আমার প্রিয় পোস্ট

যদি নির্বাসন দাও.................................................................. আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরী ছোঁয়াবো আমি বিষ পান করে মরে যাবো! বিষণ্ন আলোয় এই বাংলাদেশ নদীর শিয়রে ঝুঁকে পড়া মেঘ, প্রান্তরে দিগন্ত নির্নিমেষ- এ আমারই সাড়ে তিন হাত তুমি।

আবার গর্জে ওঠা সঙিন

২৬ শে আগস্ট, ২০০৬ সকাল ৮:৪৭

শেয়ার করুন:                   Facebook

ভর দুপুরে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে 'ডাইনে বাঁয়ে ডাইনে' করে যে লোকটা চেঁচাচ্ছেন একটানা তাঁর নাম নুর উদ্দিন। সবাই ডাকে নুরু পাগলা বলে। এই গ্রামের সবাই তাঁকে চেনে। এখানে যানবাহন বলতে রিক্সা, কিছু ট্যাক্সি, আর স্কুটারই সম্বল। মাঝে মাঝে দু'একটা পিক-আপ বা জিপ আসে চৌধুরী বাড়িতে। চালকদের সবাই অভ্যস্ত হয়ে গেছেন, তাই এখানে এসেই তারা গাড়ির গতি কমিয়ে দেয়। যেদিন নুরু পাগলাকে দেখা যায় না সেদিন তারা বিস্মিত হয়।

নুরু পাগলা। বয়েস এখন তাঁর প্রায় 55 বছর। বিশ বছর বয়েসে তিনি যুদ্ধে গিয়েছিলেন দেশকে বর্বর হায়েনাদের হাত থেকে মুক্ত করতে। কি দুর্বার আর দৃঢ়চেতা যোদ্ধা ছিলেন! কতো ব্রিজ-কালভার্ট, পাক বাহিনির দুর্গ উড়িয়ে দিয়েছিলেন মুহুর্তেই, বুলেটে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিলেন পশ্চিমা পিশাচদের বুক- তার হিসেব নেই। তাকে কমান্ডার ডাকতো ইয়াং টাইগার বলে। সেসময় পূর্ব সীমান্তে টাইগার বাহিনি ছিল দুর্ধর্ষ একদল গেরিলা যোদ্ধার নাম। তাদের নিঁখুত পরিকল্পনা আর অবর্ণনীয় সাহসের কাছে বার বার শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে পাকিস্তানি সেনাদল। তারা গ্রামের পর গ্রাম তছনছ করেছে তাঁকে ধরার জন্য- তাঁর বাবা মা ভাই ভাবীকে নৃশংসভাবে হত্য করেছে বায়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে- ছোট বোনকে তুলে নিয়ে গিয়েছে ক্যাম্পে- দিনের পর দিন নিযর্াতন করেছে- শেষে হত্যা করেছে। কিন্তু এসব কিছুই বিচলিত করতে পারেনি নুর উদ্দিনের মুক্তির উদ্দেশ্যে পথ চলাকে । স্বাধীনতার সূর্যকে তিনি ঠিকই হাতের মুঠোয় পুরেছেন। জাতিকে উপহার দিয়েছেন গর্বিত লাল-সবুজের পতাকা আর ছোট্ট শ্যামল ভূ-খন্ড।

সময় অনেক কেটে গেছে। কালের স্্েরাতে একাত্তরের শান্তি বাহিনির সদস্য ফারুক চৌধুরী এখন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। জামাতের লেভেলধারী নেতা। ইউনিয়ন পরিষদের বৈঠকখানায় তার ছবির পাশে গোল্ডেন ফ্রেমে বাঁধানো বীর মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্র। শুধু নুর উদ্দিনই কোন সরকারের কাছ থেকে কখনো কোন সনদ পেলেন না, পেলেন না মুক্তিযোদ্ধা ভাতা কিংবা সামান্য সম্মান। এসব নিয়ে তাঁর কোন আক্ষেপও ছিলো না কখনো। তাই তিনি গর্বের সাথে তাঁর ছেলে মেয়েদের বলতেন- আমি যুদ্ধ করছি একটা স্বাধীন দেশের লাইগা, হেইডা পাইছি, এইডাই আমার সবচাইতে বড় পুরষ্কার। আর কিছুর দরকার নাই।

