somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... প্রত্যাখ্যান . . .
বিগত জন্মের ক্ষয়ে যাওয়া স্মৃতি আর
মৃত্তিকা-প্রেমের পলল সমভূমির মায়া ছেড়ে আজ
হাত বাড়িয়েছিলাম আকাশের দিকে।
তখনই আকাশ উঠলো কেঁদে,
মেঘে মেঘে সে দেখাল সহস্র বজ্রের ঝঙ্কার,
অতপর: ঘৃণাভরে একরাশ অবিশ্বাসী জল
ছুড়ে দিলো আমার পানে।
হায়, আমি তো একমুঠো নীল চেয়েছিলাম,
নীলকন্ঠের চেয়েও নীলাভ হবো বলে
বাজি ধরেছিলাম প্রেমিকার সাথে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28843251 http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28843251 2008-09-14 23:59:27
বন্ধু সমাচার কতোদিন দেখা হয়নি !
_______________________


আমি মানুষ হিসেবে বরাবরই অর্ন্তমুখী। না শব্দটা যুতসই হলো না। আমি আসলে অনেকটা শামুক টাইপের মানুষ। নিজের খোলস ভেঙ্গে বের হতে পারি না, শুধু নিজের ভেতর গুটিয়ে থাকি। আমার বন্ধু বলতেও আছে হাতে গোনা কয়েকজন। তবুও কেন জানি দেশে ফেরার পরে সেই কয়েকজনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করি।


ঘটনা : ১
_____

আমার ঘনিষ্ট বন্ধুদের একজন হলো আলম। অন্য বন্ধু মারফত খবর পাই, বদমায়েশটা বিয়ে করেছে। বউ তার ইয়ারমেট, চট্টগ্রাম মেডিকেলেরই। শালা যে বিয়ের দাওয়াত দেয় নাই মূলত: সেই উদ্দেশ্যে তার চৌদ্দগুষ্ঠী উদ্ধার করার জন্যই ফোন লাগাই সন্ধ্যার দিকে। রিং হতে থাকে রিসিভ করে না। আবার রিং দেই। এবার একটা কোমল কন্ঠের স্বর ভেসে আসে

- হ্যালো স্লামালাইকুম।
--ওয়াইলাইকুম আসালাম, আমি আলমের ফ্রেন্ড, অভ্র।
- আমি মিসেস আলম বলছি। ওতো এখন নামাজে।

আমি তো রীতিমত আকাশ থেকে পড়লাম। যে ছেলে কথা বলার সময় প্রতি তিনটা শব্দের পরে একটা অবধারিত গালি ব্যবহার করে সে এখন নামাজ পড়ছে। এর আগে ঈদের দিনেও তাকে নামাজ পড়তে দেখেছি বলে মনে পড়ে না। আমি তোতলাতে তোতলাতে বললাম-

-- ভাবী, নাউজুবিল্লাহ বলবো, না আলহামদুলিল্লাহ বলবো বুঝতে পারছি না।
- কেন? আপনার বন্ধু ভালো হয়ে যাচ্ছে সেটা কি ভালো নয়?
-- তা ঠিক। তার মানে আপনি স্বীকার করছেন, সে আগে খারাপ ছিলো?
- হ্যাঁ, তা একটু তো ছিলো।

এরপর আরো কিছুক্ষণ ভাবীর সাথে গল্প হয় কিন্তু আমার বন্ধুর নামাজ শেষ হয় না। শেষে পরে ফোন করবো বলে লাইন কেটে দিই।

----------------------------
ঘটনা : ২
_______________

রোজা তখন প্রায় শেষ দিকে। হঠাৎ করে পুরনো বন্ধুদের কাছ থেকে ইফতার পার্টির দাওয়াত পাই। এক আড্ডায় অনেক পরিচিতজনের সাথে দেখা হবে, সো এই চান্স মিস করা ঠিক হবে না ভেবে সাথে সাথে রাজী হয়ে যাই। মহাখালীর আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে ইফতারের আয়োজন হয়। অনেক পুরনো বন্ধুদের মাঝে জাওয়াদকে দেখে একটু দৃষ্টিভ্রম হয়। কারণ ভার্সিটিতে থাকতে তার মুখ ভর্তি দাড়ি ছিলো। এখন দেখি সব হাওয়া। বাবুকে জিজ্ঞেস করি,

- কি ব্যাপার, আমাদের মৌ-লোভী সাহেবের দাড়ি-টাড়ি গেলো কই? জে.এম.বি. সন্দেহে ড়্যাব-ট্যাব ধরছিলো নাকি?
-- আরে না, ঢাকা ভার্সিটির হাওয়া লাগছে না গায়ে, তাই ভেক পাল্টায়া ফেলছে। ও তো এখন ঢাবিতে এম.বি.এ. করতেছে।
- ও আচ্ছা। তা শুধু কি গেটআপ চেইঞ্জ হয়েছে, নাকি স্বভাবও চেইঞ্জ হয়েছে?
-- ওটা কি এতো সহজে বদলানো যায়?

আমরা গেলাম জাওয়াদের কাছে। বাবু প্রথমে শুরু করে-
- এসব কি শুনতাছি দোস্ত? তুমি নাকি ডুবে ডুবে জল খাইতেছ?
-- কি শুনতেছ বলো?
- শুনলাম, তুমি নাকি এক মাইয়ার প্রেমে পইড়া দাড়ি ফালাইয়া দিছো? কেন দোস্ত? চুমা খাইতে সমস্যা হয় বইলা?
-- কি সব বেত্তমিজি কথা বলতেছ। আল্লাহ তোমার হেদায়েত করুক। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেছি- তিনি তোমারে একটু হায়া শরম দিক।
- ও আচ্ছা, তুমি করতে পারো আর আমি কইতে গেলে হাজী সাহেবের মুখটা খারাপ না? তা, আল্লাহর কাছে চাইলে কি সব পাওয়া যাইবো?
-- অবশ্যই যাবে। তুমি সৎভাবে চাও, দেখো পাও কিনা।
- ধুর মিয়া, আর ভাব .....ইয়ো না। তুমি যে আমার কাছে নর্থ-সাউথের মাইয়াদের মোবাইল নাম্বার চাইছিলা! কেন, ওইটা আল্লাহর কাছে চাইতে পারো নাই?আল্লাহ তো তাইলে তোমার ফোনবুক ভরাইয়া দিতো।

আমাদের তখন হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যায়। জাওয়াদের মুখেও মিটিমিটি হাসি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28781616 http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28781616 2008-03-22 22:56:55
কালকে খুব চেয়েছিলাম, আজকে আর চাইছি না নিজের ভেতর ঘামবো তবু, দেহের আঁচে নাইব না।
কালকে যে খুব চেয়েছিলাম খুলতে খোপার চুল,
দু’হাত দিয়ে ঠেললে দূরে, করলে বিরাট ভুল।
আজকে শুধু দেখব চেয়ে চোখের ভেতর চাঁদ,
যতই তুমি হওনা ব্যাকুল ভাঙ্গবে না’তো বাঁধ।
চেয়েছিলাম কালকে ঠিকই গোলাপ রাঙা অধর,
জঠর ভরা সোহাগ দিতে, দিতে রঙিন আদর।
আজকে শুধু মন ছুঁয়েছে বুকের মাঝে তিল,
ঠোটের নীচে তিনটে দাগে চিবুক কেমন নীল।
কালকে যেমন চেয়েছিলাম মুঠোয় ভরা পদ্ম,
পাহাড়-নদী-জল-জ্যোৎস্না চাইছি না আর অদ্য।
আজকে শুধু দেখব আমি, তোমায় কাছে টানব না,
কালকে তোমায় চেয়েছিলাম আজকে কিন্তু চাইব না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28755372 http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28755372 2007-12-31 14:21:49
রক্তাক্ত প্রান্তরে বিবর্ণ অনুভূতির কথামালা

আচ্ছা, এমন কি হতে পারে না! একটা ছোট-খাট দুর্ঘটনা। এই যেমন- প্রতিদিনের মতো অফিস যাওয়ার পথে যেই না বিজয় স্মরণীর মোড় পেরুতে যাচ্ছি অমনিই র্র্যাংগস ভবনটা ধ্বসে পড়ল গাড়ির উপর। চিড়ে চ্যাপ্টা হয়ে ইট-পাথরের স্তুপের নীচে যন্ত্রণায় ছটফট করছি আমি আর অপেক্ষা করছি কেউ এসে উদ্ধার করার জন্য। এভাবে অপেক্ষা করতে করতে একসময় সারা শরীর অবশ হয়ে আসলে অতপর ঢলে পড়লাম অনিবার্য মৃত্যুর কোলে। বাইরে অপেক্ষমান আমার পরিবার-পরিজন চিৎকার আর আহাজারিতে ভারী করে তুলছে বাতাস। তারা শুধু শেষবারের মতো আমার থেঁতলে যাওয়া মুখটা দেখতে চায়, পরম যত্নে অন্তিম বিদায় জানাতে চায় প্রিয় মানুষটিকে। অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকলে একসময় পচতে থাকে লাশ, দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে বাতাসে বাতাসে, যদিও সে বাতাস এই শহরের বড় বড় গিঞ্জি দালানগুলো পেরিয়ে কখনোই পৌঁছাতে পারে না প্রহরীবেষ্টিত ওই সাদা দালানের ভেতরে। তবু যদি কখনো একখন্ড উন্মুক্ত প্রান্তরে ক্ষণিক সময়ের জন্য অবস্থানের সুযোগ ঘটে, আমি নিশ্চিত জানি, হে মহামান্য রাষ্ট্রপ্রধান আপনি তখন নূন্যতম সময়ের জন্য হলেও এক দমকা বোঁটকা গন্ধে নাসিকা কুঞ্চিত করতে বাধ্য হবেন যদি না আপনার অনুভূতির শেষ অংশটুকু অবশিষ্ট থাকে।

কেউ আপনাকে প্রশ্ন করার ধৃষ্ঠতা দেখাবে না। কারণ তারা জীবিত, আর জীবিতদের বড় ভয় ওই আটপৌঢ়ে জীবনটাকে নিয়ে। তাই তারা চোখের জলে বুক ভাসাবে কিন্তু রক্তে প্লাবন জাগাতে পারবে না কখনো। কিন্তু মৃত মানুষের এসবের কোন বালাই নেই। তাই- হে মহামান্য আইন রক্ষক, আমি সবিনয়ে আপনার কাছে জানতে চাই- কি এমন জরুরী প্রয়োজন ছিল ভবনটিকে মাত্র একদিনের নোটিশে ভাঙ্গার, কেন ভবন ভাঙ্গার কাজে অদক্ষ একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, কেন বুয়েট বিশেষজ্ঞ সহায়তা দিতে অপারগ হলে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করা হলো না? আমি জানি, এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার কোন দায় নেই আপনার। শুধু এটুকু জানতে চাই- আপনাদের মহান অভিপ্রায়গুলো বাস্তবায়নের পথে আর কতোজন সাধারণ মানুষকে নির্মমভাবে বলি হতে হবে?


