শিবিরের লোকজন এই ব্লগে নিয়মিত দাবি করে তাদের মত ফেরেস্তা সারা দেশ খুজলেও পাওয়া যাবে না। আচ্ছা তাহলে দুই-একটা উদাহরন দেখি তো তাদের কীর্তির-
![]()
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: বাইরে লিখে উত্তরপত্র জমা দিত শিবির ক্যাডাররা!
আনু মোস্তফা ও আসাদুর রহমান
শিবির ক্যাডাররা দলীয় প্রশাসনের আনুকূল্য পেয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে, তার অন্যতম হলো পরীক্ষার খাতা বাইরে লিখে পরে জমা দেওয়া। নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ভর্তি পরীক্ষায়ও শিবির নানা অপকৌশল ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে হলগুলোর শিবির-নিয়ন্ত্রিত কক্ষ তল্লাশির সময় উদ্ধার হওয়া কাগজপত্র থেকে।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ২৩৫ ও ২৬৬ নম্বর কক্ষ তল্লাশি করে শিবিরের নানা অপতৎপরতার বহু প্রামাণ্য দলিল উদ্ধার করে পুলিশ। পাশাপাশি শিবির-নিয়ন্ত্রিত ১১৪ নম্বর কক্ষ থেকে পাওয়া গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তিবিদ্যা বিভাগের সিলমারা বেশ কিছু ফাঁকা উত্তরপত্র বা পরীক্ষার খাতা। বেশ কিছু ভর্তি পরীক্ষার ফাঁকা উত্তরপত্রও এ কক্ষ থেকে উদ্ধার করেছে হল প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এম সোবহান বলেছেন, 'এসব ঘটনা আমাদের ধারণার অতীত ছিল। এখন দেখছি, শিবির ফাঁকা উত্তরপত্রও পরীক্ষা হলের বাইরে নিতে সক্ষম হয়েছে। আমরা তদন্ত কমিটিকে এসব বিষয় দেখার জন্য অনুরোধ করেছি।'
গতকাল বৃহস্পতিবার ভোররাতে ১১৪ কক্ষের আবাসিক ছাত্র শিবির ক্যাডার আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মতিহার থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন খান জানিয়েছেন, আতাউরের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে। তার বাবার নাম মোহাম্মদ আলী। সে রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তিবিদ্যা বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে হলে তাণ্ডবের পর অন্য শিবির ক্যাডারদের সঙ্গে সেও পালিয়ে যায়। পরে ফিরে এসে ১১৪ নম্বর কক্ষেই ওঠে।
আতাউরকে ৮ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত পুলিশের ওপর হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকালই আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত থেকে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
মতিহার থানার ওসি বলেন, 'আপাতত আতাউরকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি তার বিরুদ্ধে একাডেমিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মামলা করে, তখন সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।'
সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ ড. আখতার ফারুক আরো বলেন, উত্তরপত্র জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত শিবির ক্যাডার আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে হল প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত পেলে তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইনে মামলা করা হতে পারে। উত্তরপত্র বাইরে আনার বিষয়টি প্রমাণিত হলে তার ছাত্রত্ব বাতিল হতে পারে বলেও প্রাধ্যক্ষ জানান।