যুদ্ধের পর তিনি গঞ্জে একটা কাপড়ের দোকান তুলেছিলেন অনেক কষ্ট করে। সেটার আয় দিয়ে তাঁর খেয়ে পড়ে দিন যাচ্ছিল। বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন একটু ভালো ঘর দেখে। কিন্তু সুখ সইলো না। এ জগতে রবি বাবুর সেই কথাটাই বার বার সত্যি হয়ে আসে সবসময়- সেই বেশি চায় যার আছে ভুরি ভুরি। যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় দেড় বছরের বেশি স্বামীর ঘর করা হয়নি আসমার। এখন সে তার শিশুকন্যাসহ বাবার বাড়িতে আশ্রিতা। ছোট মেয়েটা মোটামুটি স্বামী সংসার নিয়ে ভালোই আছে। কিন্তু এখন আর যোগাযোগ নেই। পাগল-ছাগল বাবার সাথে কে আর যোগাযোগ রাখে! ছোট ছেলে খসরুর ঘটনাটাই খুব মর্মান্তিক।

অনেক কষ্ট করে ছেলেটাকে ভর্তি করিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। পড়াশোনায় মোটামুটি ভালো। কিন্তু কারো সাতে পাঁচে না থাকা সেই শান্ত ছেলেটা ভার্সিটিতে গিয়ে কিভাবে জানি বাম রাজনীতির সাথে জড়িয়ে গেল। সেবার কি এক গন্ডগোলে ভার্সিটি বন্ধ হয়ে গেলো। তিনমাস গ্রামে এসে ছিল একটানা। তখন গ্রামের মানুষদের বিপ্লবের স্বপ্ন দেখিয়েছিলো। ধর্মের নামে ব্যবসা আর ধর্মান্ধদের কুসংস্কার অন্ধবিশ্বাস সম্পর্কে গ্রামের মানুষদের সচেতন করার চেষ্টা করছিলো। সেটাই হলো কাল। কারণ এসব একেবারেই পছন্দ হয়নি চেয়ারম্যান সাহেবের। গ্রামের মানুষের ভালো মন্দ দেখার জন্য তিনিই তো আছেন। সেখানে কিনা সেদিনের ছোকরা- মুখ থেকে যার এখনো দুধের ঘ্রাণ যায়নি সে এসেছে ধর্ম সম্পর্কেজ্ঞান দিতে! এটা কি কোনভাবে বরদাশ্ত করা যায়? চৌধুরী সাহেবের তরফ থেকে তার পোষা কুত্তারা বেশ কয়েকবার সতর্ক করে দিয়েছিলো খসরুকে এসব নিয়ে মাথা না ঘামাতে। কিন্তু খসরুর শরীরে যে বইছে তার দু:সাহসী বাবার বিশুদ্ধ রক্ত। সে কি মানবে এসব রক্তচক্ষুর শাসানী?


(পরের পর্বে সমাপ্তি.....)


** গল্প লেখা আমার ধাতে নেই। শুধু একজন বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধার প্রতি গভীর সমবেদনা আর আমার অক্ষমতা থেকেই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: হাল ছাড়িনি বন্ধু  বিভাগে ।

 

  • ১৭ টি মন্তব্য
  • ৩২২ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৬ দুপুর ২:৫৬
comment by: পথিক!!!!!!! বলেছেন: পড়লাম ঝরা
২. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৩:০০
comment by: অতিথি বলেছেন: ভাল লেগেছে....পরের পর্ব
৩. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৩:১৫
comment by: ঝরা পাতা বলেছেন: ধন্যবাদ পথিক ভাই ও স্বরহীন আপু।

কালকে শেষটা পোস্ট করব।
৪. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩
comment by: অতিথি বলেছেন: সুন্দর শুরু!
পরের পর্বটা তাড়াতাড়ি চাই।
৫. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭
comment by: অতিথি বলেছেন: সঙিন কি আবার গর্জে উঠে নাকি ।
৬. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৬ রাত ৮:০১
comment by: শাহানা বলেছেন: মন খারাপ হয়ে গেল। বাস্তব কল্পনার (গল্প/উপন্যাস) চেয়েও কষ্টের।
৭. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৬ রাত ৮:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: বাংলাদেশ আসলেই বাংলা দেশ ।
৮. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৬ রাত ৮:৫০
comment by: ঝরা পাতা বলেছেন: ধন্যবাদ জলিল ভাই এবং শাহানা আপু। আগামীকালই পাবেন শেষ পর্ব।

