somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আজকালকার মাইয়ারা (ধর্মকর্ম পোস্ট) সেদিন এমএসএনে আলাপ হচ্ছিলো এক বালিকার সাথে। তাকে দাওয়াত দিচ্ছিলাম। এখনও সে হিজাব পরিধান শুরু করে নাই, দুঃখের বিষয়। আশা করি আমার স্পর্শে ও সংস্পর্শে অচিরাৎ হিজাবের প্রয়োজনীয়তা তার উপলব্ধ হবে।

তো তার সাথে গুফতাগুর এক পর্যায়ে আমরা জনৈক আলেমের ওয়াজের বিবরণ নিয়ে আলাপ শুরু করলাম। আলেম সাহেব বুজুর্গ মানুষ, এক ময়দানে ওয়াজ করছিলেন। এক পর্যায়ে আওরাৎ নিয়ে তিনি বয়ান করা শুরু করলেন। বললেন,

"বলেন ভাইসব, আজকালকার মাইয়াদের রকমসকম দেখলে কী মনে হয়?"

ময়দানে নিস্তব্ধতা নেমে আসে, চারদিক সুনসান হয়ে যায়। যেন আখিরাতে আরাফাতের ময়দান।

"কী হইলো মিয়ারা, বলেন? বলেন কী মনে হয়?"

কেউ কিছু বলে না।

"মনে হয়, চাইপ্পা ধরি!"

এবার অস্ফূট গুনগুন ওঠে চারদিকে। এ কী বলছেন আলেম হযরত?

"বলেন মিয়ারা, কী চাইপ্পা ধরতে মনে হয়?"

মিয়ারা আবার চুপ করে যান। চারদিকে টানটান উত্তেজনা। কয়েকজন মুসল্লি নড়েচড়ে ওঠেন।

"বলেন?"

কেউ বলে না।

"মনে হয়, গলা চাইপ্পা ধরি!"

এইবার একটা উৎফুল্ল সম্মতিসূচক বোল ওঠে চারদিকে। হ্যাঁহ্যাঁ ঠিক, গলা চাইপ্পা ধরতে ইচ্ছা করে সবার!

এই পর্যায়ে লজ্জিত হয়ে মেহসুস করি, আসলে গলা না, আমার অন্য কিছু চাইপ্পা ধরতে ইচ্ছা করে। গলা ছেড়ে আরো নিচে নামতে ইচ্ছা করে আমার, এই কথা দিলঙ্গম করে আমার গলা ছেড়ে কাঁদতে খায়েশ করে, আমি এতো নিচে নামতে পারলাম ভেবে।

আলেম আবার শুরু করেন বয়ান।

"বলেন ভাইসব, আজকালকার মাইয়াদের চালচলন দেখলে শরীলে কী হয়?"

ময়দানে আবারো নিস্তব্ধতা নেমে আসে, চারদিক সুনসান হয়ে যায় বিবেকের বৈঠকখানার মতো, ভোরবেলার সামহোয়্যার ইনের মতো।

"কী হইলো মিয়ারা, বলেন? বলেন কী হয় শরীলে?"

কেউ কিছু বলে না একদম।

"আজকালকার মাইয়াদের চালচলন দেখলে খাড়াইয়া যায় !"

আর্তনাদ ওঠে কয়েকটা, গুনগুন বেড়ে যায় কয়েকগুণ, কয়েকজন কাতর শব্দ করে ওঠে।

"বলেন মিয়ারা, কী খাড়াইয়া যায়?"

মিয়ারা আবার চুপ করে যান। চারদিকের টানটান উত্তেজনা আরো টানটান হয়ে যায়, নিস্তব্ধতা খাড়াইয়া যায় একেবারে। কয়েকজন মুসল্লি নড়েচড়ে ওঠেন আবার।

"বলেন?"

কেউ বলে না।

"আজকালকার মাইয়াদের চালচলন দেখলে ... শরীলের লোম খাড়াইয়া যায়!"


এ পর্যায়ে আমি আবার বিব্রত হয়ে আবিষ্কার করলাম, কিছুতেই আলেমের সাথে আমি একমত হতে পারছি না। টানটান ঈমান নিয়ে আমি বালিকার কাছ থেকে আলবিদা নিয়ে বলি, বিআরবি।

সে বলে, "খুদাহ হাফিজ।"

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28716361 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28716361 2007-06-17 22:57:00
বৈঠকখানার কিচ্ছা (ধর্মকর্ম পোস্ট) বৈঠকখানায় আমি মাশাল্লাহ বিশ্রম্ভালাপ করতে পসন্দ করি। আলাপ করতে গেলেই, খোদার ইশারা, পিঠ চুলকাতে শুরু করে।

আলাপীদের একজনকে বলি, মেরে ইয়ার শাব্বাখায়ের, আপনি কি আমার পিঠটা একটু চুলকে দিতে পারেন?

ইয়ার বলেন, ঠিক কিভাবে চুলকে দিতে হবে দুস্তাম রুজ বাখায়ের?

আমি তাঁকে আমার এমএসএন অ্যাড্রেস দিয়ে বলি, এমএসএন এ তশরিফ রাখুন, ওখানে বিস্তারিত গুফতাগু হবে ইনশাল্লাহ।

ইয়ার এমএসএনে লগ ইন করে বলে, এবার বলুন জনাব, কিভাবে পিঠ চুলকাতে হবে।

আমি বলে দেই। তিনি যথাযথভাবে পিঠ চুলকে দেন।

বৈঠকখানায় আপাতত এমনই হয়, হচ্ছে। বুঝলেন কি না।

আর কী করবো বলুন জনাব, সুফিধাবাদিতা আসে না আমার আর আমার পিঠ-চুলকানো-ইয়ারদের।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28715650 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28715650 2007-06-12 01:05:55
ক্যান্টনমেন্টে আঁশপোকা (ধর্মকর্ম পোস্ট) সেদিন প্রথম আলোতে কৃষি পাতায় প্রভুর নামে পাঠ করছিলাম জনৈক আবদুল্লাহ সাহেবের একটি আর্টিকেল। পড়ে দিলে ডর লেগেছিলো, সুবহানাল্লাহ!

ডরের সাবাব আর কিছুই না, আঁশ পোকা নামে এক বদখদ পোকায় ছেয়ে গেঝে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার গাছপালা। আবদুল্লাহ সাহেব সন্দেহ করছেন, বিভিন্ন ইউএন জেহাদে আফ্রিকা মুল্লুক থেকে ফেরত আসা যানবাহনে চড়েই এদেশে এসেছে এই ঘাগু পতঙ্গ।

আল্লাহর কী অসীম কুদরৎ, বংশবৃদ্ধির জন্য এ পোকার কোন পুরুষ লাগে না, মাদী পোকাটি একাই আরো কোটি কোটি ডিম পাড়তে পারে। হাঁ বেরাদারগণ, একে পার্থেনোজেনেসিস বলে নাসারা বিজ্ঞানীরা, যদিও আমি একে আল্লাহর কুদরৎ ছাড়া অন্য কিছু বলে মানতে নারাজ। তো, এই পোকা গাছের রস শুষে খেয়ে গাছটাকে ছিবড়ে বানিয়ে ফেলে। একবার যদি একটা মাদী পোকা কোনভাবে গাছে হামলা করতে পারে, তাহলে সেই বৃক্ষের মউত কোন আদম ঠেকাতে পারবে না, সুবহানাল্লাহ।

আপনারা হয়তো ভাবছেন, এ আর এমন কী, কীটনাশক স্প্রে করে দিলেই তো এই ক্ষুদ্র পতঙ্গ ইনসানের তাকতের কাছে পরাজিত হবে। কিন্তু না বেরাদারগণ, পোকাটি সহজে কীটনাশকে মরে না। এর জন্য চাই জবরদস্তু ওষুধ। তাছাড়া বড় বড় বুলন্দ বৃক্ষে আপনি সহজে স্প্রেও করতে পারবেন না।

এখনই যদি এই পোকাকে ঝাড়ে বংশে শেষ করা না হয়, তাহলে এটি বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে গিয়ে চাষীদের জাঝা উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। ইউরোপ আমেরিকার নাসারা লোকজন এ পোকাকে আজরাইলের মতো ভয় করে চলে।

আমাদের উচিত এখনই যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজর এদিকে আকৃষ্ট করা। আলহামদুলিল্লাহ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28715292 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28715292 2007-06-09 17:34:46
একটু ধর্মকর্ম প্রয়োজন পোস্ট করি, আমার প্রভুর নামে, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন।