সোহরাওয়ার্দী হল কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ১১৪ নম্বর কক্ষ থেকে পাওয়া যায় রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তিবিদ্যা বিভাগের ২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত মাস্টার্স শেষ বর্ষের পাঁচটি ফাঁকা খাতা বা উত্তরপত্র। খাতাগুলোর সিরিয়াল নম্বর ০২৮২০৫, ০২৫৯১৫, ০২৫১৫৮, ৪০৮৭১ ও ০২৫১৪২। এসব খাতা পরীক্ষা হলের বাইরে কীভাবে গেল, এই প্রশ্নের কোনো উত্তর এখনো খুঁজে পাচ্ছেন না হল প্রাধ্যক্ষ ড. আখতার ফারুক। তিনি আরো জানান, ২৬৬ নম্বর কক্ষ থেকে ২০০৫-০৬ সেশনের ভর্তি পরীক্ষার ফাঁকা খাতাও পাওয়া গেছে বেশ কয়েকটি। প্রাধ্যক্ষের আশঙ্কা, রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তিবিদ্যা বিভাগেরই কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী পরীক্ষায় অবতীর্ণ কোনো শিবির ক্যাডারকে ভালো ফল করিয়ে দিতে এ অবৈধ সুযোগ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'যেহেতু আতাউর রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তিবিদ্যা বিভাগেরই ছাত্র আর খাতাও পাওয়া গেছে তার বিভাগেরই, তাই তাকেই আমরা সন্দেহ করছি উত্তরপত্র সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত বলে।'
এদিকে ১১৪ নম্বর কক্ষ থেকে ২০০৫-০৬ সেশনের ভর্তি পরীক্ষার ফাঁকা উত্তরপত্রও পাওয়া গেছে। এসব উত্তরপত্র পদার্থবিজ্ঞান, লোকপ্রশাসন, ব্যবস্থাপনা ও গণিত বিভাগের। প্রাধ্যক্ষ আরো বলেন, 'শিবিরের এসব অপতৎপরতায় আমরা ক্রমাগত বিস্মিত হচ্ছি।' তিনি আরো বলেন, বিদ্যমান পদ্ধতিতে দলীয় শিক্ষকদের সহায়তা ছাড়া পরীক্ষার খাতা পরীক্ষা হলের বাইরে আনা এবং পরে উত্তর লিখে জমা দেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই।
ফাঁকা উত্তরপত্র কীভাবে বাইরে গেল সে প্রসঙ্গে উপাচার্য ড. এম সোবহান বলেন, 'এসব কাজ বিভাগের কারো সংশ্লিষ্টতা ছাড়া সম্ভব নয়, আপাতত এমনই মনে হয়। আমরা ৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিকে এসব বিষয় দেখার অনুরোধ করেছি। রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তিবিদ্যা বিভাগকেও আমরা বিষয়টি দেখার জন্য বলব। আশা করি, কারা এসবের সঙ্গে যুক্ত তা পরিষ্কার হবে।' তিনি বলেন, এসব যারা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

> মঙ্গলবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির কর্মীরা হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়ার পর হাবিবুর রহমান হলের মেঝেতে পড়ে আছে ছাত্রলীগ কর্মী বাদশা। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/ রাজশাহী, ফেব্র"য়ারি ০৯, ২০১০
মন্তব্য নিস্প্রয়োজন

১. স্কুলছাত্রী উত্যাক্তের দায়ে আটক হল তিন শিবির
২. ইত্তেফাক ২৪শে সেপ্টেম্বর,২০০৮: চট্টগ্রামে অস্ত্র মামলায় শিবির ক্যাডার মুন্নার ২৪ বছর কারাদণ্ড
চট্টগ্রামে অত্যাধুনিক একে-৪৭ রাইফেলসহ গ্রেফতার হওয়া শিবির ক্যাডার দুলাল উদ্দিন ওরফে মুন্নাকে ২৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। জেলা ও দায়রা জজ মজনুল আহসান মঙ্গলবার এই রায় প্রদান করেন। দণ্ডিত আসামি মুন্না পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
২০০৫ সালের ১০ জুন ফটিকছড়ি এলাকায় অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসীদের সাথে বন্দুক যুদ্ধের পর শিবির ক্যাডার মুন্নাকে গ্রেফতার করে পুলিশ । পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হাটহাজারী থানার মন্দাকিনীর গ্রামের বাড়ির মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় একটি একে-৪৭ রাইফেল ও ১২২ রাউন্ড গুলি। এ ব্যাপারে হাটহাজারী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
এ নিয়ে দৈনিক সমকাল এর খবর
এ নিয়ে দৈনিক প্রথম আলোর খবর
3.
