somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আসিফ নজরুল - জামাতি দালাল


>>
আসিফ নজরুলকে চিনতে পড়ুন শাহরিয়ার কবিরের "জাহানারা ইমামের শেষ দিনগুলি" (১৯৯৫) লিখেছেনঃ স্বপ্নমগ্ন

>>
আসিফ নজরুলঃ এক রং পাল্টানো গিরগিটিলিখেছেন: নিঝুম মজুমদার

>>

কালের কন্ঠ ২৭ আগস্ট ২০১০ তারিখে জামাতের ঢাকা মহানগরী আমির রফিকুল ইসলামের গ্রেফতারের একটি খবর দেয়। তাকে ধরার সময় তার কাছ থেকে নানা কাগজপত্র জব্দ করে পুলিশ। উদ্ধার করা নথি অনুসারে জামাতের 'নিজস্ব' বিশিষ্টজনদের তালিকায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ নজরুল, কমরেড সাইফুল হক ও ফরহাদ মজহার।

------------------------------------------------------------



মূল খবর:

যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকাতে জামায়াতের ১১ কৌশল!তিন দিনের রিমান্ডে রফিকুল: - মাসুদ কার্জন


যুদ্ধাপরাধের বিচার কার্যক্রম ব্যাহত করতে বিশেষ গোপন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে জামায়াত ইসলামী। এ লক্ষ্যে 'বেসরকারি পর্যায়ের যুদ্ধাপরাধ অনুসন্ধান কমিটি' ব্যানারে একটি কমিটি গঠনের পাশাপাশি ১১ দফার কর্মপরিকল্পনা সাজিয়ে কাজও শুরু করেছে তারা। মুুক্তিযুদ্ধে জোরালো ভূমিকা রেখেছিলেন কিন্তু এখন মহাজোট সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নয়, এরকম কয়েকজন ডাকসাইটে রাজনৈতিক নেতাকে ব্যানারে ভেড়ানোর চেষ্টা তাদের অন্যতম লক্ষ্য। এসব নেতার একটি তালিকা তৈরি করে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার গ্রেপ্তার অভিযানের সময় জামায়াত মহানগর আমির রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র জব্দ করেছে পুলিশ। জামায়াতের এই নেতা নেপথ্যে থেকে কথিত এই কমিটির সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছিলেন বলেও পুলিশ দাবি করেছে। রফিকুল ইসলামকে রমনা থানায় দায়েরকৃত ফারুক হত্যা মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মনিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকানোর পরিকল্পনা সংবলিত কিছু কাগজপত্র পাওয়া গেছে। তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

১১ দফা কী কী :

উদ্ধারকৃত কাগজপত্র অনুসারে ১১ দফা কর্মপরিল্পনার মধ্যে প্রথমেই বলা হয়েছে, জামায়াত তাদের নিজের মতো করে তথ্য-প্রমাণসহ ৭৭ যুদ্ধাপরাধীর একটি তালিকা তৈরি করবে। আওয়ামী লীগ, মহাজোটের শরিক কোনো দল বা বামপন্থী দলগুলোর মধ্য থেকে নেতাদের খুঁজে বের করে এ তালিকা করা হবে। এসব নেতার মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা গণমাধ্যমে প্রকাশের পাশাপাশি প্রচারপত্র তৈরি করে জনসাধারণের মধ্যে বিলি করা হবে। যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে মন্ত্রীদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের ওপর ভিডিও রিপোর্ট তৈরি করে তা প্রচার করা হবে।

এ ছাড়া যুদ্ধাপরাধের বিচার ইস্যু নিয়ে ঘন ঘন সেমিনার করা হবে। যারা সরাসরি জামায়াতের রাজনীতি করেন না এরকম বিশিষ্টজনদের এসব সেমিনার বা আলোচনায় হাজির করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নিলেও কোনো কারণে এখন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহজোট সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নয়_এরকম ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের সঙ্গে সুসম্পর্ক করে সেমিনারে টানতে হবে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতের লক্ষ্য হচ্ছে_বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও শাহাজাহান সিরাজ। উদ্ধার করা নথি অনুসারে জামায়াতের 'নিজস্ব' বিশিষ্টজনদের তালিকায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ নজরুল, কমরেড সাইফুল হক ও ফরহাদ মজহার। সেমিনারে দেওয়া তাঁদের বক্তব্য ধারণ করে বুকলেট ও ভিসিডি তৈরি করে ব্যাপকভাবে প্রচারের ব্যবস্থা করার কথা রয়েছে কর্মপরিকল্পনায়।

জামায়াতের গোপন পরিকল্পনায় বলা হয়, বর্তমানে যাঁদের যুদ্ধাপরাধী বলা হচ্ছে, তাঁদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে অনেকের ছবি আছে_ যেগুলো বিভিন্ন সভা-সেমিনার থেকে ধারণা করা। এসব ছবির মধ্যে আছে স্বাধীনতার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে গোলাম আযম, বিভিন্ন সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজামী, মুজাহিদের সঙ্গে রাশেদ খান মেনন, জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ভিডিও বা স্থিরচিত্র, ইসলামী ঐক্যজোটের (একাংশ) চেয়ারম্যান মিজবাউর রহমানের সঙ্গে নিজামীর ছবি। এসব ছবি বা ভিডিও সংগ্রহ করে তা প্রচারপত্র ও ভিডিও আকারে তৈরি করে তা বিলি করার কথা রয়েছে কর্মপরিকল্পনায়। রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে পাওয়া নথিতে আরো বলা হয়, বর্তমান আওয়ামী লীগের যেসব নেতা যুদ্ধাপরাধ ইস্যু নিয়ে 'অতিউৎসাহ' দেখাচ্ছেন, তাঁদের তালিকা ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে প্রচার করতে হবে।


রিমান্ডে রফিকুল :

আমাদের আদালত প্রতিবেদক জানান, জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলামকে গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করে ফারুক হত্যা মামলায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক জিয়া উজ জামান। শুনানি শেষে ঢাকার তিন নম্বর অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. আলী হোসাইন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে দেন। এ ছাড়া উত্তরা থানায় ১৯ এপ্রিল দায়েরকৃত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

২৭ জুন বিএনপির ডাকা হরতালের আগের রাতে গাড়িতে আগুন দেওয়া হলে পথচারী ফারুক গুরুতর অগি্নদগ্ধ হয়ে পড়ে মারা যান। এ ঘটনায় রমনা থানায় হত্যা মামলা করা হয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29521740 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29521740 2012-01-13 16:34:03
রাজাকারেরা রাজাকার-আলবদর বাহিনীর সংগঠক এটিএম আজহার
আবু সালেহ রনি/ইকবাল হোসেন

রংপুরে রাজাকার-আলবদর বাহিনীর অন্যতম সংগঠক ছিলেন বর্তমান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ইসলামী ছাত্র সংঘের (বর্তমানে ইসলামী ছাত্রশিবির) জেলা কমিটির সভাপতি এবং আলবদর বাহিনীর রংপুর শাখার কমান্ডার নিযুক্ত হন। তার নেতৃত্বেই কারমাইকেল কলেজের ৬ শিক্ষক এবং এক শিক্ষকপত্নীকে হত্যা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মুক্তিযোদ্ধারা জানান, নিহত শিক্ষকদের বীভৎস লাশ যারা দেখেছেন তাদের কাছে আজহারুল মানুষরূপী এক নরপিশাচ হিসেবে চিহ্নিত।
স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে আছেন একাত্তরের ঘাতক এটিএম আজহারুল ইসলাম। গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাকরাইল, পল্টন, মৎস্য ভবন, আরামবাগ ও দৈনিক বাংলার মোড় সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাংচুর, অগি্নসংযোগসহ কয়েকটি মামলায় তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলেও এ পর্যন্ত তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধে স্বজন হারানো রংপুরের ক্ষতিগ্রস্তরা আশা করছেন, শিগগিরই ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী এটিএম আজহারুলের বিচার শুরু হবে।
রংপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা এটিএম আজহারুল ইসলাম। রংপুরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা এ আজহারুল। তিনি ১৯৭১ সালের ৩০ মে কারমাইকেল কলেজের ৬ শিক্ষকসহ ৭ জনকে হত্যায় নেতৃত্ব দিয়ে পুরো রংপুরকে এক আতঙ্কিত জনপদে রূপ দিয়েছিলেন। আজহারুল বাহিনীর ভয়ে রংপুর শহরসহ আশপাশ এলাকার বাঙালিরা থাকতেন চরম আতঙ্কে।
রংপুর জেলা জাসদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত রাঙ্গা বলেন, '১৯৭১ সালে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ার অপরাধে কুখ্যাত ঘাতক এটিএম আজহারুল আমাকে টাউন হলের টর্চার সেলে নিয়ে গিয়ে প্রচণ্ড মারধর করেন। তখন আমি ছিলাম অস্টম শ্রেণীর ছাত্র।' একই কথা বলেন তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা রফিকুল হাসান। তিনি বলেন, একাত্তরে তাকেও ধরে নিয়ে যান এটিএম আজহারুল ইসলাম। দু'দিন টাউন হলের টর্চার সেলে রেখে তাকে নির্মম নির্যাতন করা হয়। মৃত্যু ভেবে তাকে ফেলে দেওয়া হয়। কিন্তু ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গেলেও এ পর্যন্ত তিনি পুরোপুরি সুস্থ হননি।
বাঙালি নিধনের শপথ : ১৯৭১ সালের ১৭ আগস্ট হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী তাদের এ দেশীয় দোসর জামায়াত সৃষ্ট সশস্ত্র সংগঠন আলবদরকে মিলিশিয়া বাহিনীর স্বীকৃতি দেয়। এ উপলক্ষে ওইদিন আলবদর বাহিনী দেশের বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশের আয়োজন করে। এরই অংশ হিসেবে রংপুর সদরে আয়োজিত আলবদর বাহিনীর সভায় সভাপতিত্ব করেন এটিএম আজহারুল ইসলাম (সূত্র দৈনিক সংগ্রাম, ১৮ আগস্ট, ১৯৭১)। সভায় আজহারুল ইসলাম এবং তার সহযোগীরা বাঙালির রক্তপানের শপথ নেন বলে সভাস্থলে উপস্থি্থত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বিভিন্ন সময় সাক্ষ্য দিয়েছেন।
ছয় শিক্ষক হত্যা : ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে আলবদর কমান্ডার আজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে রংপুরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ কারমাইকেল কলেজের ৬ শিক্ষক এবং এক শিক্ষকপত্নীকে তুলে আনা হয়। তারা হলেন রসায়ন বিভাগের প্রভাষক কালাচাঁদ রায়, গণিতের প্রভাষক চিত্তরঞ্জন রায়, দর্শনের প্রভাষক সুনীল বরণ চক্রবর্তী, বাংলার প্রভাষক রামকৃষ্ণ অধিকারী, উর্দু বিভাগের শাহ সোলায়মান আলী ও রসায়নের আবদুর রহমান এবং কালাচাঁদ রায়ের স্ত্রী (নাম জানা যায়নি)। ওই সময়কার ছাত্রনেতা রফিকুল ইসলাম ও তার ভাই সাখাওয়াত রাঙ্গা (বর্তমানে জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক) এবং রংপুরের অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য মতে, আজহারুলের উপস্থিতিতে ও নির্দেশে তার সহযোগী আলবদর সদস্যরা রংপুরের সর্বমহলে সমাদৃত ওই ৭ জনকে কলেজের পার্শ্ববর্তী দমদমা এলাকায় নিয়ে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্মম নির্যাতনের পর ব্রাশফায়ারে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এ ঘটনায় আতঙ্কে শিউরে ওঠে রংপুরবাসী।
মুক্তিযোদ্ধাদের দেওয়া তথ্য মতে, মুক্তিযুদ্ধের সময় আজহারুল ইসলাম ৭০ জনের একটি সশস্ত্র আলবদর স্কোয়াডের নেতৃত্ব দিতেন। সেই স্কোয়াডের ঘাঁটি ছিল রংপুরের টাউন হল এলাকায়। আজহারুল এবং তার সহযোগীরা পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের মনোরঞ্জনের জন্য ভয়-ভীতি দেখিয়ে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়, এমনকি অপেক্ষাকৃত নিরীহ মুসলিম পরিবারের সুন্দরী তরুণী এবং গৃহবধূদের ধরে এনে সরবরাহ করতেন।
ঢাকায় হত্যাযজ্ঞ : ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের দিকে বাঙালির বিজয় নিশ্চিত হতে থাকলে আজহারুল ইসলাম রংপুর ছেড়ে চলে আসেন ঢাকায়। এরপর মেতে ওঠেন ইতিহাসের আরেক নৃশংস ও জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞে। আজহারুল, নিজামী ও মুজাহিদ গংয়ের নেতৃত্বে দেশবরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের ধরে মোহাম্মদপুরের ফিজিক্যাল ট্রেনিং কলেজে স্থাপিত টর্চার সেলে নিয়ে চালানো হতো অকথ্য নির্যাতন। সেখান থেকে তাদের নিয়ে হত্যা করা হতো রায়েরবাজারের বধ্যভূমিতে। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের দিন নরঘাতক আজহার তার অন্য কয়েক সহযোগীর সঙ্গে পাকিস্তানে পালিয়ে যান। সেখান থেকে পাড়ি জমান সৌদি আরব। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তন-পরবর্তী অনুকূল পরিস্থিতিতে দেশে ফিরে আসেন আজহারুল। ১৯৭৭ সাল থেকে আবারও প্রকাশ্যে সক্রিয় হন জামায়াতের রাজনীতিতে।
আজহারুলের রাজনীতি : একাত্তরের ঘাতক এটিএম আজহারুল ইসলাম বর্তমানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হলেও নিজ এলাকায় এ পর্যন্ত ঘৃণিত ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত। ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জামানত হারিয়েছেন তিনি। এলাকায় ভোট চাইতে গেলে জনগণ তাকে একাত্তরের ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দেয়। রংপুর কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ ড. দীপকেন্দ্র নাথ দাস বলেন, শিক্ষকসহ সাধারণ মানুষ মনে করে, হত্যাকারী রাজাকার, আলবদর কখনোই জনগণের সেবক হতে পারে না। এ জন্য রংপুরের জনগণ বারবার তাকে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী এটিএম আজহারুলের বিচার হবে_ এটিই রংপুরবাসীর প্রত্যাশা।
পুলিশের কাজে বাধা দেওয়াসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কয়েকটি মামলায় এটিএম আজহারুল বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক আছেন। এ জন্য তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29498886 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29498886 2011-12-08 17:29:55
কী করে একটি অসাধু মিথ্যা মহৎ সত্য হয়ে ওঠে -কুলদা রায় /এমএমআর জালাল রবীন্দ্রনাথের ঢাবি প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা

কী করে একটি অসাধু মিথ্যা মহৎ সত্য হয়ে ওঠে
কুলদা রায়
এমএমআর জালাল



নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীর গত ২৫ বৈশাখ এনটিভিতে অভিযোগ করে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন। নূরুল কবীর বাংলাদেশের অকুতোভয় সাংবাদিক কাম সম্পাদক। সুতরাং তিনি যখন কোনো তথ্য বলেন—দায় দায়িত্ব নিয়েই বলেন। খোঁজ খবর নিয়েই বলেন। রামাশ্যামাযদুমধুদের মত যা মুখে এলো তা বলবেন একজন সম্পাদক এটা মানতে কষ্ট হয়। কিন্তু তিনি এই তথ্যটি কোথায় পেয়েছেন—সে বিষয়ে মুখ খোলেননি। কিন্তু তথ্যটি রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে। রবীন্দ্রনাথ কোনো এলেবেলে লোক নন। তাঁর ১৫০ তম জন্মবার্ষিকী চলছে। তিনি উনসত্তর বছর আগে মারা গেছেন। তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থন করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু তাঁর জীবনের সকল তথ্যই সংরক্ষিত আছে। খুঁজলে পাওয়া যায়।



রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন--এ অভিযোগটি প্রায়ই করেন গোলাম এবনে সামাদ ধরনের জামাতপন্থী কলমজীবীরা। সংগ্রাম, ইনকিলাব, নয়া দিগন্ত, দৈনিক দেশ পত্রিকায় মাঝে মাঝে এ ধরনের রবীন্দ্রবিরোধিতা দেখা যায়। রবীন্দ্রবিরোধিতার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের উদগাতা ফরহাদ মজহার রবীন্দ্রনাথকে সাম্প্রদায়িকভাবে ব্যাখ্যা করেছেন তার 'রক্তের দাগ মুছে রবীন্দ্রপাঠ' বইটিতে। সেখানে রবীন্দ্রনাথকে কোনোভাবেই মজহার ছাড় দেন নি। তাঁর ভাবশিষ্য সাদ কামালীও রবীন্দ্রবিদ্বেষবিশেষজ্ঞ হিসাবে নানাবিধ রচনা করেছেন। অবাক কাণ্ড হল এই দুই রচনাকারের কোথাও এই তথ্যটি নাই। রবীন্দ্রনাথ যে সব শাক সবজি কলাটা মূলোটা খেতেন, দৈ-খৈ কোথা থেকে খেতেন, কাদের ক্ষেতেখামারে সেসব উৎপাদিত হত—ফরহাদ মজহার এবং সাদ কামালী নানাপ্রকার খাটাখাটুনি করে তাও বের করে ফেলেছেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন—এই ধরনের রগরগে অতি বিখ্যাত রবীন্দ্রছিদ্রটি তাদের রচনাতে উল্লেখ করেননি। কেন করেননি সেটা একটা কোটি টাকার প্রশ্ন বটে। তাদের কর্ণকুহরে কি এই অভিযোগটি ঢোকেনি? তাঁদের গবেষণালিপ্ত চোখ তিনি দেখতে পায়নি?



কিন্তু মেজর জেনারেল (অঃ) আব্দুল মতিন কিন্তু এটা দেখতে পেয়েছেন। তিনি একটি বই লিখেছেন। বইটির নাম, 'আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারাবাহিকতা এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা’।. প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের প্রখাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আহমদ পাবলিশিং হাউস। প্রতিষ্ঠানটি এলেবেলে বই বের করে না। আর আব্দুল মতিন অতি বিখ্যাত লোক। তিনি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল। মুক্তিযুদ্ধের অংশ নিয়েছিলেন। বীরপ্রতীক। পিএসসি। তার চেয়েছেও বড় কথা—তিনি বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অতি ক্ষমতাধর উপদেষ্টা ছিলেন। তার আঙুলি হেলনে বাঘে-গরুতে একঘাটে পানি খেত। সেই আব্দুল মতিন উক্ত বইটিতে লিখেছেন, ”১৯১২ সালের ২৮শে মার্চ কলিকাতা গড়ের মাঠে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়।” এই বাক্যটিতে পাঁচটি তথ্য পাওয়া যাচ্ছে—১. সময়টা—১৯১২ সালের ২৮শে মার্চ। ২. স্থান—কলিকাতার গড়ের মাঠ। ৩. সেখানে একটি সভা হয়েছিল। ৪. সে সভার উদ্দেশ্য ছিল—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করা। ৫. সভায় সভাপতিত্ব করেন—আর কেউ নন, শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বলে রাখি-- তখনো রবীন্দ্রনাথ নোবেল পাননি। পেয়েছিলেন এক বছর পরে--১৯১৩ সালে।



এখানেও একটি বিস্ময় আছে। সেটা হল দি নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীরের মত আব্দুল মতিন তার কোনো তথ্যউৎস দেননি। এ বিষয়ে একজন কলামিস্ট এ জেড এম আব্দুল আলীর বরাতে জানা যায়—‘শোনা যায়, এই তথ্যটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কোন বইতে আছে।‘ তিনি এ বিষয়ে আরও একটা প্রশ্ন করেন-- যে রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন সেই রবীন্দ্রনাথকেই এই বিশ্ববিদ্যলয় প্রতিষ্ঠার মাত্র পাঁচ বছর পরে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনেই কিভাবে বিপুলভাবে সংবর্ধনা দিয়েছিল?

এই প্রশ্নের উত্তর এ মুহুর্তে আমরা খুঁজব না। আমরা অন্যত্র সে উত্তর খুঁজেছি। এখন খুঁজব—১৯১২ সালের ২৮ শে মার্চ তারিখটিকে। খুঁজে দেখব--ঐদিন রবীন্দ্রনাথ কোথায় ছিলেন? কী করেছিলেন?



১৯১২ সালের ২৮ শে মার্চ রবীন্দ্রনাথ একটি চিঠি লিখেছেন জগদানন্দ রায়কে। জগদানন্দ রায় বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক, রবীন্দ্রনাথের পুত্রকন্যাদের গৃহশিক্ষক ও শান্তিনিকেতনের ব্রহ্মচর্যাশ্রমের শিক্ষক। সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার। চৈত্র ১৫, ১৩১৮ বঙ্গাব্দ। রবীন্দ্রনাথ চিঠিটি লিখেছেন শিলাইদহ থেকে। রবীন্দ্রনাথ লিখছেন—‘কয়দিন এখানে এসে সুস্থ বোধ করছিলুম। মনে করেছিলুম সেদিন যে ধাক্কাটা খেয়েছিলুম সেটা কিছুই নয়। সুস্থ হযে উঠলেই অসুখটাকে মিথ্যা বলে মনে হয়। আবার আজ দেখি সকাল বেলায় মাথাটা রীতিমত টলমল করচে। কাল বুধবার ছিল বলে, কাল সন্ধ্যাবেলায় মেয়েদের নিয়ে একটু আলোচনা করছিলুম—এইটুকুতেই আমার মাথা যখন কাবু হয়ে পড়ল তখন বুঝতে পারচি নিতান্ত উড়িয়ে দিলে চলবে না।' (বি, ভা. প, মাঘ-চৈত্র ১৩৭৬। ২৫৩, পত্র৫)।



প্রশান্তকুমার পাল রবিজীবনী গ্রন্থের ষষ্ঠ খণ্ডে জানাচ্ছেন, এদিনই তিনি একটি কবিতা লেখেন। কবিতার নাম—‘ স্থির নয়নে তাকিয়ে আছি’।



স্থির নয়নে তাকিয়ে আছি

মনের মধ্যে অনেক দূরে।

ঘোরাফেরা যায় যে ঘুরে।

গভীরধারা জলের ধারে,

আঁধার-করা বনের পারে,

সন্ধ্যামেঘে সোনার চূড়া

উঠেছে ওই বিজন পুরে

মনের মাঝে অনেক দূরে।



দিনের শেষে মলিন আলোয়

কোন্‌ নিরালা নীড়ের টানে

বিদেশবাসী হাঁসের সারি

উড়েছে সেই পারের পানে।

ঘাটের পাশে ধীর বাতাসে

উদাস ধ্বনি উধাও আসে,

বনের ঘাসে ঘুম-পাড়ানে

তান তুলেছে কোন্‌ নূপুরে

মনের মাঝে অনেক দূরে।



নিচল জলে নীল নিকষে

সন্ধ্যাতারার পড়ল রেখা,

পারাপারের সময় গেল

খেয়াতরীর নাইকো দেখা।

পশ্চিমের ওই সৌধছাদে

স্বপ্ন লাগে ভগ্ন চাঁদে,

একলা কে যে বাজায় বাঁশি

বেদনভরা বেহাগ সুরে

মনের মাঝে অনেক দূরে।



সারাটি দিন কাজে

হয় নি কিছুই দেখাশুনা,

কেবল মাথার বোঝা ব’হে

হাটের মাঝে আনাগোনা।

এখন আমায় কে দেয় আনি

কাজ-ছাড়ানো পত্রখানি;

সন্ধ্যাদীপের আলোয় ব’সে

ওগো আমার নয়ন ঝুরে

মনের মাঝে অনেক দূরে।



এই কবিতাটি গীতিমাল্য কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত ৪ সংখ্যক কবিতা। এর পর বাকী ১৫ দিনে শিলাইদহে থেকে রবীন্দ্রনাথ আরও ১৭টি কবিতা বা গান লেখেন। এর মধ্যে একটি গান—আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ। ১৪ চৈত্র, ১৩১৮ বঙ্গাব্দ। রচনার স্থান শিলাইদহ। ২৬শে চৈত্র ১৩১৮(এপ্রিল ৮, ১৯১২) বঙ্গাব্দেও তিনি শিলাইদহে। সেখান থেকে লিখেছেন—এবার আমায় ভাসিয়ে দিতে হবে আমার। এপ্রিল ১২, ১৯১২ তারিখে লিখছেন—এবার তোরা আমার যাবার বেলাতে। শিলাইদহে রচিত। তথ্য বলছে-- সে সময়ে রবীন্দ্রনাথ কলকাতায় নয়—শিলাইদহে ছিলেন।



