্রীর লো ক্লাস পরকীয়ার কাহিনী নিয়ে ক্যাতা কবিতা - জিগ স
- উকুন বাছা দিন। ০৭। বংশ - মাহবুব লীলেন
- আমার ব্লগ যে কারণে দাঁড়াবে এবং তারপরও আমি যে কারণে সেইখানে লিখবো না - মাহবুব মোর্শেদ
- ধর্মীয় বিয়ে ও নাগরিক বিয়ে - ভূপর্যটক
মানবাধিকার এবং সন্ত্রাসের অধিকার...
২৮ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৪১
![]()
সমস্ত মুম্বাই জুড়ে যে সন্ত্রাস আর হত্যাযজ্ঞ চলছে তা সন্ত্রাসের এক নতুন মাত্রা নির্দেশ করছে, এত পরিকল্পিত এবং ব্যাপক মাত্রার আক্রমন সম্ভবত ইন্ডিয়া আগে দেখেনি- বুধবার রাত্রের ঘটনার পর ৪০ ঘন্টারও বেশী সময় কেটে গেছে- পরিস্থিতির উপর পুরা নিয়ন্ত্রন এখনও আসেনি। আতঙ্কের মুহুর্ত গুলোতে দিশাহারা সাধারন নাগরিক অপেক্ষা করে আছে তাদের এ দুঃস্বপ্ন কখন শেষ হবে-আর কত প্রান এর মধ্যে ঝড়ে যাবে।
![]()
ভারতের বানিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই এর নির্মম ঘটনায় এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৩০ছাড়িয়ে গেছে- নতুন করে এক অষ্ট্রেলিয়ান টুরিষ্ট এর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে- কমান্ডো যোদ্ধারা এখনো লড়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে- জিম্মিদের উদ্ধার করতে।
আমরা কি অনুমান করতে পারি- এ ধরনের ঘটনা গুলোতে অপরাধীদের খুজে পাওয়া যায় কিনা? তাদের আইনের হিফাজতে নেওয়া হয় কিনা- তাদের বিচার এবং শাস্তি হয় কিনা?
একজন সাধারন নাগরিকের পক্ষ থেকে এ বিচার দাবী একটা অতি ন্যয্য আর স্বাভাবিক চাওয়া।
সমস্ত পৃথিবী জুড়ে হত্যা সন্ত্রাস আর আতঙ্ক ছড়িয়ে সাধারন মানুষদের পরিনত করা হচ্ছে তাদের সহজ লক্ষ্য বস্ততে। আমরা জানি না এ থেকে আমাদের নিজদের-আমাদের পরিবার- আমাদের শিশুদের বাঁচানোর কার্যকর পন্থা কি? মানবতার বিরুদ্ধে নিরীহ নির্দোষ অসহায় মানুষদের লাশের উপর দাড়িয়ে যারা তাদের লক্ষ্য হাসিলের রাস্তা খুঁজে নিচ্ছে- তাদের আমরা কি ভাবে মোকাবিলা করবো?
রাষ্ট্র তার সাধারন নাগরিকের জান মাল হিফাজত করার জন্য কি ভুমিকা পালন করা উচিত--এই গুরুত্বপুর্ন প্রশ্নটাও এখানে আমি তুলতে চাই। সাধারন নাগরিক হিসাবে আমি রাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা চাই- ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিচার চাই-যে আমার ক্ষতি করেছে তার শাস্তি চাই। আর এই চাওয়াটা আমার অধিকারের মধ্যে পড়ে- আমার মানবাধিকার।
আমাদের দেশেও-বিগত দিন গুলোতে ধর্মের নামে জঙ্গী কর্মকান্ড অনেক রক্ত ঝড়িয়েছে- সে সব সন্ত্রাসীদের অনেকেই ধরা পড়েছেন এবং বিচারের পর শাস্তি পেয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের পক্ষ থেকে এটা স্বস্তির বিষয়- যদিও এ ধরনের বিচার প্রক্রিয়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনেক সময় নিয়ে নেয়। বছরের পর বছর চলে যায় অভি্যোগ দাঁড় করাতে, সাক্ষী প্রমান জোগাড় করতে-আইনের দীর্ঘসুত্রিতার পথ ধরে চলতে থাকে বিচার কার্য্য। জে এম বি জঙ্গী নেতাদের বিচার করতে গিয়ে আমরা দেখেছি সর্বদলের ঐক্যমত থাকা সত্ত্বেও এবং অভিযুক্ত্ররা উচ্চ আদালতে আপীল করার সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরেও--আমরা দুই বছরের কমে এই বিচার শেষ করতে পারি নাই।
ইন্দোনেশিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখেন- ২০০২ সালের অক্টোবর ১২ তারিখে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে নাইটক্লাবে বোমা বিস্ফোরন ঘটনা হয়েছিলো- সেই ঘটনার মুল অপরাধীদের শাস্তি কার্যকর হল মাত্র এ মাসের প্রথম সপ্তাহে। প্রায় ৬ বছর লেগে গেল এই বিচার শেষ করতে-
