আমার প্রিয় পোস্ট
- ক্লিক করেই কি শুধু পয়সা পাওয়া যায়? - হাসান
- ~*~*~IP দিয়ে খুজে বেড় করুন যাকে খুজছেন তার অবস্থান!!~*~*~ - এ. এস. এম. রাহাত খান
- ছবিতে কম্পোজিশনের গুরুত্ব : একটি উদাহরণ ও কয়েকটি টিপস - হাসান বিপুল
- ব্লগারস ব্লাড ব্যাংকঃ ১২৯ ব্লগারের তথ্য (আপডেট পোস্ট) - ভবঘুরে
- গু বাবার সাক্ষাত - ঝড়ো হাওয়া
- ভাই ! একটু চাপেন, সমুদ্রটা দেখি !! - ঝড়ো হাওয়া
- নাটক : আমি ব্লগ ছেড়ে দিচ্ছি - ঝড়ো হাওয়া
বান্দরবানে আড়াই ঘন্টা : জাদি ও স্বর্ণ মন্দির দর্শন
০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:৫৬
যে প্রোগ্রামের উছিলায় গত রাতে লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) এসেছি সেটা হবে আজ দুপুরে। আমরা কি দুপুর পর্যন্ত ফাও বইসা থাকার পাবলিক ! সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বের হয়ে পড়লাম, উদ্দেশ্য বান্দরবান। কেরানীর হাট থেকে বাসে উঠে সকাল নয়টার দিকে বান্দরবান হাজির হলাম। হাতে সময় ঘন্টাখানেক তাই বেশী দূরে যাওয়া যাবে না, শহরের আশে পাশেই থাকতে হবে।
রিক্সা দিয়ে প্রথমে গেলাম রাজার বাড়ি, বাড়িটি ১৯৩৪ সালে নির্মিত। সেখানে এক ভদ্র মহিলার সাথে দুই/একটা কথা হলো, পরে রিক্সা ওয়ালা জানালো উনি রাজার বড় মেয়ে (মাম্যাচিং) বর্তমানে ইউ.পি চেয়ারম্যান। এতটু দুরেই ছোট্ট একটা টিলার উপর জাদি বৌদ্ধ মন্দির। আজ সেখানে পুজা উৎসব চলছে। দলে দলে বিভিন্ন বয়সের বৌদ্ধ ধর্মম্বলীরা খাদ্য-দ্রব্য, ফুল নিয়ে খালি পায়ে সিড়ি বেয়ে উপড়ে উঠছে।
গতবার বান্দরবন থেকে ফিরে স্বর্ণ মন্দিরের কথা শুনে আফসোস করছিলাম। এইবার আর সেই সুযোগ মিস দেই নাই। সাঙ্গু নদী পার হয়ে শহর থেকে বেশ খানিকটা পথ দুরে পাহাড়ে চুড়ায় স্বর্ণ মন্দির অবস্থিত। দূর থেকে স্বর্ণ মন্দিরের সোনালী চুড়া যেকোন আগন্তুককে আকর্ষন করবেই। আমরা পাহাড় বেড়ে উপরে উঠলাম। মুল স্বর্ণ মন্দিরের প্রবেশ গেট থেকে ১৫২টা সিড়ি খাড়াখাড়ি ভাবে উপরে চলে গেছে। আমরা উঠলাম। শীতের সকালের মিষ্টি রোদ আমাদের সাথী। গেরুয়া কাপড় পরিহিত স্বর্ণ মন্দিরের পুরহিতের কথা শুনে হতাশ হতে হলো। তিনটার পর দর্শনার্থীরা মুল স্বর্ণ মন্দিরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারবে আর এখন পুজারী ও যারা দেবতাকে শ্রোদ্ধা নিবেদন করতে পারবে তারাই প্রবেশের অনুমতি পাবে।
জিজ্ঞাস করলাম- শ্রোদ্ধা নিবেদন কি ভাবে করে ?
