১. কিউএসজেড ৯২:
এটি একটি সেমি অটোমেটিক পিস্তল। চীনের তৈরী ৭৬০ গ্রাম ওজন ও প্রায় সাড়ে ৭ ইঞ্চি দৈর্ঘের এই পিস্তলের কার্যকর রেঞ্জ ৫০ মিটার। বক্স ম্যাগজিনের তাররম্যের উপর ভিত্তি করে এটিতে কত রাউন্ড গুলি রাখা যাবে। সাধারনত ১৫-২০ রাউন্ড গুলির ক্যাপাসিটি থাকে।
২. Browning Hi-Power:
বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ উদ্যোগে তৈরী এটি অনেক পুরনো মডেলের পিস্তল। সেই ১৯৩৫ সাল থেকে আজও এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটির বহুল ব্যবহার ছিলো। ১ কেজি ওজনের এই পিস্তলের গুলির ক্যাপাসিটি ১০-১৩ রাউন্ড। এটির রেঞ্জ ৫০ মিটার। মডেল পুরনো হলেও অস্ত্র হিসেবে ভয়ঙ্কর।
৩। টাইপ ৫৪ পিস্তলঃ
এটি চীনের তৈরী একটি সেমি অটোমেটিক পিস্তল। সেই ১৯৫৪ সাল থেকে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ৪২০ মাজল ভেলোসিটি সম্পন্ন এই পিস্তলের রেঞ্জ ৫০ মিটার। এই পিস্তলের বেশ কিছু ভেরিয়েশন রয়েছে। বাংলাদেশ ডিফেন্স অবশ্য সবচেয়ে পুরনো মডেলটাই ব্যবহার করে। চীন আর বাংলাদেশেই এই পিস্তল সাধারনত ব্যবহৃত হয়।
৪। ওয়ালথার পিপিকেঃ
মাসুদ রানা যারা পড়েছেন তারা অবশ্যই এই পিস্তলের নাম শুনেছেন। হ্যাঁ এটিই বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের দূর্ধর্ষ এজেন্ট মাসুদ রানার প্রিয় অস্ত্র ওয়ালথার পিপিকে। জার্মানির তৈরী এই পিস্তল ১৯৩৫ সাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশ্বর প্রায় ২২ টি দেশে এই পিস্তল ব্যবহৃত হয়। অত্যন্ত জনপ্রিয় এই অস্ত্রের অনেক ভেরিয়েশন আছে।
৫। রেমিংটন ৮৭০:
এটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরী একটি পাম্প একশন শটগান। পৃথিবীতে এই অস্ত্রের সংখ্যা এখন দশ কোটিরও বেশি । ৩.২ কেজি ওজনের এই শটগানের ব্যারেলের দৈর্ঘ্য ১৮ ইঞ্চি। ৩ থেকে ৮ রাউন্ড আভ্যন্তরিন টিউব ম্যাগজিন বিশিষ্ট এই শটগান বিভিন্ন সিনেমায় দেখানো হয়। বিখ্যাত কম্পিউটার গেম ম্যাক্স পাইন –এ এই শটগান নিয়ে খেলা করা যায়।
৬। সিগা ১২ শটগানঃ
সিঙ্গেল শটে শত্রুকে কুপোকাত করতে এই অস্ত্রের জুড়ি নেই। একবার গুলি করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিলোড হয়। জনপ্রিয় এই অস্ত্রের নানা প্রকার ভেরিয়েশন আছে।
৬। এআইএমঃ
রোমানিয়াতে তৈরী এই অস্ত্র প্রথম তৈরী হয় ১৯৬০ সালে। ১৬.৩ ইঞ্চি ব্যারেলের এই অ্যাসল্ট রাইফেল মিনিটে ৬০০ রাউন্ড গুলি গুলি করতে পারে।
৭। এম ৪ কারবাইনঃ
প্রস্তুতকারক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। কুখ্যাত এই অস্ত্র আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। ওজনদার এই অস্ত্র ম্যাগজিন ছাড়াই প্রায় ৩ কেজি ওজনের। প্রতি মিনিটে ৭০০ রাউন্ড গুলি ছুঁড়তে সক্ষম। এই অস্ত্র ৫০০ মিটার দূরের পয়েন্ট টার্গেটে গুলি করতে সক্ষম।
৮। এআইএডব্লিউ(Accuracy International Arctic Warfare):
যুক্তরাজ্যের অ্যাকুরেসি ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি তৈরী করেছে এই স্নাইপার রাইফেল। বোল্ট অ্যাকশন মোডের এই স্নাইপারের রেঞ্জ ৮০০ মিটার। ১০ রাউন্ড ডিটাচেব্ল বক্স ম্যাগজিন বিশিষ্ট। ওজন প্রায় ৬.৫ কেজি।
৯। ব্যারেট এম ৯৯:
ছবি দেখে ছোট মনে হলেও এই স্নাইপার রাইফেলের ওজন প্রায় ১০.৪ কেজি। দৈর্ঘে ৫০ ইঞ্চি ও শুধু ব্যারেলের দৈর্ঘ্য ৩২ ইঞ্চি। রেঞ্জ মাথা ঘুরে যাবার মত। ২৬০০ মিটার!! তবে সমস্যা একটা আছে। সেটি হলো এই স্নাইপার রাইফেলটি সিঙ্গল শট। এই স্নাইপার তৈরী করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
১০। আরপিডি হালকা মেশিন গানঃ
প্রস্তুতকারক দেশ সোভিয়েট ইউনিয়ন। RPD এর পূর্ণাংগ রূপ হলো- Ruchnoy Pulemyot Degtyaryova (উচ্চারণ করে নিন)। বহু যুদ্ধে ব্যবহৃত এই অস্ত্র মিনিটে ৬৫০ রাউন্ড গুলি করতে পারে। ১০০ থেকে ১৫০ মিটার সাইট অ্যাডজাস্টমেন্ট করা যায়
১১। এইচকে ২১:
পশ্চিম জার্মানীতে তৈরী। জেনারেল পারপোজে ব্যবহার করা হয়। প্রথম তৈরী করা হয় ১৯৬১ সালে। বহুল ব্যবহৃত এই হালকা মেশিন গানের অনেক ভেরিয়েশন আছে। তবে সাধারনত এর রেঞ্জ ১২০০ মিটার।
১২। ডিএসএইচ ভারী মেশিন গানঃ
প্রস্তুতকারক দেশ রাশিয়া। প্রথম তৈরী করা হয় ১৯৩৮ সালে। বহু যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে এই ভারী মেশিন গান। এমনকি তালেবানদের হাতেও এই অস্ত্র ছিল। প্রায় ২ কিলোমিটার রেঞ্জ বিশিষ্ট এই মেশিন গান মিনিটে ৬০০ রাউন্ড গুলি ছুঁড়তে পারে।
ধন্যবাদ। পরে আসবো আরো কিছু ভারী অস্ত্রের পরিচয় নিয়ে- যেগুলো বাংলাদেশের সেনারা ব্যবহার করেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


