পদ্মা সেতু প্রকল্পের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ৷ এ প্রকল্পের সফল বাসত্মবায়নের উপর নির্ভর করছে মংলা বন্দর, শিল্পনগরী খুলনাসহ এ অঞ্চলের উন্নয়ন ভবিষ্যত্৷ পদ্মা সেতু নির্মাণ এবং পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা হলে কেবল মংলা বন্দরই নয়, গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক দৃশ্যপটই বদলে যাবে ৷ এ সেতু নির্মাণের জন্য প্রাথমিক প্রসত্মুতি চলছে। মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা সেতুটি নির্মিত হবে বলে ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে৷ ৫ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ২৫ মিটার প্রস্থ এ সেতুর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা৷ নকশা প্রণয়ন কাজ শেষ হতে সময় লাগবে প্রায় ২ বছর৷ এর পরই শুরু হবে সেতুর নির্মাণ কাজ৷ নির্মাণ কাজ শেষ হতে ২০১২-১৩ অর্থবছর পর্যন্ত সময় লাগবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে৷
পদ্মায় মওয়া নির্মিত সেতু হলে ঢাকার সাথে মংলা বন্দরের দূরত্ব অনেক কমে আসবে৷ ঢাকার সাথে সড়ক পথে চট্টগ্রামের এখন দূরত্ব ২৬৪ কিলোমিটার৷ মাওয়া সেতু নির্মিত হওয়ার পর মংলা থেকে ঢাকার সড়ক পথে দূরত্ব দাঁড়াবে মাত্র ১৭০ কিলোমিটার৷ অর্থাত্ চট্টগ্রামের চেয়ে ঢাকার সঙ্গে মংলার দূরত্ব কমে যাবে ৯৪ কিলোমিটার৷ এতে চট্টগ্রামের চেয়ে মংলা বন্দর দিয়ে ঢাকা ও তার আশপাশ এলাকায় পণ্য পরিবহনের ৰেড়ে সময় এবং পরিবহন খরচ কমে যাবে৷ তখন ব্যবসায়ীরা মংলা বন্দর ব্যবহারে বেশি আগ্রহী হবে৷ পদ্মা সেতুর পাশাপাশি পাইপ লাইনের মাধ্যমে এঅঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা নেয়া হলে মংলা বন্দরের জন্য সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে৷ খুলনা নগরী ও তার আশপাশে নতুন নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে৷ এক সময়ের শিল্পসমৃদ্ধ খুলনা ফিরে পাবে তার হারান গৌরব৷ হাজারো মানুষের জন্য সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থানের নানা সুযোগ৷
অন্যদিকে নেপাল, ভুটানসহ কয়েকটি দেশের মংলা বন্দরকে ট্রানজিট হিসাবে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে৷ ১৯৯৭-৯৮ সালে একবার নেপাল মংলা বন্দরের মাধ্যমে ৬০ হাজার টন পণ্য হ্যান্ডলিং করেছিল৷ সরকার উদ্যোগ নিয়ে উলেস্নখিত দেশকে ট্রানজিট সুবিধা দিতে পারলে মংলা বন্দরের গতিপ্রবাহ অনেক বেশি বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে৷
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

