যদি নির্বাসন দাও.................................................................. আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরী ছোঁয়াবো আমি বিষ পান করে মরে যাবো! বিষণ্ন আলোয় এই বাংলাদেশ নদীর শিয়রে ঝুঁকে পড়া মেঘ, প্রান্তরে দিগন্ত নির্নিমেষ- এ আমারই সাড়ে তিন হাত তুমি।

কেন ভালোবাসার মানুষগুলি অকালেই হারিয়ে যায় ???
২০ শে জুলাই, ২০০৬ বিকাল ৪:১৮
"ভালোবেসে চলে যেওনা, ভালোবেসে চলে যেতে নেই।"
তাই যদি হবে তবে কেন ভালোবাসার মানুষগুলি একবুক কষ্ট দিয়ে এভাবে অকালেই হারিয়ে যায়? আর কত নির্জন রাতে বিষন্ন অন্তরে একাকী ম্ল্লান মুখে আকাশের তারা গুনে কাটতে হবে কষ্টের রক্তাক্ত প্রহর? সব কষ্টগুলো তো ঈশ্বরের সৃষ্টি ঠিক যেমন আমিও তাঁর এক নগন্য সন্তান। সন্তানের ব্যাথায় যদি পিতৃহৃদয়ে হাহাকার না-ই উঠলো তবে তুমি কেমন পিতা? তোমার চোখ কি কখনো ভেজে না তোমারই অপত্যের নিদারুন ক্রন্দনে? কেন এতো কাঁদাও তুমি, বার বার দহনে দহনে অঙ্গার করো বুকের জমিন? এ কিসের খেয়ালীপনা?
1. শ্যামলী। খুব ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট। এস.এস.সি-তে দ্বাদশ বোর্ড স্ট্যান্ড করেছিলো। কেমেস্ট্রি প্রাইভেট পড়তে গিয়ে ওর সাথে পরিচয়। অতপর নিখাদ বন্ধুত্ব। তার রুচিবোধ, মনন, সহমর্মিতা সবই ছিলো মুগ্ধ হবার মতো। আমিও মুগ্ধ হলাম। দুজন দুজনের খুব ভালো বন্ধু ছিলাম। কিন্তু নাটক-উপন্যাসকেও হার মানিয়ে এলো এক ঝড়। সেই ঝড় ঝরা পাতার মতো উড়িয়ে নিয়ে গেলো তাকে চিরতরে। ব্রেইন টিউমার হয়েছিলো তার। বাঁচানোর কোন ত্রুটি করেনি আঙ্কেল-আন্টি। তবুও বাঁচানো গেলো না। এভাবেই আমার উচ্ছল বন্ধুটিকে দেখলাম চোখের সামনে সাদা কাফনে আবৃত হয়ে অন্ধকারের সাথী হতে। শ্যামলী, কতদিন মাটির নীচে একইভাবে শুয়ে আছে! তোমার বুঝি কষ্ট হয় না? আমার এখনো খুব কষ্ট হয়, খুব, খুব।
2. পত্রিকায় সম্ভবত: ইমদাদুল হক মিলনের একটা আর্টিকেল আমাদের অনেকের চোখে পড়ে যায়। শুচি নামে একটি মেয়েকে বাঁচানোর আকুল আর্তি। আর্টিকেলটা পড়ে খুব কষ্ট লাগলো। ভার্সিটির সব বন্ধুরা ঠিক করলাম কালেকশনে নামার। বেশ ভালো এমাউন্ট কালেক্ট হলো। শুচিকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হলো। সে মোটামুটি সুস্থ হয়ে ফিরে এলো। পত্রিকায় ওর ছবি দেখে অব্যক্ত ভালোলাগায় মন ভরে উঠলো। কিন্তু হায়, তখনো কি জানতাম বিধাতার আরো কিছু গোপন অভিসন্ধি ছিলো মনে ! তাই আচমকা একদিন দেখলাম সে আবারো পত্রিকার শিরোনাম। তবে হাসিমাখা মুখে নয়, মৃতু্যর শীতল শান্ত ছায়ার আশ্রয়ে। কোনদিন যাকে দেখিনি সেই মেয়েটা কেমন করে হৃদয় দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে চিরদিনের জন্য চলে গেলো! এতো নিষ্ঠুরভাবে কেউ যেতে পারে?