তোমাকে মিনতি করি কখনো আমাকে তুমি বাঙলাদেশের কথা তুলে কষ্ট দিয়ো না।
জানতে চেয়ো না তুমি নষ্টভ্রষ্ট ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইলের কথা; তার রাজনীতি,
অর্থনীতি, ধর্ম, পাপ, মিথ্যাচার, পালে পালে মনুষ্যমন্ডলি, জীবনযাপন, হত্যা, ধর্ষণ,
মধ্যযুগের দিকে অন্ধের মতোন যাত্রা সম্পর্কে প্রশ্ন ক’রে আমাকে পীড়ন কোরো না;
আমি তা মুহূর্তও সহ্য করতে পারি না,- তার অনেক কারণ রয়েছে।
----------- (হুমায়ুন আজাদ)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28751326 http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28751326 2007-12-13 13:58:31
শঙ্খ নদীর তীরে .....

বি.দ্র : নীচের ঠিকানার ব্লগটি আমার নয়।

Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28750718 http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28750718 2007-12-10 19:43:32
বিদায় প্রিয় ক্যাম্পাস . .
প্রতিটি মানুষ শুধু এই স্মৃতি নিয়েই বাঁচে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28729561 http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28729561 2007-09-05 16:02:58
যে থাকে বিশদ পরাণে
পাড়ার মোড়ের চায়ের দোকানটায় আমাদের আড্ডা। সমাজ, সংস্কৃতি, সাহিত্য, রাজনীতি, খেলাধূলা কোনটাই বাদ যায় না আমাদের আলোচনা থেকে। এ যেন মাসকাওয়াথ আহসানের 'অদ্ভুত আধাঁর এক'-এর অ্যারিষ্টটলের পাঠশালা। 'কাশবন' নামে একটা সাহিত্য ক্লাব নিয়েই আমাদের চিন্তা-ভাবনার আবর্তন। রাজনীতি থেকে সবাই একটা নিরাপদ দূরত্বে। কেন জানি রাজনীতিটাকে বড় বেশি অর্থহীন মনে হয়। তারচেয়ে ঢের ভালো জীবনানন্দের কবিতায় লক্ষীপেচাঁর ডাক শোনা, আহমদ ছফার প্রবন্ধ সংকলনের বিশ্লেষনে কালক্ষেপন করা, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের 'বহে জলবতী ধারা' থেকে শৈশবের হারিয়ে যাওয়া নদীটাকে খুঁজে ফেরার চেষ্টা করা কিংবা আবু হাসান শাহরিয়ারের জবানীতে উত্তরাধুনিকের ব্যবচ্ছেদ করা। তবুও আমরা দূরে থাকতে পারিনা। সাহিত্যের অলি-গলি-পাকস্থলি ভ্রমণ শেষে একসময় আমরা যখন সবুজ আঙিনার সম্ভাবনার দিকে দৃষ্টিপাত করি তখন রাজনীতি প্রসঙ্গই উঠে আসে প্রাসঙ্গিকভাবে। আমরা তখন হতাশ হই।

আমাদের সাত জোড়া চোখ গ্রাস করে গাঢ় অন্ধকার। স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দলটি এখন আদর্শচ্যুত, নীতিহীনতার গড্ডালিকা প্রবাহে আকন্ঠ নিমজ্জিত। অন্য বৃহত্তর দলটির নীতিই নেই, যুদ্ধপরাধীদের নিয়ে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ করে চলেছে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল। শহীদ মিলনের আত্মদান আর নুর হোসেন রক্তের দাগ হৃদয় থেকে মুছে ফেলার মতো দু:সাহস নেই বলে স্বৈরাচারী ভাঁড়কে মেনে নেয়ার প্রশ্নই আসে না। বামদলগুলোর প্রতি কিছুটা সহানুভূতি এখনো রয়ে গেছে (কাগজের দাম বাড়লে এখনো যে প্রথম প্রতিবাদটা তাদেরই করতে দেখি) যদিও তাদের বেশিরভাগই ক্ষমতাসীনের লেজুড়বৃত্তি করতে করতে নিজেরাই অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। আমাদের সামনে এখন কোন আইকন নেই। স্বাধীনতা উত্তর সময়ে কোন রাজনীতিবিদই আইকন হতে পারেনি। তাই আমরা দ্বিধাযুক্ত।

তবে একজন মানুষ আছেন যিনি দ্বিধাহীনভাবে আমাদের হৃদয় জুড়ে আছেন। তিনি কালের ক্ষুদ্র কোন অংশ নন, তিনি নিজেই এক মহাকাল। তিনি ইতিহাসের সামান্য এক চরিত্র নন, তিনি নিজেই এক ইতিহাস। তাঁর নাম শেখ মুজিবুর রহমান। যাঁর সাহসিকতা, অবিচল সংগ্রাম, আর সুনিপুণ দিকনির্দেশনায় আজ আমরা লাল সবুজের পতাকার গর্বিত মালিক। আমরা তাঁকে বাবা বলেই জানি, নিজের বাবার মাঝে সতত তাঁর ছায়া খুঁজে বেড়াই।


২.

আমরা যেখানে আড্ডা দেই ঠিক তার বিপরীতে আরেকটা দোকান আছে। সেখানেও আড্ডা চলে নিয়মিত। আমরা তাদের এড়িয়ে চলি আদর্শগত অবস্থানের কারণে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া আর তার ফাঁকে রগ-কাটা বিদ্যায় পারদর্শী হওয়ার মতো মনোবৈকল্য আমাদের ঘটেনি এখনো। তবে দিন কয়েকের মধ্যে যখন অনেকের বেশ-ভূষা পাল্টে যায়, রঙচঙা টি শার্টের বাহার দেখি তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না বায়তুল মালের টাকায় ভালোই দিন কাটছে ওদের। আমাদের সাথে তাদের বিরোধ নেই, সখ্যতা থাকার তো প্রশ্নই ওঠে না। এভাবেই কেটে যেচ্ছে দিন।

তবে নির্বিরোধ থাকা খুব বেশিদিন সম্ভবপর হলো না। ক্ষমতার দাপটেই বোধহয় আমাদের আড্ডার ডানপাশের ওয়ালে, যেখানে আমরা লিখেছিলাম- 'রোদ্দুরেই শুধু জন্মাবে বিদ্রোহ, যুক্তিতে নির্মিত হবে সমকাল - কাশবন' সেই লেখাটা মুছে ফেলা হলো। আমরা ক্ষুব্ধ হই, পাভেল ভাই আমাদের শান্ত করেন, ধৈর্য্য ধরতে বলেন। আমরা ধৈর্য্য ধরি। তার ঠিক দুই দিন পরে দেখি, সে জায়গায় লেখা হয়েছে, 'শেখ মুজিব জাতির পিতা হলে আমি কার সন্তান?' নীচে রগ-কাটা সংগঠনটির নাম, সেই নাম উচ্চারণ করতেও আমাদের ঘৃণা হয়।

যে পাভেল ভাই আগের দিন আমাদের নিবৃত্ত করেছিলেন তিনিই সেদিন বললেন, প্রতিরোধ শুরু হওয়া উচিত প্রথম স্তরেই। তোরা একটু অপেক্ষা কর, আমি আসছি। বলেই তিনি বাসার দিকে হাঁটা দিলেন। কিছুক্ষণ পরেই ফিরে এলেন। উনার হাতে ব্রাশ আর রঙের কৌটা (কাশবন-এর ব্যানারের, পোস্টারের সব কাজ তিনি নিজেই করতেন)। তিনি বললেন, বাবার অপমান কোন সন্তান সহ্য করতে পারে না, করা উচিতও নয়। তিনি ওদের সামনেই ওই লেখাটির ঠিক নীচে বড় বড় করে লাল অক্ষরে উত্তর লিখলেন- "তুই রাজাকারের সন্তান।" আমরা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে রইলাম, সেই সাথে শ্রদ্ধায় অবনত হলাম। তবে জানতাম ওরা সুযোগ খুঁজবে প্রতিশোধ নেয়ার। তাই বার বার পাভেল ভাইকে সাবধান করে দিলাম সবাই।


৩.

আমাদের আশঙ্কা মিথ্যে হয়নি। ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় রাতে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হন পাভেল ভাই। আমাদের বুঝতে বাকি থাকে না কে বা কারা করেছে এই কাজ। সবুজ জমিনে নিজ হাতে বিছিয়ে দিলাম পাভেল ভাইয়ের নিস্তব্ধ শরীর। আমাদের নি:শ্বাস ভারী হয়ে আসে। পাভেল ভাইয়ের কথাটা বার বার মনে পড়ে, প্রতিরোধ শুরু হওয়া উচিত প্রথম স্তরেই। মনে পড়ে, চে ইজ ডেড বাট ফাইট গোজ অন। সপ্তমকে বলি, যা পাভেল ভাইয়ের সেই ব্রাশ আর রঙের কৌটাগুলো নিয়ে আয়। সপ্তম নিয়ে আসে। তারপর আমরা পাভেল ভাইয়ের লেখাটির ঠিক নীচে ওদের সামনেই আরো ছয়বার লিখি আনকোড়া হাতে-

"তুই রাজাকারের সন্তান।"
"তুই রাজাকারের সন্তান।"
"তুই রাজাকারের সন্তান।"
"তুই রাজাকারের সন্তান।"
"তুই রাজাকারের সন্তান।"
"তুই রাজাকারের সন্তান।"


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28725832 http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28725832 2007-08-15 02:56:41
পড়বি পড় মালির ঘাড়ে ?
যার জন্য আমাদের এই চুল বিষয়ক মত বিনিময় সভা সেই সুমন কিন্তু কোন আলোচনায় নেই। সে তখনও বেঞ্জিনের যৌগ গঠনের রহস্য উদঘাটনে যোগ তপস্যায় মানে একনিষ্ঠ ধ্যানে মগ্ন। আমি আর আফতাব সমানে তর্ক চালিয়ে যাচ্ছি আর মাঝে মাঝে সিঙ্গারায় কামড় বসাচ্ছি।

আমি আফতাবের কথায় দ্রুত রিফ্লেক্স করি। চুলই সব হবে কেন? আবুল হায়াতকে দেখ না। কেমন তেল চকচকে মাথায় দিব্যি খেল দেখিয়ে বেড়াচ্ছে। এখনো চাইলে ডজনখানেক সুন্দরীকে খাবি খাওয়াতে পারে।

আরে বন্ধু, ওটা হচ্ছে ব্যতিক্রম। আর ব্যতিক্রম কোন উদাহরণ হতে পারে না। তাছাড়া সুমনের বয়েসে আবুল হায়াতের মাথা ভর্তি চুল ছিলো। আর সুমন তো কদিন বাদেই আবুল হায়াত হতে চলেছে। তাই তড়িত ব্যবস্থা না নিলে ওকে চিরকুমার হয়ে থাকতে হবে।

এবার আমি একটু নড়েচড়ে বসি। তড়িত ব্যবস্থা নেয়া মানে কি বোঝাতে চাচ্ছিস? ওকে কি এখনই বিয়ে করতে বলছিস?

আরে ধুর! তোর আই,কিউ দেখছি একটা মাঝারি সাইজের পুঁটি মাছের চেয়েও কম। ও এখনই বিয়ে করবে কি? সেকেন্ড ইয়ারে পড়া ছেলে বিয়ে করে বউকে খাওয়াবে কি?

তাহলে? তড়িত ব্যবস্থাটা কি?