তাহলে রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহে কেন গেলেন? কখন গেলেন? তার একটু হদিস নেওয়া যেতে পারে।



১৯ মার্চ ১৯১২ (৬ চৈত্র, ১৩১৮ বঙ্গাব্দ) ভোরে কলকাতা থেকে সিটি অব প্যারিস জাহাসে রবীন্দ্রনাথের ইংলণ্ড যাত্রার জন্য কেবিন ভাড়া করা হয়েছিল। সঙ্গী মেয়ো হাসপাতালের ডাঃ দ্বিজেন্দ্রনাথ মৈত্র। কবিকে বিদায় জানানোর জন্য বহু ব্যক্তি সেদিন জাহাজঘাটায় উপস্থিত। কবির জিনিসপত্রও জাহাজে উঠে গেছে আগের দিন।–কিন্তু ‘খবর এলো যে, কবি অসুস্থ; আসতে পারবেন না। ঐ গরমে উপর্যুপরি নিমন্ত্রণ-অভ্যর্থনাদির আদর-অত্যাচারে রওনা হ’বার দিন ভোরে প্রস্তুত হতে গিয়ে, মাথা ঘুরে পড়ে যান। ডাক্তাররা বললেন, তাঁর এ-যাত্রা কোনোমতেই সমীচীন হতে পারে না। রইলেন তিনি; আর ক্যাবিনে একা রাজত্ব করে, তাঁর বাক্স-পেটরা নিয়ে চল্লুম আমি একলা।‘ এটা লিখেছেন ডাঃ মিত্র।



রবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর পিতৃস্মৃতি গ্রন্থে লিখছেন—জাহাজ ছাড়বার আগের দিন রাত্রে স্যর আশুতোষ চৌধুরীর বাড়িতে বাবার নিমন্ত্রণ। কেবল খাওয়া দাওয়া নয়, সেই সঙ্গে ‘বাল্মিকীপ্রতিভা’ অভিনয়ের ব্যবস্থা হয়েছিল। দিনেন্দ্রনাথ বাল্মীকির ভূমিকায় অভিনয় করেন। অসুস্থ শরীরে বাবাকে অনেক রাত অবধি জাগতে হল। আমরা ঘরে ফিরলাম রাত করে। বাকি রাতটুকু বাবা না ঘুমিয়ে চিঠির পর চিঠি লিখে কাটিয়ে দিলেন। ভোরবেলা উঠে বাবার শরীরের অবস্থা দেখে আমরা ভয় পেয়ে গেলাম, ক্লান্তিতে অবসাদে যেন ধুঁকছেন। তাড়াতাড়ি ডাক্তার ডাকতে হল।...জাহাজ আমাদের জিনিসপত্র সমেত যথাসময়ে পাড়ি দিল, কিন্তু আমাদের সে যাত্রা আর যাওয়া হল না।‘



আকস্মিকভাবে যাত্রা পণ্ড হয়ে যাওয়ায় খুব বেদনা পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তিনি ২১ মার্চ ১৯১২ (৮ চৈত্র ১৩১৮ বঙ্গাব্দ) তারিখে ডাঃ দ্বিজেন্দ্রনাথ মৈত্রকে লেখেন—‘আমার কপাল মন্দ—কপালের ভিতরে যে পদার্থ আছে, তারও গলদ আছে—নইলে ঠিক জাহাজে ওঠবার সুহুর্তেই মাথা ঘুরে পড়লুম কেন? অনেক দিনের সঞ্চিত পাপের দণ্ড সেইদিনই প্রত্যুষে আমার একেবারে মাথার উপরে এসে পড়ল। রোগের প্রথম ধাক্কাটা তো একরকম কেটে গেছে। এখন ডাক্তারের উৎপাতে প্রাণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। লেখাপড়া নড়াচড়া প্রভৃতি সজীব প্রাণীমাত্রেরই অধিকার আছে, আমার পক্ষে তা একেবারে নিষিদ্ধ।...’



২৪ মার্চ ১৯১২ (১১ চৈত্র ১৩১৮ বঙ্গাব্দ) বিশ্রামের উদ্দশ্যে রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহে রওনা হন। ঠাকুরবাড়ির ক্যাশবহিতে লেখা আছে, শ্রীযুক্ত রবীন্দ্র বাবু মহাশয় ও শ্রীযুক্ত রথীন্দ্র বাবু মহাশয় ও শ্রীমতি বধুমাতাঠাকুরাণী সিলাইদহ গমনের ব্যায় ৩৭৯ নং ভাউচার ১১ চৈত্র ১৫।।৩।. পরদিন সোমবার ১২ চৈত্র ১৫ মার্চ ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ মৌচাক পত্রিকার সম্পাদক সুধীরচন্দ্র সরকারের ভগ্নী কাদম্বিনী দত্তকে (১২৮৫—১৩৫০ বঙ্গাব্দ) এক চিঠিতে লেখেন—এখনো মাথার পরিশ্রম নিষেধ। শিলাইদহে নির্জ্জনে পালাইয়া আসিয়াছি।



কোথায় কলকাতার গড়ের মাঠ?--আর কোথায় শিলাইদহ!! তাহলে ১৮ মার্চ ১৯১২ খ্রীস্টাব্দ তারিখে রবীন্দ্রনাথ কি করে শিলাইদহ থেকে অসুস্থ শরীরে কলকাতার গড়ের মাঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সভায় উপস্থিত ছিলেন? প্লেনে করে? এটা কি অব মেজর জেনারেল আব্দুল মতিন খোয়াবে দেখেছিলেন? আর সেই খোয়াবের অংশীদার ছিলেন দি নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীর?



ঢাকা বিশ্বিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতিআরা নাসরীন জানাচ্ছেন-- রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে এই অপপ্রচারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট বার্ষিক অধিবেশনের (২৮-২৯ জুন, ২০১১) আলোচনায় আসে। অধ্যাপক ফকরুল আলমের কথার অংশ থেকে লিখছি..."রবীন্দ্রনাথ একসময় বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে বিরোধী ছিলেন ....কিন্তু....চারপাঁচ বছর পর তার পুরানো পজিশন পরিবর্তন করে ফেলেছিলেন। ....অবশ্যই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গ্রহণ করেছেন বলে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মাননায় এসেছিলেন।....যারা ইতিহাসকে এক জায়গায় রেখে দেয় তারা ইতিহাসকে বিকৃত করে, তারা সত্যকে বিকৃত করে।...." (কার্যবিবরণী, পৃ:১৭৮)।



এই ইতিহাসবিকৃতি বাংলাদেশে রবীন্দ্রবিরোধিতারই একটি নমুণা। নিছক মিথ্যা তথ্য। গোয়েবলসের সূত্রে তথ্যটি তৈরি হয়েছিল গোপনে--করেছিলেন একজন পাকিপন্থী লেখক। প্রকাশক ইসলামী ফাউন্ডেশন। আর তা বইতে লিখেছেন মেজর জেনারেল আব্দুর মতিন। এবং এ বছর রবীন্দ্রনাথের আর্তদশতবার্ষকীর লগ্নে টেলিভিশনের পর্দায় জনগণের উদ্দেশ্য প্রকাশ করছেন--দি নিউ এজ পত্রিকার স্বনামধন্য সম্পাদক নূরুল কবীর। একজন সম্পাদক যখন কোনো তথ্য বলেন--তাকে মিথ্য ধরাটা কঠিন। তারা মহৎ সত্যের ধারক। এইভাবে একটি অসাধু মিথ্যা মহৎ সত্য হয়ে ওঠে। সে সত্য দুঃস্বপ্নের চেয়েও ভয়ঙ্কর।



সূত্র .

---------



এ জেড এম আব্দুল আলী : Click This Link

বাঙালি মুসলমান : চণ্ডী প্রসাদ সরকার।

ঢাকায় রবীন্দ্রনাথ : http://www.sachalayatan.com/abu_reza/34093



দি মুসলিম বি. বি হোম (পল) কনফিডেনসিয়াল ফাইল নং ২৯০ অব ১৯১২, সিরিয়াল নং ১৪।

অন্য আলোয় দেখা : চতুর্থ পর্ব Click This Link

অন্য আলোয় দেখা--৩ : শান্তি নিকেতনের শান্তিরহস্য : Click This Link

ফেসবুকে প্রথম পর্ব- -http://www.facebook.com/notes.php?id=1573787229¬es_tab=app_2347471856#!/note.php?note_id=10150263212500338

রবিজীবনী--প্রশান্তকুমার পাল, ষষ্ঠ খণ্ড, প্রকাশক-- আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা।

রবীন্দ্রনাথের আত্মীয়স্বজন--সমীর সেনগুপ্ত।

পিতৃস্মৃতি--রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29412360 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29412360 2011-07-13 19:19:48
গণঅনশনে এসে এ যেন গণভক্ষণ!







গণঅনশনে এসে এ যেন গণভক্ষণ!
সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
গণঅনশন চত্বর থেকে: এ যেন গণঅনশনে অংশ নিতে আসা নেতা-কর্মীদের গণভক্ষণ। টানা আট ঘণ্টার অণশনে নেমে অর্ধেক সময় পেরুনোর আগেই বিএনপির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মীকে খাবার খেতে দেখা গেলো। তাদের ভক্ষণ আগ্রাসনে অনশন স্থল ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স চত্বরের পার্শ্ববর্তী প্রায় সব দোকানের খাবার প্রায় ফুরিয়ে যায়। অনশন প্যান্ডেলের মাত্র কয়েক গজ দূরেই খাবার চিবুতে দেখা যায় কাউকে কাউকে।

আবার এদেরই কারো কারো সন্দেহ, কেন্দ্রীয় নেতারাই হয়তো কোন ঘরে গিয়ে খেয়ে আসছেন কিছু না কিছু।

অন্যদিকে বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে খাবারের দাম না দিয়ে সরে পড়ার অভিযোগ তুলেছেন একাধিক দোকানি।

অনশন স্থলের আশপাশ রমনা পার্ক, সরোওয়ার্দী উদ্যান ও মৎস্য ভবন এলাকায় দেখা গেলো নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন দোকান থেকে খাবার এনে গোল হয়ে বসে খাচ্ছেন। ঝালমুড়ি ও আইসক্রিম থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকারের কেক, কলা, পানীয়, বিস্কিট আর নানা প্রকারের ফাস্ট ফুড তো আছেই, তেহারি ও বিরিয়ানির প্যাকেটও দেখা গেলো কারো কারো হাতে।

শিল্পকলা একাডেমির পার্শ্ববর্তী আহমদিয়া স্টোরের মালিক মাইনুদ্দিন বাবু বাংলানিউজকে জানান, অন্যান্য দিনের তুলনায় সমাবেশ উপলক্ষে তার বিক্রি তিনগুন বৃদ্ধি পেয়েছে।

মৎস ভবন সংলগ্ন খাবার ব্যবসায়ী বিদ্যুৎ বাংলানিউজকে জানান, অন্যান্য দিন এ সময় তার বিক্রি হয় ১ হাজার থেকে বারোশ’ টাকা। আর আজ (বুধবার) এর মধ্যে তার সাড়ে তিন হাজার টাকা বিক্রি হয়ে গেছে। এর মধ্যে বিস্কিট ছাড়া অন্য সব খাবার শেষ হয়ে গেছে। আরো খাবার আনতে লোক পাঠানো হয়েছে।

আনারস বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক বাংলানিউজকে বলেন, ‘অন্যান্য দিনে দুপুর পর্যন্ত ১৫-২০টা আনারস বিক্রি হলেও আজ দুপুর পর্যন্ত ৬০টি আনারস বিক্রি হয়েছে।’

‘তবে বিক্রি ভালো হলেও অনেকেই দাম না দিয়ে চলে গেছেন’ বলে অভিযোগ আব্দুর রাজ্জাকের।

বাদাম বিক্রেতা আবুল কালাম জানান, অন্যান্য দিন এক থেকে দেড়শ’ টাকা বিক্রি হলেও আজ এরই মধ্যে ৩শ’ টাকা বিক্রি করেছেন তিনি।

সমাবেশ স্থলে আসা কর্মীরাই তার আজকের ক্রেতা বলেও জানান তিনি।

পানীয় বিক্রেতা মিলন বাংলানিউজকে বলেন, ‘অন্যান্য জনসভায় যেমন বিক্রি হয়, তেমন আজও বিক্রি হচ্ছে। কোনও কমতি নেই।’

যাত্রাবাড়ী থানার বিএনপি কর্মী রুবেলকে পানীয় কেনার সময় গণঅনশনের কথা জিজ্ঞেস করলে বাংলানিউজকে তিনি বলেন, ‘সমস্যা কি, অনেকেই তো খাচ্ছে, তাই আমিও খাচ্ছি।’

তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য মেহেদী হাসানকে (মাস্টার্স শেষ বর্ষর) পানি কেনার সময় ‘গণঅনশন কর্মসূচিতে কেন পানি কিনছেন জানতে চাইলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘যারা অনশন ডেকেছেন তারাও রুমের মধ্যে গিয়ে হয়তো বা খেয়ে আসছেন। আমরা তো পানি ছাড়া আর কিছু খাচ্ছি না।’

বাংলাদেশ সময়: ১৪৪৬ ঘণ্টা, জুলাই ১৩, ২০১১]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29412304 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29412304 2011-07-13 17:01:07
আরও হরতাল ডাকুন, প্রয়োজনে টানা এক সপ্তাহ: মুনতাসীর মামুন আরও হরতাল ডাকুন, প্রয়োজনে টানা এক সপ্তাহ
মুনতাসীর মামুন

জনকন্ঠ (১৩-৭-২০১১)

