আমার প্রিয় পোস্ট

যদি নির্বাসন দাও.................................................................. আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরী ছোঁয়াবো আমি বিষ পান করে মরে যাবো! বিষণ্ন আলোয় এই বাংলাদেশ নদীর শিয়রে ঝুঁকে পড়া মেঘ, প্রান্তরে দিগন্ত নির্নিমেষ- এ আমারই সাড়ে তিন হাত তুমি।

[is=maroon] AvwgI f

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ দুপুর ২:১৮

শেয়ার করুন:                   Facebook

অনার্স কমপ্লিট করার পরে একটা প্রতিষ্ঠানে জয়েন করি। তাদের একটা আই.টি প্রজেক্টের ট্যাকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্বে ছিলাম। একবার সেই প্রতিষ্ঠানে সম্ভবত: ম্যানেজম্যান্ট সেক্টরে একজন লোক নিয়োগ দেয়া হচ্ছিল। ওই প্রতিষ্ঠানের রুলস অনুযায়ী ভাইভা বোর্ডে সব ডিরেক্টররা উপস্থিত থাকেন। আমার আই. টি. ডিপার্টম্যান্টের ডিরেক্টর এবং প্রজেক্ট ম্যানেজার দু'জনই সেসময় দেশের বাইরে ছিলেন। তাই আমার দুভর্াগ্য হলো 'সাক্ষাতকার' নামক একটা জঘন্য নাটকের দর্শক হবার। তার কিছু অংশ তুলে ধরছি।

ইন্টারভিউ বোর্ড : আপনি তো অনেক দূর থেকে এসেছেন?
ছেলেটা : জি।
বোর্ড : কিসে এসেছেন?
ছেলেটা : কিছুটা পথ বাসে আর বাকিটা রিক্সায়?
বোর্ড : আপনার বাসা কি ওখানেই?
ছেলেটা : জি।
বোর্ড : বাসায় আর কে কে আছেন?
ছেলেটা : জি, আমি মেসে থাকি।
বোর্ড : ও। আপনার মেস ভাড়া কত পড়ে?
ছেলেটা : 800 টাকার মতো।
বোর্ড : খাবার কি মেসেই খান নাকি বাইরে?
ছেলেটা : জি, রাতে মেসে খাই আর দুপুরে হোটেলে।
বোর্ড : হোটেলে খান? ওগুলো তো খুব নোংরা। অসুখ করে না।
ছেলেটা : মাঝে মাঝে সমস্যা হয় একটু আধটু। তবে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।
বোর্ড : কত খরচ হয় প্রতিদিন?
ছেলেটা : 12 থেকে 15 টাকা (ঈষৎ লজ্জা নিয়ে বলে)।
বোর্ড : কি বলেন? মাত্র 12 থেকে 15 টাকায়?
ছেলেটা : (খুব আড়ষ্ট হয়ে পড়ে) এই আর কি! সবজি দিয়ে খাই তো তাই কম লাগে।
বোর্ড : ওকে . . . . . .
বোর্ড : আচ্ছা। আপনি কি এখন কোথাও চাকরি করছেন?
ছেলেটা : না, চেষ্টা করছি।
বোর্ড : তো আপনার চলে কিভাবে?
ছেলেটা : তিনটে টিউশনি করি। টেনেটুনে চলতে হয়।
বোর্ড : ও। কতো পান টিউশনি থেকে?
ছেলেটা : বাইশশ টাকার মতো।
বোর্ড : জমাতে পারেন কিছু?
ছেলেটা : না, প্রতি মাসে বাড়িতে 500 টাকার মতো পাঠাতে হয়।
বোর্ড : বাড়িতে কে কে আছেন?
ছেলেটা : মা আর ভাই, বোন।
.........................................

