somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ললনা ভজঘট (ধুসর গোধূলিকে টুকলিফাই করে)

৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেদিন আমি, আরিফ আর তামিম ভাই বেরুচ্ছিলাম টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম ক্লাশ থেকে।

বের হতে হতে আরিফ জিজ্ঞেস করলো- তামিম ভাই, পিটুপি কমিউনিকেশন বলতে কি বুঝালো কিছুই তো বুঝলাম না।

তামিম ভাই একগাল হাসি নিয়ে চশমাটা ডান হাতের তর্জনী দিয়ে কিয়ত উপরে ঠেলতে ঠেলতে বললেন- আরে এইটা বুঝলা না। এইটা হলো এক ধরনের কমিউনিকেশন। তোমারে যে কেমনে বোঝাই! আচ্ছা- এই যেমন ধরো আমার সাথে সুরাইয়ার রিলেশন এইটা হচ্ছে একটা পিটুপি মানে পয়েন্টু টু পয়েন্ট কমিউনিকেশনের উদাহরণ। এক পয়েন্টে আমি আর এক পয়েন্টে সুরাইয়া, মাঝে কিচ্ছু নাই।

আরিফ বললো- কিন্তু আপনার সাথে তো এখনো সুরাইয়ার ভালো করে কথাই হয়নি। এর মাঝে রিলেশন হলো কি করে? তাও একেবারে পয়েন্ট টু পয়েন্ট!

তামিম ভাই আবার হাসলেন। আরে সব রিলেশন কি বাইরে থেকে বোঝা যায়? এইটা হলো আন্ত:সংযোগ। অন দ্যা এয়ার।

আমি তামিম ভাইয়ের কথায় সম্মতি জানাই। এরই মাঝে কখন যে সুরাইয়া পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে খেয়াল করিনি। সে জিজ্ঞেস করলো, সিরিয়াস আলাপ হচ্ছে মনে হয়। আরিফকে খুব চিন্তিত দেখাচ্ছে।

এখানে বলা রাখা বলো, সুরাইয়া হচ্ছে পারস্য দেশের ললনা যাকে নিয়ে তামিম ভাই দিবানিশি গান ধরেন- দিন গেলো তোমার পথ চাহিয়া। আরিফ সবসময় বলে আসছে সে তামিম ভাইয়ের সাথে সুরাইয়ার সম্পর্ক সুপার গ্লু দিয়ে জোড়া লাগানোর জন্য অনুঘটক হিসেব কাজ করছে, কিন্তু তাকে বিশ্বাস করা মুশকিল। একে তো কন্যা রাশির জাতক, তার উপর আবার বিশ্বপ্রেমিক। আমি ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মতো। দুজনের কথাতেই সায় দিয়ে যাই আর মজা দেখি।

সুরাইয়া আরিফের কথা জিজ্ঞেস করাতে আরিফ একটু গর্বিত হয়। মনে মনে ভাবে সুরাইয়া আমার সবকিছু খেয়াল করে। তামিম ভাই একটু মনক্ষুণ্ণ হন। তারপর বলেন- তেমন কিছু না, ওকে পিটুপি সম্পর্কে বলছিলাম। হঠা‍ৎ দেখি দাড়ি নাচাতে নাচাতে মৌলবী (যদিও আমরা দুষ্টুমি করে বলি মৌ-লোভী) এসে হাজির। মৌলভী খুবই ধর্মপ্রাণ মানুষ। আমরা তার সাথে দুষ্টুমিও করি আবার তাকে অসম্ভব পছন্দও করি। মৌলবী যদিও প্রেম-ভালোবাসাকে জায়েজ মনে করেন না তবুও পারস্য দেশের রাজকন্যার (!) প্রতি যে তার কিছুটা দুর্বলতা আছে তা গোপন করতে পারেন না কখনো।

মৌলবী আমাদের অবাক করে দিয়ে বলেন- কেমন আছো সুরাইয়া? আমাদের অবাক হওয়ার কারণ এই প্রথম তিনি কোন মেয়েকে এরকম প্রশ্ন করলেন। সে যাক গে।

সুরাইয়া তার মারাত্মক অস্ত্র ভুবন ভোলানো হাসি দিয়ে বলে- আমি ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন।

মৌলভী বিনয়ে বিগলিত হয়ে গেল। উত্তর দেয়ার সময় এমনভাবে মাথা ঝুকালো মনে হলো এই বুঝি সুরাইয়ার সাথে একটা কলিশন হয়ে গেলো। আরিফ আর তামিম ভাই যে তখন মনে মনে মৌলবীর চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধারে নেমেছিল তা বলাই বাহুল্য।

যা হোক, অতপর আরো কিছুক্ষণ কথা হলো। যাওয়ার আগে সুরাইয়া আমার দিকে তাকিয়ে বললো- তুমি তো ক্লাশ লেকচারটা নোট করেছো দেখলাম। ওটা একটু আমাকে দিলে উপকার হতো।

ক্লাশ লেকচার মানে মূলত স্লাইডের বাইরে টিটার যে কথাগুলো বলেন সেগুলো। আমি বললাম- আমি তো পয়েন্টগুলো বাংলাতে লিখেছি। কাজেই সেগুলি ইংরেজিতে কনভার্ট করতে হবে। আর আমার ইংরেজি জ্ঞান একেবারে 'ক অক্ষর গো মাংস'। তুমি যদি হেল্প করো তবে ভালো হতো।

সুরাইয়া রাজি হলো। সে বললো- তোমার ফোন নাম্বারটা দাও। আমি ফোন করে সময় জানাবো। আমি বুঝতে পারলাম, যদি দিব্যশক্তি থাকতো তবে তামিম ভাই আর আরিফের অগ্নিদৃষ্টিতে আমি এতোক্ষণে ভস্মীভূত হয়ে যেতাম। কিংবা মৌলবীর লানতে ছাগুরাম হয়ে ম্যা ম্যা ও শুরু করে দিতাম। মোবাইল নাম্বার দিয়ে আমরা বিদায় নিলাম।

সেদিন রাতে যখন তামিম ভাইয়ের রুমে যাই তখন বাইরে থেকে শুনি আরিফ আর তামিম ভাইয়ের দ্বৈত সঙ্গীত সাধনা। দুজনে গান ধরেছে উদাস কন্ঠে- 'থাকতে যদি না পায় তারে, চাইনা মরিলে, ভালোবাসি বলে রে বন্ধু আমায় কাঁদালে'। তবে দুজনের মুখ দু'দিকে ফেরানো। আমি বাইরে থেকে উঁকি দিয়ে চলে এলাম। নামতেই সিড়ির মুখে মৌলবীর সাথে দেখা, নামায পড়ে আসছিলেন। তিনি গুনগুন করে গাইতে গাইতে উপরে উঠছিলেন- '৭০টা হুর পরীতে বন্ধু আমার তো কাম নাই, আমি দোযখে যাবো।' শুনে তো আমার আক্কেলগুড়ুম।

আমাকে দেখে মৌলবী একটু লজ্জা পেলো মনে হয়। আমি মৌলবীকে বললাম- আপনি যদি ক্লোজ-আপ ওয়ানে অংশ নিতেন তবে সালমা-টালমা ভাত পেতো না কিংবা ওই দারুচিনি দ্বীপের নায়িকার সন্ধানে থুক্কু নায়কের সন্ধানে। মৌলবী লজ্জামাখা মিষ্টি হাসি দিলো। এরপর পকেট থেকে টুপি বের করে মাথায় দিলো। মৌলবীকে এখন জামাই জামাই লাগছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:৩৮
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×