সামহোয়্যার ইনের পুরনো ব্লগারদের একজন আমি --- এ কথাটা আমি প্রায়ই ছলেবলেকৌশলে বলে থাকি। আর কিছুই না, গরীবের আত্মমার্কেটিং। জানি আমার লেখা হয় না, আসে না, তাই সামহোয়্যারের জ্ঞানীগুণীদের সাথে গা ঘষাঘষি করে নিজেকে জাতে তোলার চেষ্টা আমার।

কেন আমি সামহোয়্যারের গরম করা তাওয়ায় নিজের পরোটা সেঁকে নিতে চাই? কারণ এখানে এমন কোন দিন নেই যেখানে একটা "ভালো" পোস্ট পড়ে না। অনেক প্রতিভাবানের এক সম্মিলনক্ষেত্র সামহোয়্যার ইন। আমি যদি লোকজনকে বোঝাতে পারি, আমি এখানকার পুরান বাসিন্দা, তাহলে আমার ব্লগীয় খানদানিয়াৎ বেড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।

তবে অনেক গুণী ব্লগারের মাঝখানে চিপা দিয়ে আমিও অনেক আবর্জনা দিয়ে সামহোয়্যারের কলেবর বৃদ্ধি করেছি। মাটির ঘর যেমন গোবর দিয়ে লেপে দিতে হয়।

সামহোয়্যারের চলার পথে আমিও এক তীর্থযাত্রী, ভেবে এতদিন ভালো লাগতো। কিন্তু ইদানীং নিজেকে একটু অযোগ্য মনে হচ্ছে এই তীর্থযাত্রার। ভেবে দেখলাম, গলদটা হচ্ছে ধর্মে।

ধর্মকর্ম করা হচ্ছে না আমার। যাবতীয় হাবিজাবি লিখি, ধর্ম কায়েম আদায় কিছুই হয় না।

আজ ডেসপারাডো (ভাইসাহেব বোধহয় সামহোয়্যারেরই অভ্যন্তরীণ ব্লগার হবেন) আর আরো কয়েকজন নবাগত ব্লগারের কান্নাকাটি-আস্ফালন-তর্জনগর্জন দেখে আমি লজ্জিত ও শিক্ষিত হয়েছি। আমি ঠিক করেছি, এখন থেকে আমি ধর্মের মহিমা প্রচার ও ধার্মিক বাতাবরণ সৃষ্টির লক্ষে কাজ শুরু করবো। আমিও সুফি সাদিকের মতো নানা ধর্ম, নানা পথ, নানা মুনির নানা মত নিয়ে ভাবগম্ভীর ধর্মালু পোস্ট পোস্টাবো।

আর আমার এতদিনের যে ছ্যাবলা ধারা, যা দুয়েকজন ব্লগার নিদারুণ আলস্যে পাঠ করলেও করতে পারেন, সেগুলি পাওয়া যাবে আমার ব্লগস্পট ব্লগ রয়েসয়ে-তে। আরো কিছু ব্লগস্থান থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছি ছ্যাবলামি করার, সেগুলিও বাজিয়ে দেখবো ভাবছি।

তবে সামহোয়্যারে আমার ধর্মকর্ম আমি চালিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ। সাথী ভাইদের প্রতি আমার আহ্বান, আসুন, আমরা ধর্মের পবিত্র বাতাবরণে সামহোয়্যারকে নিমজ্জিত করি। কোন জাহিল যাতে এখানে ঢুকে এমন না ভাবে, যে এখানে ধর্ম ছাড়া অন্য কোন যতসব ফালতু জিনিস নিয়ে আলাপআলোচনা হয়। ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, ইহুদি, জৈন, শিন্টো, বাহাই ... যার যা কিছু আছে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ুন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28714352 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28714352 2007-06-03 20:56:28
চিহ্ন ০০৫ রহমান নিঃশব্দে নিচু টেবিলটার ওপরে ট্রেটা রেখে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। কায়েস লক্ষ করলো, রহমান ভুলেও দিলনাজের মৃতদেহের দিকে তাকাচ্ছে না। কায়েসের চোখ চলে যায় মুস্তাফার দিকে, ছোকরা একেবারে হাঁ করে দেখছে দিলনাজের শরীরটাকে। শালা। কায়েস সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, সে মুস্তাফাকে পছন্দ করে না।

চেয়ারে বসে কায়েস একটু এলিয়ে দেয় শরীরটাকে। মনসুর ফৌজদার রহমানকে নিচু গলায় কী যেন বলেন, রহমান বেরিয়ে যায় ঘর ছেড়ে। মালিক রুমাল বার করে নিজের মুখ মোছে আবারও।

কায়েস চোখ বন্ধ করে ভাবতে চেষ্টা করে গোটা দিনটার কথা।

মনসুর ফৌজদার আজ সবাইকে ডেকেছিলেন "জাহাজডুবি" নিয়ে কথা বলতে। জাহাজডুবি একটা মাঝারি দৈর্ঘ্যের টেলিফিল্ম, যার কাহিনী কায়েসের কীবোর্ড দিয়েই বেরিয়েছে। মনসুর ফৌজদার এর আগেও বেশ কিছু টেলিফিল্মের পেছনে টাকা খরচ করেছেন, সম্প্রতি শারমিন তাঁকে রাজি করাতে পেরেছে এই জাহাজডুবির প্রযোজনায়।

শারমিনের কথা মনে পড়তে কায়েস তাকালো দরজার দিকে। ওসিকে ফোন করতে এত দেরি হচ্ছে কেন ওর?

কায়েস নিজের বান্ধবীর কথা ভাবতে গিয়ে মনে মনে হোঁচট খায়। আজকে ফেরার পথে শারমিন তাকে একগাদা কথা শোনাবে। এভাবে দিলনাজ দুররানিকে দেখার মাশুল কায়েসকে গুনতেই হবে। শারমিন জাহাজডুবির পরিচালিকা, কিন্তু মাঝেমধ্যে সে কায়েসকেও পরিচালনার আওতায় নিয়ে আসতে চায়।

পাশে দাঁড়ানো মুস্তাফার দিকে একবার বিতৃষ্ণ চোখে তাকালো কায়েস। এখনো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দিলনাজকে দেখছে বেওয়াকুফটা। এই ব্যাটা হবে জাহাজডুবির নায়ক। নায়িকা মিথিলার সাথে একটা ছোট্ট লাইফবোটে করে সাগরে ভেসে বেড়াবে সে গোটা সিনেমা জুড়ে। বাস্তব জীবনে এমন ঘটনা ঘটলে মিথিলার কপালে দুঃখই ছিলো।

রহমান ঘরে ঢোকে একটা ভাঁজ করা সাদা চাদর নিয়ে। তারপর দ্রুত হাতে সেটা খুলে ঢেকে দেয় দিলনাজকে। মুস্তাফার কণ্ঠ থেকে একটা হতাশ ঘড়ঘড়ে শব্দ বেরিয়ে আসে। মালিক ঘুরে দাঁড়িয়ে একবার দেখে নেয় মুস্তাফাকে।

কায়েস আবারও ঘটনাটার কথা ভাবে। সে আর শারমিন স্টাডিতে বসে কথা বলছিলো মনসুর ফৌজদারের সাথে, এমন সময় রহমান নক করে ঘরে ঢোকে। সোজা মনসুর ফৌজদারের পাশে গিয়ে কানে কানে একটা কিছু বলে। মনসুর ফৌজদার ভুরু কুঁচকে তাকান তার দিকে, তারপর শারমিনকে বলেন, "শারমিন, একটু এসো তো আমার সাথে।"

কায়েস শারমিনের দিকে তাকায় সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে। শারমিন উঠে বেরিয়ে যায় মনসুর ফৌজদারের সাথে। কায়েস স্টাডির নিঃশব্দ পরিবেশে মিনিটখানেক বসে থেকে সিদ্ধান্ত নেয়, বেরিয়ে গিয়ে ড্রয়িংরূমে একটু বসবে সে। স্টাডির দরজা খুলে সে বেরিয়ে আসে, তারপরে কী মনে করে ড্রয়িংরুমের দিকে না গিয়ে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যায়। সিঁড়ি বেয়ে তখনও উঠছে রহমান, তার পেছন পেছন মনসুর ফৌজদার আর শারমিন। কায়েস অনুসরণ করে তাদের। কায়েসকে দেখতে পেয়ে মনসুর ফৌজদার কিছু বলেন না, শারমিন শুধু একটু পিছিয়ে পড়ে কায়েসের সঙ্গ ধরে ফিসফিস করে বলে, "তুমি আবার আসছো কেন?"