এরকম আরো 20 মিনিট অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে সেই ছেলেটার একান্ত অনুভূতিগুলিকে, সরল দিন-যাপনের কষ্টগুলিকে সবার সামনে টেনে এনে তার বিব্রতকর মুহুর্তগুলি উপভোগ করছিল সেই তথাকথিত সমাজে প্রতিষ্ঠিত উচ্চস্তরের মানুষগুলি। ছেলেটার যোগ্যতা যাচাই করার কোন দরকার ছিলো না তাদের, কারণ- অনেক ইন্টারভিউয়ের মতো এটাও ছিল একটা সাজানো নাটক।

লাঞ্চ আওয়ারে আয়েস করে যখন মুরগীর রান চিবোয় তখন মনে থাকে না একটু আগেই তারা একটা পুরো মানুষকে চিবিয়েছিল। আমার টিপিক্যাল মধ্যবিত্ত চিন্তাধারার মনটা শুধু অক্ষম ক্রোধে ছটফট করতে থাকে। আর সেই ছেলেটা . . . . . . . . সেই ছেলেটা হয়তো সস্তা কোন হোটেলে দুপুরের খাবার খেয়ে, লোকাল বাসের বাম্পারে ঝুলতে ঝুলতে ধূলি ধুসরিত হয়ে বাসায় ফিরবে। এক বুক আশা নিয়ে অপেক্ষা করবে একটা স্বপ্নময় খামের জন্য যা কোনদিন তার দোরগোড়ায় পৌঁছাবে না।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: হাল ছাড়িনি বন্ধু  বিভাগে ।

 

  • ২৩ টি মন্তব্য
  • ৩৬৯ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাত ৮:৩০
comment by: অতিথি বলেছেন: টুকরো কথায় অকপট স্বীকারোক্তি প্রাণ ছুঁয়ে গেছে।
এভাবে লেখনীর মাধ্যমে সমাজের আসল চরিত্র তুলে ধরুন আরও..
অনেক অভিনন্দন।
২. ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাত ৮:৩১
comment by: নাহিদ বলেছেন: জটিল, আবার কষ্টের ও..ভাই বড় সমস্যা হলো ব্যাচেলর রে কেউ ভাড়া দেয় না:)
৩. ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাত ৮:৩৭
comment by: অতিথি বলেছেন: দোস্ত
তুমি স্বপ্ন দেখতে বলো এই দিকে আবার হতাশ কইরা দিচ্ছ.সামনেই যে সে দিনগুলো আসছে.

বাস্তব,বাস্তব,বাস্তব

ছুঁয়ে গেল
৪. ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাত ৮:৪১
comment by: অতিথি বলেছেন: দোষ টা নিজের উপর না টানলেও পারতা.তোমার আর কিই বা করার ছিল.আমারা সবাই সিস্টেম এর মধ্যে পরে সিস্টেম হয়ে যাব.

আমিও কি মামা,চাচা ধরব??(মালিক হেফাজত কইরো)
৫. ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাত ১০:০৯
comment by: অতিথি বলেছেন: দারুন অনুভূতি!
আমাদের ভঙ্গুর শিক্ষাদ্দোশ্যের ফলাফলের একটা বাস্তব রূপ। কবে আমাদের শিশুরা শুনতে পাবে শিক্ষকের কাছ থেকে, গুরুজনদের কাছ থেকে যে, "শিক্ষা অর্জন করবো সত্যিকারের মানুষ হওয়ার জন্য"; চাকুরী করার জন্য নয় শুধু।
৬. ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাত ১০:২১
comment by: অতিথি বলেছেন: সাক্ষী হওয়া খুব কষ্টের কাজ।
৭. ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাত ১০:৩১
comment by: ইউনা বলেছেন: সবার উপলব্ধি ক্ষমতা এক হলে পৃথিবীতে নিম্ন মানুষিকতার মানুষ থাকতোনা।যে কষ্টের বোঝা নিজেকে বইতে হয়না,সে কিভাবে বুঝবে তার তীব্রতা?
অসম্ভব শক্তিশালী লেখনীতে প্রকাশ করেছেন নিজস্ব উপলব্ধি,সশ্রদ্ধ অভিনন্দন।
৮. ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ১১:৩৬
comment by: ঝরা পাতা বলেছেন: ধন্যবাদ সবাইকে আপনাদের অনুপ্রেরণা, ভালোলাগা আর উৎসাহ মূলক মন্তব্যগুলির জন্য।

আমিও ভন্ড অনেকের মতো,
কাগজে-কলমে ঢাকি জীবনের ক্ষত।
৯. ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ১১:৩৯
comment by: অতিথি বলেছেন: নিদারুণ প্রহসেনর দিনগুলি
১০. ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ১১:৪৪
comment by: অতিথি বলেছেন: আমরা সবাই মনে হয় কম বেশী ভন্ড

