চিহ্ন ০০২
২১ শে মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৫৭
...
কায়েস একটু পিছিয়ে গিয়ে ঘরের দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়ায়। ওয়াইনের কল্যাণেই কি না কে জানে, তার চোখের সামনে সবকিছুই মনে হচ্ছে স্বচ্ছ কোন তরলের মধ্যে ডোবানো, মাঝে মাঝেই পৃথিবী দুলে উঠছে মৃদুলয়ে।
কেন আমি এই ঘরে দাঁড়িয়ে আছি? নিজেকে প্রশ্ন করলো কায়েস মনে মনে।
শারমিন ঘুরে দাঁড়ালো ঝট করে। তার চোখে রাগের হল্কা এখনো কাটেনি। "মানে?" চাপা গলায় হিসিয়ে ওঠে সে।
কায়েস চমকে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। কী আপদ, মনে মনে প্রশ্নগুলি যদি জোরে জোরে হয়ে যায় তাহলে দেশটা চলবে কিভাবে?
শারমিনের দিকে তাকিয়ে কায়েস একটু বিস্ময় বোধ করে। শুরুতে আঁতকে উঠলেও সামলে নিয়েছে শারমিন। একটা আবছা পর্দা নেমে এসেছে মুখের অভিব্যক্তিতে, কিন্তু নিরুপমা ফৌজদারের মতো এতোটা বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে না তাকে।
কায়েস আড়চোখে নিরুপমা ফৌজদারের দিকে তাকায়। ঘরের বামদিকে নিচু সোফার ওপর এলিয়ে পড়ে আছেন মহিলা। কায়েস আড়চোখে শারমিনের দিকে তাকিয়ে সতর্ক হয়ে ওঠে, শারমিন কঠিন, সরু চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকেই।
ভেতরে ভেতরে একটু বিদ্রোহ করে ওঠে কায়েসের মনটা। আমি একজন লেখক, রীতিমতো কষ্ট করে এবার মনে মনে বলে সে, একেবারে সিনেমার স্ক্রিপ্টরচয়িতা যাকে বলে। আমার কাজই হচ্ছে পর্যবেক্ষণ। এখন প্রতিটা ঘটনা আমাকে খুঁটিয়ে দেখতে হবে একশো চোখে। শারমিনকে এখন আমি পরোয়া করি না।
কায়েস এবার ঘাড় ঘুরিয়ে মিসেস ফৌজদারকে দেখতে থাকে। মিসেস ফৌজদারের বয়স দিলনাজের চেয়ে দুয়েক বছর বেশিই হবে, সৌন্দর্যে তিনিও দিলনাজের চেয়ে কম যান না। তবে শোকের মূহুর্তে (নাকি শকের মূহুর্তে, কায়েস কষ্ট করে আবার মনে মনে ভাবে, আর এই পান এর জন্য নিজের পিঠ নিজেই চাপড়ে দিতে চায়) সোফায় এলিয়ে পড়লেও কায়েসের মতো দুষ্টু লোকজনের দৃষ্টির জন্য কোন কিছু বরাদ্দ রাখেননি তিনি, তাঁর চমৎকার আকাশের নকশা কাটা শাড়ি সবকিছু মাপজোক করে ঢেকে রেখেছে। কায়েস নিরুপমা ফৌজদারের গ্রীবাদেশের দিকে তাকিয়ে আনমনে ভাবে, কপাল বটে মনসুর ফৌজদারের।
শারমিন আবারও ঘাড় ফিরিয়ে তাকায় কায়েসের দিকে। "কী?" ফিসফিসিয়ে বলে সে।
কায়েস বিরক্ত হয়। বলে, "কিছু না।"
কায়েসের কণ্ঠ হয়তো বিরক্তির চাপেই দুয়েক পর্দা চড়ে গিয়েছিলো, সোফার ওপর ঝুঁকে পড়া স্ত্রীকে সান্ত্বনারত মনসুর ফৌজদার ঘাড় ফিরিয়ে তাকান কায়েসের দিকে। কায়েস শুনতে পায় তিনি বলছেন, "কামরান সাহেব, একটু দেখবেন মালিক কোথায়?"
(একটু পর আবারও নামবে আরেকটা টুকরো ...)
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৫৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
সুমন চৌধুরী বলেছেন:
spannend!
আড্ডাবাজ বলেছেন:
এতো ছোট!
হাসিব বলেছেন:
কয় বালতি ওয়াইন খাইছিলো ?
উৎস বলেছেন:
কায়েসকে এত দোষ দেয়া হচ্ছে কেন?
ধুসর গোধূলি বলেছেন:
কায়েস হালায় একটা হিমু, সেইজন্য @ উৎস
আনোয়ার সাদাত শিমুল বলেছেন:
টুকরো টুকরো করে কয় মিনিট পার হলো?
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