তড়িত ব্যবস্থা হলো, সুমনকে ভবিষ্যতের জন্য এখনই কোন ললনাকে পটাতে হবে। ভালোবাসাই ওর সমস্যার একমাত্র সমাধান। কারণ ভালোবাসার গিট্টু শক্ত হলে তখন তেল চকচকে টাকই প্রেমিকার কাছে ক্রিস্টাল আয়না মনে হবে।

হুম। তা ভালো বলেছিস বটে। তবুও যেসব টেকো লোকরা প্রেম করে না তাদের বুঝি আর বিয়ে হয় না। আচ্ছা আংকেল মানে তোর বাবারও কি এই সমস্যা ছিলো? উনার স্টেডিয়াম দেখে প্রশ্নটা করলাম। কিছু মনে করিস না।

আরে না। বাবার তো বিয়ের সময় বাবড়ি দোলানো চুল ছিলো। অনেকটা নজরুলের মতো আর কি। আর শুনেছি মা নাকি ওই চুলের জন্যই বাবাকে পছন্দ করেছিলেন। তবে শুধু বিয়ে ব্যাপার না। টেকো হলে প্রচুর অসুবিধা আছে। আমাদের বেলা সেই সময় অসতে আরো বছর বিশেক আছে কিন্তু সুমনের বেলায় বড়জোড় দুই বছর।

অসুবিধা কি? আমার তো মনে হয় সুবিধাই বেশি। এই যেমন ধর চুল আচড়ানোর ঝামেলা নেই, ফি সপ্তাহ শ্যাম্পু করার দরকার নেই, মাসে মাসে চুল কাটানোর ঝামেলা নেই।

অনেক অসুবিধা আছে বন্ধু। দাঁড়া প্র্যাকটিক্যালি প্রুফ করে দেখাই। বলেই সে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। অর্থাত, আমরা যে তিনতলা রেস্টুরেন্ট বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম সেটার আমাদের টেবিলের লাগোয় জানালাটায়। ঠিক সেসময় ওপাড় থেকে রাস্তা পার হচ্ছিলেন এক টেকো ভদ্রলোক।

আফতাব সুমনকে খোঁচা দিয়ে বলে- এই লস্টাইন (আইনস্টাইন থেকে), ওই যে লোকটা রাস্তা পার হয়ে আসছে। কত সময় আগে এখান থেকে একটা বস্তু ছেড়ে দিলে তার মাথায় হিট করতে সক্ষম হবে বলে তোর ধারণা।

সুমন ক্যালকুলেট করতে লাগলো। ক্যালকুলেট শেষ করতে করতে লোকটা প্রায় কাছে চলে এলে সুমন উত্তর দেয়, পাঁচ সেকেন্ড। সাত সেকেন্ড সময় হাতে থাকার কারণে আফতাব আর কোন কিছু হাতে নেয়ার সময় পেলো না। কিন্তু প্র্যাকটিক্যালি প্রুফ করার জেহাদী জোশে টার্গেট বরাবর ছুড়ে দিলো থুথু মিশাইল। মিশাইল টার্গেট হিট করলেই আমরা জানালার কাছ থেকে সরে এলাম।

এবার বিজয়ীর হাসি নিয়ে সে বললো- এবার বুঝলি হাদারাম। মাথায় চুল থাকলে অনেক প্রাকৃতিক ঝড়-ঝাপটার প্রাথমিক ধকল সেই সামলাতো।

তা না হয় বুঝলাম। কিন্তু এটা প্রাকৃতিক হলো কিভাবে? তুই তো ইচ্ছাকৃত ভাবেই এটা করেছিস।

এই হলো তোর মাঝারি সাইজের পুঁটি মাছের বুদ্ধি। মানুষ কি প্রকৃতির বাইরের কিছু নাকি! সে যাক এখন আরেকটা প্রাকৃতিক কাজ শুরু করতে হবে। বলেই সে বেয়ারাকে দেয়াশলাইয়ের জন্য হাঁক দেয়।

সিগারেট ধরিয়ে আরাম করে দু'টান দিতে না দিতেই পেছন থেকে এক ভদ্রলোক বললেন- লাইটারটা একটু দিবেন?

আমি লাফ দিয়ে উঠি। সাথে আফতাব ও সুমন। আংকেল, স্লামালেকুম। কেমন আছেন? কিছু কিনতে এসেছেন বুঝি?

ওয়াইলাইকুম আস্সালাম। ভালো আছি বাবা, আজ তো ছুটির দিন তাই বাজার করতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু উপর থেকে কে যেন মাথায় থুথু ফেললো। তাকিয়ে দেখি শুধু এই রেস্টুরেন্টটাই আছে যেটার জানলা খোলা। বাকি সব শোরুম। তাই সেই হারামজাদাটাকে খুঁজতে এলাম।

বুঝতে পারলাম- আংকেল যখন রাস্তা পার হচ্ছিলেন তখন গাড়ির ভিড়ে আমরা তার চেহারা খেয়াল করিনি। আর কাছাকাছি চলে এলেও তখন খাড়া উপর থেকে দেখার কারণে এরকম দুর্ঘটনাটা ঘটে গেলো। আফতাব ততক্ষণে সিগারেট ফেলে দিয়ে ঘামতে শুরু করেছে।

আংকেল এবার ওর দিকে চেয়ে বললেন- তা খুব সিগারেট টানা চলছে বুঝি। কতদিন হলো এই কাজ শুরু করেছো? তোমরাও বুঝি বার্ডস অফ দ্যা সেইম ফিদার?

আফতাব তোতলাতে তোতলাতে বললো- না আব্বা। আমরা তো প্রতিদিন সিগারেট খায় না। অকেশনালি দু'একটা খাই।

ও আচ্ছা। তা আজ কোন অকেশানে খাচ্ছো। হলি ডে সেলিব্রেশন নাকি?

আফতাব একটু চিন্তা করে। তারপর ধুম করে বলে বসে- বাবা আজকে হিন্দুদের বৌদ্ধ পূর্ণিমা তো, সেজন্য সেলিব্রেট করছিলাম। তাই না সুমন?

আমরা প্রচন্ড কষ্টে হাসি আটকে রাখি, চুপ করে থাকি। আংকেল বলেন- আচ্ছা, ঠিক আছে। বাসায় এসো। তখন সবাই মিলে না হয় আরেকবার হিন্দুদের বৌদ্ধ পূর্ণিমা সেলিব্রেট করা যাবে। তোমরাও এসো কিন্তু বাবা।

আংকেল বিদায় নিলে আমি আর সুমন ঠা ঠা করে হাসতে থাকি। তার প্রতিটা আওয়াজ আফতাবের বুকে হাতুড়ি পেটায়। আমরা যত্ন করে সিঙ্গারাতে কামড় বসাই কিন্তু আফতাবের প্লেটে তারা অচ্ছুত হয়ে পড়ে থাকে। সে আবার সিগারেট জ্বালিয়ে সেলিব্রেট করে হিন্দুদের বৌদ্ধ পূর্ণিমা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28725441 http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28725441 2007-08-13 05:04:05
মনে পড়ে রুবী রায়
পথ ভুল করে এই পথে বার বার আমি হেঁটে যাই। প্রতিটি সকালে কোন এক অবোধ্য তাড়নায় পচিঁশ বছরের আলস্য ভেঙ্গে বড় রাস্তার ভীড় মাড়িয়ে, ভর-পেট ডাস্টবিন পেরিয়ে এইখানটায় এসে দাঁড়ায়। পাকস্থলির অলিতে গলিতে তখন ঘোর বিদ্রোহ, আমি উপেক্ষা করে ঠাঁই দাঁড়িয়ে রই প্রাগৈতিহাসিক কোন বৃক্ষের মতো- শুধু তোমাকে এক পলক দেখার জন্য। কখন তুমি ধূমায়িত এক মগ কফি নিয়ে এসে দাঁড়াবে বারান্দায় তার অপেক্ষায় শেকড় গজায়, না শরীরে নয়- কল্পনায়। এই বুঝি পর্দাটা নড়ে উঠলো, আমি ব্যস্ত হয়ে উঠি, মুখে হাসি ঝুলিয়ে ব্যস্ত পথিকের মতো পথ চলি যেন খুব দেরী হয়ে যাচ্ছে গন্তব্যে পৌছাঁনোর, যদিও আমার কোন গন্তব্য নেই। মনে মনে গাই, 'মনে পড়ে রুবী রায়, কবিতায় তোমাকে একদিন কতো করে ডেকেছি। আজ হায় রুবী রায় ডেকে বলো আমাকে তোমাকে কোথায় যেন দেখেছি।'

যেদিন তোমার দেখা মেলে না সে দিন সব কিছুতেই শূন্যতা ভর করে। চায়ে চুমুক দিলে মনে হয় গরলে পুড়ছি ভিতরটা, লোকাল বাসের ভিড়ে চিড়ে-চ্যাপ্টা হয়ে খিস্তি করি বিধাতার, সব কাজেই ভুল করি অজস্র বার। প্রতীক্ষায় থাকি কখন কাটবে দিন, আসবে আরেকটা ভোর। এভাবেই অপেক্ষায় থেকে থেকে আমি বিবর্ণ হবো, পথ ভুল করে কোনদিনও দাঁড়াতে পারবো না তোমার আঙিনায়। জানি একদিন কোন রাজার কুমার আসবে ক্যাম্বিসের জুতা পায়ে, আকাশে পঙ্খীরাজ উড়িয়ে, তার হাত ধরে তুমি চলে যাবে হাসিমুখে কোন এক অচিন দেশে। তখনও আমি ঠাঁই দাঁড়িয়ে রবো, সেই প্রাগৈতিহাসিক বৃক্ষের মতো। কিন্তু কার অপেক্ষায়?

তোমার আমার গন্তব্য চির বিপরীতমুখী জেনেও আমি প্রতিদিন ভুল করে হেঁটে যাই সেই একই পথে বার বার। আর গেয়ে যাই - মনে পড়ে রুবী রায়।


ছবির জন্য কৃতজ্ঞতা : <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28725018 http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28725018 2007-08-10 17:27:38
নির্বাসিত ব্লগার রাগ ইমনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা কণ্ঠ
পা এক নয়।
সেখানে সংসারী থাকে, সংসার বিরাগী থাকে,
কেউ আসে রাজপথে সাজাতে সংসার
কেউ আসে জ্বালিয়ে বা জ্বালাতে সংসার। "


এই ব্লগটাও একটা মিছিল। এখানে অবিরত সংগ্রাম করতে হয় স্বাধীনতার বিরুদ্ধ শক্তি, ধর্মান্ধ কাঠমোল্লা, আর নারীবিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে। সেই সংগ্রাম বড় কঠিন। তার পদে পদে লাঞ্ছিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, থাকে ব্লগ থেকে বহিষ্কারের সম্ভাবনা। তবুও বলি "হাল ছেড়ো না বন্ধু বরং কন্ঠ ছাড়ো জোরে"।

রাগ ইমন, আপনি পারলেন না। আপনাকে অপমান করা হয়েছে। আপনি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। দু'একটা পোস্ট করেন, দুয়েকটা মন্তব্য। অথচ যারা আপনাকে অপমানিত করেছে তারা এখনো সদম্ভে বিচরণ করছে। প্রতিনিয়ত তারা আঘাত হানছে অন্যদের উপর। আপনার কন্ঠ উচ্চকিত হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু আপনি স্বেচ্ছা নির্বাসনে গেলেন।

আপনার সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানাই। সেই সাথে এও বলি- রাগ ইমন আপনি হেরে গেছেন আপনার কাছে।

জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। ভালো থাকুন সবসময়।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28723326 http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28723326 2007-07-30 00:47:23
অতপর ভুল স্বীকার করিলে তাহাকে হত্যা করা হইলো " style="border:0;" />-কে ব্যঙ্গ করে আঁকা কার্টুনের ছবিটি সংযুক্ত কররা জন্য অমনিবাসকে ব্যান করা হয়েছে। অমনিবাসের অন্য সব নিকও ব্যান করা হয়েছে (ব্লগ মারফত জানা)। সেটা যৌক্তিক কি অযৌক্তিক সেই সিদ্ধান্ত টানছি উপসংহারে। তার আগে আসুন একটু বিশ্লেষণ করি ঘটনা পরম্পরা।


১. অমনিবাস তার প্রোফাইলে বিতর্কিত কার্টুনটি যোগ করলে সাথে সাথে ইবনে সালাম নামে একজন ব্লগার সেটার ছবিসহ প্রতিবাদ জানায়। অমনিবাস তখন ছবি পরিবর্তন করে এবং উল্লেখ করে যে ওটা যে রাসুল(সা<img src=" style="border:0;" />-কে ব্যঙ্গ করে আঁকা কার্টুন তা তিনি জানতেন না। ঘটনার জন্য তিনি দু:খ প্রকাশও করেন। কার্টুনটির স্থায়ীত্ব ছিলো চার কি পাঁচ মিনিট অমনিবাসের ব্লগে। আর কতক্ষণ স্থায়ী ছিলো প্রতিবাদকারীদের ব্লগে? না, জানতে চাই না।

সুচিত্রা ভট্টাচার্যের উপন্যাস অবলম্বনে রিতুপর্ণ ঘোষ 'দহন' নামের একটা ছবি নির্মাণ করেন। ছবির মূল ঘটনা একটি মেয়েকে নিয়ে। যে মেয়েটি তার স্বামীর সাথে সিনেমা দেখে ফেরার সময় ষ্টেশনে কিছু বখাটে ছেলের হাতে শারীরকিভাবে লাঞ্ছিত হন। কিন্তু তার চেয়ে বেশি লাঞ্ছিত হন যখন আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, স্বামীর অফিসের কলিগ, পত্রিকার লোকেরা জানতে চান- শ্লীলতাহানি কাকে বলে? কতুটুকু কি করলে শ্লীলতাহানি হয়? শ্লীলতাহানি আর রেপের মধ্যে পার্থক্য কি? সভ্য সমাজের মানুষের এই নির্মম শ্লীলতাহানি মেয়েটার কাছে সেই বখাটে ছেলেদের শারীরিক লাঞ্ছনার চেয়ে অনেক অনেক বেশি কদর্য মনে হয়।

রাসুল(সা<img src=" style="border:0;" />-এর কার্টুন প্রোফাইলে ভুলবশত: সংযুক্ত করার চেয়ে পরবর্তীতে অনেক ব্লগারকে সেই কার্টুন দেখার সুযোগ দেয়াটা (এই কার্টুনটা এর আগে আমি নিজেও দেখিনি) আমার কাছে আরো বেশি কদর্য মনে হয়েছে।


২. এবার আসি অমনিবাসকে ব্যান করার প্রসঙ্গে। অমনিবাসকে ব্যান করা হয়েছে ভালো কথা। তার ভুলের দন্ড হিসেবে কর্তৃপক্ষ সেটা করতেই পারে। কিন্তু তার বাকি নিকগুলো (বিশেষত অরপি এবং অমি রহমান পিয়াল) বন্ধ করাটা একেবারে অর্বাচীনতার পরিচায়ক। একজন অমি রহমান পিয়ালকেই বড় দরকার আজকের এই দু:সময়ে। না, শুধু ব্লগের জন্য নয়, সমগ্র দেশের জন্য। সামহয়্যারের রাজাকার, জামাতী, পাকিপ্রেমীদের শায়েস্তা করার জন্য তার প্রয়োজন যতটা না তার চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজন নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানার সুযোগ করে দেয়ার জন্য। তার মুক্তিযুদ্ধের অসাধারণ পোস্টগুলি থেকে পাঠকদের বঞ্চিত করার অধিকার কর্তৃপক্ষের নেই।

শুধু মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক পোস্টগুলির জন্য আমি অরপির ভক্ত নই। তার অসাধারণ স্যাটায়ার, তার চেয়েও অসাধারণ কবিতা লেখার ক্ষমতার জন্যই আমি তার মুগ্ধ পাঠক (শরত এবং তীরন্দাজের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার)। তাই অমি রহমান পিয়ালকে ব্যান করায় কার লাভ হয়েছে জানি না, কিন্তু সামহয়্যারের অনেক ক্ষতি হয়ে গেলো নি:সন্দেহে। এমনিতে এখন সামহয়্যারে পড়ার মতো পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায় না পাতার পরে পাতা উল্টালে, অথচ কিছুদিন আগেও এই অবস্থা ছিলো না। এর মাঝে এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্তে যারা এখনো সামহয়্যারের ভালোবাসার মায়াজালে জড়িয়ে আছেন তাদের সেই সুতোয় যে ভালো টান পড়েছে সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।

অনেক কিছুই বলা হলো। তাই ছোট্ট করে বলছি আবার, অমি রহমান পিয়ালকে ব্যান করাটা অযৌক্তিক। কর্তৃপক্ষ সময় গেলে সাধন হবে না কিন্তু!

ভালো থাকুক সামহয়্যারইন সবসময়।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28722899 http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28722899 2007-07-27 06:07:30
প্লিজ, একটু দেখবেন কি? সেই প্রথম যেদিন স্কলারশিপের টাকা পেয়ে ওকে নুপুর বানিয়ে দিয়েছিলাম সে কি খুশি তার। ছোট্ট দু'পায়ে রুমুঝুম রুমুঝুম শব্দ তুলে পুরো বাড়ি মাথায় তুলেছিলো। কতোবার যে আমাকে বলেছে, 'মামা আমাকে নাচের স্কুলে ভর্তি করিয়ে দাও। আমি নাচ শিখব।' আমি মিথ্যে আশ্বাস দিয়েছি, 'হ্যাঁ মামুনি, দেবো। এই তো কয়দিন পরেই পরীক্ষা শেষ হবে তখন ভর্তি করিয়ে দেবো।' এভাবেই বছর পেরিয়ে যায় কিন্তু নাচের স্কুলে ভর্তি করানো হয় না। ওকে নিয়ে যখন ঘুরতে বেড়োয় তখন আইসক্রিম খাওয়ার বায়না ধরতো। কিন্তু আপার কড়া নির্দেশ ছিলো, ওর টনসিলের প্রবলেম আছে, আইসক্রিম যেন কোনমতেই খেতে না দেই। কয়েক বছর পরে অপারেশন করা হলে তখন খেতে পারবে। সেই কয়েক বছর আসবে কিনা আমার জানা নেই। টিভিতে কার্টুন দেখার সময় ভলিউম বাড়িয়ে দিতো, পড়ার ডিস্টার্ব হতো বলে মাঝে মাঝে এসে বকা দিতাম। 'জিম, তোমাকে এতোবার করে বলেছি, এত জোরে টিভি চালাবে না। তবু তুমি কথা শোন না কেন? আর এখন কি টিভি দেখার সময়। যাও পড়তে বসো। ' অহেতুক অকারণ মামাগিরি ফলানো, কখনো বা অযথা বাড়াবাড়ি। তখন তার চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যেত, তার প্রিয় বন্ধু মামাটা মাঝে মাঝে কেন ব্যাখ্যাতীত কিছু কাজ করে তার ছোট্ট মাথায় সেটার কূলকিনারা করা সম্ভব হতো না। সে গুটিগুটি পায়ে একবুক কান্না নিয়ে তার ঘরের দিকে চলে যেত।

আমি যখন এসব পুরনো স্মৃতিগুলো, সুখগুলো, বেদনাগুলো নিয়ে ভাবছি তখন জিম হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে। জানি না, সে বাঁচবে কিনা। হয়তো একদিন আমার হাতে অফুরন্ত সময় হবে তার সব আব্দার পূরণের কিন্তু তখন সে হয়ে যাবে দূর আকাশের তারা। শত আহ্বানেও সে আর আমার কাছে আসবে না তখন। দূর থেকে ক্রমশ: বহুদূরে চলে যাবে। এভাবেই বুঝি মানুষ হারিয়ে যায়!

বিস্তারিত জানতে নীচের লিংক দুটি পড়ুন।

ছোট্ট জিম

জিম-একটি স্বপ্নকে বাঁচান]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28720235 http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28720235 2007-07-09 18:19:58
বিবাগী ছামীমের একটা বিষণ্ণ দিনের গল্প
'এই ছকাল ছকাল কে আবার ফোন করে'- বলেই মোবাইল হাতড়ায় শামীম। আরামের ঘুম হারাম হয়ে যাওয়াতে মেজাজটা খুব খারাপ হয়ে যায় তার। বলতে ইচ্ছে হচ্ছিলো সি.টি.এন.। কিন্তু স্ক্রিনে নাম ভেসে ওঠে নাতাশা।

- হ্যালো নাতাছা। এতো ছকালে কি মনে করে!

-- শামীম ভাইয়া, আজ আমরা সবাই মিলে ফ্যান্টাসি কিংডমে যাবো। খুব মজা হবে, তুমিও চলো, খুব মজা হবে।

- না নাতাছা, আমার ছরীরটা আজকে বিছেছ ভালো নেই। তাছাড়া ফ্যান্টাছি কিংডম বাচ্চাদের জায়গা। তোমরা যাও। আমি একটু রেছ্ট নিই।

-- তাতে কি? তুমি বড়ো হয়েছো নাকি? তুমিতো বাচ্চাই। চলো চলো, খুব মজা হবে।

- না আমার আজ জরুরী কাজ আছে। আমি ছাপা'র ওখানে যাবো।

-- ছাপার ওখানে মানে? তুমি কি বই টই বের করছো নাকি?

- না না। ছাপা মানে আমার বন্ধু মোছতফা নুর ছাপা, ওই যে ছাইবার ক্যাফে আছে গুলছানে, ছেখানে যাবো।

-- ওহো, সাফা ভাইয়ের দোকানে যাবে? আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি তাহলে এখন ঘুমোও। বলেই লাইন কেটে দেয় নাতাশা।

ফোন রেখে দিলেও আর ঘুম আসে না। এপাশ ওপাশ করতে থাকে সে। শেষে বিরক্ত হয়ে উঠে পড়ে। অনেকক্ষণ ধরে আয়েশ করে নাস্তা খায়। কিছুক্ষণ পত্রিকার পাতা উল্টায়, পত্রমিতালীতে মেয়েদের ঠিকানা খোঁজে, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে 'পাত্র চাই' বিজ্ঞাপন পড়ে। এইভাবে দশটা পর্যন্ত পার করে শামীম সাফার সাইবার ক্যাফের দিকে রওনা দেয়।

শামীমকে দেখে সাফা বেশ উল্লসিত হয়।

-- আরে দোস্ত এতোদিন পরে। তোর তো দেখাই পাওয়া যায় না।

- আর বলিছ না। ব্যবছা, জি.আর.ই প্রিপারেছন এছব নিয়ে এতো বিজি থাকি ছময় হয়ে ওঠে না।

-- হুম। তোর উপর বেশ ধকল যাচ্ছে তাহলে। তার উপর নিশিতা এমন পল্টি দিলো।

কেউ যেন শামীমের বুকে দশ মণ ওজনের হাতুড়ি দিয়ে গদাম করে একটা বাড়ি দিলো। সত্যি সত্যি দিলেও বোধহয় এতো কষ্ট লাগতো না তার।

- বাদ দে তো ওছব। পাছ্ট ইছ পাছ্ট। এখন ভবিছ্যতের কথা ভাবতে হবে। এক নিছিতা গেছে কতো নিছিতা আছবে?

