আমার প্রিয় পোস্ট

যদি নির্বাসন দাও.................................................................. আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরী ছোঁয়াবো আমি বিষ পান করে মরে যাবো! বিষণ্ন আলোয় এই বাংলাদেশ নদীর শিয়রে ঝুঁকে পড়া মেঘ, প্রান্তরে দিগন্ত নির্নিমেষ- এ আমারই সাড়ে তিন হাত তুমি।

টাকার টাক-টাই দিলি (রম্য)

৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৮:৫১

শেয়ার করুন:                   Facebook


পাত্রীর দাবী একটাই, বরের মাথায় চুল থাকা চাই। এই সত্যটি উপলব্ধি করতে আমাদের ভুলু ভাইয়ের প্রায় তিন বছর লেগেছিল। তাতে লাভ (!) যা হলো তা হচ্ছে- উনার স্টেডিয়ামটা ফ্লাড-লাইট ছাড়াও টুয়েন্টি ফোর আওয়ার চকচক করতো। ভুলু ভাইয়ের ছিলো অসাধারণ এক কন্ঠ যা আমরা রীতিমত হিংসে করতাম। এই দুর্দান্ত কন্ঠের সুবাদে তিনি অনেক ললনাকেই ফোনে পটাতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু তার কোন মোবাইল-প্রেমই শেষ অব্দি পূর্ণতা পায়নি ওই চকচকে টাক মাথাটির জন্য।

একবার মিলি নামে এক মেয়ের সাথে প্রায় দীর্ঘ এক বছরের ফোনালাপ কিংবা প্রেমালাপের যবনিকা টানতে সিদ্ধান্ত হলো উনারা দেখা করবেন। ভুলু ভাই আমাদের কাছে আসলেন পরামর্শ নিতে কি করে উনার পঞ্চম প্রেমটাকে সার্থক পরণতি দেয়া যায়। একজন পরামর্শ দেয় তো পরচুলা লাগাতে আরেকজন হেয়ার প্লান্টেশন করতে, আরেকজন পত্রিকা নিয়ে আসে কোথায় যেন এক সপ্তাহের মধ্যে টাক মাথায় বাম্পার চুলের ফলনের নিশ্চয়তা দেয়া আছে। কিন্তু এসব কিছুই ভুলু ভাইয়ের পছন্দ হলো না। প্রথমত তিনি মিথ্যা অভিনয় করতে পারবেন না- দ্বিতীয়ত সার্জেন্টের নাম শুনলে তিনি একটু হৃদকম্প অনুভব করেন সে অর্থোপ্যাডিক হোক কিংবা পুলিশ সার্জেন্টই হোক- তৃতীয়ত বাম্পার হেয়ার ফলনের চেষ্টায় ইতিমধ্যে তিনি একবার তার চুলের এক-তৃতীয়াংশ হারিয়েছেন, ন্যাড়ারই দুইবার বেলতলায় যাওয়ার কোন কারণই নেই। অতএব, ভুলু ভাইকে বেশ কিছু দোয়া-দরুদের উপর ভরসা করেই পাঠানো হলো মোবাইল প্রেমিকার কাছে।

বেশ আগে থেকেই ভুলু ভাই এক বুক ধুকপুক নিয়ে ওয়েট করছিলেন। বুদ্ধি করেই মাথায় একটা টুপি চাপিয়ে গিয়েছিলেন। মিলির সাথে দেখা হলো। কথা বিনিময় হলো, বিস্তারিত পরিচয় বিনিময় হলো। ভুলু ভাইয়ের সাথে আড্ডাও বেশ জমে উঠলো। এবার বুঝি সত্যিই ভাগ্যের শিঁকে ছিড়তে যাচ্ছে! উত্তেজনায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেস্টুরেন্টেও ভুলু ভাইয়ের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে লাগলো। একসময় মিলি ব্যাপারটা খেয়াল করে বললো, আরে তুমি তো একেবারে ঘেমে গেছো, এক কাজ করো- টুপিটা খুলে রাখো। কথাটা শুনে ভুলু ভাইয়ের হৃদপিন্ড যেন তড়াক করে লাফ দিয়ে উঠলো। তিনি বললেন- না না, আমি ঠিক আছি। এই বলে রুমাল দিয়ে ঘাম মুছলেন। কিন্তু মিলি নাছোড়বান্দা, কোন অনুরোধই শুনবে না। অবশেষে ভুলু ভাইকে টুপি খুলতেই হলো। টুপি খুলতেই মিলির চোখ তো ছানাবড়া। অ্যা-মা তুমি তো দেখি একেবারে জয়সুরিয়া। ভুলু ভাই মনে মনে একটু খুশি হয়ে উঠলেন। এরপরই মিলি বললো- না বাবা, টাক মাথার কোন ছেলেকে আমি বিয়ে করতে পারবো না। সবাই আমাকে বলবে- টাকলুর বউ। ওফ নো! আর ভাবতে পারছি না। আমি গেলাম। ভুলু ভাইকে আরেকটা দীর্ঘশ্বাস উপহার দিয়ে হনহন করে সে বেরিয়ে গেলো।

ভুলু ভাই একা একা বসে আফসোস করতে লাগলেন- টাকা-র 'টাক' টাই দিলি 'া' দিলি না মা!