কায়েস গম্ভীর হয়ে বলে, "একমাত্র মূলধন নিয়ে আসছি।"

শারমিন চুপ করে যায়। কায়েসের প্রিয় বুলি এটা। তার একমাত্র মূলধন নাকি কৌতূহল।

তবে ঘরে ঢুকে এ দৃশ্যটা দেখার জন্য প্রস্তুত ছিল না কেউই। বিছানার ওপর নিঃসাড়ে পড়ে আছে দিলনাজ, আর সোফার উপর ঢলে পড়ে আছেন নিরুপমা ফৌজদার।

কায়েসের মনে পড়ে, সে সাথে সাথেই তাকিয়েছিলো মনসুর ফৌজদারের দিকে। ভদ্রলোক প্রচন্ড চমকে উঠেছিলেন।

কায়েস শারমিনের নার্ভের প্রশংসা না করে পারলো না। শারমিন একটা অস্ফূট শব্দ করে উঠলেও এগিয়ে গিয়ে দিলনাজের গায়ে হাত রেখে মৃদু ধাক্কা দিয়ে ডাক দিয়েছিলো, "দিলনাজ!"

মনসুর ফৌজদার স্ত্রী নিরুপমার দিকে ঝুঁকে পড়ে তাকে মৃদু গলায় ডাকছিলেন, "নিরু! নিরু!"

শারমিন দিলনাজের নাকের সামনে হাত ধরে বিবর্ণ মুখে উঠে দাঁড়িয়ে বলেছিলো, "শ্বাস পড়ছে না!"

মনসুর ফৌজদার তখন শুধু বলেছিলেন, "ওহ নো!"

শারমিন ফোন হাতে ঘরে ঢোকে। মনসুর ফৌজদারকে বলে, "স্যার, পুলিশ আসছে কিছুক্ষণের মধ্যে।"

মুস্তাফা ফ্যাকাসে মুখে বলে, "পুলিশ?"

...

(চলবে)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28713904 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28713904 2007-06-02 01:40:54
অসমাপ্ত গল্পচিন্তায় অস্থিরতা বেশ কিছু দিন আগে আমি পথে চলন্ত অবস্থায় একটা গল্পের বীজ খুঁজে পেয়ে মনের মধ্যে রোপণ করি। হাতে কিছুটা সময় থাকায়, আর চলন্ত অবস্থায় সন্ধ্যার অন্ধকারে আমার সঙ্গী বইটিকে পাঠ করতে না পারায় সেই বীজ থেকে একটি শীর্ণ চারা গজায়। আমি নিজেকে চারাটিকে লালনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। একসময় আমার ড্রাইভার আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিয়ে জানায়, আমরা গন্তব্যে পৌঁছে গিয়েছি।

তারও কিছুদিন পর আমি সুযোগ পেয়ে কম্পিউটারের সামনে বসে সেই শিশু গল্পটিকে আঁকার চেষ্টা করি। খানিক চেষ্টার পর একটা আবছা কাঠামোর মত তৈরি হয়, এবং আমার কাছে সেটিকে ভালো লাগতে শুরু করে। শারীরিক ক্লান্তির কারণে আমি তখন কম্পিউটার বন্ধ করে ঘুমাতে চলে যাই।

অসমাপ্ত গল্পটি সেই থেকে অস্পৃষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। আমি মাঝে মাঝেই সেটিকে খুলে পড়ি, দেখি, চেষ্টা করি আরো কিছু লিখতে, কিন্তু হয় না। আমি বই পড়তে পড়তে সেই গল্পের ছানাটার কথা ভাবি, ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে যাই, দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে উঠে অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে থাকি, সকালে উঠে ট্রাফিক জ্যামে বসে আবারও গল্পের গায়ে রক্তমাংস যোগের কথা ভাবি। এক একটা চিন্তা যুক্ত হয়ে গল্পভাবনা পুষ্ট হতে থাকে, কিন্তু আমার লেখার খাতায় আর কিছু যোগ করা হয়ে ওঠে না। এই জঘন্য গ্রীষ্মে ঘাম মুছতে মুছতে আমি মাঝে মাঝে আয়নায় তাকিয়ে দেখি, আমার সমস্ত চেহারায় সেই অসমাপ্ত গল্পের পায়ের ছাপ। রিকশা ডাকতে গিয়ে আমার গলার স্বর আর উচ্চগ্রামে বাজে না, অটোরিকশাচালককে আমি ঠিকানা বলতে ভুল করে লজ্জা পাই, ফোনের ওপাশে কয়েকবার উৎকণ্ঠিত হ্যালোধ্বনি শুনে আমি আবার মাটির পৃথিবী মেঘের পৃথিবীতে ফিরে আসি। আমার ভেতরে সেই গল্প কোন ভয়ঙ্কর পরজীবীর মত আমার সমস্ত ভাবনা শুষে খেয়ে একটু একটু করে মনের ভেতরে বাড়ছে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28713899 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28713899 2007-06-02 00:48:42
সংভক্ষকদের জন্য বিশেষ ছাড় ১.
খবরের কাগজ খুলে প্রধান বন সংভক্ষক টারজান গণির চেহারা দেখে প্রকৌশলী মোহাম্মদ গোলাম এ খোদার চোখে তীব্র জলের চাপ অনুভূত হলো। শিক্ষিত একজন মানুষ, নামের গোড়ায় একটা বিচিঅলা ড দেখা যাচ্ছে, মানে ডক্টরেট করেছেন। কিন্তু আজ তার কী হাল! বিধির কী বিচিত্র বামপন্থা, আজ এই মেধাবী মানুষটিকে নিয়ে পুলিশ আর সাংবাদিকরা টানাহ্যাঁচড়া করছে। বিছানার তোষক, চালের ড্রাম, শালির পেটিকোট, কিছুই উল্টে দেখতে বাকি রাখছে না তারা। টাকাই কি সব? ইজ্জত আব্রুর কি কোন মূল্য নাই এই দেশে? মানী লোকের মান থাকছে না, টাকা দিয়ে হবেটা কী?

এমন সময় হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ঢোকেন প্রকৌশলী খোদার স্ত্রী মিসেস খোদা। তাঁর চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ।

"শুনছো নাকি? লায়লা আপার বড় ভাইরে নাকি পুলিশে ধরছে! টাকাপয়সা নাকি ঘরদোর থেকে সব নিয়া যাইতেছে! তোষক ফাইড়া বলে টাকাপয়সা বাইর করছে! শুনছো কী হইতাছে?"

প্রকৌশলী খোদা অশ্রুসজল চোখে খবরের কাগজ বাড়িয়ে ধরেন মিসেস খোদার দিকে। লায়লা আপার বড় ভাইয়ের হোগামারাখাওয়া চেহারা দেখে মিসেস খোদা চোখে আঁচল চাপা দেন।

প্রকৌশলী খোদা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ভাবেন, তাঁর কী হবে?

মিসেস খোদাও একই প্রশ্ন করেন, "আমাগো কী হইবো?"

প্রকৌশলী খোদা দুর্বল গলায় বলেন, "চালের ড্রাম থেকে টাকাগুলা সরাইতে হইব, বুজছো টুম্পার মা?

মিসেস খোদা বলেন, "তোষকটারেও তো ফাইড়া বাইর করতে হইবো!"

প্রকৌশলী খোদা বলেন, "কই রাখন যায় কও তো?"

মিসেস খোদা বলেন, "প্লাস্টিকের ব্যাগে ভইরা পানির টাঙ্কিতে চু্বাইয়া রাখলে কেমন হয়?"

প্রকৌশলী খোদা বলেন, "পাড়া পড়শী দেইখা ফালাইলে আরো বিপদে পড়বা। ঘরের বাইরে রাখন ঝামেলা। ঘরের ভিতরে কই রাখন যায় কও।"

মিসেস খোদা অস্থির হয়ে ওঠেন। "ফুলের টবের ভিতরে?"

প্রকৌশলী খোদা মাথা নাড়েন। "ফুলের টবের ভিতরে এত টাকা কেমনে রাখবা? এইটা কি দশবিশহাজার টাকা? দুই কুটি টাকা তুইলা আনছি ব্যাঙ্ক থিকা। কয়েক কিউবিক ফিট টাকা। ফুলের টবে রাখা যাইবো না।"

মিসেস খোদা ডুকরে ওঠেন, "হারামীর বাচ্চারা যে ক্যান দশ হাজার ট্যাকার নোট বাইর করে না! এহন এত ট্যাকা কই লুকাই?"

ভাবতে ভাবতেই প্রকৌশলী খোদার চোখে পড়ে খবরের কাগজের পেছনের পাতার বিজ্ঞাপন। বড় বড় হরফে লেখা:

সংভক্ষকদের জন্য বিশেষ ছাড়!