রিফাত ভাই,
সবকিছুতে শাব্দিক অর্থ খুঁজলে চলে না। এটা একটা রূপক। আওয়াজ করাকেই যদি শুধুগর্জন মনে করেন তবে বলার কিছু নেই। জেগে ঘুমানো মানুষদের আচমকা ঘুম ভাঙানোর প্রয়াসকেও মানুষ গর্জন বলে। আর একটা কথা---

বাংলাদেশ আসলেই [গাঢ়] বাংলাদেশ[/গাঢ়]।
৯. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৬ রাত ৯:১৩
comment by: অতিথি বলেছেন: ভালো লেগেছে, কষ্ট লেগেছে। এই কষ্টগুলো প্রতিনিয়ত পেতে পেতে অনুভূতিগুলো ভোতা হয়ে গেছে। লিখবেন, প্রকাশ করবেন।
১০. ২৭ শে আগস্ট, ২০০৬ রাত ১:৫৮
comment by: অতিথি বলেছেন: ঝরাপাতা, আপনার লেখার হাত ভাল। তাই গতানুতিক হয়েও নিজ মহিমায় অসাধারন হয়েছে। এই ধরনের কাহিনী গতানুগতিক হলেও বার বার আসা উচিৎ আমার লেখায়।
১১. ২৭ শে আগস্ট, ২০০৬ রাত ৩:৪৫
comment by: ঝরা পাতা বলেছেন: অন্ধকার আর মুর্শেদ ভাইকে ধন্যবাদ। সত্যি এটা গতানুগতিক কাহিনির গল্প কিন্তু তবুও কেন জানি আপনাদের শোনাতে ইচ্ছে করলো!
১২. ২৭ শে আগস্ট, ২০০৬ রাত ৩:৪৮
comment by: আজকাল বলেছেন: পরের পর্বের অপেক্ষায়...
১৩. ২৭ শে আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৩:১৫
comment by: ঝরা পাতা বলেছেন: আজকাল,
ধন্যবাদ। বাকীটা আজই পোস্ট করবো। দেশ থেকে কিছু নতুন স্টুডেন্ট আসছে তাদের রিসিভ করা, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য একটু বিজি আছি বলে বাকিটা লেখার এখনো সময় পাচ্ছি না।
১৪. ২৮ শে আগস্ট, ২০০৬ ভোর ৬:০৯
comment by: অতিথি বলেছেন: দোস্ত
একজন মানুষের মত মানুষের সন্ধান দিলা.
১৫. ২৮ শে আগস্ট, ২০০৬ সকাল ৭:৫০
comment by: অতিথি বলেছেন: বোঝা যাচ্ছে পরবতর্ীতে আরো কষ্টের কথা আসবে........
রেডী হচ্ছি।
১৬. ২৮ শে আগস্ট, ২০০৬ সন্ধ্যা ৬:২৭
comment by: ভাসমান বলেছেন: সরি ঝরু ভাই একটু দেরিতে পড়লাম। এই রকম বাস্তবকাহিনী অনেক কিন্তু প্রকাশ করার লোক খুব কম । ধন্যবাদ। পরেরটা ছাড়ুন..............
১৭. ২৯ শে আগস্ট, ২০০৬ রাত ২:৪৬
comment by: ঝরা পাতা বলেছেন: ধন্যবাদ সবাইকে ধৈর্য্য সহকারে এই সাধারণ পোস্টটা পড়ার জন্য এবং মন্তব্যের জন্য।

 

 


[ইটালিক]

পাঠকের উপর আস্থা শতভাগ। ফুলে সুরভি থাকলে কদরদানের অভাব হয় না, ভ্রমর আপনিই ছুটে আসবে!!!

নিজেকে আবিষ্কারের চেষ্টা করছি।...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ২৭৫৭২