সুন্দরী বালিকাদের যত্ন করে কামড়াই

ছোট্ট একটা সায়েনস ফিকশান

১৪ ই মার্চ, ২০০৬ বিকাল ৪:১৩

শেয়ার করুন:                   Facebook


বিজ্ঞানী ওমর আলি, ও. আলি নামে যিনি বিজ্ঞানী মহলে প্রচন্ড পরিচিত মারমুখো গবেষক হিসেবে, নিন্দুকে বলে তিনি গবেষণার চেয়ে মারপিট করতেই ভালোবাসেন বেশি, আঁতেলেকচুয়াল বোলচাল আর শারীরিক গোলমাল দুটিতেই তিনি পারদর্শিতা দেখাতে চান, একটু অন্যমনস্ক হয়ে গেলেন টেস্টটিউবটা হাতে নিয়ে।

টেস্টটিউবের ভেতরে একটা ময়ূরকনঠী নীল রঙের জেলি [কেউ যদি ভাবেন আমি সত্যজিৎ রায়ের ময়ূরকনঠী জেলির অনুকরণে কিছু লিখছি, তাহলে মুড়ি খান], থকথকে রঙ, জেল্লা বেরোচ্ছে তা থেকে। বিজ্ঞানী ও আলির সুদীর্ঘ তেইশ বছরের গবেষণার ফসল এটি।

আজই টের পাবে ঐ বিবর্তনবাদী দুম্বাগুলো, মনে মনে হাসেন ও. আলি, মুহুহুহুহুহু ... বিবর্তন যে একেবারেই ভুয়া একটি তত্ত্ব, সেটি তিনি বলেন না। তাঁর মতবাদ হচ্ছে, দুনিয়ার সবকিছু বিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু মানুষ বিবর্তিত হয়নি। মানুষ তো আদমের সন্তান, আর আদমকে বানানো হয়েছে মাটি থেকে, এইসব বান্দরের হাড্ডিগুড্ডি দেখিয়ে বিবর্তনের সমর্থকরা কী বোঝাতে চায় তাঁকে, বিজ্ঞানী ওমর আলি ওরফে ও. আলিকে?

ও. আলি দাঁতে দাঁত ঘষেন। তিনি দেখিয়ে দেবেন এসব গাধার দলকে। পারলে তো বেসবল ব্যাট দিয়ে পেঁদিয়ে বারোটা বাজাতেন সবার, কিন্তু পুলিশি হুজ্জতে পড়তে চান না তিনি। গ্যালোবার প্যারিসে এক জার্মান বিজ্ঞানীর সাথে হাতাহাতি করে বড্ড ঝামেলায় পড়েছিলেন তিনি, হাজতে দেড়দিন ছারপোকার কামড় খেতে হয়েছিলো।

এই ময়ূরকনঠী জেলি পান করে তিনি বিবর্তনের পথে পিছু হটে ফিরে যাবেন পাঁচ মিলিয়ন বছর আগে। মানে, সময় থাকবে এই 2006 সালেই, কিন্তু তাঁর শরীর প্রতিবিবর্তিত হয়ে ফিরে যাবে পাঁচ মিলিয়ন বছর আগে যেমনটা ছিলো, তেমনটায়। ও. আলি জানেন, ঔষধটা খাওয়ার পরও তিনি যেমন আছেন, তেমনই থাকবেন, পরিবর্তন হবে না একচুল, কারণ তিনি আদমসন্তান, কোন বিবর্তনপথু বানর থেকে তিনি আসেননি।

ও.আলি আয়নায় নিজেকে দেখেন। ডোরাকাটা একটা গেঞ্জি, আর সাদা ফুলপ্যান্ট পড়ে আছেন তিনি। কী ভেবে একটা ডোরাকাটা টুপি পড়ে নেন তিনি, তারপর আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজেকে চোখ টিপে ঢকঢক করে গিলে ফেলেন সেইময়ূরকনঠী জেলি!

কী একটা প্রবল ঝাঁকুনি লাগে তাঁর শরীরে, ও. আলি তাল সামলাতে পারেন না, টেবিলটা আঁকড়ে ধরার ব্যর্থ চেষ্টা করে মাটিতে আছড়ে পড়েন।

জ্ঞান ফেরার পর তিনি টলতে টলতে আয়নার সামনে দাঁড়ান। অমনি তাঁর গায়ের রোম সব দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু ... কিন্তু এত রোম তো তাঁর গায়ে আগে ছিলো না! ও. আলি ভালো করে নিজের দিকে তাকিয়ে দেখেন, আয়নায় একটা শিম্পাঞ্জী কুঁৎকুঁতে চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে!

ও. আলির মাথায় কী যেন ওলটপালট হয়ে যায়, কু কু কু কু শব্দ তুলে তিনি ছুটে যান এক কোণায় পড়ে থাকা বেসবল ব্যাটটার দিকে ...।

এমন সময় ধড়াম করে দরজা খুলে ভেতরে ঢোকে তাঁর সহকারী শ্রাবণ দত্ত, হাতে একটা পুরানো পেনট্যাক্স ক্যামেরা ...।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি  বিভাগে ।

 

