somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... শেখ মুজিবের বিচারের রায়ঃ আমার কিছু পলায়নবাদীতা...
জীবনে আমি কখনও শিক্ষক হতে চাই নি, কিংবা বিচারক... খুব সৌভাগ্যবান মনে হয় নিজেকে যে চাপে পড়ে হোক কিংবা দৈবের বশে- আমাকে এই পেশায় যেতে হয় নি। শিক্ষকের ভুমিকায় কিংবা বিচারক- নিজকে কল্পনা করলেই আমার অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। বুঝতে পারি, আমার হিম্মত অনেক কম।

এ সমাজে যারা শিক্ষক কিংবা বিচারক তাদের আমি মুগ্ধতার দৃষ্টি নিয়ে দেখি। তাদের আমি আলাদা ভাবে সম্মান করি। তারা অবশ্যই দুঃসাহসী, শিক্ষকতা করা কিংবা বিচারক হওয়া নিঃসন্দেহে সাহসের বিষয়। এটা একটা সুখের ব্যপার- দুনিয়ায় সাহসী মানুষের অভাব হয় নাই, দুনিয়ায় শিক্ষক কিংবা বিচারকের আকালও পড়ে নাই। কিন্তু নিজের কথা ভাবলেই আমি স্পষ্ট বুঝি- কত দুর্বল, মানুষ হিসাবে আমার চরিত্র!!! আমি কাউকে কিছু শিখাচ্ছি, কোথাও আমার ভুমিকা শিক্ষকের- আমার সুদুরতম স্বপ্নেও আমি এটা চিন্তা করতে পারি না। আমার শুধু মনে হয়, বিপুলা এ ধরনীর কতটুকু জানি? কাউকে কিছু শেখানোর স্পর্ধা আমি কি ভাবে দেখাতে পারি। কি এমন আমার জ্ঞান, যে কাউকে সেটা দান করতে যাবো? দুইদিন পরেই তো আমার জারিজুরি সব ফাঁস হয়ে যাবে। লোকে আঙ্গুল তুলে বলবে- দ্যাখো, অপদার্থটা কি সব ভুল ভাল শিখিয়ে গেছে... ভয়ে সত্যিই আমার হাঁটু কাঁপে এবং আমি জীবন থেকে পালাই।

কখনও বিচারকের আসনে নিজেকে দেখার কথা ভাবি নাই। আমি তো জানি মানুষ হিসাবে আমি কত কনফিউজড। সব কিছু নিয়ে আমার দ্বিধা কত বেশি। আসলে জগতের অনেকেই বেঁচে গেছে- আমার বিচারের রায়, তাদের দেখতে হয় নাই। আমি তো জানি বিচারকের আসনে বসলে নাদানের মতো সব কিছু কিভাবে আমি গুবলেট করে দিতাম। যা দেখতাম যা শুনতাম তাতেই সায় দিয়ে ফেলতাম। কখনও মনে হতো এটা ঠিক, কখনও মনে হতো ওটা। আর আমার অপরিপক্ক অপটু হাতে এই সব বালখিল্য কান্ড দেখে- ইতিহাস রাগ করে আমার কান ধরে...

অথচ দ্যাখো, শিক্ষক কিংবা বিচারক না হতে হয়েও আমি কেমন দিব্যি বেঁচেবর্তে দিন কাটাচ্ছি। আল্লার কাছে শুকরিয়া, আমার পলায়নবাদীতা, আমার হাঁটু কেঁপে ওঠা, আমার কাপুরুষত্ব ইতিহাস এখনও টের পায় নাই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/29087056 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/29087056 2010-01-28 02:49:39
জামায়াতের কাছে জনগন স্বার্বভৌম নয়ঃ ফলে তাদের অগনতান্ত্রিক গঠনতন্ত্র অনুমোদন না দিয়ে নির্বাচন কমিশন তা প্রত্যাখান করেছে ... জনগনের স্বার্বভৌমত্ব অস্বীকার করে, জামায়াত শিবির গং বাংলাদেশে মওদুদীর স্বার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়...!!!

বাংলাদেশের রাজনীতি কি জামাত শিবিবের রাহুর গ্রাস থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে? এতটা ভাবা যদি খুব উচ্চাকাঙ্খী স্বপ্ন হয়ে যায়... অন্ততঃ ৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর সাক্ষাত দোসর এই দলটি এই মুহুর্তে যে কিছুটা বিপদে আছে- এতে কোন সন্দেহ নাই। আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশে জামাতের রাজনীতি করা সম্ভবতঃ কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

এই মুহুর্তে গনপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশএর আওতায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন করার প্রক্রিয়া চলছে। রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া বাধ্যতামুলক, এটা না করলে- তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পারবে না। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতো জামায়াতে ইসলামীও তাদের গঠনতন্ত্র অনুমোদনের জন্য পেশ করেছিল নির্বাচন কমিশনে। খবরে প্রকাশ জামায়াতের বর্তমান গঠনতন্ত্র নির্বাচন কমিশন আমলে না নিয়ে তা সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছে।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে সক্রিয় অবস্থান নেওয়া জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিয়োজিত সংগঠন হিসাবে নিজেদের দাবী করে। আল্লার নির্দেশিত বিধি বিধান ছাড়া অন্য কোন কিছুর প্রতি তাদের কোন আনুগত্য নাই, মানুষ রচিত যে কোন আইন বিধানের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান। আর ঠিক এই কারনেই নির্বাচন কমিশন জামায়াতের গঠনতন্ত্রে উল্লেখিত ধারাসমুহ বিবেচনায় নিয়ে জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুমোদন না করে ফিরিয়ে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানাচ্ছে, জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র সুস্পষ্ট ভাবে এমন কিছু বক্তব্যের উপর দাঁড়িয়ে আছে, যা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করতে গেলে তা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মুল ভিত্তির সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠবে।

জামায়াতের গঠনতন্ত্রের মৌলিক আকিদার ধারা ২এর ৫এ বলা হয়েছেঃ
আল্লাহ ব্যতীত অপর কাহাকেও বাদশাহ, রাজাধিরাজ ও সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক মানিয়া লইবে না, কাহাকেও নিজস্বভাবে আদেশ ও নিষেধ করিবার অধিকারী মনে করিবে না, কাহাকেও স্বয়ংসম্পুর্ণ বিধানদাতা ও আইন প্রণেতা মানিয়া লইবে না এবং আল্লাহর আনুগত্য ও তাহার দেওয়া আইন পালনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নয় এমন সকল আনুগত্য মানিয়া লইতে অস্বীকার করিবে।

জামায়াতের ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তাদের গঠনতন্ত্র ঘেঁটে এ কথা পরিস্কার, আল্লাহর নির্দেশিত বিধি বিধানের বাইরে তাদের কোন অবস্থান নাই। শরীয়া এবং সুন্নাহ যা অনুমোদন করে না, তারা তা গ্রহন করতে পারে না। আমরা এটা পরিস্কার ভাবে জানি যে বাংলাদেশে শরীয়া আইন এখনও চালু নয়। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিচারালয় নিশ্চয় আল্লাহর আনুগত্য ও তাহার দেওয়া আইন পালনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নয়। তা হলে এ অবস্থায় আমাদের সর্বোচ্চ বিচারালয় নিয়ে জামায়াতের আনুগত্য আমরা কি আশা করতে পারি?

জামায়াতের কথিত আল্লাহর নির্দেশিত বিধি বিধানের মধ্যেও বিস্তর ফাঁকফোকর আছে, এটাও এ সুযোগে আমাদের মাথায় রাখা উচিত। আমরা জানি, আখেরি নবুয়তের জমানার পর মানবজাতির জন্য আল্লাহর তরফ থেকে আর কোন বাণী নির্দেশ আকারে নাজিল হবে না। আমাদের পথ খুঁজে নিতে হবে এ যাবত নাজেলকৃত ঐশী গ্রন্থের নির্দেশাবলীর ব্যাখার ভেতর থেকে। এখন জামায়াত যদি রাষ্ট্র ক্ষমতায় (আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুক) অধিষ্টিত হয়, তবে আমরা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি, জামায়াতের নিজস্ব বিধি বিধানই হবে আল্লাহর নির্দেশিত বিধি বিধান, এ যাবত নাজেলকৃত ঐশী গ্রন্থের নির্দেশাবলীর ব্যাখা মানেই হবে তাদের নেতা মওদুদীর প্রদত্ত ব্যাখা, বাংলাদেশের ইসলাম হবে গোলাম আযম-নিযামি গংএর তথাকথিত ইসলাম।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জামায়াতের গঠনতন্ত্র প্রত্যাখানের ভিতর দিয়ে আরও কিছু জ্বলন্ত প্রশ্ন আমাদের কাছে উঠে এসেছে। বাংলাদেশে রাজনীতি করা, নির্বাচনে সামিল হওয়ার প্রশ্ন দূরে থাক- আমাদের সাংবিধানিক ভিত্তি তথা গনতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সমুহের প্রতি নুন্যতম
আনুগত্য না রেখে, দিনের পর দিন জামায়াত কিভাবে তার কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে — এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়াও সমভাবে জরুরী হয়ে উঠেছে।

আমাদের গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোর ভিতরে গনতান্ত্রিক আদর্শের বাইরে কোন কিছুর চর্চা আমরা কি ভাবে করতে দিতে পারি? গনতান্ত্রিক আন্দোলনের দোহাই দিয়ে এ যাবৎ জামায়াত তাদের কার্যক্রম যে ভাবে চালিয়ে এসেছে, তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। নিশ্চিত ভাবেই জনগনের সার্বভৌমত্ব অস্বীকার করার আড়ালে জামায়াতের আমীরদের স্বার্বভৌমত্ব আমরা মেনে নিতে পারি না।

আমরা বিশ্বাস করি সমাজে এমন কোন কার্যক্রমের অনুশীলন করা গনতন্ত্র অনুমোদন করতে পারে না, যা গনতন্ত্রের মুল সুর, যার উপর গনতন্ত্র দাঁড়িয়ে থাকে, সেই জনগনের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করে, তাকে অস্বীকার করতে চায়। গনতন্ত্র মানে স্বাধীন ভাবে মুক্ত চিন্তার অধিকার, গনতান্ত্রিক মত প্রকাশের অধিকার প্রতিষ্ঠার অজুহাত দিয়েও গনতন্ত্র এই আত্মধ্বংশী ভুমিকা নিতে পারে না। গনতন্ত্রে সকল ক্ষমতার উৎস জনগনের সার্বভৌম ইচ্ছা, অন্য কোন গোষ্ঠীর মনগড়া ব্যাখার কোন স্থান, গনতন্ত্রে নাই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/29086071 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/29086071 2010-01-26 14:50:50
Parable of the Prodigal Son এবং আমাদের হাসান মাহবুব বন্ধুদের নিয়ে একটা আড্ডাবাজির পোষ্টে অনেক মজা করেছিলেন...

সম্প্রতি হাসান মাহবুব বছর খানেকের সেই পুরানো আড্ডাবাজীর পোষ্টটাকে আরো হিউমারাস করার জন্য ওটার টাইটেল ও কন্টেন্ট বদলে দিতে চাইলেন! পুরানো আড্ডাবাজির পোষ্টে নতুন শিরোনাম, নতুন কন্টেন্ট... বিষয়টা নিয়ে আবার আড্ডা জমানো — আমার কাছে অস্বাভাবিক ঠেকেনি।

কোন ব্লগার প্রয়োজন মনে করলে তিনি তার পোষ্ট এডিট করতেই পারেন! আর আড্ডাবাজির পোষ্ট তো আরো হিউমারাস করার চেষ্টা হতেই পারে, কিন্তু আমার মাথায় আসছে না, বদলে যাওয়া টাইটেল বৈশ্বিক উষ্ণায়ন হলে সেটা কিভাবে আরও হিউমারাস হয়!!! বাংলাদেশের পরিবেশ ব্যাবস্থার উপর হুমকি কি কারো কারো কাছে রসিকতার বিষয়বস্তু? হাসান মাহবুব এবং তার আড্ডাবাজির পোষ্টের সহবন্ধুরা কি গ্লোবাল ওয়ার্মিং তথা পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করার বিষয়ে সাংঘাতিক কিছু অর্জন করে ফেলেছেন, যাতে আগামী দিন গুলো আমরা বেশ হাসি তামাশায় কাটিয়ে দিতে পারি?

আগামী দিনের বাংলাদেশ কি ধরনের ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতে পারে এবং তা নিয়ে হাসান মাহবুব এবং তার তরুন বন্ধুরা কতটুকু সচেতন, হাসান মাহবুবের এই পোষ্ট পড়ে সে আশঙ্কা জেগেছিল বেশ তীব্র ভাবেই... মজা করা আর বালখিল্যতার মাঝে স্পষ্ট একটা লাইন আছে, হাসান মাহবুবের তরুন বন্ধুরা তা বুঝি ভুলেই গিয়েছিলেন।

ব্লগের অনেকেই বিষয়টা লক্ষ্য করে পীড়িত হয়েছেন। তবে সুখের কথা কমবয়েসী ছেলেমেয়েদের প্রতি মুরুব্বিদের স্বভাবসুলভ নাক কুঁচকানোর রাস্তায় কোন ব্লগার হাটতে চান নাই। ফলে এটা নিয়ে কেউ তেমন ভাবে সোচ্চার হন নাই। তারা হয়তো অপেক্ষা করেছেন, তরুন বন্ধুদের একটা বোধোদয় হবে, এই আশায়...

সামহোয়্যারের তরুন বন্ধুদের প্রতিনিধি হিসাবে আজ হাসান মাহবুব নতুন একটা পোষ্ট দিয়ে তার এই কাজ কর্মের একটা ব্যাখা দিয়েছেন, যেখানে খুবই প্রশংসনীয় ঢংএ তিনি তার কাজের আত্মসমালোচনা করেছেন। পরিবেশ বিপর্যয় সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে যে তিনি ওয়াকিবহাল, সেটাও তিনি উল্লেখ করেছেন... ভাল লেগেছে একজন সহব্লগার হিসাবে হাসান মাহবুবের এই সরল স্বীকারোক্তির। নিঃসন্দেহে তার এই সৎসাহসের মধ্যে অপার সৌন্দর্য্যের একটা দিক আছে।

কম্যুনিটি ব্লগ সাইট হিসাবে আগামী দিনগুলিতে সামহোয়্যারের সদস্যদের কাছে হাসান মাহবুবের এই সাহসী উপলদ্ধি নিশ্চয়ই উদাহরন হিসাবে উল্লেখ হবে! সবশেষে হাসান মাহবুবের কাছে দাবী — বৈশ্বিক পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে বাংলাদেশ কি পরিমান ঝুঁকির মধ্যে আছে, এ বিষয়ে তার গোছানো ভাবনা চিন্তা তিনি আমাদের কাছে পেশ করবেন। পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে সামহোয়্যারে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তাতে সামিল হয়ে এ বিষয়ে আগামী কোন পোষ্টে হাসান মাহবুব নিশ্চয়ই সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন করবেন। এমন কি তার বদলে দেওয়া আড্ডা পোষ্টের শিরোনাম " বৈশ্বিক উষ্ণায়ণ এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাবৃদ্ধি-আমাদের করণীয়" শিরোনামেই এটা তিনি লিখতে পারেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/29078524 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/29078524 2010-01-14 20:30:00
DEUTSCHE WELLE'র ভয়ঙ্কর বাংলা অনুবাদঃ ভারতীয় অধিনায়ক ধোনি মোটেই বরখাস্ত নয়...

DEUTSCHE WELLEতে বাংলা অনুবাদের এত ভয়ঙ্কর অবস্থা কি করে হলো, এ সবের মান নিয়ন্ত্রনের দ্বায়ীত্বে কারা? দয়া করে কেউ কি তাদের বোঝাবেন, ভারতীয় ক্রিকেট দলে কে অধিনায়কত্ব করবে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া একমাত্র ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এখতিয়ারে। ধোনিকে বরখাস্ত করতে পারে একমাত্র ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবং এখনও তারা ধোনিকে বরখাস্ত করেন নাই ... !!!

আসল ঘটনা হলো, ভারতীয় অধিনায়ককে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আই সি সি স্লো ওভার রেটের কারনে আগামী দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে (ব্যানড) এবং অবশ্য কোন ভাবেই তা বরখাস্ত নয়। আই সি সি চাইলেও ধোনিকে বরখাস্ত করতে পারে না, এটা তাদের কাজও নয়।

DEUTSCHE WELLE যদি ক্রিকেট ভাল না বোঝেন, তবে আপনারা ক্রিকেট বাদ দিয়ে অন্য সব কিছু নিয়ে লিখতে থাকুন, আর বিভ্রান্তিকর ক্রিকেটের খবর প্রচারের থেকে আমাদের রেহাই দিন।

দিনের শেষে এ ধরনের বিদঘুতে খবর ক্রিকেট অনুরাগীদের কোন কাজেই লাগে না, বিশ্বাস করুন...।

* ধোনির ছবি গার্ডিয়ান ইউ কে'র সৌজন্যে
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/29062076 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/29062076 2009-12-20 02:32:49
সাধারনের থেকে প্রায় সাত আসমান দূরে, যাবতীয় জবাবদিহিতার উর্ধ্বে, ধরা ছোঁয়ার নাগালের বাইরে থাকা আমাদের এই সব জনপ্রতিনিধিবৃন্দ... সৌদি আরব ফেরত জনাব আবুল হাসেম। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে পরিবার প্রিয়জন থেকে দূরে থাকার জীবন বেছে নিয়েছিলেন আবুল হাসেম। কঠোর পরিশ্রম করে গেছেন, যাতে করে হাতে কিছু পয়সা জমাতে পারেন। দেশে ফেরার পর পরিবারের বর্ণময় স্বপ্নগুলোকে হাত দিয়ে ছুঁতে পারেন। সুদীর্ঘ ছয় বছর পরে গত শুক্রবার আবুল হাসেম দেশে ফিরে এসেছিলেন, সাথে করে এনেছিলেন তার এতদিনের কষ্টার্জিত সঞ্চয়। প্রবাস জীবনে খাওয়া দাওয়া সহ দৈনন্দিন খরচ মিটিয়ে একজন শ্রমিকের ছয় বছরে চার লক্ষ টাকা সঞ্চয় করতে কি পরিমান কৃচ্ছতা সাধন করতে হয়? কতটা নিচে নেমে, কি পরিমান মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হয়ে!! আমাদের মধ্যে অনেকেরই হয়তো সে ধারনা নাই।

আমরা জানি না কি পরিমান টাকা খরচ করে আবুল হাসেম মধ্যপ্রাচ্যে এই চাকুরিটি যোগাড় করেছিলেন। যদি সেই টাকা ঋন করে সংগ্রহ করা হয়, তবে মাথার উপর সেই ঋনের বোঝা নিয়ে আবুল হাসেম দেশে ফিরছিলেন কিনা?

যা আমরা পরিস্কার ভাবে জানি, তা হলো এই টাকাটাই ছিলো আবুল হাসেমের সর্বস্ব।যাবতীয় সুখ ভোগ থেকে নিজকে বঞ্চিত করে, সব বিলাস আহ্লাদের গলা টিপে ধরে — তিলে তিলে জমানো একটা থোক টাকা। যা হারালে মানুষ হিসাবে বেঁচে থাকাটাই তার জন্য অনিশ্চিত হয়ে যাবে। স্বপ্ন পূরন দূরে থাক, হয়তো বাকী জীবনটা কাটাতে হবে নিতান্তই নিন্মস্তরের মানুষ হিসাবে। তার সন্তানের ভবিষ্যত শুরু হবে হতভাগ্য নিঃস্ব অসহায় এক শিশু হিসাবে।

অনুমান করতে কষ্ট হয় না, আবুল হাসেমের পরিবারে সবাই গত ছয় বছর ধরে কত অধীর ভাবে এই দিনটির অপেক্ষায় ছিল — যখন পরিবারের এই প্রিয় মানুষটি প্রবাস থেকে ফিরে আসবে তাদের মাঝে। আমরা বুঝতে পারি তার স্ত্রী, তার সন্তান অথবা বৃদ্ধ মাতা-পিতা কি পরিমান আশা আর স্বপ্নের অনুভূতি দিয়ে এই দিনটির প্রতিটি মুহুর্তকে সাজিয়েছিল।

তাদের সব রঙীন স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে, অনিশ্চয়তার কালো রং দিয়ে ধেবড়ে গেছে তাদের সুখের প্রিয় ছবিটা।

আবুল হাসেমের এই সর্বস্ব খোয়ানোর ঘটনাটি বিশাল কোন মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ছিল না, অথবা গনতন্ত্রের জন্য তা কোন হুমকি তৈরী করে নাই। সম্ভবত সে কারনেই খবরটি আজ প্রথম আলোতে তৃতীয় পৃষ্ঠায় খুব সাদামাটা ভাবে কয়েক ইঞ্চি মাপে ছাপা হয়েছে — খুব অদরকারী ভঙ্গীতে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের সহোদর ভাই জি এম কাদের কে প্রায়ই দেখি টেলিভিষনের বিভিন্ন আলোচনায় আর টক শোতে। নানা ধরনের বিষয়ে বিস্তর জ্ঞানগর্ভ মতামত প্রদানকারী এই সুশীল সুবোধ ভদ্রলোকটি একজন নির্বাচিত জন-প্রতিনিধিও বটে এবং তিনি বর্তমান মন্ত্রীসভায় অভ্যান্তরীন বিমান চলাচল মন্ত্রনালয়ের দ্বায়ীত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী।

বিদেশ থেকে আগত যাত্রীরা যাতে নিরাপদে বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে ঝুঁকিবিহীন পরিবহনে করে তাদের নিজ নিজ গন্তব্যে অক্ষত ভাবে পৌঁছাতে পারে, তা নিশ্চিত করা এই মন্ত্রনালয়ের দ্বায়ীত্বের মধ্যে পড়ে। বিদেশ থেকে একজন প্রবাসী যখন বাংলাদেশে এসে নামে, তখন যাতে করে সে কোন দুবৃর্ত্ত বা অসৎ লোকের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার জন্য একটা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার রক্ষা বলয় গড়ে তোলার দ্বায়ীত্ব এই সরকারী দপ্তরটির। প্রতিনিয়ত সে নিরাপত্তার রক্ষা ব্যাবস্থাকে নিরীক্ষন করা এবং আরও নিশ্ছিদ্র করে তোলাই তাদের অন্যতম প্রধান কাজ হওয়া উচিত।

মনে করিয়ে দেওয়া ভালো, অভ্যান্তরীন বিমান চলাচল মন্ত্রনালয়ের দ্বায়ীত্বে নিয়োজিত এই মন্ত্রী মহোদয় একজন রাজনীতিবিদ, কোন বিশেষ বাহিনী থেকে উনি উড়ে এসে জুড়ে বসা লোক নন। রীতিমতো নির্বাচন করে জিতে আসা লোক। গনমানুষের সাথে মেলামেশা করার অভিজ্ঞতা তার আছে, সাধারন মানুষের দুর্ভোগ দুর্দশা তিনি উপলদ্ধি করতে পারেন।

অথচ তারপরেও, আজকের খবরের কাগজে নিতান্তই হেলাফেলায় ছাপানো এই খবরটি আমাদের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নজরে পড়েছে কিনা, আর পড়লেও তা পড়ার পর বিমানবন্দর এলাকায় নিজের কর্মব্যাবস্থার চূড়ান্ত অদক্ষতা আর তার অক্ষমতার ফুটো ফাটা নজরে পড়ে আক্ষেপে তার বুক ঠেলে দীর্ঘনিঃশ্বাস বার হয়েছিল কিনা...? আজ সারাদিন আমি সেটা নিয়েই ভাবছিলাম... খুবই বালখিল্য ধরনের চিন্তা ভাবনা সন্দেহ নাই। কিন্তু স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে একজন দ্বায়ীত্ববান মানুষের আচরনে তো এধরনের মনোভাবটাই ফুটে ওঠে।

দেশে ফিরেই চরমভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়া আজকের এই আবুল হাসেমের খবরটা কি আমাদের মন্ত্রীমহোদয়ের নজরে এসেছিল? খবরটা পড়ে উনার মনে একটু সময়ের জন্য হলেও বিচলিত ভাব তৈরি হয়েছিলো কি??? তার অপদার্থতা আর অকর্ম্মন্যতার জন্য আবুল হাসেম আজ তার জীবনের সর্বস্ব খোয়ালো... এ জাতীয় কোন ধরনের আফসোস বোধ কি তাকে পীড়িত করেছিলো? অথচ কষ্টসাধ্য প্রবাসজীবন কাটিয়ে সারা জীবনের সম্বল হাতে নিয়ে, আবুল হাসেমরা এই সব সরকারী দ্বায়ীত্ববান লোকেদের কর্মদক্ষতা আর যোগ্যতার ওপর ঈমান ভরসা রেখেই দেশের মাটিতে পা দেয়!!

সাধারনের থেকে প্রায় সাত আসমান দূরে, আল্লার আরশের প্রায় কাছাকাছি অবস্থানরত, যাবতীয় জবাবদিহীতার উর্ধ্বে, ধরা ছোঁয়ার নাগালের বাইরে থাকা এই সব জনপ্রতিনিধি তথা মন্ত্রীকুল কি পরিমান জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে — দিনের পর দিন, মাসের পর মাস...!! এদিকে নির্বাচনের পর নির্বাচন আসে ঢেউএর মতো... কিন্তু যাদের দ্বায়ীত্ব না পালনের গাফিলতিতে আজ আবুল হাসেম তার জীবনের যাবতীয় সঞ্চয় খোয়ালো, তাদের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ইনসাফ চেয়ে, দেশের কোন আদালতের কাছে আবুল হাসেমরা দাঁড়াতে পারবে, একটা বিহিতের আশায়, একটু বিচারের আশায়...? কোনদিন?

জনপ্রতিনিধিদের এই ক্রমবর্ধ্মান জনবিচ্ছিন্নতা, তালেবান আর আল কায়েদার মতো চরমপন্থীদের পক্ষে যে কোন বে -ইনসাফের সমাজে টিকে থাকার শর্ত তৈরি করে দেয় — প্রয়োজনীয় এই কথাটা আমাদের ভুলে যাওয়া ঠিক হবে না।

গতকালের প্রথম আলোর সেই বিশেষ খবরঃ

বিদেশ থেকে এসেই তিনি খোয়ালেন চার লাখ টাকা
বিদেশ থেকে এসে দেশের মাটিতে পা রাখার কিছুক্ষনের মধ্যেই দুর্বৃত্তদের কবলে পড়ে তিনি খুইয়েছেন সঙ্গে থাকা সব টাকা। রাজধানীতে গতকাল শুক্রবার ভোরে সৌদি আরব প্রবাসী আবুল হাসেম (৪৫) নামের এক ব্যক্তি অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে চার লাখ টাকা খুইয়েছেন। অচেতন অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর হাসেম সাংবাদিকদের বলেন, গতকাল ভোরে তিনি সৌদি আরব থেকে এসে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। ট্যাক্সিক্যাবে করে তিনি গ্রামের বাড়ী কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম যাচ্ছিলেন। খিলক্ষেত বিশ্বরোডে আসার পর চালক ট্যাক্সিক্যাবে সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে থামায়। ঠিক সেই মুহুর্তে অজ্ঞান পার্টির আরও দুইজন সদস্য জোর করে ট্যাক্সিক্যাবে উঠে পড়ে। তারা তাকে একটা তরলজাতীয় পদার্থ খাইয়ে দেয়। এর পর তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাঁর চার লাখ টাকা খোয়া গেছে বলে তিনি দাবী করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পথচারীরা গাবতলী আন্ডারপাসের ওপর থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌছে দেয়।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/29035671 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/29035671 2009-11-01 04:52:47
হিজবুত তাহরীর রাজনীতিঃ রিফাত হাসানের মুছে ফেলা পোষ্ট... ব্লগার রিফাত হাসানের পোষ্ট "সরকারের প্রেসনোট, জননিরাপত্তার প্রেতাত্মা ও হিজবুত তাহরীর" সামহোয়্যার কর্তৃপক্ষ মুছে দিয়েছেন, আর এর প্রতিবাদে রিফাত তার সকল পোষ্ট কয়েকদিনের জন্য ড্রাফট করে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পোষ্ট মুছে ফেলার শিকার হওয়া যে কোন ব্লগারের জন্যই বিব্রতকর অভিজ্ঞতা, রিফাতের প্রতি আমাদের কোন ধরনের সমবেদনাই তার ক্লেশ লাঘবের জন্য যথেষ্ট নয়

২। সম্প্রতি ২২ অক্টোবর একটি প্রেস নোটের মাধ্যমে সরকার হিজবুত তাহরীর নামক ইসলামিক সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করবার কথা জানান।প্রত্যাক্ষ ভাবে জঙ্গীবাদের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠা এই দলটি আত্মঘাতী বোমাবাজদের পক্ষে কথা বলার বিস্তর নজীর রেখেছে। তাদের প্রস্তাবিত খেলাফতের রাজ্যে অমুসলিমদের নির্বাচিত হওয়া এবং নির্বাচন করার কোনটারই সুযোগ নাই। আমাদের প্রচলিত গনতান্ত্রিক কাঠামো এবং সংবিধান কোনটার পক্ষেই আনুগত্য না থাকা এই দলটির রাজনীতির চর্চা করার অবাধ সুযোগ প্রদান করে আমরা কি অর্জন করবো এই প্রয়োজনীয় প্রশ্নটা যে কেউ তুলতেই পারেন। সওয়াল উঠতেই পারে, হিজবুত তাহরীর রাজনৈতিক শ্লোগান 'খেলাফত' এবং এ বিষয়ে দলটির অবস্থান এর সাথে কি ধরনের ভিন্ন বোঝাপড়া রিফাত হাসান করতে চান?