3. এবার যার কথা বলবো সে সবার পরিচিত অমিত যাকে বাঁচানোর জন্য সারা দেশের মানুষ একসূত্রে বাঁধা পড়েছিলো। আমি অবাক বিস্ময়ে সে সময় লক্ষ্য করেছিলাম সারা দেশের মানুষের একাত্মতা। গর্বে বুক ভরে উঠেছিলো সেদিন। এবারো বুঝি বিধাতার ঈর্ষা হলো আমাদের ভালোবাসার বন্ধন দেখে! তাই কি প্রমাণ করতে চাইলো নিজের শ্রেষ্ঠত্ব? ছোট ভাইটিকেও নিয়ে গেলো জীবনের সব যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করে। কেমন আছিস অমিত? এখন তো আর তোর নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয় না, তাই না?
আমি এখন আর কাউকে ভালোবাসতে পারি না। ভালোবেসে কারো হাত ধরতে যে খুব ভয়! যদি আবার তাকেও হারাতে হয়! এখন আমি সারা রাত্রির আকাশের তারা গুনি। কেউ জানে না, আসলে আমি প্রতি রাতে আকাশের বুকে তারাদের মাঝে প্রিয় মানুষগুলিকেই খুঁজে বেড়াই। ওই তো, জ্বলজ্বল করছে শ্যামলী যেমন ভাস্বর ছিলো উচ্ছলতায় সারাজীবন, একটু দূরেই শুচি হাসছে খিলখিল করে আর উত্তরের আকাশে ওই তো অমিত। আমাকে বলছে, ভাইয়া এবার যা, ঘুমোবি না?
সত্যি রে। আমিও ঘুমোতে চাই, চিরতরে ঘুমোতে চাই। এতো কষ্ট নিয়ে কেউ কি বেঁচে থাকতে পারে, বল?
প্রকাশ করা হয়েছে: প্রিয়তমাসু. . . বিভাগে ।
পথিক!!!!!!! বলেছেন:
চলে যাওয়াটি এয বড় সত্য ।
অতিথি বলেছেন:
আর তাইতো খুব বেশি ভালবাসতে নেই
ঝরা পাতা বলেছেন:
কিন্তু ভালোবাসা ছাড়া যে জীবন চলে না।
অতিথি বলেছেন:
জেমসের এই গানটা ফাটাফাটি । আমার খুব ুপ্রিয় ।মানুষের মনে ভালবাসার কমতি নেই । এত সহজে ভেঙে পড়লে চলে ? ইশ্বর চেয়েছেন বলেই ওরা নেই ।
আর প্রেমিক মানুষের মনেই কষ্ট থাকবে । দেখা যাবে অচিরেই কেউ একজন সব কষ্ট দুর করে দিচ্ছে দ্্বিগুন ভালবাসা দিয়ে ।
অতিথি বলেছেন:
ঝড়া পাতা,অনেকের লেখা পড়লে চোখে পানি চলে আসে। আমি তো আপনার লেখাটা পড়তাম না। কারণ ভেবেছিলাম ঐ ভালোবাসা যা শুধু মানুষকে কষ্ট দেয়। আর তা ছেলেরা নির্বাক হয়ে হজম করে। কেউ হয় পাগল কেউবা ছাগল। কিন্তু তার তো কিছুই দেখছি না।
আর আপনার লেখা পড়তে আসার সবচেয়ে বড় কারণ হলো ঐ যে ''এই আমি'' আমার ছোট বোন কে খুব সুন্দর সব কবিতা গিফট করেন। তা না হলে নিশ্চিত এখন ঘুমাতে যেতাম।
এবার আসি আপনার পোস্টের কথায়। শ্যামরী আপুকে আমি চিনি না। তার জন্য খারাপ লাগলো.........আপুরে তুই ভালো থাকিস...........একলা ঘরে ঘুমায়ে আছিস....হয়তো আমিও আসবো একদিন........