বিচার কার্যে দেরী হওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান ইস্যু হয়তো অভিযুক্তদের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা- তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। এ ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের পাশে দাড়ানোর জন্য মানবাধিকার কর্মীদের সাধারনতঃ অভাব হয় না- এটা নিয়ে আমি আপত্তিও উত্থাপন করতে যাচ্ছি না- সন্ত্রাসীদের ধরে ধরে বিনা বিচারে ফাঁসিতে ঝোলানোর দাবীও আমি করছি না।
শুধু মনে করিয়ে দিতে চাচ্ছি- বিলম্বিত বিচার ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকের মানবাধিকার খর্ব করে কিনা সে প্রশ্নটা আমাদের যাচাই করে নেওয়া উচিত। এ কথাটা আমরা প্রায়ই মনে রাখি না।
আজকে মুম্বাই এ যে নৃশংশতা ঘটে গেল-তার জন্য দায়ী অপরাধীরা কবে ধরা পড়বে-কবে বিচার শুরু হবে আর তার কৃতকর্মের শাস্তি কার্যকর হয়েছে এটা দেখার জন্য একজন ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিককে কত বছর অপেক্ষা করতে হবে?
আমাদের লেগেছিল দুই বছর-ইন্দোনেশিয়ার লেগেছে ৬ বছর- ভারতের লাগবে কয় বছর??
টেররিষ্টদের হতাশ হবার কোনই কারন ঘটেনি দেখাই যাচ্ছে।
![]()
![]()
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মানবাধিকার/সন্ত্রাস ;
লেখক বলেছেন: সাধারন মানুষের মানবাধিকার নিয়ে আমাদের ভাবতেই হবে।
জুয়েল হাসান বলেছেন:
এই সব দেশের আইন আর বিচার ব্যাবস্থা কি নিরস্ত্র সাধারন মানুষের জন্য না? সন্ত্রাসী গোষ্ঠি গুলো নিরস্ত্র লোকগুলোকে হত্যা করেই য়াবে অথচ সমাজ যথা সময়ে তার বিচারটাও করবে না।
আবার অনেক বুদ্ধিজীবিকে দেখি "ওয়ার অন টেররের" কূট তর্কে ওই সব সন্ত্রাসীদেরকে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী যোদ্ধা হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠা করার জন্য নিরন্তর চেষ্ঠা করে যাচ্ছে। এটাতো হিপোক্র্যসি।
কিছু একটা না করলে বহুমুখি বন্চণা আর হিপোক্রেটদের দৌরত্ম থেকে মুক্তি নাই।
লেখক বলেছেন: বিলম্বিত বিচার ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকের মানবাধিকার অবশ্যই খর্ব করে...
মাহমুদ৬৯ বলেছেন:
মানুষের জন্য মানবাধিকার, যারা মানুষ নয় তাদের আবার কিসের অধিকার?
লেখক বলেছেন: দুই একজন সন্ত্রাসী নয়, আমাদের বরং সাধারন মানুষের মানবাধিকার নিয়ে ভাবা উচিত।
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন:
নাগরিকরা কখন 'সাধারণ' হয় আর কখন অসাধারণ থাকে তা আমি আপনার কাছে বিনীতভাতে বুঝতে চাই। গণতন্ত্রে নাগরিক মানে নাগরিকই, সাধারণ আর বিশেষ বলে কিছু নাই। এটাই আমি বুঝি।একটি রাষ্ট্র যখন অন্য একটি দেশের বা মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালায় তখন নাগরিকের এই 'সাধারণত্ব দিয়া আমরা কি ফয়সালা করতে পারি? উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান এবং আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট বা সরকারকে যুদ্ধ'র সিদ্ধান্ত গ্রহণের যে অনুমতি এবং এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে তার দায়দায়িত্ব কার? গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি তো কোনো ব্যক্তির খামখেয়ালি না, তাই না? রাষ্ট্র তো নাগরিকদের বাদ দিয়া না। তাহলে যারা সেই রাষ্ট্রের নাগরিক, সাংবিধানিক ও আইনী কাঠামোর মধ্যে সমস্ত কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য একটা ব্যবস্থা কায়েম করেছেন এবং তাদের দেওয়া প্রতিনিধিত্বের বৈধতার জোরেই তা পরিচালিত হয় তারা কিভাবে দায়মুক্ত থাকেন?