- আমি তোমাকে দেখিয়ে দেব কিভাবে।
ইতিমধ্যে পুরহিতের কথা শুনে ৫/৭ জন (খুব সম্ভবত ইসলাম ধর্মের) লোক দেবতাকে শ্রোদ্ধা নিবেদন করার জন্য ভেতরে প্রবেশ করলো এবং শ্রোদ্ধা শেষে মুল স্বর্ণ মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি পেলো। আমি বাইরে দাড়িয়ে দেখলাম।
আমার ট্যুর পার্টনার আরিফ ভাই আর মীর ভাই এতোক্ষনে সিড়ি বেয়ে এখানে এসেছে। আরিফ ভাইকে বললাম, এরা যে নিয়ম বলছে আমাদের তো পালন করা সম্ভব না। হাত জোর করে বৌদ্ধদেবের সামনে মাথা নত করে শ্রোদ্ধা করতে হবে।
এবার আরিফ ভাই আর মীর ভাই পুরহিতের সাথে কথা বললো।
পুরহিতের এবারো জানালো, যারা এখন দেবতাকে শ্রোদ্ধা নিবেদন করবে বা পুজা করবে শুধু মাত্র তারাই স্বর্ণ মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবে। দেখলা না, এখন যারা মন্দিরে প্রবেশ করলো তাদের মধ্যে একজন শুধু হিন্দু আর বাকি সবাই মুসলিম ধর্মের ছিল। তারা তো দেবতাকে শ্রোদ্ধা নিবেদন করে মন্দিরে প্রবেশ করলো। বুঝছি তোমরা শ্রোদ্ধা নিবেদন করতে পারবা না। তোমরা এখন চলে যাও, তিনটার পর আসো তখন ভেতরে যেতে পারব।
[ওনার সাথে আরো কিছুক্ষন কথা হয়েছিল, আমি সেদিকে যাচ্ছি না ]
আমরা মন খারাপ করে সিড়ি বেয়ে নীচে চলে আসলাম। পাহাড়ি পথ দিয়ে আমরা আরো উপড়ে উঠলাম। এদিকটা প্রায় সমতল। এক পাশ থেকে স্বর্ণ মন্দির স্পষ্ট দেখা যায়। আমি আরো উপরে যাওয়া পথ খুজছি। ভেতরের দিকে একটা ছোট্ট খোলা ঘরে বৌদ্ধদেব মুর্তির সন্ধান পেলাম। যেটার পেছনে রয়েছে বন্ধ জলাশয় ! প্রায় দেড়/দুই হাজার ফিট উপরে এই ছোট পুকুর দেখে আমিতো অবাক। এটাই এ পাহাড়ের শেষ প্রান্ত উপরে ওঠার কিছু নাই। এবার ফেরার পালা, স্বর্ণ মন্দিরে প্রবেশ করতে না পারার কষ্ট নিয়ে বান্দরবান ত্যাগ করলাম।
স্মৃতি : ০৪ জানুয়ারী ২০০৮ইং / শুক্রবার।
প্রকাশ করা হয়েছে: ভ্রমন বিভাগে ।
দিগন্ত বলেছেন:
ছবিগুলো সুন্দর হয়েছে। যাবার ইচ্ছা রইল।
লেখক বলেছেন: হাতে সময় নিয়ে যাইয়েন।
আমার মত মিনিট হিসাবে যাইয়েন না।
ধন্যবাদ।
ঝড়ো হাওয়া বলেছেন:
ছবি : ১, ২, ৩ > স্বর্ণ মন্দির।ছবি : ৪ > স্বর্ণ মন্দিরের পাশে পাহাড়ের উপর পুকুর।
ছবি : ৫ > পুকুরের পাশের ছোট্ট উপাশনালয়ের ভিতরের বৌদ্ধদেব মুর্তি ।
ছবি : ৬ > রাজার বাড়ি।
ছবি : ৭ > স্বর্ণ মন্দিরের নীচে সাইন বোর্ড।
লেখক বলেছেন:
পুরাপুরি নিশ্চিত না,
আমাদের রিক্সাওয়ালা রুহুল আমীন তথ্যটা দিয়েছে।
লেখক বলেছেন: ভাইজান !
আড়াই ঘন্টায় কি এতো দূরে যাওয়া-আসা করা যায় ?