৩। দেশের পরিস্থিতিটাই আজ এমন — একটা সফল ও স্বতঃস্ফুর্ত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আসা একটা সরকার ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পরেও, সকল ক্ষেত্রে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং অধিকার আমরা ভোগ করছি, এমনটা বলা যাবে না। সামহোয়্যার কর্তৃপক্ষও এমন কোন স্বাধীন নয়। হিজবুত তাহরীর প্রতি বর্তমান সরকারের শক্ত দমন নীতির অবস্থান দেখে সামহোয়্যার কর্তৃপক্ষ হয়তো সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে বিপরীত অবস্থান নিতে ভয় পেয়েছেন। অন্যদিকে সামহোয়্যার ব্লগে হিজবুতের পক্ষে তেমন ভাবে কোন জনমত দানা না বাঁধায়, সামহোয়্যার কর্তৃপক্ষ“ সহজেই রিফাতের পোষ্টের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হয়েছেন। ধারনা করি সামহোয়্যার কর্তৃপক্ষ“কে একটা প্রতিষ্ঠান চালাতে হয়, বিধায় যে কোন পদক্ষেপ তাকে হিসাব করেই নিতে হয়। ফলে তার প্রতিবাদী হওয়ার দায়, রিফাতের সাথে না মিলতেই পারে। পোষ্ট মুছে ফেলায় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রিফাতের অভিমান করা সাজে, কিন্তু সামহোয়্যার সরকারী রোষের শিকার হলে সরকারের সাথে কর্তৃপক্ষের অভিমানী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সামহোয়্যারকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট বলে হয়তো বিবেচিত না হতেও পারে। ফলে আমার মতে, সরকারী দমননীতির বিরুদ্ধে জেহাদটা রিফাতের উচিত ছিলো সামহোয়্যার কর্তৃপক্ষকে সাথে নিয়ে করার। এখন রিফাত ও অন্যান্য ব্লগাররা সামহোয়্যারের সমালোচনায় সোচ্চার হয়েছেন... আমার মনে হয়েছে এটার পুরো সুবিধা হিজবুত তাহরীরকে নিষিদ্ধ ঘোষনাকারী আওয়ামীলীগ সরকারই উপভোগ করছেন। রিফাতের যাবতীয় মেধা এবং শক্তি এখন ব্লগ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।


৪। আল কায়েদার পাতা বোমার বিরুদ্ধে ঠিক কারা কারা নিরাপদ, এটা নিশ্চি্ত ভাবে জানা গেলে জঙ্গী ইসলামপন্থীদের পক্ষে দাঁড়াতে আমার ততটা আপত্তি ছিল না। যে কোন ধর্মেই আত্মহত্যা মহাপাপ, নরকে গমন। অথচ ২০০৫ সালের জুলাই মাসে, সুইসাইড বোম্বাররা কোন বেহেস্তের আশায় সারা লন্ডন জুড়ে নরকের অবস্থা জারী রেখেছিল? আমি তার উত্তর খুঁজে পাই নাই। আমার চোখের সামনে সেদিন শত শত সাধারন মানুষের জীবনকে আতঙ্কের চূড়ায় তুলে সারা শহরের স্বাভাবিক জীবন ব্যবস্থা তছনছ করে তুলেছিল, আল কায়েদার কয়েক জন চরমপন্থী। সেদিনের ঘটনায় নিহত/ আহত কিংবা ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে আল কায়েদার সমর্থক কি একজনও ছিল না? এই বিভৎস বোমা হামলা চালানোর আগে, আল কায়েদার পক্ষ থেকে লন্ডন শহরে বসবাসরত তাদের শুভানুধ্যায়ীদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য সেদিন কি কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল?

হায়! আল কায়েদার পাতা বোমায় তার সমর্থকরাও নিরাপদ নয়।

৫। হিজবুত তাহরীর করনীয় নিয়ে আমার জ্ঞান স্বল্প। তাদের খিলাফত প্রতিষ্ঠার খুটিনাটি দিক নিয়েও আমার ভাল ধারনা নাই। রিফাত আমাদের জানাচ্ছেন হিজবুত তাহরীরের কোন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে কোনরকম চাঁদাবাজি, লুণ্ঠন, বা অস্ত্রসহ গ্রেফতার অথবা নাশকতামূলক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ উত্থাপন করতে পারে নাই সরকার। দুই হাজার এক সালে কার্যক্রম চালু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত এই দলটি সবচেয়ে প্রকাশ্য রাজনৈতিক দলগুলোর একটি। রিফাতের সাথে দ্বিমত নাই, এমনটা হতেই পারে। কিন্ত হিজবুত তাহরীর কি আল কায়েদার সন্ত্রাসী পন্থাকে সমর্থন করে? এ পর্যন্ত তাদের ছাপানো শত শত পৃষ্ঠার প্রচার পুস্তিকায় হিজবুত আমাদের কি জানিয়েছে-- তাদের খিলাফত প্রতিষ্ঠার রাজনীতি চালানোর পথে তারাও আত্মঘাতী বোমাবাজদের স্কোয়াড বানাবে কি না? সহজ সরল ভাষায় চরমপন্থা নিয়ে তাদের তাদের অবস্থান কি, তার ব্যাখা দেবার দায়ীত্বটা অবশ্যই হিজবুতের!!

যতক্ষন হিজবুত তার বক্তব্যে এটা আমাদের পরিস্কার না করছে, কি ভাবে আল কায়েদার সাথে তাদের আমরা পার্থক্য করবো?


৬। যে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মকে তাদের রাজনৈতিক আদর্শ বানায়, তাদের নিয়ে আমাদের বিস্তর শঙ্কা, এক ধরনের অস্বস্তি তো আছেই। দেশে বর্তমান বিরাজিত গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের অনেক সমালোচনা আছে, দুঃসহ যাতনা আর দুর্ভোগও আছে, হিজবুত এই প্রচলিত গনতান্ত্রিক ব্যবস্থার উচ্ছেদ করে ধর্মীয় বিধানের মোতাবেক খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কিন্ত হিজবুতের খেলাফত প্রতিষ্ঠা আমদের বর্তমান যাতনা আর দুর্ভোগময় দিনগুলোর পরিসমাপ্তি টানবে — এতটা আশাবাদী কি আমরা হতে পারি? অন্য সব কিছু বাদ দেই, অন্ততঃ পক্ষে নারী অধিকারের প্রশ্নে এ সমস্ত দলগুলো যখন ধর্মীয় বিধি বিধানের বাইরে যাওয়ারই তাগদ রাখে না!!

৭। আফগানিস্তানে প্রাক্তন তালেবান জমানায় এবং বর্তমানে পাকিস্তানের অঞ্চল বিশেষে আমরা যে সব ইসলামিক শাসন ব্যবস্থা নমুনা হিসাবে দেখেছি, এরপরেও কি আমাদের দেশে আমরা ইসলামিক শাসন ব্যবস্থার খোঁদলে আমাদের মাথা ঢুকাতে চাই?

৮। পরিশেষে --- কোন ব্লগারের পোষ্ট মুছে দিয়ে ব্লগ কর্তৃপক্ষ প্রকারান্তরে জরুরী বিতর্কগুলো তোলার রাস্তাই বন্ধ করে দেন। ব্লগের কার্যকারীতা এতে বিনষ্ট হয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় জনমত গঠনের প্রক্রিয়া। এটা কোন স্বাস্থ্যকর পন্থা হতে পারে না। আশা করি কর্তৃপক্ষ রিফাত হাসানের পোষ্টটি দ্রুত ফিরিয়ে দেবার ব্যবস্থা করে তার স্ট্যাটাস অবনমন প্রত্যাহার করে নেবেন, যাতে করে জরুরী বিষয়ের আলোচনাগুলো এই ব্লগেই আমরা তুলতে পারি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/29033272 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/29033272 2009-10-28 09:02:54
‘‘এ রকম চললে সেকেন্ড স্লিপ আর থার্ড স্লিপের সামনে ঝাঁপাবে না’’ বলা হয়ে থাকে পাকিস্তান ক্রিকেট টিম নাকি বেটিং আর ম্যাচ পাতানোকে প্রায় শিল্পের পর্যায়ে উন্নীত করেছে। সেই আসিফ ইকবাল থেকে শুরু করে সেলিম মালিক হয়ে হাল জমানার ওয়াসিম আকরাম... দীর্ঘ নামের অন্তহীন মিছিল। আইসিসির বিশেষ একটা নজরদারী নিয়েই চলতে হয়, সে দেশের ক্রিকেটারদের। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান টিম দুর্ভোগ আর দুর্দশার অন্তহীন এক সিরিজ খেলছে যেন। ডোপ টেষ্টে ক্রিকেটারদের ফেঁসে যাওয়া থেকে শুরু— এরপর নিজের দেশে জঙ্গিদের আক্রমন, হোমগ্রাউন্ডে খেলার সুবিধা না পাওয়া, আন্তজার্তিক টুর্ণামেন্টের আয়োজক হবার অধিকার হারানো, আর সবার উপরে ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের কুনজরে পড়া... দুর্ভোগ আর দুর্দশার অন্তহীন এক সিরিজ যেন চলছেই। পাকিস্তানী বোর্ড চলছে ক্রিকেট দুনিয়ার সবচেয়ে ফকিরি হালে, পাকিস্তনি ক্রিকেটাররা হচ্ছে দুস্থঃ থেকে দুস্থঃতর।

অথচ এরই মধ্যে নতুন সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়রা উঠে আসছে, টিমের সাফল্যের নজির গড়ছে। দক্ষিন আফ্রিকায় সদ্য সমাপ্ত চাম্পিয়নস ট্রফিতে সেরা চারে খেলেছে টিম। কিন্ত সেখান থেকে দেশে ফেরার পর থেকেই নতুন নতুন সন্দেহের তীঁর আবার বিদ্ধ করছে গোটা দলকে। প্রশ্ন উঠছে অধিনায়ক ইউনুসের সহজ ক্যাচ ফেলে দেওয়া থেকে শুরু করে — সেমিতে নিউজিল্যান্ডের সাথে হারা নিয়ে। এর আগে অষ্ট্রেলিয়ার সাথে খেলা নিয়েও অভি্যোগ উঠেছিল তাদের সফট মনোভাব নিয়ে। ইন্ডিয়ার সেমিতে উঠতে গেলে সেদিন ইতোমধ্যে সেরা চারে উঠে থাকা পাকিস্তানকে জিততেই হতো। শেষ বলে পাকিস্তানকে হারিয়ে অষ্ট্রেলিয়া ফাইনালে উঠে গেলে — পাকিস্তানের সাথে ভারতের ক্রিকেট সম্পর্ক হয়ে দাঁড়ায় জটিলতর। এরপরে পাকিস্তান অভিযোগ তুলে, নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ভারতীয় বোর্ড নাকি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আম্পায়ারদের প্রভাবিত করেছে... সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানী ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে ওঠা বেটিং এবং ম্যাচ ফিক্সিংএর অভিযোগ নিয়ে ইন্ধন যোগাচ্ছে আর তা নিয়ে পানি ঘোলা করছে ভারতীয় মিডিয়া।


এ সব কিছুর পটভুমিতে পাকিস্তানী কোচ ইন্তিখাব আলমের একটা সাক্ষাৎকার নজরে এলো। প্রকা|শিত হয়েছে আজকের আনন্দবাজারে। পাকিস্তান ক্রিকেটের একটা দুঃসময় চলছে, এই টিমে আমার অনেক প্রিয় খেলোয়াড় আছে। সব মিলিয়ে আমার মনটা বেশ খারাপ...

পাকিস্তানী কোচ ইন্তিখাব আলমের সাক্ষাৎকারটি এখানে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম...





‘‘এ রকম চললে সেকেন্ড স্লিপ আর থার্ড স্লিপের সামনে ঝাঁপাবে না’’

দলের অধিনায়ক ইউনুস খানের সঙ্গে ম্যাচ ফিক্সিং এর দায়ে অভিযুক্ত তিনি। দুইবারের বিশ্বকাপজয়ী কোচ ইন্তিখাব আলম। লাহোরে তার বাড়ি থেকে উত্তেজিত পাকিস্তান কোচ ফোনে ইন্টারভিউ দিলেন আনন্দবাজারের গৌতম ভট্টাচার্য— কে।

প্রশ্নঃ পাকিস্তান থেকে এত রকম খবর আমাদের দেশে আসছে যে, বোঝার উপায় নেই কোনটা সত্যি? কোনটা মিথ্যে? কেউ বলছে আপনাদের পদচ্যুত করা হয়েছে। কেউ বলছেন গোটাটাই আজগুবি। আপনারা বহাল তবিয়তে আছেন?

ইন্তিখাবঃ আর?

প্রশ্নঃ তিন নম্বর হল, পাকিস্তানের এক রাজনীতিবিদ সরাসরি আপনাদের অভিযুক্ত করেছেন। তাই কার্যত দেশের মানুষের সামনে আপনারা কাঠগড়ায়।

ইন্তিখাবঃ (তিক্ত গলায়) তিন নম্বরটা ঠিক। আগামী ১৩ তারিখ আমি আর ইউনুস ইসলামাবাদ যাব স্ট্যান্ডিং কমিটির সামনে আত্মপক্ষ সমর্থনে।

প্রশ্নঃ কি মনে হচ্ছে গোটা ঘটনায়?


ইন্তিখাবঃ কি বলব ভেবে পাচ্ছি না। খুব নোংরা, অসত্য, দুঃখজনক, হতাশ করে দেওয়া অভিজ্ঞতা। কি আশ্চর্য, ম্যাচ হারলেই কি ফিক্সিং শব্দটা জুড়ে দেওয়া পাকিস্তান ক্রিকেটারদের নিয়তি হয়ে গেল? আর কোন দেশ হারলে লোকে তো এসব বলে না! ফাইনালে ম্যাকালাম এত সহজ ক্যাচ ফেলল, কেউ তো বলেনি — ফিক্সিং? ইন্ডিয়া সেমিফাইনালে উঠতে পারলো না। সাউথ আফ্রিকা ফেভারিট হয়ে নিজের দেশে এমন বিশ্রি হারল। শ্রীলঙ্কানরা বাড়ি চলে গেল তাড়াতাড়ি। কোনও কথা তো কোথাও উঠল না!

যাবতীয় অভিযোগ কি শুধু পাকিস্তানের জন্য তোলা নাকি?

প্রশ্নঃ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে টিমের পারফরম্যান্স যখন স্ট্যান্ডিং কমিটি ব্যাখা করতে বলবে, তখন কী এগুলোই বলবেন?

ইন্তিখাবঃ শুধু এগুলো কেন, অনেক কিছুই বলবো (ক্ষোভে গলা কাঁপছে)। বলবো তিন মাস আগেই আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছি। এই টিমটাই তো জিতেছে। সেগুলো ভুলে গেলেন? সাউথ আফ্রিকায় আমরা মাত্র একটা দিন খারাপ খেলেছি, সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড ম্যাচটা। তাও বিরাট কোনও বিপর্যয় ছিল না। আরও ২০-৩০ রান হাতে থাকলে আমরা ম্যাচটা বার করে নিতাম।

প্রশ্নঃ অভিযোগ তো এটা নয়। অষ্ট্রেলিয়া ম্যাচ নিয়ে।

ইন্তিখাবঃ হ্যাঁ, ওই তো ভারতীয় মিডিয়া লিখেছে।

প্রশ্নঃ ভারতীয় মিডিয়া?

ইন্তিখাবঃ আহমেদাবাদ থেকে কে একটা লিখেছে জঘন্য লেখা। সেটা পড়েই এমন প্রতিক্রিয়া পলিটিশিয়ানদের। যত সব অনৈতিক সাংবাদিকতা। যে ম্যাচটা টুর্নামেন্টের সব থেকে নাটকীয় আর সবচেয়ে ক্লোজ হয়েছে, তার মধ্যে কিনা ম্যাচ ফিক্সিংএর গন্ধ খুঁজে পেল?

প্রশ্নঃ কিন্তু আপনার দেশের রাজনীতিবিদই বা কি! তার নিজস্ব বুদ্ধি-বিবেচনা থাকবে না? ভারতীয় মিডিয়া কোথায় কী লিখেছে সেটা নিয়ে সে অগ্রপশ্চাৎ না ভেবে ঝাঁপিয়ে পড়বে!

ইন্তিখাবঃ তাই তো হয়েছে।

প্রশ্নঃ এর আগে শ্রীলঙ্কা সফরের পরেও তো টিম পারফরম্যান্স নিয়ে দেশে ম্যাচ পাতানোর তুফান তোলা হয়েছে। তখন তো ভারতীয় মিডিয়া আওয়াজ তোলেনি।

ইন্তিখাবঃ বললাম তো, দুঃখজনক ফ্যাশনের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। কোথায় আমাদের দেশের ক্রিকেটারদের সমস্যা বুঝে লোকে আরও সহানুভুতিপ্রবণ হবে তা নয়, উলটে আক্রান্ত হতে হচ্ছে। কত কষ্ট — ছেলেগুলো জঙ্গি হামলার পর থেকে দেশের মাঠে খেলতে পারে না। ক্রাউড সাপোর্ট পায় না। দেশে এত সব হিংসাত্মক ঘটনাকে অগ্রাহ্য করে বিশ্বকাপ জিতেছে। তারপরেও বেচারিদের রেহাই নাই।

প্রশ্নঃ ইমরান — আপনার প্রাক্তন ক্যাপ্টেন টিমের পাশে দাড়িয়েছেন।

ইন্তিখাবঃ হু, কাগজে পড়লাম।

প্রশ্নঃ বাকি মিডিয়া?

ইন্তিখাবঃ এটাই সুখের কথা যে, ওরা টিমের পাশে আছে।

প্রশ্নঃ পাকিস্তানি আওয়াম?

ইন্তিখাবঃ হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে তারাও টিমকে বিশ্বাস করছে। আজই ডন পত্রিকায় একটা সার্ভে-তে শতকরা নব্বই শতাংশ লোক বলেছে তারা টিমকে সাপোর্ট করে।

প্রশ্নঃ ক্রিকেট বোর্ডও পাশে?

ইন্তিখাবঃ ক্রিকেট বোর্ড এখনও পর্যন্ত কিছু বলেনি। তবে আমাদের কর্তা ইজাজ বাট দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কাল ফিরছেন। ফিরলে বোর্ডের স্ট্যান্ডটা পরিস্কার হবে।

প্রশ্নঃ মানসিক ঝড়ঝাপটার মধ্যে ছেলেদের চাঙ্গা রাখছেন কি করে?

ইন্তিখাবঃ খুব কঠিন কাজ। এই অবস্থায় কী এদের এক ছাতার তলায় অক্ষত রাখা সম্ভব নাকি? মানসিকতাটাই তো ভেঙ্গে টুকরো হয়ে যায়। আমাদের পরের সফরের জন্য দুবাই রওনা হতে হবে নভেম্বরের শুরুতে। আল্লাহ জানেন, তখন টিমের হাল কি থাকবে।

প্রশ্নঃ এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যতেও ঘটবে। সমাধান সূত্রটা কোথায়?

ইন্তিখাবঃ আমার আবেদন হল, ক্রিকেটার আর ক্রিকেটারদের প্লিজ একলা থাকতে দিন। নিজের মতো থাকতে দিন। সবাই যদি এর মধ্যে ঢুকে পড়ে, যদি রাজনীতিবিদ এর থেকে সস্তা প্রচার খোঁজে, তা হলে সাংঘাতিক অবস্থায় নেমে যাবে খেলাটা। তখন প্রতিটি ঘটনাকেই সন্দেহজনক মাইক্রোস্কোপে ফেলে দেখা হবে। আমি এখনই দেখতে পাচ্ছি, ভবিষ্যতের কোন যুবা ক্রিকেটার আর ঝুঁকি নিয়ে হয়তো অসাধারন কিছু করতে যাবে না। দ্বিতীয় স্লিপ ঝাঁপিয়ে পড়ে থার্ড স্লিপের সামনে থেকে হাফ চান্সে ক্যাচ তুলবে? ভুলে যান। হাফ চান্সের সুযোগ নেওয়া বলে আর কিছু থাকবে না।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/29022530 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/29022530 2009-10-08 17:59:33
অভিজাত হোটেলের কান্ডকারখানা দেখুন....




সবাই দাবী তুলেন, জনস্বার্থে এই পোষ্ট স্টিকি করা হউক... এই হোটেলের নাম প্রকাশ করা হোক।

এই সব বদমাইসী চিরতরে শেষ হোক...

পয়সা দিয়ে এই সব অস্বাস্থ্যকর নোংরামী পরিবেশে আমাদের শিশু এবং পরিবারের প্রিয় সদস্যদের নিয়ে যেতে চাই না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/29016683 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/29016683 2009-09-27 21:34:06
গ্লোবাল জমানাঃ বাংলাদেশ কোথায় দাড়িয়ে...? " style="border:0;" />

বালকের মান অপমান জ্ঞান বড়ই তীব্র। আমার তখন বালক বয়স। আমাদের বাসার যে কোন অনুষ্ঠানে মেজচাচার ভুমিকা বরাবরই ইভেন্ট ম্যানেজারের। যত বিশাল অনুষ্ঠানই হোক না কেন, সব কিছুর কেন্দ্রীয় ভুমিকায় থেকে অভাবনীয় দক্ষতায় তিনি সবদিক সামলাতেন। আর এ কাজে তাকে যোগ্য সহযোগীতা দিয়ে যেত তার এক গাদা ডেপুটি আর তাদের রাশি রাশি অ্যাসিষ্টান্টরা। তৎকালে আধুনিক ক্যাটারিং সিস্টেম ছিল অজানা বস্তু। সে সময় প্রতিবেশী আর আত্মীয়স্বজনদের সক্রিয় অংশ গ্রহনের মধ্য দিয়েই সমাধা হয়ে যেত বিয়ে শাদির মতো যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান। যার যেমন কর্ম দক্ষতা, সে অনুযায়ী দ্বায়ীত্ব সে বেছে নিত, কেউ থাকতো ভাড়ারের দ্বায়ীত্বে, কেউ বাবুর্চীর তত্বাবধান কাজে, কেউ বা খাবার পরিবেশনায় আবার কেউ কেউ অতিথিদের অভ্যার্থনার দ্বায়ীত্বে।

পরিবারের কমবয়সীদের দেওয়া হতো সামর্থ্য অনুযায়ী দ্বায়ীত্ব, সেই ছোটবেলায় আমদের মতো বাচ্চাদের টার্গেটই থাকতো কত গুরুত্বপুর্ণ পদে নিজকে আসীন করা যায়... বিয়ে বাড়িতে সেদিন অতিথিদের অভ্যার্থনার দ্বায়ীত্বে যে ক্ষুদ্র দলটি প্রধান ফটকে নিয়োজিত ছিল, আমি ছিলাম তার কনিষ্ঠতম সদস্য। সন্ধ্যা থেকেই সব কাজ সুচারু ভাবে চলছিল, সেদিনের বরযাত্রীদের সাথে ছিলেন এক রুপসী ভদ্রমহিলা, সম্পর্কের দিক থেকে আমি তার নাতি স্থানীয় হওয়ার সুবাদে দুই দিন আগের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে তিনি আমার গালে মুখে বিস্তর হলুদ লেপে দিয়েছিলেন... অঘটন ঘটল বরপক্ষের এই রুপসী ভদ্রমহিলা আসার সাথে সাথে... বলা বাহুল্য এই অঘটনের (খল) নায়ক আমি নিজেই... <img src=" style="border:0;" />

গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে যা করা জায়েজ আছে, বিয়ের অনুষ্ঠানের দিনে সদ্য পার্লার ফেরত কোন রুপসীকে যে তা করা যায় না, এই কান্ডজ্ঞান আমার নাই, এই অভিযোগে বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসাবে সেদিনের অভ্যার্থনার দল থেকে আমাকে দ্রুত বরখাস্ত করা হল, এবং ভাড়ার ঘরে দাদীর তত্বাবধানে পানের গায়ে চুন লাগানোর মতো খুবই নিন্ম মানের এক কাজে আমাকে নিয়োজিত করা হলো। <img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" /> সারা বিয়ে বাড়িতে যে আমিই একমাত্র দ্বায়ীত্ববান এবং সুপুরুষ, <img src=" style="border:0;" /> এটা বলে আমার দাদী যদিও আমাকে খুব দ্রুত চাঙ্গা করার চেষ্টা করতে লাগলেন, কিন্ত আমার মন খুব ভেঙ্গে গিয়েছিল, এ ধরনের ঘটনার ছন্দপতনে.../<img src=" style="border:0;" />



আজকাল মাঝে মাঝেই আমার খুব মনে হয়, সামগ্রিক বিশ্ব উৎপাদনের যে বিশাল কর্মযজ্ঞ দুনিয়া জুড়ে চলছে, বৈশ্বিক এই ক্রিয়াকর্মে, এখানে বাংলাদেশের ভুমিকা কি? বর্তমানের আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থার বৈশিষ্ঠ্যই হলো কোন দেশই এখন একক ভাবে পুর্ণাঙ্গ কোন ফিনিশড প্রোডাক্ট বানায় না।

সহজ উদাহরন হিসাবে বলা যায়, আজ লন্ডনের অভিজাত কোন ষ্টোরে বিখ্যাত ব্রান্ডের যে শার্টটা আমরা বিক্রি হতে দেখি, তার ফেব্রিক হয়তো ইন্ডিয়ান, বাটন পাকিস্তানের, স্টিচিং বাংলাদেশের, মার্কেন্ডাইজিংএর কাজটা করছে শ্রীলঙ্কানরা এভাবে...

একেক দেশের অবকাঠামো একেক মানের, সে অনুযায়ী তার দক্ষতারও রকমফের ঘটে, আর সেই দক্ষতা অনুযায়ী সে টোটাল প্রোডাকশনে অংশগ্রহন করে। সেই হিসাবে বাংলাদেশের দক্ষতার জায়গাটা কোথায় যেখানে দুনিয়াব্যাপি উৎপাদনচক্রের কোন একটা অংশের দ্বায়ীত্ব বাংলাদেশ নিজের কাঁধে তুলে নিতে পারে? চলমান এই বৈশ্বিক (গ্লোবাল) কর্মযজ্ঞে তার একটা স্থান গড়ে তুলতে পারে?

এ যাবত আমরা দেখছি বাংলাদেশের মেয়েরা খুব কম মজুরীতে সেলাইএর কাজ করে, ফলে উন্নত বিশ্বের গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির স্থানান্তর আমরা দেখেছি বাংলাদেশে, কিন্ত প্রায় কয়েক দশক যাবত ধরে চলে আসা এই সেক্টরটির উৎপাদনশীলতায় কোন গুনগত পরিবর্তন আমরা দেখতে পাই না। বিশ বছর আগেও আমরা যা করতাম, সম্ভবতঃ এখনও আমরা সেই কাজটাই করছি।

যে কোন সাধারন বুদ্ধির মানুষও এটা বোঝে যে বাঙালীর বিরুদ্ধে কেউ ষড়যন্ত্র করে তাকে দাবিয়ে রাখে না, তাকে গরীব করে রাখে না। বিশ্ব উৎপাদন ব্যাবস্থায় বাংলাদেশের ভূমিকা কি হবে, তা প্রধানত নির্ভর করে কি ধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা আমরা এখানে জারি রেখেছি, এবং কত সিরিয়াসলি আমরা সেই অবকাঠামো থেকে নিরবিচ্ছিন্ন সেবা প্রদানের সুবিধা বজায় রাখতে পারছি। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করার জন্য তো প্রস্তুত, কিন্ত সেই উৎপাদনশীলতার আন্তর্জাতিক মান যদি আমরা নিশ্চিত করতে না পারি, তবে আমরা আমাদের দুরবস্থার জন্য কাকে কাকে দায়ী করবো?