সত্যি কি আমাদের শিক্ষাব্যাবস্থা......ছেড়া খাতার মত....
১১. ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ১১:৪৮
comment by: অতিথি বলেছেন: প্রতিটি মানুষেরই যদি অন্যের কষ্টে নিজেকে এভাবে জর্জরিত করার উচ্চ উপলব্ধি ক্ষমতা থাকত!!
তাহলে পৃথিবীর চেহারাই পালটে যেত।
আমারও সশ্রদ্ধ অভিনন্দন।
১২. ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ১১:৫৩
comment by: অতিথি বলেছেন: দিস ইজ লাইফ, জীবন যাপনের সাক্ষী আমরা, জটিল জীবন!
১৩. ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১২:০৬
comment by: অতিথি বলেছেন: আমার কিছু বলার নাই। শুধু বলতে চাই...এই দেশে কেউ যখন অনেক উপরে উঠতে চায় তাকে তা দেওয়া হয় না। ..........আমি দেখেছি সব সময় এটা হয়......
এটা হলো reality !!!
১৪. ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ বিকাল ৩:৪৩
comment by: অতিথি বলেছেন: আপনার লেখার সাথে ছবিটা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ সে তর্ক না হয় নাই করলাম। চমৎকার এই দুঃখভরা লেখার জন্য আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার লেখার সাথে কেমনভাবে যেন আমার জীবনের একটা সাদৃশ্যতা লেগে আছে। সময় পেলে আমার দুঃখ সংক্রান্ত একটা লেখা আছে, পড়লে কৃতজ্ঞ হবো।
১৫. ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ১১:০৪
comment by: ঝরা পাতা বলেছেন: সবাইকে অনেক ধন্যবাদ লেখাটা পড়া ও মন্তব্য করার জন্য।

সবুজ,
ছবিটা একটা বিষন্ন লোকের যে নিজের কাছে অপরাধী এবং বিপর্যস্ত। কেন জানি মনে হলো ছবির ওই লোকটার সাথে আমার মিল আছে তাই দিয়ে দিলুম। বাই দ্যা ওয়ে, আপনার লেখাটা পড়েছি।
১৬. ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ১১:৪৫
comment by: অতিথি বলেছেন: মুডটা খারাপ করে দেয়ার মত ঘটনা। চাকরীর ইন্টারভ্যু বেপারটা অনেক সময়ই হাস্যকর। আমার অভিজ্ঞতা খুব কম। তবে যা হয়েছে, তার ঠেলা সামলাতেই এখনো আতঙ্ক ভর করে ভবিষ্যতের চোখদুটোয়।
১৭. ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ৯:২২
comment by: অতিথি বলেছেন: একান্ত অনূভুতি নিয়ে টানাহেঁচড়ার পাশবিক সুখ--মানুষ কি করে এই সুখ পায় আমি তাই খুঁজে পাই না।
১৮. ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ৯:৩৬
comment by: অতিথি বলেছেন: অসহ্য রকমের কুৎসিত!
১৯. ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ৯:৪৮
comment by: সুর বাংলা বলেছেন: "ইটের পরে ইট
তার মাঝে মানুষ নামের কীট"

কে বলেছিল? ঠিকই বলেছিল।
২০. ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ১১:৪৩
comment by: ঝরা পাতা বলেছেন: নেইকো স্নেহ, নেইকো ভালোবাসা।

ধন্যবাদ আপনাদের মন্তব্যের জন্য।
২১. ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ১১:৫৯
comment by: অতিথি বলেছেন: হু ........ দীর্ঘশ্বাস...........
২২. ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১২:০৪
comment by: বকলম বলেছেন: অনাকাঙ্খিত বাস্তবতা...

(বদ্দা অনর আরো লেখা চাই)
২৩. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ১১:৫০
comment by: ঝরা পাতা বলেছেন: বকলম ভাই-
লিখেছি তো অনেক। আগের লেখাগুলো পড়ে দেখুন।

 

 


[ইটালিক]

পাঠকের উপর আস্থা শতভাগ। ফুলে সুরভি থাকলে কদরদানের অভাব হয় না, ভ্রমর আপনিই ছুটে আসবে!!!

নিজেকে আবিষ্কারের চেষ্টা করছি।...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ২৭৫৫৮