আমার প্রিয় পোস্ট
- আরব আমীরাতে চাকরি পেতে হলে যা জানা দরকার
- বিকল্প ধারা
- কিভাবে একা থাকা অবস্থায় হার্ট এ্যাটাক হলে নিজেকে রক্ষা করবেন? - ওসমাণ
- হে অবিশ্বাসীগণ দেখে (ভিডিও) যাও শিবির কখনো মিথ্যা বলেনা। - ইন্তাজ ভাই
- আউটলুক বিডি গেল, বিডিস্টল গেল; এইবার রেডিও তেহরানের পালা - পাকাচুল
- ২০১১ সালে অষ্কারে নমিনেটেড হল যারা। আপনার দেখা প্রিয় মুভী কোনটি? - বস শাকিল
- জিয়া ও স্বাধীনতা ঘোষণা - শাহেদ সাইদ
- ১৯৫ জনের হিসাব জানি, কিন্তু ৭৫২ জনের হিসেব কে দেবে? - নিঝুম মজুমদার
- মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের সাধারন ক্ষমা নিয়ে একজন আইনজীবির মিথ্যাচার এবং প্রকৃত ঘটনা - এস্কিমো
- দেশের সব জেলা, উপজেলা, থানার মানচিত্রের মেগা কালেকশন
(আপডেেটড) - মানব সন্তান
- বাংলার গর্ব ‘ওয়ারফেইজ’ এর গল্প ২ ! (২০০০-২০১১) - কবি ও কাব্য
- যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল নিয়ে জামাতের ব্রিটিশ আইনজীবি স্টিভেন এর সমালোচনা ও তার আইনী জবাবঃ পর্ব-১ - নিঝুম মজুমদার
- পলাশ ওরফে আকাশগঙ্গা ওরফে লিচুগাছ এর নাম ও পরিচয়



- পাওয়ার ফ্যালকন
- আমার ছাদে বাগানের ছবি পোষ্ট - ২০১১ - এহ্তেশাম
- আকাশগঙ্গা এই কইলজা নিয়া ব্লগিং হয় না - রাতমজুর
- এই দিন দিন নয় আরো দিন আছে, এখন যারা গদিতে তারাও একদিন রাজপথে নামবে - চন্দন
- "থাপড়ায়ে তোর দাত ফেলায়ে দেব, শুয়ারের বাচ্চা কোথাকার" (এটিএন ফুটেজ) - রায়হান রাহী
- হরতালের ভিডিওটা দেখুন । আর মন্তব্য করুন । পুলশ কি এমনি মেরেছে? নাকি বাধ্য হয়েছে ? - অনির্বাণ রায়।
- আরশিতে প্রিয়দর্শিণী, নারীত্বের অবসাদ, একটি গল্প, গল্পে গল্পে সাম্প্রতিক ব্লগ এবং আমার কিছু কথা! - আধাঁরি অপ্সরা
- বাংলাদেশের সংবিধানের সংশোধনী সমূহ - রাকা ও আমি
- আসুন, চিনে রাখি ইসলাম এবং মানবাধিকারের আড়ালে থাকা এক হিংশ্র হায়েনা শাবক - কেলেভুষো
- ধর্ম মানুষকে উদার করে, কিন্তু এর ধর্ম কি? - কালাম আজাদ বেগ
- ইমাম কর্তৃক কলেজ ছাত্রী ধর্ষিত - এম. মাসুদ আলম.