গত কয়েকদিন বাংলাদেশ ইন্টারনেট সংযোগের ক্ষেত্রে যে অব্যাবস্থাপনার নজীর দেখালো, তাতে করে বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের আস্থার জায়গাটাই নতুন ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হলো। বাংলাদেশের এ যাবতকালের যাবতীয় উন্নতি, যা কিছু অর্জন, তার দাবীদার মুলতঃ কিছু দুঃসাহসী ব্যক্তিগত উদ্যোক্তা। যারা অনেক সময়ই সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার তোয়াক্কা না করে ব্যাক্তিগত মেধা আর উদ্যম দিয়ে একের পর এক বাধার পাহাড় ডিঙ্গিয়েছেন। কিন্ত সেই সব উদ্যোগী তরুন উদ্যোক্তাদের হতাশার গর্ভে বারবার ছুড়ে ফেলা হয় কি ভাবে... এ রকম একটা ঘটনার বিবরন পড়ছিলাম আজকের এক সংবাদপত্রে।

বলা হচ্ছে কানাডার একটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা কেন্দ্র (হেল্প ডেস্ক) কিছু দিন থেকে পরিচালনা করছে ঢাকার একটি সফট ওয়্যার ফার্ম। কানাডার ওই ফার্মটির পরিকল্পনা ছিল ঢাকায় তাদের কাজের পরিধি আরও বাড়ানোর, কিন্ত গত বুধবার সকাল থেকে ইন্টারনেটের শ্লথ গতি আর শুক্রবারে পুরো পুরি ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা কানাডার ওই ফার্মটিকে বাধ্য করেছে তাদের হেল্প ডেস্ক সহ অন্যান্য অপারেশনের কাজটি সীমিত আকারে রাখতে। পুরো অপারেশন ঢাকায় স্থানান্তর করার বিষয়ে তারা হয়ত আরো বেশি করে ভাববে... কারন ইন্টারনেটের দুরবস্থা দেখে কানাডীয় প্রতিষ্ঠানটি দ্বিধান্বিত...


<img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28994372 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28994372 2009-08-15 20:30:03
পাভেল করচাগিনের সাথে আড্ডা... জমজমাট একটা আড্ডা হচ্চিল ব্লগার পাভেল করচাগিনের সাথে। বিষয় আজকের পত্রিকায় শেখ হাসিনার প্রশংসায় সাকাচৌধুরীর মন্তব্য... আপনাদের সাথে এই আড্ডাটা শেয়ার করলাম। পাভেল করচাগিন এর বুদ্ধিদীপ্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষনগুলো আগ্রহ উদ্দীপক, আশা আপনারাও উপভোগ করবেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28988003 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28988003 2009-08-03 04:17:58
বিএনপি নেতা সা কা চৌধুরী
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জমানায়, আওয়ামীলীগের যে সমস্ত হেভিওয়েট নেতারা দলের মধ্যে গনতান্ত্রিক সংস্কার (পড়ুন শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ) করতে চেয়েছিলেন, তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার প্রায় খতম। বলা যেতে পারে, হেভিওয়েট এই সব নেতাদের প্রেসিডিয়ামের গুরুত্বপুর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা তাদের কফিনে সর্বশেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছেন।

শেখ হাসিনার এই সব পদক্ষেপ দেখে তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার ভুয়ষী প্রশংসা করেছেন, বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। সেই সাথে নিজ দলের সংস্কারপন্থি নেতাদের জেনারেল মঈনের দালাল বলে আখ্যায়িত করে তাদের প্রতি এক হুশিয়ারিও উচ্চারন করেছেন...

দেখে শুনে ভাল লাগছে, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী দালাল শব্দটির প্রায়োগিক অর্থ খুঁজে পেয়েছেন। সে অর্থ সঠিক নাকি ভুল, সে বিতর্কে আমরা যাচ্ছি না, এখনই।

আপাতত সাকা চৌধুরীকে নিয়ে কিছু বাতচিত করতে চাই। কেউ আছেন নাকি?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28987939 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28987939 2009-08-03 00:54:46
এ শালার ঘাউড়া বাঙ্গালের সবচেয়ে সক্রিয় যে হাত, তার নাম অজুহাত...

বাঙালীর জীবনে দুঃখের শেষ নাই, কারন দুনিয়ার তাবৎ জাতিসমুহ বাঙালীকে হিংসা করে। তারা কেউ বাংলাদেশের ভাল দেখতে চায় না।


বাধ্য হয়েই বাংলাদেশের আজ হতচ্ছাড়া কুৎসিত অবস্থা। যে দেশ বা জাতিগোষ্ঠিকে সব বিদেশী শক্তিই চাকর-বাকর বানিয়ে রাখতে চায়, তাকে পদানত করতে চায়, তার কোমর ভেঙ্গে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে... যার জনগনকে ন্যাংটা ভিখারী বানিয়ে রাখতে চায়, সেই দেশের সাধ্য কি দুনিয়ার বুকে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে? বাংলাদেশের দুর্ভোগের জন্য আমার সত্যিই কষ্ট হয়। আহারে...

বাঙালীর করিৎকর্মতার কোন তুলনা হয় না। সে চার হাত-পা দিয়ে কাজ করে। সে চোখ দিয়ে কাজ করে, মুখ দিয়ে, এমন কি মুখের ভিতরের জিহবা দিয়েও কাজ করে...! তবে বাঙালীর যাবতীয় সাফল্যের পিছনে তার প্রধান যে হাত সে ব্যাবহার করে সেটা হল “অজুহাত”...। তার আজকের এত শত কর্মতৎপরতার (?) পরেও তার যে এত গরিবী হাল, সেটার জন্য তার বিস্তর অজুহাত মজুত আছে।

পুরানো দিনের কথা হিসাবে আমরা যদি ভুলে না যাই- তবে সবাইকে একবার মনে করতে বলি আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরের দিনগুলোর কথা। সারা দেশের বিপর্য্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধার, পাকিস্তানিদের পুতে রেখে যাওয়া মাইন অপসারন সহ দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে চালু করার জন্য সেদিন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সমুহের কাছ থেকে কি পরিমান মনোযোগ এবং সহানুভুতি পেয়েছিলো। বাংলাদেশকে সাহায্য করতে সেদিন কে না ঝাঁপিয়ে পড়েছিল? বাংলাদেশকে সে সময় এবং পরবর্তী বছর গুলোতে যে পরিমান আর্থিক সাহায্য করা হয়েছিল আমরা তার কতটুকু সদ্বব্যবহার করতে পেরেছি? আর কতটুকু লুটপাট করে খেয়েছি?

বাংলাদেশকে এই সাহায্য দেওয়ার পিছনে কি কোন ষড়যন্ত্র ছিল?

বাংলাদেশের অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ আমাদের জন্য সমস্যা, এটা নিয়ে আমাদের মাঝে তেমন কোন মত পার্থক্য নাই। এই বাড়তি জন সংখ্যা কমানোর জন্য সাহায্য হিসাবে এ পর্যন্ত্য কোটি কোটি ডলারের সাহায্য আমরা পেয়ে এসেছি। আমরা কি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি, জনসংখ্যা সমস্যাকে আমরা কার্য্যকর ভাবে নিয়ন্ত্রনে আনতে পেরেছি? বাংলাদেশকে এই অর্থ সাহায্যের পিছনে যদি কোন বদ মতলব না থাকে, তবে এটা আমাদের মানতেই হবে- এই অর্থ আমরা অপচয় করেছি, এই অর্থ ব্যায়ের কোন সুফল আমরা ঘরে তুলতে পারি নাই। অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ আমাদের জন্য আজও একই মাত্রার সমস্যা!

যদি আমাদের সাহায্যের জন্য পাঠানো এই সকল অর্থ সমুহ অপচয় এবং লুটপাটে শেষ হয়, তবে সেই লুটপাট বন্ধ করার ব্যাপারে আমরা কার্য্যকর কি পদক্ষেপ নিতে পেরেছি? লুট হয়ে যাওয়া এই সব সাহায্যের একটা কিনারা করার বিষয়ে আমরা কখনো কি জাতীয় ঐক্যমত গঠন করতে পেরেছি? এই লুটপাটের হিসাব না নিয়ে ঘরে ফিরবো না, এমন কোন প্রতিজ্ঞা আমরা জাতি হিসাবে নিতে পেরেছি? এর মধ্যে এমন কোন আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র কি ছিল, যে কারনে আমরা এই দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিচার করতে পারি নাই?

অবাক পৃথিবী, অবাক তাকিয়ে রয়, জ্বলে, পুড়ে , মরে ছারখার, তবু মাথা নোয়াবার নয়…

সেই চল্লিশের দশকে লেখা সুকান্তের এই কবিতা ইদানিং আমরা অনেক আওড়াচ্ছি আর আমাদের যাবতীয় গাফিলতি আর মুর্খতাকে ঢাকার জন্য সাফাই গেয়ে যাচ্ছি।এই কবিতা আওড়ানো আমাদের জন্য কি পরিমান বেকুবি সেই বোধটুকুও আমরা আজ হারিয়ে ফেলেছি। না হলে কি ভাবে আমরা প্রতিনিয়ত সেই দুর্নীতিবাজ অতি পরিচিত রাজনীতিবিদদের কাছে মাথা নোয়াচ্ছি তা আমাদের নজরেও পড়ে না। এমন কি দুর্নীতির দায়ে এই সব রাজনীতিবিদদের জেলে নেওয়া হলে আমরা মাতৃহারা গোশাবকের মতো আহাজারি আর আর্তনাদ করছি। এই দুর্নীতির প্রতিকার করতে গেলে কেউ কি আমাদের বাধা দিয়ে কোমর ভেঙ্গে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে...? আমাদের পদানত করতে চায়...? আমাদের জনগনকে ন্যাংটা ভিখারী বানিয়ে রাখতে চায়?

আজ আমাদের দেশের, আমাদের রাষ্ট্রব্যাবস্থার এই অধঃপতনের জন্য কাকে আমরা দায়ী করতে চাই? আমরা নিজেরাই কি এই পরিস্থিতি তৈরি করি নাই?

পুঁজিতান্ত্রিক এই বিশ্বব্যাবস্থার অধীনে আজ কি কোন দেশ, অন্য কোন দেশকে দাবিয়ে রাখতে চায়? কাউকে ন্যাংটা ভিখারী বানিয়ে রাখতে চায়? কি লাভ তার? মান্ধাতা আমলের এই সব আবেগী ভাষা আর কতদিন আমরা ইস্তেমাল করবো? বরং বিশ্ব পুঁজি ব্যাবস্থা চায় অনুন্নত দেশগুলোও দ্রুত উপরে উঠে আসুক, যাতে করে তার বাজার ব্যাবস্থার সম্প্রসারন ঘটে। আমাদের দেশের অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটুক, এটা ভারত সহ জাপান আমেরিকা সবাই চায়, যাতে তাদের পন্য তারা বেশি বেশি করে এখানে বিক্রি করতে পারে। তাছাড়া গত কয়েক দশকে পুঁজির যে পরিমান পুঞ্জিভবন এবং আন্তর্জাতিকিকরন হয়েছে, তাতে তার দেশ সীমানার বিষয়টি কি অনেক গৌন হয়ে যায় নি? পুঁজি লাভজনক মনে করলে এবং আমাদের সেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকলে কেন মার্কিন কিংবা ভারতীয় পুঁজিপতিরা তাদের কারখানা আমাদের দেশে বসাবে না? আমাদের ন্যাংটা ফকির বানালে আন্তর্জাতিক পুঁজি তার ব্যাবসা করবে কোথায়? আমরা চাইলেও তো তারা তা হতে দেবে না।

বরং আমাদের সেই আত্মসমালোচনা থাকা উচিত, কি ভাবে আমাদের দেশটাকে (বাইরের কেউ নয়) আমরাই প্রায় নরক হিসাবে বানিয়ে রাখছি। আমাদের রাজধানীর রাস্তাঘাট, আর মেট্রোপলিটান সিটির বাইরে প্রায় পুরোটা দেশ একজন বিদেশী বিনিয়োগকারীর চলাফেরার জন্য কতটুকু নিরাপদ! সেই বিদেশী যদি একজন নারী হন, তবে তার কি অবস্থা হবে, সে কথা না হয় উহ্যই থাকলো। এদেশে আসার আগে আজ একজন বিদেশীকে চিন্তা করতে হয়, তাদের ব্যাক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে।

আজ সকালের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় এই খবরটি প্রকাশিত হয়েছে, শিরোণামঃ বাংলাদেশে মার্কিনিদের ভ্রমন নির্দেশনা হালনাগাদ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

সেই খবরের কিছু অংশ আসুন পড়া যাকঃ

…নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জননিরাপত্তা প্রায়শই অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। প্রতিবাদ-বিক্ষোভ যেকোন মুহুর্তে বিস্ফোরণে রুপ নেয়। ফলে বাংলাদেশে ভ্রমণের সময় মার্কিন নাগরিকেরা যেন স্থানীয় দূতাবাস থেকে তথ্য হালনাগাদ করে নেন৷ এ ছাড়া স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দেওয়া খবরের প্রতিও মনোযোগী থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে৷ বাংলাদেশে ভ্রমণ বা অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের স্থানীয় দূতাবাসে নিবন্ধন করার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, দূতাবাসের ওয়েবসাইটে স্থানীয় বিক্ষোভ সমাবেশ এবং সতর্কীকরণ নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে ভ্রমণের সময় নিরাপত্তার জন্য মার্কিন নাগরিকদের রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা ও ট্যাক্সিক্যাব এড়িয়ে চলা এবং পকেটমার, জালিয়াতি−এমনকি যৌন হামলার ব্যাপারেও সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে৷ আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জমিজমা বা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ একটি স্বাভাবিক ঘটনা৷ এ ধরনের বিরোধে জড়িয়ে পড়লে আইন-আদালতের আশ্রয় নেওয়া আরও জটিল৷ জমিজমা-সংক্রান্ত মামলা বাংলাদেশের আদালতে নিস্পত্তির জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয় এবং এ ব্যাপারে স্থানীয় দূতাবাস কার্যত কোন সহযোগিতা করতে পারে না বাংলাদেশে কোন সম্পত্তি কেনার আগে সমস্ত ঝুঁকির বিষয়টি আগেভাগেই বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশনায় বাংলাদেশে অপ্রতুল চিকিৎসা-ব্যবস্থা, জনপরিবহন, নৌযান দুর্ঘটনা ইত্যাদি বিষয়ে নাতিদীর্ঘ পরামর্শ ও সতর্ক করে দিয়ে ঢাকায় দূতাবাসে প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত এই নির্দেশনার প্রতিটি লাইন পড়ে দেখুন, বিদেশীদের নিরাপত্তা নিয়ে এখানে একটি শব্দও কি বাড়িয়ে বলা? নাকি এটা কোন যড়যন্ত্রমুলক প্রচারনা?

যে বাঙালী জ্বলে, পুড়ে , মরে ছারখার হয়ে গেলেও মাথা নোয়াবার নয় বলে আমরা কবিতা আওড়াচ্ছি, আজকে বাংলাদেশের এই হাল, এই দুরবস্থার জন্য কি সেই বাঙালী নিজেই দায়ী নয়? কেন শুধু শুধু আমরা বিদেশীদের দিকে আঙুল তুলে যড়যন্ত্রের তত্ত্ব আওড়াচ্ছি, আর তাদের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছি...?

বিশ্বজগৎ সভায় মাথা তুলে দাঁড়াতে হলে আমাদের যাবতীয় অধঃপতনে নিজদের দায় আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28986579 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28986579 2009-07-31 04:59:04
মাওবাদীদের নিয়ে কিছু কথাঃ সাথে খারেজির একটি পোষ্ট গত কয়েক দিন ধরে ব্লগে রাজনীতি হিসাবে মাওবাদী তৎপরতা নিয়ে প্রচুর তোলপাড় চলছে। সাম্প্রতিক সময়ের বহুল আলোচিত ল্যাম্পপোষ্ট নামক সংগঠনটিকে নিয়ে ব্যাপক বিশ্লেষনের সুত্রেই মাওবাদী পন্থা নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে প্রচুর আলোচনাও দেখা যাচ্ছে।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধে চীনের সমর্থন ছিল আমাদের বিপক্ষে, পাকিস্থানী জান্তার স্বপক্ষে। এদেশের কম্যুনিষ্ট পার্টির সেই অংশ যারা মাওবাদী (বা চীনপন্থি) নামে পরিচিত ছিল তারা প্রত্যাক্ষ ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করে নাই, তাদের বিরুদ্ধে এটা একটা জনপ্রিয় অভিযোগ। যদিও সেই সময় চীনপন্থী (এখানে মাওপন্থী বা মাওবাদী নয়) এদেশীয় কমিউনিস্টরা প্রতক্ষ্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিল। কেবল মাত্র হক-তোয়াহা বাদে সকলেই যুগপৎ লড়াই করেছিল। ইপিসিপি(এম এল) এর টিপু বিশ্বাস, ওয়াহিদুর রহমান(পরে আ.লীগ এর নেতা, এম পি) দের আত্রাই যুদ্ধ ইতিহাস খ্যাত। সিরাজ শিকদারের পেয়ারা বাগান অভ্যুত্থান পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে শক্ত ঘাটি এলাকার লড়াই। দেবেন শিকদার, জীবন মুখার্জী, অমল সেন এরা সকলেই প্রত্যক্ষ মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন। মুলতঃ সেখান থেকেই চীন সম্পর্কে আমাদের নেতিবাচক মনোভাব এর শুরু...

আমাদের মুক্তিযুদ্ধে চীনের ভূমিকা নিয়ে গত বছরের ডিসেম্বর মাসের দিকে পি মুন্সী “রাষ্ট্র ভাবনাঃ একাত্তরে চীন কেন আমাদের সমর্থন করতে পারে নাই” নামে দুই পর্বে সমাপ্ত একটা লেখা লিখেছিলেন। সে লেখার মুল সুর ছিল নির্দিষ্ট একটা সীমানা ঘেরা ভুখন্ড যখন রাষ্ট্র হিসাবে কনষ্টিটিউট অর্থে গঠিত হয়, তখন নিজ সীমানার বাইরে যে কোন রাষ্ট্রকেই সে শক্রু (তার নিজস্ব স্বার্থের বিরোধী এই অর্থে) জ্ঞান করে। পি মুন্সীর ভাষায়ঃ ওমুকে আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র - এটা একটা জেনেশুনে করা বাকচাতুরি। রাষ্ট্রের বাইরে রাষ্ট্রের কোন বন্ধু নাই, হতে পারে না। কম শত্রুতাকে, তাও আবার সাময়িক কোন সময়ের পরিপ্রক্ষিতে দাড়িয়ে, ডিপলোমেটিকভাবে ঘুরিয়ে বলি বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র, একটা আপতিকভাব ফুটিয়ে তুলি মাত্র। এতে রাষ্ট্রের স্বার্থ ও তার শত্রুতার সংজ্ঞায় কোন হেরফের হবে না।

অর্থাৎ একটা রাষ্ট্রের কাছে (তা সে কম্যুনিষ্ট অথবা বহুদলীয় গনতান্ত্রিক ব্যবস্থার অধীন হোক) সবসময় তার নিজস্ব এজেন্ডা, তার নিজস্ব স্বার্থই প্রধান। সেটাকে অবহেলা করে তার নিজ রাষ্ট্রস্বার্থের বিপরীতে বন্ধু রাষ্ট্রের কোন স্বার্থ থাকতে পারে না।

৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে চীনের অবস্থান বুঝতে এবং তা ব্যাখা করার জন্য উল্লেখিত রাষ্ট্রের এই বৈশিষ্ট্য আমাদের খুব সাহায্য করবে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জন্মকাল ১৯৪৪ সালে যে পাঁচজন স্হায়ী সদস্য নিয়ে তা গঠিত হয়েছিল - আমেরিকা, সোভিয়েত ইউনিয়ন, বৃটেন ও ফ্রান্সের সাথে পঞ্চম দেশটি ছিল তাইওয়ান, মানে সে আমলের অবিভক্ত চীন।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য হিসাবে তখন ছিল তাইওয়ান, তার নাম মুছে দিয়ে তার স্থলে নিজকে প্রতিস্থাপিত করার দি্কটা রাষ্ট্র হিসাবে চীনের দিক থেকে ছিল গুরুত্ত্বপুর্ণ। আমেরিকার সাথে সে সময় কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকার জন্য এ বিষয়ে দূতিয়ালীর কাজটা করেছিল পাকিস্তান।

এরই ফলশ্রুতিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ (General Assembly) মানে, সব সদস্যদেরকে নিয়ে বাৎসরিক সভায়, ১৯৭১ সালের ২৫ অক্টোবর এক আলবেনীয় প্রস্তাবের উপর গৃহীত ভোট ৭৬ বাই ৩৫ (১৭ জন বিরত ভোটসহ) ফলাফলে জয়লাভ করে; বেইজিং বা নয়াচীন প্রথম জাতিসংঘের সাধারণ সদস্যপদ পায়, ফলে তাইওয়ানের বদলে নিরাপত্তা পরিষদের স্হায়ী সদস্যপদে অভিষিক্ত হয়। আর তাইওয়ান? তাইওয়ান সেই থেকে জাতিসংঘের সাধারণ সদস্যপদ থেকেই বহিস্কৃত হয়।

এদেশে চীনপন্থী কম্যুনিষ্টদের তৎপরতা বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখা পি মুন্সীর সেই পোষ্টে আছে। প্রাসঙ্গিক হিসাবে যে কেউ তা পড়তে পারেন।

ইতিমধ্যে আমার প্রিয় ব্লগার খারেজি মাওবাদ নিয়ে আর একটি নতুন পোষ্ট দিয়েছে আমার ব্লগে।

ভারতীয় উপমহাদেশের পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীগুলোর কাছে ক্রমশঃ জনপ্রিয় হয়ে ওঠা মতবাদ হিসাবে মাওবাদের ভাল একটা বিশ্লেষন হিসাবে লেখাটি আমার ভাল লেগেছে এবং এটা নিয়ে আরো আলোচনার জন্য পুরো পোষ্টটাই এখানে তুলে দেওয়া হলো।

খারেজির পোষ্ট ঃ চিনপন্থীরা কী চিজ!

চীনপন্থী, পিকিংপন্থী (পিকিং-এর নামটা বেইজিং রূপে বহুল প্রচার হবার আগেই এই টার্মটাই অপ্রচার হয়ে যাওয়ায় হয়তোবা পিকিং এর নামেই এই পন্থীরা স্মরিত হন!), মাওবাদী বা মাওপন্থী বলে একদল দুঃখী লোক এই ধরায় বাস করে, অধুনা তাদের সংখ্যা বিলুপ্তির পথে বলে কেউ তাদের দুঃখ বুঝে না। নিজেদের মাথায় ছাতা ধরিবারও তাদের কেহ নাই বলেই হয়তো অন্য প্রজাতির ভাবাদর্শধারীদেরও তাহাদের নামে ট্যাগিং করে মাওবাদী বেচারাদের হেনস্থা করা হয়। অন্য কিছু না, স্রেফ পথচারী হিসেবেই এই গণধোলাই মর্মান্তিক মনে হওয়াতে দু’চার কথা কই।

প্রথমেই বলে নেয়া ভাল যে এই মস্কোপন্থী-পিকিংপন্থী নামের মহা বিতর্ক সম্পর্কে আমি কোন বিশেষজ্ঞ নই, (আমার আগ্রহের জায়গা এটি না একদমই) স্রেফ কৌতুহলবশতঃ কিছু পড়েছিলাম, তাও বহু আগে। ফলে ভুল করার সম্ভাবনা আছে কিছু, তাই একেববারে (কাণ্ডজ্ঞানের বাইরে) সিদ্ধান্তসূচক বক্তব্য সাধারণত পরিহার করাই আমার পক্ষে উত্তম হবে। আর খোদার কিরা, আমি যাদের এ বিষয়ে ভাল জানেন বলে জানি, তারা কেউ এগিয়ে এলে এ গুরুভার কিছতেই নিতাম না, কেননা তারা হেসেখেলে এ কাজটি কর্তে পারতেন।

প্রথমে বলা দর্কার, মস্কো-পিকিং বিতর্কের শুরু ১৯৬০ দশকের একেবারে শুরুতে। স্তালিনের মৃত্যুর পর নিকিতা ক্রুশ্চেভ ক্ষমতায় এসে আন্তর্জাতিকক কম্যুনিস্ট রাজনীতিতে অনেকগূলো বিতর্কের সূচনা করেন। তার একটা বড় প্রসঙ্গ ছিল তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে সশস্ত্র বিপ্লব বা বলপ্রয়োগের আর তেমন প্রয়োজন নেই, অধনবাদী সমাজতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ উত্তরণ সম্ভব; এবং তা ঘটবে পুঁজিবাদের তুলনায় সোভিয়েত অর্থনীতির শেষ্ঠত্বের কারণে

মাও সে তুং এর নেতৃত্বে চিন এর প্রতিবাদ করে। চিনা নেতৃবৃন্দ মনে করেন যে, পুঁজিবাদ যতই সংকটের মধ্যে থাকুক না কেন, তাতে তার পতন হবে না,বরং শ্রমিকশ্রেণীর পক্ষ থেকে বলপ্রয়োগ করে তাকে উচ্ছেদ করতে হবে।

যতদূর মনে পড়ে এটাই ছিল এই বিতর্কের প্রধান বিন্দু। মূল বির্তকের আরো অনেক ডালপালা ছিল। চিন অভিযোগ করে যে সোভিয়েত ইউনিয়নে আসলে সামরিক-সিভিল মধ্যবিত্ত তৈরি হয়েছে, সোভিয়েত রাষ্ট্রটি তারই দখলে চলে গিয়েছে। এদের স্বার্থ দেখার জন্যই সোভিয়েতরা বিশ্ববিপ্লবের বদলে শান্তির পথে বিপ্লবের কথা বলছে।
এখন এই বিতর্কের ফলশ্রুতিতে দুনিয়ার বহু দেশে কমুনিস্ট পার্টিতে বিভক্তি দেখা দেয়। সোভিয়েত পার্টি ক্ষমতাবান এবং তার সাথে সম্পর্ক লাভজনক হলেও বহু দেশেই আদর্শিক কারণেই পার্টির উল্লেখযোগ্য অংশ বিরুদ্ধ পক্ষে চলে যান। এই তত্ত্বের আরেকটা উল্লেখযোগ্য দিক ছিল সোভিয়েত নির্দেশে স্থানীয় জাতিয়তাবাদী দলগুলোতে কর্মীদের ডেপুটেশনে (!) প্রেরণ এবং তাদের গড়ে উঠতে সহায়তা দান, তাদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন; আরেকটি ছিল তাদেরকেই প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক মদদ দান। বাংলাদেশে মস্কোপন্থী কম্যুনিস্ট পার্টির সাথে আওয়ামী লীগের সম্পর্কের সূচনা তখন থেকেই, আর সামাদ আজাদ কিংবা আরও অনেক নেতাই আসলে কম্যুনিস্ট পার্টির দায়িত্ব পেয়েই সেখানে অংশ নিয়েছিলেন। সোভিয়েত পার্টির এই নির্দেশমত চলার আরেকটা উদাহরণ হল ইরানের কম্যুনিস্ট পার্টি শাহবিরোধী প্রত্যক্ষ সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েও ‘জাতিয়তাবাদী শক্তি’ হিসাবে মোল্লাতন্ত্র এবং তার চূড়ামনি খোমেনিকে প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ক্ষমতায় তুলে ধরা (আমি একটা রিপোর্টে দেখেছিলাম, পুরো গণঅভ্যুত্থানে অল্প কয়েকজন ডানপন্থী গ্রেফতার বা হতাহত হয়েছিলেন, তেমন অধিকাংশ ই ছিলেন ছাত্র বা ট্রেড ইউনিয়ন কর্মি, ফেদাইন, যারা প্রায় সকলেই সাধারণ মানুষ বা কম্যুনিস্ট পার্টির সাথে সম্পর্কিত।) কিন্তু ক্ষমতায় পোক্ত করেই খামেনির প্রথম কাজটি হল কম্যুনিস্টদের শেকড় ধরে উচ্ছেদ। বাংলাদেশ নিয়ে মন্তুব্য আজ এড়িয়ে গেলাম মস্কো-পিকিং বিষয়ক বিতর্কে গূরুত্ব দেয়ার জন্য।

