somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সচলায়তনঃ একটা দিঘীর নাম

০১ লা জুলাই, ২০০৭ ভোর ৪:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথমে একটা গল্প বলে নেই.

একটা ছোট্ট ছেলে. বর্ণমালার অক্ষরগুলো শেখা হয়ে গেলে সে বাবার কাছে আব্দার করে শ্লেটের জন্য. বাবা প্রতিদিন আনবে বলে কথা দেয় কিন্তু ভুলে যায়. এরপর একদিন ছেলেটা খুব অভিমান করে, তার চোখে জল এসে যায়. ছেলের চোখের জল বাবার চোখ এড়াই না. পরদিনই বাবা শ্লেট নিয়ে আসেন. সেদিন ছেলেটার সে কি আনন্দ! কেউ পুরো পৃথিবীটা তার হাতের মুঠোয় তুলে দিলেও বোধহয় সেরকম সুখ সে পেত না. তার যতটা না আগ্রহ বর্ণমালার অক্ষর লেখায় তার চেয়ে বেশি আগ্রহ আঁকিবুকি করাতে. কখনো নদী, কখনো ফুল, কখনো মেঘ-ঘাস-নৌকা-মাছ-পাখি-গাছ আরো কতো কি হাবিজাবি. খড়িমাটি যাকে চক বলা হতো, সেই খড়িমাটি দিয়ে বিচিত্র সব চিত্রকর্ম আঁকতো সে আর ছুটে গিয়ে মাকে দেখাতো. মা খুশি হওয়ার অভিনয় করতেন আর উৎসাহ দিতেন- খুব সুন্দর হয়েছে বলে. ছেলেটি তখনো চক ধরতে শেখেনি ঠিকমতো. তাই প্রথম প্রথম সেগুলো ভেঙে তিনটুকরো হয়ে যেত. সেটা দেখে প্রথম প্রথম তার খুব কান্না পেতো. অসহায় চোখে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকতো সে.

একসময় ছেলেটি লিখতে শিখলো. আঁকতে শিখলো. এরমাঝে সে দেখলো তার প্রিয় শ্লেটটি কেমন জানি মলিন হয়ে গেছে. পড়শী ছেলেটা একদিন কলম দিয়ে খুঁচিয়ে দিয়েছে তার প্রিয় আঙিনাটিকে. সেদিন সে সারারাত কেঁদে বুক ভাসিয়েছে সঙ্গোপনে. কেমন জানি বয়েসের ছাপ পড়ে গেছে শ্লেটটাতে. শিমুলের খোঁচাগুলি কলংকরেখার মতো ফুটে ওঠেছে ওটার বুকে. এভাবেই দিন চলে যাচ্ছিলো.হঠাৎ একদিন সে আবিষ্কার করে তার সমবয়েসীরা অনেকেই ইতিমধ্যে খড়িমাটি আর শ্লেট ফেলে কলম দিয়ে রোলটানা খাতায় লিখতে শুরু করেছে. রোলটানা খাতায় নাকি লেখার মজাই আলাদা. সে প্রতীক্ষায় থাকে কখন সে দিন আসবে. অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই সে সুযোগটা পেয়ে যায়. এখন সেও রোলটানা খাতায় ইচ্ছেমতো আঁকিবুকি করতে পারে. মনের কথাগুলিকে প্রকাশ করতে পারে স্বচ্ছন্দে. ছেলেটা মশগুল হয়ে পড়ে নতুন লেখার পরিবেশে. এক অন্যরকম মুক্তির স্বাদে সে খুঁজে পায় নিজেকে.

তবুও মাঝে মাঝে কেমন একটা মায়া অনুভব করে সে পুরনো অতি প্রিয় শ্লেটটির জন্য. এখনো সে মাঝে মাঝে হাতে নিয়ে দেখে তাকে, গভীর মমতায় হাত বুলায়, আদর করে, একটা দুটো দাগ কাটে সন্তর্পণে. সে বুঝতে পারে, জীবনের প্রথম ভালোবাসা মনের দর্পণে যে সূক্ষ আঁচড় কেটে গেছে তাকে অস্বীকার করার ক্ষমতা তার নেই. সে করেও না. তাই সে বার বার ফিরে আসে তার ভালোবাসার কাছে.