- শতাধিক বিদেশি আইনজীবী পুষবে জামায়াত - পাওয়ার ফ্যালকন
- ব্রেকিং নিউজ : ধর্ষনচেষ্টার অভিযোগে শিবিরকর্মী গ্রেফতার - সবাক
- পূর্ণিমার জবানবন্দি - কবীর হুমায়ূন
- বাবারা, আমার মেয়েটা ছোট তোমরা একজন একজন করে এসো-পুর্নিমা সমাচার। - আকাশের তারাগুলি
- সেনাবাহিনীর কুকীর্তির লিষ্ট : আমাদের গোল্ড ফিশ মেমরীকে ব্লগে সংরক্ষন - শূন্য আরণ্যক
- শহীদ জিয়ার সেই লেখা 'একটি জাতির জন্ম' - পাগশ্রাবনের মেঘ
- ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওয়েব সাইটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে স্বীকৃতি !!! - আবুল হাসান নূরী
- জিয়াই স্বাধীনতার ঘোষক: কাদের সিদ্দিকী - মোঃ শরিফুল আলম
- Marriage is popular because it combines the maximum of temptation with the maximum of opportunity. - চির সবুজ ২৫
- যেভাবে একটি নতুন ধর্মের প্রবর্তন ঘটাবেন। - ধনাত্মক১০
- কিছুক্ষন আগে একটি প্রেমের লাইভ ট্রাজিক সত্য ঘটনা শুনে আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করলাম.. - সমীর কুমার ঘোষ
- খালেদা জিয়া'র জন্মদিনের ডকুমেন্টস - সেলটিক সাগর
- কম্পিউটার, ইলেক্ট্রনিক্স এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনের এক গাদা বাংলা রিসোর্স - ইমতিয়াজ মাহমুদ সজিব
- আমাদের শিবিরের ভাইয়ারা আসলে খুব ভালো, তারা খালি হাতে চলাফেরা করেন। ২৮শে অক্টোবরও তারা খালি হাতেই এসেছিলেন! - ক্র্যাক কমান্ডো
- রূপগঞ্জে সামরিক ভুমি আগ্রাসন:“দিনরাত লেফ-রাইট করলে ক’মণ শস্য ফলে এক গন্ডা জমিতে?” - দিনমজুর
- সফলদের স্বপ্নগাথা-১: আশার কথা বলো স্বপ্ন দেখাও—অপরাহ উইনফ্রে - robot_eee
- অনলাইনেই সেরে নিন ফটোশপের কাজ - Arefin
- পর্যায় সারনী মুখস্থ করুন। (যাদের দরকার) - জিকসেস
- শিবিরের দুটি নৃশংস-ভয়ঙ্কর কিলিং মিশনের মধ্য থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া দুজন ছাত্রনেতার ভাষ্য - অসময়ের আমি
- পিরামিড ট্যুর। টুরিষ্ট কম্পানি খুলতে চাই, তাই পরামর্শ চাই। পার্টনারও চাই। - মাহমুদুল হাসান কায়রো
- বাংলাদেশ জিন্দাবাদঃ ছবিও কথা বলে (ইস্থির ছলচিত্র) - বৃষ্টি বালক
- ঢাবিতে ছাত্রদলের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ ( ছবি ব্লগ) - অবিশ্বাসী
- ঢাবিতে ছাত্রদলের অ্যাকশন সমগ্র । (ছবি ব্লগ) - অবিশ্বাসী
- আপনি কি বাংলাদেশের সবগুলা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম জানেন...?? বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা ওয়েবসাইট লিংক ও ক্যাম্পাসের ছবি সহ..। - সিষ্টেম ইন্জিনিয়ার
- ধর্মের নামে অত্যাচার এবং আমাদের নাগরিক জীবন - নাগরিক
- জামাত দিচ্ছে মুক্তিযোদ্ধার সংবর্ধনা : আসুন আলোচনা হোক - শিপন আবদুর রাজ্জাক
- দীর্ঘ বারোঘন্টা ব্যাপী বিনেপয়সায় ইসলামী কনসার্ট শুনলাম! - কৌশিক
- ছিঃ কবি - ইফতেখার.আমিন
- জামায়াতের ধর্ম ব্যবসার কিছু নমুনা এবং জামায়াত থেকে যে কারণে দূরে থাকতে হবে। - হা...হা...হা...
