ভরা জোছনায় ডুবে আছে রাত।আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়াচ্ছে আপন মনে।মাঝে মাঝে চাঁদটাকে আড়াল করে দিয়ে যায়।কিন্তু চেষ্টা ফলপ্রসু হয়না।কিন্তু যখনি হঠাৎ করে কালো মেঘের দল এসে চাঁদকে আড়াল করে যায়,পৃথিবী জুড়ে তখন নেমে আসে তমস্যা।এমন পরিবেশ সবাইকে মুগ্ধ করার মত।আমিও এর ব্যতিক্রম নই।সাধ জাগল আজ একটি চমৎকার কবিতা লিখব তোমায় ভেবে,যেটা হবে আমার পক্ষ থেকে তোমার জন্য প্রথম উপহার।নিরব মনে সে চেষ্টাই করতে লাগলাম।হঠাৎ মাথার মধ্যে অন্য চিন্তা ঢুকে বসল।সামনের মাসে নতুন বাসায় উঠতে হবে,কিন্তু এখনো বাসা খুজে পাইনি।বাসার চিন্তা মাথায় এসে সব তালগোল পাকিয়ে ফেলল।এখন আর কোন কিছুই ভালো লাগছেনা।থাকার জায়গা না থাকলে কোন কিছুই ভালো লাগেনা।তাছাড়া সামনের মাসে পরীক্ষা।বাসা না ফেলে আজ এ বাসায়,কাল ও বাসায়;এভাবে আত্নীয় স্বজন আর বন্ধুবান্ধবের বাসায় থেকে ঠিকমত থাকা বা পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব নয়।গত কয়েকদিন ধরে হন্য হয়ে বাসা খুজেছি,ভালো বাসা পাই নাই।বাসা ভালো হলে ভাড়া বেশি,কম হলে হয় খারাপ না হয় ‘ব্যাচেলর হবে না’।যদি পাই তখন দেখা যায়,ভাড়া অনেক বেশি,আর যখন সাধ্যের মধ্যে থাকে তখনো একটাই সমস্যা ব্যাচেলর হবে না।
বাসা খুজতে বের হয়ে অনেক বাসা ফেলেও ব্যাচেলরদের দেয়ার মত বাসা খুবই কম।কেউ ব্যাচেলরদের দিতে চায় না।একটা টু-লেট চোখের সামনে পড়লে যখন অনেক আশা নিয়ে বাসার ভিতর ঢুকি,তখন হয় বাড়ির কেয়ার টেকার বা মালিক ব্যাচেলর বলে হাত উচিয়ে না হয় মুখ নাড়িয়ে না করে দেন।কখনো অনেক ভনিতা করে না করে দেন।আমাদের কিছুই করার থাকেনা।ভেতরে চরম ভাবে জ্বলতে থাকে,আর জেদ জাগে বাড়িওয়ালের প্রতি।বের হতে হতে এবং আরেকটা টু-লেট চোখে পড়ার আগ পর্যন্ত মনে মনে তাদের খুব গালি তথা সমালোচনা করতে একটুও মনে বাধে না।কারন তাদের সমালোচনা না করলে জেদ কমেনা,মনে একটু হলেও শান্তি পাওয়া যায়।কিন্তু কেন? কেনই বা তাদের আমাদের মুখ থেকে সমালোচনা শুনতে হবে ?আমরা বলতে রাজি না,তারাই তো আমাদের বাধ্য করে।কখনো কখনো প্রচন্ড ভাবে মন খারাপ হয়ে যায়।আমরা এত তুচ্ছ হয়ে গেলাম?আমরা কী এমন করেছি যে আমাদের এমন শাস্তি দেয়া হচ্ছে?ব্যাচেলর বয়সটা একটু খারাপ,সবাইকে এটা অতিক্রম করে আসতে হয়।কেউ তো আর জন্মের পর বিয়ে করে বড় হননি কিংবা বিয়ে করে জন্ম হয়নি।এখন তো মনে হচ্ছে আগে বিয়ে করে এরপর পড়া লেখা করতে হবে।পড়ালেখা শেষ করে বিয়ে করা যাবেনা।যেভাবে বাড়িওয়ালারা এই ফরয আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনে নেমেছেন তাতে বিয়ে না করে উপায় নেই।কিন্তু আমি যদি এখন কোন বাড়িওয়ালার কাছে গিয়ে তার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিই,উনি কি আমার প্রস্তাবে রাজি হবেন?এই বয়সে আমার কাছে উনার মেয়েকে বিয়ে দিবেন?আদৌ নয়!বরঞ্চ উনি রেগে গিয়ে আমাকে ধমক দিবেন,আমার বাবা মার ব্যর্থতার কথা বলবেন।দেয়াই স্বভাবিক কোন বাবা মাই তার মেয়েকে বেকার ছেলের কাছে বিয়ে দিবেন না।ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার,আইনজীবী,ব্যবসায়ী…ইত্যাদি সম্মানিত পেশার ছেলে খুজবেন।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে-তারা কিভাবে তৈরী হবে?তাদেরকে তো আপনারাই বাধা দিচ্ছেন।