তুপা।১২ বছরের একটা মেয়ে,স্কুলের পড়াশোনার বাইরেও গান শেখার খুব শখ।বোকা সোকা মেয়েটা অন্যদের মতো কথা সাজিয়ে বলতে না পারলেও সত্য কথাটাই বলে ফেলে অকপটে।তুপার মা-বাবাও এইটাই পছন্দ করেন।
ইউনিফর্ম পরে স্কুলে যাওয়া আর স্কুল শেষে সপ্তাহে দুদিন গান শেখতে যাওয়াই তুপার রুটিন হয়ে উঠেছে গত ৩ বছর ধরে।এভাবেই দিন কাটে ছো্ট্ট মেয়েটার আর তুপা তার পিচ্চি বোনটাকে আদর করে আর ভাবে ও বড় হলে দুজনে মিলে গান গাইবে,তাই পিচ্চির কানে কানে তুপার গুন গুনানিও বেড়ে গেছে এখন।
১২ বছরের একটা মেয়ে,আমার ছোট্ট মা।চোখে স্বপ্ন,দিগন্ত ছাড়িয়ে যায় মাঝে মাঝে।অনেক কিছুই তার বোধশক্তিতে আসেনি এখনো অথচ এই ছোট্ট মা আমার স্কুলে প্রতিদিন যাওয়া-আসার মাঝে বাজে ইঙ্গিত আর বাজে কথার(ভদ্রলোকেরা এইটারে বলে “ইভ টিজিং”) মুখোমুখি হচ্ছে হারামিদের কাছ থেকে। এই হারামিদের কোন শাস্তি হয়না,এরা প্রতিনিয়ত এই ছোট্ট মায়ের স্বপ্নে দানব হয়ে আসছে,এদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারিনা,ভয় লাগে লাশ হয়ে যাওয়ার।এই হারামিদের শাস্তি চাই।
মেয়েটার ঘুমে ভেসে উঠে আকর্ণ মুখ খানি,অশ্লীল হাসি;ঘুম ভাঙ্গে আবার সেই ভয় সকালেই দেখা মিলবে হারামিদের।এইটাই রুটিন ওয়ার্ক। ১২ বছরের মেয়েটা এখন ঠিকই বুঝতে পারে হারামিদের অশ্লীলতা,জেদ চাপে কষে থাপ্পড় লাগাতে;পারেনা আর আমরাও বুঝি তার অসহায়ত্ব।আমরাও বুঝি তার অসহায়ত্ব!ব্যস! এইটাই আমাদের সহানুভুতি।আর এইটাই ঠিক আছে,ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর কোন মানে নেই।আর দেশপ্রেমের ডেফিনেশনেও লেখা নেই এইসব কাজের প্রটেস্ট করা!!খুব সাহসী আর খুব সচেতন আমরা,তাইনা? ধিক
বিঃদ্রঃ সংগত কারণেই ছদ্মনাম ব্যবহার করলাম,কথাগুলো আমার নয়,একজন মায়ের।আমি সেই মায়ের পক্ষে ঘটনাগুলোর অংশবিশেষ তুলে ধরলাম মাত্র।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

