যদি নির্বাসন দাও.................................................................. আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরী ছোঁয়াবো আমি বিষ পান করে মরে যাবো! বিষণ্ন আলোয় এই বাংলাদেশ নদীর শিয়রে ঝুঁকে পড়া মেঘ, প্রান্তরে দিগন্ত নির্নিমেষ- এ আমারই সাড়ে তিন হাত তুমি।

প্রিয়তমাসু-1
২৭ শে জুন, ২০০৬ সকাল ১১:১৭
প্রিয়তমা আমার। আজ সারাদিন তুমি অন্ধকার ঘরে একাকী বন্দী হয়ে আছো। পৃথিবীর কোন সৌন্দর্যই উপভোগ করবে না। আজ সকালে সূর্যের নরম রোদের তোমার শুভ্র মুখে ছবি আকাঁ হয়নি কারণ অন্ধকার হয়েছে তোমার একান্ত সঙ্গী। এক ফোটাঁ জলও আজ তুমি স্পর্শ করবে না। শুধু এক বুক কষ্ট নিয়ে তুমি প্রতীক্ষায় থাকবে, আর প্রার্থনায় ও। কিন্তু কেন?
আজ বাঁচার নূন্যতম দাবীটুকু পূরণের আশ্বাস না পেয়ে আত্মাহুতি দিতে যাচ্ছেন 15 জন কমিউনিটি শিক্ষক। হ্যাঁশিক্ষক- যারা আমাদের মনের চোখকে সত্যের আলোয় উদ্ভাসিত করেন, অজ্ঞানের পৃথিবীতে সুন্দরের ফুল ফোটান পরম মমতা দিয়ে। আজ আমাদের জন্যই তারা মারা যাবেন। আমরাই অনুশোচনাহীনভাবে তাদের হত্যা করবো।
প্রিয়তমা, তোমার বাবা একজন শিক্ষক ছিলেন। তাই তুমি বুঝতে পারো একজন শিক্ষকের কষ্ট, ব্যাথা, মূল্য। কিন্তু আমরা কখনো পারিনি। মনে পড়ে সেই ছোটবেলায় পড়া পন্ডিতমশায় আর লাট সাহেবের কুকুরের গল্পটি। পন্ডিতমশায়ের মাইনে ছিলো 25 টাকা আর লাটসাহেবের তিন পেয়ে কুকুরের পেছনে মাসে খরচ হতো 75 টাকা। জীবনের অসংখ্য ঘাত প্রতিঘাতে পোড় খাওয়া পন্ডিতমশায় অনেক কঠিন হিসেব মেলাতে পারলে ও একটি অংকের উত্তর মেলাতে পারেননি। সেটি হলো- পন্ডিতমশায়ের ফ্যামিলি কুকুরের কয় পায়ের সমান?
লাট সাহেবের যুগের অবসান হয়েছে। এখন মেম সাহেবারা দেশকে লুটেপুটে খাচ্ছেন। কিন্তু পন্ডিতমশায়দের কোন পরিবর্তন হলো না। এখনো তাদের ঘরে টনটন করে নিদারুন অভাব। জানি না মেম সাহেবারা কোন কুকুর পুষেন কিনা! যদি পুষে থাকেন , তবে সেই কুকুরের পেছনে খরচ সমান কয় হাজার পন্ডিতমশায়ের সংসার খরচ তা বের করতে বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দিতে হবে সন্দেহ নেই।
প্রিয়তমা আমার, তোমাকে সান্তনা দেওয়ার কোন ভাষা আমার জানা নেই। আমার ও চোখের সামনে ভীড় করছে 15টি জ্ঞান প্রদীপের নিভুনিভুমুখ। শুধু কি আজ 15 জনই আত্মাহুতি দিবেন? 15টি পরিবারের অসংখ্য অসহায় মুখ ও যে আত্মাহুতি দিবে না তার গ্যারান্টি কে দেবে? তুমি কাদঁছো প্রিয়তমা। কাঁদো, চিৎকার করে কাঁদো আজ। যে আমি সবসময় তোমায় বলে এসেছি, তোমার চোখের জল মুক্তোর চেয়ে দামী, তাকে কখনো ঝরতে দিও না। সেই আমি আজ তোমায় কোন বাঁধা দেবো না। আমার 56 হাজার বর্গমাইলের সবুজ সীমানা জুড়েই যে আজ কান্নার রোল! সেই কান্না কি কোনদিন এসব যন্ত্রমানবের কর্ণকুহরে প্রবেশ করতে পারবে?
** ছবি- প্রথম আলো থেকে। এই পোস্টের আগের লেখা অবক্ষয় পড়ুন। লিংক- Click This Link
প্রকাশ করা হয়েছে: প্রিয়তমাসু. . . বিভাগে ।
ঝরা পাতা বলেছেন:
প্রজাপতি,আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। অসংখ্য ভীড়ের মাঝে এই লেখাটি পড়ার জন্য। আমি ও জানতে চাই শেষ পর্যন্ত কি হলো? সংবাদ পেলে জানাবেন। প্রবাসী বলে সময়মত অনেক সংবাদ পাই না।
ঝরা পাতা বলেছেন:
শেষ পর্যন্ত কি হলো তা জানার অপেক্ষায় আছি। কেউ জানলে বলুন।
ঝরা পাতা বলেছেন:
হ্যাঁ পড়েছি। আপনাকে ধন্যবাদ। দায়িত্ব মনে করে জানিয়েছেন বলে।
অতিথি বলেছেন:
ঝরাপাতা, আপনি তো প্রথম আলো পড়েন, শেষ খবর মনে হয় এতক্ষনে জেনে গিয়েছেন তবু আমার দায়িত্ব করছি। আত্মাহুতি দিতে চাওয়া শিক্ষকরা তাদের সিদ্ধান্ত বদলেছেন। যেহেতু মৃত্যু কোন সমাধান দেয় না কাজেই তারা বেঁচে থেকে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেছেন।


















এই বিষয়টাকে স্মরণ করে লিখেছেন বলে অনেক ধন্যবাদ। আপনার আবেগ ছুঁয়ে গেছে আমাদেরও। সারাটা দিন আমিও এই উৎকণ্ঠায় ছিলাম, দিনশেষে কি খবর শুনব তাই জন্য। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকা আর খেলা দেখার কারনে নিউজ শোনা হলো না। যতদূর জেনেছি তারা মনে হয় সিদ্ধান্ত পালটেছিলেন। কিন্তু দাবি আদায়...? তাও কি এত সহজে পূরণ হবে? হয় কখনও এই দেশে?