আমার কখনও ঠেসে ঠেসে পড়া মুখস্থ করতে ভাল লাগতো না। কিন্তু ছোটবেলায় আম্মু সবসময় তাই করাতো। যখন ক্লাস সিক্সে পড়ি, ফাইনাল পরীক্ষার আগে আম্মু প্রত্যেকটা প্রশ্ন-উত্তর সেরেলাক যেভাবে গুলে তারপর ঠেসে গেলায় ওইভাবেই গিলিয়ে দিল। কারণ আমার প্রথম আর দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা খারাপ হয়েছিল। পরীক্ষার হলে গিয়ে দেখি একটুখানি নড়লে চড়লেই পেটের মধ্যে ঢক ঢক করছে পড়াগুলো। কি কান্ড!
আমিতো নিজের পেটের শব্দ নিজেই শুনছিলাম আর ভয়ে ভয়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছিলাম কেউ না আবার শুনে ফেলে। তবে কারো চেহারা দেখে মনে হয় নি যে শুনেছে।
একদম প্লে-গ্রুপ, নার্সারী থেকেই আমার একগাদা বই আর খাতা ছিল। ব্যাগটা এত ভারী হয়ে যেতো, কাঁধে নেয়ার পর মনে হতো আমিই বুঝি উল্টে পড়বো পিছন দিকে। কতদিন টাল-মাতাল হয়েও গেছি। কি যে কষ্ট হতো তখন!
তারমানে আবার এই না যে আমি পড়তে ভালবাসি না। আমার পড়তে খুব ভাল লাগে। তবে কি না সেটাতে আনন্দ থাকতে হবে। মন থেকে না হলে কি আর পড়া হয়! সেটা পড়ার বই-ই হোক, আর গল্প কি কবিতা।
এখন আমি আর জোর করে কিছু পড়ি না, কোন কাজই করি না। শুধু নিজের ইচ্ছা নিয়ে, আর ভালবাসা নিয়ে মন থেকে যে কাজটা আসে তাই আমি করি। মন থেকে যে পড়াটার প্রতি ভালবাসা আসে তাই আমি পড়ি। এখন আর কাঁধে অত ভারী একটা ব্যাগ ঝুলাই না আমি, বরং মনটাকে পূর্ণ করে নিয়েছি কত রঙের লেখায়!
আরো অনেক অনেক কিছু পড়তে চাই বলেই এলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