- সঠিক পথে গাড়ী চালানোর লাইসেন্স পেতে যা করতে হবে... - মেসবাহ য়াযাদ
- শিবিরের নৃশংসতা মারুফ কি পঙ্গু হয়ে যাবে? - শওকত
- ভিভা এটিম! - লাল মিয়া
- এ'টিমের জন্মদিন ।। সময়ের নবকুমারদের জন্য তিনউল্লাস - হাসান মোরশেদ
- NEW YORK TIMES ঃ সোনার পুলা কোকো এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এইবার মার্কিন আদালতে প্রামানীত!!(বিশ্ব মিডিয়ার লিংক সহ) - বৃষ্টি বালক
- আমেরিকায় সিমেন্সের বিরুদ্ধে ঘুস প্রদানের মামলায় খালেদা জিয়ার পুত্র ও সাংগপাংগদের ৩৭ কোটি টাকা ঘুস প্রদানের স্বীকারোক্তি - কৌশিক
- মুর্তি লইয়া আমার প্রামান্য কথন ১: অপরাজেয় বাংলা - লাল দরজা
- মিথ্যার বেসাতি : নীল আর্মস্ট্রং এর মুসলিম হয়ে ওঠার ইসলামী কল্পকাহিনী - লাইটহাউজ
- উইকিতে ত্রিভূজের ভন্ডামী - মুনতাসির হাসান
- অনেকদিন পর টেকি মাতব্বরী করতে গিয়া ধরা খাইলাম
(যারা থান্ডারবার্ড ইউজ করবেন তাদের জন্য ফরজ) - আসিফ আহমেদ
- স্বাধীনতার পরিক্রমা - বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র - রাগিব
- পাগলের রাজণৈতিক প্রলাপ : ( বিশেষ পর্ব) [স্বঘোষিত রাজাকারদের অপপ্রচারের প্রতিবাদ] - এ. এস. এম. রাহাত খান
- উইনএক্সপি তে করাপটেড ফাইল যেভাবে ঠিক করবেন। - আহমদ কায়েস
- ধোলাইসমগ্র : একটি ক্ষুদ্র ক্রনোলজি - নার্ভাস নাইনটিজ
- অর্ন্তজালের বাংলা ওয়েব সাইটগুলোর একটা তালিকা তৈরী করলাম। - একজন ব্লগার
- জীবন এক অন্তহীন সম্ভাবনা , এসএসসি পাশ ছেলেমেয়েদের জন্যও সেই সম্ভাবনা উন্মুক্ত থাকুক - আরিফ জেবতিক
- হৃদয়ে মুক্তিযুদ্ধঃ২৫শে মার্চ ১৯৭১,আজ সেই কালরাতঃ পাকিস্তানি সৈন্যদের বরবর্তায় মুছেগেল হাসনাহেনার গন্ধ । - আবুল বাহার
- বাংলা বর্নমালা শিক্ষা - বড়বেলা - হাসিব
জীবন থেকে নেওয়া- জহির রায়হান
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৪১
প্রথম আলো - জানু ৩০, ২০০৯
জীবন থেকে নেওয়া
শিখ্তী সানী
‘কী লিখব? আমাকে অকারণে কিছু লিখতে বলে অপ্রস্তুত করার কোনো মানে হয় না। আমার জ্ঞান অত্যন্ত সীমিত। অভিজ্ঞতা অপ্রতুল। সঞ্চয় অতি সামান্য। আকাঙ্ক্ষা অনেক। অনেক। অনেক। সাগরের ঢেউয়ের মতো। আকাশের তারার মতো। শ্রাবণের ধারার মতো। এর কোনো ইতি নেই। যতি নেই। শেষ নেই।...স্বপ্ন দেখি না। কারণ, স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবের সাপে-নেউলে সম্পর্ক। অকারণ হতাশার বোঝা বাড়িয়ে জীবনকে ভারাক্রান্ত করতে চাই নে। আমি আমার আবেগের ক্রীতদাস। আমার আবেগ আমাকে যখন যেখানে নিয়ে যেতে চায়, আমি সুবোধ বালকের মতো তাকে সেখানে অনুসরণ করি। আবেগ যদি বলে আগুনে ঝাঁপ দাও। দিই। দগ্ধ হই। পুড়ি। পোড়াই। আবেগ যদি বলে, মরো। মরি। সে মরণেও সুখ।’ অনেক বছর আগে মাসিক ঝিনুক পত্রিকায় আত্মবিশ্লেষণমূলক এ লেখাখানা জহির রায়হানের।