যে ছেলে আগামীর ডাক্তার হবে,আগামীর ইঞ্জিনিয়ার হবে,বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবে,বড় ব্যবসায়ী,…ইত্যাদি হবে সে ছেলের পড়ালেখা,থাকার স্থান আপনারাই দিচ্ছেন না।অথচ ঠিকই পরে এই ধরনের ছেলে খুজতে পেপারে বিজ্ঞাপন লাগিয়ে দেন।আর যখন তাকে বিয়ে করেই পড়ালেখা করতে হচ্ছে,তখন তো আপনাদের মত বাড়িওয়ালারা মেয়ে বিয়ে দেয়ার জন্য ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার,আইনজীবী খুজে পাবেন না কিংবা আশাই করতে পারেন না।হয়তো কোন বাসায় কোন ব্যাচেলর খারাপ আচরন করেছে,তাই বলে সবাইকে এর দুর্ভোগ পোহাতে হবে?তবে এর বেশিরবাগ শিকার আমরা ছাত্ররা।আমাদেরই বাড়িওয়ালদের এসব অত্যাচার সহ্য করতে হয়।তাহলে আমরা কী করবো?আমরা যারা ঢাকায় পড়াশোনা করি তাদের কী হবে?পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হল থাকলেও পর্যাপ্ত আসন না থাকায় অনেককেই আমাদের মত বাসা বাড়ি ভাড়া করে থাকতে হয়।রয়েছে অনেক কলেজ,যেখানেও আবাসিক ব্যবস্থা নেই,তাদেরও থাকতে হয় মেসে।দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর পাশাপাশি গুরুত্বপুর্ন অবদান রাখছে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গুলো।যার বেশির ভাগই বা প্রায়ই সবই ঢাকাতে।সেজন্য ছাত্র ছাত্রীদেরও ঢাকায় থাকতে হয়।যেখানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে পর্যাপ্ত ক্লাসরুম খুজে পাওয়া কষ্টকর,সেখানে আবাসিক ব্যবস্থা বা হল কল্পনাই করা যায় না।আর তাই ছাত্র ছাত্রীদের বাসা ভাড়া করেই থাকতে হয়।রাজধানী হওয়ায় এখানে অফিস ,আদালত,কলকারখানা বেশি।সঙ্গত কারনে জীবিকার তাগিদে মানুষকে ঢাকায় ছুটতে হয়.সবার পক্ষে পুরো পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকা সম্ভব নয়,তাই গ্রামের বাড়িতে পরিবার রেখে গৃহকর্তাকে ঢাকায় থাকতে হয়।তখন তিনি হয়ে যান ব্যাচেলর,চাকুরীজীবী ব্যাচেলর।আর অবিবাহিত অনেককেই থাকেন তারাও হয়ে যান চাকুরীজীবি ব্যাচেলর।কিন্তু যারা বিবাহিত তারা বাড়িওয়ালাদের কাছে ব্যাচেলর বলে গন্য হন না।তাদের জন্য বাড়িওয়ালার টু-লেট টাঙ্গিয়ে দরজা খুলে বসে থাকেন।সোফায় বসিয়ে বাড়ির নিয়ম কানুন শুনিয়ে রুমের চাবিটা হাতে দেন।সাদর সম্ভাষন জানিয়ে বরন করে নেন।কখনো ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানীয় বা ফলমুল দিয়ে আপ্যায়ন করে বরন করে নেন।আর যারা অবিবাহিত চাকুরিজীবী তাদের জন্যও বাড়িওয়ালারা অনেকটা সহায়।তাদেরকেও তারা পুরোপুরি ব্যাচেলর হিসেবে মানতে নারাজ।তারা চাকুরি করে তাই তারা পুরোপুরি ব্যাচেলর নন,একটু কম ব্যাচেলর।তাদের দিতেও বেশি আপত্তি নেই।না হলে বাড়ি ভাড়ার লিফলেটের নিচে ছোট করে লিখতেননা-‘চাকুরিজীবী ব্যাচলর গ্রহনযোগ্য’ বা ‘শর্ত স্বাপেক্ষে চাকুরিজীবী ব্যাচলর দেয়া হবে’।
তাদের কাছে ছাত্ররাই পুরোপুরি ব্যাচেলর।না পুরোপুরি নয় উত্তম ব্যাচেলর বা ব্যাচেলর হিসেবে উত্তম।আর তাই ছাত্রদেরই বেশি সহ্য করতে হয়।অনেক আশায় বুক বেধে তাদের কাছে গেলেও বিন্দুমাত্র মমত্ববোধ দেখায় না।মুহুর্তেই বিদায় করে দেয়।আর সাথে বোঝা হিসেবে কিছু কটুক্তি বেধে দেয়।আর আমাদের কটুক্তির বোঝা মাথায় নিয়ে বের হয়ে চলে আসতে হয়।কিন্তু কেন? কেন বারবার ছাত্ররা বাড়িওয়ালাদের কাছে অপমানিত হবে?ব্যাচেলর হওয়া কি তাহলে অপরাধ?আর কেনই বা বিবাহিত চাকুরিজীবী,অবিবাহিত চাকুরিজীবী আর ছাত্র ব্যাচেলরদের আলাদা করে দেখা হয়?