হরতাল এতদিন সমর্থন করেছি। গত শতকের ষাটের দশক থেকে হরতাল করছি। হরতালে বিএনপির নেতাদের মতো আমাদেরও অসুবিধা হয় না, মানে যাঁরা শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের। অন্যদের অসুবিধা হতে পারে, তাতে আমার কী? জয়নুল আবদিন ফারুকরা হরতাল ডাকেন, হরতালের আগে গাড়ি পোড়ান, যাতে ভয়ে কেউ বের না হয়, সবকিছু বন্ধ থাকে, কিন্তু তাদের কলকারখানা খোলা থাকে। শ্রমিকরা কিভাবে কাজে আসবেন সেটি ফারুকদের জানার বিষয় নয়। না এলে বেতন নেই। বিশ্বাস হয় না এ প্রতারণা। গত দু'দিনের সময় কি জয়নুল আবদিন ফারুকের একটি নয় দু'টি গার্মেন্টস কারখানা খোলা ছিল না?
লালবাগ মাদ্রাসা দখল করে নেয়া এবং তালেবান হওয়ার ঘোষণা দেয়া, ফজলুল হক আমিনী ফারম্নকদের জানি দোস্ত। তিনিও ছিলেন হরতালের সমর্থক। হরতালের দিন তাঁর মাদ্রাসা খোলা ছিল, তিনিও ছিলেন সেখানে। কারণ, পড়াশোনার যাতে ক্ষতি না হয়। অন্যদের হোক তাতে তাঁদের আপত্তি নেই। প্রতারণার এ রকম অজস্র উদাহরণ দেয়া যাবে।
না, এখানেই শেষ নয়। সকালের দিকে টিভি ক্যামেরা যেখানে থাকে, নির্দিষ্ট কয়েকটি স্পটে সেখানে হরতালকর্তারা জড়ো হন। ক্যামেরা চলে গেলে তাঁরাও চলে যান। কর্মীরা বা অতি উৎসাহী কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে রাস্তায়। যাদের ওপর হুকুম থাকে গাড়ি পোড়ানো বা পুলিশকে গালিগালাজ করে ঢিল ছোড়া। এজন্য তারা টাকা পায়। হরতালের আগের দিন এ রকম একজনকে ধরা হয়েছিল যে বাসে আগুন লাগিয়েছিল। সে জানায়, আগুন লাগানোর জন্য তাকে ১০০ টাকা দেয়া হয়েছিল। নেতাদের আকাঙ্ৰা, টিভি সংবাদে যাতে কয়েক সেকেন্ড তাদের দেখানো হয়। ম্যাডাম জিয়া যদি ৰণিকের জন্যও দেখেন, তা হলেই অপার শান্তি। আখেরে কিছু হতেও পারে। এই হচ্ছে এখন হরতাল ও যাঁরা হরতাল ডাকেন তাঁদের চরিত্র। রাজনীতির জন্য যদি হরতাল হতো তাহলে রাস্তায় রাস্তায় লোক থাকত, পুলিশও। লাঠিপেটা, ঢিল ছোড়াছুড়ি হতো, মানুষ রাস্তায় পড়ে থাকত, গুলি খেত কিন্তু পালাত না। গত শতকের ষাট থেকে নব্বই দশক পর্যনত্ম কি তা হয়নি? কিন্তু এখন তো রাজনীতি মুখ্য নয়, প্রতারণাই মুখ্য। আর বিএনপি হলে প্রতারণায় ঘাটতি থাকবে না, সে কারণেই দৌড়াতে হয়। বিএনপি সাংসদ দৌড়ে পালিয়েই তো দৌড় সালাহউদ্দিন নামে বিখ্যাত হলেন। রেললাইন ধরে বিএনপির আরেক নেতা, না ফাউন্ডার, ডা. বদরম্নদ্দোজা চৌধুরীর রেললাইন ধরে দৌড় তো আমরা প্রত্যৰ করেছি। এবার দেখলাম জয়নুল আবদিন ফারম্নকের।
এ ধরনের মনত্মব্য সুশীলদের আহত করতে পারে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ট্রাইবু্যনালে যখন বয়োবৃদ্ধ আবদুল আলীমকে হুইলচেয়ারে আনা হলো, তখন টিভিতে তা দেখে অনেকে বলেছিলেন, আহা, বুড়ো মানুষটাকে নিয়ে এত টানাহেঁচড়া কেন করা হচ্ছে? নিজামীকে আদালতে আনা হলে, এ মনত্মব্যও করেছেন সুবেশী অনেকে, এত বছর পর এসব নিয়ে টানাটানি কেন?
এ ধরনের সমবেদনামূলক উক্তি, মনত্মব্য অপরাধের শামিল। ১৯৭১ সালে আবদুল আলীম বাঘের খাঁচায় মুক্তিযোদ্ধাদের ঢুকিয়ে দিত। কত অত্যাচার, কত হত্যার জন্য সে দায়ী। এ কথাটা কেন মনে হবে না তাকে দেখলে? নিজামী ডেথস্কোয়াড বা হত্যাবাহিনী আলবদরের প্রধান ছিলেন। আমার শিৰকসহ প্রচুর মানুষকে হত্যার জন্য প্রত্যৰ এবং পরোৰভাবে দায়ী। সাকাচৌ, মুজাহিদও। তাদের দেখে সে কথাটা মনে হবে না কেন? যদি না হয় তাহলে ধরে নিতে হবে ঐ খুনখারাবি, লুট-ধর্ষণেরও সমর্থক মনত্মব্যকারী।
প্রশ্ন উঠতে পারে, উপরের বক্তব্যের সঙ্গে হরতালের সম্পর্ক কি? আছে, গত এক সপ্তাহের হরতাল সম্পর্কিত ঘটনাবলী পর্যালোচনা করলেই তা বোঝা যাবে। গত কয়েকদিন ফারম্নকের ওপর পুলিশী নির্যাতনে সবাই উদ্বেলিত কিন্তু সবাই ভুলে গেলেন ফারম্নক বা ফারম্নকরা কী করেছিলেন কয়েকদিন আগে! সে প্রসঙ্গে আসছি পরে।
(২)
হরতাল কেন করা হতো? হরতাল কেন করেছি স্বতঃস্ফূর্তভাবে? কারণ, হরতাল ছিল শাসকের বিরম্নদ্ধে অনাস্থা জ্ঞাপন। এটি ছিল সরকারবিরোধীদের অনত্মিম অস্ত্র। অনশনও। আগে হরতাল ঘোষিত হতো, মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতালে যোগ দিত। হঁ্যা, পিকেটিং হতো, পুলিশের লাঠিবাজিও চলত। রাসত্মাঘাট একদম খালি। একটি রিঙ্াও নামত না। হরতাল সফল হলে বিরাট ব্যাপার মনে করা হতো।
আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। মাসুদ আহমেদ মাসুদ ছিল তখন উদীয়মান কবি। লম্বা-চওড়া, হাসিমুখের এই তরম্নণ এসেছিল বরিশাল থেকে। ছাত্র ইউনিয়নের নিবেদিতপ্রাণ কমর্ী। আমার দু'এক ক্লাস নিচে পড়ত। পরে অপ্রকৃতিস্থ হয়ে বরিশালে মারা যায়।
সময়টা খুব সম্ভব ১৯৬৯-এর শেষ কিংবা ১৯৭০-এর শুরম্ন। মাসুদের একটি কবিতা বেরিয়েছে দৈনিক সংবাদে। কবিতাটির একটি লাইন এখনও মনে আছে আমার এবং আমার অনেক সতীর্থের_ 'আজ বরিশালে হরতাল হয়েছিল।'
হরতাল হয়েছিল বরিশাল কিংবা ঢাকায় কিংবা চাটগাঁয়_ এটি ছিল একটি সংবাদ। শহরগুলো ছিল তখন ছোট, মানুষজনেরও এত আধিক্য ছিল না। অস্ত্রশস্ত্রের প্রকোপ ছিল না। পুলিশের প্রতি প্রধান গালি ছিল 'ঠোলা।' তাতেই তারা ৰিপ্ত হয়ে যেত। হরতাল সফল হওয়া মানে ছিল একেবারে সব সত্মব্ধ, যেন মৃতু্যপুরী, কোন শাসক তো আর মৃতু্যপুরীর রৰক হতে চায় না। সুতরাং তাকে মৃতু্যপুরীর রৰক বানানো ছিল চরম অপমান। অন্যদিকে শাসকদের প্রতি বিরোধীদের অনাস্থা প্রকাশের সর্বশেষ কৌশল ছিল হরতাল। যদ্দুর মনে পড়ে, ১৯৬৯ সালে সরকার পতনের জন্য কয়েকটি হরতালই ছিল যথেষ্ট।
আজ চলিস্নশ বছর পর সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে বদলেছে। রাজনীতিবিদ, সাধারণ মানুষও। বিশেষ করে এখন রাজনীতিবিদদের মান-অপমান জ্ঞানটা অনেক কম। বরং, ব্যাপারটা দাঁড়িয়েছে লাজলজ্জা বেশি থাকলে রাজনীতিবিদ হওয়াই দুরূহ। যে হরতাল ছিল প্রতিবাদের এক অমোঘ অস্ত্র, সে হরতাল এখন বিবিধ প্রশ্নের সম্মুখীন। বিষয়টা আরও অবাসত্মব হয়ে উঠেছে এ কারণে যে, যিনি ৰমতায় থাকলে হরতালের বিরোধিতা করেন, ৰমতায় না থাকলে তিনিই আবার হরতালের পৰে সাফাই গান।
হরতাল, না-হরতাল। হরতাল ছাড়া বিকল্প নেই। হরতাল খুবই খারাপ। আসলে সম্পূর্ণ বিষয়টি নির্ভর করে কোন পৰ কখন তা বিচার করছে তার ওপর। শুরম্নতে হরতালের যে আন্দোলনের কথা উলেস্নখ করেছিলাম এখন যে তা প্রায় নেই, বলাই বাহুল্য। হরতাল সম্পর্কিত পুরনো ধারণা নষ্ট হওয়া শুরম্ন হয়েছে জেনারেল এরশাদের আমলে।
সে সময় প্রায় সবাই আগ্রহভরে হরতাল ডেকেছে, প্রতিটি হরতালের সময় এরশাদ ও তাঁর মন্ত্রীরা বলতেন_ হরতাল দেশে অরাজক অবস্থা ও সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, বিনিয়োগ পরিবেশ নষ্ট করছে। তখন আওয়ামী লীগ-বিএনপি বলেছে, রাজনৈতিক প্রতিবাদ হিসাবে হরতালের বিকল্প আর কি হতে পারে? আর হরতালে যদি কখনও শানত্মি বিঘি্নত হয়ে থাকে তবে তা করে সরকার। ঐ সময় আমরাও হরতাল পালন করেছি। কারণ, হরতালকে আমরা বিবেচনা করেছি স্বৈরাচার পতনের হাতিয়ার হিসাবে। কিন্তু অতি ব্যবহারে এর ধারও নষ্ট হতে লাগল। হরতাল ডাকা হলে দেখা যেত বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া, সব এলাকায় রিঙ্া চলছে, ছোটখাটো দোকানপাট, ব্যাংক, বেসরকারী-সরকারী অফিস খোলা, গাড়িঅলারা শুধু বাসায় গাড়ি রেখে বের হতো।
গত তিন দশকের হরতাল পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, প্যাটার্নটি এক। অর্থাৎ এ সম্পর্কিত সব রাজনীতিবিদ দু'রকমের কথা বলছেন এবং প্রতিটি হরতাল-চিত্র প্রায় একই রকম।
হরতালকে কি এখন শাসকের কার্যকলাপের অনাস্থা জ্ঞাপনের হাতিয়ার হিসাবে দেখব, নাকি শাসকদের ব্যতিব্যসত্ম করার মাধ্যম হিসাবে বিবেচনা করব? তাহলে এ হিসাবটি পর্যালোচনা করম্নন।
১৯৪৭ থেকে ২০০০ সাল পর্যনত্ম বাংলাদেশে পূর্ণ দিবস হরতাল ডাকা হয়েছে ৪৯৮ দিন। ১৮৩৪৪ দিনে ৪৯৮ দিন কি খুব বেশি! যেখানে প্রায় সব মানুষ নিষ্পেষিত হয়েছে ঔপনিবেশিক এবং সামরিক শাসক দ্বারা? ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১-এ সময়ে তুলনামূলক হিসাবে সবচেয়ে কম হরতাল হয়েছে ৬৫ দিন। এ কারণে হরতালের ধার বেশি ছিল সে আমলে। এ পর্যনত্ম বাংলাদেশ আমলে সবচেয়ে কম হরতাল হয়েছে বঙ্গবন্ধুর আমলে, মাত্র ৫ দিন। সবচেয়ে বেশি? অনেকের মনে হতে পারে এরশাদ আমলে, না তা নয়। শেখ হাসিনার আমলে। হিসাবটা দেয়া যাক। এরশাদ আমলে ৮ বছরে বা ২৯২০ দিনে হরতাল হয়েছে ১০৪ দিন। এতে সরকারবিরোধী সবাই কমবেশি অংশ নিয়েছিল। বেগম জিয়ার আমলে ১৫৫ দিন। অবশ্যই তা করেছে আওয়ামী লীগ ও বিরোধীরা। আর ১৯৯৬ থেকে ২০০১ বা শেখ হাসিনার আমলে পূর্ণদিবস ১৯৩ দিন, অর্ধদিবস ৯৫ দিন। মোট ২৮৮ দিন। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন এলাকায় ২৩৩ দিন। শেখ হাসিনার প্রতি বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত আক্রোশটা বোঝা যায় এ পরিসংখ্যানে। হরতাল চলাকালীন আহতদের পরিসংখ্যান বুঝতে সাহায্য করবে কোন্ আমলে নিষ্পেষণ বেশি ছিল বা মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বেশি_ ১৯৪৭-৭১ সাল পর্যনত্ম আহত হয়েছে ৩৬ জন, ১৯৭২-৭৫ ২ জন। ১৯৭৫-৮২ ৬ জন, ১৯৮২-৯০ ১০৯ জন, ১৯৯১-৯৬ ৬৮ জন, ১৯৯৬-২০০০ ৩৭ জন। এবার হরতাল বিষয়ে বেগম জিয়ার কিছু মতামত দেখা যাক_ ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যনত্ম তিনি সত্তরটিরও বেশি মনত্মব্য করেছেন হরতালের বিরম্নদ্ধে। তাঁর থেকে উদ্ধৃত করছি_ ১. যারা ঘন ঘন হরতাল ডাকে তারা জনগণের বন্ধু নয়। সংগ্রাম, ১১.৩.৯৩ ২. বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের ভাষা জানে না। ভোরের কাগজ, ৩০.৪.৯৩ ৩. দেশপ্রেমিকরা হরতালের রাজনীতি করে না। ইত্তেফাক, ১০.১০.৯৩ ৪. সংসদই গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু। ইত্তেফাক, ২১.১১.৯৩ ৫. আন্দোলনের বন্ধুরা আসুন, সংসদেই সব সমস্যা নিয়ে আলোচনা করি। আজকের কাগজ, ৫.৫.৯৪ ৬. হরতালের প্রতিবাদ করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। ইত্তেফাক, ৩০.৯.৯৫ ৭. হরতাল ও ধর্মঘট কোন রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচী নয়। বাংলাবাজার পত্রিকা, ৭.৩.৯৬। মনত্মব্য নিষ্প্রয়োজন।
হরতালের বিরম্নদ্ধে আইন করার কথা বলছেন অনেকে, এটি অবাসত্মব কথা, পৃথিবীর কোথাও এ ধরনের আইন নেই। বিএনপি প্রায়ই বলে শেখ হাসিনা হরতাল করবেন না বলেছিলেন। হঁ্যা, বলেছিলেন, ১৫ নবেম্বর ১৯৯৮ সালে। তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী তখন ঘোষণা করেছিলেন 'বিরোধী দলে গেলেও আমরা আর কখনও হরতাল করব না।' সঙ্গে সঙ্গে তিনি বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য বিরোধীদলীয় নেতাদেরও একই ধরনের অঙ্গীকারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। বেগম জিয়া পরদিন ঘোষণা করেছিলেন, 'হরতাল হবে, প্রয়োজনে লাগাতার হরতাল দেয়া হবে।' ফলে পরবতর্ীকালে শেখ হাসিনার হরতাল না ডাকার কোন বাধ্যবাধকতা ছিল না।
উপরের সংখ্যাতত্ত্ব ও তথ্য প্রমাণ করে_
১. বেগম জিয়া হরতালবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন বেশি।
২. বেগম জিয়া হরতাল ডেকেছেন বেশি।
৩. বেগম জিয়ার আমলে তুলনামূলকভাবে হরতালে দলীয় ও পুলিশ ক্যাডার দ্বারা মানুষ বেশি লাঞ্ছিত হয়েছে।
৪. ঐ সময় জামায়াতে ইসলামীর কার্যকলাপের বিরম্নদ্ধেই হরতাল ডাকা হয়েছে বেশি।
৫. সুতরাং এ পরিপ্রেৰিতে বলতে হয়, বেগম জিয়া মাত্র হরতাল ডাকা শুরম্ন করেছেন। আগামী আড়াই বছর হরতালের মাত্রা বাড়বে। এতে অনেকে বিরক্ত হতে পারেন, বিচলিত হওয়ার কারণ নেই।
বেগম জিয়ার হরতাল ডাকার পর পুলিশ যা করে তাতে হরতাল অনেকাংশে সফল হয়ে পড়ে। অর্থাৎ গাড়ি চলাচল করে না, প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর ছেড়ে বেরোয় না, রাসত্মা থাকে তুলনামূলকভাবে ফাঁকা। শুধু তাই নয়, নিরস্ত্র জনতার ওপরে পুলিশের ডান্ডাবাজি কেউই পছন্দ করে না। বিএনপি যখন ৰমতায় ছিল ঠিক একই কাজ করা হয়েছে। বিএনপির কোহিনূর তখন ঢাকা শহর দাপিয়ে বেড়িয়েছে। আর আওয়ামী লীগ নেতারা সমবেদনা কুড়িয়েছেন। [সেই কোহিনূর এখন বোধহয় সরকারী প্রটেকশনে। তার বিরম্নদ্ধে খুনের মামলা থাকলেও তাকে পুলিশ খুঁজে পায় না। কিন্তু জঙ্গীদের ঠিকই খুঁজে পাচ্ছে।] পুলিশের কিন্তু কিছুই হবে না। হরতাল এখন অনাস্থার কোন প্রতীক নয়। হরতালে রিঙ্া, মানুষ চলাচল করে, অফিস আদালতে কাজ চলে, রাসত্মার পাশে শপিংমল বন্ধ থাকে, প্রাইভেট গাড়ি চলে না। শহরের সীমানার বাইরে সব স্বাভাবিক। যদি বিএনপি বলত, হরতাল ডাকা হয়েছে, বিএনপিকে সমর্থন করলে বাসায় থাকুন, গাড়ি-বাস না পোড়ান। তা হলে দেখা যেত হরতাল সফল হয়েছে কিনা। কিন্তু বিএনপি অতীতে যা করেছে তাই করবে, গাড়ি-বাস পোড়াবে, সন্ত্রাস চালাবে, হয়ত দু'একটি লাশও পড়বে। ফলে অনেকে ভয়ে গাড়ি বের করবেন না বা বেরম্নবে না, এতে জনমতের প্রতিফলন ঘটে না। সরকারকে অনুরোধ জানাব, হরতাল ডাকলে মাত্রাতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া না দেখাতে। হরতালের আগে মিছিল করতে চাইলে করম্নক না, তাকে পেটাতে হবে কেন? তাহলে অন্যান্য সরকারের সঙ্গে পার্থক্য থাকে কোথায়? যারা গাড়ি পোড়াচ্ছে তাদের পেটাক, ধরম্নক, কেউ কিছু বলতে আসবে না। কিন্তু পুলিশ যা করে তাতে সাধারণ মানুষ বিগড়ে যায়, বিএনপি আমলে হরতালের সময় পুলিশ একই রকম আচরণ করেছে, কোন কোন ৰেত্রে বেশি করেছে, তাতে আওয়ামী লীগই লাভবান হয়েছে। সরকারের বরং ভেবে দেখা উচিত জনমত কিভাবে নিজ পৰে রাখা যায় তা দেখা। এ হরতালে সরকারের পতন হবে না। আগেও কোন সরকারের পতন হয়নি।
(চলবে)
লেখক : অধ্যাপক, ইতিহাসবিদ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29412005 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29412005 2011-07-13 02:01:03
বাংলাদেশের পতাকা দিয়ে চেয়ার টেবিল মুছা হত আর পাকস্তানী পতাকা সযত্নে রাখা হয়- এই না হলে জামাত শিবিরের স্কুল পুরান ঢাকা থেকে জামায়াত নেতাসহ ৭ শিক্ষক গ্রেফতার

সমকাল(রোববার | ১০ জুলাই ২০১১ )



সমকাল প্রতিবেদক

পুরান ঢাকার জিন্দাবাহার লেনের ২৭/১ সৈয়দ আওলাদ হোসেন লেনে অবস্থিত ঢাকা মডেল প্রিক্যাডেট অ্যান্ড হাইস্কুল। স্কুলের আড়ালে এখানে চলত শিবিরের কর্মী সংগ্রহ ও জিহাদি প্রশিক্ষণ। স্কুলটিতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিয়ে পরিষ্কার করা হতো চেয়ার-টেবিল। সেখানে রয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা। গতকাল শনিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পুলিশ ওই স্কুলটিতে অভিযান চালিয়ে এমনসব দৃশ্যই দেখেছে। জিহাদি প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে স্কুলটি সিলগালা করে দেওয়ার পর সেখানকার অধ্যক্ষসহ সাত শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন স্কুলটির অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, উপাধ্যক্ষ নূরে আলম সিদ্দিকী, শিক্ষক ইসমাইল খান, সিরাজুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, ওবায়দুল্লাহ ও মোঃ রোস্তম আলী। গ্রেফতার হওয়া সবাই জামায়াত
নেতা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কোতোয়ালি থানার ওসি সালাউদ্দিন খান জানান, গোপন খবরের ভিত্তিতে গতকাল দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ওই স্কুলটিতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে কারাবন্দি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে বিভিন্ন পোস্টার, এ সংক্রান্ত নানা ধরনের বই, নারীনীতিসহ সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তবিরোধী বিপুল পরিমাণ উস্কানিমূলক লিফলেট, চাঁদা আদায়ের রসিদ ও দাতা সদস্যদের রসিদ এবং পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতরা জামায়াত ও শিবিরের স্থানীয় নেতা। অধ্যক্ষ আলমগীর কোতোয়ালি থানা জামায়াতের বাইতুল মাল সম্পাদক এবং ৭২ নং ওয়ার্ড জামায়াত সভাপতি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার রাজীব আল মাসুদ সমকালকে জানান, তাদের কাছে তথ্য ছিল ওই স্কুলে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। এছাড়াও সেখানে বসে হরতালে নাশকতার প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন নাশকতার পরিকল্পনা করা হতো। গ্রেফতার হওয়াদের এসব ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
তবে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন কোতোয়ালি থানায় সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, জামায়াত করেন বলেই তাদের আটক করা হয়েছে। জাতীয় পতাকা দিয়ে চেয়ার-টেবিল পরিষ্কারের ব্যাপারে তিনি বলেন, পতাকাটি পুরনো অবস্থায় ছিল। উদ্ধার করা পাকিস্তানের পতাকার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। স্কুলে জঙ্গি প্রশিক্ষণ ও তারা কোনো নাশকতার সঙ্গে জড়িত নন বলেও দাবি করেন অধ্যক্ষ। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29410637 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29410637 2011-07-10 19:58:43
জয়নাল সাহেব যেভাবে পুলিশকে প্রথম থেকেই ধাক্কা দিচ্ছিলেন


এই ঘটনার ভিডিও -



http://www.youtube.com/watch?v=jWwZVQmsbrU

পুলিশ প্রথমে ভালভাবেই বলেছিল। জয়নাল আবেদিন ই অসভ্য ভাষা প্রথম ব্যাবহার করে। এছাড়া জয়নাল সাহেব যেভাবে পুলিশকে প্রথম থেকেই ধাক্কা দিচ্ছিলেন সেটা দৃষ্টিকটু। তবে পুলিশকে একটু সভ্যতা ভব্যতা শিক্ষা দেয়া উচিত। এরা সব আমলেই বিরোধী দলীয় রাজনীতিবিদদের উপর খড়গহস্ত থাকে।





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29408571 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29408571 2011-07-07 01:22:08
এক নজরে সংবিধানের প্রথম থেকে পঞ্চদশ সংশোধনী সাজিদুল হক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০১১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের সংবিধানে ১৫টি সংশোধনী আনা হয়েছে। এক নজরে এসব সংশোধনী বাংলানিউজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

প্রথম সংশোধনী
সংবিধানের প্রথম সংশোধনী আনা হয় ১৯৭৩ সালের জুলাই মাসে। এ সংশোধনীর মাধ্যমে ৪৭ অনুচ্ছেদে দুটি নতুন উপধারা সংযোজন করা হয়। এ সংশোধনীর মূল কারণ ছিল গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য আইন তৈরি করা ও তা কার্যকর করা।

দ্বিতীয় সংশোধনী
১৯৭৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর আনা হয় দ্বিতীয় সংশোধনী। যার মাধ্যমে সংবিধানের কয়েকটি অনুচ্ছেদে (২৬, ৬৩, ৭২ ও ১৪২) সংশোধন আনা হয়। নিবর্তনমূলক আটক, জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং এ সময় মৌলিক অধিকারগুলো স্থগিতকরণ সম্পর্কে প্রথমদিকে সংবিধানে কোনো বিধান ছিল না। এ সংশোধনীর মাধ্যমে এ বিধানগুলো সংযোজন করা হয়।

তৃতীয় সংশোধনী
১৯৭৪ সালের ২৮ নভেম্বর তৃতীয় সংশোধনী আনা হয়। মূলত ভারত ও বাংলাদেশের সীমানা নির্ধারণী একটি চুক্তি বাস্তবায়ন করার জন্য এই সংশোধনী আনা হয়।

ভারতের কিছু অংশ বাংলাদেশে আসবে এবং বাংলাদেশের কিছু অংশ ভারতে যাবে- এ চুক্তি বাস্তবায়নের জন্যই তৃতীয় সংশোধনী আনা হয়।

চতুর্থ সংশোধনী
এই সংশোধনী একটি মৌলিক সংশোধনী। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি এ সংশোধনীর মাধ্যমেই দেশের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো হয়। চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমেই সংসদীয় পদ্ধতি পরিবর্তন করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু; এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা ‘বাকশাল’ প্রবর্তন; রাষ্ট্রপতি ও সংসদের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রপতির অপসারণ পদ্ধতি জটিল করা; সংসদকে একটি ক্ষমতাহীন বিভাগে পরিণত করা; মৌলিক অধিকার বলবৎ করার অধিকার বাতিল করা; বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করা ও উপ-রাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি করা হয়।

পঞ্চম সংশোধনী
জাতীয় সংসদে এ সংশোধনী আনা হয় ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের কোনো বিধান সংশোধন করা হয়নি। এ সংশোধনী ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টে সামরিক শাসন জারির পর থেকে ৬ এপ্রিল ১৯৭৯ পর্যন্ত সামরিক শাসনামলের সব আদেশ, ঘোষণা ও দ-াদেশ বৈধ বলে অনুমোদন করে।

ষষ্ঠ সংশোধনী
১৯৮১ সালের ১০ জুলাই এ সংশোধনী আনা হয়। এতে উপ-রাষ্ট্রপতির পদ না থাকা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিধান যুক্ত করা হয়।

সপ্তম সংশোধনী
১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর জাতীয় সংসদে সপ্তম সংশোধনী আনা হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে সামরিক শাসনামলে জারি করা সব আদেশ, আইন ও নির্দেশকে বৈধতা দেওয়া হয় এবং আদালতে এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন না করার বিধান করা হয়। এ সংশোধনীতে বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা ৬২ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ২৬ আগস্ট এ সংশোধনী আদালতে কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত হয়।

অষ্টম সংশোধনী
১৯৮৮ সালের ৯ জুন সংবিধানে অষ্টম সংশোধনী আনা হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ২, ৩০, ৬৮ ও ১০০ অনুচ্ছেদের পরিবর্তন আনা হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বলে ঘোষণা করা হয়। হাইকোর্টবিভাগের ৬টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন করা হয়,

নবম সংশোধনী
নবম সংশোধনী আনা হয় ১৯৮৯ সালের ১১ জুলাই। এ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও উপ-রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে কিছু বিধান সংযোজন করা হয়।

দশম সংশোধনী
১৯৯০ সালের ১২ জুন দশম সংশোধনী পাস করা হয়। মহিলাদের জন্য আসন ১৫ থেকে ৩০ বাড়ানো হয়।

একাদশ সংশোধনী
১৯৯১ সালে এ সংশোধনী পাস হয়। এর মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদের উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগদান বৈধ ঘোষণা করা হয়। এতে আরো বলা হয়, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এ উপ-রাষ্ট্রপতি দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করতে পারবেন এবং উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার কর্মকাল বিচারপতি হিসেবে বলে গণ্য হবে।

দ্বাদশ সংশোধনী
এটি মৌলিক সংশোধনী। ১৯৯১ সালের এ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৭ বছর পর দেশে পুনরায় সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

ত্রয়োদশ সংশোধনী
১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ এ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়।

চতুর্দশ সংশোধনী
২০০৪ সালের ১৬ মে এ সংশোধনী আনা হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে সংরক্ষিত মহিলা আসন ৩০ থেকে ৪৫ করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়সীমা ৬৫ থেকে ৬৭ করা হয়।

পঞ্চদশ সংশোধনী
২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিল সংসদে গৃহীত হয়। এর মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপ করা হয়।

বাংলাদেশ সময়: ২০৪৮ ঘণ্টা, জুন ৩০, ২০১১]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29405137 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29405137 2011-06-30 21:30:03
জোট সরকারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেনকে ঘুষ দেওয়ায় কানাডা'য় নাইকো কোম্পানির জরিমানা






------------------

নাইকোকে সহযোগিতার দায় অস্বীকার করেছে কানাডার সিনেটর ম্যাক হার্ব
জুন ২৭, ২০১১, সোমবার : আষাঢ় ১২, ১৪১৮ । আপডেট বাংলাদেশ সময় রাত ১২:০০
আমাদের সময়

সঞ্চিতা সীতু: জোট সরকারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেনকে ঘুষ দেওয়ার কাজে নাইকোকে সহযোগিতার সব দায় অস্বীকার করেছেন কানাডার সিনেটর ম্যাক হার্ব । তিনি তদন্ত সংস্থা আরসিএমপি (রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ) ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য নাইকোর পক্ষে কোনও অবৈধ কাজ করিনি।

গত শনিবার সিনেটর ম্যাক হার্ব আরো বলেন, ওই সফরে আমি কানাডা সরকারের প্রতিনিধিত্ব করিনি। একই সঙ্গে আমার সরকারি পদমর্যাদা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা নাইকোর পক্ষে কোনও ফায়দা নিতে চেষ্টা করিনি। তিনি বলেন, নাইকোর সঙ্গে আমার যাবতীয় কর্মকাণ্ডের বিষয়াদি সিনেটের নৈতিকতা বিষয়ক কর্মকর্তাদের কাছে প্রকাশ করেছি। বিষয়টি আমার জন্য বিরাট উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে পূর্ণ সহযোগিতা করেছি আমি। আমি পুরোপুরি নিশ্চিত যে আমার বিরুদ্ধে অন্যায় কাজের কোনো প্রমাণ নেই।

তবে কানাডা পুলিশ সিনেটর হার্বের ওই সময়ে বাংলাদেশ সফরকে ‘জনস্বার্থের বাইরে অন্য উদ্দেশ্যে’ বলে চিহ্নিত করেছে।

গত শুক্রবার কানাডার আলাবামার একটি আদালত বাংলাদেশের সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেনকে ঘুষ দেয়ার অপরাধে নাইকোকে ৯৫ লাখ কানাডিয় ডলার জরিমানা করে। আদালতে নাইকো জানায়, ওই সময়ে মোশাররফকে ঘুষ দিতে গিয়ে তাদের কাজ হাসিল করাতে সিনেটর হার্বকে ৬৫ হাজার ডলার দেয়া হয়েছিল। তিনি তার সিনেটর পাসপোর্ট ব্যবহার করে ২০০৫ এর সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৬ এর জুলাই পর্যন্ত একাধিকবার বাংলাদেশ সফর করেছেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29403062 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29403062 2011-06-27 00:38:11
মহাজোট আমলে রপ্তানি ৪১ শতাংশ বেড়েছে: প্রধানমন্ত্রী মহাজোট আমলে রপ্তানি ৪১ শতাংশ বেড়েছে: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, জুন ০১,২০১১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর রপ্তানি শতকরা ৪১ ভাগ বেড়েছে বলে জাতীয় সংসদে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় সংসদের বুধবারের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বলেন, "ক্ষমতায় আসলেই রপ্তানি যেন বৃদ্ধি পায় আমরা সে ব্যবস্থা করি। আমরা ক্ষমতায় আসার পর রপ্তানি ৪১ ভাগ বেড়েছে। আমরা অস্ত্র ছাড়া ইউরোপে সব কিছুই রপ্তানি করতে পারবো।"

এই সম্পূরক প্রশ্নটি করেছিলেন সরকার দলীয় সাংসদ নুরুল মজিদ হুমায়ুন মাহমুদ।

সামশুল হক চৌধুরীর আরেক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, গভীর সমুদ্র বন্দরের কাজ দ্রুত শুরু হবে।

তবে, কবে নাগাদ এই কাজ শুরু হবে তার দিন-তারিখ প্রধানমন্ত্রী জানাননি।

তানভীর শাকিল জয়ের আরেক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্যের আদান-প্রদানের জন্য শিগগির থ্রি-জি প্রযুক্তি চালু হবে। এজন্য সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে।