তার নিচে একটা মোবাইল নাম্বার দেয়া।


২.

প্রকৌশলী খোদা যতদূর সম্ভব ছদ্মবেশে এসেছেন। ব্যাপারটা ফাঁদ কি না তা চেক করার জন্য আগে নিজের শালাকে পাঠিয়েছিলেন। শালার রিপোর্ট শুনে আশ্বস্ত হয়ে এখন নিজেই এসেছেন, কিন্তু সাবধানের মার নাই। পরচুলাটা মাঝে মাঝে হাত দিয়ে পরখ করে দেখছেন, জিনিসটা খারাপ না।

কিন্তু লোকটা অতীব ধুরন্ধর, তাঁকে দেখেই খিলখিল করে হেসে ওঠে। বলে, "পরচুলা লাগিয়ে আসার কোন দরকার ছিলো? অ্যাঁ? এত অবিশ্বাস নিয়ে কাজ করা যায়?"

প্রকৌশলী খোদা একটু চটে যান মনে মনে, কিন্তু রাগ সামলে বলেন, "সাবধানের মার নাই।"

লোকটা হাসে। "তা ঠিক। চুরিদারি করলে সাবধানে থাকাই ভালো।"

প্রকৌশলী খোদা এবার ভীষণ ক্ষেপে ওঠেন। তাকে এভাবে মুখের ওপর চোর বললো? তিনি বললেন, "দেখুন ...।"

লোকটা গম্ভীর হয়ে যায়। বলে, "দেখাবেন না। কোন কিছু দেখাবেন না। অনেক দেখেছি। আমার কথা শুনলে ঐ গাধার বাচ্চা টারজান গণি আজ নিশ্চিন্তে অফিসে বসে কাজকাম করতে পারতো। কথা শোনেনি বলেই হাজতে বসে লপসি খাচ্ছে। সে-ও আমাকে আপনার মতো দেখাতে এসেছিলো। দেখে শিখুন। ঠেকে শিখবেন না।"

প্রকৌশলী খোদা একটু ঠান্ডা মেরে যান।

লোকটা এবার একটা কটন বাড বার করে বলে, "কত টাকা লুকাতে হবে?"

প্রকৌশলী খোদা এমন সোজাসাপ্টা কথায় একটু বেসামাল হয়ে বলেন, "এই ... ধরেন গিয়া ... দুই কুটি?"

লোকটা বলে, "হুম। পাঁচশো টাকার নোটে দুই কোটি টাকা মানে চল্লিশ হাজার নোট। এক লাখ টাকার বান্ডিল করলে দাঁড়াবে দুইশো বান্ডিল। কম না।"

প্রকৌশলী খোদা বলেন, "ঘরে রাখতে সাহস পাইতাছি না। ব্যাঙ্কেও না। আত্মীয়স্বজনগুলিও সব চুর। অদের কাছে রাখলে মাইরা দিতে পারে। আবার ধরাইয়াও দিতে পারে। বিশ্বাস নাই। সব কাফের।"

লোকটা বলে, "হুমম! কোন সমস্যা না।"

প্রকৌশলী খোদা তাকিয়ে থাকেন।

লোকটা বলে, "আমাদের কাজই হচ্ছে আপনাদের মতো চোরদের বিপদের দিনে সাহায্য করা।"

প্রকৌশলী খোদা বলেন, "কিন্তু কেমনে?"

লোকটা বলে, "দশহাজারী মার্কিন ডলারের নোট দিয়ে।"

প্রকৌশলী খোদা বলেন, "দশহাজারী নোট?"

লোকটা বলে, "হ্যাঁ। পঁচিশটা নোট পাবেন। পরে ভাঙালে পাবেন এক কোটি পঁচাত্তর লাখ টাকা।"

প্রকৌশলী খোদা বলেন, "মানে? বাকি পঁচিশ লাখ যাইবো কই?"

লোকটা এবার নিজের নখ দ্যাখে। বলে, "ওটা আমাদের ফি।"

প্রকৌশলী খোদা বলেন, "এত্ত!"

লোকটা মাথা নাড়ে। "হুঁ!"

প্রকৌশলী খোদার অবশ্য বুদ্ধিটা মনে ধরে। তিনি বলেন, "বেশি হইয়া যায় ভাই। আরেট্টু কম রাখেন।"

লোকটা মাথা নাড়ে। "উঁহু। তাছাড়া সাথে একটা ক্যাপসুল দিচ্ছি আমরা।"

প্রকৌশলী খোদা বলেন, "ক্যাপসুল! কিসের ক্যাপসুল?"

লোকটা বলে, "স্টেইনলেস স্টিলের ক্যাপসুল। ক্যাপসুলের ভেতরে ডলারগুলি গোল করে পাকানো থাকবে।"

প্রকৌশলী খোদা বলেন, "তারপর?"

লোকটা হাসে। বলে, "বিপদ দেখা দিলে ক্যাপসুলটা নিজের পশ্চাদ্দেশ দিয়ে ঢুকিয়ে দেবেন বহুদূর। পুলিশ আপনার তোষক ফাঁড়বে, চালের ড্রাম হাঁটকাবে, শালির পেটিকোট উল্টে দেখবে, কিন্তু আপনার পাছায় আঙ্গুল ঢুকিয়ে নিশ্চয়ই দেখবে না?"

প্রকৌশলী খোদার মনে ধরে পদ্ধতিটা। তাই তো!


৩.

সংভক্ষকদের জন্য বিশেষ ছাড় নিয়ে তিনি ফিরে আসেন। ক্যাপসুল ব্যবহারের জন্য নাকি তাঁকে আর মিসেস খোদাকে বিশেষ নার্স পাঠিয়ে ট্রেনিং দেয়া হবে। কী চমৎকার বুদ্ধি।

প্রকৌশলী খোদার মনটা অবশ্য একটু খচখচ করে। এত কষ্টের চুরিদারি, এত ঘুষ, এত তদবিরের সম্মানী, শেষমেশ কি না তিনি নিজেই নিজের হোগা দিয়ে ঢোকাবেন?

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28713723 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28713723 2007-05-31 19:03:22
ছোট্ট গোল রুটি ছোট্ট গোল রুটি
চলছে গুটি গুটি

...

ছড়াটা ভুলে গেছি। বাকিটা মনে করিয়ে দেবেন কেউ?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28713154 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28713154 2007-05-28 20:43:55
চিহ্ন ০০৪ মনসুর ফৌজদার অস্বস্তিভরে তাকালেন শারমিনের দিকে, বুকে শক্ত করে লানাকে জড়িয়ে ধরে আছেন তিনি। কান্নার দমকে লানার পিঠ কেঁপে কেঁপে উঠছে, অস্পষ্ট গোঙানির শব্দ বেরিয়ে আসছে তার মুখ থেকে।

শারমিন এগিয়ে গিয়ে লানার কাঁধে হাত রাখলো। "লক্ষ্মী মেয়ে লানা ... চলো আমার সাথে নিচে ...।"

লানার ছোটখাটো শরীরটা একটা বিস্ফোরণের মতো বেরিয়ে এলো মনসুর ফৌজদারের আলিঙ্গন ছিঁড়ে। "আমাকে ছোঁবে না!" তারস্বরে চেঁচিয়ে উঠলো সে। "যাও তুমি এখান থেকে!"

শারমিন বিব্রত মুখে তাকালো মনসুর ফৌজদারের মুখের দিকে। লানা শারমিনকে পছন্দ করে না একেবারেই।

মনসুর মেয়েকে আবার হাত বাড়িয়ে কাছে টানলেন। "শারমিন, একটু দেখবে আসমা কোথায়?"

শারমিনকে কষ্ট করে দেখতে হলো না আর, আসমা, লানার দেখভালের কাজে নিয়োজিত বুয়া রকেটের মতো ছুটে ঘরে ঢুকলো।

"কী হইছে? হইছে কী?" হাঁপাতে হাঁপাতে বললো আসমা। প্রায় সাথে সাথেই দিলনাজের নগ্ন মৃতদেহ চোখে পড়লো তার। "আস্তাগফিরুল্লাহ! ঐ ম্যাডামের কী হইছে?" মুখে হাত চাপা দিলো আসমা।

মনসুর ফৌজদার শক্ত হাতে লানাকে ঠেলে দিলেন আসমার দিকে। "আসমা, মামণিকে একটু নিচে নিয়ে যাও। একটু ঠান্ডা শরবত খেতে দাও ওকে।"

নিরুপমা ফৌজদার ওদিকে সোফায় উঠে বসেছেন, তিনি জড়ানো গলায় বললেন, "উহ!"