বর্ণাঢ্য তাঁর জীবন। অসাধারণ তাঁর সৃষ্টি। ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি বড় ভাই সাংবাদিক-ঔপন্যাসিক শহীদুল্লা কায়সারের খোঁজে মিরপুর যাওয়ার পর নিখোঁজ হন তিনি। ২৮ বছরের বিতর্কের পর ১৯৯৯ সালে মিরপুর যুদ্ধের এক বেঁচে যাওয়া সৈনিক আমির হোসেন জানান, অবাঙালি বিহারিদের ছোড়া বুলেটে ঝাঁজরা হয়ে যায় জহির রায়হানের বুক। পরে তাঁর গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত দেহ অজ্ঞাত স্থানে টেনে নিয়ে যায় বিহারিরা। আজ তাঁর অন্তর্ধান দিবস। জহির রায়হানের মৃত্যু রহস্য নয়। আমাদের প্রয়াস তাঁর প্রাচুর্যময় চলচ্চিত্রশিল্পের বন্দনা।
কখনো আসেনি (১৯৬১), সোনার কাজল (১৯৬২), কাঁচের দেয়াল (১৯৬৩), বেহুলা (১৯৬৬), আনোয়ারা (১৯৬৭), জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০) ও লেট দেওয়ার বি লাইট (অসম্পুর্ণ) চলচ্চিত্রগুলো জহির রায়হানের অনবদ্য নির্মাণ। আর ছিল উর্দু ছবি সঙ্গম (১৯৬৪), বাহানা (১৯৬৫), জ্বলতে সুরজকে নীচে (১৯৭০)। জহির রায়হান প্রযোজিত ছবি জুলেখা, দুই ভাই, সংসার, সুয়োরানী দুয়োরানী, কুঁচবরণ কন্যা, মনের মতো বৌ, শেষ পর্যন্ত ও প্রতিশোধ।
১৯৫৯ সাল থেকে ১৯৬১। সে সময়ের মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলা ছবিগুলোর ব্যবসায়িক সাফল্য ছিল একেবারে শুন্য। কারণটা ছিল হিন্দি আর উর্দু ছবির প্রতি টান। ১৯৬১ সালে জহির রায়হান নির্মাণ করেন কখনো আসেনি। ’৬২তে কলিম শরাফীর সঙ্গে তৈরি করেন সোনার কাজল। নায়ক খলিল, নায়িকা সুমিতা দেবী, সহ-অভিনেত্রী ছিলেন সুলতানা জামান। এরপর ১৯৬৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কাঁচের দেয়াল জহির রায়হানকে এনে দেয় পরিচিতি, খ্যাতি এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার। ষাটের দশকের একটি মধ্যবিত্ত একান্নবর্তী এবং তাদের আশ্রিত মেয়ের কাহিনীকে ঘিরে নির্মিত ছবিটিতে ক্যামেরার কাজ ও উপস্থাপন নিঃসন্দেহে ছিল অসাধারণ। মাত্র সাড়ে উনিশ দিনের রেকর্ড সময়ে পাট চুকিয়ে ফেলা হয়েছিল এ ছবিটির কাজ। ১৯৬৬-র উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে ছিল বেহুলা একটি। হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী ‘মনসামঙ্গল’র কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত বেহুলা তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থায় কী ধরনের সাহসিক কাজ ছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু নির্মাতার নৈপুণ্য, বুদ্ধিমত্তা ও উপস্থাপনার সার্থকতায় বেহুলা অর্জন করে জনপ্রিয়তা ও আর্থিক সাফল্য। বেহুলার সংগীত পরিচালক ছিলেন আলতাফ মাহমুদ।
গণ-আন্দোলনভিত্তিক সে সময়ের প্রথম ছবি জীবন থেকে নেয়ার তুলনা যেন ছবিটি নিজেই। একুশে ফেব্রুয়ারি রাতে শোভাযাত্রা ও ভোরে প্রভাতফেরির জীবন্ত শুটিং করা হয়েছিল। এ ছবিটির পর পরই ব্যাপক সাফল্য দেখে নির্মাতারা ঝুঁকে পড়লেন রাজনৈতিক বক্তব্যপূর্ণ ছবি নির্মাণে। জহির রায়হানের আরেকটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রচেষ্টা ছিল লেট দেয়ার বি লাইট। প্রতীকনির্ভর সেট, ক্যামেরার কাজ আর আলোকবিন্যাসের ব্যবহার ছবিটিকে ভিন্নমাত্রা এনে দেয়, যদিও ছবিটি তিনি শেষ করতে পারেননি।
