এখন আমি প্রায় আশি ভাগ নিশ্চিত যে তুই আসছিস। গতকালই জানতে পারলাম, খুব সকালে। আমি একা একাই কি যে অস্থির, কি যে টেনসন! তোর বাবা তখনো ঘুমে। ওকে না জানিয়েই চলে যেতে হল অফিসে। আর সারাদিন তোকে নিয়ে চিন্তায় ছটফট ছটফট। একদম যখন থাকতে পারছিলাম না তখনই তোর খালামনির সাথে কথা হল। উফ্ দুই বোনে কত যে জল্পনা-কল্পনা!
বাসায় ফিরে তোর নান্নানকে জানালাম ফোন করে। কেমন বোকা বোকা হয়ে চুপ হয়ে গেল, যদি শুনতি। তুই নিশ্চয়ই হাসতে হাসতে কুটিপাটি হয়ে যেতিস। আর তোর বাবার কান্ড দেখ, এতবার বলে দিলাম আজকে আগে এসো...তাও তার সবচেয়ে দেরি করাই চাই।
ওকে শুধু বললাম, তুমি বোঝো নাই? ও খুব অদ্ভুত একটা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর খুব অস্ফুটে বলল, সত্যি!
আর তারপরেই অস্থির...অস্থির...একবার উঠে দাঁড়ায়, আবার এসে বসে, আবার একটু বারান্দায় হেঁটে আসে। যেন কথাটা ওকে কোন ঘোরের মধ্যে নিয়ে গেছে, বিশ্বাসই করতে পারছে না। তারপরে অনেক অনেকক্ষণ আমাকে ধরে বসে থাকল।
তুই আসছিস...সেটা এখনো আমরা বুঝতে পারছি না কোনভাবেই। নিজেকে জানান দিসনি তুই। তারপরও গতকাল থেকে সবকিছু কেমন বদলে গেছে। তোর বাবা সারারাতে একটু পর পর আমার খেয়াল নিল। আমিতো জানি, আসলে সে তোকেই দেখে-শুনে রাখছে। বদলে গেছে ওর কথা বলার ভঙ্গি, তাকানো, স্পর্শ।
তোর দাদীকে বলছিল, আপনি দাদী হচ্ছেন। আর ও..............ও বাবা হচ্ছে। বদলাতে তো হবেই।
আমার কথা জানতে মন চাইছে বুঝি? তুইতো আমাকে প্রতি স্পন্দনে বুঝতে পারিস। বলে দিতে হবে? তুইতো জানিস এখনও সারাক্ষণ কেমন ধুকপুকানির মধ্যে থাকি। যদি সত্যি না হয়। যদি আবারও আগের মত তুই একটু লুকোচুরি খেলিস। সেই ভয়েই আমি অস্থির।
তাই তোকে লিখছি। যেন আরেকবার ফাঁকি দেয়ার আগে মা'র জন্য তোর খুব করে মায়া হয়। আমার সোনা তুইতো জানিস কত করে তোকে আমি চাই। তোর জন্য আমার বুকটা ভরা এক সমুদ্র ভালবাসা। তুই খুব শিগগির শিগগির চলে আয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


