আমার প্রিয় পোস্ট
- IP দিয়ে খুজে বেড় করুন যাকে খুজছেন তার অবস্থান!! - এ. এস. এম. রাহাত খান
- ছবিতে কম্পোজিশনের গুরুত্ব : একটি উদাহরণ ও কয়েকটি টিপস - হাসান বিপুল
- ব্লগারস ব্লাড ব্যাংকঃ ১২৯ ব্লগারের তথ্য (আপডেট পোস্ট) - ভবঘুরে
- গু বাবার সাক্ষাত - ঝড়ো হাওয়া
- ভাই ! একটু চাপেন, সমুদ্রটা দেখি !! - ঝড়ো হাওয়া
- নাটক : আমি ব্লগ ছেড়ে দিচ্ছি - ঝড়ো হাওয়া
মায়ের মুখে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি - 01
০২ রা এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১২:০৮
... তখন এতো কিছু বুঝতাম না। আব্বা কে দেখতাম সব সময় খুব টেনশনে থাকতেন। মন মরা হয়ে অফিসে যেতেন। বিকালে কলোনীর মাঠে অন্যান্য প্রতিবেশীদের সাথে রেডিও শুনতেন। দেশের ভিতর উত্তপ্ত অবস্থা। শহর জুড়ে অস্থিরতা। কয়েক দিন আগে গ্রাম থেকে মনি খালাম্মা ঢাকায় এসেছেন চিকিৎসা করাতে। 24 মার্চ 1971, সকালে ওনার কি যেন একটা অপারেশন হলো ঢাকার এক হাসপাতালে। খালু আর তাদের ছোট দুই ছেলে আমাদের বাসায়। দেশের পরিস্থিতি দেখে আব্বার সাথে পরামর্শ করে খালু রাতেই মনি খালাম্মা কে বাসায় নিয়ে আসলেন। তাছাড়া হাসপাতালে ডাক্তারও পাওয়া যাচ্ছিল না।
রাতে কলোনীর বাসাটাতে শুয়ে আছে দুটি পরিবারের 12 জন মানুষ। মনি খালাম্মার ঘুমের নেশা মাত্র কাটেছে। খালাম্মা আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুললেন, দেখ তো বাইরে খটখট আওয়াজ কিসের? আমি জানলা খুলে দেখি পাকিস্তানী আর্মি কলোনীর রাস্তাতে টহল দিচ্ছে। আমি অন্য রুমে গেলাম। আব্বাও উঠে গেছেন। সবাই কে চুপ করে ফ্লোরে বসে থাকতে বললেন। তিনি নিঃশব্দে সিড়ি গেটের লাইট বন্ধ করে দিয়ে আসলেন।
পাকিস্তানী আর্মি বুটের আওয়ার জোড়ালো হচ্ছে। একটু পর পর গাড়ীর শব্দ আসছে। এমনি এক সময় হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হয়ে গেলো বৃষ্টির মত। সেই রাত ভোলার মত নয়। আমারা তো ধরেই নিয়েছি আমরা মরতে যাচ্ছি। আমার ছোট ভাই (8) আর দুই খালাতো ভাই হুমায়ুন (5) ও সেলিম (3) পালঙ্কের নীচে বসে নিঃশব্দে কাঁদছে।
- অসমাপ্ত -
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার দিনকাল বিভাগে ।
অতিথি বলেছেন:
কে জানি রেটিং 1 দিয়েছিল! আমি 5 দিলাম। জি্বনের বাদশাহর কথা শুনেই বোধ হয়, গত কয়েক দিন বাবার কাছে মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনছি। মায়ের বয়স 6 ছিল, তাই একটা লাল শাড়ি বুকে নিয়ে মিলিটারির ভয়ে দৌঁড়ে মাটির নিচের ঘরে পালানো ছাড়া আর কিচ্ছু মনে নেই। ভালো লাগছে টিনেজ বাবার স্মৃতি শুনতে, ধারণা পরিশোধিত, পরিবর্ধিত হচ্ছে। সংগ্রহটা দারুণ হবে আসলে!