এই বিতর্কের আরেকটা ফলাফল হল টিকে থাকার জন্যই চিনকে দ্রুত শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিনত হওয়ার দর্কার পড়ল। এ নিয়ে শুরু হল আরেকটা নতুন বিতর্ক। পরবর্তীকালে ক্ষমতাসিন দেংশিয়াওপিং একটা তত্ত্ব দিলেন, বেড়াল সাদা না কালো তা দেখার দর্কার নাই, দেখতে হবে বেড়াল ইঁদুর মারে কি না ।(চিনাদের এই এক মজার বিষয়, তারা সব কিছুকে এমন প্রবাদ-প্রবচনের আকারে প্রকাশ কর্তে পারে, চিনা রাজনৈতিক ইতিহাস পড়তে গেলেও তাদের প্রজ্ঞার পরিচয় পাবেন এক একটা গল্পের শিরোনামে, যা থেকে এক একটা পুরো রাজনৈতিক অবস্থান বা দর্শন বা বক্তব্য বা ইতিহাস উঠে আসবে, যেমন বোকা বুড়ো পাহাড় সরালো, ড্রাগনপুজারীর মৃত্যু! )। এখন এই ইদুরের সারমর্ম হল এই যে, দ্রুত ক্ষমতাবান হতে হলে শিল্পায়নের ধরন সমাজতান্ত্রিক না অসমাজতান্ত্রিক না নিয়ে ভাবলে চলবে না, দেখতে হবে উৎপাদন বাড়ে কিনা। বিরোধীরা, খাটি মাওবাদীরা আবার বললেন, না, শিল্পায়নটা এমন ভাবে করতে হবে, যাতে তার গতি একটু ধীর হলেও সেখানে যেন আমলাতান্ত্রিকতা তৈরি না হয়, সেখানে যেন নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণী জন্ম না নেয়। (তাদের প্রজ্ঞাগল্পটা হল এই: সংক্ষিপ্ত পথে দয়িতের কাছে পৌছাতে এত নোংরা রাস্তা বেছে নিলে যে পৌছে গিয়ে দেখলে তোমাকেই আর চেনা যাচ্ছে না।)

এই বিতর্কে জয়ী হলেন দেং। পোস্ট লম্বা হয়ে যাচ্ছে, তাই এবার সংক্ষেপ করি, কেননা আধুনিক মাও বাদীদের নিয়াও দুই চারি কথা বলিতে আকাঙ্খা করি। দু/তিনটে সিদ্ধান্ত টানা যায় এখান থেকে:

১. পিকিংপন্থী বা মাওবাদীরা তারাই, যারা চূড়ান্ত দ্বন্দ্বের মিমাংসা শান্তুপূর্ণ হবে না, এই মত গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে নানা হঠকারীতায় ডুবলেও তাদেরই তাই দেখা যাবে পাকিস্তান প্রশ্নে চূড়ান্ত অবস্থান সবার আগে নিত।

২.ক্ষমতা প্রশ্নে এই তত্ত্বটি চিনের নিজের কোন উদ্ভাবন নয়, মার্কসবাদীদের নিজেদের মাঝেই এই বিতর্ক ছিল আগেও; আর মার্কসের জন্মের আগেও এই বিতর্ক ছিল। (লেখার পর মনে হল এই প্যারাটা আজকের প্রসঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক)

৩. এখন আর চিন নিজেই পিকিংপন্থী বা মাওবাদী নেই। ফলে আজ চিনের স্বার্থের সাথে জড়িত কাউকে মাওবাদী বা চিনপন্থী বলাটা অর্থহীন। এই পরিভাষাটা একটা ঐতিহাসিক বিতর্কের সাথে যুক্ত হয়ে আছে। আর সেই চিন বহু আগে নিজেই সোভিয়েত ইউনিয়নের লাইন গ্রহণ করেছে।

৪. শেষত: মাওবাদী বা মস্কোপন্থা কোন স্থাননামের সাথে খুব বেশি যুক্ত নয়। (কে জানে, বাক্যটা শুদ্ধ হল তো!) এটা একটা আদর্শিক বিতর্ক, ওই আদর্শে যুক্ত না থাকলে দেশ বা ব্যক্তি কাউকে ওই নামে ডাকা অসঙ্গত।

এবার আসি ভারতসহ নানান স্থানে মাওবাদীদের নিয়ে আলোচনায়। একটা সহজ বিষয় খেয়াল করলে দেখা যাবে, নকশাল বাড়ী পরবর্তী এই প্রায় সবগুলো স্থানের একটা সাধারণ সাদৃশ্য হচ্ছে এগুলো গ্রাম প্রধান বা জঙ্গলাকীণী এলাকা। যাতায়াত দুর্গম। আরেকটা বড় বৈশিষ্ট্য হল এসব স্থানে এমন সব আদিবাসীদের বাস যাদের ভাষা, সংস্কৃতির পার্থক্য রয়েছে। সাধারণত দেখা যায়, এদের নৃতাত্ত্বিক ভিন্নতার সুযোগ নিয়ে এদের ওপর বর্বর নিপীড়ন চলে, এদের জন্য মূল জাতির সুশীল অংশের মায়া কান্না থাকে কমকম, আর এসব স্থানের বনজ বা খনিজ সম্পদ এখরনও পুঁজি পুরোপুরু হজম করতে পারে নাই। এছাড়া আছেন জাতীয় বা বহুজাতিক কর্পরেট পুঁজির ধাক্কায় ক্রশশঃ খাঁচাবন্দী হতে থাকা কৃষককূল।

এবার দেখুন, নিজেদের জীবন ও জীবীকা এবং সন্মান ও সংস্কৃতি রক্ষায় লড়াই করে নাই, এমন জাতি মাও আর মার্কসের আগেও ছিল না,পড়েও নাই। বিষয় শুধু এই যে, কালে কালে এই লড়াই নতুন নতুন চেহারায় হয়েছে, মার্কস দেখিয়েছেন উত্তর আফ্রিকায় ফরাসী-বৃটিশদের বিরুদ্ধে নানান ধর্মীয় সংস্কারা আন্দোলনের ছলে উপনিবেশবিরোধী লড়াই-ই চলেছে, এবং তারা নিজেদের অধিকার যতদূর রক্ষা করতে পেরেছে, তা ওই বলপ্রয়োগের হুমকি দেখিয়েই। সিদু-কানহুর বিদ্রোহের চেহারাও একদিকে ধর্মীয় হলেও আদতে তো তা মহাজন আর শোষকদের থেকে নিজেদের জনগোষ্ঠিকে রক্ষারই চেষ্টা!

আজ আর সেই ধর্মীয় সংস্কারের দুনিয়া নাই (খারেজি একা খালি আছে, হা হা হা); আধুনিক স্কুল-কলেজে যাওয়া আদিবাসী সন্তানরা নিজেদের গালে যখনই বৃহৎ রাষ্ট্রের চড়টা আবিষ্কার করেন, বাপকে জীবিকা থেকে উচ্ছেদ হতে দেখেন কিংবা নিজেদের সংস্কৃতিকে হীন বলে শোনেন, তার যে প্রতিক্রিয়া, প্রকাশের ভাষা, তা আজকের জমানায় কমরেড মাওয়ের নামে হয়। মাওয়ের কৃষকবাহিনীর অসম সাহসী বিজয়ের কল্যাণে সারা দুনিয়ার বহু জঙ্গলবাসি, পাহাড়ী আদিবাসী তাদের লড়াইকে মাওয়ের নামে উৎসর্গ করেন এই ভাবে।

কথা সত্য, এই সব লড়াই গুড়িয়ে দেয়া হয়, নারীরা শতে শতে ধর্ষিত হন, সন্মানিত ব্যক্তিদের গাছে ঝুলিয়ে পেটান হয়, শিশুদের বুটে মাড়িয়ে যাওয়া হয় (বিএসএফ কর্তৃক মনিপুরে নারীদের ধর্ষণের প্রতিবাদে একটা সেখানকার নারীদের একটা আত্মঅবমাননা কর প্রতিবাদের পন্থা দেখে তাদের অপমানের তীব্রতাটা বুঝতে পেরেছিলাম।); আর এ কথাও সত্য যে, মাও নিজে হলেও বুঝতেন যে চিনে যে লড়াই মূলজাতিগোষ্ঠী লড়ছে, সেই লড়াই সংখ্যালঘুরা জিততে পারবে না… কিন্তু সেই লড়াইকে শ্রদ্ধা না করে উপায় কি, তাদের স্যালুট না জানিয়ে কি করে পারি! কখনো কখনো আত্মহননই প্রতিবাদের একমাত্র ভাষা হতে পারে, হয়তো লাখে লাখে স্তুপ জমলে সাজোয়া যানের গতি একটু ধীর হয়!

আমি যদি আদিবাসী হতাম, নিশ্চয়ই আমি মাওবাদী হতাম, নিশ্চিত পরাজয় জেনেও তা হতাম। হয়তো কেন, নিশ্চয়ই অহসায় কান্নাকাটির মৃত্যুর চেয়ে হাতে বানানো স্ললমাইন শত্রুর জন্য পুঁতে রাখায় কম অপমান থাকে।
….
সংযোজন:
হুড়মুড় করে লেখা এই নিবন্ধটায় একটা কথা যুক্ত করা যায়, সেটা হল আদিবাসী সংস্কৃতির সাথে সমাজতান্ত্রিক যৌথ-কৃষির সাদৃশ্য সম্ভবত তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে আকর্ষণ করে। এছাড়া আছে খনিজ ও বনজ সম্পদ উত্তোলনের নামে তাদের অস্তিত্ব ধ্বংসের রাষ্ট্রীয় ও বহুজাতিক আয়োজন। অন্যদিকে অ-আদিবাসী কৃষক এলাকাতেও জমির মালিকানার একচেটিয়াকরণ ও মূল্য-না-পাওয়া, বহুজাতিকের বিনিয়োগে উচ্ছেদকৃত কিংবা বীজ-সার-কীটনাশক এর ফাদে আটকা পড়া কৃষকরা রাজনৈতিক দাবি হিসেবে ভূমি সংস্কারকে রাজনৈতিক দাবি হিসাবে উত্তাপন করে। আর ভূমির ইস্যুটাকে মস্কোপন্থীদের তুলনায় মাওবাদীরা ঐতিহাসিকভাবেই বেশি সামনে এনেছে, এটা সব মিলে অ-শহর অঞ্চলগুলোতে মাওবাদীদের প্রাধান্যের কারণ হতে পারে। ভারত, ফিলিপাইন, ল্যাতিন আমেরিকান বহু অঞ্চলে মাওবাদীদের বিকাশকে হয়তো এভাবেই ব্যাখ্যা করা সম্ভব।

সংযোজন দুই:
বাড়িতে ফিরা আরেকটা কথা মনে পড়লো, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে চিনের সর্বদা নিজ স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়াটাও তার নিজের মাওবাদী অবস্থান থেকে সরে আসার ফল। ‘৭১ সালে মাও নিজেও বৃদ্ধ হলও জীবিতই ছিলেন। ফলে মাওবাদাকে ব্যক্তির সাথে না মিলিয়ে তত্ত্বের গূরুত্বটাকে দেখতে হবে, যা থেকে হয়তো ঐ নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দেশ সরে এসেছে। আর এখন তো চিন আফ্রিকার বহু এলাকায় যা তৎপরতা শুরু করেছে, তাকে আর সব বহুজাতিক কোম্পানির কারবার থেকে কিছুতেই আলাদা করা যাবে না।

খারেজির পোষ্ট সমাপ্ত।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28979843 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28979843 2009-07-18 02:47:52
টিপাইমুখ বাঁধ বিরোধী লড়াইয়ে সামিল হোনঃ শ্বেত-সন্ত্রাস রুখে দাড়ান...
পরিবেশ বিপন্নতার প্রথম শিকারঃ অসহায় নিঃস্ব মানুষ

বাংলাদেশ এবং ভারতের আন্তঃসীমানায় সর্বমোট ৫৭টি নদী আছে, যাদের পানি উভয় দেশই মিলিত ভাবে ভোগ করে। এই ৫৭টি নদীর মধ্যে অন্ততঃ ৪৮টি নদী্র পানি ইতিমধ্যেই ভারতীয় পানি ব্যাবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ব্যাপক ভাবে নিয়ন্ত্রিত। কখনও ড্যাম আবার কখনও ব্যারাজ নির্মাণ করে এই সমস্ত নদীর পানিকে আটকে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আবার কোথাও বা আস্ত নদীটারই গতিমুখ পরিবর্তন করে ভিন্ন খাতে তা প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। সব কিছুর মুলে উদ্দেশ্য একটাই, সেটা হল পানির উপর একচ্ছত্র আঞ্চলিক অধিকার কায়েম করা, এবং সেই পানি একমাত্র বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যাবহার করা।

বড় বড় বাঁধ নির্মাণ করে স্বাভাবিক পানির প্রবাহকে ব্যাহত করার এই অপচেষ্টা নিয়ে সারা পৃথিবী জুড়েই বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদের ঝড় আমরা দেখতে পাই। দুনিয়াজুড়ে পরিবেশবাদীদের একটা বড় অংশই এই সব বড় বাঁধগুলির নির্মাণের বিপক্ষে- কারণ এতে সবচেয়ে প্রথম প্রত্যক্ষ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গরীব মানুষ। চাষাবাদ পশুপালন সহ জীবিকার জন্য এতকাল সে পানির এই প্রাকৃতিক উৎসগুলিই ভোগ করে এসেছে। অকস্মাৎ পানির উৎস সহ ভুমি্র জবর দখল আর তা থেকে উচ্ছেদ দিয়ে শুরু হয় গরীব মানুষের এই দুর্ভোগ, তারপর দখলী সেই জমিতে নির্মিত বাঁধ, সৃষ্টি করে অকাল বন্যা, জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দুষণ আর যাবতীয় রোগ ব্যাধি— গরীব অসহায় মানুষের দুর্ভোগের কোন শেষ থাকে না।

টিপাইমুখ বাঁধকে চিনতে বিশেষজ্ঞ হতে হয় না...

এই পরিস্থিতিতে নতুন ভাবে সিলেটের বরাক নদীর উৎস মুখে ১৬২.৫ মিটার উঁচু এক ড্যাম নির্মাণের আলোচনা আমাদের সামনে আসে। আসামের মণিপুর রাজ্যের টিপাইমুখ নামক গ্রামের কাছাকাছি প্রস্তাবিত এই বাঁধ একই সাথে ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছে। সচেতন মহলের কাছে স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনা আর একটি মানবিক বিপর্যয় এবং মানুষের দুর্ভোগের আলামত হিসাবেই বিবেচিত হতে থাকে। বিশেষজ্ঞদের যাবতীয় জ্ঞানগর্ভ আলোচনা ব্যাতিরেকেই আমরা বুঝতে সক্ষম হই, আমাদের জন্য এই বাঁধ আসছে আর এক মরন ফাঁদ হিসাবে।

জনৈক অভদ্র রাষ্ট্রদুত

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে এই বাঁধ নিয়ে আলোচনা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে শুরু থেকেই নানা রকম টালবাহানা লক্ষ্য করা গেছে। এই সুযোগে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সহ দূতাবাসের কর্মীরা আমাদের বিশেষজ্ঞ, আমাদের জনগ্‌ন, আমাদের দেশের উদ্দেশ্যে এমন এমন সব মন্তব্য করতে থাকেন যা সাধারন ভদ্রতাকে ছাপিয়ে যাওয়া, শিষ্টাচার বহির্ভূত, অশালীন এবং বেমানান। এই সমস্ত উক্তি মন্তব্যের অনেকগুলিই করা হয়েছে আমাদের সরকারের মন্ত্রী এবং অমাত্যদের উপস্থিতিতে... আমাদের বীর বাহাদুর মন্ত্রী এবং অমাত্যরা এই সব উক্তি মন্তব্যের কোন কার্য্যকরী প্রতিবাদ করার প্রয়োজন বোধ তো করেন নাই! বরং তাদের অনেকেই বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সে সব উক্তি মন্তব্যের এমন ভাবে প্রতিধ্বনি করেছেন, আমাদের ভাবতে হয়েছে- তারা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের সংবিধানের অধীনে শপথবাক্য পাঠ করা জনগনের নির্বাচিত প্রতিনিধি নাকি ভিন দেশের গনপ্রতিনিধি!!!

ল্যাম্পপোষ্ট এর সাহসী পদক্ষেপ

টিপাইমুখ বাঁধ বিরোধী যাবতীয় প্রতিবাদ আন্দোলন যখন শুধুমাত্র পত্র-পত্রিকার পৃষ্ঠা এবং সেমিনার এর আলোচনায় সীমিত — সে সময়ই এক ঝলক বিশুদ্ধ বাতাসের মতো ল্যাম্পপোষ্ট নামক প্রায় অখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রীক এক সংগঠনের সাহসী কিছু তৎপরতা আমাদের নজরে পড়ে। ৫ই জুলাই গুলশানের ভারতীয় দুতাবাসের সামনে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বন্ধ এবং রাষ্ট্রদুত পিনাক রঞ্জনের প্রত্যাহারের দাবীতে এক প্রতিবাদ বিক্ষোভে সামিল হয়। আমরা স্তম্ভিত হয়ে যাই গুটিকয়েক ছেলেমেয়ের সেই আন্দোলন দমনে পুলিশি বর্বরতার মাত্রা দেখে, আর তারপর শিউরে উঠি সামরিক সুশীলদের মুখপত্র হিসাবে প্রথম আলোর অপতৎপরতা দেখে। আঞ্চলিক পরাশক্তির তাবেদারী করার রাজনীতির ধারক প্রথম আলোর কাছে এটা ছিল কোন সাহসী প্রতিবাদ বিক্ষোভ নয়, বরং বিচার বহির্ভুত ব্যাবস্থার মাধ্যমে অগনতান্ত্রিক পন্থায় বিরোধী কন্ঠকে নিঃশেষ করে দেবার যে রেওয়াজ দেশে চালু রয়েছে — প্রথম আলোর অবস্থান ছিল সেই রেওয়াজকে উস্কে দেওয়ার পক্ষে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে।

আমরা সাধারন ব্লগাররা যারা সেদিন ল্যাম্পপোষ্ট এর পক্ষে আমাদের সমবেদনা এবং সহমর্মিতা জানিয়েছিলাম — সেদিন আমরা আতঙ্কিত হয়েছিলাম টিপাইমুখ নিয়ে সরকারের নখ দাঁত বের করা বিভৎস প্রতিক্রিয়া আর তার যোগ্য সহচর হিসাবে প্রথম আলোর সন্ত্রাসীমুলক অবস্থান দেখে।

সাধারন ব্লগাররা যারা অকুন্ঠভাবে ল্যাম্পপোষ্ট এর পক্ষে তাদের সমবেদনা এবং সহমর্মিতা জানিয়েছিলেন, পুলিশি নির্যাতন এবং রিমান্ডের ভয়াবহতায় তারা শিউরে উঠেছিলেন — একই সাথে তাদের ঘৃণা প্রকাশ করেছিলেন প্রথম আলোর মিডিয়া সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। কিন্ত তার অর্থ এই নয়, ল্যাম্পপোষ্ট এর যা রাজনীতি, তা সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্লগারদের রাজনীতি, অথবা তারা এই সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহন করেছে।

এবং শ্বেত-সন্ত্রাস

ল্যাম্পপোষ্ট এর রাজনীতির অনেক অনুসঙ্গের সাথেই আমাদের মত পার্থক্য থাকতে পারে, হয়তো আছেও। আমি হয়তো ল্যাম্পপোষ্ট এর রাজনীতি ধারনও করি না — কিন্ত ইস্যু যখন টিপাইমুখ এবং প্রতিবাদের মাত্রা যখন ভারতীয় দূতাবাসের সামনের রাজপথ, প্রতিক্রিয়ার কালো হাত যখন প্রথম আলোর পক্ষ থেকে — আমরা তাদের পাশে না দাঁড়িয়ে পারি না।

আমরা জানি আগামী দিনগুলোতেও পরিবেশ বিরোধী এবং গনবিরোধী এই বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে সাধারন ব্লগাররা তাদের একাত্মতা দেখাবেন। আঞ্চলিক পরাশক্তির পক্ষে যাদের অবস্থান সেই সন্ত্রাসী শক্তি এবং সফেদ পোশাকের আড়ালে ঘাপটি মেরে থাকা তাদের দালালদের যাবতীয় বিরোধিতা সত্ত্বেও।

আমাদের কয়েকজন ব্লগবন্ধুর সফেদ পাঞ্জাবীর আড়ালে রক্তমাখা ছুরি নিয়েও আমরা আদৌ চিন্তিত নই... হত্যা সন্ত্রাসের চিরাচরিত রঙ পালটে শ্বেত-সন্ত্রাসও মাঝে মাঝে আমাদের আঙিনায় হানা দেয়, আমরা নিশ্চিত ভাবেই তা জানি।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28978379 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28978379 2009-07-14 23:52:29
প্রথম আলোর মিডিয়া সন্ত্রাসকে রুখে দাড়ান, ল্যাম্পপোষ্টের সাথে সংহতি ঘোষনা করুন...
আমরা সবাই জানি, পুলিশ নির্মম ভাবে সেই বিক্ষোভকে ছত্রভঙ্গ করে, বেশ কয়েক জন ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়। পুলিশ গ্রেফতার করে আশীষ কোড়ায়া ও প্রিন্স মাহমুদকে নামের দুই ছাত্রকে। আমাদের ক্রোধে হতবাক করে দিয়ে দৈনিক প্রথম আলো স্বভাব সুলভ ভাবে এই আন্দোলনরত ছাত্রদের বিপক্ষে বিষোদগার করতে শুরু করে। নানা রকম উস্কানীমুলক তথ্য দিয়ে তারা মিডিয়া সন্ত্রাস চালাতে থাকে। জাতীয় (?)দৈনিক প্রথম আলোর এই আচরন আমরা জাতীয় লজ্জা বলেই মনে করি।

আহত ছাত্র-ছাত্রীরা শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুকি নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে, এই মুহুর্তে তাদের আশ্রয় চিকিৎসা সহ নিরাপত্তা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে সবার প্রতি আবেদন, লড়াকু আর সাহসী এই সব ছেলে মেয়েদের পাশে এসে দাড়ান, তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করুন। এই মুহুর্তে তাদের প্রয়োজন আপনার সমর্থন।
ভারতের টিপাইমুখ বাঁধ বন্ধ করার দাবীতে সারা দেশের মানুষ যখন সোচ্চার, আমাদের আগামী দিনের শুকিয়ে মরা আর নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা নিয়ে যখন আমরা আতঙ্কিত, সে সময় দৈনিক প্রথম আলোর আনুগত্য কাদের প্রতি সেটা আমাদের লক্ষ্য করা উচিত। প্রথম আলোর এই মিডিয়া সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তীব্র জনমত গড়ে তোলাই হবে এ সময়ের প্রধান কাজ।

সহ ব্লগার খোমেনী ইহসান , মনজুরুল হক, ফারুক ওয়াসিফ ,সরকার সেলিম, রিফাত হাসান , ভিন্ন চিন্তা সহ অনেকেই এই বিষয় নিয়ে পোষ্ট দিয়েছেন, সেগুলোর লিংক এখানে দেওয়া হলো।

এ বিষয়ে আরো পোষ্ট পাওয়া গেলে তা এখানে সংযোজিত হবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28975458 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28975458 2009-07-08 23:42:32
দ্যা অল্টারনেটিভঃ সামহোয়্যারে নতুন গ্রুপ আগামী দিনের বাংলাদেশকে আমরা কি রকম দেখতে চাই...?

কি ধরনের রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্র-ব্যবস্থার পক্ষে আমরা দাঁড়াতে চাই, যাতে করে নিশ্চিত হতে পারি নাগরিক হিসাবে এই রাষ্ট্র আমার ব্যক্তির বিকাশ, গনতান্ত্রিকতার চর্চা আর স্বাধীন মত প্রকাশ সহ আমার যাবতীয় নাগরিক অধিকারের স্বপক্ষে দাঁড়াবে।

আমাদের পুর্ববর্তী প্রজন্ম যারা প্রত্যক্ষ ভাবে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামের সাথে যুক্ত ছিলেন, অস্ত্র হাতে জীবন বাজী রেখে লড়ছিলেন,— তাদের পক্ষে সেরা সুযোগটা ছিল একটা গনতান্ত্রিক বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার। শত শত বছরের অন্ধত্ব, কুপমন্ডুকতাকে ঘুচিয়ে ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে পরাজিত করে বিজ্ঞানমনস্ক মুক্তিবুদ্ধির চর্চার সহায়ক একটা গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র আদায় করে নেওয়ার। আমাদের মহান স্বাধীনতার সংগ্রামের অর্জন অসামান্য। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি সৈনিকের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা অপরিসীম। কিন্ত মুক্তিযুদ্ধের প্রায় ৪ দশক পেরিয়ে যাচ্ছে...... আমরা পরিস্কার ভাবে জানি গনতান্ত্রিক অধিকার দুরের বস্তু, লক্ষ কোটি মানুষের জন্য নুন্যতম একটা জীবন মানও আমরা নিশ্চিত করতে পারি নাই। আশাব্যঞ্জক কোন আগামীর স্বপ্ন, আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে পারি নাই। আমরা নিজেই জানি না—আমাদের জন্য অনাগত দিন কি নিয়ে অপেক্ষা করছে।

সমাজে অরাজনীতিকরন দিনের পর দিন প্রকট হয়ে উঠছে। আর এই অরাজনীতিকরনের ফলে সৃষ্ট রাজনীতিহীনতার শুন্যতা দখল করছে দলবাজী। আজকের বাস্তবতা হচ্ছে, সংগ্রামী জনগন আছে, আছে লড়াকু তরুন বুদ্ধিজীবি। কিন্ত তাদের কোন সংঘবদ্ধ প্রকাশ নাই। তাদের লড়াইয়ের আপোষহীনতাকে ধারন করতে পারে... বাংলাদেশে আজ সে রকম কোন রাজনৈতিক দলই নাই।

বিকাশমান সমাজ সত্ত্বাকে কিভাবে আমরা ব্যাখা বিশ্লেষন করব, মানুষের উৎপাদন এবং তার নিজকে পুনরুৎপাদনের কর্মতৎপরতার ভেতর দিয়ে যেভাবে তার জীবনকে প্রকাশ করে, তার ব্যাখা আমরা কিভাবে হাজির করবো...এই মৌলিক প্রশ্ন গুলোর উত্তর খোঁজার সর্বজন গ্রাহ্য কোন পথ আজ অগম্য হয়ে গেছে। বিগত দশকগুলোর তুলনায় তরুন সংবেদনশীল বুদ্ধিজীবিদের মাঝে মার্কসীয় তত্ত্বের চর্চা সীমিত হয়ে এসেছে...... আজকের তরুনদের কাছে মার্কসবাদ দ্বিধাহীন অনুসরনীয় কোন ধারা নয়। মার্কসবাদের নামে তোলা জয়ধ্বনির সোচ্চার কন্ঠ আজ স্তিমিত হয়ে এসেছে।

এই পরিস্থিতির একটা উৎসাহব্যাঞ্জক দিকও থাকতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করেন। মার্কসবাদের নামে যে সব দর্শন এ যাবৎ কাল চর্চা হয়ে এসেছে—যাদের কাছে মার্কসবাদ ছিল অনেকটা ধর্মের মতন, আর এতে মজবুত ভাবে ঈমান আনার মধ্যেই আমাদের মুক্তি নিহিত, বলে যারা বিশ্বাস করতো... সেই সব সক্রিয়তা আজ বিলুপ্তির পথে। বিরাজমান পরিস্থিতিতে সেই সব ক্ষতিকর ধারার অন্ততঃ অপমৃত্যু ঘটানো গেছে, এটা অবশ্যই আশার কথা।

ফলে আজ আমরা সত্যিই জানি না, আমাদের আগামীদিন সমাজতন্ত্রের নাকি সাম্যবাদের নাকি অন্য কিছুর। আমাদের আগামী রাজনীতি কোন বৈপ্লবিকতায় মোড় নেবে, কোন উলম্ফনের রুপান্তরে আমাদের অনাগত আগামী বিনির্মিত হবে। দৃশ্যমান নিশ্চিত কোন পথের দিশা আমাদের সামনে উপস্থিত নাই। আর এই পরিস্থিতিতে নতুন পথ খোঁজার দ্বায়িত্বটা নিতে হবে আমাদেরই— আমরা যারা দার্শনিকতার চর্চা করি যাবতীয় পুর্বানুমান, সংস্কার আর প্রচলিত গৎবাধা রাস্তার বিপরীতে......, কৌতুহল অনুসন্ধিৎসা আর বিশ্লেষনী পদ্ধতিতে, আমাদের মুক্তবুদ্ধির পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে।

বাংলা ব্লগ আজ মুক্তবুদ্ধির চর্চার উল্লেখযোগ্য মাধ্যম, সেই ধারায় সামহোয়্যার ইন ব্লগে আমরা দেখছি নিরন্তর অজস্র ধরনের মতামতের প্রকাশ, সমচিন্তার ব্যক্তিদের আরো ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। সামগ্রিক সেই চিন্তাগত ঐক্যের যুথবদ্ধতায় আরও সক্রিয় অবদান রাখতে গঠিত হয়েছে গ্রুপ দ্যা অল্টারনেটিভ।

সামহোয়্যার ইন ব্লগের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন নতুন চিন্তার সেই সব একাকী কন্ঠস্বরগুলোকে সমস্বরে পরিনত করতে চায়, দ্যা অল্টারনেটিভ গ্রুপ।

আমরা যা বিশ্বাস করি—তা সৎ ভাবে উপস্থাপন করা, অন্যের মতামত বিশ্বাসকে প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়া, এই সব মতামত বিশ্বাস নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করা, যুক্তি তুলে ধরা...... আমাদের বিশ্বাস এই বিতর্ক আর পর্যালোচনার মাঝ থেকেই বেড়িয়ে আসবে আমাদের আগামীর দিক নির্দেশনা। আমরা বিশ্বাস করি মতামত প্রকাশের গনতান্ত্রিক অধিকারের সেই ধ্রুপদী শ্লোগানঃ তোমার মতের সাথে আমি একমত পোষন নাও করতে পারি, কিন্ত আমার জীবন বাজি, কাউকে তোমার গলা টিপে ধরতে দেব না...