-- তা ঠিক। তা ঠিক। ভাত ছিটালে কাকের অভাব নেই বটে তবে কাক বাড়লে যে ভাত মিলবে তার গ্যারান্টি কি।

শামীম ঠিক বুঝতে পারে না সাফার কথা। তবুও বরাবরের মতো স্বভাবানুযায়ী মাথা নাড়ে ছাগলের মতো। দুই বন্ধুর আলাপ চলতে থাকে। বর্তমান আই.টি-র অবস্থা, সরকারী ওয়েবসাইটের দূরাবস্থা, ছাগল-ডট-কমের ভবিষ্যত এসব নিয়ে বেশ গুরুগম্ভীর আলোচনা হয়। সাফা জিজ্ঞেস করে - কি খাবি বল। কেক আর কোক দিতে বলি?

- না। কেক খাবো না। ঝাল কিছুর ব্যবছতা কর। ছিঙ্গারা-ছমুছা পাওয়া যায় কিনা দেখ।

-- আরে পাওয়া যাবে না মানে। অবশ্যই যাবে। বলেই দোকানের ছেলেটাকে হাঁক পারে সাফা।

- তুই একটু ছর তো। আজ মেইলটা চেক করা হয়নি। চেক করে দেখি।

সাফা উঠে গিয়ে শামীমকে বসতে দেয়। শামীম মেইল চেক করে। উঠতে গিয়ে আবার এম.এস.এনে লগ-ইন করে যদিও সে সংকল্প করেছিলো, আর কখনো এম.এস.এন-এর ছায়া মারাবে না। ছাগল যতই বলুক আমি আর কাঁঠাল পাতা খাবো না, সামনে কেউ নাড়ালে সে যে লোভ সামলাতে পারবে না এটাই স্বাভাবিক। একটু পরেই সে নড়েচেড়ে বসে। শাওন নামে একজন নক করেছে। শাওন নামটা হেভি কনফিউজিং, ছেলেও হতে পারে, মেয়েও। তবে চ্যাট স্পেশালিস্ট শামীম দু'মিনিটের মধ্যে বুঝতে পারে ওটা ছেলে, মেয়ে সেজে তার সাথে ফটকাবাজি করছে। মেজাজ ফরটি-ফাইভ হয়ে যায় শামীমের। সে সি.টি.এন. লিখে এন্টার চাপে, তারপর সাইন-আউট করে।

শামীমের সামনে প্লেটভর্তি শিঙ্গারা রাখা কিন্তু তার সবকিছু বিষ মনে হচ্ছে। অনিচ্ছাসত্ত্বেও সে একটা শিঙ্গারা নিয়ে মুখে দেয়।

দুপুরের দিকে শামীম বিদায় নেয় সাফার কাছ থেকে। বাইরে তখন বেশ কড়া রোদ। শামীম ট্যাক্সির সন্ধান করে। 'এই ট্যাকছি, এই ট্যাকছি। ছব দেখি ফিলাপ। আজ বাছেই (বাসেই) যেতে হবে দেখছি।'- মনে মনে বলে আর গাল পাড়ে সে।

বাস স্টপে এসে সে টিকিট কাটে। মিনিট পাঁচেক পরে বাস এসে থামে। শামীম বাসে উঠতে যাবে, ঠিক সেসময় তার চোখে পড়ে- টকটকে লাল কালিতে লেখা "নিশিতা পরিবহন"। তার মনে হলো, লেখাটা যেন কেউ ছুরি দিয়ে তার হৃদপিন্ড ফালা ফালা করে লিখেছে। সে ক্রোধে অন্ধ হয়ে যায়। ছুটে গিয়ে লেখাটা বরাবর লাথি কষে, একটা-দুইটা-তিনটা। সবাই অবাক হয়ে তার কান্ড দেখে। এরই মাঝে কে যেন পিছন থেকে তার কাঁধে হাত রাখে। সে মুখ ফিরিয়ে দেখে- শুভ। ঠিক তার পিছনেই নিশিতা। তার ঠোঁটে তখনো হাসির রেখা মুছে যায়নি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28719573 http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28719573 2007-07-06 07:49:39
ছামীমের ব্যর্থ প্রেম এবং . . .
১.
-------------------------------

হঠাত সেদিন বিকেল শামীম ফোন করে ইয়ার দোস্ত শুভকে। ফোন করেই বলেই- দোছতো ছুভ, তোর একটু হেল্প লাগবে। খুব ইমপরট্যান্ট।

শামীমের এই একটা সমস্যা, তার বংশের লোকজনের 'ছ' বর্ণের উপর আলাদা দুর্বলতা রয়েছে। তাই 'স','ষ','শ' তিনটাকে তারা 'ছ' দিয়েই চালিয়ে দেয়। বাংলা ভাষার সরলীকরণের পথিকৃত বলা যেতে পারে।

শুভ বুঝতে পারে না, কি এমন জরুরী কথা। সে জিজ্ঞাসা করে, তাড়াতাড়ি বল, আমি বিজি আছি।

শামীম আমতা আমতা করে বলে- তোকে একটা ফোন নাম্বার দিচ্ছি। মেয়েটার নাম নিছিতা, এম.এছ.এনে কথা (চ্যাট) হয়েছে।

শুভ বলে- কি নাম বললি? নিছিতা? এরকম বিশ্রি নাম কারো হয় নাকি?

শামীম বলে- নিছিতা তো ছুন্দর নাম। নিছি থেকে নিছিতা। এইবার ক্লোজাপ ওয়ানেও তো একটা গায়িকা ছিলো, ওই নিছিতা বড়ুয়া নামে।

শুভ এবার বুঝতে পারে মেয়েটার নাম নিশিতা। সে বলে- আচ্ছা ফোন নাম্বার পেয়ে কি করবো বল?

তুই ওকে ফোন করবি। বলবি তোর নাম ছামীম। যেভাবেই হোক আমার ছাথে একটা ডেটিং-এর ব্যবছ্থা করে দিবি। কল করার ছময় নাম্বার হাইড করে কল করবি।

আচ্ছা। কিন্তু আমার লাভ কি তাতে? তুই নিশিতার সাথে ডেটিং করবি আর আমি ডবডংকা।

দোছত, তোর জন্য এছপেছাল (স্পেশাল) ডিনারের ব্যবছথা হবে ছ্নুপিতে (স্নুপিতে)।

বেশ বেশ। তাহলে কুইক নাম্বার দে।

শামীম এস.এম.এস করে শুভর নাম্বারে।

২.
------------------------------

অঘটন-ঘটন-পটিয়সী শুভ ইতিমধ্যে নিশিতার সাথে শামীম সেজে ভাব জমিয়ে ফেলে। অবশেষে ঠিক হয় সামনের শনিবার তারা দুজন দেখা করবে । নিশিতার পরনে থাকবে সাদা শিফন শাড়ি আর শামীমের পরনে থাকবে নীল টি শার্ট।

৩.
------------------------------

গতকাল রাতে টেনশনে শামীম ঠিকমতো ঘুমোতে পারেনি। সকাল থেকে এই পর্যন্ত তিনবার দাঁত ব্রাশ করেছে, কমপক্ষে সাতবার পন্ডস মেখেছে মুখে। 'ইছ্
আরেকটু যদি ফরছা হতাম। লিজান জেন্টছ উপটানটা এবার কিনতেই হবে। রূপচর্চা ছুধু মেয়েদের জন্য এ ধারণা ঠিক না। ছেলেদেরও ছরীরের ছৌন্দর্যের দিকে খেয়াল রাখা দরকার' । আপন মনে বিড়বিড় করে সে আর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একেকবার একেক রকম চুলের স্টাইল করে। সময় যেন পেরুতেই চাই না।

৪.
-------------------------------
ঘড়িতে এখন বারোটা বেজে পনের। শামীম চটজলদি বেরিয়ে পড়ে। একটু আগে ভাগে যাওয়াই ভালো। ঠিক কাঁটায় কাঁটায় যখন একটা তখন নিশিতাও এসে পৌঁছে নির্ধারিত স্থানে। চিনতে বেগ পেতে হয়না কারোই। সাদা শিফন, নীল টিশার্ট মিলিয়ে নেয় দুজন।
নিশিতাই প্রথম কথা বলে-

আপনি নিশ্চয় শামীম।

হ্যাঁ আমি ছামীম। আপনি নিছচয় নিছিতা।

নিশিতা একটু থতমত খায়, তড়িৎ সামলে নেয় নিজেকে। হ্যাঁ আমি নিশিতা।

চলুন কোণার টেবিলে গিয়ে বছি। তারা দুজনে কোণার টেবিলে গিয়ে বসে।

নিশিতার মনে ঘুরপাক খায় অজস্র প্রশ্ন। টেলিফোনে যে কথা বলেছে তার সাথে সে তো এভাবে কথা বলেনি। নাম্বার হাইড করে কথা বলার দরুন এখন সে যাচাইও করতে পারছে না। তার মানে একটা গরমিল আছে।

শামীম বলে- আপনাকে একটা কথা বলি? উত্তরের অপেক্ষায় না থেকেই সে বলে, ছাদা ছাড়িটাতে আপনাকে যা ছুইট দেখাচ্ছে না, কি আর বলবো। আপনি আছলেই খুব ছুন্দর।

এতোগুলো 'ছ'-এর ধাক্কা সামলানো নিশিতার জন্য বেশ কষ্টকরই হলো। তবুও ভদ্রতা করে বললো, আপনাকে ধন্যবাদ। দেখা হলে আপনার সম্পর্কে বলবেন বলেছিলেন। দেখাতো হলো, এবার বলুন।

হুম বলছি। তার আগে খাবারের অর্ডার দেই। আপনি কি খাবেন? আমি রাইছ আর এছপেনিয়ান ফিছ কারি নেবো। ওরা এটা খুব ভালো রান্না করে। একেবারে ছুপার্ব।

এখন নিশিতা শামীমের কথাগুলো উপভোগ করছে। অনেক কষ্টে হাসি চেপে রেখে সে বললো, ঠিক আছে। আমার জন্যও একই অর্ডার দিন।

অর্ডার দিয়ে শামীম শুরু করে, আমি আছলে একটা প্রাইভেট ভার্ছিটি থেকে বি.বি.এ কমপ্লিট করেছি। ছফটওয়্যারের বিছনেছ করি। ভাবছি এবার মাছর্টাছটা করবো। তবে এম.বি.এ না। মাছটার্ছ করবো কম্পিউটার ছায়েন্ছে। শুধু মাছর্টাছ না পি.এইচ.ডিও করবো ঠিক করেছি। তা আবার দেছে না বিদেছে, আমেরিকায়। আই.ই.এল. টি. এছ করেছি, কিন্তু জি.আর.ই করতে হবে। ইনছাল্লাহ পারবো।

অবশ্যই পারবেন। আপনি না পারলে কে পারবে। নিশিতা দৃঢ়কন্ঠে বলে। তবে আমার জানা মতে আমেরিকা বা ইউরোপের বেশির ভাগ ইনস্টিটিউটে কম্পিউটার সায়েন্সে মার্স্টাস অ্যাডমিশন নিতে হলে প্রি-রিকুইজিট কোর্স করা থাকতে হয় ব্যাচেলরে। তাই একটু ভালো করে খোঁজ খবর নেবেন।

