আমার প্রিয় পোস্ট
- বাঙ্গালী নেটে কি করে (১৮+ পোস্ট)
- নাফিস ইফতেখার
- কানাডায় উচ্চশিক্ষা- কিছু তথ্য - _তানজীর_
- যুক্তরাষ্ট্রে ফান্ডিং নিয়ে পড়তে আসুন -১(GMAT)। - কুম্ভকর্ণ
- বীভৎস যৌন নির্যাতন, কিন্তু এড়িয়ে গেছেন সবাই - শেরিফ আল সায়ার
- ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৩৪ (দোতলার ল্যন্ডিং,মুখোমুখি দু'জন--আহসান হাবীব)] - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- মাসুদ রানার অরিজিনাল বইসমূহ - কাকতারু্য়া
- মিলগ্রামের পরীক্ষা - কোথায় রয়েছে আদেশ, আনুগত্য, বিবেক, আর নৈতিকতার সীমারেখা? - রাগিব
- আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারের পতন ও ফাইনান্সিয়ালাইজেশানের সংকট - দিনমজুর
- পুরনো দিনের বাংলা সিনেমার গান
- জটিল
- ছবিতে কম্পোজিশনের গুরুত্ব : একটি উদাহরণ ও কয়েকটি টিপস - হাসান বিপুল
- অর্থনীতির সহজ পাঠঃ বিষয়- বিদেশি বিনিয়োগ - দিনমজুর
- ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এবং ভিন্ন ভাবনা - কাল্পনিক
- ভাইভা উপাখ্যান - কাল্পনিক
ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এবং ভিন্ন ভাবনা
০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৪৮
ঘুরে আসলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসা থেকে; আমরা ৫ বন্ধু মিলে ৩২ নম্বর ধানমন্ডিতে। নিচে বঙ্গবন্ধুর অফিসরুম দেখলাম, গুলির আঘাতে বই, চেয়ার, ছবি ফুটো হয়ে গেছে। দোতলায় গিয়ে বঙ্গবন্ধুর শয়নকক্ষে উঁকি দিয়ে দেখলাম এক সাধারন আটপৌরে বেডরুম, মধ্যবিত্ত পরিবারে যে রকম ফার্নিচার থাকে সেরকম আর কি। কোন বিলাসিতার ছোয়ার লেশ মাত্র নেই। টেলিফোন সেট দুটো ছাড়া আধুনিক কোন কিছু পেলাম না। আমার মনে হল, তখনকার গ্রামের মেম্বাররাও বোধহয় এর চাইতে আধুনিক এবং সুন্দর ফার্নিচার ব্যবহার করতো।
শেখ রেহানার ঘর ও মোটামুটি সাধারনই। কিন্তু শেখ হাসিনার ঘর কোনটা, সেতা খুজে বের করতে পারলাম না। একজন বললো সেটা নাকি রিনোভেশন (সঠিক বাংলা টা কি, মনে করতে পারছি না) এর জন্য বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
শেখ জামালের রুমে ঢুকে আধুনিকতার ছোয়া পাওয়া গেলো। বড় রুম; মনে হলো বঙ্গবন্ধু শেখ জামালের বিয়ের পর দোতলার সবচেয়ে ভালো এবং বড় রুমটি তাদেরই দিয়েছেন। শেখ জামালের স্ত্রীর বিয়ের শাড়ীটা প্রদর্শনের জন্য রাখা আছে। সেই আমলেরও হলেও, এখনো অনায়াসে নতুন ফ্যাশন বলে চালিয়ে দেয়া যাবে।
তিন তলায় উঠে যে সুন্দর করে সাজানো রুমটি চোখে পরলো সেটি শেখ কামালের। গানবাজনার শখ ছিলো, তার প্রমাণ পাওয়া যায় এটি দেখলে।
এর পাশেই ছাদের লাগোয়া ঘরটি বঙ্গবন্ধুর বিদেশি কূটনীতিকদের সাথে সাক্ষাতের রুম। তখনকার স্টাইল হিসেবে মোটামুটি মানানসই, তবে নিজের টাকায় না হোক, সরকারী টাকায় এটাকে বোধহয় আরো আকর্ষনীয় করা যেতো।
পুরো বাড়ীতে কোন ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের কাজ নেই। করলে মনে হয় খারাপ হত না। তবে সাধারন আটপৌরে এই বাড়ীতে প্রবেশ করলে মনটা যে কিছুক্ষনের জন্য হলেও অসাধারন হয়ে যায়, তা অস্বীকার করা যাবে না।
ক্যামেরা নিয়ে ঢোকা নিষেধ, তাই ভিতরের ছবি তোলা হলো না। বাইরে থেকেই ছবি তুলে ফেরার পথ দেখতে হলো।
মুজিব কিংবা জ়িয়া দুজনই বিতর্কিত, কেও কম, কেও বেশি, এই যা। বঙ্গবন্ধু বাকশাল এর জন্য যেমন বিতর্কিত, তেমনি সন্তানের ব্যাঙ্ক ডাকাতি, কারো বিবাহিত স্ত্রীকে উঠিয়ে নেয়া কারনেও তাকে বদনাম মেনে নিতে হয়েছে। আবার জিয়া ৭৫ এর বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা, অসংখ্য সামরিক সদস্যকে হত্যার দায়ও তাকে নিতে হবে। কে ভালো আর কে মন্দ সেটা যে যার বিবেক থেকে সিদ্ধান্ত নেবে, কিন্তু আমার বঙ্গবন্ধুর যাদুঘর দেখে এটাই মনে হলো যে, আমাদের এখনো কিছু শেখার বাকী। সাধারন মানুষের মতো চলতে ফিরতে শেখাটাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। আব্রাহাম লিঙ্কনের “জনগনের জন্য সরকার” কথাটা আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের মাথায় কি ঢুকবে?