উর্দু ছবিগুলোর মধ্যে সঙ্গম ছিল তৎকালীন সময়ে দেশের প্রথম রঙিন ছবি আর বাহানা ছিল প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি। সংগীতনির্ভর ছবিটিতে জহির রায়হান সংযোজন করেছিলেন তারুণ্যের জয়গানকে। ছবির থিম গান ছিল ‘হাজারো সালকা বুড্ডা মর গিয়া।’ সঙ্গম ব্যবসা-সফল হলেও বাহানা অতটা সফল হয়নি।
জহির রায়হানের অমর সৃষ্টি তাঁর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রগুলো স্টপ জেনোসাইড ও এ স্টেট ইজ বর্ন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অসংখ্য ফুটেজ নিয়ে তিনি রেখেছিলেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে। চরম হতভাগ্য আমরা। যার বেশির ভাগই হারিয়ে গেছে। স্টপ জেনোসাইড বাংলাদেশের গণহত্যার একটি জ্বলন্ত দলিল। শরণার্থী শিবিরের অসহায় জীবনপট আর গণহত্যার বর্বর চিত্রকে তুলে ধরেন জহির রায়হান। একই সমান্তরালে দেখিয়েছেন গণহত্যার স্বরূপকে। ঢেঁকির ধাপধুপ শব্দ থেকে যুদ্ধপট, শরণার্থী শিবিরের মানুষের নিদারুণ কষ্টের জীবন, সেই বৃষ্টিভেজা কর্দমাক্ত পথ ধরে লাঠি হাতে আশি বছরের বুড়ির খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে পথ যাওয়া, তাঁর কথাগুলো−সব গেছে, কেউ নেই, কিছু নেই। মুক্তিকামী যোদ্ধারা, এগারো বছর বয়সী সেই নির্বাক মেয়েটির মুখ সবকিছু ছাপিয়ে ১৮ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্রের শেষে ‘গণহত্যা বন্ধ কর’, ‘স্টপ জেনোসাইড’ সেই প্রতিধ্বনিটা এখনো বাজতে থাকে। জহির রায়হানের অনবদ্য নির্মাণশৈলী আমাদের অবাক করে। তাঁর প্রামাণচিত্রের কাহিনীরূপ আমাদের প্রতিনিধিত্ব করেছে একাত্তরে।
জহির রায়হানের নির্মাণশৈলী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রচেষ্টা ও নিপুণ উপস্থাপনা আমাদের চলচ্চিত্রশিল্পে একটি আশীর্বাদ। কিন্তু চর্চা তো চাই। অনেক অবহেলিত শহীদ বুদ্ধিজীবী জহির রায়হান। তাঁর চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্রের তুলনামূলক নিরীক্ষা আমাদের একটি কথা জানিয়ে দেয় বারবার−জহির রায়হানের অনুপস্িথতি কত বড় অবর্ণনীয় ক্ষতি ও শুন্যতা আমাদের জন্য। আজ জহির রায়হানের অন্তর্ধান দিবস। আজকের এই দিনে কোটি সালাম রইল তাঁর প্রতি।প
জীবন থেকে নেওয়া
শিখ্তী সানী
‘কী লিখব? আমাকে অকারণে কিছু লিখতে বলে অপ্রস্তুত করার কোনো মানে হয় না। আমার জ্ঞান অত্যন্ত সীমিত। অভিজ্ঞতা অপ্রতুল। সঞ্চয় অতি সামান্য। আকাঙ্ক্ষা অনেক। অনেক। অনেক। সাগরের ঢেউয়ের মতো। আকাশের তারার মতো। শ্রাবণের ধারার মতো। এর কোনো ইতি নেই। যতি নেই। শেষ নেই।...স্বপ্ন দেখি না। কারণ, স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবের সাপে-নেউলে সম্পর্ক। অকারণ হতাশার বোঝা বাড়িয়ে জীবনকে ভারাক্রান্ত করতে চাই নে। আমি আমার আবেগের ক্রীতদাস। আমার আবেগ আমাকে যখন যেখানে নিয়ে যেতে চায়, আমি সুবোধ বালকের মতো তাকে সেখানে অনুসরণ করি। আবেগ যদি বলে আগুনে ঝাঁপ দাও। দিই। দগ্ধ হই। পুড়ি। পোড়াই। আবেগ যদি বলে, মরো। মরি। সে মরণেও সুখ।’ অনেক বছর আগে মাসিক ঝিনুক পত্রিকায় আত্মবিশ্লেষণমূলক এ লেখাখানা জহির রায়হানের।
