আমরা দিনাজপুর যাবো শুনে এক পরিচিতজন আমাকে একটা অতিরিক্ত দায়িত্ব দিল সেটা হলো, হাজী দানেশ কৃষি ও বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক স্টুডেন্ট এর হাতে একটা গিফট প্যাক পৌছিয়ে দিতে হবে। ঐ স্টুডেন্ট কেও বলা হয়েছে ঢাকা থেকে যেকোন সময় ২জন ছেলে আসবে তার জন্য একটা প্যাকেট নিয়ে। আমরা দিনাজপুর পৌছালাম রাতে। আগামীকাল ভোর থেকে দিনাজপুর ভ্রমন শুরু করবো। প্রথমে হাজী দানেশ কৃষি ও বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে যেয়ে ঐ গিফট প্যাকটা পৌছিয়ে দিয়ে দায়মুক্ত হবো, তারপর শান্তিমত ঘুরবো।
বাস স্ট্যান্ড থেকে বাসে করে রওনা দিলাম হাজী দানেশ কৃষি ও বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঘড়ির কাটায় সকাল ৮টা ছুই ছুই। বাস থেকে নেমে ঐ স্টুডেন্ট কে ফোন দিলাম- আমরা এসে গেছি আপনি কই ? এতো সকালে ফোন করার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলাম, আরো জানালাম এটাছাড়া আমার আর কোন উপায় ছিল না, আমার হাতে সময় খুব কম। সে আমাদের ’এস.এম’ এর সামনে বসতে বললো।
ক্যাম্পাসের ভিতর যেয়ে গার্ড তে জিজ্ঞাস করলাম ভাই ’এস.এম’ কোন দিকে ?
- ’এস.এম’ কি জিনিস ভাই। আগে শুনি নাই !
উত্তর শুনে আমার মাথায় হাত ! ঐ স্টুডেন্ট কে আবার ফোন দিলাম। বললাম, আপনাদের গার্ড তো ’এস.এম’ চিনতে পারছে না ! তখন সে বলল ’শহীদ মিনারের’ সামনে আসেন। এখন ’এস.এম’ এর অর্থ বুঝে আসলো।
পরিচ্ছন্ন ছিমছাম ক্যম্পাস। সবাই মনে হয় ঘুমাচ্ছে। সারা ক্যম্পাসে ৩-৪ জন মানুষের দেখা পেলাম। আমরা অপেক্ষা করছি প্রায় ২০ মিনিট হতে চললো। অথচ ঐ স্টুডেন্ট এর জন্য সময় বরাদ্দ করেছিলাম ১৫ মিনিট ! সে আসতে এতো দেরী করছে কেন বুঝছি না ! মনে হয় সাজুগুজু করে সময় শেষ করছে। আমি বললাম, হাসান ভাই ! আমার ফাও বইসা সময় নষ্ট ভালো লাগছে না, চলেন ক্যাম্পাসটা ঘুরে দেখি, সে সাইজা-গুইজা আসুক !
পুরা ক্যম্পাস এক চক্কর দিয়ে আবার ’এস.এম’ এর সামনে দাড়ালাম। অথচ তার কোন দেখা নাই ! আরো কিছু সময় অপেক্ষার পর পশ্চিম দিক থেকে তার আগমন হলো। আমি দ্রুত তার হাতে ঐ গিফট প্যাকটা পৌছিয়ে দিয়ে বললাম আমার দায়িত্ব শেষ, আমি এখন যাই।
- যাবেন মানে ! আমাদের ক্যাম্পাসে আসছেন, চলেন আপনাদের ঘুরিয়ে দেখাই।
- আপনার দেরী দেখে আমরা অলরেডি দুই চক্কর দিয়ে ফেলেছি।
- দেখলেও, কোনটার কি নাম সেটা তো জানেন না।
- কিছু কিছু জানি যেমন- এইটা এডমিন বিল্ডিং, ঐটা ছেলেদের হোস্টেল, ঐটা মেয়েদের হোস্টেল, ঐপাশে মসজিদ, মাঠ, গরু রাখার জায়গা
- তবুও আসেন, আপনাদের ঘুরে দেখাই।
কিছুক্ষন হাটার পর বললাম, ঐদিকে ঘুরেছি নতুন কোন জায়গা থাকলে চলেন।
আমাদের ক্যান্টিনে গেছেন ? - না। তাহলে চলেন। রাস্তা পার হয়ে ক্যান্টানে গেলাম। এবার শুরু হলো খাওয়ানোর জন্য পীড়াপিড়ি। বহু কষ্টে মুক্তি পেলাম। আমরা তাকে বোঝাতেই পারলাম না যে, আমাদের হাতে সময় খুব কম। মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে আমাদের দিনাজপুরের উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো ঘুরে দেখে আজই রাজশাহীতে পৌছাতে হবে। বহু কষ্টে দ্রুত বিদায় নিয়ে চলে গেলাম আমাদের পরবর্তী মিশনে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

