somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপনি ঘুমান কী করে, প্রধানমন্ত্রী?

০৯ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনি ঘুমান কী করে, প্রধানমন্ত্রী?
ফাহাম আব্দুস সালাম, ক্যানবেরা থেকে:

কর্নেল এনশাদের দীর্ঘ চাকরিজীবনের বাকি ছিল মাত্র এক সপ্তাহ। ‘সেদিন’ ছিল তার জন্মদিন। কথা ছিল সে রাতে তারা যাবেন আইসক্রিম খেতে, সবাই মিলে। কর্নেল এনশাদের জীবনে ‘সে রাত’ আর আসেনি।

কর্নেল গুলজারের পরিবার মুক্তিযুদ্ধের সময় দল বেধে পালাচ্ছিলেন। পানির প্রয়োজন হলে খোঁজে বের হন গুলজারের পিতা ও অন্য আরেকজন। দ্বিতীয়জন ফিরে আসেন। প্রথমজন আসেননি। গুলজারের মা চিরজীবন এই আশায় ছিলেন যে তার স্বামী একদিন ফিরবেনই। কর্নেল গুলজারের লাশ এখনো মেলেনি সম্ভবত। এমন দুঃসহ অপেক্ষার প্রহর আরো কতগুলো জীবনকে অসহনীয় করে তুলবে কে জানে?

পমি ভাইয়ের (মেজর গাজ্জালী) সঙ্গে ছেলেবেলায় তাদের ড্রাম ফ্যাক্টরির অফিসার্স কোয়ার্টারে কতই না খেলেছি ‘সোলজার সেট’ নিয়ে। খেলার নাম হলো ‘গানস অব নাভারন’। গুলি হবে মুখ দিয়ে আওয়াজ করে। একপক্ষ যদি মনে করে অন্যপক্ষের অমুক সোলজার তার মুখের গুলিতে মারা গেছে, তাহলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে শুইয়ে দিতে হবে। এ নিয়ে ঝগড়াও হতো। ঝগড়ায় জিতলে শুইয়ে দেয়া সোলজারকেও দাঁড় করানো যাবে। পমি ভাই, আজ বড্ড কষ্ট হচ্ছে, ভিজে আসছে চোখ। আপনাকে যদি দাঁড় করানো যেত, আর একটি বার।

হায়দার (ক্যাপ্টেন তানভীর) ছিল আমার চেয়ে এক ব্যাচ জুনিয়র। খাড়া খাড়া চুলের শানত্ম, লিকলিকে লম্বা এই ছেলেটাকে কুমিলস্না ক্যাডেট কলেজে কোনোদিন হার্ডলস রেসে হারাতে পারেনি কেউ।

আমি কেবল জানতে পারিনি আমার এ ছোট ভাইটি ঠিক তার নামের মতোই সুপুরুষ বীর। হায়দার সেই ভয়ঙ্কর মুহূর্তটিতেও কেড়ে নিয়েছিল অস্ত্র, পাশের সৈনিক থেকে। কিন্তু গুলি করেনি। ভাই কেন ভাইকে গুলি করবে। সরল ভাইটি বুঝতে পারেনি যাকে সে ভাই মনে করছে, ওরা ছিল দানব।

আমার আরেক ছোট ভাই ক্যাপ্টেন মাজহার প্রাণভিক্ষা চায়নি। শেষ মুহূর্ত পর্যনত্ম বোঝাতে চেয়েছিল শানত্ম হতে। আর অপেক্ষা করেছিল সাহায্যের। মেজর জেনারেল শাকিলও অপেক্ষা করেছিলেন সাহায্যের। কিন্তু সে সাহায্য পৌঁছেনি।

প্রধানমন্ত্রী, এ সৈনিকেরা আশা করেছিল সাহায্য আসবে। শেষ নিঃশ্বাসটুকু তারা ফেলেছিল হয়তো এই আশা নিয়ে যে এক্ষুণি সাহায্য আসবে। আপনার জীবনে গৌরব ও সম্মানের মূল্য কতটুকু জানি না। কিন্তু ওদের জীবনে ও দুটোই সব। ওরা প্রতিজ্ঞা করেছিল এ দেশের সঙ্গে, ঋরমযঃ ঃরষষ ফবধঃয। ওরা ওদের প্রতিজ্ঞার মূল্য দিয়েছে, আপনি দেননি। আপনি সাহায্য পাঠাননি। সৈনিক কখনো হতাহতের সম্ভাবনা বুঝে লড়াই করে না। করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, ন্যায়ের পক্ষে।

অন্যায় ও অনিষ্টের দমন করার জন্যই যে শক্তির প্রয়োজন। আপনি অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেছেন, লড়াই করেননি। আমি দুঃখিত। আপনি এদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, কিন্তু আপনি আমার নেতা হওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন। আপনি কৌশলী হতে পারেন, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার আত্মিক শক্তি আপনার নেই। অসুন্দর আর অন্যায়ের সঙ্গে চিরকাল সমঝোতা করতে করতে আজ বিপদের মুহূর্তে কেবল আপসের কথাই আপনাদের মাথায় আসে।

আপনার কারণে আমার মাথা হেট হয়ে আসে। আমরা সেই অযোগ্য জাতি যারা তাদের বীরদের সাহায্য করার চেষ্টাটুকু করেনি। রাগে আমার শরীর অসার হয়ে আসে, যখন দেখি পরদিন আপনার গুণকীর্তনে ভরে যায় পত্রিকার পাতা। আপনি নাকি জীবন বাঁচিয়েছেন। এমনসব কাপুরুষের জন্য কলম হাতে নেয়াটাই শ্রেয়। ‘এগুলোর’ অন্য কিছু বহন করবার শক্তি নেই।

আপনার অনন্য ‘বিচক্ষণতার’ সুযোগে হত্যাকারীরা হত্যা, লুণ্ঠন ও নির্যাতনের যথেষ্ট সময় পায় এবং তারপর পালিয়েও যায়। একবার ভাবুন তো, আজ যদি আপনার ওপর কেউ গুলি চালায় এই সৈনিকেরা কি ঈধংঁধষরঃু-র পাটিগণিত কষে এগিয়ে আসবে? আক্রমণকারীকে পাল্টা গুলি চালাতে গিয়ে যদি মারা যায় কোনো নিরপরাধ সাধারণ মানুষ- একবার প্রশ্নও করা হবে না তার জন্য। এই বাচ্চা ছেলেগুলো তাদের বুক পেতে দেবে আপনার জন্য। হিসাব করবে না তারা ফবধঃয ঃড়ষষ-এর। ওদেরও প্রয়োজন হয়েছিল- একবার আপনার সাহায্যের। মনে রাখবেন, সেদিন আপনি হাত গুটিয়ে নিয়েছিলেন।

হায়দার, মাজহার আর পমি ভাইয়ের চেহারা মনে এলে আজ আমি চোখের পানি আটকে রাখতে পারি না। তবু আমার গর্ব হয়, এমনসব বীরের সঙ্গে আমি কাটিয়েছি অনেকগুলো বছর, চিনেছিলাম তাদের, কাছ থেকে। আর আমার লজ্জা হয়, আমি আপনাকেও চিনেছি।
২৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×