কামাল আহমেদ মজুমদারের আরেক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, এই সরকারের মেয়াদকালে দেশের প্রতিটি স্কুলে কম্পিউটার শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে তৈরি ল্যাপটপ ১১ থেকে ২০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। এই ল্যাপটপগুলো ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেখিয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসইউএম/পিডি/১৮৫৫ ঘ. ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29390247 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29390247 2011-06-02 15:48:04
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অভিন্ন রূপরেখা ঘোষণা আ’লীগ জাপা জামায়াতের আমার দেশ ( মঙ্গলবার ১৭ মে ২০১১, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮)

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি প্রথবারের মতো সামনে নিয়ে আসেন ১৯৯৩ সালের শেষ দিকে। ’৯০-এর গণআন্দোলনে সামরিক স্বৈরাচারী এরশাদের পতন এবং পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের পটভূমিতে এ পরাজয়ের গ্লানি এবং ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যাওয়ার বাসনাকে ধারণ করে তিনি এ দাবি উত্থাপন করেন। পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াত এ দাবিতে আন্দোলন শুরু করে এবং তত্কালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অভিন্ন রূপরেখা ঘোষণা করে। বিএনপি চেয়ারপার্সন এবং তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিরোধী দলগুলোর এ দাবিকে নানাভাবে সমালোচনা করলেও তিনি বরাবরই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলগুলোকে সংসদে এসে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান। অন্যদিকে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট নেতা ও ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান মেনন এমপি জামায়াত, জাপা ও আওয়ামী লীগের দেয়া তত্ত্বাবধায়ক ফর্মুলা মেনে নেয়ার চেয়ে আত্মহত্যাই শ্রেয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ’৯০-এর গণআন্দোলনে এরশাদের পতনের পর তার দল উত্থাপিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে আওয়ামী লীগ একটি অসভ্য প্রস্তাব হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। এরশাদের পতনের ৬ ঘণ্টা আগে মওদুদ আহমদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অসংবিধানিক আখ্যা দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, জামায়াত চায় মধ্যযুগীয় ব্লাসফেমি আইন। জাতীয় পার্টি চায় এরশাদের মুক্তি। আর আওয়ামী লীগ চায় যে কোনোভাবে ক্ষমতায় যেতে।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য জনসভায় উত্থাপন করেন
১৯৯৩ সালের ৬ ডিসেম্বর ‘স্বৈরাচারের পতন ও গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায়। এদিন তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধীন বিল আনবে। বিএনপি যাতে এই বিল পাস করতে বাধ্য হয় এজন্য তিনি আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এরপর আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরাকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে অভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণে সংসদের সব বিরোধী দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করে। ১৯৯৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনার আহ্বানে সংসদের সব বিরোধী দল ও গ্রুপের নেতাদের এক যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ওই বছর ২৬ এপ্রিল থেকে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী যৌথভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে হরতাল, অবরোধ, মশাল মিছিল, পদযাত্রাসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। ’৯৪ সালের ২৭ জুন আওয়ামী লীগ, জাপা এবং জামায়াতে ইসলামী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অভিন্ন রূপরেখা ঘোষণা করে এবং সংসদ ভেঙে দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ১৯৯৪ সালে ২৮ ডিসেম্বর পঞ্চম জাতীয় সংসদের ১৪৭ জন বিরোধী দলীয় সদস্য একযোগে পদত্যাগ করেন। এদিন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী ও এনডিপি’র সদস্যরা স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
এসব ঘটনা ওই সময়ের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে। ওই সময় দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো :
আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েও ফল
ভোগ করতে পারিনি : হাসিনা
স্টাফ রিপোর্টার
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সব আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েও ষড়যন্ত্রের কারণে তার দল ফল ভোগ করতে পারেনি। তিনি দাবি করেন, তার আন্দোলনের ফলেই এরশাদের পতন ঘটেছে। কিন্তু ক্ষমতায় গেছে বিএনপি। তারপরও আমরা বিএনপিকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠার আশা নিয়ে। কিন্তু বিএনপি তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী রোববার দলীয় কার্যালয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তৃতা করছিলেন। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ সাজেদা চৌধুরী, জিলুর রহমান, আমির হোসেন আমু, ব্যারিস্টার কে এস নবী, ওবায়দুল কাদের, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, আইভি রহমান, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ হানিফ এবং মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া আলোচনায় অংশ নেন। (দৈনিক বাংলা : ৬ ডিসেম্বর ১৯৯৩)
আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই : শেখ হাসিনা
স্টাফ রিপোর্টার
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল আনবে। বিএনপি যাতে এই বিল পাস করতে বাধ্য হয় এজন্য তিনি আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। স্বৈরাচারের পতন ও গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে সোমবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় তিনি বক্তৃতা করছিলেন। (দৈনিক বাংলা : ৭ ডিসেম্বর ১৯৯৩)
আওয়ামী লীগ জাপা জামায়াতের প্রেস ব্রিফিং
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা
স্টাফ রিপোর্টার
আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীসহ সংসদের পাঁচটি বিরোধী দল সোমবার সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেত্রীর সম্মেলনকক্ষে রাত পৌনে দশটায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই রূপ রেখায় বলা হয়েছে যে, সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন। রাষ্ট্রপতি এই অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরিচালনার জন্য জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী আন্দোলনরত রাজনৈতিক দলসমূহের পরামর্শক্রমে একজন নির্দলীয় গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিজে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবে না এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নন এবং নির্বাচনের প্রার্থী হবে না এমন ব্যক্তিদের নিয়ে একটি মন্ত্রিসভা গঠন করবেন। নির্বাচনের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের সঙ্গে সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অবলুপ্ত হবে। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার জন্য নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করার কথা রূপরেখায় বলা হয়।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এবং সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই রূপরেখা ঘোষণা করেন। এ সময় সংসদে তিনটি বিরোধী দলের সঙ্গে গণতন্ত্রী পার্টি এবং এনডিপি উপস্থিত ছিল। গণফোরাম, ওয়ার্কার্স পার্টি ও ইসলামী ঐক্যজোটের কোনো প্রতিনিধি এতে উপস্থিত ছিলেন না। এই রূপরেখা ঘোষণার সময় দাবি করা হয়েছে, রূপরেখা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সব বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। এই রূপরেখা বাস্তবায়নের জন্য বৃহত্তর আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গতকালের প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদীয় দলের নেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে এই প্রথম উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণাকালে শেখ হাসিনা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম লক্ষ্য ছিল একটি অবাধ, সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করা। এ লক্ষ্য অর্জন করার জন্য দেশের আপামর জনসাধারণ বারবার বিভিন্ন পর্যায়ে আন্দোলন করে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার একটি অন্যতম পূর্বশর্ত হলো অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা এবং প্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক একটি সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু আমাদের দেশে গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক চর্চা যেহেতু এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে সেহেতু গণতন্ত্রকে সুসংহত এবং সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য একটি সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রণয়ন করার তাগিদ এখন একটি জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে।
এই লক্ষ্য অর্জনে বিরোধী দলসমূহ সংসদে তিনটি বিলও পেশ করে এবং ওই বিলসমূহ আলোচনার জন্য দাবি জানান। কিন্তু সরকার তাতে কোনো সাড়া দেননি। এরপর বিরোধী দলসমূহ ২৬ জুনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনকল্পে সংবিধান সংশোধনীর একটি বিল আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দেন। কিন্তু সরকার সেই বিল না এনে সংসদকে আরও অকার্যকর করে দেন এবং অগণতান্ত্রিক ও একগুঁয়েমি মনোভাব নিয়ে আজ জাতিকে গভীর সঙ্কটে নিমজ্জিত করেছেন। উপরোক্ত প্রেক্ষাপটে জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে গণতন্ত্রকে সুসংহত এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার স্বার্থে আমাদের বাস্তবিক রূপরেখা নিম্নরূপ :
একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেয়ার সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন।
রাষ্ট্রপতি এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালনা করার জন্য জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী আন্দোলনরত রাজনৈতিক রাজনৈতিক দলসমূহের পরামর্শক্রমে একজন নির্দলীয়, গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন এবং সেই প্রধানমন্ত্রী সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তার কার্য পরিচালনা করবেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিজে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবে না এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নন এবং নির্বাচনে প্রার্থী হবে না এমন ব্যক্তিদের নিয়ে একটি মন্ত্রিসভা গঠন করবেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল দায়িত্ব হবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং সংবিধানে প্রদত্ত সাধারণ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন ছাড়া শুধুমাত্র জরুরি রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সংসদ ভেঙে দেয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ নির্বাচনের পর সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের ৩ দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করার সাথে সাথে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অবলুপ্ত হবে।
এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করার জন্য নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠিত করতে হবে এবং নির্বাচন কমিশন যাতে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আচরণবিধি প্রণয়নও নিশ্চিত করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, এই রূপরেখা বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় সংসদের সব বিরোধী দল আজ ঐক্যবদ্ধ। সরকার যেহেতু সংবিধান সংশোধনী বিল আনতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং সব বিরোধী দলকেও সংসদের বাইরে আসতে বাধ্য করেছেন সেহেতু আজকে এই রূপরেখা বাস্তবায়ন করার জন্য একটি বৃহত্তর গণআন্দোলন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে আমাদের অংশগ্রহণ করা সম্ভব হবে না এবং এই রূপরেখা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত জনগণের এ আন্দোলন চলবে। আজ আমরা সব রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন, শ্রমিক, ছাত্র এবং সব শ্রেণীর জনগণকে এ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে শরিক হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এই প্রেস ব্রিফিংয়ে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বেগম সাজেদা চৌধুরী। রূপরেখা ঘোষণার পূর্বে বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচনকে সন্ত্রাস, কালো টাকা ও প্রশাসনকে প্রভাবমুক্ত করার লক্ষ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখার ব্যাপারে সব বিরোধী দল একমত হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচনী প্রক্রিয়া উপহার দেয়ার জন্য তারা সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস করার দাবি জানিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, সরকার বিরোধী দলের দেয়া সময়সীমার মধ্যে সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল না আনায় বিরোধী দল এই রূপরেখার ঘোষণা দিচ্ছে।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ইতিহাসে এই প্রথম সব বিরোধী দল এক হয়েছে। তিনি বলেন, বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়েছে।
মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী বলেন, রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছুই নেই। তিনি বলেন, কেয়ারটেকার বিল পাসের ব্যাপারে সরকার এখনও উদ্যোগ নিলে এতে জাতির উপকার হবে।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেছেন, সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারকে যেভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে অনুরূপভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকরের বিল পাসের জন্য এবারের আন্দোলন শুরু হয়েছে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এই রূপরেখাকে ‘দুর্লভ ও অনন্য অবিহিত করে বলেন, এই রূপরেখার জন্য জাতি অপেক্ষা করছিল। প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কোনোরকম প্রশ্ন করার সুযোগ দেয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ‘জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানের মাধ্যমে ব্রিফিংয়ের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। ( দৈনিক বাংলা : ২৮ জুন, ১৯৯৪)
সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে সমস্যার
সমাধান চাই : খালেদা জিয়া
শামসুর রহমান : হাট গোপালপুর ঝিনাইদহ ২৫ অক্টোবর। —প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ধ্বংসাত্মক ধারার রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে উন্নয়নের ধারার রাজনীতি গ্রহণের জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার বিকালে ঝিনাইদহের হাট গোপালপুর মাঠে এক বিশাল জনসভায় বক্তৃতা করছিলেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সমস্ত সমস্যার সমাধান চাই। (দৈনিক বাংলা : ২৬ অক্টোবর ১৯৯৪)
সংসদেই সব ইস্যুর নিষ্পত্তি
সম্ভব : খালেদা জিয়া
প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, জনগণের বহু ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং সেই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সকলেরই দায়িত্ব। খবর বাসস’র।
সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর ৩০নং হেয়ার রোডস্থ দফতরে এক সমাবেশে তিনি ভাষণ দিচ্ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের সরকার পরিচালিত আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করা কারও জন্যই শোভন নয়। জাতীয় সংসদকে সব রাজনৈতিক কর্মতত্পরতার কেন্দ্রবিন্দু অবিহিত করে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেন, সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের দায়িত্ব জনগণের সমস্যা উত্থাপন এবং তার সমাধানের পথ বের করার জন্য আলোচনা করা। তিনি বলেন, সংসদের সব ইস্যুর নিষ্পত্তি সম্ভব। (দৈনিক বাংলা : ৪ অক্টোবর ১৯৯৪)
ত্রিদলীয় তত্ত্বাবধায়ক ফর্মুলা
আত্মহত্যার শামিল : মেনন
নিজস্ব সংবাদতাতা : সাতক্ষীরা, ১৯ সেপ্টেম্বর— ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট নেতা রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, আওয়ামী লীগ সংসদে জামায়াত শিবির নিষিদ্ধকরণ বিল উত্থাপন না করে তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের জনসভায় এরশাদ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় বেঈমান আখ্যায়িত করার পরও শেখ হাসিনা ও তার দল ’৮৬-এর ভাগাভাগির নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাতির সঙ্গে বেঈমানী করেছেন। আজ সেই আওয়ামী লীগ জামায়াত ও জাপার সাথে আঁতাত করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করছে। তিনি আরও বলেন, শেখ মুজিব ঘৃণায় যাদের নাম উচ্চারণ করতেন না, তার কন্যা শেখ হাসিনা তাদের সঙ্গে এক হয়ে রাজনীতি করছেন। তিনি প্রশ্ন করেন, গোলাম আজম আর এরশাদকে নিয়ে শেখ হাসিনার এ কেমন তত্ত্বাবধায়ক আন্দোলন।
জনাব মেনন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির কর্মীদের হাতে নিহত সাতক্ষীরার সন্তান শহীদ জুবায়ের চৌধুরী রিমুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। সাতক্ষীরা পৌর মিলনায়তনে রিমু ফাউন্ডেশন ও ছাত্র মৈত্রী যৌথ উদ্যোগে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ অসিত কুমার মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তৃতা করেন ছাত্রনেতা আবুল কালাম আজাদ, ফোরার ’৮৭ নেতা কাজী আবদুল মতিন, অ্যাডভোকেট শাহ আলম, জাসদ (ইনু) সভাপতি গোলাম রসুল, অ্যাডভোকেট মোস্তফা লুত্ফুল্লাহ ও রিমুর মাতা জেলা জাতীয়তাবাদী দলের সভাপতি মিসেস জেলেনা চৌধুরী।
মেনন বলেন, ’৯০-এর গণআন্দোলনে এরশাদের পতনের পর তার দল উত্থাপিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে আওয়ামী লীগ একটি অসভ্য প্রস্তাব হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। এরশাদের পতনের ৬ ঘণ্টা আগে মওদুদ আহমদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অসংবিধানিক আখ্যা দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, জামায়াত চায় মধ্যযুগীয় ব্লাসফেমি আইন। জাতীয় পার্টি চায় এরশাদের মুক্তি। আর আওয়ামী লীগ চায় যে কোনোভাবে ক্ষমতায় যেতে। এই ত্রিমুখী শক্তির কাছে গণতন্ত্র নিরাপদ নয় মন্তব্য করে তিনি ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের ভোট ডাকাতির কথা উল্লেখ করেন।
জামায়াত শিবিরের হাতে নিহত হওয়ার পরও তাদের বিরুদ্ধে মামলা না করে প্রতিরোধকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াত সংঘটিত কোনো হত্যা মামলার বিচার হয়নি। জামায়াত, জাপা ও আওয়ামী লীগের দেয়া তত্ত্বাবধায়ক ফর্মুলা মেনে নেয়ার চেয়ে আত্মহত্যাই শ্রেয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সংবিধান ধ্বংস করে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করে ক্ষমতা দখলের পরও বিএনপি সরকার এরশাদের বিচার করছে না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29383000 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29383000 2011-05-18 00:15:59
২০০১ সালের নির্যাতন গণধর্ষণের মামলায় ১১ জনের যাবজ্জীবন সিরাজগঞ্জে পূর্ণিমা ধর্ষণ মামলার রায়ে ১১ জনের যাবজ্জীবন-জরিমানা
জেলা প্রতিনিধি বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম




সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার চাঞ্চল্যকর পূর্ণিমা ধর্ষণ মামলার রায়ে ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

এছাড়া প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। এ টাকা বাদী পূর্ণিমা পাবেন।

সিরাজগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিষয়ক আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ ওসমান হায়দার বুধবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে এ রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন আব্দুল জলিল (৪০), আলতাফ হোসেন (৩৫), আব্দুল মমিন (২৮), আলতাফ (২৮), জহুরুল ইসলাম (২৮), হোসেন আলী (২৮), লিটন মিয়া (২৮), ইয়াসিন আলী (৩৭), আব্দুর রউফ (৩০), আব্দুল মিয়া (২৮), বাবলু মিয়া (২৮)।

১১ জনের মধ্যে ৫ জন পলাতক এবং বাকিরা জেল-হাজতে রয়েছেন।

পলাতকরা হলেন আব্দুল মমিন, আলতাফ, জহুরুল, আব্দুল মিয়া ও বাবলু মিয়া।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার জের ধরে ২০০১ সালের ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় উল্লিখিত আসামিরা সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ব দেলুয়া গ্রামের পূর্ণিমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার বাবা-মা-ভাইকে বেধড়ক মারপিট করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

পরে পূর্ণিমাকে জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে হাটখোলার পাশে একটি কচুক্ষেতে ফেলে দিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়।

এ ঘটনায় পূর্ণিমার বাবা অনীল চন্দ্র শীল বাদী হয়ে ১৬ জনের বিরুদ্ধে উল্লাপাড়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ তদন্ত শেষে ১৭ জনের নামে অভিযোগ পত্র দাখিল করে।

দীর্ঘ দিনের বিচার কাজ শেষে বুধবার আদালত ১১ জনকে যাবজ্জীবন এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৬ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

পূর্ণিমার বাবা মামলার বাদী হলেও তার মৃত্যুর পর পূর্ণিমা নিজেই মামলাটির বাদী হন।

বাংলাদেশ সময়: ১৩৪৮ ঘণ্টা, মে ০৪, ২০১১

======================================

পূর্ণিমা গণধর্ষণ মামলায় ১১ জনের যাবজ্জীবন

সিরাজগঞ্জ, ৪ মে (শীর্ষ নিউজ ডটকম): দেশব্যাপী আলোচিত সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার পূর্ণিমা রাণী শীল ধর্ষণ ও নির্যাতন মামলার রায় দেয়া হয়েছে। রায়ে ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদ- দেয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ পূর্ণিমাকে দেবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ওসমান হায়দার আজ বুধবার দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

দ-প্রাপ্তরা হলেন- আব্দুল জলিল, আলতাব, আব্দুর রউফ, হোসেন আলী, লিটন, ইয়াসিন আলী, মোমিম, আব্দুল মিঞা, আলতাব (২), জহুরুল ইসলাম ও বাবলু। এর মধ্যে প্রথম ৬ জন জেলহাজতে রয়েছে। বাকিরা পলাতক।

এর আগে মামলার ৩ জন তদন্ত কর্মকর্তা ও ১ জন চিকিৎসকসহ ১২ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। আসামি পক্ষে সাবেক পিপি এডভোকেট শামসুল হক এবং বাদিপক্ষে সিনিয়র এডভোকেট জাহিদ হোসেন, নারী ও শিশু আদালতের বিশেষ পিপি শেখ আবদুল হামিদ লাভলু, এপিপি কায়সার আহমেদ লিটন, আনোয়ার পারভেজ লিমন মামলাটি পরিচালনা করেন।

২০০১ সালের অক্টোবরে নির্বাচনের পর পাশবিক নির্যাতের শিকার হয়েছিলো পূর্ণিমা। এ ঘটনায় ওই সময় দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সে সময় এ নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে গোটা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পূর্ণিমার বাবা অনীল চন্দ্র শীল ২০০১ সালের ৯ অক্টোবর উল্লাপাড়া থানায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। কিন্তু সে সময় স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রভাবে মামলাটি ভিন্নখাতে চলে যায়। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এটি আবার গতি ফিরে পায়। উল্লাপাড়া থানা পুলিশ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান করে।

(শীর্ষ নিউজ ডটকম/ প্রতিনিধি/ এআই/সস/ ১৩.০০ঘ)

======================================
২০০১ সালের নির্যাতন: গণধর্ষণের মামলায় ১১ জনের যাবজ্জীবন

সিরাজগঞ্জ, মে ০৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ২০০১ সালের নির্বাচনের পর সিরাজগঞ্জের এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের দায়ে ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক ওসমান হায়দার বুধবার এ দণ্ডাদেশ দেন।

আসামিদের মধ্যে পাঁচ জন পলাতক। অন্য ছয় জনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

২০০১ সালে নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘু ও ভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়, তারই অংশ হিসেবে নির্যাতনের শিকার হয় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী পূর্ণিমা।

ওই ঘটনায় গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন কয়েকদিন আগেই তাদের প্রতিবেদন দিয়েছে। নির্যাতনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতার মদদ ছিলো বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

==========================

2001 violence on Hindus: 11 get life for raping schoolgirl

Sirajganj, May 4 (bdnews24.com)—A Sirajganj court has handed down life term to 11 people for gang-raping a female school student during the post-elections violence in 2001.

Judge Osman Haider of Sirajganj Woman and Child Repression (Prevention) Tribunal delivered the verdict.

Five of the convicts are on the run while six were present in the dock when the judgment was announced.

Grade-8 student 'Purnima' was one of the Hindus who had been victim of the violent repression the BNP and its allies reportedly unleashed on the minorities and political rivals immediately on winning the Oct 1 national elections.

A judicial inquiry into the attacks said several top BNP and Jamaat-e-Islami leaders had directly incited the grisly attacks.

