যদি নির্বাসন দাও.................................................................. আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরী ছোঁয়াবো আমি বিষ পান করে মরে যাবো! বিষণ্ন আলোয় এই বাংলাদেশ নদীর শিয়রে ঝুঁকে পড়া মেঘ, প্রান্তরে দিগন্ত নির্নিমেষ- এ আমারই সাড়ে তিন হাত তুমি।

সকলের পাঁচ আর আমার কেবলই শূন্য (ঝরা পাতা)
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ৯:১৭
আমার কিছু কি ছিলো? কখনো? মনে পড়ে না। হয়তো ছিলো, হয়তো ছিলো না .......
সেই সাতসকাল থেকে সাতরঙা প্রজাপতির পিছনে ছুটতে ছুটতে যখন রোদেলা দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতো, সেই বিকেলটা ও যখন পাট চুকিয়ে সন্ধ্যের কোলে আশ্রয় নিতো চুপিসারে- আমি তখন মায়ের কোলে মাথা রেখে দুর্বার বেগে পঙ্খীরাজ ঘোড়া ছুটিয়ে, সবুজ ঘাসের মাস্তুল ছুঁয়ে চলে যেতাম সাত সমুদ্র তের নদীর ওপাড়ের অচিন দেশে রাজকন্যা উদ্ধারে। অবশেষে আজ এতটা পথ পিছু ফেলে এসে দেখি, সবই আছে, শুধু নেই সেই সোনারঙ বিকেল, জোছনা ঝরা অবাক সন্ধ্যা আর মায়ের আঁচলের গন্ধ।
ডানপিটে শিমুলকে খুব পছন্দ করতাম ক্লাশে ভর্তি হওয়ার প্রথম দিন থেকে। ওর সাথে মিলে কত যে দুষ্টুমি করেছি তা আজ কেবলই মধুর স্মৃতি। পরীক্ষার সময় শিমুল একটু বেশি ডিস্টার্ব করতো। একবার 'banana' শব্দের অর্থ লিখতে বলেছিল কোন এক পরীক্ষায় । শিমুলের ক্রমাগত প্যানপ্যানানিতে আমি একটু বিরক্ত। আমি তাকে বললাম লেখ- ক আকার ল আকার। সেও লিখে দিল- কালা। খাতা দেওয়ার দিন টিচার শিমুলকে দাঁড় করিয়ে বললো, তুই ব্যানানা অর্থ পারিস না। আজ থেকে তুই আর কলা খাবি না, কলার খোসা খাবি। দুরন্ত শিমুল আজ অনেক বড় ক্যাডার। আমার মতো পুরনো দিনের কথা ভেবে সময় নষ্ট করার মতো সময় এখন তার নেই।
আরো অনেক কিছুই আমার ছিলো যা আজ আর নেই। কলেজের সেই তুখোড় মেধাবী বন্ধুটি, যার নাম শ্যামলী। বন্ধুত্বের বাঁধন আড়মোড়া ভাঙ্গার আগেই সে হারিয়ে গেল চিরতরে। ব্রেইন টিউমার হয়েছিলো তার। হারিয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। টং-এর দোকানের চা, পার্সিভাল হিলের নির্জন সমতলে বন্ধুদের সাথে গিটারে সুর তোলা টুংটাং, কর্ণফুলীর ঢেউ, কবিতা ভাসান কিংবা রাত্রির নি:শব্দে একাকী তারা গোনা সময়। ঠিক যেন- দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইলো না . . . . .
তবে এসব ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতির বাইরে যে হারানোর ব্যাথা সবচেয়ে বেশি বাজে তা হলো হারিয়ে যাওয়া মূল্যবোধ। আমরা ভুলে গিয়েছি আমাদের অর্জন, আমাদের ত্যাগ, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। পুরনো শকুনেরা আবার খামচে ধরেছে আমাদের পতাকা। ধর্মের লেবাসে আবার রক্তাক্ত করছে সবুজ জনপদ। আমার দু:খিনি মা আজ কাঁদছে, সেই কান্নার শব্দ আমরা শুনতে পাই না। তবুও বলি- তোমার ভয় নেই মা আমরা, প্রতিবাদ করতে জানি।
সবই তো শূন্যের ঘরে। তাহলে আমার রইলো বাকি কি? আমার আমি তো আছিই। আরো আছে ক্রোধ, ঘৃণা, হাহাকার আর দু'চোখ ভরা স্বপ্ন নতুন দিনের নতুন গানের। তাই সুমনের মতো বলি-
হাল ছেড়ো না বন্ধু বরং কনঠ ছাড়ো জোরে,
দেখা হবে তোমার আমার অন্য গানের ভোরে।
প্রকাশ করা হয়েছে: হাল ছাড়িনি বন্ধু বিভাগে ।
অতিথি বলেছেন:
মনখারাপ কইরা দিলেন
অতিথি বলেছেন:
হ্যাঁ , শতকে ও দুই শুন্য, স হস্রে তিন, অযুতে চার, লক্ষে পাঁচ, নিযুতে ছয়, কোটিতে সাত!শুন্য কড়চা...