গল্পটা শেষ. এবার মূল কথা বলি. আমি মূলত পাঠক. পাঠক হিসেবেই দু'চারটা লেখা প্রকাশ হয়েছে ভোরের কাগজ, প্রথম আলো, উন্মাদ, বাংলালাইভ আই পত্রিকা আর হাজারদুয়ারীতে (হাজারদুয়ারী সম্ভবত সবার লেখাই ছাপায়). আমার লেখার ফল্গুধারা শুরু হয় সামহয়্যারকে কেন্দ্র করেই. আমার প্রায় দুশো পোস্টগুলি কখনো লেখা হতো না যদি এই ব্লগের ঠিকানা না পেতাম. মূলত পাঠকদের সাথে ইন্টার-অ্যাকশনই মূল আকর্ষণ এই ব্লগের. সেখানে এসেই পেলাম একঝাঁক প্রতিভাবানদের. দারুন সব লেখা, ভাবনা, বিতর্ক নিয়ে কখন যে বছর কেটে গেছে বুঝতেই পারিনি. তারপর এলো এক কালো মেঘ. সব লন্ডভন্ড হয়ে গেলো. ব্লগে ব্লগে ঘুরে বেড়াই, কিন্তু পড়ার মতো কিছু পাই না. খুব কষ্ট পেয়েছিলাম তখন. সেসময়ই হাসান মোরশেদের আমন্ত্রণ আসে সচলায়তন থেকে. এটা আমার জন্য বাড়তি উচ্ছ্বাসের ব্যাপার. কারণ হাসান মোরশেদ আমার কাছে অসাধারণ একজন লেখক. অতি ছোট্ট ঘটনাকে এমন নিপুণতার সাথে উপস্থাপন খুব কম লোককেই করতে দেখেছি. আরেকজন সে কাজটা পারেন তিনি বিগ. সি. সচলায়তনে গেলাম. গিয়ে দেখি আমার সেই রোলটানা খাতা.

দারুন সব পোস্ট. অনেক অসাধারণ ব্লগারের লেখা সামহয়্যারইনে চোখ এড়িয়ে গেছে ভীড়ের কারণে তাদের আবিষ্কার করি সচলায়তনে. তার মধ্যে মুহম্মদ জুবায়ের, যূথচারী, সুমন রহমান অন্যতম. আর পুরনোদের লেখায় আগের চেয়ে আরো বেশি যত্নের ছাপ. আমি মুগ্ধ হই, আমি আপ্লুত হই. আমি ডুবে যাই সচলায়তনের ভালোবাসায়, ঘ্রাণ নেই নতুন সম্ভাবনার. কিন্তু সামহয়্যারইনকে কখনোই ভুলিনি. তাই এখনো নিয়মিত পোস্ট করি সামহয়্যারইনে. এ যেন আমার কাছে দুটো পিঠাপিঠি ভাই. সামহয়্যার অগ্রজ, পথ-প্রদর্শক আর অনুজ সচলায়তন, নতুন নতুন লেখক আবিষ্কারের কারখানা. এই দুই ভাইকে নিয়েই আবর্তিত হবে আমার ভার্চুয়াল পথচলা.

সবশেষে একটা লাইনেই নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে চাই. শেষের কবিতার মতো করেই বলি-

"সামহয়্যারইন আমার কাছে হচ্ছে ঘড়ায় তোলা জল, যা ইচ্ছে হবে লিখবো, আর সচলায়তন হচ্ছে দীঘি যেখানে স্বাধীনভাবে সাঁতার কাটবো." যেখানে সাঁতার কাটতে গেলে প্রস্ততির প্রয়োজন।


--- লেখাটি একইসাথে সচলায়তনে প্রকাশিত।।।।।।।.
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০০৭ ভোর ৪:২৮
৪২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×