আরো অনেক কথা বলার ইচ্ছা আছে আগে এই প্রশ্নের ফয়সালা করে আমরা আগাতে পারি।
মুসতাইন জহির বলেছেন:
@ জুয়েল হাসান, অপনার উদ্বেগটা বোঝা যায়। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটা কার্যকর বিহিত থাকা দরকার। এবং সেটা আমাদের সবারই চাওয়া। কে আর ঝামেলা পোহাতে চায়!কিন্তু সমস্যাটা বেধেঁছে আমাদের ইচাছা অনিচ্ছার বাইরে। বিদ্যমান বিশ্ব ব্যবস্থার অন্তর্গত নানান দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কারণে। আমি আপনিও আর একান্ত নিজের নিরলে এইসব 'উৎপাত' থেকে গা বাচিয়ে আরাম আয়েশে থাকতে পারছি না। চাই বা না চাই তাপ এসে লাগে, আগুন ছড়িয়ে পড়ছে।
যরা নিজেদের ভাই-বেরাদারদের দীর্ঘদিন নিরাপত্তাহীন, আতঙ্কে অসহায়, অনিশ্চি জীবনের মুখোমুখি দেখছে। দেখছে ক্লাস্টার বোমা মিসাইলে দেহ ছিন্নভিন্ন রক্তাক্ত হয়ে যেতে, আর অবোরোধে খাদ্য-পথ্য বন্ধ করার অভিশাপে ধুকে ধুকে মরতে; তারা দেখল সামান্য গুরুত্বহীণ খবর আর বাকিটা বেখবরের মধ্যে কিভাবে সমস্ত কিছু বিলিন হয়ে যাচ্ছে। প্রবল সিকিউরটি আর সার্ভিলেন্স গড়ে উঠছে বাদবাকি 'শান্তিকামি' মানুষের জন্যে। এখন তারা বা তাদের ভাই-বেরাদর যতক্ষণ না নিরাপদ হচ্ছে ততক্ষণ বাদবাকি মানুষের নিরাপত্তার অসমানুপাতিক আয়োজনকে কিভাবে তারা সাপোর্ট করবে? আদৌ আমরা কি যৌক্তিকভাবে সেটা আশা করতে পারি?
সকল হত্যার বিভীষিকা আমাদের আধুনিক সভ্যতার বুকে সমান সমবেদনা কেন যে জাগ্রত করে না ! কেন যেন কিছু কিছু বিশেষ আর ব্যতিক্রম হয়ে পড়ে?
মানুষ মানুষকে মারেকাটে, তাতো আদি-ইতি চলছে। ঠিক তাই নিয়ে এত মাথা ব্যাথা তৈরি হয়নি। ফৌজদারি ব্যবস্থা তো আছেই। ব্যক্তিগত লাভালাভের খেয়োখেয়ি, ক্রিমিনাল অফেন্স ... এসব মামলার কবেই মিমাংসা করার বন্দোবস্ত হয়ে গেছে।
কিন্তু আপনার আতঙ্ক আর মোকদ্দমা দিয়ে ফয়সালা করার বিষয়টার কোরো সুরাহা হয়নি। ওভাবে চাইতে পারেন, হবেনা। পলিটিক্যাল কজ আদালত আর মোকদ্দমা দিয়ে চেপে ধরে কন্ঠরোধ করা যায় না। গিয়েছে কি? ইতিহাস স্বাক্ষী। আর সেটা যদি হয় আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিতের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত তা হলে তো কথাই নাই।
হাল দুনিয়ার সমস্যা ও শত্রু-মিত্র নিয়ে আপনার সাথে বিশদে কথা চালানোর খায়েশ আমার জমছে। বাকিটা আপনার মর্জি । ''কূট তর্কে '' মূল্যবান সময় ব্যায় করবে কিনা।
যদি চান তাহলে ওয়ার অন টেরর নিয়াই আলাপ অগ্রসর হতে পারে। ধরা যাক ওয়ার এন্ড টেরর এর মধ্যে ডিফারেন্সটা কি, কিভাবে ঠিক হয় তাই নিয়ে শুরু হতে পারে। কেন ওয়ার অন টেরর, টেরর অন ওয়ার হলো না। তারপর অইডিওলজি, ভায়োলেন্স-- পথ ও পদ্ধতি নিয়া আরো সময় দেয়া যায়।
ভালো হয় একটা প্রেমাইস ঠিক করে নিতে পারলে।



















এরা মানুষ না। সো এদের মানবাধিকার-এর প্রশ্নই আসে না