বর্ণাঢ্য তাঁর জীবন। অসাধারণ তাঁর সৃষ্টি। ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি বড় ভাই সাংবাদিক-ঔপন্যাসিক শহীদুল্লা কায়সারের খোঁজে মিরপুর যাওয়ার পর নিখোঁজ হন তিনি। ২৮ বছরের বিতর্কের পর ১৯৯৯ সালে মিরপুর যুদ্ধের এক বেঁচে যাওয়া সৈনিক আমির হোসেন জানান, অবাঙালি বিহারিদের ছোড়া বুলেটে ঝাঁজরা হয়ে যায় জহির রায়হানের বুক। পরে তাঁর গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত দেহ অজ্ঞাত স্থানে টেনে নিয়ে যায় বিহারিরা। আজ তাঁর অন্তর্ধান দিবস। জহির রায়হানের মৃত্যু রহস্য নয়। আমাদের প্রয়াস তাঁর প্রাচুর্যময় চলচ্চিত্রশিল্পের বন্দনা।
কখনো আসেনি (১৯৬১), সোনার কাজল (১৯৬২), কাঁচের দেয়াল (১৯৬৩), বেহুলা (১৯৬৬), আনোয়ারা (১৯৬৭), জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০) ও লেট দেওয়ার বি লাইট (অসম্পুর্ণ) চলচ্চিত্রগুলো জহির রায়হানের অনবদ্য নির্মাণ। আর ছিল উর্দু ছবি সঙ্গম (১৯৬৪), বাহানা (১৯৬৫), জ্বলতে সুরজকে নীচে (১৯৭০)। জহির রায়হান প্রযোজিত ছবি জুলেখা, দুই ভাই, সংসার, সুয়োরানী দুয়োরানী, কুঁচবরণ কন্যা, মনের মতো বৌ, শেষ পর্যন্ত ও প্রতিশোধ।
১৯৫৯ সাল থেকে ১৯৬১। সে সময়ের মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলা ছবিগুলোর ব্যবসায়িক সাফল্য ছিল একেবারে শুন্য। কারণটা ছিল হিন্দি আর উর্দু ছবির প্রতি টান। ১৯৬১ সালে জহির রায়হান নির্মাণ করেন কখনো আসেনি। ’৬২তে কলিম শরাফীর সঙ্গে তৈরি করেন সোনার কাজল। নায়ক খলিল, নায়িকা সুমিতা দেবী, সহ-অভিনেত্রী ছিলেন সুলতানা জামান। এরপর ১৯৬৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কাঁচের দেয়াল জহির রায়হানকে এনে দেয় পরিচিতি, খ্যাতি এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার। ষাটের দশকের একটি মধ্যবিত্ত একান্নবর্তী এবং তাদের আশ্রিত মেয়ের কাহিনীকে ঘিরে নির্মিত ছবিটিতে ক্যামেরার কাজ ও উপস্থাপন নিঃসন্দেহে ছিল অসাধারণ। মাত্র সাড়ে উনিশ দিনের রেকর্ড সময়ে পাট চুকিয়ে ফেলা হয়েছিল এ ছবিটির কাজ। ১৯৬৬-র উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে ছিল বেহুলা একটি। হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী ‘মনসামঙ্গল’র কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত বেহুলা তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থায় কী ধরনের সাহসিক কাজ ছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু নির্মাতার নৈপুণ্য, বুদ্ধিমত্তা ও উপস্থাপনার সার্থকতায় বেহুলা অর্জন করে জনপ্রিয়তা ও আর্থিক সাফল্য। বেহুলার সংগীত পরিচালক ছিলেন আলতাফ মাহমুদ।