The report was submitted to the government last month.

bdnews24.com/corr/bd/1319h
=================================

পূর্ণিমা ধর্ষণ মামলায় ১১ জনের যাবজ্জীবন


সিরাজগঞ্জ, ০৪ মে (আরটিএনএন ডটনেট)-- ২০০১ সালে নির্বাচন পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় নির্যাতনের শিকার বহুল আলোচিত উল্লাপাড়ার পূর্ণিমা রানী ধর্ষণ মামলার রায়ে অভিযুক্ত ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা বাদীকে দেয়া হবে।

বুধবার দুপুরে ৬ জন আসামির উপস্থিতিতে সিরাজগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ওসমান হায়দার এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- তছির আলীর ছেলে আব্দুল জলিল (৪০), ফজল আলীর ছেলে আলতাফ হোসেন (৩৫), সেতল আলীর ছেলে আব্দুল মোমিন (২৮), লালচানের ছেলে আলতাফ হোসেন (২) (২৮), জিল্লার আলীর ছেলে জহুরুল ইসলাম (২৮), রহমত আলীর ছেলে হোসেন আলী (২৮), তছির উদ্দিনের ছেলে লিটন সেখ (২৮), দিদার আলীর ছেলে ইয়াছিন আলী (৩৭), নেজাবত আলীর আব্দুর রউফ (৪০), আজগর আলীর ছেলে আব্দুল মিয়া (২৮), নেজাবত উদ্দিনের ছেলে বাবলু মিয়া (২৮)।

এদের মধ্যে আব্দুল মোমিন, আলতাফ (২), জহুরুল ইসলাম, আব্দুল মিয়া ও বাবলু মিয়া পলাতক রয়েছেন। ভিকটিম ও দণ্ডপ্রাপ্তরা সকলেই উল্লাপাড়া উপজেলা বড়হর ইউপির পুর্বদেলুয়া গ্রামের বাসিন্দা।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জয়লাভের পর ৮ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী পূর্ণিমা রানীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে। এ ঘটনায় পূর্ণিমার বাবা অনিল শীল ১০ অক্টোবর প্রথমে উল্লাপাড়া থানায় ১৭ জনের নামে মামলা করেন।

কিন্তু সকল আসামি তৎকালীন সরকারদলীয় নেতা-কর্মী হওয়ায় পুলিশ মামলা নিয়ে নানা টাল-বাহানা করে। পরে ২৪ অক্টোবর পুর্ণিমা রানী শীল নিজে বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জের আমলি আদালতে ১৬ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। এরপর আদালতের আদেশে পুলিশ পূর্ণিমাকে নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষা করায়।

এরপর উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেখ আতাউর রহমান, ইসরার শামীম দেওয়ান ও উপ-পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম মামলার তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ৯ মে আদালতে ১৭ জনকে আসামি করে চার্জশিট দেন।

পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মামলার বর্ধিত তদন্তের আদেশ দেয়া হয়। এ আদেশ পেয়ে সিআইডির তৎকালীন ইন্সপেক্টর শেখ শহীদুল্লাহ সম্পূরক চার্জশিট প্রদান করে। এতে মূল আসামিদের রেখে পূর্ণিমাকে সহায়তাকারী আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি (বর্তমান প্রয়াত) আব্দুল লতিফ মির্জা, আব্দুর রহমান, পৌর মেয়র মারুফ বিন হাবীবসহ ৬ জনকে আসামির তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তবে মামলার বাদী পূর্ণিমার বাবা অনিল শীল এ সম্পূরক চার্জশিটের বিষয়ে আদালতে নারাজি পিটিশন দাখিল করেন।

এমনই অনেক আইনি লড়াই শেষে ২০০৭ সালের নভেম্বরে মামলা মূল ধারায় ফিরে আসে। বাতিল হয়ে যায় সম্পূরক চার্জশিট। এর মধ্যে মূল আসামিরা জামিন নিয়ে পালিয়ে যায়।

বিচারিক আদালত থেকে ৬ এজাহারভুক্ত আসামির অব্যাহতি দেয়া হয়। মামলা চলাকালে ৩ তদন্ত কর্মকর্তা, একজন চিকিৎসকসহ মোট ১২জন আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।

রায় ঘোষণার পর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান রানা, স্পেশাল ট্র্যাইব্যুনালের পিপি আব্দুল হামিদ লাভলু জানান, ঘোষিত রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত জোট বিশেষ ধর্মের অনুসারীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েছিল এ রায়ে তা প্রমাণ হলো।

এ বিষয়ে বিবাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেটড শামসুল আলম জানান, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29375009 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29375009 2011-05-04 14:54:55
২০০১ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ২৬ এপ্রিলের মধ্যে, অভিযুক্ত ২০ হাজারের বেশি আমাদের সময়

এপ্রিল ১০, ২০১১, রবিবার : চৈত্র ২৭, ১৪১৭ । আপডেট বাংলাদেশ সময় রাত ১২:০০

সাইফুল ইসলাম তালুকদার: হাইকোর্ট বিভাগের দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারের গঠিত তদন্ত কমিশনের সদস্য মনোয়ার হোসেন আকন্দ গতকাল বাসসকে একথা জানিয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি)’র দায়ের করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে ৬ মে হাইকোর্ট ২০০১ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা তদন্তের জন্য এ ‘তদন্ত কমিশন’ গঠনের জন্য সরকারকে নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টের নির্দেশে ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর সরকার ৩ সদস্যের এ তদন্ত কমিশন গঠন করে। কমিশন সদস্য আকন্দ বলেন, অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও জামায়াত জোট সরকারের সময় সংঘটিত সুনির্দিষ্ট ৪ হাজারের মতো অভিযোগ পেয়েছে তদন্ত কমিশন। এসবের সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ২০ হাজারেরও বেশি। অভিযোগসমূহের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তদন্ত প্রতিবেদনটি বই আকারে প্রস্তুতের কার্যক্রম চলছে। ২৬ এপ্রিলের মধ্যে সরকারের কাছে প্রতিবেদন পেশ করা হবে।

মনোয়ার হোসেন আকন্দ বলেন, কমিশন বিভিন্ন জেলায় সরেজমিনে তদন্ত করে মারাত্মক আহত ও নিহতদের স্বজনসহ নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার অনেক ব্যক্তির সাক্ষ্য নিয়েছে। কমিশন প্রধান সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ শাহবুদ্দিনের নেতৃত্বে প্রায় একবছরের অধিক সময়ে সরেজমিন তদন্তে এবং কমিশন কার্যালয়ে সরাসরি প্রাপ্ত অভিযোগ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছে কমিশন। তিনি বলেন, এ ছাড়াও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট, প্রতিবেদন ও প্রকাশিত গ্রন্থ, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটির দাখিল করা সংখ্যালঘু নির্যাতন শীর্ষক প্রতিবেদন, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের ‘নির্যাতনের দলিল-২০০১’ এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা সম্পাদিত গ্রন্থ ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ড, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিবেদন কমিশনের একটি সম্পূর্ণ তদন্ত রিপোর্ট প্রণয়নে সহায়ক হয়েছে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29360095 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29360095 2011-04-10 01:10:55
এসপি কোহিনূর মিয়া অবশেষে চাকরিচ্যুত

সমকাল প্রতিবেদক

হাওয়া ভবনের লাঠিয়াল হিসেবে আলোচিত পুলিশ সুপার কোহিনূর মিয়াকে অবশেষে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, ওয়ান-ইলেভেনের পর ২০০৭ সালের ৫ মার্চ পুলিশ সুপার কোহিনূর মিয়াকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। সে সময় তার চাকরি পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত ছিল। পরে তাকে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত করা হয়। তিনি রাজশাহীতে যোগ দিলেও নিয়মিত অফিসে যেতেন না।

অপরদিকে ঢাকার গৃহবধূ শাহিদা সুলতানা শান্তার মামলায় অন্যতম আসামি কোহিনূর মিয়া। আদালতের নির্দেশে এ মামলার তদন্ত শুরু হওয়ার পরই কোহিনূর মিয়া আত্মগোপনে যান।

পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিয়েই একের পর এক অঘটনের জন্ম দেন কোহিনূর। বিএনপি সরকারের ঊর্ধ্বতনদের সরাসরি তল্পিবাহক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এক সময় তার ক্ষমতার দাপটে কাঁপত পুলিশ বাহিনী। তার কথাই ছিল পুলিশে আইন। ক্ষমতাসীনদের পক্ষ নিয়ে রাস্তায় বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নির্দয়ভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত করায় তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ থেকে সুবিধা নিতে নিতে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন তিনি।


গৃহবধূ শান্তার মামলা : ২০০৬ সালের ১২ মার্চ বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে গৃহবধূ শান্তা ধানমণ্ডির রাপা প্লাজার সামনে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন। কোহিনূর মিয়ার (ডিএমপির তৎকালীন ডিসি-পশ্চিম) নির্দেশে কনস্টেবল রুহুল আমিন শান্তাকে পিটিয়ে আহত করেন। পুলিশের নির্মম নির্যাতনে শান্তার গর্ভের সন্তানও মারা যায়। এ ঘটনায় কোহিনূর মিয়াসহ তিন পুলিশের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেন শান্তা।


এদিকে ২০০৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মামলার বিবরণ সত্য নয় বলে পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে কোহিনূর মিয়ার পক্ষ নেয়। শান্তা আদালতে নারাজি দরখাস্ত দিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের আবেদন করেন। আদালত তার আবেদনও নাকচ করে দেন। নিম্ন আদালতের এ আদেশ বাতিলে একই বছর ৩০ অক্টোবর শান্তা ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করেন। দীর্ঘ তিন বছর পর ২০০৯ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে আদালত শান্তার আবেদন মঞ্জুর করেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ময়মনসিংহে গুলিবর্ষণ : ময়মনসিংহে কর্মরত অবস্থায় ২০০৪ সালের ৯ মে নান্দাইল পৌরসভা নির্বাচন চলাকালে নান্দাইল ৭ নম্বর ওয়ার্ড আচারগাঁও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসপি কোহিনূর মিয়ার নির্দেশে পুলিশ অসহায় মানুষের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এতে সুজন ও তাহের নামে দুই ব্যক্তি নিহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। সে সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, পুলিশ যে পরিস্থিতিতে গুলি চালিয়েছে প্রকৃতপক্ষে পরিস্থিতি তত উতপ্ত ছিল না। তিনি গুলি করার নির্দেশও দেননি বলে দাবি করেন। এ ঘটনার পর কোহিনূর মিয়ার বিচারের দাবি উঠলেও তৎকালীন সরকার তাকে ময়মনসিংহ থেকে প্রত্যাহার করে। এর কিছুদিন পরই কোহিনূর মিয়াকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (পশ্চিম) হিসেবে পোস্টিং দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।

আওয়ামী লীগ নেতাদের পেটাতে সিদ্ধহস্ত কোহিনূর : ১৯৯৪ সালের ৩১ জানুয়ারি তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাত্রদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে প্রথম আলোচনায় আসেন কোহিনূর। এর পরদিন ১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাংলা একাডেমীতে একুশে বইমেলার উদ্বোধনের প্রতিবাদে ছাত্ররা বিক্ষোভ করলে কোহিনূর সেখানেও তাণ্ডব চালিয়েছিলেন। ২০০১ সালের অক্টোবরে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবারও অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। ২০০২ সালের ডিসেম্বরে ময়মনসিংহের ৪টি সিনেমা হলে একযোগে বোমা হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা, বুদ্ধিজীবীসহ অন্যদের গ্রেফতারের দায়িত্ব পান কোহিনূর মিয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথিতযশা শিক্ষক, লেখক, ইতিহাসবিদ ও কলামিস্ট মুনতাসীর মামুনকে ময়মনসিংহের ৪টি সিনেমা হলে বোমা হামলার কথিত আসামি হিসেবে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে তাকে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। শুধু মুনতাসীর মামুনই নন, ময়মনসিংহ ট্র্যাজেডিতে গ্রেফতার করা হয়েছিল লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতার রাজনৈতিক সচিব সাবের হোসেন চৌধুরীকে। তারা কোহিনূরের নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। ২০০৩ সালের ২৩ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে ঢুকে পুলিশের নির্লজ্জ আচরণের পরদিন কোহিনূর মিয়া আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর নৃশংস হামলার নির্দেশ এবং নেতৃত্ব দিয়ে নতুন করে আলোচনায় আসেন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29357803 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29357803 2011-04-06 00:56:57
গোলাম আযম-ফ কা চৌধুরীরা মুক্তি বাহিনী আ’লীগ ও হিন্দুদের হত্যার তাগিদ দিত : ‘৭১ সালে পাকিস্তানি কমান্ডো কর্নেল নাদির আলীর... সমকাল

20 March 2011 Author: সুভাষ সাহা ও বিভূতিভূষণ মিত্র

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : সুভাষ সাহা ও বিভূতিভূষণ মিত্র

‘গোলাম আযম, ফজলুল কাদের চৌধুরী, মাওলানা ফরিদ আহমেদসহ শীর্ষস্থানীয় জামায়াত ও মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ মাঝে মধ্যেই আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিবাহিনী, আওয়ামী লীগার ও হিন্দুদের ওপর অপারেশন চালানোর পরিকল্পনা হাজির করতেন এবং তারা এসব অপারেশন জরুরি ভিত্তিতে সম্পন্ন করার তাগিদ দিতেন। এভাবে বেসামরিক ব্যক্তিদের পরামর্শে কাজ করতে হচ্ছে বলে একজন সেনা কমান্ডো হিসেবে নিজেকে খুব ছোট মনে হতো। কিন্তু এটাই ছিল তখন ওপরের নির্দেশ। সিলেটে এদের পরামর্শে পরিচালিত একটা অপারেশনের কথা মনে আছে। ওই অপারেশনে অনেক সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছিলেন।’ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের কমান্ডো বাহিনীর কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) নাদির আলী গত শনিবার ঢাকার ব্র্যাক ইনে সমকালের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে উলি্লখিত মন্তব্য করেন। ঢাকায় তিনি এক অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে শনিবার সস্ত্রীক ঢাকা ত্যাগ করেন।

বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তান কমান্ডো বাহিনীর যে ইউনিটটি পঁচিশে মার্চ কালরাতে বন্দি করে পরে সেটি তার অধীনে ছিল। কমান্ডো বাহিনী সরাসরি পূর্ব পাকিস্তান কমান্ডের অধীন ছিল। সে কারণে অনেক ঘটনার প্রত্যক্ষ-অপ্রত্যক্ষ সাক্ষী এই সাবেক কমান্ডো কর্নেল। তবে তিনি কখনোই সরাসরি বাঙালি নিধনযজ্ঞে অংশ নেননি। বরং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, সঙ্গী সামরিক কর্মকর্তারা এবং জামায়াতে ইসলামী ও মুসলিম লীগ নেতারা হত্যা, লুটপাট, বাড়িঘর জ্বালানো ও ধর্ষণসহ যেসব বিধ্বংসী এবং মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ বা ইন্ধন জোগাতেন, তার বিরুদ্ধে ছিলেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ড তার পক্ষে সহ্যের অতীত ছিল। সে কারণেই তিনি শেষ পর্যন্ত স্মৃতিভ্রংশের শিকার হন। যুদ্ধের একেবারে শেষ দিক থেকে পরের কয়েক বছর এ জন্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয় তাকে। হাসপাতালে তার অবস্থা স্বচক্ষে দেখে তার বৃদ্ধ পিতা সেখাইে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। পরে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলে তিনি কবিতা ও গল্প লেখায় আত্মনিয়োগ করেন। ২০০৭ সালে বিবিসি উর্দু সার্ভিসে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা ও সাধারণ মানুষের দুর্দশার বিবরণ তুলে ধরেন।
তখন পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন সহযোগী বাহিনীগুলোর কাছে নির্দেশ আসত : হিন্দুদের কতল কর ও নিশ্চিহ্ন করে দাও। এ ধরনের নির্দেশ তার কাছেও বিভিন্ন সময়ে এসেছে। তবে লোক দেখানো ছাড়া তিনি তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে থাকা ইউনিটকে জনস্বার্থবিরোধী কাজে ব্যবহার করতেন না।

তরুণ ক্যাপ্টেন থেকে মেজর পদে উন্নীত হওয়া নাদির আলীর নেতৃত্বাধীন কমান্ডো ফোর্সকে ১৯৭১ সালের মধ্য এপ্রিলে গোপালগঞ্জ-ফরিদপুরে পাঠানো হয়। তখন তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়, ‘যত পার বাস্টার্ড হিন্দুদের হত্যা করবে, দেখবে একজন হিন্দুও যাতে জীবিত না থাকতে পারে।’ তখন তিনি এর প্রত্যুত্তরে বলেছিলেন, ‘স্যার, নিরস্ত্র কোনো ব্যক্তিকে আমি হত্যা করতে পারব না।’ এ জন্য তাকে অনেক গঞ্জনা সহ্য করতে হয়েছে। তিনি জানতেন এ ধরনের নির্দেশ প্রত্যেক সেনা কর্মকর্তার কাছেই গেছে। মধ্য এপ্রিলে গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর এসে তিনি দেখলেন, এলাকা শান্ত হয়ে এসেছে। গ্রামের লোকজনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছেন। অথচ এই মানুষরাই যখন ফিরছিল তখন অদূরে অন্য বাহিনী সদস্যদের দ্বারা আক্রান্ত হন। সাধারণ মানুষকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা পাখির মতো গুলি করে হত্যা করে বলে জেনেছি।
এরপরের গন্তব্য ছিল বরিশাল।

‘আমি যদিও প্রত্যক্ষভাবে কোনো হত্যাযজ্ঞে অংশ নেইনি। তবে অনেক অপারেশনের কাহিনীই আমার কানে এসেছে বিভিন্ন বৈঠক ও ফেলো কর্মকর্তাদের কাছ থেকে শোনার কারণে।’

৬ জুন তিনি ছিলেন বিলোনিয়া সীমান্তে ফেনীতে। সেখানে কোনো প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়নি তার বাহিনী। বরং সাধারণ মানুষের আতিথেয়তা পেয়েছিলেন তারা।

চট্টগ্রামেও তিনি থেকেছেন। সেখানে তৎকালীন ইপিআর বাহিনীর এক পশ্চিম পাকিস্তানি কর্মকর্তাকে বাঙালিরা হত্যা করে। এ ঘটনার পর বাঙালি কর্মকর্তারা প্রায় সবাই পালিয়ে যান। কিন্তু তাদের অধিকাংশের পরিবার-পরিজনকে তখনও পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারেননি। পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাঙালি কর্মকর্তা ও সৈনিকদের পরিবার-পরিজনকে শিশুসহ লাইনে দাঁড় করিয়ে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে। ‘একটি বাহিনীর কর্মকর্তা ও সিপাহিদের পরিবার-পরিজনকে এভাবে হত্যা করার ঘটনা আমার হৃদয়কে আলোড়িত করে। এ ঘটনা আমার মনে স্থায়ী দাগ ফেলে দেয়।’

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বর্বরতার বিবরণ দিতে গিয়ে সুদীর্ঘকাল পরও তিনি বারবার বিমর্ষ হয়ে পড়ছিলেন। অনেক সতীর্থ সেনা কর্মকর্তা কীভাবে বাঙালিদের হত্যা করতেন, তার বিবরণ দিতেন। তার দম বন্ধ হয়ে আসত এসব বর্বরোচিত ঘটনার বিবরণ শুনে। অনেক সময় সেনা কর্মকর্তা, এমনকি সিপাহিরা পর্যন্ত বাঙালিদের এক সারিতে দাঁড় করিয়ে এক গুলিতে কতজন মারা যায় তার প্র্যাকটিস করতেন। আসলে বাঙালি নিধনটা ছিল পাকিস্তানি অনেক সেনা কর্মকর্তার কাছে খেলার মতো। অনেক সময় সাধারণ মানুষকে দৌড় দিতে বলে লম্বা একটি দলের ওপর নির্বিচার গুলি চালানো হতো। একবার একদল লোককে ধরে এনে সারি করে দাঁড় করিয়ে তাদের ওপর নির্বিচার গুলি চালানো হয়েছিল। সবাই মরে গেছে মনে করে গুলিবর্ষণকারী বাহিনীর সদস্যরা চলে গেলে দেখা যায় এদের মধ্যে ভাগ্যক্রমে দু’জন বেঁচে আছেন। ওই দু’জনকে তিনি মুক্তি দেন বলে উল্লেখ করেন। মাসকারেনহাস তৎকালে বাঙালিদের ওপর গণহত্যা চালানোর যে বিবরণ তুলে ধরেন তা যথার্থ বলে পাকিস্তানি এ কমান্ডো স্বীকার করেন।

যুদ্ধ-পূর্ব পরিস্থিতি সংক্ষেপে তুলে ধরতে গিয়ে তার স্মৃতির মণিকোঠায় ভেসে ওঠে অনেক অশ্রুত ঘটনা। বাঙালিরা এক পর্যায়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চলে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ষাটের দশকের প্রথম দিকে তার সঙ্গী অনেক বাঙালি সামরিক কর্মকর্তার মধ্যেই তিনি পাঞ্জাবি বা পশ্চিম পাকিস্তানিদের দ্বারা অবনমনের জ্বালা দেখেছেন। জিয়া, খালেদ মোশাররফ, তাহের, জিয়া উদ্দিন এক সময় তার সতীর্থ ছিলেন বলে উল্লেখ করেন কর্নেল নাদির আলী। তখন বাঙালি অফিসাররা একজন অন্যজনকে জেনারেল বলত। নাদির আলী এবং তার সহকর্মীরা তখন এটাকে তামাশা বলেই মনে করতেন। আসলে এটা যে তামাশা ছিল না, বাঙালি কর্মকর্তাদের মনের লালিত ক্ষোভের প্রকাশ ছিল, সেটা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে।

সিমলা চুক্তির মধ্য দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের জেলে আটক থাকা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণকারী সদস্যদের পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়ার সময় যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের পাকিস্তান বিচার করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও তাদের বিচার কেন সম্পন্ন করা হলো না সে ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘৭১ সালের পর পাকিস্তানের ক্ষমতায় ভুট্টো এলেও মূলত তখনও প্রকৃত ক্ষমতার মালিক ছিল সেনাবাহিনী। তারা কি তাদের বাহিনীর অপকর্মের বিচার করবে? তদুপরি সাধারণ পাকিস্তানিদের মধ্যে বাংলাদেশে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো বা গণহত্যা চালানোর জন্য সেনাসদস্যদের বিচারের দাবি জোরদার হয়নি কখনও। প্রায় গোটা পাকিস্তানই এ ব্যাপারে নিশ্চুপ ছিল।

পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নত করতে গেলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত সদস্যদের বিচারের বিষয়টি সামনে আসবে উল্লেখ করায় সাবেক কমান্ডো কর্নেল এ ব্যাপারে সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেন, অভিযুক্ত অনেকেই এখন মৃত। এ ব্যাপারে বিস্তারিত তার জানা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে তিনি সে সময়ের ঘটনাবলির জন্য পাকিস্তান সরকারের আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা উচিত বলে মনে করেন।

এ অঞ্চলের শান্তি ও উন্নতির জন্য এক সময় একই রাষ্ট্রের অধীন এবং পরে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতকে একসঙ্গে কাজ করা উচিত বলে বলে মনে করেন তিনি। সবশেষে তিনি বাংলাদেশের শুভ কামনা করে আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29349273 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29349273 2011-03-22 17:47:56
রক্তঝরা মার্চ -তোফায়েল আহমেদ: ১৯৭১ সালের ১২ মার্চ রক্তঝরা মার্চ -তোফায়েল আহমেদ (ইত্তেফাক ১২ মার্চ, ২০১১)

রক্তঝরা উত্তাল অসহযোগ আন্দোলনের আজ ছিল দ্বিতীয় পর্যায়ের পঞ্চম দিবস। ১৯৭১ সালের ১২ মার্চ ছিল শুক্রবার। বস্তুত বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পর থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ- জাতির জনকের নির্দেশে পরিচালিত হতে থাকে। রাষ্ট্রীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে সমাজের সর্বত্র সংগ্রামী জনতা তাঁর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে থাকে। এমন সর্বাত্মক অসহযোগ ইতিহাসে নজিরবিহীন। এমনকি মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগকেও তা ছাপিয়ে যায়। এদিনে আমরা আমাদের যুবসমাজ ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করে সশস্ত্র যুদ্ধের জন্য অস্ত্র প্রশিক্ষণ শুরু করি। প্রতিদিন সকাল বিকাল আমরা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করে আমাদের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে রিপোর্ট করি এবং তাঁর নির্দেশ নিই। বঙ্গবন্ধু আমাদের বলতেন, ওরা কালক্ষেপণ করছে। ওদের সময় দরকার, আমারও সময় প্রয়োজন। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে প্রতিদিন সৈন্য, অস্ত্র আনছে ঢাকায়। তোমরা তোমাদের কাজ চালিয়ে যাও। আমার এখনো মনে পড়ে, ১৯৭১ সালের ১৭ ফেব্রু-য়ারির কথা। বঙ্গবন্ধু আমাদের ডেকেছেন তাঁর বাসভবনে। আমরা চার জন, শেখ ফজলুল হক মণি, সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক এবং আমি। সেখানে আরও ছিলেন জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এইচএম কামারুজ্জামান। আমাদের কাছে বসিয়ে চারজনকে উদ্দেশ করে বললেন, "আমি সব ব্যবস্থা করে রেখেছি। তোমরা কলকাতার এই ঠিকানাটা মুখস্থ করো।" তখন একটি কাগজ-কলম নিয়ে তাতে একটা ঠিকানা লিখে আমাদের বললেন, "এই ঠিকানাটা তোমরা মুখস্থ করো।" আমার এখনো মনে আছে, "২১ নং রাজেন্দ্র রোড, নর্দান পার্ক, ভবানীপুর, কলকাতা।" এবং বললেন, "এইটা হবে তোমাদের ঠিকানা। আমি জানি ওরা ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না। আমাদেরকে সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে।" অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে বঙ্গবন্ধু আমাদের সহকমর্ী জাতীয় পরিষদ সদস্য ডা. আবু হেনাকে কলকাতা পাঠিয়েছিলেন এই ঠিকানায় সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা দেখতে। তিনি যে পথে সে সময় কলকাতাস্থ এ ঠিকানায় গিয়েছিলেন পরবতর্ীতে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ঠিক সে পথেই আবু হেনা সাহেব আমাদের উপরোক্ত ঠিকানায় নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে আমাদের জন্য অপেক্ষারত ছিলেন শ্রী চিত্তরঞ্জন সুতার। তিনি জাতীয় পরিষদ সদস্য ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাঁকে আগেই সেখানে পাঠিয়েছিলেন। অর্থাৎ আগে থেকেই সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের জন্য বঙ্গবন্ধুর সার্বিক প্রস্তুতি ছিল। রক্তাক্ত এদিনেও অসহযোগ পালনের মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ও নির্দেশে বাংলার মানুষ আসন্ন সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সেই যুদ্ধ প্রস্তুতিই নিচ্ছিল। প্রতিটি নিরস্ত্র মানুষ সেদিন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ প্রতিপালনের মধ্যদিয়ে সশস্ত্র হয়ে উঠছিল।