এটাতো ভালো কথা বলেছেন। আমি তো আগে এটা ভাবি নাই। শামীম চিন্তায় পড়ে যায়।

আরো বেশ কিছু কথাবার্তা হয়। কিন্তু কোনটাই জমে না। শামীম মারাত্মক রকমের ভোদাই টাইপের। নিশিতার নিস্পৃহতা সে বুঝতে পারে না। শুধু নিজের সম্পর্কেই লেকচার দিতে থাকে।

বিদায়ের সময় শামীম বলে- রাতে ফোন করবো। ওহো, আরেকটা কথা। আপনি একটা নতুন ছিম নিয়ে ফেলেন। গ্রামীণ ডিজুছ নিলে খুব ভালো হবে। কম রেটে কথা বলা যায় ছারা রাত।

আচ্ছা দেখি। এখন আসি তাহলে। বলে নিশিতা পা বাড়ায়।

এরই মাঝে নিশিতা করণীয় ঠিক করে ফেলেছে। সে বাসা থেকে সিমের ডকুমেন্ট নিয়ে গ্রামীণ অফিসে যায়। তাকে যে আননোন নাম্বার থেকে ফোন করা হয়েছে সেটা বের করে।

৫.
------------------------------

বাসায় ফিরেই ফোন করে তবে নিজের নাম্বার হাইড করে। গলাটা একটু অন্যরকম করে সে শুভর সাথে কথা বলে। একটা রহস্যময়তা সৃষ্টি করে ফোন রেখে দেয়। আবার রাতের দিকে ফোন করে শুভকে। শুভও অজানা কৌতূহলে বিভোর হয়ে পড়ে। এদিকে শামীম ফোন করে বিজি পায়। অধৈর্য্য হয়ে ওঠে। নিশিতা শুভর সাথে কথা শেষ করে ফোন অফ করে দেয়।

৬.
-------------------------------
একসময় শুভ অস্থির হয়ে ওঠে নিশিতার সাথে দেখা করার জন্য। নিশিতা মনে মনে প্ল্যান ঠিক করে আর কয়েকদিন ধরে প্র্যাকটিস সেরে নেয় পরিচয়পর্বের। 'আমি নিছিতা, আপনি নিছছয় ছুভ।ৎ হঠাত একদিন শুভকে ফোন শেষে ফোন অফ করতে যাবে সেসময় শামীমের ফোন আসে। নিশিতা রিসিভ করে।

শামীম বলে- নিছিতা বলছেন?

হ্যাঁ।

হ্যাঁ, নিছিতা বলছি। আপনি কি ছামীম ছাহেব?

শামীম ভ্যাবাচ্যাকা খায়, তোতলাতে থাকে। হ্যাঁ, কি-কি-কিন্তু কয়দিন ধরে আপনার কোন খবর নেই। খুব টেনছনে ছিলাম। ফোন করলে বিজি নয় বন্ধ, এম.এছ.এনেও আছেন না। কি হয়েছে আপনার?

নিশিতা হাসে। আমার কিছু হয়নি ছামীম ছাহেব। আমি আছলে ভাছার উপর একটা কোর্ছ করছি। তাই একটু বিজি আছি। কোর্ছ ছেছ হলে আপনাকে ফোন করবো। বলেই লাইন কেটে দেয়।

৭.
-------------------------------

শুভ আর নিশিতা এখন সেই কোণার টেবিলে বসে গল্প করছে। নিশিতা বলছে- ছুভ আপনি খুব এছমার্ট।
কিন্তু আমি যে নিছিতা ছেটা এখনো বুঝতে পারেননি।

শুভ চমকে ওঠে। তাকে পালাতে হবে। কিন্তু কোথায় পালাবে? সে যে ইতিমধ্যে নিশিতার দু'চোখের মায়ায় বন্দি হয়ে গেছে।

** সম্পূর্ণ কাল্পনিক। কারো সাথে মিলে গেলে নিতান্তই কাকতাল।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28719207 http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28719207 2007-07-04 08:09:39
শৈশবে ফিরে যেতে চায় কেউ চায় না . . গত ৬-৯ জুন হয়ে গেলো সুইডেন রক ফেস্টিভ্যাল। সারাবিশ্বের রক এন্ড রোলের নামী-দামী যত ব্যান্ডগুলো যোগ দিয়েছিলো উৎসবে। চারদিনব্যাপী ফেসিটভ্যাল চললেও পকেটের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে ৭ তারিখটাকে বেছে নিয়েছিলাম আগে থেকে। এই উৎসবটা শুরু হয় স্টকহোম এবং অবো-র মধ্যবর্তী সাগর উপকূলে। যাহোক, আমি যখন অনুষ্ঠানে যোগ দিলাম তখন পুরো উপকূলভর্তি অসংখ্য মানুষ। মানুষের উচ্ছল কোলাহল সাগরের তরঙ্গধ্বনিকেও হার মানিয়ে দিয়েছে। একে একে শুনলাম স্করপিয়ন, অ্যারোস্মিথ, হেভেন এন্ড হেলের দারুন সব গান। দর্শকদের অনুরোধে হেভেন এন্ড হেল গাইলো মাইকেল লার্নস টু রকের সেই বিখ্যাত গান- "ও মাই স্লিপিং চাইল্ড"। পুরো সময়টা খুব উপভোগ করলাম। একরাশ প্রাণোচ্ছল মানুষের মাঝে যেন অতীতকে খুঁজে পাচ্ছিলাম বারবার।

ফেরার সময় মনে মনে গুনগুন করে গাইতে লাগলাম- ও মাই স্লিপিং চাইল্ড, দ্যা ওয়ার্ল্ড ইজ সো ওয়াইল্ড, বাট ইউ হ্যাভ বিল্ড ইয়োর ওন প্যারাডাইজ। তখনই মনে পড়লো জাফর ইকবাল স্যারের একটি কথা। প্রথম আলোর কোন একটি কলামে লিখেছিলেন- "আমি আমার শৈশবে বার বার ফিরে যেতে চাই। আর যারা ফিরে যেতে চায় না তাদের জন্য করুণা হয়।" ভাবতে থাকলাম, এই কথাটা কতটুকু যৌক্তিক। আমার কিংবা জাফর ইকবাল স্যারের শৈশবটা হয়তো ছিলো নিরুদ্বিগ্ন, অবিমিশ্র ভালো লাগার। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে কি তা? আমার দুরন্ত শৈশবের উড়ন্ত দিনগুলি কেটেছে গ্রামের সবুজ শ্যামলিমায়। প্রকৃতি আর প্রকৃতির কাছের মানুষগুলোর ছোঁয়া লেগে আছে তাই এখনো শরীরের পরতে পরতে। উদ্দাম দিনগুলো তাই স্বপ্নের চেয়েও মধুর আমার কাছে। সেই স্মৃতি রোমন্থনে আমি পাই অজানা সুখের সন্ধান। সবাই কি তা পায়?

দশ বছরের যে ছেলেটি এই শৈশবেই হাতে তুলে নিয়েছে মাস্তুল- প্রতি আঘাতে খন্ড-বিখন্ড ইটের মতো করে থেঁতলে যাচ্ছে তার স্বপ্ন, কিংবা যে ছেলেটি শীর্ণ শরীরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে আমাদের- দিনরাত ঘুরাচ্ছে চাকা নতুবা বন্ধ হয়ে যাবে তার সংসারের চাকা, নয় বছরের যে মেয়েটি দুটো ভাতের আশায় দিনে নয় নয় বার গৃহকর্ত্রীর গরম খুন্তির ছ্যাঁকা খেয়ে আর অমানুষিক নির্যাতন সয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত সে কি চাইবে তার শৈশবে ফিরে যেতে? সবার শৈশব প্রজাপতির ডানার সাত রঙের মতো বর্ণিল হয় না। প্রতিদিন মরে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছা নিয়েও জীবনের ঘানি টেনে টেনে অনেকে জানতেই পারে না শৈশব কি? কেমন ছিলো সে দিনগুলি? তাই করুণা শব্দটিকে আমি মেনে নিতে পারি না। 'করুণা' শব্দটিতে আমার বড় কষ্ট হয় কারণ অনেকে আমার-আপনার মতো সৌভাগ্য নিয়ে জন্মায়নি।

সুমনের একটা গান খুব মনে পড়ছে-

পেটাকাটি চাঁদিয়াল মোমবাতি বগ্গা
আকাশে ঘুড়ির ঝাঁক মাটিকে অবজ্ঞা।
বয়েস বারো কি তেরো রিক্সা চালাচ্ছে,
আকাশে ঘুড়ির ঝাঁক ছেলেটাকে ডাকছে।

বয়েস বারো কি তেরো বড়জোড় চৌদ্দ,
রিকশা চালাতে শিখেছে সে সদ্য।
..............
এ কিশোর পারবে কি এ বোঝা টানতে,
এই বাবু কোনদিন পারবে কি তা জানতে?

অনেক কষ্টেরই কথাই আমাদের কখনো জানা হবে না।

** লেখাটি সচলায়তনে প্রকাশিত।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28718818 http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28718818 2007-07-01 23:02:07
সচলায়তনঃ একটা দিঘীর নাম
একটা ছোট্ট ছেলে. বর্ণমালার অক্ষরগুলো শেখা হয়ে গেলে সে বাবার কাছে আব্দার করে শ্লেটের জন্য. বাবা প্রতিদিন আনবে বলে কথা দেয় কিন্তু ভুলে যায়. এরপর একদিন ছেলেটা খুব অভিমান করে, তার চোখে জল এসে যায়. ছেলের চোখের জল বাবার চোখ এড়াই না. পরদিনই বাবা শ্লেট নিয়ে আসেন. সেদিন ছেলেটার সে কি আনন্দ! কেউ পুরো পৃথিবীটা তার হাতের মুঠোয় তুলে দিলেও বোধহয় সেরকম সুখ সে পেত না. তার যতটা না আগ্রহ বর্ণমালার অক্ষর লেখায় তার চেয়ে বেশি আগ্রহ আঁকিবুকি করাতে. কখনো নদী, কখনো ফুল, কখনো মেঘ-ঘাস-নৌকা-মাছ-পাখি-গাছ আরো কতো কি হাবিজাবি. খড়িমাটি যাকে চক বলা হতো, সেই খড়িমাটি দিয়ে বিচিত্র সব চিত্রকর্ম আঁকতো সে আর ছুটে গিয়ে মাকে দেখাতো. মা খুশি হওয়ার অভিনয় করতেন আর উৎসাহ দিতেন- খুব সুন্দর হয়েছে বলে. ছেলেটি তখনো চক ধরতে শেখেনি ঠিকমতো. তাই প্রথম প্রথম সেগুলো ভেঙে তিনটুকরো হয়ে যেত. সেটা দেখে প্রথম প্রথম তার খুব কান্না পেতো. অসহায় চোখে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকতো সে.