শহরের আশেপাশেই ছিলাম। তবে ডিসেম্বর ০৬ এ চিম্বুক, জিয়া পুকুর, নীলাচল, মানিকছড়ি, শৈলকুপ, মেঘলা ... ঘুড়েছিলাম ৭-৮ ঘন্টায়।
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন:
ঝড়ো আপনে বোধহয় জানেন না যে স্বর্ণ মন্দিরের পাশে পাহাড়ের উপর পুকুর আছে সেইটায় গোছল করলে ৬ মাসের যৌবন বৃদ্ধি ঘটে
লেখক বলেছেন: "৬ মাসের যৌবন বৃদ্ধি " কথাটা ক্লিরিয়ার হইল না !
আগে জানাইলে আপনার জন্য ৫০০ এম.এম এর এক বোতল আনতে পারতাম ! 
থাক দুঃক কইরেন না।
লেখক বলেছেন: অনেকটা আৎকা ট্যুর ছিল।
সাইফুর বলেছেন:
+
ইকরাম বলেছেন:
আমার বেলায় ও একই কেইস ঘটছিল, পরে ১০০ টাকা দক্ষিনা দিয়ে ঢুকতে হয়েছিল কিন্তু আর ছবি তুলি নাই। তবে তারো আগে যখন গিয়েছিলাম সেইবার কিন্তু এমন নিয়ম ছিলনা
লেখক বলেছেন: ব্যাড লাক খারাপ ছিল আর কি !
তাছাড়া আমি কিভাবে ঐ পুরোহিত কে দক্ষিনার অফার দেই ?
তবে ভেতরে গেলে ছবি তুলে সাফা করে ফেলতাম।
ফ্রুলিংক্স বলেছেন:
বেশ মজাই আছেন মনে হচ্ছে।তা বান্দরবনে কি কোন বান্দর/'নীর সাথে দেখা হয় নাই?? আর কতো....
লেখক বলেছেন:
আমি সবসময়ই আনন্দে থাকি !
পোড়া কপাল কারো সাথে দেখা হয় নাই।
লেখক বলেছেন: আমারে কইলেই হইতো, দিয়ে দিতাম।
পোড়া কপাল আর কি !
প্রচেত্য বলেছেন:
চমতকার, দর্শন কাহিনীগুলো বরাবরই উপভোগ্য
লেখক বলেছেন: শুকরিয়া !
তৌফিক বলেছেন:
এই পোস্টটি একইসঙ্গে প্রিয় চট্টগ্রাম গ্রুপেও কি দেওয়া যায়? প্রিয় চট্টগ্রামে আপনাকে স্বাগতম।লেখক বলেছেন: অবশ্যই দেওয়া যায়।
আমি কিন্তু চট্টগ্রামের সন্তান না তবে চট্টগ্রাম কে পছন্দ করি।
আপনাদের গ্রুপ টা দেখলাম। ভালোই।
গ্রুপে চট্টগ্রামের ব্লগার - রাগিব ভাই, সাব্বির, জুয়েল ভাই এর অনুপস্থিতি লক্ষনীয়।
আমাকে আমন্ত্রনের জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আনন্দ ভ্রমন করার পরেও একটা আফসোস রয়েই গেলো ।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
ফাটাফাটি সব ফটুক দেখি ! বহুত শুকরিয়া জনাব ।'প্রিয় চট্টগ্রাম' তাঁবুতে আপনাকে নিমন্ত্রণ ।
তৌফিক ভাইয়ের লিংক দ্রষ্টব্য ।
লেখক বলেছেন: বদ্দা আই আইজ "প্রিয় চট্টগ্রাম" গ্রুফত জয়েন কইরগি !! 
আবু সালেহ বলেছেন:
ঝড়ো ভাই...বান্দরবনে আমিও গিয়েছিলাম....
স্বর্ন মন্দির টা চিনলাম....কিন্তু জাদি টা কি ???
তা কেমুন আছেন??
অনেকদিন পরে.....
লেখক বলেছেন: রাজার বাড়ি থেকে রিক্সা দিয়ে ০৫ মিনিট দূরে গেলেই দেখতে পাবেন সেই জাদি মন্দির। একটা ছোট টিলার উপর জাদি মন্দির অবস্থিত।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
বান্দরবন খুব সুন্দর জায়গা। বিশেষ করে বৌদ্ধ মন্দির গুলো। বৌদ্ধদের কিছু কন্সেপ্ট, আমার খুব ভাল লেগেছে। যদিও ওদের কিছু কিছু লাইফ স্টাইল আমার পছন্দ না। পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।


