এদিকে পাকিস্তানের উভয়াংশের জাতীয় নেতৃবৃন্দ রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে বঙ্গবন্ধুর শর্তসমূহ মেনে নেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার প্রতি জোর দাবি জানান। ঢাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরে গিয়ে ইশতেকলাল পার্টির প্রধান এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খান টানা তৃতীয় দিনের মতো আজও লাহোরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "পশ্চিমাঞ্চলের কিছু লোক বলছে, পূর্ব পাকিস্তান যখন যাবেই তখন যত দ্রুত যায় ততই মঙ্গল।" তিনি এইসব কায়েমী স্বার্থান্বেষীদের উদ্দেশ করে বলেন, "তারা

ভেবে দেখেছেন কী, এ পন্থায় তারা রোগীর মৃতু্যকাল উপস্থিত ভেবে তাকে গলা টিপে হত্যা করার পরামর্শ দিচ্ছেন। দেশকে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষাকল্পে এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে প্রথম ফ্লাইটেই প্রেসিডেন্টের উচিত ঢাকায় গিয়ে শেখ মুজিবের সাথে সাক্ষাৎ করে মুজিব প্রদত্ত সকল শর্ত মেনে নেয়া। আমি শেখ সাহেবের ঐতিহাসিক বক্তৃতার পর ঢাকা গিয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে ঢাকার পরিস্থিতি দেখে এসেছি।" বিগত ১০ বছরের পাকিস্তানের রাজনীতির বিস্তারিত উলেস্নখ করে তিনি বলেন, "ইতোমধ্যে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া দু'বার নিজেই নিজের বিধান লঙ্ঘন করেছেন। এখন সংকট যেভাবে ঘনীভূত হয়েছে তাতে শেখ মুজিব ব্যতীত অন্য কেউই এ সংকট থেকে জাতিকে উদ্ধার করতে পারবে না।" পরিশেষে তিনি তাঁর বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধুর কথার প্রতিধ্বনি করে বলেন, "দোষ করলো লাহোর আর গুলি চললো ঢাকায়।" অপরদিকে ন্যাপ (পিকিংপন্থী) সেক্রেটারি জেনারেল সি আর আসলাম সংবাদপত্রে প্রেরিত এক বিবৃতিতে বলেন, "কোন দেশপ্রেমিকই শেখ মুজির প্রদত্ত শর্তের বিরোধিতা করতে পারে না।" রাজনৈতিক সংকটের জন্য তিনি জনাব ভুট্টোকে দায়ী করে বলেন, "দেশের সংকটের জন্য একচেটিয়া পুঁজিপতি ও আমরাই দায়ী। জনাব ভুট্টো ৩ মার্চের অধিবেশনে যোগদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করার কারণেই এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।" জাতীয় লীগ সভাপতি আতাউর রহমান খান আজ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক বৈঠকে মিলিত হন। ময়মনসিংহে এক জনসভায় মজলুম নেতা মাওলানা ভাসানী এদিনও বঙ্গবন্ধুর কর্মসূচির প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করে বলেন, "পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীত্বের মুখে লাথি মেরে শেখ মুজিবুর রহমান যদি বাঙালিদের স্বাধিকার আন্দোলনে সঠিক নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হন তবে ইতিহাসে তিনি কালজয়ী বীররূপে, নেতারূপে অমর হয়ে থাকবেন।" এদিন বিবিসির সংবাদে বলা হয় যে, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া আগামী শনিবার রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে আলাপ-আলোচনার জন্য ঢাকা আসছেন।

এদিকে দেশের সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধু ঘোষিত কর্মসূচির সাথে একাত্ততা প্রকাশ করে মিছিল সহকারে ধানমন্ডির বাসভবনে আসতে থাকে। সারাদিন এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত সংগ্রামী জনতা বিভিন্ন শেস্নাগান ধ্বনিতে চারদিক প্রকম্পিত করতে থাকে। এদিন দেড়শতাধিক মিছিল বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে আসে এবং বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করে। নেতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সরকারি আধা-সরকারি কর্মচারী ঐক্যবদ্ধভাবে অফিস-আদালত বর্জন করে। জনসাধারণ খাজনা-ট্যাক্স বন্ধ করে দিয়ে অহিংস-অসহযোগ আন্দোলনের ক্ষেত্রে নবতর অধ্যায়ের সূচনা করে। যথারীতি আজও সারা ঢাকা শহর স্বাধিকার আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে কালো পতাকার শহরে পরিণত ছিল। স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবানে সাড়া দিয়ে অনেকেই সরকার প্রদত্ত খেতাব বর্জন শুরু করেন। জাতীয় পরিষদ সদস্য জনাব জহিরউদ্দীন তাঁর 'তমঘায়ে হেলাল কায়েদে আজম' খেতাব বর্জনের ঘোষণা দেন। বিশিষ্ট সংবাদ পাঠক সরকার কবীরউদ্দীন রেডিও পাকিস্তান বর্জনের ঘোষণা দেন। এককথায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশবাসী যে যার অবস্থানে থেকে তাদের অংশগ্রহণ চালিয়ে যেতে থাকে। এক ঘোষণায় স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ কালোবাজারী, মজুতদারী ইত্যাদি অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "যারা এসব কার্যকলাপ চালাচ্ছে তারা স্বাধীনতা বিরোধী গণশত্রু। ধরা পড়লে এদের বিরুদ্ধে কঠিন এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" এদিন শহীদদের স্মৃতিতে শোকপালনরত দেশবাসীর সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে দেশের ১৯টি প্রেক্ষাগৃহের মালিকরা তাদের সিনেমা হলগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন এবং বঙ্গবন্ধু ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাহায্য তহবিলে ১৩ হাজার ২৫০ টাকা দান করেন। চলচ্চিত্রের সাথে সম্পর্কিত পেশাজীবিগণ, সাংবাদিক সমাজ, চারু ও কারুশিল্পীবৃন্দ সকলেই মিছিল সহকারে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে তাদের সমর্থন ব্যক্ত করে। এদিনে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হচ্ছে, সিএসপি ও ইপিসিএস কর্মকর্তাদের সংগঠন পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম শ্রেণীর প্রশাসকেরা এক সভায় মিলিত হয়ে বলেন, "এখন থেকে আমরা জননেতা শেখ মুজিবের সকল নির্দেশ মেনে চলবো" এবং এ মর্মে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন। গত কয়েক দিনের মতো এদিনও বগুড়ার কারাগার ভেঙে ২৭ জন কয়েদী পালিয়ে যায়। পুলিশের গুলিবর্ষণে এদিনও ১ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়।

অসহযোগের মধ্যে স্বাধীনতা বিরোধীরা যাতে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে না পারে সেজন্য গত রাত থেকে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী যে তৎপরতা শুরু করে তা সর্বমহলের প্রশংসা অর্জন করে। একশ্রেণীর স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন জায়গায় লুটতরাজ শুরু করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। সেজন্য রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পথ-ঘাট ও বিপণীকেন্দ্রগুলোর সামনে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী অবস্থান গ্রহণ করে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে আমাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। কার্যত পুরো দেশে তখন আমাদেরই কর্তৃত্ব বহাল হয়। তখন মানুষ আমাদের প্রতি এতো ভালোবাসা, দরদ আর সহানুভূতিসম্পন্ন মনোভাব প্রকাশ করেছে যা ভাষায় বর্ণনাতীত। আমাদের কর্মসূচি পালনকালে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশানুযায়ী আমরা যেমন নিজদের উজাড় করে দিয়েছি, ঠিক তেমনি সর্বস্তরের সাধারণ মানুষও আমাদের প্রতি সশ্রদ্ধ মনোভাব প্রকাশ করেছে এবং সর্বকাজে আমাদেরকে সাধ্যমত সবের্াচ্চ সাহায্য করেছে। বঙ্গবন্ধু যেমন আমাদের সকলকে আস্থায় নিয়েছিলেন, আমরাও তেমনি সংগ্রামী জনতার সাথে আন্তরিকভাবে মিশে গিয়েছিলাম। জনসাধারণও আমাদেরকে আপন করে নিয়েছিলেন। সেদিনকার প্রতিটি দিনই ছিল বৈপস্নবিক। আর এ বিপস্নবের প্রধান সমন্বয়ক তথা সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অসীম ধৈর্যশক্তি আর সংগ্রাম এগিয়ে নেয়ার অপার দক্ষতা তাঁর কাজে পরিপূর্ণতা এনে দিয়েছিল। এ আন্দোলন সংগঠিত করতে তিনি আশপাশের সকল দক্ষ ব্যক্তিবর্গকেই সবের্াচ্চভাবে কাজে লাগিয়েছেন। প্রত্যেকের পরামর্শকেই গুরুত্ব ও মনোযোগ সহকারে শুনে, এরপর নিজে বুঝে যাচাই করে নিয়ে তবেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। বঙ্গবন্ধুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াটি ছিল যৌথতার ভিত্তিতে নেয়া যৌক্তিক এবং গণতান্ত্রিক। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন পর্যালোচনা করলে আমরা দেখবো তাঁর রাজনৈতিক জীবনে কোন ভুল ছিল না। আর তাইতো তিনি এই অসহযোগ চলাকালেই জনপ্রিয়তার চরম শিখরে উন্নীত হয়েছিলেন; আসীন হয়েছিলেন বাঙালি জাতির হূদয়ের মণিকোঠায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29342812 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29342812 2011-03-12 01:34:23
ওয়ান ইলেভেনের আট ষড়যন্ত্রকারীর বিচার করব আমরা --ব্যারিস্টার মওদুদ ওয়ান ইলেভেনের আট ষড়যন্ত্রকারীর বিচার করব আমরা

-----------ব্যারিস্টার মওদুদ

০০ইত্তেফাক রিপোর্ট

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অবৈধভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ওয়ান ইলেভেনের ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে ৮ জনের বিচার করার ঘোষণা দিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেশে ক্ষমতার পালাবদল হবে। কোন সরকারই শেষ সরকার নয়। সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আগামীতে বিএনপি ব্যাপকভাবে জয়লাভ করবে। বর্তমান অবৈধ সরকার ওদের ক্ষমা করে দিয়েছে। অবৈধভাবে ক্ষমতায় থেকে যারা মানবাধিকার লংঘনসহ অন্যান্য অপরাধ করেছে তাদের বিচার করা হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কারাবন্দী থাকার চতুর্থ বার্ষিকী উপলক্ষে জাসাস ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে ৮ ব্যক্তির অবশ্যই বিচার করা হবে। তারা হলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ফখরুদ্দিন আহমেদ, উপদেষ্টা জেনারেল (অব.) মতিন, তৎকালীন দুনর্ীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান হাসান মসহুদ চৌধুরী, সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বারী ও মেজর জেনারেল আমীন।
মওদুদ আহমেদ বলেন, আমরা মনে করেছিলাম, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফখরুদ্দিন-মইন উদ্দিন সরকারের ওপর শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে। কিন্তু তারা তা করেনি। সরকার আমাদের হতাশ করেছে। তাদের নিজেদের লোকেরা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি করছে। কিন্তু সরকার তাদের ধরবে না, বিচারও করবে না।

জাসাস ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক কাজী মাজহারুল ইসলাম দোলন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক গাজী মাজহারুল আনোয়ার, অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, জাসাস সভাপতি এম এ মালেক, সাধারণ সম্পাদক মনির খান, কবি আবদুল হাই সিকদার, জাসাস সহ-সভাপতি বাবুল আহমেদ প্রমুখ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29342130 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29342130 2011-03-11 02:12:44
জামাতি ছাগুদের স্ট্র্যাটেজী : কারাগার থেকে কামারুজ্জামানের সেই চিঠি http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29340028 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29340028 2011-03-07 19:45:05 Quick power bid clicks Govt's unsolicited rental projects to spell some relief by April; contractors behind schedule by few weeks, some fail



The government's drastic bid to meet power demands during the upcoming irrigation season thorough unsolicited "quick" rental power plants appears successful to a great extent, although some of these deals have flopped.

The Power Development Board (PDB) forecasts a dozen power plants with 1,100 megawatt power generation capacity would come into operation between March and April when the power demand for irrigation surge to an unmanageable height.

Despite these new additions, there still will be around 1,000 MW of load-shedding during March-April. Another 300 MW power would be added to the national grid by July.

Already four such plants started operation and are supplying 350 MW of power to the national grid. Another 70 MW gas-fired unit set up by British company Aggreko started test run from February 21 in Brahmanbaria and is currently running the full capacity test. The plant is likely to go commercial within a couple of days.

Sources in PDB say out of 18 unsolicited rental power deals signed last year to add nearly 1,500 MW power by April, at least 16 would be successful. But most of them would miss their original deadlines. Some deadlines will be missed due to contractors' inefficiency, while some will be missed because of PDB's delay in handover of land or necessary infrastructure to the contractors.

The sources add if the government could award all of these unsolicited contracts to genuine entrepreneurs, the nation could have expected an early relief from load-shedding. Earlier in November, the cabinet purchase committee approved five other power contracts totalling another 487 MW capacity. But none of these unknown local contractors later appeared to sign the contracts.

These defaulting companies are GG Waver (200 MW), Cambridge (90 MW), APR Energy (50 MW), EQ Capital (48 MW) and Wintara (99 MW).

Industry insiders say all of these five deals were pushed by some ruling party parliamentarians. Soon after the purchase committee approved their contracts, these companies went to various business groups to sell out their projects and make easy money, they add.

These flops aside, PDB has been positive about some contractors which have been trying hard to live up to their promises. British company Aggreko, which is the only real "rental" power company among all involved in the business in the country, has so far closely lived up to its promises. It has, however, fallen behind schedule with two gas-based projects in Brahmanbaria and Ashuganj mainly because PDB had some difficulties in handing over land to the company in time.

Summit and its sister concern KPCL have also made significant progress with their projects in Madanganj and Khulna but would still fall behind the schedule by two to five weeks.

The IEL Consortium Associates that is setting up a plant in Meghnaghat and also helping Dutch Bangla Power to build another one in Siddhirganj is also expected to launch their plants close to its deadlines. The IEL made expected progress in its Meghnaghat project. But PDB, which was supposed to avail the power evacuation system for this project on February 20, could not do so till now. The PDB expects to avail this system in mid-March. This delay would affect the IEL launching schedule.

Powerpac Mutiara, Acorn Infrastructure, Northern Power Solution, Sinha Power have made good progress with their projects in Keraniganj, Julda, Katakhali and Amanura, but all of them have fallen two to four weeks behind the schedule.

Two power companies Hyperion and Max Power have not made distinctive progress and it is likely that these companies might end up paying huge penalties to PDB. All the contracts outline a penalty clause under which the defaulter company would pay PDB $500 per megawatt per day for failure to launch on time.

The majority of these power projects will run on furnace oil and some on diesel as the country is facing serious gas supply crisis. Gas-fired power costs half of that produced by furnace oil-fired power. Furnace oil-based power generation is environmentally hazardous, but it costs half of that produced by diesel.

Four of them will operate on natural gas which is now available with PDB as some large power plants have gone under long-term repair work.

"We are now working on the oil supply system to ensure uninterrupted oil supply and storage," said PDB Chairman Alamgir Kabir. He added even if some power contractors fail, the quick rental power schemes would bring a major relief to the country by June this year.

Later this year, some public sector peaking power projects would commence operation. By the end of this year, PDB expects to put almost an end to the long-standing regime of load-shedding.]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29339026 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29339026 2011-03-06 02:56:44
বিবিধ খবর উত্তরাঞ্চলে দুই লাখ টন চালের অবৈধ মজুদ
সমকাল
রোববার | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১১ | ১৫ ফাল্গুন ১৪১৭ | ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩২
আলতাব হোসেন

উত্তরাঞ্চলে ২ লাখ টন চালের অবৈধ মজুদের সন্ধান পেয়েছেন গোয়েন্দারা। চলতি সপ্তাহেই এসব গুদামে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। তবে মজুদবিরোধী অভিযান শুরুর আগেই চাল ছেড়ে দিচ্ছেন মিলাররা। গত তিনদিনে পাইকারি মোকামে কেজিতে চালের দাম তিন এবং মণপ্রতি ১২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। পাইকারি বাজারে এখন মোটা চালের ক্রেতাই পাওয়া যাচ্ছে না। তবে পাইকারি বাজারের সুফল খুচরা বাজারে পড়েনি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চালের দাম কেজিতে আরও তিন থেকে চার টাকা কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
দেশের উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ ব্যবসায়ী ও চাতাল মিল মালিক ব্যাংক থেকে সিসি ঋণ নিয়ে চাল মজুদ করেছেন। সবচেয়ে ক্ষুদ্র মজুদকারীর কাছে ১৬ হাজার মণ ধান ও চাল রয়েছে। এর চেয়েও কয়েকগুণ বেশি মজুদ করেছেন বড় বড় মিলার ও পাইকার। ইসলামী ব্যাংকের ঋণে রংপুরের মাহিগঞ্জের মোল্লা মাস্টার প্রায় ২০ হাজার বস্তা চাল মজুদ করেছেন। তার কাছে ধানেরও ব্যাপক মজুদ রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, শুধু উত্তরাঞ্চলে মজুদ আছে ২ লাখ টন চাল। এসব মজুদদার গ্রাম পর্যায়ে বিভিন্ন টিনের ঘর তৈরি করে চাল মজুদ করেছেন। মোল্লা মাস্টারই বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ৫০টি গুদামে চাল মজুদ করেছেন। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এমন একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা।
মজুদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নেওয়ার খবরে চাল ছাড়তে শুরু করেছেন মিলাররা। চালকল মালিকদের সিসি ঋণ পরিশোধে ব্যাংকের

চাপ, ১৫ দিন মিল চালানোর মতো ধান সংরক্ষণের বিধান রেখে মজুদবিরোধী আইন প্রণয়ন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার মজুদবিরোধী অভিযানের কারণে মজুদ করা ধান-চাল ছেড়ে দিচ্ছেন মিল মালিকরা। ফলে বাজারে চালের সরবরাহ বেড়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মজুদবিরোধী আইন শিগগির অনুমোদন পেতে যাচ্ছে। আইনে মিল মালিকদের ১৫ দিনের ধান সংরক্ষণের সময় বেঁধে দেওয়া আছে। এছাড়া পাইকারি পর্যায়ে ১ হাজার মণ ও খুচরা পর্যায়ে ৫০০ মণ চাল মজুদ রাখার বিধান রেখে ওই আইন করা হচ্ছে।
চাল ব্যবসায়ীদের নেওয়া সিসি ঋণ পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যে চাপ দেওয়া শুরু করেছে। এক মাসের মধ্যে এসব ঋণ পরিশোধের জন্য অনেক ব্যাংক সময় বেঁধে দিয়েছে ব্যবসায়ীদের। ফলে সিসি ঋণ নিয়ে চাল মজুদকারীরা দ্রুত বাজারে চাল ছেড়ে দিয়ে ঋণ পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছেন।
জানা গেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকেও মজুদবিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে
বিভিন্ন জেলায় চাল মিলগুলোতে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার লোক গিয়ে হাজির হচ্ছেন মিলগুলোতে। ফলে অবৈধভাবে মজুদ করা ধান-চাল এখন বাজারে চলে আসছে। এছাড়া আগামী দু'মাস পর নতুন ধান উঠবে। এ কারণে মজুদদাররা চাল বিক্রি করতে শুরু করেছেন। এর ফলে চালের দাম আরও কমবে। মিলার ও পাইকাররা পুরনো মজুদের চাল বাজারে ছাড়ছেন। এদিকে ভারত থেকে ৩ লাখ টন চাল সড়কপথে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে।
শুক্রবার উত্তরাঞ্চলে মোটা মানের স্বর্ণা চাল ৩০ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয়। অথচ গত মঙ্গলবারও এ মানের চাল ৩৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তিনদিনে টনপ্রতি দাম কমেছে ৩ হাজার টাকা। চালের বড় আড়ত রংপুরের মাহিগঞ্জের চাল ব্যবসায়ী হাজি আবদুর রহিম বলেন, মোটা চালের ক্রেতাই পাওয়া যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারেও কমছে চালের দাম। থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে চালের দাম বর্তমানে ৪০০ থেকে ৪৫০ ডলারে ওঠানামা করছে। এক সপ্তাহ আগেও চাল বিক্রি হয়েছে ৪২৫ থেকে ৪৭৫ ডলারে। আগামী চার মাসের মধ্যে চালের দাম বৃদ্ধির কোনো আশঙ্কা নেই বলে থাই ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন ট্রেড এবং লন্ডনভিত্তিক জ্যাকসন অ্যান্ড কোং আভাস দিয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে ক্রমেই চালের দাম বাড়তে শুরু করে। ওই সময় এক কেজি চালের দাম ছিল ৩২ টাকা। ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ টাকায়। আর বর্তমানে খুচরা বাজারে এক কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৩৮ টাকায়। চিকন চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৪ টাকায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে খোলাবাজারে চাল বিক্রি, ফেয়ার প্রাইস কার্ডসহ নানা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের রেশনসহ গ্রাম পর্যায়ে ওএমএস চালু করা হয়েছে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29335262 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29335262 2011-02-27 19:16:41
বঙ্গবন্ধুর খুনি রশীদ এখনো বেনগাজিতে বঙ্গবন্ধুর খুনি রশীদ এখনো বেনগাজিতে



বঙ্গবন্ধুর খুনি লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) খন্দকার আবদুর রশীদ বর্তমানে লিবিয়ায় গাদ্দাফি বিরোধীদের নিয়ন্ত্রিত বেনগাজিতে আছেন। তাঁর গতিবিধির ওপর অনেক দিন থেকেই নজর রাখছে বাংলাদেশ সরকার। লিবিয়ায় বর্তমান সংকট কেটে গেলে তাঁকে ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিদেশে পলাতক বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে এমন একটি সূত্র গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠকে এ খবর নিশ্চিত করে। উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেলহত্যার পরদিন নূর চৌধুরীসহ বঙ্গবন্ধুর অন্য ঘাতকরা বিশেষ বিমানে রেঙ্গুন হয়ে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক চলে যান। সেখান থেকে পাকিস্তান সরকারের ব্যবস্থা করা বিশেষ বিমানে তাঁদের লিবিয়ায় পাঠানো হয়। লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি তাঁদের আশ্রয় দেন। পরে তাঁদের বেশির ভাগই বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনে চাকরি পান।

সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ওয়ালিউর রহমানও গতকাল লিবিয়া পরিস্থিতি নিয়ে কালের কণ্ঠের সঙ্গে কথোপকথনের সময় বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর খুনি রশীদ লিবিয়ার বেনগাজিতে আছেন। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রথমবার (১৯৯৬ সালে) সরকার গঠনের পর বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ওয়ালিউর রহমানকে প্রধান করে একটি সেল গঠন করেছিল। ওয়ালিউর রহমান বলেন, মুয়াম্মার গাদ্দাফির শ্যালক ও ভাইয়ের সঙ্গে লে. কর্নেল রশীদের ব্যবসা আছে।

রশীদ ছাড়াও পলাতক খুনিদের আরো কেউ লিবিয়ায় আছেন কি না জানতে চাইলে ওয়ালিউর রহমান বলেন, 'কর্নেল রশীদের কাছে বিদেশে পলাতক অন্য খুনিদের আসা-যাওয়া আছে। লিবিয়ায় চলমান গাদ্দাফিবিরোধী বিক্ষোভের আগ পর্যন্ত পাকিস্তানের পাসপোর্টে মেজর ডালিমও সেখানে মাঝেমধ্যে এসেছেন।'