মনসুর ফৌজদার নিরুপমার দিকে না তাকিয়েই বললেন, "রহমানকে বোলো ব্র্যান্ডি নিয়ে ওপরে আসতে। আমরা তিনজন।"

কায়েস মনে মনে ভাবলো, কী ব্যাপার, মনসুর সাহেব মদের ব্যাপারে এমন লৈঙ্গিক কেন? নিরুপমা আর শারমিন বাদ পড়লো কেন?

মালিক মিনমিন করে বললো, "আসমা, আমি একটু পানি খাবো।"

কায়েসের মনে পড়ে গেলো, মালিক অ্যালকোহল স্পর্শ করে না। শারমিনও না। মনসুর ফৌজদারের ওপর শ্রদ্ধা বেড়ে গেলো তার। এমন একটা ঘটনার পরও কে কী খায় না খায় সেটার হিসেব রাখা সহজ নার্ভের কথা নয়। সাধে কি ব্যাটা এত উন্নতি করেছে জীবনে? কায়েস মনে মনে শপথ নেয়, সে-ও কাল থেকে লোকের মদ খাওয়ার হিসেব রেখে চলবে।

শারমিন মৃদু কিন্তু স্পষ্ট গলায় বললো, "দিলনাজ বিষ খাবে কেন?"

কথাটা ধাক্কার মতো লাগলো সবার গায়ে। মনসুর ফৌজদারের মুখটা বিবর্ণ হয়ে গেল, নিরুপমা ফৌজদার মুখে আঁচল চাপা দিলেন, মালিক রুমাল দিয়ে ঘাড় মুছতে লাগলো মুখ নিচু করে। কায়েস এই প্রথমবারের মতো ঘটনাটার পেছনে একটা স্পষ্ট ব্যাখ্যার অভাব বোধ করলো। দিলনাজ দুররানি, এখনকার সেরা ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের একজন, কোন দুঃখে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করলো?

কায়েস ওয়াইনের ঘোরেই হয়তো শারমিনের কথার লেজ ধরলো, "জামা খুলেই বা কেন দিলনাজ বিষ খাবে?"

শারমিন কড়া চোখে তাকালো কায়েসের দিকে, তার চোখ বলছে, তুমি এর মধ্যে কিছু বলতে এসো না। কিন্তু কায়েস পরোয়া করলো না, সে জানে তার কথাটা নেহায়েত ফ্যালনা হয়নি। বিষ যদি খেতেই হয়, তাহলে পর্দাপুশিদা সামলেই খাওয়া যেতো। ওরকম দিগম্বরী হয়ে কে কবে বিষ খেয়ে মরেছে?

শারমিন এবার আরো শক্ত বোমা ফাটালো, "এই বাড়িতে, আজকের দিনে, এই ঘরে কেন বিষ খাবে দিলনাজ?"

মনসুর ফৌজদার বসে পড়লেন সোফায়।

মালিক ঘড়ঘড়ে গলায় বললো, "মিস খান, আপনি কী বলতে চাইছেন প্লিজ?"

শারমিনের চোয়ালটা শক্ত হয়ে গেলো। সে এবার আরেকটু জোরে বললো, "আমার মনে হয় আমাদের উচিত পুলিশকে খবর দেয়া।"

মনসুর ফৌজদার ক্লান্ত গলায় বললেন, "শারমিন, তুমি কি একটু কষ্ট করে ফোন করবে থানায়? আই ডোন্ট ফিল ভেরি ওয়েল ...।" নিজের মোবাইলটা পকেট থেকে বার করে দিলেন তিনি। "ও.সি. ইকবালের নাম্বার সেভ করা আছে এটাতে।"

শারমিন মোবাইল নিয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলো। শারমিনের পাশ ঘেঁষে নিঃশব্দে ঘরে ঢুকলো এক যুবক।

"কোন সমস্যা স্যার?" বিছানায় পড়ে থাকা দিলনাজ দুররানির দিকে চোখ রেখে জিজ্ঞেস করলো সে।

মনসুর ফৌজদার তার দিকে তাকানোর প্রয়োজন বোধ করলেন না। কায়েস একটু অবাক হয়ে তাকালো মুস্তাফার দিকে। কোন ভাবের লেশ নেই তার চেহারায়, যেন খবর পড়তে এসেছে এখানে।

মুস্তাফা দিলনাজের দিকে চোখ না সরিয়ে কায়েসকে নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করলো, "কায়েস ভাই, ঘটনা কী? দিলনাজের কী হয়েছে?"

কায়েস এদিক ওদিক তাকিয়ে চেয়ার খুঁজতে লাগলো। তার হঠাৎ দাঁড়িয়ে থাকতে বিরক্ত লাগছে। মুস্তাফার সুদর্শন বেওকুফ চেহারার দিকে তাকিয়ে তার মেজাজ আরো এক পর্দা চড়লো। একটা মেয়ে খাটের ওপর ন্যাংটা হয়ে মুখ ভেটকে পড়ে আছে কলাগাছের মতো, তার আশেপাশে লোকজন বসে আছে বিধ্বস্ত চেহারা নিয়ে, আর মুস্তাফা ঘটনা বুঝতে পারছে না। ছাগল কোথাকার।

রহমান নিঃশব্দে ঘরের ভেতরে ঢুকলো, হাতে একটা ট্রে। তার ওপর তিনটা গ্লাস, বরফের টাম্বলার আর একটা পেটমোটা বোতল। কায়েসের ভেতরে পিপাসা বেড়ে গেলো হঠাৎ।


(চলবে ...)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28712548 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28712548 2007-05-25 23:49:46
আমি কান পেতে রই ০১ [সবসময় নিজের উদ্যোগে কান পেতে থাকি না। হয়তো হাতে কাজ কাম নাই, আর তখনই ইন্টারেস্টিং কোন কিছু ভেসে এলো, কানটা পেতে দিয়ে বসে থাকি। ঠিক করেছি এই আড়ি পেতে শোনা কিছু কিছু জিনিস শেয়ার করবো।]


"আফগানিস্তান থেকে আসলেন কবে?"

এ কথাটা শুনেই কানটা খাড়া করলাম। সর্বনাশ, আফগানিস্তানফেরত লোকজন ঢুকে পড়লো কখন?

একসময় সৈয়দ মুজতবা আলীর মতো লোকজন কাবুল-কান্দাহার চষে এসে নানারকম মনোহর গল্প লিখতেন। ইদানীং যাচ্ছে জেহাদি ঘরানার মানুষজন। তারা ফিরে এসে গল্প লেখার সময় পাচ্ছেন না, নানারকম বোমাবাজি আর খুনখারাপির "পিলান" করতে হচ্ছে।

কিউবিকলের ওপর উঁকি মেরে দেখলাম ঘটনা কী। প্রশ্নটা যাকে করা হলো, তিনি গোবেচারা ধরনের মানুষ, ঠিক জেহাদি তাকদধারী মনে হলো না। তবে প্রশ্ন শুনে তিনি ক্ষেপে গেলেন।

"আসছি কিছুদিন হইল।"

"কেমন লাগছে আফগানিস্তান?"

এবার ভদ্রলোক চটে লাল হয়ে গেলেন। বললেন, "যেই লোক আমাকে আফগানিস্তান যাওয়ার বুদ্ধি দিছে, আমি তারে খুজতেছি ঢাকায় আইসেই!"

"কেন?" প্রশ্নকর্তা মধুর কণ্ঠে শুধালেন।

"তারে সামনে পেলে আমি তার ঠ্যাংদুটো ভেঙে দেবো।" কাবুলি মেজাজে বললেন উত্তরদাতা। আফগানিস্তানের আলোবাতাসে থেকে তাঁর মধ্যে যদি সংকল্পপূরণের কাবুলিয়ানা কিছু জন্মে থাকে, তাহলে সেই আফগানযাত্রায় মন্ত্রণাদাতার কপালে বহুৎ ভোগান্তি আছে।

"কেন ভাই?"

"আবার জিগাস করেন কেন! ঐটা একটা মানুষ থাকার দেশ? প্রত্যেকদিন সকালে উঠে মেইল খুলে দেখি, সিকিউরিটি অফিসার কী পাঠাইলো। আজকে সিকিউরিটি কোড কত। ১ নাকি ১০।"

"ওগুলি কী?"

"বিপদ সঙ্কেত। আমাদের যেমন ঝড়তুফান উঠলে রেডিওতে বলে, তেমন।"

"বলেন কী? এত বিপদ?"