তবে সুচি আপুকে আমি খুব ভালো ভাবে চিনি। কারণ সুচি আপু তো ভাইয়ার বন্ধু ছিলো। আর সুচি আপু যেই কলেজ পড়তো । ঐ কলেজে আমিও পড়েছি। সেখানে এখনো আপুর সেই কথা গুলো লিখা আছে।আর আপুকে বাঁচানো যেত কিন্তু কয়েক জন মানুষের সামান্য অবহেলায় আপুকে মৃতু্যর কোলে ঢলে পড়তে হয়েছে। আর সুচি আপুর একটা ছবি আমি আপনাকে দিবো।
আমি আজকে যাই। অনেক বড় মনে হয় লিখে ফেললাম। সরি ভাইয়া....একদিন কথা হবে। অনেক অনেক অনেক.......আপনার সাথে
3:35 PM
অতিথি বলেছেন:
মন্তব্য : কী করবো?
অতিথি বলেছেন:
এত কষ্টের কথা লিখো কেমনে? কলমের ডগা ফাইটা যায় না?
অতিথি বলেছেন:
ঝরা কেমন জানি লাগলো তোমার লেখাটা পড়ে। সব আপন মানুষ গুলোর চলে যাওয়াটা চোখের সামনে এসে পড়লো।আজ অন্য মুখে খুজে ফিরি সেই প্রিয় মুখ গুলো।
খুব মনে পরে গেল সবার কথা
অতিথি বলেছেন:
অশ্রু ঝরালেন ঝরা পাতা।।।।।পৃথিবীতের আমাদের হাসির মূল্য অনেক অনেক দুঃখের বিনিময়, কথাটা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম অনেকদিন আগে থেকেই। এখন মনে হচ্ছে বদ্ধমূল।
ঝরা পাতা বলেছেন:
রেজওয়ান ভাই,তিনজনের সাথেই আমার সম্পর্কটা হলো আত্মার আত্মীয়ের মতো। সেই প্রিয় মুখগুলিকে কখনো ভোলা সম্ভব?
সাকিব,
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ পোস্টটা পড়ার জন্য। আপনার ছবির অপেক্ষায় রইলাম।
ধূসর গোধূলী,
অনেক সময় আমরা অনেক কিছু বলতে গিয়েও আবেগে বাকরুদ্ধ হয়ে যাই। ধরে নিলাম, এটাও সে রকম।
চোর ভাই,
কষ্টগুলোকেও ভাষা দিতে হয়। সেই চেষ্টাই করি।
গোপাল ভার,
ধন্যবাদ আপনাকে লেখাটা পড়ার জন্য।
ফজলে এলাহি ভাই,
খুব সুন্দর মন্তব্য লিখেন আপনি, হৃদয় ছুঁয়ে যায়। সবসময় আপনার মন্তব্যের প্রত্যাশা করি।
অতিথি বলেছেন:
জীবন তো আছে চলে যাওয়ার জন্যই , কেউ হয়তো আগে ,কেউ হয়তো পরে .........আর ভালোলাগা মানুষ গুলো তো অন্তরে ছবি একে দিয়ে যায় তাই রয়ে যায় মনে চলে যাবারও পরে,কাদিয়ে যায় ,ভাবিয়ে যায়.......................