মানুষের অসামান্য শক্তি আর ক্ষমতার ওপর আমাদের আস্থা আছে, আমাদের বিশ্বাস মানুষের সৃজনশীলতার ব্যপ্তির প্রতি... আমরা তাই মূর্ত নির্দিষ্ট ভাবেই জানি— মানুষ কখনও কখনও ভেঙে পড়ে, কখনও কখনও সে হতাশ হয়... কিন্ত চুড়ান্ত বিচারে মানুষ কখনও পরাজিত হয় না।

আমাদের সভ্যতার ইতিহাস স্বাক্ষী।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28974933 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28974933 2009-07-07 19:50:30
সামহোয়্যারে বিজ্ঞাপন প্রকাশঃ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক নিশ্চয়তার স্বরুপ...
ঢাকা শহরে সময় কাটানোর মত জায়গার স্বল্পতার যুগে বেঙ্গল গ্যালারীকে আমার একটা ওয়েসিস মনে হয়। বিখ্যাত শিল্পীদের গান শুনে একটা চমৎকার সন্ধ্যা আপনি কাটিয়ে দিতে পারেন। আর মজার ব্যাপার, এর জন্য আপনাকে একটা পয়সাও খরচ করতে হবে না।

বেঙ্গল গ্যালারীতে আমিও যাই মাঝে মাঝে, আমার বন্ধুদের সাথে। কিন্ত মনে একটা খচখচে ভাব নিয়ে! আবুল খায়ের লিটু সাহেব বিস্তর ধনী মানুষ, গাটের পয়সা খরচ করে বেঙ্গল গ্যালারী তিনি চালাতেই পারেন, কিন্ত কোন কিছু কন্ট্রিবিউট না করে কাঁহাতক আর তার ঘরে বসে গান বাজনা শোনা যায়? আমার অস্বস্তি লাগে...

যদিও মাঝে মাঝে ভাবি এই যে ঘর ভর্তি লোক, গান শুনছেন ইফফাত আরা বা সুবীর নন্দীর, এদের প্রত্যেকের কিন্ত অন্তঃত ১০০ টাকা খরচ করে টিকিট কাটার সামর্থ্য আছে। আজকের দিনে ১০০টাকা এমন কিই বা টাকা! অথচ বেঙ্গল গ্যালারী কর্তৃপক্ষ কেন টিকিট কাটার ব্যবস্থা রাখেন না? এটার কোন সদুত্তর নিশ্চয় আছে, কিন্ত আমার তা মাথায় আসে না। তবে আমার খুব ভাবতে ইচ্ছা করে আজ যদি এখানে টিকিট কাটার সিস্টেম থাকতো, ১০০টাকা বা ২০০টাকা,...... এক একটা অনুষ্ঠান যে ভাবে শ্রোতার ভারে জমজমাট— ঠিক আজকের সমপরিমান লোক এখানে জমায়েত হতো কিনা...!

বেঙ্গল গ্যালারী বা ছায়ানট কিংবা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সহ অনেকেই প্রায় প্রতি সপ্তাহেই এ ধরনের গানের জলসার আয়োজন করে থাকেন। আমার ধারনা প্রতিষ্ঠান চালানোর অভিজ্ঞতা থেকে তারা জানেন, গান শোনার জন্য টিকিট না কাটতে হলে, মানুষ বেশি স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করে। কেউ কেউ হয়ত বিনা পয়সায় গান উপভোগ করা তার ন্যয্য হক বলে মনে করে...

আমাদের সেই জিলা শহরে ছোটবেলায় স্কুলে যাওয়ার পথে লাঠিতে ভর করে হাটা এক ভিক্ষুকের কথা আমার খুব মনে হয়। খুবই নিষ্ঠাবান এই ভিক্ষুকটি দাড়িয়ে থাকতো রেল ষ্টেশনের প্রধান গেটে, এবং তার খোঁড়া পা দেখিয়ে প্রত্যেক যাত্রীর কাছে তার ভিক্ষা পাওয়ার ন্যয্যতা তুলে ধরতো। তার এই নাছোড়বান্দা মনোভাবে যাত্রীদের অনেকেই বিরক্ত হয়ে ধমক দিত, কিন্ত তাকে কাঁচুমাচু হতে বড়ো একটা দেখতাম না। বরং সুযোগ পেলেই সে আমাদের তার ভিক্ষা পাওয়ার যৌক্তিক দাবীর কথা মনে করিয়ে দিত। আঞ্চলিক ভাষায় যা বলতো, তার সারমর্ম- তোমরা আমাকে অবহেলা করছো, অথচ তোমারা জানো না, এই গোটা শহরটা চলছে আমাদের মত ফকিরদের দোয়ায়......

ভিক্ষুক হিসাবে তার এই গাটস্‌ আমি মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করতাম।

আমাদের গ্রাম বাংলার সেই জমিদারী আমলে রায়ত (প্রজা) হিসাবে সাধারন মানুষ চিত্ত বিনোদনের এবং আমোদ ফুর্তির খরচ জোগানো জমিদারের পবিত্র কর্তব্য মনে করতো। জমিদার বাড়ীর খরচে গ্রামে দুর্গাপুজার আয়োজন, সে উপলক্ষে যাত্রা বা নাচ গান আর বিজয়া দশমীতে গ্রামের সবার পেটভরে খাওয়ার দাওয়াত, এই কালচার খুব বেশিদিনের পুরানো নয়। জমিদারীর আমলে মানুষ কেন গাঁটের পয়সা খরচ করে আমোদ ফুর্তি করবে? এটা তো রায়তদের পাওনা...

জমিদারী আমল চলে গেছে- কিন্ত রায়ত হিসাবে আমরা আমাদের হক আদায়ের দাবী মনে হয় আজও ছাড়ি নাই। তফাত হলো আগে জমিদারের দেওয়া ভুরিভোজের পরে ঢেঁকুর তুলে জমিদারের গুন গাইতাম— জমিদার বাবু মানূষ ভালা, এবার লুচির লগে দই মিষ্টিও দিছে। আর এখন তার বদলে বেঙ্গলে গান শুনতে শুনতে বলি— বহুৎ টাকা কামাইছো বাপ, এখন বেঙ্গল গ্যালারীর পিছনে টাকা পয়সা ঢেলে খানিক সংস্কৃতির চর্চা করো। তোমার এখানে এসে হল ঘর ভর্তি করার জন্য তো আমরা আছিই, এতেই তো তোমার কৃতজ্ঞ থাকা উচিত!!!

প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমাদের মনোভাব এ রকমই। আমরা যাবতীয় সেবা উপভোগ করতে চাই, কিন্ত তার জন্য প্রতিষ্ঠান কিভাবে টাকা পয়সা যোগাড় করবে, তার আর্থিক সমস্যার সমাধান করবে, সে আলোচনায় আমি ঢুকতে চাই না, তা নিয়ে আমি সবচেয়ে কম ভাবতে চাই। প্রত্যকেরই হয় তো ধারনা কোন এক গায়েবি যাদুবলে কর্তৃপক্ষ এ সমস্যার সমাধান করে ফেলবেন। তবে সমস্যা এখানেই শেষ নয়, ধরা যাক বেঙ্গল আগামী অনুষ্ঠান থেকে স্পনসর নেবার প্রথা চালু করলো এবং সে অনু্যায়ী মঞ্চের পিছনে স্পনসরের ব্যনার টাঙ্গিয়ে দিল। এই বার দেখবেন এক শ্রেণীর শ্রোতাদের মহা আপত্তি, সেই ব্যানারের রঙ নাকি তাদের সঙ্গীত উপভোগে ব্যঘাত ঘটাচ্ছে......

সাম্প্রতিক সময়ে সামহোয়্যার প্রতিষ্ঠান হিসাবে তার টিকে থাকা এবং বিকাশের স্বার্থে ফ্রন্ট পেজে বিজ্ঞাপন নেওয়ার কথা ঘোষনা করেছে, পরবর্তীকালে এ্যকটেল কোম্পানীর একটা বিজ্ঞাপন প্রকাশও শুরু হয়েছে। এই বিজ্ঞাপন প্রকাশকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণীর ব্লগাররা যে মাত্রার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন এবং এ্যড ব্লকারের পাইকারী সুপারিশ করেছেন তা খুবই দ্বায়ীত্ব জ্ঞানহীন এবং একটা প্রতিষ্ঠানের প্রতি নির্মমতা বলে আমার মনে হয়েছে। দ্বায়ীত্বজ্ঞানহীন- কারন এর মাধ্যমে আমি প্রমাণ করলাম, প্রতিষ্ঠানের সেবা আমি নেব অথচ তার বাজেট কোথা থেকে আসবে সে দায়ীত্ব আমি নেব না...... একই সাথে নির্মম, কারন আমি এ্যড ব্লকারের মাধ্যমে অচলাবস্থা তৈরি করছি যাতে বিজ্ঞাপন প্রকাশের কাজটা নির্বিঘ্ন না হয়।

উটপাখির মতো চোখ মুখ আমরা যতই ঢাকি না কেন, এটাই তো সত্য যে আমরা পুঁজিবাদি একটা অর্থব্যবস্থার অধীনে বসবাস করছি। এই ব্যবস্থায় মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কটাও হবে পুঁজিবাদি। এই ব্যবস্থায় একটা প্রতিষ্ঠান টিকে থাকে আর বেড়ে উঠে এই পুঁজিবাদি সম্পর্ক গুলো ব্যবহারের মাধ্যমে। বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা এবং তার বিনিময়ে অর্থ সংগ্রহ একটা স্বীকৃত পদ্ধতি—আমাদের এটাই করতে হবে, অর্থ যোগানের জন্য কোন জমিদারবাবুকে আমরা এখানে পাবো না।

প্রতিষ্ঠানের সেবা যদি নিতে চাই, তবে এই পুঁজিবাদি সম্পর্কের যুগে তার আর্থিক সমস্যা সমাধানের অধিকারটাও আমাদের মানতে হবে। ভিক্ষাবৃত্তি আমাদের সমাজে মহান পেশা, ভিক্ষুকের দোয়ারও একটা মুল্য আমরা নির্ধারন করে দিয়েছি (ভরপেট খাওয়া আর হাইকোর্ট মাজার থেকে যাওয়া আসার রিক্সাভাড়া) কিন্তু তা দিয়ে তো প্রতিষ্ঠান চলবে না। জমিদারী আমল হলে হয়তো চলতো!!! ফলে অর্থ সংগ্রহের বিকল্প কোন পথ বাতলে না দিয়ে আমরা যদি সামহোয়্যরের এ্যডের কালার নিয়ে সস্তা টিটকারী মারি, এডব্লকার ব্যবহারের গনতান্ত্রিক অধিকারের কথা তুলি, আমার ডেস্কটপ স্লো হয়ে যাওয়ার অনু্যোগ জানাই— এরপর সামহোয়্যরের জন্য আর বাকী থাকে কোন রাস্তা? ভিক্ষাবৃত্তি নাকি জমিদারের রায়ত হয়ে যাওয়া?

রঙ্গতামাশা বা কৌতুক করার জন্য নিশ্চয় এক ধরনের স্মার্টনেস দরকার হয়। কিন্ত আমার বিশ্বাস প্রতিষ্ঠান হিসাবে সামহোয়্যরের টিকে থাকার জন্য আর্থিক এই নিশ্চয়তা কতটা জরূরী এটা বোঝার মধ্যেও অন্য ধরনের স্মার্টনেশ প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠান কিভাবে গড়ে উঠে এবং কিভাবে টিকে থাকে তা করে দেখানোর অনেক চ্যালেঞ্জ আমাদের তরুন ব্লগাররা নিশ্চয় ভবিষ্যতে তাদের পেশাগত জীবনে সাফল্যের সাথে নিবেন। প্রকল্প পরিকল্পনার সাথে সাথে সে প্রকল্পের আর্থিক নিশ্চয়তা যোগার করাও যে আধুনিক ব্যবস্থাপনার দায়ীত্ব সে বোধও এই সঙ্গে আশা করি তারা অর্জন করবেন।

ভিক্ষাবৃত্তি অথবা জমিদারের রায়ত হয়ে যাওয়া, কোনটাই আমাদের সমাধান এনে দিবে না। আমাদের দেশে পুঁজিবাদি্ ব্যবস্থা দ্রুত বিকাশমান। এখনই সময়, এ থেকে যাবতীয় সামন্তীয় চিন্তা ভাবনার অবশেষগুলো আমাদের ঝেড়ে ফেলতেই হবে...... বের হয়ে আসতে হবে রায়ত প্রজাদের মানসিকতা থেকে।

অন্যথায় যাবতীয় পুঁজিবাদি সম্পর্কের প্রতি আমাদের মধ্যবিত্ত সুলভ ক্ষিপ্ত মনোভাব শুধু কৌতুকই পয়দা করবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28961981 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28961981 2009-06-08 22:39:23
একটা সংবিধিবদ্ধ সতর্কতাঃ
সামাজিক জীব হিসাবে স্বাভাবিক কিছু আচরন আমরা সব সময়ই করে থাকি—কোন বিষয়ে কোন কিছু অপছন্দ হলে সেটা আমরা প্রকাশ করি, কোন কিছু মাথায় না ঢুকলে তা নিয়ে প্রশ্ন করি, তা নিয়ে ব্যাখা জানতে চাই। ধুন ফুন কিছু বোঝাতে চাইলে আমরা তার মতলব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করি। সাধারন মানুষ হিসাবে, এ ভাবেই আমরা সমাজের নানান বিষয়ের প্রতি আমাদের প্রতিক্রিয়া দেখাই।

কিন্ত এই অতিসাধারন আর স্বাভাবিক কাজ গুলো আর করা যাবে না, মানে না করতে পারলে ভালো হয় আর কি!! সাম্প্রতিক সময়ে রাস্তাঘাটে অফিস আদালতে বিভিন্ন পরিস্থি্তিতে র‌্যাব এর মুখোমুখি হতেই পারেন এবং র‌্যাব কিন্ত আপনাকে গুলি করতেই পারে......

এসব পরিস্থিতিতে একটু নির্লিপ্ত থাকা, প্রতিক্রিয়াগুলোকে আড়ালে রাখা বা মানবিক বৈশিষ্ট্যগুলোকে দমন করে রাখা, আপনাকে হয়তো র‌্যাবের গুলি খাওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েও দিতে পারে। বিশেষ করে আপনার পরিবারের যারা একটু কম বয়সী সদস্য, তাদের জন্য এই পরামর্শ খুব জরুরী......

স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা পাওয়ার আগে পর্যন্ত, একটু না হয় মেনেই চলিনা, এই পরামর্শগুলো?

আমাদের জন্য বেঁচে থাকাটাও তো কম জরুরী বিষয় নয়!!!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28957831 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28957831 2009-05-30 15:17:54
খারেজিঃ আপনার প্রতি এক সহব্লগারের কিছু সৎ অনুভূতি...
আপনার ব্লগ দেখে আমার মনে হয়েছে এমন একজন ব্যাক্তি যার যথেষ্ট মাত্রায় লেখা পড়া আছে, বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি শানানোতে পারঙ্গম, বিষয়ের ওপর সুস্পষ্ট দখল, বিতর্ককে হাল ধরে সঠিক গন্তব্যে নিয়ে যেতে পারেন, ধর্ম বিষয়ে অবস্থান খুব আশাবাদী হবার মতো(ধর্মের সমালোচনা নয় বরং পর্যালোচনা করতে চান- আর এটা করতে গিয়ে আশেকানদের দিলে দাগা দিতে চান না), যুক্তির জায়গায় দাড়িয়ে যথাযথ প্রশ্নটা তুলতে পারেন, চমৎকার রসবোধ এবং উদার মনের...

আপনার বেশ কিছু পোষ্ট (মায়া দরজা, সিরাতুল মুস্তাকিম, রুপকথা নিয়ে... ইত্যাদি) পড়ে আমার মুগ্ধতায় বাগরুদ্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা হয়েছে। আমি আপনার লিখার নিয়মিত এক পাঠক হয়ে উঠেছিলাম। অনেককেই আমি আপনার ব্লগের রেফারেন্স দিয়েছি, পড়ার জন্যও লিঙ্ক দিয়েছি। সাম্প্রতিক সময়ে খারেজি বেশ ব্যাস্ত হয়ে পড়েছিলেন ব্লগে, এবং তার ব্লগ আলোচনা, সমালোচনা, যুক্তি-পালটা যুক্তির এক চমৎকার আসরে পরিনত হয়েছিল। আমাদের সামগ্রিক ব্লগ পরিবেশের জন্য এটা একটা আশা ব্যঞ্জক পরিস্থিতি বলে মনে হয়েছিল।

খারেজি, আপনার ব্লগে যাওয়া সব সময়ই এক দারুন অনুভুতি- ভীষন বন্ধুত্বপুর্ণ এক পরিবেশ। গভীর সব দার্শনিক আলোচনা- মেধা আর মনীষার বিপুল দ্যুতি, তারুণ্যের প্রান চাঞ্চল্যে ভরা।


অন্ততঃ কয়েক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত খারেজির ব্লগ বলতে আমরা তাই ভাবতাম। যখন পর্যন্ত শওকত হোসেন মাসুমের সাথে আপনার সেই কুখ্যাত কুস্তি লাগা শুরু হয় নাই। (আমি দুঃখিত এটা আমার কাছে সুস্থ্য বিতর্ক মনে হয় নাই, কুস্তিই লড়া মনে হয়েছে)। ঘটনার শুরু বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা নিয়ে মাসুমের পোষ্টে আপনার মন্তব্য থেকে। সেখানে সেই স্টিকি পোষ্টে বিগত আওয়ামী জমানায় অর্থমন্ত্রী থাকার সময়কার শেয়ার স্ক্যামে কিবরিয়ার পরিবারের কোন সংপৃক্ততা ছিল কিনা তা নিয়ে খারেজির একটা প্রশ্ন ছিল। খারেজির অভি্যোগ মাসুম তার সেই প্রশ্নের উত্তর দেন নাই। তর্কের খাতিরে আমরা ধরেই নিলাম মাসুম বিরাট পাপ করে ফেলেছেন-স্টিকি পোষ্টে শেয়ার স্ক্যামে কিবরিয়ার পরিবারের সংপৃক্ততা নিয়ে কোন প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ায়। কিন্ত এটা কি মাসুমের সাথে খারেজির ব্যাক্তিগত লড়াই ছিল? কোন ভেনডেট্টা( Vendetta )। বিষয়টাতো মতাদর্শিক লড়াই, তাই না? আপনি প্রশ্ন তুলতে চাইছিলেন কিবরিয়া শেয়ার স্ক্যামে নিরাপরাধ ছিল কিনা—এবং আপনার অভিযোগ ছিল মাসুম এই প্রশ্নটা এড়িয়ে যাচ্ছে—সঠিক উত্তর দিচ্ছে না।

এখন আপনি যদি এটাকে একটা আদর্শ মতাদর্শিক সংগ্রামের জায়গায় নিয়ে যেতে চাইতেন, তাহলে আমরা দেখতাম পরবর্তীকালে খারেজি, আপনি শেয়ার স্ক্যামে কিবরিয়ার দায়-দায়ীত্ব বিষয়ক আরও প্রমানাদি হাজির করছেন, কিবরিয়ার বিরুদ্ধে একটা লাগাতার সমালোচনার জায়গা তৈরি করছেন। একই সঙ্গে প্রথম আলো তথা সেখানে কর্মরত মাসুমের এহেন নীরবতার একটা যৌক্তিক কারনও দাঁড় করাচ্ছেন।

প্রথম আলোর মতো প্রতিষ্ঠানের (সমাজে যার একটা মতাদর্শিক শক্ত অবস্থান আছে) বিরুদ্ধে একটা কার্যকর সমালোচনার জায়গা চিহ্নিত এবং তা প্রমাণ করা নিঃসন্দেহে একটা বড় মাপের কাজ বলে বিবেচিত হতো। একই সাথে মাসুমের সীমাবদ্ধতা, (বিভিন্ন ধরনের হতে পারে—জানার সীমাবদ্ধতা, প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা, ব্যাক্তিগত সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি) যদি খারেজি ধরিয়ে দিতে পারতেন—তবে আলোচনাটা নিঃসন্দেহে একটা স্বাস্থ্যকর জায়গায় থাকতো।

খারেজি, আমি জানি না এই মতাদর্শিক সংগ্রাম চালানোটা আপনার কাছে কেন আয়াসসাধ্য এবং পরিশ্রমের কাজ বলে বিবেচিত হলো—আমরা লক্ষ্য করলাম আপনি দ্রুত সংগ্রামটাকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নামিয়ে নিয়ে আসলেন। কামান দাগা শুরু করলেন ব্যাক্তি মাসুমের বিরুদ্ধে। যাবতীয় মেধা এবং ক্ষমতা নিয়োজিত করলেন মাসুমের চরিত্র হননে- আপনার স্ট্যাটাস অবনমনের সাথে মাসুমকে জড়িয়ে, প্রমাণ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন অর্থনীতি নিয়ে মাসুম কত কম জানেন। এ ক্ষেত্রে ব্যঙ্গ আর বিদ্রুপ হলো খারেজির প্রধান হাতিয়ার, তীব্র অসূয়া হলো প্রধান চালিকাশক্তি।

আর এই ঘটনা থেকে শুরু করে এরপর যে কোন জায়গায় খোঁচাখুচির নুন্যতম সুযোগও খারেজি আর হারাতে চাইলেন না, সেটা মেঘ এর লেসবিয়ানিজমের পোষ্টই হোক, বা অন্যমনস্ক শরৎএর মন্তব্যই হোক।

ব্লগে আমরা যারা একটা স্বাস্থ্যকর বিতর্ক দেখতে চাই—হতাশ বিস্ময়ে আবিস্কার করলাম—শেয়ার স্ক্যামে কিবরিয়ার দায়-দায়ীত্ব বিষয়টি বেমালুম উধাও হয়ে গেলো, অর্থনৈতিক বিষয়ক আলোচনাও আর চালু থাকলো না। প্রথম আলোকে নিয়ে একটা কার্য্যকরী সমালোচনা বা কিবরিয়া বিষয়ক একটা অনুসন্ধানী আবিস্কারের যাবতীয় সম্ভাবনারও ততক্ষনে দফা রফা। আমরা যারা একটা সমৃদ্ধ আলোচনা পর্যালোচনার অপেক্ষায় ছিলাম—তাদের উৎসাহে খারেজি দিলেন ঠান্ডা পানি ঢেলে। গুরুত্বের বিচারে ব্যাক্তি মাসুমকে নস্যাৎ করাকে আপনার কর্মতালিকার সবার উপরে ঠাঁই দিলেন আপনি, আমাদের খারেজিভাই!!!

অনেকদিন পর আজ আপনার পোষ্ট (১৪ই মে পোষ্ট করা) আবার নজরে পড়লো, আমার খুব ভাল লাগছিল পুরানো খারেজিকে আবার স্বভুমিকায় দেখতে পেয়ে। সেই রকম যুক্তিপুর্ণ পোষ্ট, সেই রকম বুদ্ধিদীপ্ত মন্তব্য আর প্রতিউত্তরে সাবলীল ভাষায় তীক্ষ্ণ যুক্তির অবতারনা। একটা দারুন উৎসাহ নিয়ে ব্লগটা পড়া শুরু করে মন্তব্য গুলো পড়ে যাচ্ছিলাম। কিন্ত হোঁচট খেলাম মন্তব্যের শেষের দিকে এসে— আলোচনা পালটা আলোচনায় পরিবেশ জমে উঠেছে- ৩১ নম্বর মন্তব্যের ঘরে এসে দেখলাম অন্যমনস্ক শরৎএর একটা মন্তব্য।

এবং হতাশ হয়ে আবিস্কার করলাম, আপনি খোঁচাখুচি করার নুন্যতম সু্যোগ না হারানোর সিদ্ধান্ত থেকে একটুও সরে আসেন নাই। অন্যমনস্ক শরৎএর মন্তব্যের সুত্রে এরপর আপনি আবার সেই চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং সমকামীদের বিষয়ে পুরানো বিতর্ককে সামনে টানলেন, আর শরৎকে খোঁচালেন। শরৎএর সাথে আপনার চিন্তার একটা মতপার্থক্যের জায়গা আছে, কিন্ত্ তাকে বিতর্কের মাধ্যমে একটা ঐক্যমতের জায়গায় নেওয়ার উদ্দেশ্যে সেই মতো বিতর্কের সুর তুললেন না।

আমি জানি না আমার বক্তব্যগুলো আপনার ওপর অতিরিক্ত কোন আশাবাদ থেকে উচ্চারন করছি কিনা, এ সব বিষয়ে এ ক’দিন মুখ বুজেই ছিলাম, হয়তো থাকতামও-- কিন্ত আজ যখন সবাইকে দিব্যজ্ঞানী ভাই ও বোন বলে সম্বোধন করলেন- মনে হলো সহব্লগার হিসাবে আপনার প্রতি আমার কিছু দাবী তো আছেই... যে ভাবে আপনি এখন ব্লগে কন্ট্রিবিউট করেন- আমি যদি ভাবি, আপনার এর চেয়ে বহুগুন ভাল ভাবে কন্ট্রিবিউট করার ক্ষমতা আছে, তো আমি আপনাকে গায়ে পড়ে হলেও কিছু কথা তো বলতেই পারি। আমার বিশ্বাস, আমি এবং আপনাকে পছন্দ করে এরকম অনেক ব্লগার, দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করে—গত কয়েক সপ্তাহ আপনি যা যা নিয়ে ব্যাস্ত ছিলেন, তা যাস্ট আপনার শক্তি আর সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। এত এত ব্লগার এই কয়দিনে আপনাকে এত ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন—তাদের সেই স্নেহ, ভালবাসা আর শ্রদ্ধার মুলসুরটা আপনি ধরতেই পারলেন না। বড়ই আফসোস... ব্লগে লড়াই করার সময় আপনার কখনো খেয়াল থাকে না, ব্লগে শুধু আপনি আর আপনার প্রতিপক্ষই নাই, আমরা সহ ব্লগাররাও আছি, যারা সব কিছুই আমরা খেয়াল করছি, এবং সব কিছু নিয়ে আমাদের একটা নীরব রায়ও আছে।

আমি মনে করি খারেজি, আপনার জন্য সবচেয়ে বড় শত্রু আপনার অসূয়াবোধ। প্রতিপক্ষের মতামতের বিরোধিতা আপনার কাছে হয়ে ওঠে প্রতিপক্ষকে আক্রমন। অথচ আপনি নিজেও খুব ভাল করে জানেন—ব্যক্তি আর তার চিন্তা কখনই এক নয়। ব্যাক্তি—যিনি চিন্তাকে ধারন করেন মাত্র, তিনি নিজে চিন্তা নন। ব্যক্তির চিন্তাকে আক্রমন করা যায়, চিন্তাকে যুক্তি দিয়ে পরাজিত করা যায়, চিন্তার উপর আধিপত্য এনে, তাকে বদলে দিয়ে চিন্তার যিনি ধারক, সেই ব্যক্তিকে স্বপক্ষে আনা যায়।

এর বদলে আপনি যদি চিন্তা বাদ দিয়ে সেই ব্যাক্তিকে আক্রমন করেন... লড়াইয়ে হয়তো আপনি জিততেও পারেন, প্রতিপক্ষ সেই ব্যক্তির শারিরীক বিনাশ সাধনের মধ্য দিয়ে হলেও...।

চিন্তার কিন্ত তাতে পরাজয় হয় না, ক্ষতিকর বা ভূল চিন্তাটা সমাজে রয়েই যায়।

খারেজি, আপনি কেন আপনার প্রতিপক্ষকে জিতে নেওয়ার চেষ্টা করেন না? ধরেন আপনি যদি বিশ্বাসই করেন যে নৃবিজ্ঞানের পড়ুয়াদের প্রতি আপনার একটা যৌক্তিক সমালোচনা আছে এবং আপনার চিন্তার অবস্থান তাদের চিন্তার অবস্থানের চাইতে সঠিক এবং সেরা... তবে আপনার অন্যমনস্ক শরৎ কে কটাক্ষ বা খোঁচানোর কি কোন প্রয়োজন আছে? চিন্তার শ্রেষ্ঠত্বই তো আধিপত্য বজায় রাখে—এটা যদি বিশ্বাস করি, তবে এক্ষেত্রে আপনার বিনয়ী হতে সমস্যা কোথায়? এতে করে লড়াইয়ের কোন জমিন আপনি হারাবেন, খারেজি???