"আরে বিপদ মানে? আপনি ভাইবেছেন কী? রাস্তা দিয়ে চলার সময় আল্লা আল্লা করতে থাকি। কাজে গিয়ে মনে হয় সিকিউরিটি অফিসার কি ঠিক সঙ্কেত দিলো নাকি ভুলভাল করছে কিছু। রাতের বেলা বাসায় ফিরে যে একটু হাঁটাহাঁটি করবো সেই সাহস পাই না।"

"আরে বলেন কী?"

"আরে হ্যাঁ ভাই! অনেক জ্বালা। পাইয়া নেই ঐ ব্যাটারে। কোন দুঃখে যে গেছিলাম ঐ দ্যাশে!"

আমারও মনটা আর্দ্র হয়ে ওঠে বেচারার জন্য। এভাবে জানটা পকেটে নিয়ে আফগানিস্তানে কাজ করা সত্যি বেদনাদায়ক। মজা যা লোটার সৈয়দ সাহেবরাই লুটে গেছেন। সেই খানও নাই সেই খানদানও নাই।

"আমাদের সম্পর্কে ওদের ধারণা কী?" প্রশ্নকর্তা এবার সাংস্কৃতিক মেজাজের প্রসঙ্গে চলে গেলেন।

"ওরা আমাদের বাগে পেলে পিটিয়ে লাশ করবে। আমাদের সাথে আমেরিকানদের কোন তফাৎ করে না। বলে এই খারিজিরাই আমাদের দ্যাশটার বারোটা বাজাইলো।"

"খারিজি কারা?"

"খারিজি মানে ফরেনার। আপনি আমি বুশ সবাই।"

"বলেন কী?"

"আবার বলি কী?"

মায়াই হয় বেচারার জন্য। একটু পরে উঠে গিয়ে চা খাচ্ছি, দেখি তিনি হেলতে দুলতে বেরিয়ে এসেছেন। ভাবলাম, কয়েন চাইবো আফগানিস্তানের। কিন্তু ভদ্রলোক দেখলাম তখনও চটে আছেন কাবুলিদের ওপরে, বিড়বিড় করে কী যেন বলছেন। আর ইচ্ছে হলো না ঘাঁটানোর।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28712500 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28712500 2007-05-25 18:00:33
পাকি শান্তিরক্ষীদের কীর্তি কঙ্গোর বিদ্রোহীদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে বীর পাকি সেনাবাহিনী। তবে সেই অস্ত্রগুলো কিভাবে যেন আবার কঙ্গোর বিদ্রোহী ব্যাটাদের হাতে চলে যায়। ওদিকে পাকি সেনামণিদের হাতে এসে জমতে থাকে কাঁচা সোনা। ঘটনা কী?

এ নিয়ে জাতিসংঘ তদন্ত করেছে, কিন্তু পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নানা বাধা আর হুমকিধামকির সম্মুখীন হয়ে তদন্তরিপোর্ট চিবিয়ে খেয়ে ফেলেছে তারা।

২০০৪-২০০৫ এ উত্তরপূর্ব কঙ্গোর ইতুরি অঞ্চলে সোনার বিনিময়ে বিদ্রোহীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে "শান্তিরক্ষী" পাকি সেনারা, এ অভিযোগ ২০০৬ সালে জোরেসোরে ওঠার পরই তদন্তে নামে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এখন নাকি সোনার বিনিময়ে অস্ত্র লেনদেন, আর তদন্তে বাধাদান, এ দুই ঘটনা নিয়েই তদন্ত চলছে দুই ধারায়, জানিয়েছেন মুখপাত্রী মিশেল মন্তাস।

বিবিসি উদ্ধৃতি দিয়েছে এভারিস্তা আনজাসুবু নামধারী এক ব্যবসায়ীর, যিনি ব্যক্তিগতভাবে পাকি সেনা এবং দুজন কুখ্যাত বিদ্রোহী নেতার মধ্যে এ লেনদেনের বিষয়ে অবগত ছিলেন।

মেজর জেনারেল ওয়াহিদ আরশাদ, পাকি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কিন্তু নিজের বাহিনীর ভেতরে তদন্তের ব্যাপারে কিছু বলেনি। সে বলেছে, আরো তো অনেকেই আছে কঙ্গোতে, শান্তিরক্ষী হিসেবে। কেন বিবিসি পাকি সেনামণিদেরই বেছে বেছে অভিযুক্ত করলো?



হায়রে পাকি, সারা পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়
লাত্থিগুতা খেয়ে হয়রান, তবু মানুষ হবার নয়।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28712244 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28712244 2007-05-23 22:56:40
বালের ব্যবচ্ছেদ বাল। বাংলাদেশে বাংলাভাষীদের মধ্যে জনপ্রিয় একটি রূঢ় শব্দ। এর ব্যবচ্ছেদ খুব একটা সহজ কাজ নয়। বালের চুলচেরা বিশ্লেষণ প্রকৃতপক্ষেই দুরূহ একটি কর্ম।

বাল শব্দটি উর্দু। এর শাব্দিক অর্থ চুল (হিন্দি সিনেমায় আমরা হরবখত নায়ককে নায়িকার বালের গুণগান গাইতে শুনি)। আপাতনিরীহ এই শব্দটি গঙ্গাঅববাহিকায় এসে তার সামগ্রিক চুলার্থ হারিয়ে ঘনীভূত হয়েছে বয়সন্ধি উত্তীর্ণ কেশরাজিতে।

সম্ভবত গুপ্তকেশের ব্যবহারিক তাৎপর্যহীনতা, অনিচ্ছাসত্ত্বেও বাহুল্য, নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার হ্যাপা এবং আনুষঙ্গিক ক্ষতিকর প্রভাবের কথা বিবেচনা করেই আমরা একে একটি রূঢ় গালি হিসেবে বেছে নিয়েছি।

অনেকেই শিশু বয়সে, বাল গজানোর আগেই বাল বলতে শিখে ফ্যালে। এটি দুঃখজনক। রূঢ় শব্দের অসচেতন ব্যবহারের কারণেই বাল এর সংক্রমণ ঘটতে থাকে উত্তরপুরুষের চেতনায়। আমাদের উচিত বাল বলার আগে আশেপাশে তাকিয়ে দেখা, এবং কোন শিশুর উপস্থিতিতে বালের পরিবর্তে "চুল", "কেশ", "রোম", "লোম", "কুন্তল", "অলক" ইত্যাদি কারুকার্যমন্ডিত প্রতিশব্দ ব্যবহার করা। শিশুদের অনুপস্থিতিতে বাল বলা যেতে পারে, তবে না বলাই ভালো।

বহুল ব্যবহারে বালের ওজন হ্রাস হতে পারে। আপনি যদি সবসময় বাল বলেন তাহলে সময়মতো শুধু বাল বলে কার্যোদ্ধার করতে পারবেন না। তখন আপনাকে অপাদান ও অধিকরণ কারকে বালের শারীরবৃত্তীয় অবস্থান নির্দেশ করে রূঢ় শব্দের ব্যবহারের যথার্থতা নিশ্চিত করতে হবে। বালের লেজ ধরে তখন আরো খারাপ খারাপ শব্দ তখন ব্যবহার করতে হতে পারে। পচা কথা বলার ধারাই এমন, একবার একটা বললে পেছন পেছন দশটা এসে হাজির হয়।

তবে সাম্প্রতিক বিবর্তনে বালের সাথে ছন্দ মিলিয়ে বালছাল বলছেন অনেকে। বাল আর বালছালের মধ্যে কিছুটা প্রায়োগিক পার্থক্য রয়েছে, কিছু কেস স্টাডি করলে এর সূক্ষ্মতা সহজেই অনুধাব্য।

যারা একেবারেই রূঢ় শব্দ ব্যবহার করেন না, তাদের মুখে বাল একটা বিস্ফোরণের সমার্থক। তাই ঘন ঘন বাল না বলে কালেভদ্রে বললে এটি একটি খুব কার্যকরী এক্সপ্লিটিভ হতে পারে। এছাড়া আদর করে কোন কিছুকে গালি দিতে চাইলে বালটুস, বালটুন, বাল্লু, ইত্যাদি বলা যেতে পারে।

তবে গদ্যে পদ্যে বালের সময়োচিত ব্যবহার অনেক সময় মূল রচনাকে আরো আবেদনময় করে তুলতে পারে। কিছুদিন আগেই যূথচারী বালস্য বাল হরিদাস পাল প্রসঙ্গের অবতারণা করে একটি শক্তিশালী কবিতা উল্লেখ করেছেন তাঁর একটি পোস্টে। এসব ক্ষেত্রে বাল অলঙ্কারবিশেষ।