ঝরা পাতা বলেছেন:
আবু সালেহ,ঠিক তাই। যতই আপনি ভুলতে চাইবেন ততই তারা আরো নিবিড় করে আঁকড়ে ধরে।
সাকিব,
আশা করি কথা হবে। তবে আমি চ্যাট করিনা বললেই চলে। আপনি মেইল করবেন। আমি রিপ্লাই করবো।
সাইমুম বলেছেন:
ঝরা পাতা: প্রিয়জনটা এভাবে ফাকি না দিলে জীবনটা এতো আদরের হতো না। মানুষ প্রিয়জনকে হারিয়ে কষ্ট পায়। হারিয়ে যাওয়াটাকে মেনে নিতে হয় আর কষ্ট পাওয়াটাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হয়। কারণ কষ্ট যত গভীর হোক না কেন, সময় তার তীব্রতা কমিয়ে দেয়। নইলে মানুষ বাঁচতো না।
শাহানা বলেছেন:
মৃত্যু এমন একটি বিষয়, সেটা আপনার মানা না মানার উপর নির্ভর করেনা, তাই যত স হজে আপনি একে গ্রহন করবেন তত কষ্ট কম হবে, তবে সব কষ্ট তো আর জায়না, কি করবেন এটা দুনিয়া, বেহেস্ত না।
অতিথি বলেছেন:
[গাঢ়]ঝরা পাতা,[/গাঢ়]কোন মন্তব্য নেই।
মন্তব্য পড়ুন, আমার এই মুহুর্তের পোষ্ট -'সবাই পারেনা, শুধু কেউ কেউ পারে'-র 'পূর্ব কথা' অংশে।
আমার এই পোষ্ট, এই কবিতা- শুধুআপনার জন্য। আপনার এ অপূর্ব লেখাটির জন্য।....
অতিথি বলেছেন:
চুপচাপ পড়া, পড়ে আরো চুপ হয়ে যাওয়া...ভালোবেসে চলে যেতে নেই...তবু ভালোবাসার মানুষগুলোই যে চলে যায় কেবল...
হযবরল বলেছেন:
মানুষ কে ভালবাসলে তার চলে যাওয়াটাই খারাপ লাগে । এমনকী 80 বছর বয়সে মারা গেলেও ।
ঝরা পাতা বলেছেন:
সাইমুম ভাই,আপনি ঠিক বলেছেন সময়ের সাথে কষ্টের তীব্রতা কমে যায়। আবার এমন কিছু সময় আসে যখন কষ্টগুলো এমনই ঝেপে আসে প্লাবনে ভাসিয়ে যায় চারদিক।
শাহানা আপু,
কষ্টগুলোকে শেয়ার করেছি সবার সাথে তাতে যদি একটু লঘু হয়। মেনেছি বলেই তো এখনো আশা নিয়ে বেঁচে আছি।
সুনীল সমুদ্র,
আমার একান্ত কষ্টের একটা বড় অংশ আপনি নিজের করে নিলেন। আপনাকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
হযু ভাই,
আপনি ঠিক কথাই বলেছেন। তবু 80 বছরে চলে যাওয়া যত সহজে মেনে নেয়া যায় 20 বছরেরটা তত সহজে নয়। ঠিক যেন, "নয় আরো থাকলে কিছুক্ষণ, নয় আরো কাছে ডাকলে কিছুক্ষণ . . . . . ." এর মতো।
অতিথি বলেছেন:
আমরা সবাই তো যাবো রে একদিন। তবু মেনে নিতে কষ্ট হয় এ প্রস্থান। তোকে আমার খুব প্রিয় একটা প্রবাদ শুনাই: এ পৃথিবীতে জন্ম অনিশ্চিত কিন্তু মৃত্যু ধ্রুব, তবু মানুষ মৃত্যু দেখে কাঁদে।
ঝরা পাতা বলেছেন:
প্রজাপতি,আপনাকে ধন্যবাদ জানানো হয়নি ভুলক্রমে, ক্ষমা করবেন।
অন্ধকার,
ভালো লাগলো প্রিয় প্রবাদটা শুনে। বড় বেশি সত্যি কথা।
অতিথি বলেছেন:
[রং=#800080] করলাম ক্ষমা।

