বিঃ দ্রঃ আমি জামাতী না এবং হাসিনা-খালেদা কাউকেই সাপোর্ট করি না! দেখি, নেক্সট টাইম উপদেস্টা হওয়ার ইদূর দৌড়ে শামিল হবো ভাবছি। দোয়া করবেন!!!
(না করলে SomeWhreIn Blog কে দেশের শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার জন্য বন্ধ করে দেব, কিন্তু!)
লেখক বলেছেন: ভাই হমপগ্র, আমি সেন্সরশিপে বিশ্বাস করি না। তবে যদি আপনারা সবাই বলেন, তবে নিশ্চই সরাবো।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের যে দু একজনকে ভালো লাগে, বঙ্গবন্ধু তাদের একজন। আমি মানি বঙ্গবন্ধু বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম নেতাদের একজন, কিন্তু Great Leader এবং Successful Administrator এর মাঝে একটু পার্থক্য আছে, আর বঙ্গবন্ধু সম্ভবত শেষের গুনটা একটু কমই পেয়েছেন। শুনতে খারাপ লাগলেও কথাটা সত্যি।
হমপগ্র বলেছেন:
@কাল্পনিক,দেখুন দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর পর যে ইলেকশন হয়েছিলো, তাতে উনসটন চার্চিলের পরাজয় হয়। তার মানে কিন্তু তিনি ব্যার্থ এডমিনিস্ট্রেটর না। পরাজয়ের ব্যাপারে তার কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেছিলেন, "আমার দেশের মানুষ জানে, আমি যুদ্ধে ক্লান্ত, দেশ চালাতে পারবো না, তাই তাদের ডিসিশনটাই সঠিক"।
১৯৭১ সালের পরপর বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু দেশের সে সময়কার অবস্থায় দেশ চালানো সত্যি খুব কঠিন একটা ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছিলো। বঙ্গবন্ধু কোনদিকই সামলাতে পারছিলেন না। যদি এইটা বাংলাদেশ না হয়ে ইংল্যান্ড হতো, তাহলে তিনি পারতেন, কারণ সেই দেশের মানুষ অনেক সভ্য। আর আমরা তখন বর্বরের মতই ছিলাম। তবুও তিনি সংসদ সাজিয়ে ছিলেন অনেক জ্ঞানীগুণী লোক দিয়ে। তার মানে এই যে তিনি পারছিলেনও সংকট কাটিয়ে উঠতে।
কিন্তু দেশের ছাত্ররা তখন নতুন নতুন ডাস ক্যাপিটাল পড়েছে। সবাই একেকটা লেলিন হবেন। বঙ্গবন্ধুকে সাহায্য করা তো দূরে থাক তিনি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র করছেন না কেন এই নিয়ে মারামারি শুরু করে দিলো। এইটা সামাল দিতে যাবেন ঐদিকে আর্মির সাথে মারামারি লাগিয়ে বসেন তাঁর দলের লোকেরা। কোনটা করবেন? আর এইসব দেখতে গিয়ে অর্থনীতিটার বারোটা বাযে। সেই সময়কার অর্থমন্ত্রী মহদোয় কি করছিলেন? তার কোন দ্বায়িত্ব নেই। সব কী মুজিবই করবেন। তার উপর তাঁর ছেলে ছিলো একটা জানোয়ার। যা খুশি করা শুরু করলো। আপনি বলুন এই পরিস্থিতি কে সামাল দিবে একা হাতে।
যাই হোক। বাঙ্গলার তথা বিশ্বের নন্দিত এই নেতাকে আমরা না ঘাটি। তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের জায়গাটিতে থাকুন। আমরা তাঁকে কোনদিন ভুলব না।