  • ১৭ টি মন্তব্য
  • ৪৬৬ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৩ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৪ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ৯:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: ভাল্লাগলো তোমার শাখামৃগ কথা
২. ১৪ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ৯:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: সমস্ত পোস্ট বান্দরের ছবি দিয়ে। অরূপের আইডিয়াটা খারাপ না। একটা আইটেম দেয়া আছে। শাখামৃগের ছবি, হাতে বেসবল ব্যাট। সবাই যার যার মত লিখেন।
কেউ শুধু রং করতে পারেন।
কেউ লিখতে পারেন ছড়া, কবিতা।
কেউ প্রবন্ধ।
হিমু তো লিখেছেনই সায়েনস ফিকশান।
কৌতুক সংকলন হতে পারে।
সুমন বা কামরান গান লিখতে পারেন।
কিন্তু ম্যাটেরিয়াল একটা --'শাখামৃগের ছবি'। আর পোস্টে এই ছবিটাই থাকবে।
অরূপ এখন এই কথা সবার মন্তব্যের জায়গায় লেখালেখি করে জানান দিতে হবে। নেমে পড়েন কাজে।
যার সৃজনশীল কাজ সবার বিবেচনায় সর্বোত্তম হবে তার জন্য আমি একটা পুরষ্কার ঘোষণা করলাম।
পুরষ্কার পরে মতামতের ভিত্তিতে ঠিক হবে।
৩. ১৪ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ৯:০৩
comment by: উৎস বলেছেন: তুখোড়!
৪. ১৪ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ৯:০৩
comment by: অরূপ বলেছেন: বান্দর কাহিনী অবগত যারা:
--------------------------
বান্দর এর যন্ত্রনা ইদানিং বেড়েছে। সীমা ছাড়ানো এই বান্দরের কথা মনে রেখে আগামীকাল সমস্ত পোস্ট এই বান্দরের ছবি দিয়ে করলে কেমন হয় ?

৫. ১৪ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ৯:০৩
comment by: অরূপ বলেছেন: হাতে ব্যাট, মনে নাই শান্তি
বান্দর তুই যদি জানতি!
ঘিলু তোর নেই কিছু
অকারনে লাগো পিছু
শালা তুই দিবি কবে ক্ষানতি?

ব্রাভো হিমুস্কা!!!
৬. ১৪ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ৯:০৩
comment by: হিমু বলেছেন: অপু তুই বলেছিস ঠিক!
পদে পদে খালি লিমেরিক!
বানরের গর্জন
ব্লগ করি বর্জন
যাই গিয়ে মুড়ি খাই ... হিক!
৭. ১৪ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ৯:০৩
comment by: অরূপ বলেছেন: সুম নভাই,
শিভাস রীগ্যালে কাম হবে ?
৮. ১৪ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ৯:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: ছবির পেছনের গল্পটা বলে তো গোমড় ফাঁক করে দিলে দাদা।
ও আলির গবেষনার খাতাটা একটু ঝেড়ে দেখবে না??
৯. ১৪ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ৯:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: তোমার কাছে ভদকা আর আছে? আমার শেষ ।
১০. ১৪ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ৯:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: ওওওওওও অরুপ..আপনে গ্রেট...চার্চিল বলছিল ব্রিটন জাতির দুইটা জিনিস টিকে থাকবে:
1) ইংরেজী ভাষা
2) হুইস্কি
১১. ১৪ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ৯:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: হিমুরে... তোরে দিমু যা কথা দিলাম। গজল-এর প্রোগ্রামে কাওয়ালী গাওয়ার একটা চান্স দিমু। ঐ গানটা পারসতো , "শাওনো রাতে যদি... স্বরণে আসে মোরে, বাহিরে ঘুট ঘইট্টা আন্ধারে, কে ওই ডাকে তোরে...." এটা গজল মাগার টেরাই মার কাওয়ালী সুরে গাওয়ার লাইগা। তোরে দিয়াই হইবো মামুর বেটা...।
১২. ১৫ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ২:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: চলে।
১৩. ১৫ ই মার্চ, ২০০৬ সকাল ৭:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: লটকায়া দিলো ভাইছাব, হফতারঙ্গি হয়ে ঝুলে থাকো নীড়পাতায়। বাছা আমার। মুখো গড়াগড়ি দিচ্ছে বোধ হয়।
১৪. ১৫ ই মার্চ, ২০০৬ সকাল ৭:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: ওই মিয়া দিছে তো তোমারে চাঙ্গে উঠাইয়া । থাকো লটকাইয়া...........
১৫. ১৫ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ৯:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: দিলাম শালা তোর এইহানতে টুইককা। তোর ভোশমা মার্কা ফটুকটা দেইখাই বুঝবার পারছি, "টাংগাইছে" তোরে। থাক এক সাপ্তা...। পারলে মামু আরো কিছু নামা, দেশ ও জাতিরে উদ্ধার কর বাপ। ছোড, বড়, মাঝারী মর্কটের লেজের শুড়শুরানি তো চালু হইয়া গেছে। অরুপ অলরেডি "ধমকীত" কপালে কি আছে কেডা জানে? মুহাহাহাহাহা....
১৬. ১৫ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ৯:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: আজকে প্রথমে আইসা মামুর লেখায় দেখি ওয়ার ছবি। ভাবলাম মামুকে একটু পঁচাই, যে যাই বলুক মামুর চেহারায় তো পূর্বপুরুষের আশ্চর্য ছাপ ... তারপর দেখি শোমচৌদা কয় অন্য কথা ... তারপর মনে পইড়া গেলো হুমকির কথা ... একটু ব্লগাইলাম। তবে মন্দ না মামু, চালায় যাও, কালে দলিল লিখক হইতে পারবা।
১৭. ১৫ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ৯:০৩
comment by: অরূপ বলেছেন: হতে দেন। পাবলিক চিনুক কোনটা বাচ্চা আর কোনটা বুড়া বান্দর!

 

 


পেশায় তড়িৎপ্রকৌশলী, নেশা বই পড়া, গান গাওয়া আর শোনা;একটুআধটু ফোটোগ্রাফির চর্চা করি, অবসরে বন্ধুদের সাথে ট্রেকিঙে বেরোই। নারীলিপ্সু মানুষ, সামান্য...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৬৭৬৪১