বালের বহুল ব্যবহারের আরেকটি সমস্যা হচ্ছে অভ্যাসে পরিণত হওয়া। তখন গুরুজন, সুধীজনের সামনেও এটি নিজের অজান্তে ঠৌঁটের আগল খুলে বেরিয়ে আসতে পারে স্বমহিমা নিয়ে। তখন একটা কেলো হতে পারে।

বহুল ব্যবহারে কিছুটা অস্থির, এলোমেলো হলেও এখনো আমাদের মাঝে বালের ব্যবহারিক উপযোগিতা অবিসংবাদিত, এবং সমাদৃত। বালের উৎস্থস্থলগুলিও গালি হিসেবে কম যায় না, কিন্তু বালের আসন হয়েও তারা বালের আসন দখল করতে পারেনি।

তবে আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ, বালের ব্যবহারে পরিমিতিবোধের পরিচয় দিন। একে বেশি ঘাঁটলে ব্যাপারটা ভালো দেখায় না। মাঝে মাঝে একটি দুটি উৎপাটন করুন সময় বুঝে, কিন্তু উঠতে বসতে যদি বাল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তাহলে ব্যাপারটা চোখে আর কানে কটু ঠেকবে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28712212 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28712212 2007-05-23 18:32:58
চিহ্ন ০০৩
কায়েসের চোখ আবারও চলে যায় দিলনাজের নিথর শরীরের দিকে। অপচয়। এই মৃত্যু এক বিশাল অপচয়।

তার চটকা ভাঙে শারমিনের চাপা ধমকে, "কায়েস, মনসুর ভাই কী বলছেন তোমাকে? ডক্টর মালিককে একটু ডেকে আনো!"

কায়েস চমকে ওঠে এবার। তার নামের এই অংশটায় সে অভ্যস্ত না। নিজের নামটা মনে মনে হাতে নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখে সে। কায়েস কামরান। কেমন একটা নাম! কামরান কায়েস হলে কি আরেকটু ভালো শোনাতো? উঁহু। যে-ই লাউ সে-ই কদু। নাকি একটা জবরদস্ত পদবী যোগ করা উচিত ছিলো নামটার লেজে বা মুড়োয়? কায়েস কামরান ফৌজদার! নাহ, ফৌজদার নামটা পছন্দ না তার, কায়েস কামরান তোপদার? কিংবা মনসবদার কায়েস কামরান?

এবার শারমিন একটু ঠেলে দেয় তাকে হাতে ধরে দরজার দিকে। কায়েস লজ্জিত হয়ে ওঠে হঠাৎ। একটা সুন্দরী মেয়ে ন্যাংটা হয়ে মরে আছে ঘরের মধ্যে, তা-ই দেখে আরেকটা সুন্দরী মেয়ে ফিট হয়ে পড়ে আছে, আর সে কি না ব্যাটাছেলে হাঁ করে এসব দেখছে? এ জন্যেই তো তাকে আরেকটা সুন্দরী মেয়ের ধাক্কা খেতে হলো। ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে কায়েসের আবার মনে হলো, মনসুর ফৌজদার আসলেই ললাটবান লোক। না হলে কেন কায়েসকে বেরিয়ে যেতে হচ্ছে ঘর ছেড়ে, আর ঐ ব্যাটা দিব্যি দাঁড়িয়ে সব দেখছে?

করিডোরে বেরিয়ে এসেই কায়েস ধাক্কা খায় ডক্টর মালিকের সাথে।

মালিক আবদুল হক পাক্কা ছয় ফুট লম্বা, সেইরকম চওড়া, কায়েস এর আগেও একদিন তার সাথে ধাক্কা খেয়ে ব্যথা পেয়েছে, কিন্তু কষ্টেসৃষ্টে চেহারায় একটা হাসি ফোটালো সে। "ডক্টর, আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন মনসুর সাহেব ...।"

মালিকের দশাসই চেহারার তুলনায় কণ্ঠস্বর অনেক মিহি, অনেকটা শচীন টেন্ডুলকারের মত। "আই নো!" কায়েসকে একরকম ঠেলেই ঘরের ভিতর ঢুকে গেলো সে। কায়েস বাইরে দাঁড়িয়ে শুনতে পেলো, মালিক আঁতকে উঠে চেঁচাচ্ছে, "ইয়া খোদা!"

কায়েস কাঁধ ডলতে ডলতে আবার ঘরে ঢুকলো।

মনসুর ফৌজদার মাঝারি উচ্চতার মানুষ, তার পাশে মালিককে দেখাচ্ছে দুঃখী একটা গরিলার মতো। সে প্রায় ফুঁপিয়ে উঠে বললো, "হোয়াট হ্যাপেন্ড স্যার ...?"

মনসুর ফৌজদার শীতল কণ্ঠে বললেন, "সেটা আপনাকেই আপাতত বার করতে হবে ডক্টর।"

মালিক এগিয়ে গিয়ে সন্তর্পণে ঝুঁকে বিছানায় পড়ে থাকা দিলনাজের গলায় হাত রাখলো। কয়েক সেকেন্ড পর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে সে ধরা গলায় বললো, "শী ইজ ডেড স্যার!"

মনসুর ফৌজদারের চেহারায় কোন পরিবর্তন লক্ষ করতে পারলো না কায়েস, শুধু পিঠের পেছনে বেঁধে রাখা হাতটা মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গেলো।

নিরুপমা ফৌজদার ওদিকে সোজা হয়ে বসেছেন, ডক্টর মালিক এবার তার দিকে এগিয়ে গেলো। "আর ইউ অলরাইট ম্যাম?"

নিরুপমা মুখে একটা হাত চাপা দিয়ে ফুঁপিয়ে শ্বাস নিলেন। "দিলনাজ ... দিলনাজ ...।" একটা হাহাকার বেরিয়ে এলো তাঁর কণ্ঠ থেকে।

মনসুর ফৌজদার মালিকের দিকে ফিরে কঠিন কন্ঠে বললেন, "মালিক, দিলনাজ কিভাবে মারা গেলো?"

মালিক একটা রুমাল বার করে ঘাড় মুছলো। কিছু বললো না।

শারমিন নিচু গলায় বললো, "স্যার, আপনার মনে হয় পুলিশে ফোন করা উচিত।"

নিরুপমা ফৌজদার আবারও ফুঁপিয়ে উঠলো।

মনসুর ফৌজদার কিছু বললেন না, তীব্র চোখে শুধু তাকিয়ে রইলেন ডক্টর মালিকের দিকে।

মালিক গলা খাঁকরে বললো, "আই থিঙ্ক শী হ্যাজ টেকেন সাম পয়জন স্যার।"

ঘরে সবাই হঠাৎ চুপ করে গেলো।

কায়েস এই নীরবতার মধ্যে কোন কিছু খুঁজে না পেয়ে আবার তাকালো দিলনাজ দুররানির মৃতদেহের সাথে। চমৎকার একটা বাদামী শরীর ছাড়া ঘরের আর সবকিছু তার কাছে অচেনা উদ্ভিদের মতো মনে হতে লাগলো। দিলনাজ, দুরন্ত দিলনাজ, আজ বিকেল বেলাও কায়েস তাকে চোরাচোখে দেখে বারবার মুগ্ধ হচ্ছিলো, কী চমৎকার শরীরের বাঁধন, কী অদ্ভুত মিষ্টি কণ্ঠস্বর ... এখন সে মরে পড়ে আছে একটা কলাগাছের মতো।

ঘরে সবাই একসাথে সরব হয়ে ওঠে, আর এর মধ্যেই করিডোরে ভেসে আসে একটা পায়ের আওয়াজ। কয়েক সেকেন্ড পরই হন্তদ্ত হয়ে একটা শরীরের ঝলক ঢুকে পড়ে ঘরের মধ্যে।

"হেই, কী হচ্ছে ...।" লানার কথাটা যেন হঠাৎ দেয়ালের সাথে ধাক্কা খেয় স্তব্ধ হয়ে যায়। আবার বিশ্রী নীরবতা নেমে আসে ঘরের মধ্যে।

"বাবা? হোয়াট'ম গোয়িং অন?" ঘড়ঘড়ে একটা প্রশ্ন ভেসে আসে লানার কাছ থেকে।

মনসুর ফৌজদার অস্বস্তিভরে এগিয়ে যান মেয়ের দিকে। "লানা, মামণি, শান্ত হও। তোমার দিলনাজ আন্টি মারা গেছেন।"