লিবিয়া পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি কর্মীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু জানতে চাইলে ওয়ালিউর রহমান বলেন, দেশটিতে এখন যা হচ্ছে তা ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকবে। গাদ্দাফির কাছে অনেক অস্ত্র ও বহু সেনা আছে।

ওয়ালিউর রহমান আরো বলেন, 'লিবিয়ায় পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের অনেককে অন্যত্র সরে যেতে হবে। আমার মনে হয় না সবাই দেশে চলে আসবে। তা ছাড়া লিবিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিরা দক্ষ ও প্রশিক্ষিত। তারা কোনো না কোনো কাজ পাবে। তবে এখন যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তা ওই দেশে অবস্থানকারী প্রায় সবারই হচ্ছে। লিবিয়ায় বাংলাদেশিদের সাবধানে এবং নিরাপদ স্থানে থাকতে হবে।']]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29335209 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29335209 2011-02-27 17:23:40
কর্নেল তাহেরের ফাঁসি


কর্নেল তাহেরের ফাঁসি

ট্রাইবুনাল গঠনের আগেই সিদ্ধান্ত নেয়া ছিল: লিফশুলজ

সামরিক ট্রাইবুনালে কর্নেল তাহেরের গোপন বিচারের বিষয়ে মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজ লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এমকে রহমান হাইকোর্টে তার লিখিত বক্তব্য পেশ করেন।

লিখিত বক্তব্যে লিফশুলজ আদালতকে জানান, সে সময় কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই কর্নেল তাহেরসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে বিচার করা হয়।

তিনি আরো জানান, ট্রাইবুনাল গঠনের আগেই বিচারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া ছিল বলে তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মঞ্জুর তাকে জানিয়েছিলেন।

লিফশুলজ জানান, সে সময় মঞ্জুর ওই সামরিক আদালতকে ক্যাঙ্গারু কোর্ট হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন।



-----------------------------------------------------------------------


তাহের হত্যা : পরিকল্পনা ছিল জিয়ার: লিফশুজ

Thu, Feb 3rd, 2011 2:56 pm BdST

Dial 2000 from your GP mobile for latest news
ঢাকা, ফেব্র"য়ারি ০৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বাংলাদেশের আইন স্বীকৃত সব মৌলিক অধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার লংঘন করে রাষ্ট্রীয় অপরাধের মাধ্যমে তাহেরকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছিল বলে মত দিয়েছেন ওই বিচার চলাকালে বাংলাদেশ থেকে বহিস্কৃত সাংবাদিক লরেন্স লিফশুজ।

তিনি জানান, আদালত গঠনের পূর্বেই জিয়া এই মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন। পরে গোপন সামরিক আদালতের মাধ্যমে এটা বাস্তবায়িত হয়।

তাহেরের গোপন বিচারের বৈধতা নিয়ে একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ফার ইস্টার্ন ইকোনোমিক রিভিউর এই সাংবাদিকের বক্তব্য শুনতে চাওয়ার পর লিফশুজ ই-মেইলের মাধ্যমে তার এই বক্তব্য পাঠান।

তার এই বক্তব্য বৃহস্পতিবার বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও শেখ মো. জাকির হোসেনের বেঞ্চে উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান চলে। এরই এক পর্যায়ে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নেওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এমএ তাহেরসহ ১৭ জনকে সামরিক আদালতে গোপন বিচারে ১৯৭৬ সালের ১৭ জুলাই সাজা দেওয়া হয়। এরপর ২১ জুলাই ভোররাতে কর্নেল তাহেরের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

ওই সময় লিফশুজকে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

সেই গোপন বিচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তাহেরের স্ত্রী ও ভাই গত বছরের ২৩ অগাস্ট একটি রিট আবেদন করলে বিষয়টি আবার আলোচনায় উঠে আসে।

এম কে রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "লিফশুজ গতকাল (বুধবার) তার বক্তব্য ই-মেইলের মাধ্যমে আমার কাছে পাঠিয়েছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশ কনসাল জেনারেলের কার্যালয়েও এফিডেভিটকৃত বক্তব্যের একটি কপি জমা দেওয়া হয়েছে।"

আদালতে উপস্থপিত ওই বক্তব্যে লিফশুজ বলেন, ১৯৭৬ সালে গোপন বিচারে তাহেরের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কেবল ন্যায় বিচারেরই পরিপন্থী ছিল না, এটি ছিল রাষ্ট্র কর্তৃক সংগঠিত একটি অপরাধ।

আধুনিক যুগে জার্মানি, আর্জেন্টিনা, চিলি, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ পৃথিবীর বহু দেশ এ ধরনের অপরাধের প্রতিবিধান করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশে সুপ্রিম কোর্টকেই তাহের হত্যার প্রতিবিধান করতে হবে।

তাহেরের বিচার প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা তুলে ধরে লিফশুজ বলেন, বিচারিক আদালতের পরিবর্তে সেই বিচার অনুষ্ঠিত হয়েছিল গোপনে, কারাগারে। ওই বিচারের কোনো আইনী ভিত্তিও ছিল না। জনরোষের ভয়ে গণমাধ্যমকে এই বিচার প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। সাংবাদিকরা হুমকি ও বহিষ্কারের শিকার হয়েছিলেন।

বিচার শুরুর দিনের বর্ননা গিয়ে তিনি বলেন, "১৯৭৬ সালের ২৮ জুন গোপন আদালতে তাহের ও তার সঙ্গীদের তথাকথিত বিচার শুরুর দিন সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে পৌঁছে দেখি- সেনা সদস্যরা যুদ্ধসাজে কারাগারের চারপাশ ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। কারাগারের দেয়াল বরাবর বাইরের দিকে তাক করে বসানো হয়েছে মেশিনগান।

কর্নেল ইউসুফ হায়দারকে প্রধান করে গঠিত ওই আদলতকে 'ক্যাঙ্গারু কোর্ট' বললেই সঠিক কি-না, এই প্রশ্ন রেখে লিফশুজ বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে, সংবিধান স্বীকৃত গণতান্ত্রিক অধিকারের আলোকে এর ব্যাখ্যা হওয়া প্রয়োজন।

লিফশুজ বলেছেন, তিনি জিয়াউর রহমানের একটি সাক্ষাৎকার নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জিয়া তাতে রাজি হননি। পরে জিয়ার সম্মতিতে লিখিত প্রশ্ন পাঠালেও তাতে তাহেরের বিচার সম্পর্কিত প্রশ্ন থাকায় উত্তর মেলেনি।

ফার ইস্টার্ন ইকোনোমিক রিভিউয়ের তৎকালীন এই দক্ষিণ এশিয়া প্রতিনিধি জানান, ১৯৭৬ সালের জুনের শুরুতে ঢাকায় পৌঁছেই তিনি সেনাবাহিনীর তৎকালীন চিফ অব স্টাফ জেনারেল মো. মঞ্জুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

"মঞ্জুর আমাকে বলে, সেনাবাহিনীতে মুুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা জিয়াকে তাহেরের বিচার থেকে নিবৃত্ত করতে চেষ্টা করেছে। তবে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি সেনাবাহিনীর ভিতরে ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছে," লিফশুজ বলেন।

তিনি বলেন, "তাহেরকে বিচারের মুখোমুখি করা নিয়ে মঞ্জুর সে সময় মোটামুটি নিশ্চিত থাকলেও তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হতে পারে- এমন আশঙ্কার কথা তিনি তখন বলেননি।

"বিচারের কয়েক মাস পর মঞ্জুর আমাকে জানিয়েছিলেন, এ বিচার ঠেকাতে তিনি চেষ্টা করেছিলেন। তবে সেনাবাহিনীর তৃতীয় পদাধিকারী ব্যাক্তি হয়েও এ বিচার ঠেকানোর কোনো শক্তি তার ছিলো না।

"মঞ্জুর নিশ্চিতভাবেই জানতেন, বিচার শুরু হওয়ার আগেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন জিয়া," যোগ করেন এই সাংবাদিক।

ওই সময়ে জিয়ার ঘনিষ্ঠ দুই সামরিক কর্মকর্তাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন বলে লিফশুজ জানান।

তাহেরকে যে প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়- তাকে 'বিচার' বলা যেতে পারে কি-না, এ প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, "যদি তাহেরকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিশেষ সামরিক আদালত গঠনের আগেই নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে এটা (বিচার) কেবল ওই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের প্রাণঘাতি প্রক্রিয়া হিসাবেই ব্যবহৃত হয়েছে।"

ঘটনা এ রকমই হয়ে থাকলে ওই বিচারের জন্য গঠিত আদালতকে নতুন নাম দেওয়া প্রয়োজন মন্তব্য করে লিফশুজ বলেন, "আমি বিশ্বাস করি, ওই দণ্ডাদেশ দেওয়ার বিষয়টি ট্রাইব্যুনাল গঠনের পূর্বেই নির্ধারণ করে রাখা হয়েছিল।"

গত ২০ জানুয়ারি হাইকোর্ট লিফশুজকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ জানায়। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ তার সঙ্গে ইমেইলে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশে আসতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এরপর আদালত ওই বিচার সম্পর্কে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠাতে লিফশুজকে অনুরোধ জানানোর জন্য এমকে রহমানকে নির্দেশ দেয়।

এর আগে তাহেরের বিচারের বৈধতা নিয়ে রিট আবেদনের পর সেই গোপন বিচারের নথি তলব করে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই বিচারের জন্য সামরিক আইনের মাধ্যমে জারি করা আদেশ এবং এর আওতায় গোপন বিচার ও ফাঁসি কার্যকর করাকে কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না- তা জানাতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএন/জেকে/০০২৯ ঘ. খা করে কথা বলার অনুমতি চাইলে তাকে অনুমতি দেয়া হয়নি বলে আদালতকে জানান লিফশুলজ।

কর্নেল তাহেরের বিচার প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে পরিবারের পক্ষ থেকে রিট আবেদন করার পর গত বছরের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট মামলার নথি তলব করেছিল। সরকারের কোনো দপ্তরই এখন পর্যন্ত সেই নথি খুঁজে বের করতে পারেনি।

১৯৭৬ সালের ২০ জুলাই দিবাগত রাত ৩টায় কর্নেল তাহেরের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
-----------------------------------------------------------------------------


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29319961 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29319961 2011-02-04 02:20:14
নারী মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের আলেখ্য ডিসেম্বর ২০১০: একাত্তরের বিজয়িনী

১. বোরকা পরে অস্ত্র বহন করতাম, সমানতালে বন্দুক চালাতাম - ছায়ারুন



২. স্বামী-সন্তান হারানোর কষ্ট ভুলে থাকি মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে থেকে - উর্মিলা রানী রায়



৩: একাত্তরের বিজয়িনী: বিয়ের মাত্র ১২ দিন পর যুদ্ধে যাই - আমিনা বেগম মিনা



৪. রাজাকাররা এসে আমার পায়ে ধরে মাফ চায় - জয়নাব বেগম



৫. পোঁটলায় গ্রেনেড লুকিয়ে ভিক্ষুক সেজে শত্রুর খবর নিতাম - মনোয়ারা বেগম




৬. শত্রুর গানবোট গ্রেনেড মেরে ডুবিয়ে দিই - আলমতাজ বেগম ছবি



৭. যুদ্ধে যেতে বাধা দিলে স্বামীকে বলি তুমিও চলো - মোমেলা খাতুন



৮. বাংকার থেকে আধমরা ১২টি মেয়েকে উদ্ধার করলাম - ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার



৯. হানাদারদের সঙ্গে ৯ বার মুখোমুখি যুদ্ধ করি - কাকন বিবি

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29283116 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29283116 2010-12-03 21:21:44
নিজামী কথা নিজামী, সুবহানের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ সাক্ষীদের

পাবনা, ৫ নভেম্বর (শীর্ষ নিউজ ডটকম): আন্তর্জাতিক অপরাধ টাইব্যুনালের সদস্যরা শুক্রবার দিনভর পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার বিভিন্ন বধ্যভূমি ও গণকবর পরিদর্শন করেন। তারা মুক্তিযুদ্ধের সময়ের মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। তদন্ত দল এলাকার সাধারণ মানুষ, মুক্তিযোদ্ধা
এবং আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেন। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান এর নেতৃত্বে ৭ সদস্যের তদন্ত দল ঈশ্বরদী মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে পৌঁছান। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুর রহমান শরীফ ডিলু এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ তদন্ত দলকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

তদন্ত দল প্রথমেই ঈশ্বরদী মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও প্রেসক্লাব সংলগ্ন বধ্যভূমি পরিদশন করেন। পরিদর্শনের সময় শহীদ পরিবারের সন্তান মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমান্ডার তহুরুল আলম বলেন, তার বাবা শহীদ মোয়াজ্জেম হোসেনকে ৭১’র ১৩ এপ্রিল রাজাকার-আলবদর প্রধান মতিউর রহমান নিজামী ও মাওলানা আব্দুস সুবহানের পরিকল্পনা ও নির্দেশে স্থানীয় আলবদর খোদাবক্সের নেতৃত্বে এখানে (রেলওয়ের তখনকার কয়লা ডিপো) নৃশংসভাবে হত্যা করে। একই স্থানে আরও ৪০/৫০ জনকে হত্যা করে ফেলে রাখে। তাদের মধ্যে ১৮ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরপর তদন্তদল পরিদর্শনে যান রেলওয়ে লোকোসেড পাম্প হাউজ (বিহারী কলোনি) বধ্যভূমি। সেখানে শহীদ পরিবারের সন্তান গোলাম মাহমুদ বলেন, তার বাবাসহ ৫০/৬০ জনকে এখানে নৃশংসভাবে হত্যা করে রাজাকার-আলবদররা।

কেঁদে কেঁদে ওই সময়ের ঘটনা বর্ণনা করেন শামসুল আলম। তিনি বলেন, আমার বাবা আখের আলীকে রাজাকাররা এখানে হত্যা করে। ফতে মোহাম্মদপুরের আরেক স্বজনরা শহীদ তোফাজ্জলের ছেলে হায়দার বলেন, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও মাওলানা সুবহানের পরিকল্পনা ও নির্দেশে স্থানীয় রাজাকার-আলবদর নেতা খোদাবক্স, এডভোকেট তসলিম, আলীমোর খাঁ, নেছার চেয়ারম্যান, মাদারিয়া, রিয়াজ আমার বাবাসহ পরিবারের ১৮ জনকে এখানে নৃশংসভাবে হত্যা করে। আমার বাবার লাশ আজও পাইনি। ১৮ বছর খুঁজে ফিরছি বাবার লাশ। ফতে মোহাম্মদপুর রেলওয়ে কলোনির রোকেয়া বলেন, আমার বাবা রেলের ড্রাইভার এসকে রহমানসহ আমার পরিবারের ১১ জনকে পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকাররা হত্যা করেছে। পর্যায়ক্রমে বিকেল পর্যন্ত তদন্ত দল ভুতেগাড়ী বধ্যভূমি, পাকশী রেলওয়ে গণকবর, বধ্যভূমি, মাজদিয়া ও মাছুপাড়া গণকবর পরিদর্শন করেন। তদন্ত দল পাকশী রেলওয়ে গণকবর ও বধ্যভূমি পরিদর্শনকালে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনজাত করেন। স্থানীয়রা জানান, এই খানে ডা. রফিকসহ একই পরিবারের ৫ জন এবং পার্শ্ববর্তী দিয়ার বাঘইল, মানিক নগর স্থানে বহু মানুষকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, রাজাকার আলবদররা নৃশংসভাবে হত্যা করে।

পরিদর্শনকালে তদন্ত দলের কাছে এসব স্থানে ৭১’র পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, রাজাকার, আলবদর-আল শামস্‌দের হত্যাযজ্ঞ, গণহত্যা, নারী ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতনসহ সকল মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী এবং এলাকাবাসীরা বর্বরোচিত বর্ণনা তুলে ধরেন আবেগ-আপ্লুতকণ্ঠে। তদন্ত দল ঈশ্বরদী মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন। তদন্তকালে প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ও সাক্ষ্য গ্রহণে মূলতঃ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও মাওলানা আব্দুস সুবহান এর নির্দেশ ও পরিকল্পনায় স্থানীয় রাজাকার-আলবদর এর নেতৃত্বদানকারী হিসেবে খোদাবক্স, এডভোকেট তসলিম (জামায়াতের বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতা), আলীমোর খাঁ, নেছার চেয়ারম্যান, মাদারিয়া, রিয়াজ, আকমল মোজাহিদ, মান্নান, কাদের এর নাম মানবতা বিরোধী অপরাধী হিসেবে সকলের মুখে শোনা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমানসহ (এটর্নি জেনারেলের পদ মর্যাদা সম্পন্ন) তদন্ত দলে অন্যান্য সদস্য ছিলেন এডভোকেট সৈয়দ হায়দার আলী (অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেলের পদ মর্যাদা সম্পন্ন), এডভোকেট আব্দুর রহমান হাওলাদার (ডেপুটি এটর্নি জেনারেলের পদ মর্যাদা সম্পন্ন), এডভোকেট আলতাফ উদ্দিন (ডেপুটি এটর্নি জেনারেলের পদ মর্যাদা সম্পন্ন) এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক খান পিপিএম (পুলিশ পরিদর্শক), জেএম আলতাফুর রহমান (পুলিশ পরিদর্শক), এসএম ইদ্রিস আলী। এছাড়াও তাদের সাথে আছেন টিম লিডারের একান্ত কর্মকতা আবুল কাশেম ও কনস্টেবল প্রবীর ভট্টাচার্যসহ ক্যামেরাম্যান। তদন্তের সময় তদন্ত দলকে সহযোগিতা করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরীফ ডিলু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হাবিবুর রহমান হাবীব, সহকারী কমান্ডার আব্দুল বাতেনসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

সূত্র জানায়, আগামী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

সর্বশেষ জানা গেছে, সন্ধা ৭টায় তদন্ত দল পাবনা সার্কিট হাউজে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে প্রেস ব্রিফিংয়ে মিলিত হবেন।
(শীর্ষ নিউজ ডটকম/প্রতিনিধি/ডিএইচ/এমএইচ/১৬.৫৪ঘ)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29267328 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29267328 2010-11-05 21:55:13
জামায়াতের ২ শীর্ষ নেতাসহ ২০ জন আটক, ৬ বোমা উদ্ধার জামায়াতের সাবেক সাংসদসহ ২০ জন গ্রেপ্তার

ঢাকা, অক্টোবর ২৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- রাজধানীর মিরপুরে বৃহস্পতিবার এক বাসায় অভিযান চালিয়ে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক সংসদ সদস্যসহ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় বাসাটি থেকে ছয়টি বোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং জিহাদী বইও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রাজশাহী-১ আসনের সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এবং খুলনা মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির শফিকুল আলম রয়েছেন। অন্যদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

মিরপুরের ১ নম্বর সেকশনের কালওয়ালা পাড়ার মোহর আলীর বাসায় বৃহস্পতিবার দুপুরে এ অভিযান চালানো হয় বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন মিরপুর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ।

তিনি বলেন, "বাসটি থেকে ছয়টি বোমা, বোমা তৈরির বেশ সরঞ্জাম এবং কিছু জিহাদী বইও উদ্ধার করা হয়েছে।"

========================================

জামায়াতের ২ শীর্ষ নেতাসহ ২০ জন আটক, ৬ বোমা উদ্ধার




ঢাকা, ২৮ অক্টোবর (শীর্ষ নিউজ ডটকম): রাজধানীর মিরপুরের ১ নম্বর সেক্টরের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জামায়াতে ইসলামীর দুই জন শীর্ষ নেতাসহ ২০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত দুই শীর্ষ নেতা হলেন- রাজশাহী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মজিবুর রহমান ও খুলনা মহানগর জামায়াতে আমির শফিকুল আলম। পুলিশ ওই বাড়ি থেকে বিপুল সংখ্যক জিহাদি বই ও ৬টি বোমা উদ্ধার করে। মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মনিরুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১টার দিকে ১ নম্বর সেক্টরের মোহর আলীর ওই বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযান চালিয়ে বিপুল জিহাদি বই ও ৬টি বোমাসহ জামায়াতের ২০ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়। মিরপুর থানা পুলিশ জানায়, আটককৃতরা ওই বাড়িতে গোপন বৈঠক করছিলো।

পুলিশ জানায়, ওই বাড়িতে তারা কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতার পাশাপাশি বাকি ১৮ জনের নাম ও পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। গ্রেফতার হওয়া অধ্যাপক মজিবুর রহমান গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি জামায়াতের অঙ্গসংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনেরও নেতা।
পুলিশ আরো জানায়, জিহাদি বইগুলো কি কারণে ওই বাসায় রাখা হয়েছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনার পর ২০ জনকে মিরপুর থানায় নেয়া হয়েছে।

====================================

জামায়াতের ২ শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ গ্রেপ্তার ২০

ঢাকা, ২৮ অক্টোবর (আরটিএনএন ডটনেট)-- রাজধানীর মিরপুরে স্থানীয় কার্যালয়ে বৈঠক করার সময় জামায়াতের সাবেক এমপি ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও খুলনা মহানগর জামায়াতের আমীর শফিকুল আলমসহ দলের ২০ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মিরপুর বিভাগের অতিরক্তি উপকমিশনার মনিরুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১টার দিকে মিরপুরের ১ নম্বর সেক্টরের মোহর আলীর বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ছয়টি বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং বিপুল পরিমাণ ইসলামী বই উদ্ধার করা হয়েছে।

থানা সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী। এর মধ্যে খুলনা মহানগর জামায়াতের আমীর শফিকুল আলমও রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, এরআগে গত ২৫ অক্টোবর সোমবার জামায়াতের মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। তবে এ সময় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর জামায়াত-শিবিরের কার্যালয়গুলোতে অব্যাহতভাবে অভিযান চালিয়ে আসছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29263127 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29263127 2010-10-28 16:29:15
জগতের সকল প্রানী সুখী হোক.... যারা নিরীহ গ্রামবাসীর উপর এহেন অত্যাচারের পরেও সেটার থেকে কোন বাহিনীর ভাবমূর্তি নিয়ে বেশী চিন্তিত, আমার কামনা এই যে সেসব ব্লগারের বা তাদের নিকত্মায়ীদের অবস্থা কখনো নিচের ছবিদুটোর পরিবারগুলোর মত না হয় -


প্রথম আলো



ডেইলী ষ্টার



Nine-year-old Mrittika, whose father Abdul Aleem Masud went missing in Saturday's Rupganj violence, weeps almost unceasingly while her mother Kohinoor, right, faints frequently at their Baraisoni village home yesterday. ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29262457 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29262457 2010-10-27 17:12:53
মীর কাশেম আলি হুঁশিয়ার, কাসেম সাব আ গেয়া'




Tue, Sep 28th, 2010 2:46 pm BdST

Dial 2000 from your GP mobile for latest news
আল আমীন দেওয়ান
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম, সেপ্টেম্বর ২৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে রাজাকার-আল বদরদের প্রধান নির্যাতন কেন্দ্র ছিলো আন্দরকিল্লার ফরেস্ট গেটের টেলিগ্রাফ হিল রোডের ডালিম হোটেল।

মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতা মীর কাসেম আলীর তত্ত্বাবধানে চলতো ওই নির্যাতন কেন্দ্র। সেখানে হাত-পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় পিটিয়ে ভেঙে দেওয়া হতো বন্দিদের হাত-পা। ইট দিয়ে থেতলে দেওয়া হতো মুখ।

একাত্তরে ছাত্রসংঘের নেতা এবং বর্তমানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মীর কাসেমের সঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াত ইসলামীর বর্তমান নায়েবে আমির আফসার উদ্দিনও এ নির্যাতন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে ছিলেন বলে মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি।

যদিও তারা দুজনই একাত্তরে নির্যাতন চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দল কয়েকদিন আগেই ডালিম হোটেলসহ চট্টগ্রামে গণহত্যা ও নির্যাতনের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে। তদন্ত দল জানায়, মীর কাসেমের বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে সাক্ষ্য পাওয়া গেছে।

নির্যাতন কেন্দ্রটিতে বন্দি থাকা তৎকালীন চট্টগ্রাম জয়বাংলা বাহিনীর উপ-প্রধান মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং কয়েকজন নির্যাতিতের স্বজন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন একাত্তরের কথা।

