বিডিআর বিদ্রোহের ব্যাপারে গ্রেফতার হয়েছেন সাবেক বিডিআর হাবিলদার আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা তোরাব আলী। জানা গেছে, বিডিআরের বিদ্রোহী জওয়ানরা হাজারীবাগের মনেশ্বর রোডের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে সাবেক বিডিআর হাবিলদার তোরাব আলীর কাছ থেকে দিক নির্দেশনা নিয়েছিলেন। আগে থেকে বিডিআরে কর্মরত অভিজ্ঞ জওয়ানরা তোরাব আলীর বাসায় যাওয়া-আসা করতেন। বিশেষ করে তোরাব আলীর ছেলে শীর্ষ সন্ত্রাসী লেদার লিটন ছিল বিডিআর সদর দফতর সংলগ্ন লেদার টেকনোলজি কলেজ ছাত্র সংসদের সভাপতি এবং নব্বই দশকের সন্ত্রাসী নিহত টাইগার বাবুলের সহযোগী। ৯৮ সালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজ মেয়ে জামাইকে বিডিআরের পণ্য ঠিকাদারী পাইয়ে দেয়ার অভিযোগে কর্তৃপক্ষ তোরাব আলীকে চাকরি থেকে বরখাসত্ম করে। এরপর থেকে ছেলে লেদার লিটন ও জামাইয়ের প্রভাবে বিডিআরে ঠিকাদারী শুরু করেন তোরাব আলী। অবসরের পর প্রকাশ্যে বিডিআরের কর্মকর্তাদের হুমকি-ধামকি দিয়ে ঠিকাদারী কাজ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিডিআর বীরশ্রেষ্ঠ নুরমোহাম্মদ পাবলিক স্কুল অ্যান কলেজে ছাত্র ভর্তি করার ব্যাপারেও তোরাব আলীর সঙ্গে সমাঝোতা করতে হতো। এভাবেই সদর দফতরের প্রতিটি সেক্টরে তোরাব আলীর ছিল একচ্ছত্র আধিপত্য। ডিএডি থেকে শুরু করে নায়েক, হাবিলদার, সুবেদার এবং সিভিল পর্যায়ের ক্লার্ক ও সেকশন অফিসারদের সঙ্গে তার ছিল সখ্য। এ সকল কারণে বিদ্রোহ ছাড়াও বিডিআরে কোনো ঘটনা ঘটলে প্রশাসন জানার আগেই তার কাছে খবর এসে যেতো। বিডিআর বিদ্রোহের আগে ও পরে জওয়ানরা তার বাসায় গিয়ে দিক নির্দেশনা নিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। বিশেষ করে বিদ্রোহের পর নেতৃত্ববিহীন প্রায় ২ শতাধিক জওয়ান ৫ নম্বর গেট দিয়ে তার বাসায় আসা যাওয়া করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি তোরাব আলীর পরামর্শ অনুযায়ী বিদ্রোহী জওয়ানরা অস্ত্র ও পোশাক ফেলে বিডিআর এক নম্বর গেট থেকে শুরু করে ৫ নম্বর গেট পযনর্ত্ম গণকটুলি, বাড্ডানগর লেইন, মনেশ্বর রোড দিয়ে বেরিয়ে তোরাব আলীর বাসায় ওঠেন। কিছু জওয়ান অস্ত্র ও পোশাক পরেই বেষ্টনি থেকে বেরিয়ে পড়েন। এ সকল কাজের উপদেষ্টা হিসেবে তোরাব আলীর অগ্রণী ভূমিকা ছিল বলে হাজারীবাগের একাধিক বাড়ির মালিকরা জানিয়েছেন।
এদিকে পুলিশ ও গোয়েন্দারা জানান, গত জোট সরকারের আমলে পুলিশ তোরাব আলীর মনেশ্বর রোডের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২টি আগ্নেয়াস্ত্র পেয়েছে। এ সংক্রানেত্ম লালবাগ থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। দীর্ঘদিন জেল খাটার পর তোরাব আলী জামিনে ছাড়া পান। এছাড়া একই সময়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী, তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও মোস্ট ওয়ান্টেড লেদার লিটনকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ পস্নাজা থেকে গ্রেফতার করে। এসময় তার ব্যবহৃত বিলাস বহুল গাড়ি জব্দ করে গোয়েন্দারা। এরপর থেকে দীর্ঘদিন লিটন কারাগারে ছিলো। তার বিরুদ্ধে আলোচিত চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে লিটন জামিনে ছাড়া পায়। বিদ্রোহের পর ২৬, ২৭, ২৮ ফেব্রুয়ারি বিডিআরের পক্ষে লেদার লিটন এলাকার সন্ত্রাসীদের নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে- যা টিভি ফুটেজে প্রমাণ পেয়েছেন গোয়েন্দারা। একাধিক গোয়েন্দা তদনেত্ম বিডিআর বিদ্রোহে বিদ্রোহী জওয়ানদের সঙ্গে তোরাব আলী ও তার ছেলে লিটনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। গ্রেফতারকৃত তোরাব আলীকে র্যাব গতকাল লালবাগ থানায় ন্যসত্ম করেছে। রিমান্ড চেয়ে পুলিশ তাকে আদালতে পাঠিয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