একসময় ছেলেটি লিখতে শিখলো. আঁকতে শিখলো. এরমাঝে সে দেখলো তার প্রিয় শ্লেটটি কেমন জানি মলিন হয়ে গেছে. পড়শী ছেলেটা একদিন কলম দিয়ে খুঁচিয়ে দিয়েছে তার প্রিয় আঙিনাটিকে. সেদিন সে সারারাত কেঁদে বুক ভাসিয়েছে সঙ্গোপনে. কেমন জানি বয়েসের ছাপ পড়ে গেছে শ্লেটটাতে. শিমুলের খোঁচাগুলি কলংকরেখার মতো ফুটে ওঠেছে ওটার বুকে. এভাবেই দিন চলে যাচ্ছিলো.হঠাৎ একদিন সে আবিষ্কার করে তার সমবয়েসীরা অনেকেই ইতিমধ্যে খড়িমাটি আর শ্লেট ফেলে কলম দিয়ে রোলটানা খাতায় লিখতে শুরু করেছে. রোলটানা খাতায় নাকি লেখার মজাই আলাদা. সে প্রতীক্ষায় থাকে কখন সে দিন আসবে. অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই সে সুযোগটা পেয়ে যায়. এখন সেও রোলটানা খাতায় ইচ্ছেমতো আঁকিবুকি করতে পারে. মনের কথাগুলিকে প্রকাশ করতে পারে স্বচ্ছন্দে. ছেলেটা মশগুল হয়ে পড়ে নতুন লেখার পরিবেশে. এক অন্যরকম মুক্তির স্বাদে সে খুঁজে পায় নিজেকে.

তবুও মাঝে মাঝে কেমন একটা মায়া অনুভব করে সে পুরনো অতি প্রিয় শ্লেটটির জন্য. এখনো সে মাঝে মাঝে হাতে নিয়ে দেখে তাকে, গভীর মমতায় হাত বুলায়, আদর করে, একটা দুটো দাগ কাটে সন্তর্পণে. সে বুঝতে পারে, জীবনের প্রথম ভালোবাসা মনের দর্পণে যে সূক্ষ আঁচড় কেটে গেছে তাকে অস্বীকার করার ক্ষমতা তার নেই. সে করেও না. তাই সে বার বার ফিরে আসে তার ভালোবাসার কাছে.

গল্পটা শেষ. এবার মূল কথা বলি. আমি মূলত পাঠক. পাঠক হিসেবেই দু'চারটা লেখা প্রকাশ হয়েছে ভোরের কাগজ, প্রথম আলো, উন্মাদ, বাংলালাইভ আই পত্রিকা আর হাজারদুয়ারীতে (হাজারদুয়ারী সম্ভবত সবার লেখাই ছাপায়). আমার লেখার ফল্গুধারা শুরু হয় সামহয়্যারকে কেন্দ্র করেই. আমার প্রায় দুশো পোস্টগুলি কখনো লেখা হতো না যদি এই ব্লগের ঠিকানা না পেতাম. মূলত পাঠকদের সাথে ইন্টার-অ্যাকশনই মূল আকর্ষণ এই ব্লগের. সেখানে এসেই পেলাম একঝাঁক প্রতিভাবানদের. দারুন সব লেখা, ভাবনা, বিতর্ক নিয়ে কখন যে বছর কেটে গেছে বুঝতেই পারিনি. তারপর এলো এক কালো মেঘ. সব লন্ডভন্ড হয়ে গেলো. ব্লগে ব্লগে ঘুরে বেড়াই, কিন্তু পড়ার মতো কিছু পাই না. খুব কষ্ট পেয়েছিলাম তখন. সেসময়ই হাসান মোরশেদের আমন্ত্রণ আসে সচলায়তন থেকে. এটা আমার জন্য বাড়তি উচ্ছ্বাসের ব্যাপার. কারণ হাসান মোরশেদ আমার কাছে অসাধারণ একজন লেখক. অতি ছোট্ট ঘটনাকে এমন নিপুণতার সাথে উপস্থাপন খুব কম লোককেই করতে দেখেছি. আরেকজন সে কাজটা পারেন তিনি বিগ. সি. সচলায়তনে গেলাম. গিয়ে দেখি আমার সেই রোলটানা খাতা.

দারুন সব পোস্ট. অনেক অসাধারণ ব্লগারের লেখা সামহয়্যারইনে চোখ এড়িয়ে গেছে ভীড়ের কারণে তাদের আবিষ্কার করি সচলায়তনে. তার মধ্যে মুহম্মদ জুবায়ের, যূথচারী, সুমন রহমান অন্যতম. আর পুরনোদের লেখায় আগের চেয়ে আরো বেশি যত্নের ছাপ. আমি মুগ্ধ হই, আমি আপ্লুত হই. আমি ডুবে যাই সচলায়তনের ভালোবাসায়, ঘ্রাণ নেই নতুন সম্ভাবনার. কিন্তু সামহয়্যারইনকে কখনোই ভুলিনি. তাই এখনো নিয়মিত পোস্ট করি সামহয়্যারইনে. এ যেন আমার কাছে দুটো পিঠাপিঠি ভাই. সামহয়্যার অগ্রজ, পথ-প্রদর্শক আর অনুজ সচলায়তন, নতুন নতুন লেখক আবিষ্কারের কারখানা. এই দুই ভাইকে নিয়েই আবর্তিত হবে আমার ভার্চুয়াল পথচলা.

সবশেষে একটা লাইনেই নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে চাই. শেষের কবিতার মতো করেই বলি-

"সামহয়্যারইন আমার কাছে হচ্ছে ঘড়ায় তোলা জল, যা ইচ্ছে হবে লিখবো, আর সচলায়তন হচ্ছে দীঘি যেখানে স্বাধীনভাবে সাঁতার কাটবো." যেখানে সাঁতার কাটতে গেলে প্রস্ততির প্রয়োজন।


--- লেখাটি একইসাথে সচলায়তনে প্রকাশিত।।।।।।।.
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28718716 http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28718716 2007-07-01 04:19:19
দহনকালের ডাক
আমরা, দুঃসময়ের কিছু ক্ষুদ্র মানুষেরা- যাদের কষ্ট আছে ভাষা নেই, গোপন দহন আছে কান্না নেই তারা শুধু বোকা মানুষের মতো একবুক আবেগ নিয়ে কাটিয়ে দিয়েছে জীবনের অনেকগুলি বছর আর...আর লাল-নীল-লাল রঙের স্বপ্ন দেখে গেছে ক্রমাগত। আমাদের কেউ যুদ্ধ দেখেনি, হ্যাঁ সেই ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী নয় নয়টা মাসের মুক্তি সংগ্রাম। দেখেনি মানুষরূপী কতগুলো হায়েনার বিভৎসতা, মা-বোনের করুন আর্তনাদ, কতগুলো দেশীয় নরপশুর নির্লজ্জ কাপুরুষতা। তবুও আমরা উপলব্ধি করতে পেরেছি অমোঘ সত্যকে। বার বার পরিবর্তন হওয়া ইতিহাসের পাতা থেকে প্রকৃত সত্যটাকে আমরা ঠিক খুঁজে বের করতে পেরেছি শেষ পর্যন্ত। আমরা পেরেছি কারণ আমাদের শরীরে ছিলো পবিত্র রক্ত আর বিশুদ্ধ বাতাস।

এখন আমরা শুনতে পাই কালনাগিনীর ফিসফাস। আমাদের প্রেরণার উৎসমূল এখন শুধুই অতীত। 'ভুলে যাও সব, ভুলে যাও সব' বলে মুখে কলুপ আটার অপচেষ্টা চলছে প্রতিনিয়ত। দেশকে প্রগতিশীল করার প্রচারের আড়ালে একাত্তরের ঘৃণ্য দেশীয় নরপশুগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করার অভিসন্ধি। চলছে ইন্টেলেকচুয়্যাল বেশ্যাবৃত্তি। তবু্ও এই দেশ, এই মাটি আর কিছু না পারুক কিছু পাগল ছেলের জন্ম দিয়েছে। তারা সবকিছু বদলে দেয়ার স্বপ্ন দেখে, প্রতিশোধের দুর্বার স্পৃহানলে জ্বলে পুড়ে খাক হয় প্রতিনিয়ত আর অপেক্ষায় থাকে সময়ের।

কবে আসবে সেই সময় ?

** লেখাটি সচলায়তনে প্রকাশিত।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28718382 http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28718382 2007-06-29 04:54:56
রাখিস মা রসে বশে - চলমান তাবু বলছিলাম সেই স্মার্ট লোকদের কথা। না না ভুল বলেছি, মহাস্মার্টদের কথা। এই সমস্ত লোকজন কিন্তু মজার কান্ড করে বেড়ায়, তার কিছু নমুনা ইতিমধ্যে অনেকে ব্লগে প্রসব করেছেন। এখন একটা স্মার্ট থুক্কু মহাস্মার্ট লোককে নিয়ে কৌতুক শুনুন।

একবার প্রায় ত্রিশ হাজার ফুট উচ্চতায় একটা হেলিকপ্টার বিকল হয়ে পড়ল। যাত্রী ছিলো মোট পাঁচজন। একজন পাইলট, একজন ডাক্তার, একজন শিক্ষক ও তার ছাত্র আর একজন মহাস্মার্ট লোক। পাইলট বললেন, হেলিকপ্টারটা আধঘন্টা এভাবে উড়বে তারপর ক্র্যাশ করবে। কিন্তু সমস্যা হলো আমাদের স্টকে প্যারাসুট আছে চারটা। তার মানে চারজন নামতে পারবেন, একজন পারবেন না।

আমি যেহেতু একজন পাইলট সেহেতু আমার বাঁচা উচিত। এতে দেশের অনেক উপকার হবে। বলেই বৈমানিক সাহেব একটা প্যারাসুট নিয়ে বিমান থেকে লাফ দিলেন।

এবার ডাক্তার মহোদয় বললেন, আমি একজন ডাক্তার। মানুষ বাঁচানোই আমার পেশা। অতএব আমি একটা প্যারাসুট দাবী করতেই পারি। তিনি প্যরাসুট নিয়ে লাফ দিলেন।

এবার মহাস্মার্ট লোকটি বললেন, আমার বেঁচে থাকা অত্যন্ত দরকারী। শুধু দেশের জন্য না বিশ্বের জন্যও। কারণ আমি একদিন হলিউডের সুপাস্টার হতে পারি। বলেই তিনি প্যারাসুট নিয়ে ঝাঁপ দিলেন।

বাকী থাকলো শিক্ষক আর ছাত্র। ছাত্রটি বলল, 'স্যার আপনি আগে প্যারাসুট নিয়ে নেমে পড়ুন।'

শিক্ষক বললেন, 'তা হয় না বাবা, আমি এই পৃথিবীটা অনেকটা সময় উপভোগ করেছি। তুমি মাত্র এসেছো। তুমিই দেশের ভবিষ্যত। তোমাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে আমি নিজের জীবন বাঁচাতে পারি না। প্যারাসুট নিয়ে তুমি নীচে লাফিয়ে পড়ো।'

ছাত্রটি বললো, 'তার দরকার হবে না। আপনি নামার পরেই আমি প্যারাসুট নিয়ে লাফ দেবো।'

শিক্ষক বললেন, 'তা কি করে সম্ভব? প্যারাসুট তো আছে মাত্র একটা।'

ছাত্রটি বললো, 'জ্বি না স্যার, ওই মহাস্মার্ট লোকটা প্যারাসুট মনে করে আমার স্কুল ব্যাগ নিয়ে লাফিয়ে পড়েছে।'


এই তো গেল মহাস্মার্ট লোকদের মহাস্মার্ট কান্ডকারখানা। আমি বাপু সাতে-পাঁচে নাই। তবুও আমার কথায় কারো বুকে শেল (এটা কিন্তু হাবিজাবির সেই ভাড়া দেয়া শেল না) বিঁধলে সে দায়ও নিতে ইচ্ছুক না। যাকগে, এসেছিলাম কিছু রঙ্গ করতে, রঙ্গ করি। কারণ এটাতো রঙ্গিলা দুনিয়া, রঙ্গিলা ব্লগ।