কুমিল্লায় মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে জবাই করলেন জামায়াত নেতা
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা ও লাকসাম প্রতিনিধি
তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার শমসপুর গ্রামে এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে জবাই করে হত্যা করেছেন লাকসাম উপজেলার রেলওয়ে জংশনের জামায়াতের আমির আবদুল কাহার। নিহত শিক্ষার্থীর নাম ফাইজুল কবির। সে ফয়েজগঞ্জ সিনিয়র মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী। গতকাল শনিবার দুপুর দেড়টায় ওই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় জনতা কাহারের সহোদর জাহাঙ্গীর আলমকে আটকের পর পুলিশে সোপর্দ করে। এ ব্যাপারে সদর দক্ষিণ থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার শমসপুর গ্রামের বাসিন্দা ও আলিম পরীক্ষার্থী ফাইজুল কবির গতকাল শনিবার দুপুর দেড়টার সময় পরীক্ষা দিয়ে বাড়িতে ফেরে। ওই সময় সে দেখতে পায়, তাদের জমির সীমানার কাছের তালগাছ থেকে তাল পাড়ছেন একই বাড়ির পাশের ঘরের বাসিন্দা লাকসাম উপজেলার রেলওয়ে জংশনের জামায়াতের আমির আবদুল কাহার, তাঁর ভাই জাহাঙ্গীর আলম ও ভাতিজা ফারুক আহমেদ। ওই সময়ে ফাইজুল তাল পাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনজন মিলে তাকে ধাওয়া করে। ফাইজুল দৌড়ে ঘরে ঢোকার পর তারাও ঘরে ঢোকে এবং তিনজন মিলে ছেনি দিয়ে তাকে জবাই করে হত্যা করে। ঘরের দরজা খোলা থাকায় বাড়ির সবাই এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করে। এরপর কাহার ও তাঁর ভাতিজা ফারুক পালিয়ে যান। তবে উপস্িথত জনতা জাহাঙ্গীর আলমকে আটকের পর পুলিশে সোপর্দ করে। ফাইজুল কবিরের বাবা ফয়েজগঞ্জ সিনিয়র মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা জয়নাল আবেদীন।
অভিযুক্ত আবদুল কাহারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, জমিজমা নিয়ে পূর্বশত্রুতার জের ধরে ওই হত্যাকান্ড ঘটে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
৪. অস্ত্র রাখার দায়ে চট্টগ্রামে ৫ শিবির কর্মীর ১৭ বছর কারাদণ্ড
চট্টগ্রাম, আগস্ট ০৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- অস্ত্র ও গুলি রাখার দায়ে চট্টগ্রামে ৫ জনের ১৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছে। এরা সবাই শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান।
এরা হলেন- এয়াকুব আলী ওরফে বাবুল, নাসির উদ্দিন ওরফে বাদশা, মোহাম্মদ ফোরকান, আইমাদুল করিম ও মো. জাহাঙ্গীর। তারা সবাই বর্তমানে কারাগারে আটক আছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ইনামুল হক ভূইঁয়া এ রায় দেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী পিপি নোমান চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, একে-৪৭ রাইফেল ও তিন রাউণ্ড গুলি রাখার অভিযোগ সুষ্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক পাঁচজনকে ১৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।
দণ্ডপ্রপ্তরা সবাই ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত জানিয়ে নোমান চৌধুরী বলেন, প্রত্যেককে অস্ত্র মামলায় ১০ বছর ও গুলি রাখার দায়ে ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উভয় সাজা একসঙ্গে চলবে।
২০০৪ সালের ৪ আগস্ট মাসে নগরীর বাকলিয়া এলাকার বাসা থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল রাইফেল ও গুলিসহ জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার সঙ্গে অপর চারজনের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মামলার রায় দেওয়া হয়।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমসি/এএনএস/ডিডি/০০২৫ ঘ.
৫. রাবি স্কুলে জামায়াত নেতাদের কাণ্ড !