নরাধম বলেছেন:
হমপগ্র/ইমরোজ, আপনার কমেন্টের সাথে একমত। সময়ের সাথে সাথে জাতির জনকের শ্রেষ্ঠত্ব বাড়তেই থাকবে।
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
+
এস্কিমো বলেছেন:
১৯৯০ সাল পর্যণ্ত প্রচার কার হয়েছিলো বঙ্গবন্ধু এক ধরনের মানুষ। কিন্তু ৯২ সালে যখন এই বাড়িটি দেখতে যাই, লজ্জায় আর কস্টে মাথা নীচু করে বের হয়ে এসেছিলাম। একজন "রাখাল রাজা" কে আমরা হত্যা করেছি? ছি:
একজন শেখ মুজিবের জন্ম হওয়ার জন্যে হয়তো বাঙালী জাতিকে শত বর্ষ অপেক্ষা করতে হবে।
---
পোস্টের অধিকাংশ মূল্যায়নের সাথে একমত না - তারপরও পোস্টের জন্যে ধন্যবাদ।
মামু বলেছেন:
এত সাধাসিধা জীবন যাপন করত আর উনার ২মেয়েকে লন্ডন রাইখ্যা পড়াশুনা করানোর টাকা কই পাইত? মুজিবের বাবা তো জমিদার চিল না....উনার আয়ের উৎস কি ছিল? মুজিবের বাবা তো কোর্টের একজন সাধারন পেশকার ছিল.....
কোন পার্টি কি কারো বেতন বা টাকা দেয়....
হাসিনার টাকার উৎস কি চিল যে জয় কে বিদেশ রাইখ্যা পড়াশুনা করাইতো....
এই প্রশ্নগুলার উৎতর আজও পাওয়া গেল না....
সবাই খালি খুজে মইন ইউ এর পুলা ক্যামনে বিদেশে পড়া লিকা করে....এত টাকা কই পায়?
লেখক বলেছেন: মামু, প্রশ্নটা শুধু বঙ্গবন্ধু বা হাসিনা নয়, খালেদা (ভাঙ্গা স্যুটকেস থেকে বিলিওনিয়ার!), এরশাদ সহ দেশের সকল ধনী (ব্যবসায়ী বা চাকরীজীবি) এবং রাজনৈতিক নেতাদের কাছে জানতে চাওয়া উচিত।
চালের দাম যত
লেখক বলেছেন: ...চালের দাম যতদিন সহনীয় ছিলো মইন সাহেবকে ভালো লেগেছে, এখন আর ভালো লাগেনা। আর তাছাড়া উনি দেশের জন্য এই সময় যাই করছেন, সেটা এক ধরনের নিরব সামরিক অভ্যুথ্যান। চোরের মাল বাটপাড়ে খায়, হাসিনা-খালেদা থেকে মইন ঊ আহমেদ- সন্ত্রাস ছাড়া আর বাকীসবটো একি আছে।
রিয়াজ শাহেদ বলেছেন:
ইহা একটি সুশীল পোস্ট বলিয়া মনে হইতেছে।ধুর মিয়া তোমার নাম জাভেদ এইটা জানার জন্য মাসুদ রানা হইতে হয় নাকি? লুক অ্যাট ইয়োর অ্যাড্রেস বার; হা হা হা!



















তোফায়েল, জাসদ এই সব আওয়ামীলীগাররের অসভ্য আচরণ এবং দূর্নীতির জন্য বঙ্গবন্ধুকে মরতে হয়েছিল। বাকশাল করার কারণ কী ছিল তা আমরা কেউই জানি না। তিনি নিশ্চয়ই দেশের মানুষের ক্ষতি করে কিছু করতেন না। কিন্তু বাকশালের উদ্দেশ্যে বাধা দিয়ে ছিলো, তার অসভ্য ছেলে শেখ কামালের উগ্রতা, তার স্ত্রী, তার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যারা প্রকাশ্যে দূর্নীতি করে এই মহান নেতাকে হত্যা করেছে। এবং এই নেতার সমস্ত খ্যাতি ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছে।
আজকে তোফাইয়েল সাহেব আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। হায় রে!