একবার একজন বিদেশী এসেছিলেন বাংলাদেশে। সেটা ছিলো প্রথমবারের মতো তার বাংলাদেশ সফর। যাই দেখতেন তাতেই তিনি বিস্মিত হতেন। লুঙ্গি দেখে বিস্ময়ে তার চোখ ছানাবড়া। বোতাম নেই, বেল্ট নেই এই জিনিস তবু আটকে থাকে কেমনে? শুধু এখানেই শেষ না। রাতে শোবার সময় মশারি দেখে বলেন- জিনিসটা কি? মাছ ধরার যন্ত্রপাতি নাকি? চতুর সহকারী বুদ্ধি করে বলেন, ওটা আসলে একটা গুহা। তোমার জন্য বানানো হয়েছে। ভিতরে ঢুকে পড়ো খুব মজা হবে। তার উদ্ভট সব প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে সহকারী ভদ্রলোকের চুল পেকে যাবার জোগাড়। এমন সময় আবার নতুন প্রশ্ন।

একদিন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলো এক বোরখা পরিহিত ভদ্রমহিলা। বিদেশী সাহেবের সেটা দেখে বিস্ময়ের সীমা নেই। তিনি জিজ্ঞেস করলেন- ওটা কি? সহকারী কিছুক্ষণ ভেবে বললেন- ওটা হচ্ছে একটা মোবাইল ট্যান্ট, মানে চলমান তাবু। ব্যাপার এখানে শেষ হলেই ভালো হতো। কিন্তু ভদ্রলোক দৌড়ে গেলেন তাবু পরিদর্শনে। এমন মজার জিনিস জীবনে দেখেন নাই। গিয়ে ভাঙা ভাঙা বাংলায় জিজ্ঞেস করলেন- আমি কি আপনার তাবুতে একটু ঢুকতে পারি?

রসের কথা অনেক হলো। তবে বেশিদিন আর শুনতে হবে না। কারণ সময় হয়েছে এবার পুরো দেশটারই তাবুর মধ্যে ঢুকে যাবার।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28718289 http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28718289 2007-06-28 16:27:06
প্রাচীন পথিক ধুলি-ধূসর এই পৃথিবীতে আমি এক প্রাচীন পথিক।
তখনো আসেনি কোন বার্তাবাহক সবুজ উপত্যকায়,
যীশু- সেও ছিলো সহস্র বছর কোন অজানা কুমারীর
জঠরে সুপ্ত (না তার নাম মেরি ছিলো না)
প্রকৃতির ক্রীড়ানক হওয়ার প্রতীক্ষায়। তখনো-
কোন বনিক হৃদয় পাল তোলেনি ভূ-মধ্যসাগরের বুকে।
শুধু আমিই ছিলাম আর আমার যাযাবর ভালোবাসা ছিলো-
তাই অতীত স্মৃতিচিহ্নগুলোর সাক্ষী এই আমি ভালোবেসেছি
এই পথ-ঘাট-নদী-জল-নক্ষত্র-আর সবুজ মানুষগুলোকে।
দেখেছি- শকুন্তলার বিরহী কান্না, দেখেছি বেহুলার ভাসান,
তক্ষকের ফণায় চড়ে পার হয়ে গেছি কৃষ্ণ সাগর।
প্রাগৈতিহাসিক চরিত্রের আচ্ছাদনে গিয়েছিলাম অমরাবতীতেও,
হাওয়ায় উড়েছিলো সেদিন পুষ্পক রথ।
দেখেছিলাম অপ্সরী মেনেকার উদ্দাম নৃত্য,
হ্যাঁ সবাই বলে- সে নেচেছিলো।
কিন্তু আমি জানি- সে কেদেঁছিলো,
আর কেদেঁছিলো তার খোপার সফেদ ফুল- দোলনচাপা নাম।
এও জানি- সেই ফুলের ঘ্রাণেই ভেঙ্গেছিলো বিশ্বামিত্রের ধ্যান।


** লেখাটা সচলায়তনে প্রকাশিত। এখানে দেয়ার ইচ্ছে ছিলো না। এই অব্স্থার অবসান হওয়া উচিত। ভুল সংশোধনের জন্য ক্ষমা চাইলে কি আত্মসম্মানে বেশি লাগে?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28717706 http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28717706 2007-06-25 19:04:36
রাখিস মা রসে-বশে
আরেক রসিক সাহিত্যিক সঞ্জীব বাবু যিনি বেশ রসিয়ে মশিয়ে আমাদের কাছে মাপা হাসি চাপা কান্না ছাড়েন, তিনিও একটা বই লিখেছেন 'রাখিস মা রসে বশে' নামে। ভদ্রলোকের রসিকতা কিন্তু বেশ উচুঁ দরের। তার একটা উদাহরণ দেই। গল্পটার নাম মনে করতে পারছি না। বন্ধুর স্ত্রী ছাদে উঠেছেন, উনার সাথে কথা হচ্ছিলো। এমন সময় রাস্তায় একটা টায়ার ফাটলো। বন্ধুর স্ত্রীর আবার হার্ট দুর্বল। তিনি বুকের দিকে দেখিয়ে বললেন- ধরে দেখুন না কেমন ধুকপুক করছে। রসিয়ে সঞ্জীব বাবু বললেন- ধরে দেখবো কি? ওখানে যে মেয়েদের হৃদপিন্ড ছাড়াও আরেকটা জিনিস থাকে। কথাটি অবশ্য তিনি পাঠককে বলেছেন, বন্ধুর স্ত্রীকে না। পাঠক এখানে যদি কোন অশ্লীলতার ইঙ্গিত পান তবে সে দায় কিন্তু সঞ্জীবের, আমার না।

এবার আসি আমার এক চাপাবাজ রসিক বন্ধুর কথায়। যদিও সে সাহিত্যের ধার ধারে না কিন্তু রসের ভান্ডার একবারে কানায় কানায় পূর্ন। তাকে একদিন বললাম- 'দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনেক ভালো ভালো কাজ করছে। সব দুর্নিতীবাজ নেতাদের ধরে ধরে জেলে পুরছে।' সে কিছুক্ষণ ভেবে বললো- 'হুম কু্নাইন জ্বর সারাবে কিন্তু কুইনাইন সারাবে কে?' কথাটার অর্থ পরিষ্কার হলো দুই সপ্তাহ পরে। আরেকদিন সবাই মিলে ব্রুনসপার্কে পিকনিকে গেলাম। সেখানে সাইদুল গান ধরলো- আমার গায়ে যত দু:খ সয়। হঠাত গানের এক পর্যায়ে সোহাগ হট্টগোল বাধিয়ে দিলো। আমরা জানতে চাইলাম- ব্যাপার কি? সোহাগ বললো 'গান গাও ঠিক আছে, মাগার আমার পরিবার নিয়ে টানাটানি করো ক্যান?' 'মানে?'- সবাই জানতে চাইলাম। 'মানে হইলো, ও গাইতেছিলো- সাক্ষী ছিলো চন্দ্র সুরুজ, সাক্ষী লতা পাতা, আমার বউয়ের নাম লতা আর শালীর নাম পাতা।' 'ও আচ্ছা' - এখন আমরা বুঝতে পারি। পাশ থেকে শিমুল আফসোস করে বলে ওঠে- 'সোহাগ ভাই আপনার শালী আছে আগে বলবেন না?'

অনেক সাহিত্য রসের কথা হলো। এবার আসি ব্লগারসের কথায়। ব্লগটা কিন্তু রসে পরিপূর্ণ শুধু মাত্র একটা ত্রিমাত্রিক ক্যারেক্টারের জন্য। এখন অনেকেই দাবী তুলেছেন-

এক দফা, এক দাবী,
ছাগু তুই কবে যাবি?

আমি এতে ভীষণ মর্মাহত এবং ঘোর বিরোধিতা করছি। কারণ কি? কারণ হলো- এই ব্লগে ছাগু বিষয়ে যত সংখ্যক অপূর্ব সাহিত্য কর্ম, অসাধারণ রম্য রচনা হয়েছে, তা ছাগু না থাকলে কি সম্ভব হতো? মোটেই না। এক্ষেত্রে মুখফোড়কে গুরু মানতেই হয়। তার ক্ষুরধার রচনাতে ছাগু একেবারে জীবন্ত হয়ে মনিটরের উপর ম্যা ম্যা করে লাফাতে শুরু করে। আমাদের এমনিতে বিনোদনের ক্ষেত্র খুবই কম। এটাও যদি বন্ধ হয়ে যায় তবে উপায় কি? ব্লগ একেবারে পানসে হয়ে যাবে। তাই আমি চাই ছাগু থাকুক যুগ যুগ ধরে, আর জোগাতে থাকুক ক্রমাগত হাস্য রসাত্মক উপাদান। সুধীবৃন্দ প্রশ্ন করতে পারেন, কিন্তু তাহাকে ব্লগে কাঁঠাল পাতা যোগাবে কে? উত্তর- কেন? শুয়োপোকা, ক্লাউন, খেয়ালী এরা আছে না। তাই সবাই বলুন,

জিও ছাগুরাম।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28717305 http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28717305 2007-06-23 20:21:22
কথোপকথন - ১ - কি করছো?
-- ছবি আকঁছি।
- ওটা তো একটা বিন্দু।
-- তুমি ছুঁয়ে দিলেই বৃত্ত হবে। কেন্দ্র হবে তুমি। আর আমি হবো বৃত্তাবর্ত।
- কিন্তু আমি যে বৃত্তে আবদ্ধ হতে চাই না। আমি চাই অসীমের অধিকার।
-- একটু অপেক্ষা করো। . . . এবার দেখো।
- ওটা কি? ওটা তো মেঘ।
-- তুমি ছুঁয়ে দিলেই আকাশ হবে। তুমি হবে নি:সীম দিগন্ত। আর আমি হবো দিগন্তরেখা।
- কিন্তু সে তো অন্ধকার হলেই মিলিয়ে যাবে। আমি চিরন্তন হতে চাই।
-- আচ্ছা, এবার দেখো।
- একি! এ তো জল।
-- তুমি ছুঁয়ে দিলেই সাগর হবে। তিনভাগ জলের তুমি হবে জলকন্যা। আর আমি হবো জলাধার।
- আমার যে খন্ডিতে বিশ্বাস নেই। আমার দাবী সমগ্রের।
-- একটু অপেক্ষা করো। এবার চোখ খোল।
- ওটা কি আঁকলে? ওটা তো একটা হৃদয়।
-- হ্যাঁ, এটা হৃদয়। যেখানে তুমি আছো অসীম মমতায়, চিরন্তন ভালোবাসায়। এবার বলো আর কি চাই তোমার?
- সারাজীবন শুধু ওখানেই থাকতে চাই।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28716975 http://www.somewhereinblog.net/blog/jhara_patablog/28716975 2007-06-22 06:23:15
ব্লগীয় ছড়া (অনেক ডিস্টার্বিং এলিমেন্টস আছে, নিজ দায়িত্বে পড়িবেন) ছাগু কহিলেন, বুঝিছ ফলেন, ব্লগের দখল লইব কিনে।
কহিলাম আমি, এহেন ছাগলামি না করিলেই কি নয়?
শূন্য এই মাঠে, তুমি একা বটে, তোমারই তো সুসময়।

শুনি ছাগু কহে, ঝরা- জানো তো হে, করিয়াছি আমি পণ,
সামহয়্যারইন, করিব স্বাধীন