রাজশাহী, ১৩ মে সাইফুর রহমান আকন্দ এসএনএনবিড ডটকম :-
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বার্ডের (এনসিটিবি) বাইরে জামায়াত নেতাদের লেখা বই বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানো হচ্ছে। স্কুলের পরিচালনা পর্যদের সভাপতি এবং অধ্যক্ষ স্কুলকে জামায়াতীকরণের পাশাপাশি মৌলবাদী শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করতে উঠেপড়ে লেগেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাবি স্কুলে তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত জামায়াত নেতা আবুল কালাম আজাদ ও মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর লেখা বই ব্যাধতামূলকভাবে পড়ানো হয়। এনসিটিবি'র সিলেবাসে এসব ক্লাশে এক শ' নম্বরের ধর্ম শিক্ষা বাধতামূলক করা আছে। কিন' স্কুল কর্তৃপক্ষ বিশেষ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ক্লাশে ধর্ম শিক্ষা এক শ' নম্বর থেকে কমিয়ে বাকী পঞ্চাশ নম্বর 'আরবী' শিক্ষার জন্য ব্যাধ্যতামূলক করেছেন। আর সনাতন ধর্মের শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয় পঞ্চাশ নম্বরের সংস্কৃত। বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর আরবী ও সংস্কৃততে দক্ষতা না থাকায় তারা চরম ভোগানি-র সম্মূখীন হচ্ছেন বলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা অভিযোগ করেন।
সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে স্কুলের ১২ জন সিনিয়র শিক্ষককের বয়স ৬৫ পার হলে তারা পাঁচ বছরের এক্সটেনশন চেয়ে আবেদন করেন। এর আগে শিক্ষকদের বিভিন্ন মেয়াদে এক্সটেনশন দেয়া হলেও শুধুমাত্র দলীয় স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে ১২ শিক্ষককের কাউকেই এক্সটেশন করা হয়নি। ফলে একযোগে স্কুলের সিনিয়র ১২ জন শিক্ষক অবসরে যান। মূলতঃ এর পর থেকেই স্কুলের পরিচালনা পর্যদের সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে জামায়াত নেতারা স্কুলকে জামায়াতীকরণ ও মৌলবাদী আস্তানা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন।
সূত্র মতে, ১২ জন শিক্ষক একযোগে অবসরে যাওয়ার পর স্কুলের পরিচালনা পর্যদের সভাপতি, জামায়াত নেতা এবং রাবির শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট'র পরিচালক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম; স্কুলের বর্তমান অধ্যক্ষ এবিএম কমরুদ্দৌলা এবং উপাধ্যক্ষ আব্দুল্লা-আল-মাহমুদ দলীয় বিচেনায় পাঁচজন জামায়ত-শিবির কর্মীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। এছাড়া আরও তিন শিবিরকর্মীকে পার্ট-টাইম হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। স্কুলে শিক্ষার্থীদের আরবী পড়ানোর জন্য আকতারুজ্জামান আনসারী এবং মোঃ ইসরাফিল নামের দুজনকে পার্ট টাইম হিসেবে নিয়োগ করা আছে। পাঁচজন শিক্ষকের নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাবীদের বাদ দিয়ে দলীয় বিবেচনা এমনকি জীব বিজ্ঞান শিক্ষকের শূন্য পদের বিপরীতে গনিতের শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। বর্তমানে স্কুলে জীব বিজ্ঞানের কোন শিক্ষক নেই। প্রথম শ্রেনীতে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলেও রাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম আলতাফ হোসেনের নাতীকে স্কুলে অবৈধভাবে ভর্তি করানো হয়। এছাড়া বর্তমান অধ্যক্ষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত পূরন না করে শুধু দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ পান বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০০৭ সালের ২৮ জুন স্কুলের অধ্যক্ষ অবসরে যাওয়ার পর কোন সিনিয়র শিক্ষককে অধ্যক্ষের দায়িত্ব না দিয়ে স্কুল সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম দলীয় স্বার্থ কায়েম করতে নিজেই দুই মাস অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। যদিও ২০০৮ সালের মে মাসে বর্তমান পরিচালন পর্যদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। শুধুমাত্র স্কুলের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জামায়াতীকরণ এবং মৌলবাদী শক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করতেই পরিচালনা পর্যদের নির্বাচন দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে স্কুলের অধ্যক্ষ এবিএম কমরুদ্দৌলা দাবি করেন, এনসিটিবি'র বাইরে স্কুলে বাধতামূলকভাবে আরবি বিষয় পড়ানো হলেও বর্তমানে তা পড়ানো হচ্ছে না। তিনি বলেন, স্কুলের পরিচালনা পর্যদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ধর্ম শিক্ষার পাশাপশি আরবি ও সংস্কৃত পড়ানো হতো। পরিচালনা পর্যদের সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম জানান, স্কুলে এসসিটিবি সিলেবাসের ধর্ম শিক্ষার বাইরে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত আরবী ও সংস্কৃত পড়ানো হচ্ছে বলে তিনি অবগত নন