গণ-আন্দোলনভিত্তিক সে সময়ের প্রথম ছবি জীবন থেকে নেয়ার তুলনা যেন ছবিটি নিজেই। একুশে ফেব্রুয়ারি রাতে শোভাযাত্রা ও ভোরে প্রভাতফেরির জীবন্ত শুটিং করা হয়েছিল। এ ছবিটির পর পরই ব্যাপক সাফল্য দেখে নির্মাতারা ঝুঁকে পড়লেন রাজনৈতিক বক্তব্যপূর্ণ ছবি নির্মাণে। জহির রায়হানের আরেকটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রচেষ্টা ছিল লেট দেয়ার বি লাইট। প্রতীকনির্ভর সেট, ক্যামেরার কাজ আর আলোকবিন্যাসের ব্যবহার ছবিটিকে ভিন্নমাত্রা এনে দেয়, যদিও ছবিটি তিনি শেষ করতে পারেননি।
উর্দু ছবিগুলোর মধ্যে সঙ্গম ছিল তৎকালীন সময়ে দেশের প্রথম রঙিন ছবি আর বাহানা ছিল প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি। সংগীতনির্ভর ছবিটিতে জহির রায়হান সংযোজন করেছিলেন তারুণ্যের জয়গানকে। ছবির থিম গান ছিল ‘হাজারো সালকা বুড্ডা মর গিয়া।’ সঙ্গম ব্যবসা-সফল হলেও বাহানা অতটা সফল হয়নি।
জহির রায়হানের অমর সৃষ্টি তাঁর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রগুলো স্টপ জেনোসাইড ও এ স্টেট ইজ বর্ন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অসংখ্য ফুটেজ নিয়ে তিনি রেখেছিলেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে। চরম হতভাগ্য আমরা। যার বেশির ভাগই হারিয়ে গেছে। স্টপ জেনোসাইড বাংলাদেশের গণহত্যার একটি জ্বলন্ত দলিল। শরণার্থী শিবিরের অসহায় জীবনপট আর গণহত্যার বর্বর চিত্রকে তুলে ধরেন জহির রায়হান। একই সমান্তরালে দেখিয়েছেন গণহত্যার স্বরূপকে। ঢেঁকির ধাপধুপ শব্দ থেকে যুদ্ধপট, শরণার্থী শিবিরের মানুষের নিদারুণ কষ্টের জীবন, সেই বৃষ্টিভেজা কর্দমাক্ত পথ ধরে লাঠি হাতে আশি বছরের বুড়ির খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে পথ যাওয়া, তাঁর কথাগুলো−সব গেছে, কেউ নেই, কিছু নেই। মুক্তিকামী যোদ্ধারা, এগারো বছর বয়সী সেই নির্বাক মেয়েটির মুখ সবকিছু ছাপিয়ে ১৮ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্রের শেষে ‘গণহত্যা বন্ধ কর’, ‘স্টপ জেনোসাইড’ সেই প্রতিধ্বনিটা এখনো বাজতে থাকে। জহির রায়হানের অনবদ্য নির্মাণশৈলী আমাদের অবাক করে। তাঁর প্রামাণচিত্রের কাহিনীরূপ আমাদের প্রতিনিধিত্ব করেছে একাত্তরে।
জহির রায়হানের নির্মাণশৈলী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রচেষ্টা ও নিপুণ উপস্থাপনা আমাদের চলচ্চিত্রশিল্পে একটি আশীর্বাদ। কিন্তু চর্চা তো চাই। অনেক অবহেলিত শহীদ বুদ্ধিজীবী জহির রায়হান। তাঁর চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্রের তুলনামূলক নিরীক্ষা আমাদের একটি কথা জানিয়ে দেয় বারবার−জহির রায়হানের অনুপস্িথতি কত বড় অবর্ণনীয় ক্ষতি ও শুন্যতা আমাদের জন্য। আজ জহির রায়হানের অন্তর্ধান দিবস। আজকের এই দিনে কোটি সালাম রইল তাঁর প্রতি।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৪৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