কে জানে আগামীতে শরৎ আপনার মতবাদ বা চিন্তার প্রধান সমর্থক হবেন না? আপনার সেরা বন্ধু (চিন্তার ঐক্যের দিক থেকে) হবে না?? সে সম্ভাবনা আপনি কেন নস্যাৎ করবেন?

খারেজি, আজ এখানেই থামি, আমার কিছু সৎ অনুভূতি আপনাকে জানানোর ভীষন তাগিদ অনুভব করছিলাম..., জানিয়ে গেলাম। যদি তা আপনার ব্যক্তিগত বিষয়ের সীমানা অতিক্রম করে ফেলে—তবে আগেই আমি দোষ স্বীকার করে মাফ চেয়ে নিচ্ছি।

কথা দিচ্ছি, ভবিষ্যতে মানূষের ব্যক্তিগত সীমানার পরিসীমা নিয়ে সচেতন থাকার চেষ্টা করবো। ভাল থাকবেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28951781 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28951781 2009-05-17 04:15:43
মাশরাফি আজ খেলবেঃ তার প্রথম আইপিএল ম্যাচ!!!

অবশেষে আজ বাংলাদেশী পেসার নড়াইল এক্সপ্রেস মাশরাফি বিন মুর্তাজাকে খেলতে দেখা যেতে পারে নাইট রাইডার এর হয়ে। আজ শনিবার ডেকান চার্জার্সের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে রাখা হয়েছে বাংলাদেশের এই পেসারকে। গতরাতের টিম মিটিংএ মাশরাফিকে বলে দেওয়া হয়েছে প্রস্তুত থাকার জন্য। খেলা শুরু হবে জোহানেসবার্গে, বাংলাদেশ সময়--রাত সাড়ে আটটায়।

গোয়ায় অনুষ্ঠিত আইপিএল ২ এর নিলামে কিংস ইলেভেন এর প্রীতি জিন্টার সাথে পাল্লা দিয়ে মাশরাফিকে তুলে নিয়েছিল শাহরুখের নাইট রাইডার্স। কিন্ত ক্রিকেট মহলে বিস্ময় সৃষ্টি করে দক্ষিণ আফ্রিকার বাউন্সি উইকেটেও এখনও পর্যন্ত তাকে একটা ম্যাচেও খেলান নি জন বুকানন! এ পর্যন্ত নাইট রাইডার নিয়ে বুকাননের যাবতীয় বালখিল্যতার চুড়ান্ত নজির হিসাবে দেখা হচ্ছে মাসরাফিকে একবারও সুযোগ না দেয়া- কোন ম্যাচে তাকে না খেলানো।

আজ খেলা শুরুর আগ মুহুর্তে বুকানন যদি প্রথম একাদশ পালটে না ফেলেন, (যেটা তিনি করতেই পারেন বলে অনেকের বিশ্বাস) তবে আজ দেখা যাবে নড়াইল এক্সপ্রেসকে, ডেকানের বিরুদ্ধে।

আমি ব্যক্তিগত ভাবে এবারের গোটা টুর্ণামেন্টে তাকেই সাপোর্ট করেছি, যারা যারা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে খেলেছে। ভাবছি আজ, অন্ততঃ আজকের দিনটা আমরা মাসরাফির সাফল্য কামনা করে, নাইট রাইডার্সের পাশে দাড়াতে পারি কিনা?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28951511 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28951511 2009-05-16 13:41:08
গ্রীক মহাকাব্যের চরিত্রগুলো আর আমাদের মুক্তিযুদ্ধের খলনায়কেরা... আমার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে তার যোগ্যতা কতটুকু ছিল? কতটা হিম্মত ধরে সে তার বুকে? কত দক্ষতায়, কি নিপুনতায় সে নিজকে সশস্ত্র করে তুলেছিল, কিভাবে শানিয়ে তুলেছিল তার যাবতীয় অস্ত্র?

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের কথাই বলছি... প্রতিপক্ষ হিসাবে লড়াইয়ের ময়দানে আমরা যাদের পেয়েছিলাম শত্রু হিসাবে তারা কি ধরনের স্ট্যান্ডার্ডের? মানুষ হিসাবে তারা কতটুকু উঁচুমানের?

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছিল, ধরেই নিলাম তার বিরাট একটা সংখ্যা গরিষ্ঠ অংশ ছিল ক্রিমিনাল, লুঠেরা, নিন্ম মানের মানুষ। কিন্ত তাদের মধ্যে কেউ কি ছিল না যারা স্রেফ আদর্শিক কারনেই মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে সেদিন অবস্থান নিয়েছিল, যারা যৌক্তিক ভাবেই বিশ্বাস করতো—পাকিস্তানের অখন্ডতা বজায় রাখা উচিত!! বাঙালীরা যা করছে তা ভুল, তা অন্যায়। এই মুহুর্তের সঠিক সিদ্ধান্ত হলো—শেখ মুজিবের বিরোধিতা করা, বাঙালীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া!!!
আজ স্বাধীনতার এত যুগ পার হয়ে এসে খুব জানতে ইচ্ছা করে—আসলেই কি এমন কেউ ছিল? শুধুমাত্র আদর্শের কারনে, নিজের বিশ্বাসের স্বপক্ষে আর বিবেকের তাড়নায় যারা সেদিন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল? কোন ক্ষুদ্র ব্যাক্তি স্বার্থ নয়, তার পক্ষাবলম্বন ছিল তার রাজনৈতিক বিশ্বাসের স্বপক্ষে?

আমার তা মনে হয় না।

যদি থাকতো, তবে এত বছরের মধ্যেও আমরা এমন কোন রাজাকার বা আলবদর কেন পেলাম না, যে তার অবস্থানের যৌক্তিকতা ব্যাখা করে কোন রচনা লিখেছে? তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যে সঠিক এবং প্রাজ্ঞ ছিল তার স্বপক্ষে কলম ধরেছে? তাদের নিজ আদর্শের পক্ষে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে তার বক্তব্য আমাদের জানিয়েছে? স্বাধীনতাবিরোধীদেরও নিশ্চয় একটা রাজনীতি এবং তার একটা আদর্শ ছিল, ছিল তার দার্শনিক মতামত...

বাঙালী তাহলে ‘৭১এ কার বিরুদ্ধে লড়লো?

কতগুলো ছিঁচকে ক্রিমিনাল, নিন্মমানের কিছু ধর্ষক আর কিছু বাটপার লুটেরাদের বিরুদ্ধে? যাদের নিজদের রাজনীতি আর রাজনৈতিক দর্শনের স্বপক্ষে স্পষ্ট কোন ধারনা বা কোন বোধ নাই? নাই কোন জোরালো অবস্থান? ভুল হোক ক্ষতিকর হোক, নিজের বিশ্বাসের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে নিজের কাজকে সঠিক প্রমান করার কোন রাজনৈতিক দায় নাই? এ নপুংশকতার তুল্য আর কি হতে পারে—সারা পৃথিবী জুড়ে??

বড়ই আফসোস, আমাদের ন্যুন্যতম শ্রদ্ধা পাওয়ার যোগ্যতাও আমাদের শক্রদের ছিল না?

[গতরাতের আড্ডায় আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ স্যার এবং উনার ক্লাসের লেকচারের স্মৃতিচারন করছিল আমার এক বন্ধু। স্যার একবার মন্তব্য করেছিলেন—আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গ্রীক ট্রাজেডীর আদলে কোন মহাকাব্য গড়ে উঠলো না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধাচরনকারীদের মধ্যে এমন কোন চরিত্র আমরা পেলাম না, যে গ্রীক মহাকাব্যের চরিত্রগুলোর মত কোন উপাদান ধারন করে...]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28943727 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28943727 2009-04-28 18:47:10
একটি কর্পোরেট আতিথেয়তাঃ আমার অভিজ্ঞতা


আজকের সন্ধ্যাটা আমার কেটেছে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী কমপ্লেক্সে, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার এর বার্ষিক অনুষ্ঠানে। তারকা দ্যুতিতে উদ্ভাসিত, লিটল-বিগ সব ধরনের তারকা বিচ্ছুরিত মেরিল-প্রথম আলোর অনুষ্ঠানে আমার এই প্রথম যাওয়া।

এর আগে অন্যান্য বছর গুলোর মেরিল-প্রথম আলো অনুষ্ঠানের বিস্তর রিপোর্টিং পত্রিকায় দেখতাম, আমার কাছে এটা সব সময়ই সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলের একটা কর্তৃত্বমুলক এবং সেই সাথে মানের দিক থেকেও উচু মান সম্পন্ন অনুষ্ঠান মনে হতো।

গত কয়েক বছরের মধ্যে ঢাকা শহর আগের চেয়ে অনেক বেশি চাকচিক্যময় হয়ে উঠেছে। এ জাতীয় অনুষ্ঠানের জন্য আগে পাঁচতারা হোটেল গুলোর বলরুম বা উইন্টার গার্ডেন এগুলোই ছিল ভরসা। তার বদলে এখন ঢাকায় অনেক বেশী অপশন। অনেক ক্ষেত্রেই আগের চেয়ে অনেক বেশী ঝকঝকে, প্রায় আন্তজার্তিক মানের বেশ কিছু স্থাপনা এখন ঢাকায় দেখা যায়। সে সবের ম্যনেজমেন্টের দিক থেকেও একটা চোখে পড়ার মতো উন্নতি লক্ষ্য করা যায়।

দাওয়াতের কার্ডে যাকে হল অব ফেম বলা হয়েছে, সেটা একটা গোল ডিম্বাকৃতির থিয়েটার হল, প্রায় ছয়টার দিকে আমি যখন হলে ঢুকছি—সারা হলরুম লোকে থিক থিক করছে। অনুষ্ঠান শুরু হতে তখনও আধা ঘন্টা বাকি। প্রচুর স্বেচ্ছাসেবক ভিতরে, কিন্ত বসার জন্য যথেষ্ঠ আসন নাই। প্রায় শেষের সারিতে অনেক কষ্টে যখন একটা আসন যোগাড় করলাম, আবিস্কার করলাম আমার হাটু গিয়ে ঠেকছে সামনের আসনে।
লক্ষ্য করলাম পুরো হল ঘরের আসন বিন্যাস নতুন ভাবে সাজানো হয়েছে, দুই সারির মাঝে প্রায় কোন স্পেশ না রেখে। যদি আপনি মাঝের সারিতে কোন খালি আসন দেখতে পান, তাহলে সেখানে পৌছতে হলে ঐ সারিতে বসা প্রতিটা লোকের হাটুতে ঘষা খেয়ে সেখানে ঢুকতে হবে।
অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে, তখনও প্রচুর লোক দাড়িয়ে, পেছন থেকে সিকিউরিটির লোকের কর্কশ আওয়াজ ভেসে এল-আপনারা এখানে কেউ দাঁড়াতে পারবেন না।

অনুষ্ঠানে ঢোকার শুরু থেকেই প্রবেশপত্র চেক করার যে পরিমান কড়াকড়ি চোখে পড়েছিল তাতে করে দাওয়াত কার্ডের চেয়ে অতিরিক্ত লোক ঢুকে পড়েছে এটা সম্ভব মনে হচ্ছিল না।

শুরুতেই বলে নেই, ঢাকায় এ ধরনের বড় কোন স্টেজ প্রোগ্রাম বা ইন্ডোর কনসার্ট দেখার অভিজ্ঞতা আমার নাই। আজ আমি জীবনে প্রথম চায়না বাংলা কমপ্লেক্সে গিয়েছিলাম, প্রথম আলোর অনুষ্ঠানেও আজ প্রথম। আমি কাউকে কোন সমালোচনা করতে চাই না, কারো ক্রটি তুলে ধরতেও এ লিখা নয়। কিন্ত আজ আমার যা অভিজ্ঞতা তা এক কথায় চুড়ান্ত অব্যবস্থাপনা মনে হয়েছে। যদিও আমি যতক্ষন অনুষ্ঠানে ছিলাম কোন দর্শককে আমার অসুখী মনে হয় নাই, কেউ কোন আপত্তি সুচক আওয়াজও তুলেছে, এটা আমার চোখে পড়ে নাই।

আসলে আমি ইনোসেন্টলি বুঝতে চাই, আমার কথা গুলো নানান কিসিমের বাহানা তোলা- খুঁতখুঁতে বালকের মত শোনাচ্ছে কিনা। ঢাকায় এ ধরনের বড় কোন স্টেজ প্রোগ্রাম বা ইন্ডোর কনসার্ট দেখার অভিজ্ঞতা যাদের আছে, অথবা আজকের ঐ অনুষ্ঠানে ছিলেন এমন কেউ যদি ব্লগে থেকে থাকেন-- তবে আমি তাদের সাথে আমার ধারনা গুলো মিলিয়ে নিতে চাই। যদি আপনাদের মনে হয় এ আলোচনা তুলে আমি ওভার রিএ্যাকশান দেখাচ্ছি, তবে আমি সেটাও শুনতে চাই।

আমি বুঝতে চাইঃ
১। ঢাকায় বড় কর্পোরেট হাউসগুলো যে সব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তাদের সর্বোচ্চ মান কি এ ধরনের?
২। চায়না বাংলার হল অফ ফেমে বসে আমার জুলফি বেয়ে ঘাম নামছিল, এটা কি অতিরিক্ত লোকের জন্য, নাকি গোটা কমপ্লেক্সে শীতাতপ নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা আপ টু দ্য মার্ক নয়?
৩। এ ধরনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়ে কি উদ্যোক্তারা হর হামেশা অতিথিদের দাঁড় করিয়ে রাখেন, এবং সিকিউরিটির লোকজন তাদের ধমকায়?
৪। এত সুবিন্যস্ত ইভেন্ট ম্যনেজমেন্টের মধ্যেও কি বিনা কার্ডে অতিরিক্ত লোক ঢুকে পড়তে পারে?
৫। কর্পোরেট হাউসগুলো-ইভেন্ট প্লানিং এর সময় কি আসন ব্যবস্থার সঙ্গে মানান সই ভাবে কার্ড ছাপান, নাকি দাওয়াতের লিস্ট আগে বানানো হয়?

আমার মনে আছে ঢাকায় কোন এক বছরের আন্তজার্তিক চলচ্চিত্র উৎসবের শেষ একটা দিনের কথা। সত্যজিত রায়ের হীরক রাজার দেশে ছবিটার সেটাই ছিল শেষ প্রদর্শনী। হল পরিচালকদের রাজী করিয়ে কয়েকশত তরুন তরুনী সেদিন প্রেক্ষাগৃহের মেঝেতে বসে খুশি মনে এবং শান্ত ভাবে সে ছবি দেখেছিল।

প্রথম আলো কি মনে করে তাদের এই অনুষ্ঠান দেখে সবার অত্যন্ত কৃতার্থ চিত্তে একই ধরনের পুলক অনুভব করা উচিত?

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28936465 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28936465 2009-04-11 03:37:49
আমাদের মেয়েরা কি পারে, কি পারে না... প্রসঙ্গঃ নারী আমার নারী


মেয়েরা কি পারে, কি পারে না...

জানালার ছিটকিনিটা বেশ শক্ত। এটে লাগাতে গেলে বিস্তর কসরত করতে হয়। এদিকে বৃষ্টির ছাট এসে ঘর ভেসে যাচ্ছে, জানালাটা বন্ধ করা দরকার। মেয়েটা চেষ্টা করবে একবার, দুইবার—তারপর হাল ছেড়ে দিয়ে হাসি হাসি মুখে এক পাশে সরে দাঁড়াবে। সে যে এটা পারবে না, তার কাছে এটা অস্বাভাবিক মনে হয় না। এমনটাই তো হওয়ার কথা ছিল, তাই না? খুবই সঙ্গত, তার তো এটা পারার কথাই নয়।

সে অপেক্ষা করবে তার পুরুষের, কখন সে উদ্যোগ নেবে, জানালা এটে লেগে যাবে। আর মেয়েটা প্রস্তুতি নিতে থাকবে সপ্রশংস হাসিতে তার পুরুষটাকে তারিফ আর কৃতিত্বে ভরিয়ে দিতে। নতুন কিনে আনা আচারের বয়ামটা কিছুতেই খোলা যাচ্ছে না, মেয়েটা ভিজা হাত মুছে ট্রাই করবে, শুকনা কাপড় পেচিয়ে ট্রাই করবে একবার, দুইবার-বাসায় তার পুরুষটা মজুদ থাকলে সে কখনও তৃতীয় চেস্টা করবে না।

নারীর মধ্যে কোন ক্ষুদ্রতা নাই, মানুষের (পড়তে হবে পুরুষ) অবদানের স্বীকৃতি সে দিতে জানে। কিন্ত বিস্ময়, সে সম্ভবত জানে না কিভাবে এই তৃতীয় বা পরবর্তী প্রচেষ্টা গুলো নিতে হয়? সে কি জানে? নাকি জানে না? এর উত্তর আমার জানা নাই। অথচ নারী শ্রমবিমুখ? সে কায়িক শ্রম এড়াতে চায়? খুব ভুল কথা, ভুল ভাবনা।

পারিবারিক জীবনে যে কোন একটা সফরের কথা ভাবি—তা সেই হানিমুন করতে সেন্ট মার্টিন ভ্রমন হোক, অথবা যে কোন ছুটিতে কক্সবাজার যাওয়া হোক-মেয়েটার ভুমিকা সব সময় যেন অনুগামীর। ট্রান্সপোর্ট কি হবে, কোন হোটেলে থাকা হবে, কি খাওয়া দাওয়া হবে-মেয়েটা সেই সিদ্ধান্ত গ্রহনের আলোচনায় অংশগ্রহন করবে, তার মতামত জানাবে, কিন্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কোন ভুমিকা নিবে কি? বুকিং এর জন্য সে হোটেলে ফোন করবে কি? কিংবা বাসের টিকিটের জন্য কোচ অফিসে?

মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তাল দিনগুলোতে যদি ফিরে যাই, যখন ঝাঁক বেধে হাজার হাজার বিপন্ন মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য চলছে অজানার উদ্দেশ্যে। আমাদের মেয়েটিও ধরা যাক আছে এই দলে, কোলে তার শিশু সন্তান, সাথের ব্যাগে জরুরী কিছু ব্যাবহার্য্য। শারিরীক কষ্ট উপেক্ষা করে মেয়েটি চলছে তার স্বামীর সাথে। সামনে অজানা বিপদ এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যত নিয়ে মেয়েটি বিপর্যস্ত্য। অথচ এর মাঝেও এক দৃঢ় বিশ্বাস তার মনে কাজ করে... তার পুরুষ শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচিয়ে দেবে। মাথার ওপর ওত পেতে থাকা বিপদের দিনেও, সাথে তার স্বামীর উপস্থিতি তার চারপাশে এক ধরনের নিরাপত্তার বোধ তৈরি করে। তাকে বাড়তি সাহস যোগায়। এই পুরুষ তার কাছে একটা নিশ্চিন্তির জায়গা, যা তাকে ঘিরে রাখে, আগলে রাখে-তাকে নিরাপত্তা বোধের এক অনুভুতি যোগায়। মাথার ওপর ছাতা হয়ে থাকে।

কিন্ত বিপদের মাঝে দাড়িয়ে, তা থেকে রেহাই পাবার সেই রাস্তা খোঁজার কাজটা মেয়েটা নিজেও করে না কেন? কেন মেয়েটার ইচ্ছা জাগে না, কোন একটা পরিবারের ক্ষেত্রে নিজে ছাতা হয়ে ওঠার? এমনটা কি কখনও ঘটে? বিপদজনক কোন পরিস্থিতিতে মেয়েটা কি করা যায়, তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে? কোন উদ্যোগ নিচ্ছে? খোঁজার চেষ্টা করবে কোন এলাকায় বিপদের মাত্রা কতটুকু? সম্ভবত না।

এ পর্যন্ত আলোচনা যা এগুলো তাতে করে নারীর আচরনের একটা প্যাটার্ন কি দাড় করানো যায়? আমরা কি ভাবতে পারি, সমাজ সংসার-পরিবারে নারী এবং পুরুষের ভুমিকা স্থির নির্দির্ষ্ট? এই ভুমিকার বাইরে আমরা অন্য কিছু কল্পনাও করতে পারি না??

কিছুক্ষনের জন্য আমরা কল্পনার জগতে ফিরে যাই—কিছু দৃশ্যকল্পের কথা আমরা অনুমান করতে থাকি। আমাদের মেয়েটার কথায় আমরা আবার ফিরে যাই, চারদিকে ভয়াবহ যুদ্ধের পরিস্থিতি, মেয়েটা স্বামীকে নিয়ে ছুটছে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। আল্লাহ আমাকে মাফ করুক, আমরা ধরে নেই—কোন একটা ঘটনার আকস্মিকতায় তার স্বামীটা মারা গেল, চারপাশে মৃত্যু আর বিপদের অকুলপাথারে মেয়েটা এখন কি করবে? বিপদকে মোকাবিলা করার পরিকল্পনা সে কি করতে পারবে? এই পরিস্থিতিতে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক দৃঢ়তা দেখাতে পারবে? অসহায় নাজুক এই মেয়েটা কি দিশাহারা অবস্থায় নাস্তানাবুদ হয়ে দুনিয়া থেকেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে?

আসলে এরকম কিছু হয় না, আমরা নিশ্চিত, দৈব দুর্বিপাকে মারা না গেলে-আমাদের আলোচ্য মেয়েটিও বেঁচে থাকবে, তার সন্তান কে নিয়ে। খুবই সম্ভব তার চারপাশে তার স্বামীর নিরাপত্তার বলয়টা না থাকলেও মেয়েটা টিকে থাকবে তার শিশু সন্তান কে রক্ষা করে। এমনকি একটু এগিয়ে এমনটাও ভবিষ্যতবানী করে ফেলা যায়, এই শিশুটিও একসময় বড় হবে, যথাযথ যত্ন এবং শিক্ষা পেয়ে।

এটা এভাবে বলেই দেয়া যায়, কারন আমাদের চারপাশে এই সব সাহসী মায়েদের শত সহস্র উদাহরন আছে।মাথার উপর ছাতা হয়ে থাকা স্বামী মারা গেলেও মেয়েরা মোটেও ভেসে যান না, তারা সারভাইব করতে পারেন। প্রয়োজন পরিস্থিতির দাবী মেটাতে, এমনকি রাতারাতি মেয়েরা পারেন- তাদের আচার আচরন, ব্যক্তিত্বকে আমুল বদলে দিতে। নিজ সন্তান এবং পরিবারকে রক্ষার জন্য সে এমন এমন সব ভুমিকা নেয়, তার নিজের কাছেও তা অবিশ্বাস্য ঠেকে, হয়ে উঠে কল্পনার অতীত। নিজকে অতিমানবিক মনে হতে থাকে।

এমন কি অনেকাংশে এই মেয়েটা তার সন্তান আর পরিবারের হাল ধরেন—তার মৃত স্বামীর চেয়েও ভাল ভাবে, আরও পরিপক্কতা আর বিচক্ষনতা দিয়ে। সংসার চালানোর সাথে সাথে-- পারিবারিক ব্যাবসা বাণিজ্য থেকে শুরু করে সম্পত্তির দেখভাল, মামলা মোকদ্দমা কোন দিকটা না তাকে সামলাতে হয়? এমন উদাহরন আমাদের চারপাশে অজস্র আছে যখন মৃত স্বামীর ব্যবসার হাল ধরে সেই ব্যবসাকে সফল ভাবে আরও উন্নত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্বামীর হৃত সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করে তা আরও বাড়িয়ে তোলা হয়েছে। এই শক্তি এই সাহস এই ধৈর্য্য মেয়েরা কোথা থেকে আমদানি করে? অলৌকিক ধরনের এই সব সাফল্য গাথা কি ভাবে লিখা হয়? মেয়েদের এই লড়াই করার শৌর্য্য বীর্য্যের কাহিনী আপনার আমার খুব কি অচেনা? রুপকথার কাহিনী মনে হয়??
মোটেও তা নয়।

যেমন সোনিয়া গান্ধী

সোনিয়া গান্ধী যখন গৃহবধু ছিলেন—কতখানি যোগ্যতার সাথে তিনি তার কুক, গাড়ীর ড্রাইভার আর ব্যক্তিগত কর্মচারীদের পরিচালনা করতেন? তাদের নির্দেশনা দিতেন? অন্ততঃ আমরা কখনো সোনিয়ার এমন অবিশ্বাস্য অভুতপুর্ব কোন বহুল আলোচিত গুনের রেফারেন্স পাই নাই। আমরা নিশ্চয় ভাবব না, তামিল আত্মঘাতি স্কোয়াডের হিটলিস্টে শুধু রাজীবের নামই ছিল, সোনিয়ার নাম ছিল না!! অথচ সে সব বাঁধা সাফল্যের সাথে মোকাবিলা করে- আজ সাফল্যের বিচারে সোনিয়া কি রাজীবকেও ছাড়িয়ে যান নাই? এত দীর্ঘ সময় ধরে দল এবং সরকার চালনায় এতটা সাফল্য কি রাজীব গান্ধী পেয়েছিলেন?

এবং খালেদা জিয়া

আমাদের বিএনপির বন্ধুরা যাকে দেশনেত্রী বলে সম্বোধন করেন-সেই বেগম খালেদা জিয়ার কথাই ধরি!!! তার শিক্ষাগত যোগ্যতার যে বিবরন পাওয়া যায় তা যেমন আমাদের মুগ্ধ করে না, তেমনি এই প্রশ্ন তোলাই যায়, জিয়ার জীবদ্দশায় বেগম জিয়া টেলিফোনে পারিবারিক কর্মচারীদের বাইরে কাউকে কখনও কোন নির্দেশ দিয়েছিলেন কিনা? জিয়া বেচে থাকলে আজ যিনি ঘর সংসার আর নাতি নাত্নীর বাইরে অন্য কিছু চিনতেন না—তিনি সফল ভাবে এরশাদ বিরোধী গনআন্দোলন চালনা সহ দুই টার্মে দেশের সরকারকে নেতৃত্ব দিলেন!!! জিয়াও তো এত মুরোদ দেখাতে পারেন নি!! এমন কি পারেন নি নিজকে বাঁচিয়ে রাখতে।
ফলে মেয়েরা চাইলে অনেক কিছুই পারে, মাথার ওপর থেকে ছাতা সরে গেলেও, তারা অন্যের মাথার ছাতা হয়ে উঠতে পারে।

প্রশ্ন হলো বাধ্য না হওয়া পর্যন্ত মেয়েরা তাদের এত এত শক্তি কোথায় লুকিয়ে রাখে? কোথায় খরচ করে??

আপনারা কেউ জানেন??

প্রথম অংশের জন্য Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28936000 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28936000 2009-04-10 00:13:57
নারী আমার নারীঃ অথবা আমাদের মেয়েরা




ওস্তাদের নিদানঃ একাদশীতে বার্তাকু ভক্ষন যায়েজ নয়।

আমার বন্ধু গান শেখে, ভাল গায়ও। ফি বছরই তার ডাক আসে আমাদের শহরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার। সুযোগ পেলে আমরাও সে সব অনুষ্ঠানে সামিল হই, মুগ্ধ হয়ে শুনি তার গান। কিন্তু বিস্ময়, সোমবারে সে হারমোনিয়ামে হাত ছোঁয়াবে না। সেদিন গান হবে খালি গলায়... কারন কি? কোন কারন নাই, ওস্তাদের নিষেধ।

মনে আছে, শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্তের পিসিমা বেগুন খেতেন পঞ্জিকার তিথিক্ষন দেখে, তার নির্দেশিত বিধি নিষেধ মেনে। কোন কোন লগ্নে কি কি দ্রব্য ভক্ষন করা যায়েজ আছে, তার নিদান থাকে পঞ্জিকার পাতায়। এসব বিধি নিষেধের কোন যুক্তি আছে কিনা, বা কোন কার্য কারন সম্পর্ক আছে কিনা, তা অবশ্য আমার জানা নাই। কারন এ ধরনের কেসে সব সময় আমার ওস্তাদ আমার উপর নিষেধ জারী করে সুনির্দিষ্ট কারন দেখিয়ে।

যে কারনে নারীবাদ নিয়ে কোন কিছু আলোচনার ধারে কাছে সাধারনতঃ আমি থাকি না। আমার মতামত দেই না, বড় জোর শুধু শুনে যাই। আমার আলোচনা থেকে নারী সর্বদাই বাদ। ওস্তাদের নিষেধ বলে কথা...!!