৬. চট্টগ্রাম কলেজে ১৫ আগস্টের কর্মসূচির প্রচারে শিবিরের বাধা
বিডিনিউজ - আগস্ট ১০
প্রথম আলো - আগস্ট ১০ - সারা দেশ
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
চট্টগ্রাম, আগস্ট ০৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- চট্টগ্রাম কলেজে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচির প্রচারপত্র বিলি করতে দেয়নি ইসলামী ছাত্র শিবির কর্মীরা।
রোববার সকালে কর্মসূচির প্রচারপত্র এবং বোর্ডে টাঙানো নোটিশ তারা ছিঁড়ে ফেলে।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে আজিজ আহমেদ নামে কলেজের একজন পিওনরে মাধ্যমে অধ্যক্ষের স্বাক্ষরিত প্রচারপত্র বিলি করার সময় শিবির কর্মীরা কেড়ে নেয়। পরে দুপুর ১২টায় আরেক পিওন মহিউদ্দিনকে দিয়ে বিলি করার উদ্যোগ নিলেও একই ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ আবু জাফর চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "শিবিরের নেতারা শোক দিবসের অনুষ্ঠান তিনদিনে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য বলেছিল। কিন্তু আমরা তা মানিনি।"
প্রচারপত্র বিলি করার সময় বাধা দেওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ওরা কিছু প্রচারপত্র কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ।
এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন অনুষদ ও আবাসিক হলে মুক্ত আলোচনা, কবিতা পাঠ, স্বেচ্ছায় রক্তাদান, কালো ব্যাজ ধারণ, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
চট্টগ্রাম কলেজের জাতীয় শোক দিবসের কর্মসুচিতে শিবিরের বাধা
নিজস্ব প্রতিবেদক (প্রথম আলো), চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষের জাতীয় শোক দিবসের কর্মসুচির প্রচারপত্র বিতরণের সময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রোববার প্রচারপত্র বিলি করার সময় তাঁরা কলেজের পিয়নের কাছ থেকে তা কেড়ে নেন এবং নোটিশ বোর্ড থেকেও প্রচারপত্র ছিঁড়ে ফেলেন।
কলেজ সুত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ বছর জাতীয় শোক দিবসের কর্মসুচি নেয়। আজ সোমবার থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ছয় দিন ধরে এই কর্মসুচি চলার কথা। অনুষ্ঠানসুচির মধ্যে মুক্ত আলোচনা, কবিতা পাঠ, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসুচি, কালো ব্যাজ ধারণ, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
জানা যায়, এ কলেজে দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের আধিপত্য আছে। ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা অনুষ্ঠানসুচি ছয় দিনের পরিবর্তে তিন দিনে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য কলেজ প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। শিবিরের নেতা-কর্মীরা কলেজের চারটি ছাত্রাবাসেও শোক দিবসের কর্মসুচি বাতিলের জন্য নানামুখী তৎপরতা চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল সকালে কলেজের বিভিন্ন বিভাগে শোক দিবসের কর্মসুচির প্রচারপত্র বিলি করার সময় পিয়ন মোহাম্মদ আজিজ আহমেদের কাছ থেকে শিবিরের কর্মীরা তা কেড়ে নেন। পরে অধ্যক্ষ কলেজের তিন শিক্ষক মাহবুব হাসান, শাহ মোহাম্মদ আলমগীর, ইদ্রিস আলী ও পিয়ন মোহাম্মদ মহিউদ্দিনকে আবার প্রচারপত্র বিলি করার দায়িত্ব দেন। কিন্তু মহিউদ্দিনের কাছ থেকে শিবিরের কর্মীরা তা আবার কেড়ে নেন।
অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবু জাফর চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিবিরের ছেলেরা অনুষ্ঠান তিন দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে বলেছিল। কিন্তু আমরা তা মানিনি।’
প্রচারপত্র বিলির সময় বাধা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে আবু জাফর চৌধুরী বলেন, ‘ওরা কিছু প্রচারপত্র কেড়ে ছিঁড়ে ফেলে। পরে তাদের ডেকে ধমক দিয়েছি।’
প্রচারপত্র বিলি করতে বাধা দেওয়া প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘অনুষ্ঠানের বিষয়টা আমাদের আগে জানানো হয়নি। তা নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। পরে সব ঠিক হয়ে গেছে।’
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



