বাঙালি ফ্যান্টাসি ; রং-ঢঙ আর আনুষ্ঠানিকতা বড় পছন্দ করে।তারা সব কিছুরে অনুষ্ঠান বানাইয়া একটা চকচকে মোড়ক বসাইয়া দেয়।
সারা বছর যে শহীদ মিনারের পাদদেশে কুততা ঘুইরা বেড়ায়; বছরের একটা এবং আরো কয়েকটা দিন বেশ রং-ঢঙ হয় সেখানে!
রাজনীতিবিদ আর রাষ্ট্রপ্রধানদের ফলের ভারে মলিন হয়ে ওঠে আমার প্রিয় শহীদ মিনারটি!
বেশ মরডান হইয়া উঠছে বর্তমান প্রজন্ম। এত মরডান আর মডারেট বাঙালি এরে আগে আর কখনো দেখা যায় নাই।
দিনের বেশির ভাগটা সময় আমর কি সুন্দ কইরা এংরাজি বলি। এর এসবের মাঝেমাঝে বলি বাংলা। তয় বাংলাটা যেভাবে উচ্চারন করি তাতে তা হয়ে ওঠে প্রায়-এংরাজি।
আমাদের ভাষাবিদেরা খুব তাড়াতাড়ি যে নতুন উচ্চারন অভিধান বের করবেন ; তা হলফ করেই বলা যায়।
আমরা সারাদিন এংরাজি বলি। আমাদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-টেলিভিশন-রাজনীতিবিদ-আমলা-আমরা সবাই সারাদিন এংরাজি বলি।
আমাদের রেডিও ফুর্তির আফারা এত সুন্দর করে এংরাজির সাথে বাংলা মিশিয়ে তাদের বাংলাপ্রিয়তার পরিচয় দেন;তা শুনে সুখে ভরে যাই প্রতিটি বাঙালি। তারাই আমাদের মনে করিয়ে দেন বাংলা বলে বলে একটা ভাষা আছে । আমাদের একুশ আছে।
একুশ একুশ বলে আমাদের গর্বের অন্ত নাই। আমরাই এমন এক জাতি যারা ভাষার জন্য জীবন দিছি। আর আমরাই একমাত্র জাতি যে তার ভাষাকে ;ভাষার অহংকারকে নিজ হাতে খুন করছি।জিন্না সাহেবের কথা উঠলে আমাদের নতুন প্রজন্ম;রাজনীতিক;বুদ্ধিজীবিরা গালাগালির একশেষ করে ছাড়েন। জিন্নার মুখে থু থু ছিটান।
অথচ আমরা এ এখন হয়ে উঠেছি এক -একটা বড় জিন্না ।
জিন্না যা পারে নাই ; আমরা তা পারছি।
আমার 'আমারে ভাইয়ের রক্তে রাঙানো 'লিখছি ; তারপর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিয়া বাংলাকে মহান করে তুলছি। কিন্তু 'বাংলাকে রাষ্ট্রের ভাষা ' করে তুলতে পারি নাই । বা তুলি নাই।
১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত সময়ে পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় যে ভাষা কেন্দ্রিক শ্রেণীবৈষম্য ছিল ; আমাদের আজকের বাংলাদেশেও তাই হচ্ছে । শুধু উর্দূর জায়গায় এখন এংরাজির রিপ্লেসমেন্ট।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