শ্রেনী সংগ্রামের ইতিহাসে, প্রলেতারিয়েত শ্রেনী হিসাবে মহান, আধুনিকতম। সমাজ বদলের নতুন দর্শন, চিন্তার ধারক হওয়া একমাত্র তার পক্ষেই ঐতিহাসিক ভাবে সম্ভব। সমাজে নিস্পেষিত এবং শোষিত শ্রেনী হিসাবে ইতিহাসে তার যে মুর্ত নির্দিষ্ট ভুমিকা, তা ব্যাখা এবং তুলে ধরাই সমাজ বিপ্লবের রাজনীতি।

কিন্ত বিষয়টা যদি এমন হয়—প্রলেতারিয়েতের কাছে এ বিষয়ে বিস্তর জ্ঞান লাভের পর তার যদি মনে হয়, অনেক নিস্পেষিত এবং শোষিত হইছি, এবার আমার অনেক কিছু পাওয়া দরকার। আমার বহুত পাওনা জমছে। সে শুরু করলো ধান্ধাবাজি, শুরু করলো চান্দাবাজি...

এই প্রলেতারিয়েত কে লুম্পেন হওয়ার হাত থেকে ঠেকাবে কে?

ওস্তাদের ধারনা নারীবাদ চর্চা নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক না থাকলে, সে চর্চা ক্ষেত্র বিশেষে নারীদের লুম্পেন নারীতে পরিনত করতে পারে। লুম্পেন- যে কিনা তার অধিকার আদায়ের বিষয়ে অতি তৎপর, কিন্ত তার দ্বায়ীত্ব বোধ, কিংবা করনীয় নিয়ে ততটাই বেখেয়াল। আমি অবশ্য এমন কোন হুমায়ুন আজাদ নই, যে ব্যাক্তিগত ভাবে আমার তেমন মুশকিল হয়। নারীবাদ নিয়ে আমি জানিই বা কি, বলবোই বা কি? তাই নারীবাদ মাথার উপরে তোলা থাক, আমরা ভিন্ন লাইনে আগাই...

নারী আমার নারী
এ দুনিয়ায় নারীরা এমন কোন ভিন্ন ধরনের সৃস্টি নয়, বিশেষ কোন প্রজাতি নয়, যাদের ব্যাখার জন্য পুরুষদের থেকে আলাদা কোন বিজ্ঞান বা শাস্ত্রের প্রয়োজন হবে। শরীরবৃত্তিক বা মনস্তাত্তিক বিশ্লেষনের কোন রহস্যময়তা, আধিদৈবিক বিধির প্রতি আমার পক্ষপাতিত্বও নাই। শুধু বুঝি আমাদের জগতটা ভীষন রকম পুরুষশাসিত, আর পিছিয়ে পড়া মেয়েরা সম অবস্থানে থাকা একটা পুরুষের তুলনায় একসাথে দুইটা লড়াই লড়ে—পুরুষ আধিপত্যের মাঝে নিজের জায়গা আদায় করে নিতে, আর তার পিছিয়ে পড়া অবস্থা থেকে রেহাই পেতে। তবে নারীদের নিয়ে কোন আহা উহু দেখানো, কোন লৈঙ্গিক ভেদ রেখা টানা থেকে আমাকে সতর্ক থাকতেই হবে। আত্মবিশ্বাসী এবং মর্যাদাবোধ সম্পন্ন নারীরা নিশ্চয় এ জন্য আমার প্রশংসা করবেন। বুঝতে হবে কিছু নারীবাদী লুম্পেন পয়দা করা আমাদের কারো কোন উপকারে আসবে না। নারীমুক্তি এক ইঞ্চিও এগুবে না।

ফলে কোন তত্ত্ব কথা নয়, নীতি কথা তো নয়ই। সাদা চোখে দেখা আমার চারপাশের নারীদের নিয়ে আমার যা কিছু পর্যবেক্ষন, আর তা থেকে উত্থিত কিছু প্রশ্ন...। সে গুলোই আগামীতে এখানে তুলে ধরতে চাই। তাদের জীবন সংগ্রাম, বেঁচে থাকার লড়াই কিছু একটা প্যাটার্ন যেন নির্দেশ করে। কি সেই বৈশিষ্ট্য? এটা কি বিশেষ কোন ধরনের ঝোঁক? আমার জানা নাই...।

প্রশ্নগুলো আমি তুলতে যাচ্ছি—উঠে আসা সওয়াল গুলোর জবাব খুঁজে পাওয়ার আগেই। ব্যাখা এবং বিশ্লেষনের অভিমুখ কি হতে পারে, তা চিহ্নিত করার আগেই। এমনকি যখন আমার ধারনাও নাই, উত্তর গুলোর ধরন কি হতে পারে!! সবাই কে নিয়ে সেই প্রশ্ন গুলোর উত্তর খোঁজা—একটা গ্রহন যোগ্য ব্যাখা দাঁড় করানো। আমার মনে হয়েছে, এক্ষেত্রে সেরা পন্থা হবে সেটাই...। আপনাদের অংশগ্রহন চাই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28935743 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28935743 2009-04-09 14:12:19
এ রুচি বিকৃতির শেষ কোথায়??? (সাময়িক পোষ্ট) Click This Link নামক এই ব্লগারের পোষ্টে মন্তব্যের নামে যে পারভারশন চলছে তা মডারেটরগন কি মাত্রার তৃপ্তির সাথে উপভোগ করছেন!!!!

ব্লগে অশালীন শব্দের ব্যবহার নিয়ে মুখে বহুত ফেনা তোলা হয়েছে... কর্তৃপক্ষের কোন হেলদোল নাই। কোন মাথাব্যাথাও নাই। সামহোয়্যার কি ধরনের ভাষার চর্চার জায়গা হয়ে উঠছে... এ বিকৃতি রুচির অনুশীলনের শেষ কোথায়?

আমাদের পরিবেশের শালীনতা বজায় নিয়ে কর্তৃপক্ষের কিছুই করার না থাকলে, অন্ততঃ আমাদের বিব্রতকর পরিস্থিতে ঠেলে দিয়েন না। কমসে কম বিভিন্ন মাত্রার এক্স চিহ্ন দিয়ে একটা রেটিং চালু করেন- অথবা প্যরেন্টাল কন্ট্রোল জাতীয় ফিল্টার বসায়ে দেন। আমাদের ইজ্জত আমরা নিজেরা বাচাই, বিবমিষা বোধ থেকে রেহাই পাই।

আমাদের সমাজ কিন্তু আসলেই এত পারভার্ট নয়, যতটা এই সামহোয়্যার দিনের পর দিন হয়ে উঠছে...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28935096 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28935096 2009-04-08 01:05:22
দিকশুন্যপুরের মায়ার জগতঃ যেথায় বসত করে শীর্ষ ব্লগারকুল
বনশ্রীতে আমার প্রতিবেশি কামরান ভাই সামহোয়ারইনের একজন প্রথম সারির ব্লগার। সিরিয়াস টাইপের এই ব্লগারের অনেক পরিশ্রমলব্ধ এবং গবেষনামুলক পোষ্ট সামহোয়ার এর ফার্স্টপেজ কে এযাবৎ সমৃদ্ধ করেছে এবং উল্লেখ করা দরকার, তার অধিকাংশ লেখাই যথেষ্ট পাঠকপ্রিয়। এভারেজ যে কোন পোষ্টেই তিনি শতাধিক মন্তব্য স্বাভাবিক ভাবেই পেয়ে থাকেন। ব্যক্তিজীবনে গার্মেন্টস, সুতা এ সবের ব্যাবসার সাথে যুক্ত কামরান ভাই একজন সফল ব্যবসায়ী। কিন্ত উনি যে একজন পরিস্কার চিন্তার লোক, তার লেখালেখি পরলে যে কেউ তা অনুভব করতে পারেন।

বনশ্রী প্রকল্পের বাসিন্দাদের সামনে আজ মহা দুর্দিন। বিকালে মিট দ্য প্রেস নামের এই অনুষ্ঠানে ডাকা হয়েছে সাংবাদিকদের, আর তাদের সাথে ডিল করার জন্য প্রকল্পে বসবাসরত বাসিন্দা, যারা বিভিন্ন মিডিয়ার (প্রেস, ইলেক্ট্রনিক ইত্যাদি) সাথে যুক্ত, তাদের দ্বায়ীত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা উপস্থিত জাতীয় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে একটা জনমত তৈরীর চেষ্টা চালাবেন। মিডিয়ার সহানুভুতি আদায়ের চেষ্টা করবেন। অল্টারনেটিভ মিডিয়া—ব্লগের সাথে যুক্ত হিসাবে কামরান ভাই ও এসেছেন, তার ভুমিকা পালনের জন্য। এখানে ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আরও কয়েকজন ব্লগার, ভার্চুয়াল চরিত্র না হলে হয়তো আরও বেশি সংখ্যক ব্লগারদের সেখানে চোখে পড়তো।

রামপুরার বনশ্রী প্রকল্পের মাঝখান দিয়ে যে খাল চলে গেছে তার অপর পারে আফতাবনগর প্রকল্প। আমরা যারা বনশ্রী প্রকল্পের বাসিন্দা, গত তত্ত্বাবধায়কের আমলের সময়টা কেটেছে বিস্তর তকলিফের ভিতর দিয়ে। গ্যাঞ্জামটা হলো এই খাল নিয়া, সরকারের তরফ থেকে অভিযোগ, মুল প্লানে খাল যেভাবে ছিল, পরবর্তীতে তার অনেক খানি অবৈধ ভাবে ভরাট করে ফেলা হয়েছে।

অভিযোগ তুলেই শেষ নয়, একদিন সকালে দেখি ড্রেজার এসে সেই খাল উদ্ধারের নামে খালের পাশের মাটি কাটা শুরু করে দিছে। জায়গাটা আফতাবনগর প্রকল্পের ডি আর ই ব্লকের মাঝামাঝি জায়গায়। চমৎকার সমতল ভরাট জমি, সীমানার জন্য খুটি দিয়ে চিহ্নিত করা। বাড়ীর প্লান নিয়ে মালিকরা রেডী, বাড়ি বানানো শুরু করবেন বলে—ঠিক এ সময় সরকারের এমন বাধা। প্রকল্পের অধিবাসিরা ড্রেজারের এই হামলা আর প্রকল্পের মাটি কেটে ফের খাল বানানোতে যার পর নাই হতাশ এবং আতঙ্কিত তাদের বিনিয়োগের ভবিষ্যত নিয়ে।

আমার অবাক লাগছিল যে বনশ্রী প্রকল্পে মিডিয়ার এত লোকজন বসবাস করেন? তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন টেলিভিশনের কল্যানে রীতিমতো পরিচিত মুখ। প্রায়শই টকশোগুলোতে তারা আবির্ভুত হন-দর্শকদের উচি্ত অনুচিত বোধে নতুন নতুন শান দিতে। আরও কয়েকজন দেখলাম যাদের আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনি, প্রিন্ট মিডিয়ায় আছেন। পত্রিকার উপসম্পাদকীয়তে তাদের মতামত দৃঢ় ভাবে ব্যক্ত করেন। বিভিন্ন দৈনিকে তাদের শানিত যুক্তি পাঠকদের নতুন সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থী, সংবেদনশীল তরুন বুদ্ধিজীবিদের চিন্তার নতুন খোরাক যোগায়।

পরদিন বিকালে কামরান ভাইএর সাথে আবার দেখা কিংস এ বন্ধুদের সাথে কফি খেতে গিয়ে। পেছনের খোলা জায়গায় ছাতার নিচে বসে—কফির কাপ আর সামনে খোলা ল্যাপটপ। নিজের মনে কাজ করছেন কামরান ভাই।

ইতিমধ্যে আমি সহ অন্যান্য উপস্থিত ব্লগাররা সবাই জেনে গেছি—গতকাল মিট দ্য প্রেস এ মিডিয়ার লোক হিসাবে প্যানেলে নাম থাকা সত্ত্বেও কামরান ভাইকে শেষ পর্যন্ত স্টেজে ডাকা হয় নাই, কথাও বলতে দেওয়া হয় নাই। কামরান ভাই রেডী হয়ে ছিলেন, একটা পেপারও তৈরী করেছিলেন। রাতে অবশ্য সচিব সাহেব ফোন করেছিলেন—উনাদের সময়ের একটু টানাটানি ছিল, আর অলটারনেটিভ মিডিয়া টার্মটি নাকি তাদের মধ্যে একটু দ্বিধা তৈরী করেছিল, কামরান ভাইকে না ডাকাটা মোটেও তাদের ইচ্ছাকৃত ভুল নয়- ব্লা ব্লা ব্লা...

সন্ধ্যায় কামরান ভাই এর সাথে বাসায় ফিরছি-ঘুরে ফিরে গতকালের প্রশঙ্গ উঠতেই কামরান ভাই বললেন—আমার একটা বোধোদয় হয়েছে, বুঝেছো?
—ব্লগারদের জন্য এটা খুব শকিং... আমি মন খারাপ করে বলে উঠি।
—শকিং তো বটেই, তবে আমি মনে করি এই শকের খুব দরকার ছিল, বিশেষ করে যারা নিজদের সেলেব্রিটি ব্লগার ভাবি। আমাদের একটু হুঁশে আসা উচিত সবাই কে। তুমি ভেবে দেখ, বাংলা ব্লগে এখন কারা রাজত্ব করে? মেইন স্ট্রীম মিডিয়াতে তাদের অবস্থান কোথায়? আমরা ব্লগাররা কোন মুর্খের স্বর্গে বসবাস করছি, আমরা কি তা টের পাচ্ছি?

সাধারন মানুষের মধ্যে মিডিয়ার প্রভাব খুব জোরালো ভাবে কাজ করে। নতুন নতুন যুক্তি আর বাস্তবতা সে পায় মিডিয়া থেকে। শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভা কতটা দক্ষ, শেখ রেহানার রাজনীতিতে আশা উচিত কিনা? বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে গিয়ে ঠিক করেছেন নাকি তার নির্বাচন বয়কট করা উচিত—ভাবনার পক্ষে বিপক্ষের যুক্তিগুলো মিডিয়াই তাকে যোগান দেয়। একেকটা সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয় বা কলাম কখনও কখনও পুরা জনমতটাকেই উলটে দেয়। টেলিভিশনের একটা টকশোই হয়তো ঠিক করে দেয়--ডঃ ইউনুসের রাজনৈতিক দল বানানো উচিত নাকি উচিত না। ট্রানজিট চুক্তি নিয়ে ভারতের উদ্দেশ্যকে বিশ্বাস করা যায় কিনা?

প্রিন্ট মিডিয়া বা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার তুলনায় বাংলা ব্লগ বয়সে নবীন আর সুযোগ-সুবিধার দিক অনেক এগিয়ে থাকা মাধ্যম। সহজ যোগাযোগ, একই সাথে ইন্টার-এ্যকটিভ হওয়ার সুবিধা থাকার জন্য অবশ্যই তা বেশি প্রভাবশালী এবং সে হিসাবে মানুষের মধ্যে প্রতিফলিত তার সে প্রভাব সুদুর প্রসারী হওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাব্লগের এমন কোন ব্লগ অথবা ব্লগারকে আমরা কেন দেখি না—জনগনের মতামতকে বদলে দিতে তা নুন্যতম ভুমিকা পালন করতে পারছে? অথচ বাংলা ব্লগের আলোচ্য বিষয় বস্তু তো সেই একই ধরনের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়েই, প্রিন্ট মিডিয়া বা টিভি মিডিয়াতে যা আলোচ্য। মেধার বিষয়টা পরিমাপ করা মুশকিল, কিন্ত প্রিন্ট মিডিয়া বা টিভি মিডিয়ার কন্ট্রিবিউটারগন কি আমাদের সেরা মানের একজন ব্লগারদের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করেন, বেশি গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করেন? আমার তা মনে হয় না। আমাদের শীর্ষ ব্লগারদের অনেকেই আছেন—যাদের একটা পোষ্ট পড়লেই বোঝা যায়—সেটা দাঁড় করাতে কি ধরনের পুর্ব-প্রস্তুতি, অনুসন্ধান, গবেষনা বা ডিটেলস নোটস নেওয়ার প্রক্রিয়া চালাতে হয়েছে।

ফলে বাস্তবতার দিক থেকে, বাংলা ব্লগের- এমনকি শীর্ষমানের ব্লগাররাও এখনো পর্যন্ত সমাজে নাড়া দেওয়া দূরে থাক, যে কোন ইস্যুতে ঢেউ তোলার ক্ষমতাটাও রাখেন না। সমাজের কোন স্তরেই তার বক্তব্য, অবস্থান বিন্দুমাত্র ছাপও ফেলে না।

অথচ মেধা দক্ষতা বা কমিটমেন্টের সিরিয়াসনেস কোন দিক থেকেই তার কোন ঘাটতি নাই। চমকে দেওয়ার মতো ব্লগ, ভাবনার নতুন মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া বক্তব্য-- হামেশাই ব্লগের প্রথম পৃষ্ঠা দখল করে রাখে।

নিজের বানিয়ে নেয়া এক টুকরা জগত, যা শুধু মেলে দিকশুন্যপুরের মায়ার রাজ্যে, একটা অলীক ফানুষ, যা বাস্তবতার কোন স্তরেই অবস্থান করে না। নেভিগেশন সিস্টেম যার তত্ত্বতালাশ করতে পারে না—আমাদের শীর্ষ ব্লগাররা কি সেই মিছামিছির রাজত্বে নিজকে অধীশ্বর হিসাবে ভেবেই পুলকিত হতে থাকেন?

আমি জানি না, বাংলা ব্লগের ব্লগারদের প্রতি এ সমালোচনা কেউ তুলেছেন কিনা, কিন্ত আমি নিশ্চিত ততদিন পর্যন্ত কারও অপেক্ষা করাও কোন সুবিবেচনা নয়। তার আগেই আমাদের মেধা আমাদের সক্রিয়তা নিয়োজিত করা উচিত-কি ভাবে বাংলা ব্লগকে আমরা গনচরিত্র দিতে পারি, এর ব্যাপ্তি বাড়িয়ে—কি ভাবে আমরা কয়েক হাজারের নিয়মিত এক পাঠক শ্রেনী সৃষ্টি করতে পারি। নতুন ব্লগার/পাঠকদের জন্য বন্ধুভাবাপন্ন এক আবহ তৈরী করতে পারি। জীবনের যে কোন ক্ষেত্রে যে কারো কাছে বাংলা ব্লগকে কোট করতে পারি। রেফারেন্সের জন্য লিঙ্ক দিতে পারি। কোন শিক্ষক অথবা বয়োজেষ্ঠ্য কাউকে বলতে পারি—সামহোয়্যারে অমুক বিষয় নিয়ে একটা প্রাণবন্ত বিতর্ক হচ্ছে, [বাস্তবে অনেক সময়ই যেটা হয়] আপনি ভিজিট করতে পারেন।

আগামী দিনের দিক নির্দেশনা বাংলাব্লগ থেকে আসবে নাই বা কেন??

ফলে, হে শীর্ষ ব্লগারগন, বাংলা ব্লগে আপনি নিঃসন্দেহে সেরা মানের ব্লগার, আপনার নিজস্ব জগতে আপনিই অধীশ্বর... কিন্ত আত্মপ্রশাদ উপভোগের কোন জায়গা এখনো নাই—যতদিন বাংলা ব্লগ মিডিয়ার মুল স্রোতে তার যথাযোগ্য স্থান না করে নিতে পারছে? বাকি অন্যান্য মিডিয়ার সাথে সমান তালে না চলতে পারছে?

নিজদের শ্রেষ্ঠত্ব উপভোগ করতে চাইলে চোখ কচলে উঠে দাড়ান, নিজ নিজ মায়ার জগত ভেঙ্গে ফেলুন, অনেক কাজ বাকী রয়ে গেছে...

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28926174 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28926174 2009-03-18 20:45:01
বসুন্ধরা সিটিতে আগুনঃ ক্যামেরায় তোলা কিছু ছবি দেখুন
জানানো দরকার, আমার ছবি তোলার হাত খুব পাকা নয়, এমন কি আমার ক্যামেরাটাও খুব উচ্চ মানের নয়। এটা হলো লুমিক্স এর একটা অর্ডিনারী ভার্সন।

আমি ছবি গুলো নিয়ে বর্ণনামুলক কিছু লিখতে চাই না। কোন ক্যাপশনও নয়।
























ধন্যবাদ সবাইকে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28923932 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28923932 2009-03-13 23:13:14
বায়োজিদ বোস্তামী (রাঃ)'র পবিত্র পুকুরে কচ্ছপ হয়ে কতো বছর সাঁতরালে, পন্ডিতি দেখানোর লাইসেন্স মিলে...??
ভেবে দেখলে এমনিতে কচ্ছপের আয়ু অনেক বেশি, সাধারন ভাবেই তারা প্রায় ১০০ বছরের ওপরে বাঁচে। ফলে কচ্ছপগুলির বয়সজনিত ভক্ত আশেকানদের দাবী আমি ভক্তি ভরেই মেনে নেই, আর তাছাড়া আমি ভিন্ন কারনে এই কচ্ছপগুলার ওপর কৃতজ্ঞও বটে। প্রায় কয়েকশত বছরের পুরাতন এই মাজার এবং তৎসংলগ্ন এলাকার উন্নয়ন নিয়ে এখানে ফি বছরই অনেক পরিকল্পনা নেয়া হয়। এলাকার প্রবীন বুজুর্গ ব্যাক্তিগন তাতে সামিল হোন। এক হিসাবে পুরা মাজার এলাকায় জীবিত প্রানীর মধ্যে এই কচ্ছপগুলোই সবচেয়ে প্রাচীন, মাজারের শুরু থেকে না হলেও অনেকেই আছেন প্রায় লর্ড ক্লাইভের আমল থেকে।

অথচ এমনটা কখনো শুনা যাই নাই, তাদের কেউ কোনদিন মাজার উন্নয়ন কমিটির বৈঠকে গিয়ে টেবিল চাপড়ে বলেছেন—হেই মিয়া, এইসব পন্ডিতি ছাড়েন...। আমরা আপনাদের চেয়ে অনেক বেশি দেখছি, হটাৎ কইরা পন্ডিত হইয়েন না।

বোস্তামীর পবিত্র পুকুরে প্রায় তিনশত বছর ভেসে ভেসে পার করে দেওয়া বোদ্ধা কচ্ছপকুল এমনটা দাবী করতেই পারতো—তা যে তারা করেন নাই, ফলে কচ্ছপকুলের ওপর আমি যার পর নাই কৃতজ্ঞ।

সামহোয়্যারের দিকে তাকায়া দেখেন কেউ কেউ আমাদের এটাই বোঝানোর চেষ্টা করছেন, সামহোয়্যারের ভবিষ্যতে কোন দিকে যাবে এটা নিয়ে কথা বলার একমাত্র দাবীদার বোস্তামীর মাজারের বয়োবৃদ্ধ কচ্ছপকুল—যেহেতু একমাত্র তারাই শুরু থেকে এটার সাথে আছেন এবং তারাই যথেষ্ট আগামী দিনের বিষয়ে কথা বলার। নতুন কোন ব্লগার এবং তাদের নতুন চিন্তার আগমন এখানে নিষিদ্ধ।

মাত্র কয়েক মাসের সিনিয়ার বড়ভাই এর সামনে সিগারেট খাওয়ার অপরাধে শিষ্টাচার শিক্ষা দেওনের ক্যচাল সম্ভবতঃ শহরের এনলাইটেড এলাকার বাইরে এখনও বিদ্যমান। জেষ্ঠতা মানেই দ্বিধাহীন শ্রদ্ধার এ অপসংস্কৃতি আমরা এখনো পুরা দূর করতে পারি নাই, সীমিত ভাবে কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, ক্যাডেট কলেজ গুলোতে এখনো শোনা যায় এ ধরনের সিনিয়ারিটি বেসড র‌্যাগিং এর ঘটনা। সাম্প্রতিক সময়ে আর্ট ইনষ্টিটিউটের ঘটনার দিকে যদি আমরা তাকাই, যেখানে শুধু সিনিয়ার হওয়ার কারনে কেউ কেউ আপারহ্যান্ড নেওয়ার চেষ্টা করেছিল, যার বহিঃপ্রকাশ আমরা সেখানে দেখেছিলাম র‌্যাগিং এর মাধ্যমে। প্রবীণ বয়োবৃদ্ধ কচ্ছপদের এই র‌্যাগিং কি আমরা সামহোয়্যারেও চলতে দিবো?

জুনিয়রদের র‌্যাগিং করার সংস্কৃতি পয়দা হওয়ার যাবতীয় উপাদান, সামহোয়্যারে বহুদিন ধরেই বিদ্যমান, আমরা সেটা খেয়ালও করি, কিন্ত মাথা ঘামাই না। একজন ব্লগার কবে সামহোয়্যারে এসেছেন, এ যাবৎ কয়টা পোষ্ট দিয়েছেন আর মন্তব্য কয়টা পেয়েছেন—তা দিয়েই কি কোন বিষয়ে তার মতামত বা রায় দেওয়ার ন্যায্যতা আমরা ধার্য্য করিনা? পুরানা ব্লগাররা হলো বাঁমুন আর নতুন ব্লগাররা শুদ্রতুল্য! বোস্তামীর কচ্ছপকুল কি সেই সংস্কৃতি সামহোয়্যারের চারপাশে জারী রাখে নাই?

গতকাল যে ব্লগার ব্লগিং শুরু করেছে, তার জীবনও গতকাল শুরু হয়েছে এটা ভাবার মতো মুর্খামি আমি কেন দেখাবো? যখন আমি নিশ্চিত না, সামাজিক জীবন-সংগ্রামে এই ব্যক্তিটির সাফল্য কি, অর্জনই বা কি। সে যদি তার এক মাস বয়সী পোষ্টে শুধুমাত্র স্বরে আ লেখে, আর মন্তব্য পাওয়ার ঘর যদি তার শুন্যও হয়, তবে সে কেন ব্লগ মহাফেজখানা থেকে আবিস্কৃত বাংলাব্লগের ভবিষ্যত নির্ধারনী সেই অসাধারন পোষ্টে মন্তব্য করতে পারবে না? এটা নিয়ে কোন পন্ডিতি সুপারিশ দিতে পারবে না?