১।যে অপরাধে তারা ছাত্রদের নিতে চায় না,বাসা ভাড়া দেয় না,সেই অপরাধ কি বিবাহিত বা অবিবাহিত চাকুরিজীবি ব্যাচেলররা করতে পারেন না?
২।শর্তস্বাপেক্ষে যদি বিবাহিত বা অবিবাহিত ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া দেয়া যেতে পারে তাহলে ছাত্রদের কেন দেয়া যাবে না?
বাড়িওয়ালাদের কাছে প্রশ্ন রইল।
অনেক সময় দেখা যায় তারা ব্যাচেলর ভাড়া দিতে রাজি হলেও অহেতুক শর্ত জুড়ে দিয়ে না রাখার ফন্দি করে।বাসা খুজতে বের হয়ে মুখোমুখি হতে হয় অনেক অভিনব ও অবাক হওয়ার মত কিছু ঘটনার।যার একটি না বললেই নয়-আজ থেকে প্রায় দুবছর আগের ঘটনা,
“বাসা খুজতে বের হয়েছি,আমি ও আমার দুই বন্ধু মিলে।স্বভাবতই বাসার সামনে টু-লেট দেখলেই ঢুকে পড়ি।আর বের হয়ে যাই ব্যাচেলর দিবে না বললে।লিফলেট দেখতে দেখতে এখন আমাদের এমন অবস্থা হয়েছে যে আমরা বাসা আর টু-লেট দেখলেই বুঝতে পারি এ বাসায় আমাদের জায়গা নেই।আমরাও কম নাছোড়বান্দা নই,তারপরও যাই,গিয়ে জিজ্ঞেস করি এবং অতঃপর না পেয়ে বের হয়ে যাই।
টু-লেট দেখে বাসার ভেতর ঢুকতেই চেয়ারে বসা এক ভদ্রলোক চোখ পড়ল।ভাবভঙ্গি বাড়িওয়ালাদের মত।আমরাও তাই ধারনা করেছিলাম।আমাদের দেখে জিজ্ঞেস করলেন-কী চাও?
একজন বলে উঠলাম-আংকেল টু-লেট দেখলাম।উনি আমাদের সম্পর্কে জানলেন।তারপর বাসার বিবরন দিতে লাগলেন।আমরা একটু খুশিই হয়েছিলাম,মনে হচ্ছে উনি আমাদের দিবেন।আমরা জিজ্ঞেস করলাম –আংকেল ভাড়া কত?উনি বললেন সাড়ে আট হাজার টাকা।দেখতে অনেকটা বয়স্ক।দাড়ি চুল পেকে সাদা হয়ে গেছে।ইচ্ছে করলে উনাকে দাদা বা নানা বললেও খারাপ হত না,বরঞ্চ মানানসই হত।কিন্তু একটা ব্যাপার লক্ষনীয় ছিল,তিনি এখনো তরুনদের মত জোর গলায় কথা বলেন।তার কথার মধ্যে ভয়ংকর ধার রয়েছে।একটু ভালো লাগলো এই ভেবে যে বাসা খোজার হয়রানি বুঝি এবার শেষ হল,বাসা বুঝি পেয়ে গেলাম!