ভালো লাগলো ঝরা ।
ঝরা পাতা বলেছেন:
বদ্দা,মন খারাপ কইরা দিলাম? কি আর করা!
গুরু,
ধন্যবাদ অধমের পোস্টখান পড়ার জন্য।
বুবু,
কেমন আছো গো?
ঝরা পাতা বলেছেন:
হুম, খুব ব্যস্ততা। এখন থিসিস চলছে। ইউক-এন্ডেও কাজ করতে হয়।
ঝরা পাতা বলেছেন:
বাকী ভাই,ধন্যবাদ। কোন একদিন আপনার সাথে দেখা করার ইচ্ছে রাখি আগামী বছর।
গোধু বস,
অপরিসীম কৃতজ্ঞতা।
আবু সালেহ ভাই,
অবশ্যই শূন্য দামী জিনিস। আমি ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন? অনেকদিন পরে দেখছি আপনাকে।
ভাসমান বলেছেন:
না খেলতে হইবো নাইলে শতকের শুভেচ্ছা দিমুনা।
অতিথি বলেছেন:
হে বন্ধু ঝরা পাতা!কেন জাগিয়ে তোলো পুরোনো ব্যথা।
কিছু কথা ছিলো ব্যথার তরে
জানিয়ে দিয়ো থাকবো সেই ভোরে..
অতিথি বলেছেন:
দেখা হোক অন্য গানের ভোরে। না হোক এই জীবনে,
হয়তো হবে অন্য জন্মে!
ভাল্লাগছে। মন খারাপ হইতে হইতেও হয় নাই।
ঝরা পাতা বলেছেন:
ধন্যবাদ সাবি্বর, মৃন্ময় আর সাদিক ভাইকে।
অতিথি বলেছেন:
ছোট ছোট সুখ, ছোট ছোট দুঃখ। জীবন কত বৈচিত্রময়! কাজের ফাঁকে কোনো এক ছোট্ট অবসরে মনে করার চেষ্টা করি, শৈশব-কৈশোরের বন্ধুদের কথা। স্মৃতিগুলো বড় ঝাপসা হয়ে গেছে। তাদের অনেকের সাথেই সারাজীবনে কখনোই আর দেখাই হবে না। একটু কষ্ট বুকের গভীর থেকে ওঠে কণ্ঠনালীকে চেপে ধরতে চায়। আমি আবার চোখ ফেরাই আমার সামনে জীবনের তুলে ধরা উপহার চরম বাস্তবতাকে। দুঃখগুলোকে একটা দীর্ঘশ্বাসের মোড়কে ছড়িয়ে দেই এই রঙচঙে পৃথিবীর বাতাসে। আবার কলের পুতুল হয়ে যাই। জীবন হাসে।লিখা ভালো লেগেছে।
রাগ ইমন বলেছেন:
ঝরা,লেখা হিসেবে অসাধারন ভালো হয়েছে,তাও শুন্য দিলাম, মন খারাপ করে দেওয়ার জন্য! শকুন যেমন আছে, সে রকম আমরাও তো আছি। আমাদের মত আর ও আসবে, আমরা ফুটো খুঁজে নেব, আমরা ওদের কৌশল গুলো শিখে , একদিন ওদেরকেই রুখে দেব!
ভালো থেকো ভাইয়া, যতটা সম্ভব , স্বপ্নের সাথে ভালো থেকো!
শুন্যতা নতুনের সৃষ্টির স্থান দেয়, তাই না?
রাগ ইমন বলেছেন:
ঝরা,লেখা হিসেবে অসাধারন ভালো হয়েছে,তাও শুন্য দিলাম, মন খারাপ করে দেওয়ার জন্য! শকুন যেমন আছে, সে রকম আমরাও তো আছি। আমাদের মত আর ও আসবে, আমরা ফুটো খুঁজে নেব, আমরা ওদের কৌশল গুলো শিখে , একদিন ওদেরকেই রুখে দেব!
ভালো থেকো ভাইয়া, যতটা সম্ভব , স্বপ্নের সাথে ভালো থেকো!
শুন্যতা নতুনের সৃষ্টির স্থান দেয়, তাই না?
ঝরা পাতা বলেছেন:
দারুন বলেছেন চোর ভাই। স্পেশাল থ্যাংক্স।হযুদা,
আমি থাকতাম পুরান চারতলা ব্যাংক কলোনিতে।
আপু,
বোকা বোকা স্বপ্ন নিয়ে বোকার মতো বেঁচে আছি।
ত্রিভুজ ভাই,
আমি তো কোন অজানা পাঁচ দেইনি। এটা একটা সাধারণ পোস্ট।

