কয় বছর বোস্তামীর পুকুরে সাঁতার কাটলে পন্ডিতি দেখানোর লাইসেন্স পাওয়া যায়—এটা তো সামহোয়্যারের নীতিমালার কোন ধারাতেই উল্লেখ নাই। এ আলোচনা তুললে কচ্ছপ সাহেবদের এটা নীতিমালার বাইরের কোন বিষয়, যা কিতাবী স্টাইলে তোলা হয়েছে, এমন তো মনে হতেই পারে।

প্রায় তিনশ বছরের পুরানো কচ্ছপদের হাত থেকে জেষ্ঠ্যতা নিয়ে র‌্যাগিং এর এই সংস্কৃতিকে আমাদের উপড়ে ফেলতেই হবে। নতুন ব্লগারদের জন্য র‌্যাগিং এর এই সংস্কৃতি এক ধরনের প্রতিকুলতা। তারা এতে কমফোর্ট ফিল করে না। ব্যাপক সংখ্যক নতুন অনাগত ব্লগার, যাদের অনেককে এখনও আমরা হয়তো এমনকি পাঠক হিসাবেও পাই নি, তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে গেলে আমাদের দরকার প্রত্যেকটা ব্লগার যে একই মাত্রার অধিকার ভোগ করে এটা জোর দিয়ে বলা, বারবার বলা। গনতান্ত্রিকতার সেই চর্চা করা, যা আমাদের জেষ্ঠ্যতা নিয়ে র‌্যাগিং এর কুৎসিত অপসংস্কৃতিকে পরাজিত করবে। গনতান্ত্রিক পরিবেশ, নতুনদের বিকশিত হবার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সমানাধিকারের এই অনুশীলন করার পন্থা নীতিমালায় না থাকতেই পারে। কিন্ত ব্যক্তির সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে নেওয়ার মনোভাবকে যদি আমাদের অনুশীলনের অংশ করে তুলি, অগনতান্ত্রিকতার বিনাশ আমরা এই ব্লগেই করতে পারবো।

অগনতান্ত্রিকতার চর্চা শুধু জুনিয়ারিটি বা সিনিয়ারিটি নিয়েই নয়, এই চর্চা আরও আছে। দশজন এক জায়গায় জড়ো হয়ে আমরা যে সমাজ সৃষ্টি করি, তা পরিচালিত হওয়ার সব খুটিনাটি আমরা নীতিমালায় রাখি না, তা সম্ভবও নয়। মডারেশনের মধ্য দিয়ে এই নীতিমালার বাইরেও আমরা প্রাত্যহিকতায় এমন কিছু নর্ম চালু রাখি যা আমাদের ক্রিয়াশীল রাখে।

মডারেশন অর্থ অবশ্যই গলা টিপে ধরা নয়, এটা এক ধরনের গাইডলাইন, অনেকটা হাইওয়েতে কালো রাস্তার মাঝখানে টেনে দেওয়া সাদা দাগের মতন। বেশি ডাইনে চলে যেওনা, বেশি বাঁয়েও না, চেষ্টা করো ভারসাম্য বজায় রাখতে। এটাই হলো মডারেশন, যা শুধু ব্লগ কর্তৃপক্ষ নয়, আমরাও নিরন্তর ব্লগে আমাদের মন্তব্য, সমালোচনার মধ্য দিয়ে জারী রাখি, কখনো প্রশংসার উৎসাহ দিয়ে, কখনো সমালোচনার নিন্দা দিয়ে। ব্লগে যে কোন পোষ্টে ব্লগারের অবস্থান যদি আমাদের কাছে সামাজিক মুল্যবোধের গ্রস ভায়োলেশন মনে হয়, তবে মন্তব্য, সমালোচনা করার মধ্য দিয়ে আমরা তা নিরুৎসাহিত করি, ব্লগারও এতে সতর্ক হয়ে যান, তার লেখার সীমানা নিয়ে সচেতন হোন। ফলে এটা নিয়ে আমরা নিশ্চিত, মডারেশনবিহীন ব্লগ আসলে একজিস্ট করে না, কর্তৃপক্ষ অথবা সাধারন ব্লগার- মডারেশনের কাজটা কাউকে না কাউকে করতেই হয়।

সামহোয়্যারের ইতিহাসে আর এক মডারেটরের অস্ত্বিত্ব আমরা দেখেছি নিকট অতীতে। ব্লগে কি লেখা উচিত, কি ভাবে লেখা উচিত তার নির্দেশ এসেছে লাল নীল বিভিন্ন নামে সৃষ্টি মাসল দেখানো সেই গোষ্ঠি গুলোর কাছ থেকে। সাধারন ব্লগার কোন বিষয়ে তাদের মতামত চিন্তা ভাবনা প্রকাশ করতে পারবে কিনা, তার সনদ-স্বীকৃতি তাকে আগে গোষ্ঠির কাছ থেকে অর্জন করতে হয়েছে। নবীন ব্লগারদের আনুগত্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ন হতে হয়েছে। সামহোয়্যারের ইতিহাসে মডারেশনের এই অভিজ্ঞতাও আমরা সম্ভবতঃ ভুলে যাই নাই। আমরা স্মরণ করতে পারি- এই ধরনের মডারেশন সব সময়ই নির্ভর করেছে-গোষ্ঠীর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্লগার এর তুল্যমুল্য সম্পর্কের উপরে। গোষ্ঠীর অধিপতিরা তাদের প্রভাববলয়ের মাঝখানে বসে নতুন ব্লগারদের স্বাধীন চিন্তাকে নিয়ন্ত্রন করতে চেয়েছেন। তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশিত পথে আনতে চেয়েছেন, ব্লগারদের ব্যাখা বক্তব্যের সীমানা টেনে দিয়ে, প্রগতি-প্রতিক্রিয়ার সংজ্ঞা নির্ধারন করে দিয়ে—সর্বোপরী দেশপ্রেমের তকমা দেওয়ার একমাত্র শীলমোহরটি মুঠোর মধ্যে নিয়ে দন্ডমুন্ডের কর্তা হয়ে তাদের মত করে ব্লগ মডারেশনের কাজটা তারা এই ব্লগে জারী রেখেছিলেন।

ফলে সাধারন ব্লগাররা মনে করে মডারেশনের প্রয়োজন যেহেতু আছেই- ফলে এই কাজটা ব্লগ কর্তৃপক্ষের ওপরই ন্যাস্ত থাকুক। কোন দলবাজ গোষ্ঠীর মেজাজ মর্জির ওপর নয়। এমনকি সারা শরীরে তিনশত বছরের শ্যাওলার মুল্য, যাদের কাছে নতুন চিন্তার তুলনায় অনেক বেশি—সেই সব পবিত্র কচ্ছপবৃন্দের কাছে ত নয়ই। এ ক্ষেত্রে সাধারন ব্লগার বা অংশ গ্রহনকারীরাই যথেস্ট, গনতান্ত্রিকতা আর সমানাধিকারের চর্চার মাধ্যমে ব্লগ কর্তৃপক্ষের সাথে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে। তবে নিশ্চয় এটাই চুড়ান্ত নয়, বরং অন্যরা কে কি ভাবছে এক্ষেত্রে সে সব সুপারিশ আরও বেশি বেশি মাত্রায় ব্লগে আসা উচিত। বিভিন্ন চিন্তা সুপারিশের সম্মিলনই আমাদের আগামী দিনের রাস্তা দেখাবে।

পবিত্র কচ্ছপবৃন্দ আপনারাও আমাদের সাথে থাকেন-আমাদের কোন আপত্তি নাই, তবে এক্ষেত্রে আপনাদের কুঁচকে যাওয়া নাক কে সোজা করতেই হবে। নতুন চিন্তা, নতুন সুপারিশ কে ওয়েল্কাম করতেই হবে। সমানাধিকারের চর্চায় সামিল হতে হবে। নতুন ব্লগারদের জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃস্টি করতে হবে। বিশ্বাস করতে হবে আমাদের চেয়ে বহুগুন মেধাবী, দক্ষ অনাগত ভবিষ্যতের সফল এবং শীর্ষ ব্লগার ব্লগের বাইরেও বিপুল সংখ্যায় আছে।

না হলে আপনাদের ফসিলে পরিনত হওয়া কেউ রুখতে পারবে না, আপনারা নিজেরা তো নয়ই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28923295 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28923295 2009-03-12 15:08:10
হে শীর্ষ ব্লগারগণ, কর্তৃত্ব মেনে নিন... বিশিষ্ট ব্লগাররা ভুত দেখছেন! মডারেশনের ভুত!

বিস্তর মাথা ঘামিয়েও কুল কিনারা পাওয়া যাচ্ছে না কেন ১০০% নিরাপদ পোস্টও মুছে ফেলা হচ্ছে, কেন কারও কারও স্ট্যাটাস অবনমিত হচ্ছে? বিন্দুমাত্র বিরুদ্ধাচরনও কেন আগের মতো প্রশ্রয় পাচ্ছে না? এর মাঝে এমন কি ঘটনা ঘটে গেল? অকস্মাৎ কেন আমাদের ব্লগ জীবন অমসৃণ আর কঠিন হয়ে গেল।

কৃতজ্ঞতা বিশ্বস্ততা শব্দগুলার বানান কি মডারেটররা ভুলে যেতে চাচ্ছেন?

সামহোয়ারের সেই সব পাঠক প্রিয় বিশিষ্ট ব্লগারদের সঙ্গীসাথীরা (যারা নিজেরাও যথেষ্ট জনপ্রিয়) ঘন ঘন অভিযোগ তুলছেন—তারা ইদানীং ব্লগ কর্তৃপক্ষের কাছে যথেষ্ঠ মাত্রার গুরুত্ব এবং সম্মান পাচ্ছেন না। জনপ্রিয় বাংলা ব্লগ হিসাবে সামহোয়ারের আজকের এই অবস্থানে উঠে আসার পিছনে এই সব শীর্ষস্থানীয় ব্লগারদের যা অবদান, ব্লগ কর্তৃপক্ষ আজ তা ভুলে যেতে চাইছেন—উপেক্ষা করতে চাচ্ছেন। তাদের ঘাম ঝরানো শ্রম আর নিষ্ঠা আজ ব্লগ পরিচালকদের কাছে হয়ে উঠছে মুল্যহীন। ক্রুদ্ধ ব্লগাররা অভিমানে আহত হয়েছেন—এই ক্রোধ আরও পুঞ্জিভুত হলে কেউ কেউ নিজ নিজ একাউন্ট ক্লোজ করে সামহোয়ার ছাড়ার ঘোষনাও দিচ্ছেন। ব্লগ কার্যক্রমে সাময়িক যতি টেনে সীমিত করে ফেলেছেন সক্রিয়তা। ব্লগ কর্তৃপক্ষের সাথে মুখোমুখি সংঘাতের চরম মাত্রায় পৌছে গেছেন—ক্ষুব্ধ অপমানিত আর হতাশ এই সব বিশিষ্ট ব্লগার বৃন্দ।

বিশিষ্ট ব্লগারদের কেউ কেউ সুন্দরবনের বাঘ বাঁচাও প্রকল্পের মতো এ সমস্ত তারকা ব্লগারদের সংরক্ষনের দাবীতে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী তুলেছেন ব্লগের সম্পদ এ সব ব্লগারগন যেন কিছুতেই নিষ্ঠুরতার শিকার না হোন, এমন কোন পরিস্থিতি যেন উদ্ভব না হয় যা এই সব ব্লগারদের কুসুমকোমল অনুভুতিকে আহত করে। কারন তা তাদের সৃজনশীলতা কে খর্ব করবে, চুড়ান্ত অর্থে তাদের অবদান থেকে বঞ্চিত হবে সামহোয়্যার।

হিসাব দেওয়া হচ্ছে কোন কোন বিশিষ্ট ব্লগারদের শুন্যস্থান পুরন করতে কয়েক গুনিতক নতুন ব্লগারও যথেষ্ট নয়...।

আমি কিন্ত ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সামহোয়ার ইন আজ যে জায়গায় এসে পৌছেছে তার পিছনে কিছু ব্লগারদের (বিশেষ করে যারা প্রথমিক দিনগুলোতে সক্রিয় ছিলেন)একটা বিশাল অবদান অবশ্যই আছে। তারা নিজেরা ক্রিয়াশীল থেকেছেন, পরিচিত বন্ধুদের ডেকে এনেছেন, ব্লগ জিনিষটার সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন, ব্লগ লেখায় উৎসাহ দিয়েছেন, ধৈর্য্য নিয়ে মন্তব্য করেছেন, প্রানবন্ত বিতর্ক দানা বাধতে উদ্যোগ নিয়েছেন, পরস্পরের সাথে খুনশুটি দুষ্টুমি করেছেন—যা দেখে আবার নতুন ব্লগাররা এর সাথে যুক্ত হতে আগ্রহী হয়েছেন। এরই মধ্যে আবার কিছু কিছু ব্লগার তার নিজস্ব একটা স্টাইল, রীতি, ধারা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন এবং সহব্লগাররা বিপুল ভাবে তার পোষ্টে গিয়ে তাদের উৎসাহ উচ্ছাস জানিয়ে এসেছেন। নতুন ব্লগারদের জন্য যা ছিল একই সঙ্গে উদ্দীপনা এবং প্রনোদনামুলক। তারাও সচেষ্ট হয়েছেন নিজস্ব লেখার ষ্টাইল দাঁড় করাতে।

সামহোয়ার তার প্রাথমিক দিনগুলো ঠিক এভাবেই পাড়ি দিয়েছে বিশিষ্ট কিছু ব্লগারএর হাত ধরে। তাদের কেউ কেউ এই ব্লগ থেকে বিদায় নিলেও, অনেকেই এখনও আছেন, যারা তাদের শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টিশীলতা অদ্যাবধি সামহোয়্যারেই নিয়োজিত রেখেছেন। নিঃসন্দেহে আজকের বাংলা ব্লগ জগতে সামহোয়্যারের যে অবস্থান তার পেছনে এই সব ব্লগাররা প্রধান ভুমিকা পালন করেছেন। আর এভাবেই আজ পুরো দেশ এবং দেশের প্রান্তসীমা ছাড়িয়ে বিশাল এক বাংলাভাষী জনগোষ্ঠী এই ব্লগকে কেন্দ্র করে একস্থানে জড়ো হয়েছেন।

সেই সব শীর্ষস্থানীয় বিশিষ্ট ব্লগারদের অবদানকে ভুলে যাওয়া ঠিক কাজ হবে না।

তবে এই সব শীর্ষস্থানীয় বিশিষ্ট ব্লগারদের বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবং সে অনুযায়ী কিছু দ্বায়ীত্বশীলতার কথাও এই সুত্রে আমি তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই।

কোন সন্দেহ নাই বিশিষ্ট ব্লগারদের মধ্যে সবাই কমবেশী সুলেখক, ভাল বিশ্লেষক আর তাদের অনেকের সাংগঠনিক ক্ষমতাও প্রশ্নাতীত। সমস্যা হয়েছে- যখন বাস্তবজীবনের মতো অনেকেই তাদের এই সব গুনাবলীকে কাজে লাগিয়ে ব্লগের ভার্চুয়াল পরিবেশে নিজ নিজ প্রভাববলয় গড়ে তোলায় সচেষ্ট থেকেছেন। এরপর সেই গোষ্ঠিবলয়ের মাঝখানে বসে নতুন ব্লগারদের স্বাধীন চিন্তাকে নিয়ন্ত্রন করতে চেয়েছেন। তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশিত পথে আনতে চেয়েছেন, ব্লগারদের ব্যাখা বক্তব্যের সীমানা টেনে দিয়ে, প্রগতি-প্রতিক্রিয়ার সংজ্ঞা নির্ধারন করে দিয়ে—সর্বোপরী দেশপ্রেমের তকমা দেওয়ার একমাত্র শীলমোহরটি মুঠোর মধ্যে নিয়ে দন্ডমুন্ডের কর্তা হয়ে এই ব্লগে মৌরসি পাট্টা গেড়ে বসেছিলেন।

নবীন ব্লগারদের প্রতিক্রিয়া হয়েছিল দুই ধরনের- একদল এই আধিপত্য মেনে নিয়েছিল বিনা দ্বিধায়, এমনকি কখনও কখনও এই সাফাই গেয়েও—যে, আমার চিন্তার স্বতঃস্ফুর্ততা যদি কখনও কখনও বাঁধ ভাঙ্গা বন্যায় ভেসে যায়—কখনও যদি তা তোমার কাছে বেলাইন মনে হয়, আমার এ চপলতা মাফ করে দিও। আনুগত্যের পরীক্ষায় ফেলো না, শেষ বিচারে আমি কিন্ত তোমাদেরই লোক।

আর দ্বিতীয়দল কপালে দেশদ্রোহীর তকমা নিয়ে ব্লগে সক্রিয় থেকে তাদের নিষ্ঠার প্রমান দিয়ে গেছে। এর বাইরে খুব কম সংখ্যক লোক তাদের এই গোষ্ঠি-কর্তৃত্বকে দ্বন্দ্বে আহবান করেছে।

এই আধিপত্যকে মেনে নেওয়া এবং গোষ্ঠির অনুসারী হয়ে যাওয়াকে অনেক শীর্ষমানের ব্লগারই ন্যায্য এবং উচিত কাজ হিসাবে মনে করেছেন। চমৎকার কাব্য রচনা করেন এবং গদ্যের হাত অসম্ভব ঝরঝরে এরকম অনেক ব্লগারই দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করেন, প্রতিক্রিয়াশীল এবং ক্ষতিকারক রাজনৈতিক মতবাদের বিরুদ্ধে মতাদর্শিক সংগ্রাম চালানো কোন লড়াকু কাজ নয় বরং তা শুশীল (নেতিবাচক) পন্থা। বরং দলবেধে গালিগালাজ দিয়ে কাউকে কোনঠাসা করেই যে কোন ক্ষতিকারক রাজনৈতিক মতবাদের বিরুদ্ধে জয়ী হতে হয়।

ব্লগ কর্তৃপক্ষ এতদিন এই সব দেখেও না দেখার ভান করেছেন, মৃদু প্রশ্রয় মৃদু ভৎসনা এই মডারেশনের স্ট্রাটেজি নিয়ে ব্লগ চালিয়েছেন। কারন তখন ছিল ব্লগের দানা বেধে উঠবার প্রাথমিক কাল, ব্লগ তখন আকারেও যথেষ্ট সীমিত, ফলে সক্রিয় একদল ব্লগার এর কিছু কিছু তুঘলগি মেনে নেওয়া, এবং তা নিয়ে উদাসীন থাকতে তাদের তেমন কোন সমস্যা হয় নাই।

আমার ধারনা প্রাথমিক সেই প্রয়োজন ফুরিয়ে কর্তৃপক্ষের চোখে, সামহোয়ারের প্রেক্ষিতটা এখন বদলে গেছে। বদলে গেছে হয়তো যৌক্তিক কারনেই-- আকার এবং অবস্থান জনিত পরিবর্তনের কারনে। ব্যাপক আকার এবং বিশাল সংখ্যক ব্লগারের উপস্থিতির কারনেই, এমনকি ব্লগ কর্তৃপক্ষ এখন চাইলেও হয়তো আর আগের মতো অনেক কিছু উদাসীন ভাবে ছাড় দিতে পারে না।

যে কোন উদ্যোগের প্রাথমিকাবস্থায় অনেক বিষয়ই ইনফর্মাল থাকে, কিন্ত পরবর্তীতে তা প্রতিষ্ঠানে পরিনত হলে তাকে কিছু নর্মস কিছু ফর্মালিটি মানতেই হয়। না হলে তা আর পেশাদারী কার্যক্রম থাকে না। কর্তৃপক্ষের এই পেশাদারীত্ব নিয়ে আসা এবং মডারেশনের স্ট্রাটেজী বদলকেই শীর্ষব্লগাররা কর্তৃপক্ষের একগুয়েমী, কর্তৃত্বপরায়ণ মনোভাব হিসাবে ভুল ভাবে চিহ্নিত করতে চাইছেন।

আমার মনে হয়েছে- সামহোয়্যার ব্লগ তার পরিনত অবস্থায় পৌছে এখন আর কোন গোষ্ঠিতন্ত্রকে উৎসাহ দিতে চায় না, গোষ্ঠিতন্ত্রকে কেন্দ্র করে যে কোন ধরনের উত্তেজনা বা হানাহানিকে বরদাস্ত না করার কড়া বার্তা সে শীর্ষ ব্লগারদের কাছে পৌছতে চায়। গোষ্ঠিতন্ত্রকে বিনাশ করার তার এই স্ট্রাটেজীর বিরুদ্ধে একটা সমালোচনার অক্ষরও সে পড়তে চায় না, নিরাপদ পোস্টের কোন বিদ্রুপ তো নয়ই। এটা স্রেফ তার ব্লগ পরিচালনার নতুন কর্মকৌশল (মডারেশনের স্ট্রাটেজী)। এখন অধিক সংখ্যক নতুন ব্লগারদের জন্য যা অনুকুল সেই ধরনের স্বাচ্ছন্দ্যের পরিবেশ তারা নিশ্চিত করতে চায়।

এটা পরিস্কার, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভার্চুয়াল জগতের জন্য নিজদের আরো বেশি প্রস্তুত ও পেশাদারী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সামহোয়ার। বোঝাই যাচ্ছে তার সেই সব অনাগত ব্লগারদের জন্য অনুকুল পরিস্থিতি নির্মান করার জন্য অনেক কিছুই সে বিয়োজন করার জন্য মানসিক ভাবে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।

ফলে আমার অনুসিদ্ধান্তঃ হে শীর্ষব্লগার গন, ক্যারিয়ার ব্লগার হতে চাইলে সামহোয়্যারের কর্তৃত্ব মেনে নেন, এবং মেতে উঠেন নিত্য নতুন পোস্ট দিয়ে সৃষ্টিসুখের উল্লাসে। বিনিময়ে পাবেন আপনার এযাবৎকালের শত সহস্র মুগ্ধ পাঠক আর তাদের প্রতিক্রিয়া এবং সেই সাথে আগামী অগনিত বিপুল পাঠকের আপনার ব্লগে আগমনের নিশ্চয়তা। কোন সিরিয়াস ক্যারিয়ার ব্লগার এর কাছেই পাঠক সংখ্যা ফেলনা বিষয় নয়—ধারনা করি।

আমার সাথে দ্বিমত পোষন করলে করনীয় একটাই, সেক্ষেত্রে সামহোয়্যারকে খুদাপেজ বলেন- আর খুলে ফেলেন নিজস্ব ব্লগ স্পট। কি করবেন ভাইব্যা দেখেন- চয়েশ ইজ নাউ ইয়োর্‌স...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28922602 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28922602 2009-03-10 23:41:34
সাধারন জওয়ান—যারা আদতে উর্দি পরিহিত কৃষক, তাদের দুঃখের কথা আওয়ামীলীগ কেন বুঝতে পারলো না!!

পিলখানায় বিডিআর সদর দফতরের সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া ট্রাজেডির জন্য আমরা কাকে দায়ী করতে পারি? জরুরী এই প্রশ্ন তোলার আগে সাদামাটা কিছু আলোচনা এখানে তুলতে চাই......

দেশ চালাবে রাজনীতিবিদ, তাদের রাজনৈতিক দল--এটাই তো সবচেয়ে সঙ্গত এবং স্বাভাবিক কথা। সেটাই গনতান্ত্রিক পন্থা। আমাদের দূর্ভাগ্য, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটা সবসময় ঘটে না। যাদের হাতে দেশ পরিচালনার দ্বায়ীত্ব থাকার কথা—আমাদের সেই সব রাজনীতিবিদগন প্রায়শই এমন সব সঙ্কটে পতিত হন যে--সেনা ছাউনি থেকে বেড়িয়ে জেনারেলরা ক্ষমতার মসনদে চেপে বসেন। কেউ দুই বছর বা কেউ বা তার চেয়ে বেশি—

সাময়িক ভাবে এই ব্যবস্থা মেনে নেওয়ার পরেও আমাদের যাবতীয় রাজনৈতিক সঙ্কট আর অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার চুড়ান্ত লক্ষ্য, যাবতীয় রোডম্যাপের গন্তব্য হিসাবে আমরা চিহ্নিত করি—একটা সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ সাধারন নির্বাচন, গনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা অর্পণ। যাতে দেশ পরিচালনার দ্বায়ীত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে থাকে।

বিগত নির্বাচনে বিশাল বিপুল ভাবে জনগনের রায় নিয়ে আওয়ামীলীগের ক্ষমতায় আসার অব্যবহিত আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসাবে যারা দেশ চালিয়েছেন, তারা কেউ রাজনীতির লোক ছিলেন না। সেনা ছাউনি থেকে হয়তো তারা আসেন নাই, কিন্তু গনমানুষের দাবীদাওয়া আর তার অধিকার নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই লড়ে যাওয়ার যে রাজনীতি- তা থেকে বহুদুরের, ভিন্ন এক জগতের মানুষ ছিলেন সরকার প্রধান ফকরুদ্দিন এবং তার উপদেষ্টাবৃন্দ। তবুও তাদের শাসনামলে জনগন খুব যে খারাপ ছিল, বা প্রশাসক হিসাবে তারা যে ব্যার্থ, সে কথা জোর গলায় বলা যাবে না। তাদের অনেক অর্জন এখনো আমরা মুক্তকন্ঠে স্বীকার করি।

তারপরেও আমরা চাই না রাজনীতির লোকেরা সংকটে পড়ুক আর রাজনীতির বাইরের লোকেরা এসে দেশ পরিচালনার দ্বায়ীত্ব গ্রহন করুক। দেশ চালাবে রাজনীতিবিদগন এবং তাদের সেই রাজনৈতিক দল যাদের সাংগঠনিক শিকড় প্রত্যন্ত জনগনের মধ্যে দৃঢ় ভাবে প্রোথিত। জনগনের সমস্যা এবং তাদের চাওয়া নিয়ে সংগ্রাম লড়াইয়ের যার দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য আছে। জনগনের দুঃখ কষ্ট নিয়ে যারা ওয়াকেবহাল। এটাই আমাদের চাওয়া।

এবারের সাধারন নির্বাচনেও জনগন বিপুল ভাবে অংশগ্রহন করেছে এবং প্রত্যাশার অতিরিক্তভাবে তাদের রায় আওয়ামীলীগকে দিয়েছে। তারা সুস্পষ্টভাবেই মনে করেছে আওয়ামীলীগই হলো সেই দল-যাদের রয়েছে দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের ঐতিহ্য, যার সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে দেশব্যপি, ফলে জনপ্রতিনিধিত্ব বলতে যা বোঝায়, স্থানীয়ভাবে জনগনের মতামত সঠিক ভাবে বোঝা এবং তা সমাধানের কাজটা একমাত্র তার পক্ষেই সবচেয়ে ভাল ভাবে করা সম্ভব।

সাধারন মানুষের সমস্যা অন্য যে কারো চাইতে তারই সবচেয়ে বেশি ভাল বুঝতে পারা উচিত, জাতীয় সংসদে যার রয়েছে প্রায় ২৫০টা আসন।

নির্বাচনে অংশ গ্রহনের প্রাক্কালে এবং জেতার পরে ক্ষমতা গ্রহনের আগে যে কোন রাজনৈতিক দলই তার টপ প্রায়োরিটি ইস্যুর একটা তালিকা প্রস্তুত করে। দেশের কোন কোন বিষয় স্পর্শকাতর, কোথায় জমে রয়েছে বিস্ফোরক পরিস্থিতি, কোন বিষয়টা আশু মনো্যোগের দাবী রাখে এই সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে টপ প্রায়োরিটির সেই লিস্টে।

ডাল ভাত কর্মসুচি নিয়ে বিডিআর জওয়ানদের ক্রমশঃ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠা এবং তাদের ছুটি-ছাটা সহ আর্থিক সুবিধাদি নিয়ে তাদের অসন্তোষ কোন মাত্রায় গেছে—জনগনের রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামীলীগ তা অনুধাবন করতেই পারে নাই। বিগত তত্ত্বাবধায়কের আমলে সেনাবাহিনি এবং বিডিআর এর একটা অংশ বেসামরিক প্রশাসনের তথা জনগনের দৈনন্দিন কাজকর্মের সংস্পর্শে এসছিল, যার মধ্যে বিডিআর ছিল ডাল-ভাত কর্মসুচির মধ্যে দিয়ে পন্য আমদানি বিপননের মতো কার্য্যক্রমের সাথে জড়িত। যেখানে অর্থকড়ি টাকাপয়সার বিষয়টা এসেই যায়। যে কোন দক্ষ রাজনৈতিক দলেরই পক্ষেই এটা অনুধাবন করা সম্ভব- এসব ক্ষেত্রে সুবিধাভোগী এবং বঞ্চিত—দুইটা পক্ষের পরস্পর বিরোধি উপস্থিতি।

আওয়ামীলীগের সেই দলীয় উইং (যে কোন রাজনৈতিক দলের এ ধরনের উইং থাকা স্বাভাবিক, আমি বিশ্বাস করতে চাই আওয়ামীলীগেরও তা আছে) যা প্রতিরক্ষা বাহিনী নিয়ে ডিল করে, এটা ছিল তাদের দ্বায়িত্ব, বিডিআর জওয়ানদের ক্রমশঃ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠার বিষয়টা আমলে নেওয়া এবং দলীয় হাইকমান্ডের নজরে আনা। সাধারন জওয়ান—যারা আদতে উর্দি পরিহিত কৃষক, তারা মোটেও আওয়ামীলীগের নাগালের বাইরের কোন জনগোষ্ঠি নয়? আর পাঁচটা পেশাজীবির মতো তারাও একজন, ছুটিছাটায় দেশের বাড়ীতে বেড়াতে গেলে হামেশা যাদের সাথে আমাদের মোলাকাত হয়, যাদের সুখ-দুখ নিয়ে গপসপ হয়।

বিডিআর ইস্যু নিয়ে আশু কোন কর্তব্য, কোন করনীয় আওয়ামীলীগের টপ প্রায়োরিটির সেই লিস্টে ছিল না, বোঝাই যাচ্ছে। অথচ দীর্ঘ দিনের সংগ্রামী সেই সব পোড় খাওয়া ঝানু রাজনীতিবিদদের দল হিসাবে আওয়ামীলীগের (সংসদে যার রয়েছে প্রায় ২৫০টা আসন) এই ব্যর্থতা কি ভাবে মেনে নেওয়া যায়? এই সঙ্কট অনুধাবনে আওয়ামীলীগের যে ব্যর্থতা এবং তা ঢাকার জন্য তার বাকচাতুরি আর বাকোয়াজিকে আমরা কিভাবে মাফ করতে পারি??
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28919060 http://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28919060 2009-03-02 15:39:42