না-পাইনি।কারন এডভান্স পনচাশ হাজার টাকা।শুনে অবাক হয়ে গেলাম!এটা কী আমাদের না দেয়ার ফন্দি?বললাম-আংকেল আমরা ছাত্র,একটু বেশি হয়ে গেলনা?প্রকৃত পক্ষে একটু না অনেক বেশি-ই হয়ে গেল।উনি যে জবাব দিলেন তা ছিল আরো অবাক হওয়ার মত-‘তোমাদের বাবা মা পড়ালেখা করাতে পারবে এডভান্স দিতে পারবে না?তোমরা তো পাঁচ জন,একজন দশ হাজার টাকা করে দিলেই হয়।’উনার কথামতে বুঝা গেল আমাদের বাবা মা আমাদের পড়ালেখা করাচ্ছেন,এটা তাদের অপরাধ।আমরা চুপ হয়ে গেলাম কিছু বলার আগেই উনি আগের কথার সাথে জোড়া দিয়ে বলে চললেন-আমার এক ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে আমি পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা এডভান্স নিয়েছি,এখন তারা চলে যাবে,তাদের টাকা দেব কোথা থেকে?তোমাদের থেকে নিয়ে তাকে দিতে হবে।
এরপর থেকে সারাক্ষনই আমার মাথায় একটা ব্যাপার নাড়া দিতে লাগল-এ টাকা উনি কোন কাজে লাগিয়েছেন?
/বাড়ির অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করলে ব্যাপারটা মন্দ নয়
/প্রতিমাসে ভাড়াটিয়ার এডভান্সের টাকাকে কাজে লাগিয়ে একতলা একতলা করে বাড়ালে খারাপ হয় না।
/টাকার ব্যবস্থা না করে কেউ বাড়ির কাজে হাত দেয় না।হয়ত এ সময় তার ছেলে মেয়ে বা নাতি নাতনি কারো বিয়ের ভালো প্রস্তাব এসেছে না করতে পারেননি,যদি হাতছাড়া হয়ে যায়!বাড়ির কাজ এরকম বিশ্রিভাবে অস্অমাপ্ত রেখে একটা অনুষ্ঠান করা যায় না।এজন্য তিনি ভাড়াটিয়ার বিশাল অংকের টাকাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন।তাতে তার খরচ অনেকাংশে কমে আসবে।
/হয়ত এ টাকার সাথে আরো যোগ করে তিনি একটা দোকান নিয়ে নিজের ভবিষ্যত ভান্ডার ভারি করতে পারেন।
এসবই আমাদের চিন্তাভাবনা,ধারনা মাত্র।তাদের চিন্তা ভাবনা আমরা জানিনা।হয়ত এমন হলেও হতে পারে।
এত কিছুর পরও ঢাকা শহরে ব্যাচলর বাস করছে এবং করবে।বাসা খোজা আর বাড়িওয়ালাদের কটুক্তি স্বত্তেও কেউ এখনো গাছ ইতলায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় করছেনা,করে নাই এবং আশা করি করবেও না।যে সকল বাড়িওয়ালাদের কল্যানে এখন পর্যন্ত ব্যাচেলররা থেকেছে এবং থাকছে,নিজেদের শিক্ষা জীবন,কর্মজীবন শুরু করছে বা শেষ করছে বা করছে তাদের প্রতি কৃতিজ্ঞতার শেষ নেই।
ব্যাচেলরদের বাসা খোজার হয়রানি আদৌ শেষ হবে কিনা জানিনা।তবে বাড়িওয়ালারা যদি একটু সহায় হয়,আমাদের তথা ব্যাচেলরদের জন্য সেটা হবে অনেক বড় পাওয়া।সবাইকে সমান চোখে না দেখে ব্যাচেলরদের প্রতি একটু সহন শীল হওয়া দরকার।ভালো খারাপের মিশ্রনেই সবকিছু,মানুষ হোক আর বস্তু হোক,উপকার অপকার উভয়েরই আছে।ছাত্ররা আগামী জাতির কর্নধার।নিজেদের ঘর খালি,পুরো ফাকা থাকার মানুষ নেই।জ্ঞান আহরনের জন্য এখানে আসা নিজের ঘরবাড়ি মা বাবা আত্নীয় স্বজন দের ছেড়ে।এখন যদি আপনারাও ছুড়ে ফেলে দেন-আমাদের অবস্থা কেমন হবে????
প্রথম লেখাঃ১৩/০৮/২০০৯
সংস্করন এবং ব্লগে দেয়াঃ২৮/১০/২০১১
মোঃজাহিদুল হাসান রাশেদ
rashed_jhi@ yahoo.com
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ১২:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