অতিথি বলেছেন:
িেযভাবে করুক যুদ্দ সবাই করছে এক পকখের কথা লেখা হয় বেশি আরেকটা হয় না। আপনার ওপর বিশ্যাস আছে দুইদিকই লেখবেন
অতিথি বলেছেন:
মোঃ আবদুল খালেক, আরেক পক্ষ তখন ছিলো পাকিস্তানীরা আর তাদের পেয়ারের দালাল ও রাজাকারগুলি। পাকিস্তানী জেনারেলরা তাদের কথা লিখে রেখে ছে। তা রাজাকার-দালালদের কথা আপনি বলবেন নাকি? আমরা শুনতে চাই।
অতিথি বলেছেন:
মোআ খালেক, বলো তোমার পাকি বাপদের কথা।
অতিথি বলেছেন:
সন্ধ্যা ঃরেটিং নিয়ে মাথা ব্যাথা নাই ...। সময় থাকলে তুমিও তোমার বাবা'র বলা মুক্তি যুদ্ধের স্মৃতি লিখে ব্লগ পোষ্ট দাও।
অতিথি বলেছেন:
একটা সুন্দর সাইড তুলে ধরেছেন ... দ্য আনসীন ক্রাইম অভ আ ওয়ার ... সাধারণ মানুষকে লম্বা সময় ধরে কি জঘন্য আতঙ্কে রাখে!!! ... মানুষের মাঝে যে অসীম ক্ষমতাগুলো থাকে সেগুলোকে পঙ্গু করে দেয়ার জন্য এরচেয়ে মারাত্নক অস্ত্র বোধকরি আর কিছু নেই ...ঝড়ো হাওয়া, এটা মনে হয় আপনার সিরিজ হবে, তাইনা? ... অপেক্ষায় আছি ...
অতিথি বলেছেন:
আমরা কিশোরগঞ্জ ছিলাম।
অতিথি বলেছেন:
যদিও আমি ছিলাম না।
অংকন বলেছেন:
আসলেই সে সময়টা ছিলো অতি ভয়ংকর । অজানা আশংকে সবসময় সবার বুক কাপত । এই মনে হয় ওরা এলো , এই ।
বকলম বলেছেন:
আমার বাবা রাজাকার ছিলেন কিনা জানি না তবে মুক্তিযোদ্ধাও ছিলেন না। শুনেছি আমাদের বাড়িটাকে পাকিস্তানীরা ক্যাম্প বানিয়ে ছিল। আমার দুই চাচা তাদের নিজ নিজ শশুর বাড়িতে ছিলেন বলে শুনেছি। আমার বাবা দাদীর ছোট ছেলে বলে মায়ের সাথে ছিল তার নানার বাড়িতে। আমার দাদী নাকি একবার বাবাকে বাড়িঘরের অবস্থা দেখতে পাঠিয়েছিলেন। বাবা এসে নাকি উলটো মুরগিসব পাকিস্তানীদের জবেহ করে দিয়ে গিয়েছিলেন। এসব হালকা ভাবে শোনা কথা।একবার বাবার এক বন্ধু এসে বলছিলেন, "সেদিন যদি আমি আল্লারে বলে চিৎকার না দিতাম, মিলিটারীরা তো আমাদের দুজন কেই মেরে ফেলতো' (তার মতে, আল্লাহরে ডাকার ফলে মিলিটারীরা বুঝতে পারে বাবা আর তার বন্ধু মুসলমান)।
খুব কষ্ট হয় ভেবে যে 'কেনো আমি একাত্তরের আগে হলাম না! তাহলে আর কিছু না পারি, এই তুচ্ছ জীবনটাতো দিতে পারতাম দেশের জন্য'। আবার ভাবি, হয়তো বাবার মতো কাপুরুষও হতে পারতাম!
অতিথি বলেছেন:
আমি কই ছিলাম তখন???



















পরের পর্বগুলো সামনে পোষ্ট করবো।