নির্যাতন কেন্দ্রে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ২৩ দিন ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। একাত্তরের ২৩ নভেম্বর চট্টগ্রামের কদমতলীর বাড়ি থেকে তাকে ধরে আনে বদর বাহিনীর সদস্যরা। ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলে মুক্তি পান তিনি।

নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে জাহাঙ্গীর আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "নির্যাতনে অর্ধমৃত মুক্তিযোদ্ধাদের হাতের লাঠি দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে আফসার উদ্দিন গর্ব করে বলতো- 'রাজাকার দেখেছিস, আমি রাজাকার'। নির্যাতন ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অর্ধমৃত মুক্তিযোদ্ধা ও অন্য বন্দিদের মেরে ফেলতে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেখিয়ে দিতো সে।"

জাহাঙ্গীর জানান, বন্দি অবস্থায় আফসার উদ্দিন একদিন তাকে রেডিওতে স্বাধীনতাবিরোধী একটি কথিকা পাঠ করতে বলেন। জাহাঙ্গীর অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর আরো ভয়াবহ নির্যাতন চলে।

নিজের থেতলে দেওয়া ঠোঁট দেখিয়ে এ মুক্তিযোদ্ধা বলেন, "আফসার উদ্দিন এখন এই দেশেই রাজনীতি করছে। তাকে ধরে জিজ্ঞেসাবাদ করা হলে প্রমাণের জন্য তদন্ত দলের বেশি কষ্ট করতে হবে না। প্রয়োজনে আমার মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।"

"মীর কাসেম যখন ডালিম হোটেলে আসতো, তখন বদর সদস্যরা পাহারায় থাকা অন্যদের বলত 'কাসেম সাব আ গেয়া, তোম লোক বহুত হুঁশিয়ার'। সে আসার পর বন্দিরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়তো।"

হৃদরোগে ভুগছেন জাহাঙ্গীর। এর মধ্যেই বললেন, "এখনো বেঁচে আছি এই কুলাঙ্গারদের কুকীর্তির সাক্ষী হয়ে। আফসার উদ্দিনকে আমার মুখোমুখি করলে মীর কাসেম আলীর অপকীর্তির প্রমাণ সেই হাজির করবে।"

নির্যাতন কেন্দ্রে এ পীযূষ দাস নামে একজন ভয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে জানিয়ে জাহাঙ্গীর বলেন, তাকে দিয়ে লাশ সরানো হতো।

"মীর কাসেম এলে ঘোষণা দিতো পীযূষই। তবে পরে তাকেও মেরে ফেলা হয়", বলেন তিনি।

একাত্তরের ২৫ নভেম্বর গণতন্ত্রী পার্টির চট্টগ্রাম জেলার তখনকার সভাপতি সাইফুদ্দিন খানসহ সাত জনকে ডালিম হোটেলে রাজাকাররা ধরে নিয়ে আসে। পরে ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা তাদের মুক্ত করে।

সাইফুদ্দিন খানের স্ত্রী নূরজাহান খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "হাত-পা বেঁধে আমার স্বামীসহ সব বন্দিদের বীভৎস নির্যাতন করা হতো। এখানে নির্যাতন করে করে মেরে ফেলা হয় অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাকে।"

নুরজাহান খানের ভাই রেজা আহম্মদ বলেন, "কেন্দ্রটির তত্ত্বাবধানে থাকা সেই সময়ের ছাত্রসংঘের নেতা মীর কাসেম আলীর নির্দেশেই ডালিম হোটেলে মুক্তিযোদ্ধা ও অন্য বন্দিদের ওপর নির্যাতন চালানো হতো।"

গত শনিবার এই ডালিম হোটেলে নূরজাহান খান ও রেজা আহম্মেদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের কাছে একাত্তরে রাজাকার ও আল বদর বাহিনীর মানবতাবিরোধী বিভিন্ন বীভৎসতার সাক্ষ্য দেন।

তবে যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আফসারউদ্দিন নিজেকে উল্টো মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন।

তিনি সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আমি মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম। তখন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে কিছু না করার জন্য আমিই অনুরোধ করেছিলাম।"

নিজেকে মুক্তিযাদ্ধা দাবি করলে কীভাবে রাজাকারদের অনুরোধ করেন- প্রশ্ন করা হলে কেনো উত্তর দেননি এ জামায়াত নেতা।

তিনি বলেন, "সে সময় আমি ফরিদপুর ছিলাম। সাংবাদিকরা এসব নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করছে।"

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এএডি/এএনএস/এমআই/১৪৩৬ ঘ. ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29246586 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29246586 2010-09-28 16:53:22
১৯৭১: জামাত নেতা কামারুজ্জামানের নির্দেশে চলে পাশবিক নির্যাতন Click This Link
ডিসেম্বর ২৩, ২০০৯, বুধবার : পৌষ ৯, ১৪১৬


দুলাল হোসাইন, জামালপুর থেকে :

রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও নিরাপত্তা পেলে পাকিস্তানি হানাদারদের দোসর যুদ্ধাপরাধী জামালপুর, টাঙ্গাইল ও শেরপুরের দায়িত্বে থাকা আল-বদর কমান্ডার জামাতে ইসলামী বাংলাদেশের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের বিচারের জন্য আইনের আশ্রয় নিতে চান পাকিস্তান গ্যারিসনে সারেন্ডার লেটার বহনকারী ১১ সেক্টরের সাহসী মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক মুন্সী বীরপ্রতীক (বার)। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে হলে দেশের প্রতিটি স্কুল-কলেজে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের গল্প শুনাতে হবে। আর দেশের জন্য যারা শহীদ হয়েছেন
প্রতিটি স্কুল-কলেজ তাদের নামানুসারে নামকরণেরও দাবি জানান তিনি।


একাত্তরের উত্তর রণাঙ্গনে পাকিস্তানি হানাদারদের সব চেয়ে শক্তিশালী ঘাঁটি জামালপুরকে মুক্ত করতে মরণপণ লড়াই করেন ১১নং সেক্টরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা। দীর্ঘ ৯ মাস দফায় দফায় সম্মুখ যুদ্ধের পর ৪ ডিসেম্বর শক্তিশালী কামালপুর ঘাঁটির পতন ঘটান ১১নং সেক্টরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা। কামালপুর মুক্ত হওয়ার ৫ দিনের মাথায় জামালপুরে পাকিস্তান বাহিনীর ৩১ বালুচ রেজিমেন্টের হেডকোয়ার্টার চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে মুক্তি ও মিত্রবাহিনী। ৯ ডিসেম্বর ফ্যাস্ট মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার এইচ এস ক্লে স্বাক্ষরিত একটি সারেন্ডার লেটার দিয়ে জহুরুল হক মুন্সীকে পাঠানো হয় জামালপুর পাকিস্তান গ্যারিসনে।

সাদা পতাকা নিয়ে বাইসাইকেলযোগে তিনি সন্ধ্যায় পৌঁছে যান জামালপুর শহরের পিটিআইয়ে অবস্থিত পাকিস্তান গ্যারিসনে। সেখানে পৌঁছার পর তার হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলে পাকিস্তান হানাদাররা। পরে তাকে জিপের চাকায় বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় ৩১ বালুচ রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল সুলতান মাহমুদের কাছে। সেখানে জামালপুর, টাঙ্গাইল ও শেরপুরের দায়িত্বে থাকা আল-বদর বাহিনীর কমান্ডার (বর্তমানে জামাতে ইসলামী বাংলাদেশের সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি) কামারুজ্জামানের নির্দেশে এবং উপস্থিতিতে তার ওপর চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন। একপর্যায়ে রাইফেলের বাট দিয়ে পিটিয়ে তার দাঁত ভেঙে দেয়া হয়। এরপর বেনয়য়েট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মারাত্মক আহত করে সিলিংয়ে পা বেঁধে ৪ ঘণ্টা ঝুঁলিয়ে রাখে পাকিস্তান বাহিনী। রাতে তার কানে একটি বুলেট বেঁধে সারেন্ডারের পরিবর্তে যুদ্ধ ঘোষাণার চিরকুট দিয়ে ফেরত পাঠানো হয় তাকে। এরপর শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ। স্থলপথের পাশাপাশি আকাশ পথে চলে ভারতীয় বোমারু বিমানের হামলা। ভারতীয় বোমারু বিমান থেকে হাজার পাউন্ড ওজনের ২টি বোমা নিক্ষেপ করা হয় ৩১ বালুচ রেজিমেন্টের হেডকোয়ার্টারে। এরই মধ্যে রাতের আঁধারে ২০০ সেনা নিয়ে পালিয়ে যান ঘাতক লে. কর্নেল সুলতান মাহমুদ। পরে ৩৭৬ জন পাকিস্তান সেনা আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়। শত্র“ মুক্ত হয় জামালপুর। আর জামালপুর মুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে সূচিত উত্তরবঙ্গসহ ঢাকাসহ বিজয়ের পথ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক মুন্সীর অভিযোগ, জামালপুর, টাঙ্গাইল ও শেরপুরের দায়িত্বে থাকা আল-বদর বাহিনীর কমান্ডার বর্তমানে জামাতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজামান ওরফে কামারুর নির্দেশে এবং উপস্থিতিতে পিটিআইয়ের পাকিস্তান গ্যারিসনে তার ওপর চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। ভয়াঙ্কর এই যুদ্ধাপরাধীর বিচার দাবি করে জহুরুল হক মুন্সী বলেন, রাষ্ট্র যদি তাকে সহায়তা করে এবং জান-মালের নিরাপত্তা দেয় তা হলে তিনি যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জানের বিচারের জন্য আদালতের আশ্রয় নেবেন। তিনি একান্ত এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

এ ব্যাপারে জামাতে ইসলামী বাংলাদেশের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক মুন্সীকে তিনি চেনেন না জানিয়ে বলেন, ১৯৬৯ সাল থেকে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। কাজেই পাকিস্তান বাহিনীর ক্যাম্পে উপস্থিত থাকা তো দূরের কথা আল-বদর বাহিনীর সঙ্গেও তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক মুন্সী মিডিয়ার কাছে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন এবং তার মনগড়া।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29063989 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/29063989 2009-12-23 02:52:36
মৌলবাদের রাজনৈতিক - অর্থনীতি: প্রফেসর আবুল বারাকত নুরুজ্জামান মানিক

আমাদের উদাসিনতায় জামাত-শিবির মজবুত অর্থনৈতিক মডেল গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছে । বাংলাদেশে মৌলবাদের অর্থনীতির এখন বার্ষিক নীট মুনাফা আনুমানিক ১২০০ কোটি টাকা। এ মুনাফার সর্বোস্ত ২৭% আসে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে যার মধ্যে আছে ব্যাংক, বীমা, লিজিং কোম্পানি ইত্যাদি; দ্বিতীয় সর্বোস্ত ২০.৮% আসে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে; বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে আসে ১০.৮%; ঔষধ শিল্প ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান থেকে আসে ১০.৪%; শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসে ৯.২%; রিয়েল এস্টেট ব্যবসা থেকে আসে ৮.৩%, যোগাযোগ ব্যবসা থেকে আসে ৭.৫%; আর সংবাদ মাধ্যম ও তথ্য প্রযু্িক্ত থেকে আসে ৫.৮% ।বাংলাদেশে মৌলবাদের অর্থনীতি যদি বছরে ১২০০ কোটি টাকা নীট মুনাফা সৃষ্টি করে থাকে সেক্ষেত্রে আমাদের দেশে অর্থনীতির সাম্প্রদায়িকীকরণ মাত্রা যা মৌলবাদের অর্থনীতির শক্তি-মাত্রা নির্দেশ করে- হবে নিম্নরূপ:

(১)দেশের মোট বার্ষিক জাতীয় বিনিয়োগের (চলতি মূল্যে) ১.৫৩% এর সমপরিমাণ,

(২) দেশের মোট বার্ষিক বেসরকারি বিনিয়োগের ২.১% এর সমপরিমাণ,

(৩) সরকারের মোট বার্ষিক রাজস্ব আয়ের ৩.৩%এর সমপরিমাণ, (৪) দেশের বার্ষিক রপ্তানী আয়ের ৩.৭% এর সমপরিমাণ,

(৫) সরকারের মোট বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের ৬% এর সমপরিমাণ,

(৬) সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের অভ্যন্তরীণ সম্পদের ১২% এর সমপরিমাণ।

সেই সাথে বিকাশ-বিস্তৃতির সম্ভাবনা নির্দেশে আরো গুরুত্বপূর্ণ হল এই যে যেহেতু মৌলবাদের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার (বার্ষিক গড়ে ৭.৫% থেকে ৯%) মূল ধারার অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার (বার্ষিক গড়ে ৪.৫% থেকে ৫%)-এর তুলনায় অধিক সেহেতু অর্থনীতির সাম্প্রদায়িকীকরণ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে- অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণের খুব একটা অবকাশ নেই। অর্থাৎ প্রবণতাটা এমন যে মূলধারার অর্থনীতির মধ্যে মৌলবাদের অর্থনীতি ক্রমান্বয়ে বেশি জায়গা দখল করতে পারে। ফলে রাষ্ট্রের মধ্যে তাদের অংশ আর সরকারের মধ্যে তাদের অংশ বৃদ্ধিতে মৌলবাদী অর্থনীতি সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।

বিস্তারিত জানতে পড়ু্ন-অর্থনীতিবিদ প্রফেসর আবুল বারাকতের প্রবন্ধ পড়ু্ন "মৌলবাদের রাজনৈতিক - অর্থনীতি"

Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/28996511 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/28996511 2009-08-19 18:27:12
শোকাবহ আগস্ট: আমব্রিখটের চিঠি ১৮ই আগস্ট, ২০০৯ (মূল পাতা)

শোকাবহ আগস্ট: আমব্রিখটের চিঠি:

জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি ও সুইস কুটনীতিক ড. ভিক্টর এইচ আমব্রিখট ব্যাংককে মার্কিন দুতাবাসের মাধ্যমে ১৭ নভেম্বর এক মর্মস্পর্শী চিঠি লিখেছিলেন। ওই চিঠির উল্লেখযোগ্য অংশের উদ্ধৃতি হোয়াইটহাউস পরদিন পররাষ্ট্র দপ্তরে পাঠান।

ড. ভিক্টর আমব্রিখট লিখেছিলেন, "৩ নভেম্বর আমি ঢাকা থেকে ফিরি। এর আগে রাষ্ট্রপতি খোন্দকার মোশতাক আহমদ এবং তাঁর মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে আমার দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা হয়েছিল। সত্যি বলতে কি, বাংলাদেশ রাজনৈতিক ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থান নিয়ে প্রচন্ডতম তর্ক-বিতর্ক ও মতবিরোধ রয়েছে। তাঁদের অনেকেই মুজিব, তাঁর পরিবার ও চার নেতাকে হত্যার বিষয়ে ঘাতক মেজর ও ক্যাপ্টেনদের সঙ্গে নেই। তাঁরা ঘাতকদের ক্রিমিনাল হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। আমি ওই দেশটা থেকে একটি হেলিকপ্টারে প্রথমে কলকাতায়, সেখান থেকে ইউরোপে চলে আসি।"

জাতিসংঘের সাবেক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল ড. আমব্রিখট মুজিব সরকারের সাফল্যের একটি উল্লেখযোগ্য বিবরণ দেন। তিনি লিখেছেন, "গত ১২ মাস ধরে দেশের অর্থনীতির বিরাট উন্নতি ঘটেছিল। ভালো খাদ্য পরিস্িথতি, বৃহত্তর খাদ্য মজুদ, ব্যাপক রপ্তানি ও ঘাটতিবিহীন বাজেটও ছিল। ধর্মঘট ছিল না। ছিল ভালো জনকর্মসুচি, ভালো "কাজের বিনিময়ে খাদ্য" প্রকল্প, কম বেকারত্ব, অধিকতর দক্ষ জনপ্রশাসন (যদিও এখনো দুর্দশা কাটেনি) প্রভৃতি। কিন্তু তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক নেতৃত্বের উত্তম অংশটিকে কেন নির্মুল করা হলো, তা বিচার করা দুরূহ। আমাদের তা দেখা ও বোঝার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।"

এ পর্যায়ে মার্কিন সরকারকে যেন কিছুতেই মেজরদের আশ্রয় না দেয়, সে আবেদন জানিয়ে ড. ভিকটর বলেন, মন্ত্রিসভার সদস্যদের কাছ থেকে আমি জেনেছি, এই সামরিক ব্যক্তিরা মস্ত বড় দুর্বৃত্ত। তাঁরা কেবল শেখকেই হত্যা করেননি, তাঁরা তাঁর স্ত্রীকে ছুরি দিয়ে খুন করেন। তাঁরা হত্যা করেন শেখের দুই বিবাহিত পুত্রকে। সঙ্গে তাঁদের তরুণী স্ত্রীদেরও (একজনের বিয়ের বয়স হয়েছিল ১৫ মাস, অন্যজনের তিন সপ্তাহ)। তাঁরা শেখের ১১ বছরের কনিষ্ঠতম ছেলেটাকে বাগানে ধাওয়া করেন এবং গুলি করে হত্যা করেন। ড. আমব্রিখট লেখেন, "এই চরম নৃশংসতা ও নিষ্ঠুরতার সব বিবরণ দানের ভাষা নেই। এই দুর্বৃত্তদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো উচিত এবং একটি সামরিক আদালতে তাঁদের বিচার হওয়া উচিত। আমেরিকার ঔদার্য ও মহত্ত্বের ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও এই দুর্বৃত্তদের ঠাঁই যুক্তরাষ্ট্রে হতে পারে না। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম, স্টেট ডিপার্টমেন্টে আমি আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে লিখব। পরে ভাবলাম তা যথাসময়ে পৌঁছে কি না। তাই আপনাকে লেখা।"

পররাষ্ট্রসচিব তোবারক হোসেন এক সংবর্ধনায় ১৮ নভেম্বর রাতে বোস্টারকে জানান, "মেজরদের আশ্রয়ের ব্যাপারে আপাতত একটা উপায় হয়েছে।" লিবিয়ায় কীভাবে তাঁরা আশ্রয় পেয়েছিলেন, সে বিষয়ে জানা যায়নি। তবে লিবিয়ার পত্রিকায় ছাপা এ বিষয়ক একটি খবরের বরাতে ওই দেশের মার্কিন দুতাবাসের একটি তারবার্তা এখনো গোপন রাখা হয়েছে। ২৪ নভেম্বরে ফারুকেরা যখন ব্যাংকক ত্যাগ করেন, তখন তাঁদের সেখানে বিদায় জানান বাংলাদেশের রাষ্ট্রদুত সালেহউদ্দিন কায়সার। এ বিষয়ে লিবিয়ার নেতা গাদ্দাফির কোনো মন্তব্য কখনো জানা যায়নি। পঁচাত্তরের মে মাসে গাদ্দাফি ঢাকায় দুতাবাস খোলার সিদ্ধান্ত নেন। ফারুক-রশীদ চক্রের ভিসা ঢাকার দুতাবাস থেকেই দেওয়া হয়।

ওরা খুনি: ১০ নভেম্বর ১৯৭৫ বোস্টার এক তারবার্তায় লেখেন, জার্মান রাষ্ট্রদুত রিটার গত রাতে আমাদের জানিয়ে দেন যে মেজররা তাঁর দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে পারেন। কিন্তু ৬ নভেম্বরে বনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদুত আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছেন, "ওরা খুনি, ওদের যেন আশ্রয় না দেওয়া হয়।" রিটার বলেন, "আমিও তাদের আশ্রয় না দিতে সুপারিশ করেছি।" উল্লেখ্য, ওই সময়ে জার্মানিতে রাষ্ট্রদুত ছিলেন প্রয়াত স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।

ত্রিপোলিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদুত স্টেইন ২৫ নভেম্বর জানান, "লে. কর্নেল ফারুক ও তাঁর দল ২৪ নভেম্বর বেনগাজিতে পৌঁছান।" বিমানবন্দরে তিনি এক টিভি সাক্ষাৎকারে ভারতের নাম না নিয়ে বলেন, তার সরকার ও জনগণ যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছিল, বাংলাদেশ এখন সেসব শত্রুবেষ্টিত। এই সংগ্রামে পাশে দাঁড়াতে তিনি "মুসলিম ভাই"দের আহ্বান জানান।

খুঁটিনাটি: ৫ নভেম্বর ১৯৭৫ ব্যাংকক থেকে হোয়াইটহাউস যা লিখেছেন তাতেও মেজরদের নিয়ে কিসিঞ্জারের উদ্বেগ স্পষ্ট। "পররাষ্ট্র দপ্তরের রেফারেন্স টেলিগ্রামের (নম্বর ২৬১৭৮৭) ভিত্তিতে জানাচ্ছি যে ৪ নভেম্বর বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের যাঁরা ব্যাংককে পৌঁছেছেন, তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে সব ধরনের খুঁটিনাটি জানতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। এবং তা জানার সঙ্গে সঙ্গেই গুরুত্বপূর্ণ হোক না-হোক, পররাষ্ট্র দপ্তরকে জানিয়ে দিচ্ছি। ব্যাংককের পাকিস্তান দুতাবাস বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের বিষয়ে দারুণ আগ্রহ দেখাচ্ছে। ৪ নভেম্বর তাঁরা পৌঁছানোর পর তাঁদের বিমানবন্দর ত্যাগ করার অনুমতি দেওয়া হয় এবং তাঁরা এখন ভিক্টোরিয়া হোটেলে অবস্থান করছেন। পাকিস্তান দুতাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশ দুতাবাসই থাই ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের মাধ্যমে দলটিকে ক্লিয়ারেন্স করিয়েছে।

পাকিস্তানের ঝুঁকি: ৫ নভেম্বর রয়টার্সের ব্যাংকক সংবাদদাতা জন রজার্স পাকিস্তান দুতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি খালিদ নিজামীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁকে জানিয়েছেন, তিনি কর্নেল ফারুকের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। নিজামী তাঁকে বলেছেন, "এই দলটি বাংলাদেশ থেকে ব্যাংককে এসেছে বর্তমান ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণকারী সেনা কর্মকর্তাদের সম্মতিক্রমেই। খালিদ নিজামী আমাদের জানিয়েছেন, ওই গ্রুপের অন্যান্য কর্মকর্তা যাঁদের মধ্যে লে. কর্নেল খন্দকার আ. রশীদ ও লে. কর্নেল শরিফুল হক (মেজর ডালিম) রয়েছেন।"

খালিদ নিজামী বলেছেন, এ মুহুর্তে বাংলাদেশের উদ্বাস্তু কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। পাকিস্তানের জন্য ঢাকার পরিস্িথতি এতটাই অনিশ্চিত যে তাদের পক্ষে ওই কর্মকর্তাদের আশ্রয় দেওয়া সম্ভব না। কারণ, বর্তমানে যাঁরাই ক্ষমতায় থাকুন, তাঁদের তা অননুমোদনের ঝুঁকি রয়েছে।
জিয়ার পরামর্শ: ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭৫ চেসল ঢাকা থেকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে টেলিগ্রাম পাঠান যে আজ সকালে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলার গুজব নাকচ করেন। যে ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে, আমি এর একটি দৃষ্টান্ত দিলাম। বললাম, বেনগাজি থেকে এক অথবা একাধিক কর্মকর্তাকে ফিরিয়ে আনার দাবি উঠেছে কি না। জবাবে তিনি (জিয়া) বলেন, সামরিক বাহিনীতে সবকিছু শান্ত রয়েছে। যে ধরনের সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে তা গুরুত্বের সঙ্গে না নিতে তিনি অনুরোধ জানান। নির্বাসিত কর্মকর্তাদের প্রত্যাবর্তন সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে জিয়াউর রহমান বলেন, তাঁরা (ফারুক-রশীদ) ঢাকার সমস্যা সম্পর্কে জানেন, যা কিনা তাঁরা ফিরে এলে আরও প্রকট হবে। সুতরাং তাঁদের আরও অপেক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। (শেষ)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/28995889 http://www.somewhereinblog.net/blog/jiboneblog/28995889 2009-08-18 16:35:09