** শুধুই রম্য, কেউ আহত হলে ক্ষমাপ্রার্থী ।

(চলবে?)

 

প্রকাশ করা হয়েছে: হিং টিং ছট  বিভাগে ।

 

  • ১৪ টি মন্তব্য
  • ২১৯ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ২:৫৮
comment by: অতিথি বলেছেন: অলরেডী আহত ।
২. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৩:১৩
comment by: অতিথি বলেছেন: পারফেক্ট!
রম্য হিসেবে অসাধারণ।
৩. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৩:১৮
comment by: অতিথি বলেছেন: ক্যাঠা আহত হইবে?
ফটুকের চুম্বুক কুমারটা কি ভুলু ভাই নাকি আমাগের উত্তর-পচিম পাড়ার ঝরু মিয়া?
৪. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৩:৫০
comment by: অতিথি বলেছেন: এখনও আহত হইনাইক্যা। আরও 10/12 বছর লাগবো আহত হইতে!

৫. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৫:৩৭
comment by: ঝরা পাতা বলেছেন: হা হা হা!!! @ রিফাত ভাই।

চোর ভাই,
থ্যানকু।

গোধু বস,
আপনে খালি প্যাচকি লাগান। চুম্বুক কুমার না, ভুলু ভাইয়ের গতি হইছে, হেইডা পরের পর্বে আসতেছে।

দ্রোহী,
ততদিনে শুভকর্মটা সেরে ফেলুন চটজলদি। জানেনই তো পাত্রীর দাবী একটাই ......
৬. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: সেমি আহত হইছি !!!
:S
৭. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ৯:১৬
comment by: অতিথি বলেছেন: আমি মাইন্ড খাই নাই। আপনিই বুঝলেন খালি
৮. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ৯:২০
comment by: অতিথি বলেছেন: আরও কিছুদিন লাগবে আহত বা নিহত হতে।
৯. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ৯:২৪
comment by: অতিথি বলেছেন: ওটা সেরে ফেলেছি গত এপ্রিলেই @ ঝরাপাতা
১০. ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ২:৩৯
comment by: অতিথি বলেছেন: ঝরার মত বাল (চুল) ও ঝরে গেলে আহত বা নিহত হবার কি আছে?
১১. ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ২:৫৪
comment by: অতিথি বলেছেন: ওজনী লেখা!
টাক নাকি টাকা আনে? সত্য নাকি? অভিজ্ঞরা আওয়াজ দিন প্লিজ!
১২. ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৪:৩০
comment by: অতিথি বলেছেন: হা হা হা

সাদাত ভাই,
কোন ধারণা নাই,....

এই ঝরা...

জটিল লিখছো.... এখন হাসি

ধন্যবাদ।
১৩. ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১:৪৭
comment by: ঝরা পাতা বলেছেন: ঠুনকো,
ব্যাপার না, পরের পর্বে পোষায়া দিমুনে।

আস্ত,
মাইন্ড খান নাই জাইনা খুশি হইলাম।

সুমন ভাই,
আপনের আহত বা নিহত কোনটাই হওন যাইবো না।

দ্রোহী,
এ কাম করেন। কবে যে আমিও . . . .

ক্যামিকেল,
আপনে আয়োডিনের অভাবে ভুগতাছেন বইলা মনে হইতাছে।

শিমুল ভাই,
ওজনী লেখা? ওজন কতো বস? লইজ্জা দিয়েন না আর!

সাকিব,
আসলেই কি জটিল লিখছি? আমার তো কুটিল মনে হইতাসে।

সবাইকে আবারো ধন্যবাদ।
১৪. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:৪৪
comment by: অতিথি বলেছেন: ওজন হইলো, সাধারণ পরিবহন সমগ্র বাংলাদেশ পাঁচ টন। অর্থাৎ, রেটিং 5 এ 5।

 

 


[ইটালিক]

পাঠকের উপর আস্থা শতভাগ। ফুলে সুরভি থাকলে কদরদানের অভাব হয় না, ভ্রমর আপনিই ছুটে আসবে!!!

নিজেকে আবিষ্কারের চেষ্টা করছি।...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ২৭৫৯৪