লানার ছোট্টখাট্টো কিশোরী শরীরটা এবার বিচিত্র একটা যন্ত্রণায় যেন এঁকেবেঁকে ওঠে। মনসুর ফৌজদার মেয়েকে জড়িয়ে ধরতে যান, কিন্তু লানার চিৎকারে ফৌজদার ভিলার প্রত্যেকটা জানালার কাঁচ যেন ঝনঝন করে ওঠে। এরই সাথে তাল মিলিয়ে অনেক দূরে ডেকে ওঠে কয়েকটা কুকুর।

কায়েস আবার দেয়ালে হেলান দেয়। নিরুপমা ফৌজদার আবারও এলিয়ে পড়েছেন সোফার ওপর। কায়েসের দৃষ্টি তাঁর মুখ থেকে পিছলে গলা বেয়ে নেমে আসে খানিক উন্মুক্ত বুকের খাঁজের দিকে। কায়েস টের পায়, শারমিন তীব্র চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে, কিন্তু সে পরোয়া করে না। জাহান্নামে যাক সব কিছু।


(পরে আরেকটা টুকরো দেয়া হবে ...)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711925 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711925 2007-05-22 00:05:06
চিহ্ন ০০২
কায়েস একটু পিছিয়ে গিয়ে ঘরের দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়ায়। ওয়াইনের কল্যাণেই কি না কে জানে, তার চোখের সামনে সবকিছুই মনে হচ্ছে স্বচ্ছ কোন তরলের মধ্যে ডোবানো, মাঝে মাঝেই পৃথিবী দুলে উঠছে মৃদুলয়ে।

কেন আমি এই ঘরে দাঁড়িয়ে আছি? নিজেকে প্রশ্ন করলো কায়েস মনে মনে।

শারমিন ঘুরে দাঁড়ালো ঝট করে। তার চোখে রাগের হল্কা এখনো কাটেনি। "মানে?" চাপা গলায় হিসিয়ে ওঠে সে।

কায়েস চমকে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। কী আপদ, মনে মনে প্রশ্নগুলি যদি জোরে জোরে হয়ে যায় তাহলে দেশটা চলবে কিভাবে?

শারমিনের দিকে তাকিয়ে কায়েস একটু বিস্ময় বোধ করে। শুরুতে আঁতকে উঠলেও সামলে নিয়েছে শারমিন। একটা আবছা পর্দা নেমে এসেছে মুখের অভিব্যক্তিতে, কিন্তু নিরুপমা ফৌজদারের মতো এতোটা বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে না তাকে।

কায়েস আড়চোখে নিরুপমা ফৌজদারের দিকে তাকায়। ঘরের বামদিকে নিচু সোফার ওপর এলিয়ে পড়ে আছেন মহিলা। কায়েস আড়চোখে শারমিনের দিকে তাকিয়ে সতর্ক হয়ে ওঠে, শারমিন কঠিন, সরু চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকেই।

ভেতরে ভেতরে একটু বিদ্রোহ করে ওঠে কায়েসের মনটা। আমি একজন লেখক, রীতিমতো কষ্ট করে এবার মনে মনে বলে সে, একেবারে সিনেমার স্ক্রিপ্টরচয়িতা যাকে বলে। আমার কাজই হচ্ছে পর্যবেক্ষণ। এখন প্রতিটা ঘটনা আমাকে খুঁটিয়ে দেখতে হবে একশো চোখে। শারমিনকে এখন আমি পরোয়া করি না।

কায়েস এবার ঘাড় ঘুরিয়ে মিসেস ফৌজদারকে দেখতে থাকে। মিসেস ফৌজদারের বয়স দিলনাজের চেয়ে দুয়েক বছর বেশিই হবে, সৌন্দর্যে তিনিও দিলনাজের চেয়ে কম যান না। তবে শোকের মূহুর্তে (নাকি শকের মূহুর্তে, কায়েস কষ্ট করে আবার মনে মনে ভাবে, আর এই পান এর জন্য নিজের পিঠ নিজেই চাপড়ে দিতে চায়) সোফায় এলিয়ে পড়লেও কায়েসের মতো দুষ্টু লোকজনের দৃষ্টির জন্য কোন কিছু বরাদ্দ রাখেননি তিনি, তাঁর চমৎকার আকাশের নকশা কাটা শাড়ি সবকিছু মাপজোক করে ঢেকে রেখেছে। কায়েস নিরুপমা ফৌজদারের গ্রীবাদেশের দিকে তাকিয়ে আনমনে ভাবে, কপাল বটে মনসুর ফৌজদারের।

শারমিন আবারও ঘাড় ফিরিয়ে তাকায় কায়েসের দিকে। "কী?" ফিসফিসিয়ে বলে সে।

কায়েস বিরক্ত হয়। বলে, "কিছু না।"

কায়েসের কণ্ঠ হয়তো বিরক্তির চাপেই দুয়েক পর্দা চড়ে গিয়েছিলো, সোফার ওপর ঝুঁকে পড়া স্ত্রীকে সান্ত্বনারত মনসুর ফৌজদার ঘাড় ফিরিয়ে তাকান কায়েসের দিকে। কায়েস শুনতে পায় তিনি বলছেন, "কামরান সাহেব, একটু দেখবেন মালিক কোথায়?"


(একটু পর আবারও নামবে আরেকটা টুকরো ...)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711895 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711895 2007-05-21 19:57:16
চিহ্ন ০০১ নগ্ন নারীদেহের প্রতি আকর্ষণ কি আমার স্মৃতির সমান বয়সী? চোখ বন্ধ করলো কায়েস, যেন উত্তরটা চোখের সামনের অন্ধকারে ফুটে উঠবে।

তার সামনে বিছানায় পড়ে থাকা শরীরটার দিকে আবারও তাকাতে হলো কায়েসকে। বিছানার চাদরের রং হালকা নীল, এর ওপরে বাদামী শরীরটা ঘরের মলিন আলোর সাথে রং মিলিয়ে ফুটে আছে। হালকা সবজে রং করা নখ, চমৎকার পায়ের পাতা, গোড়ালি, মসৃণ কাফ, হাঁটু বেয়ে ঊরুর কাছে এসে কায়েসের চোখ একটু মন্থর হয়ে পড়ে নিজ থেকেই। বাম পা টা একটু ভাঁজ হয়ে আছে, ডান পা টা সটান সোজা। কায়েস জোর করে চোখ সরিয়ে নেয় টোল পড়া খয়েরি ঊরুসন্ধি থেকে। শরীরটা এরপর ছোট্ট, অগভীর নাভি হয়ে বয়ে গেছে নিটোল, সতেজ একজোড়া বুকের দিকে। কায়েস সেদিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। মৃত্যুর একটা কুৎসিত ক্ষমতা আছে সুন্দর জিনিসের প্রতিও বিতৃষ্ণা জাগানোর। এই মুঠোভরা স্তন, গাঢ় খয়েরি বৃত্তের মাঝে বাদামী বৃন্ত, সবই ভালো লাগতো তার দেখতে, কিন্তু বিছানার ওপর পড়ে থাকা শরীরটা মৃত।

শারমিন মনোযোগী বিতৃষ্ণা নিয়ে কায়েসকে দেখছিলো, সে এবার চিবিয়ে চিবিয়ে বলে, "তোমার দেখা শেষ?"

কায়েস একটু চমকে ওঠে শারমিনের গলার বিষাক্ততা টের পেয়ে, এক হাতে কপালের ওপর থেকে চুল টেনে মাথার ওপর তুলে বলে, "ইয়ে ... ডক্টর মালিক কোথায়?"

শারমিন তপ্ত চোখে তাকিয়ে থাকে কায়েসের দিকে। কায়েস শারমিনের দিকে চোখ রাখতে না পেরে চোখ সরিয়ে নেবার চেষ্টা করে, বিছানায় পড়ে থাকা মৃত, নগ্ন দিলনাজ দুররানির বিকৃত, বীভৎস চেহারাটা কেন যেন চুম্বক হয়ে তার দৃষ্টি ধরে রাখে।


(আজ আপাতত এটুকুই ... পরে আরো বড় টুকরো আপলোড করা হবে ... )

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711537 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711537 2007-05-20 02:09:41
প্রতিদিন একটি রুমাল মাহমুদুল হকের একটি উপন্যাসের নাম ঋণ নিলাম।

ধারাবাহিক পোস্টের ব্যাপারটি আগে বিতর্কিত না হলেও সম্প্রতি এটা নিয়ে অনুযোগ উঠেছে। অনেকেই ধারাবাহিক পোস্ট নিয়ে নাক কুঁচকাচ্ছেন, ফ্লাডিং এর দলে ফেলে দিচ্ছেন একে। কারো উপন্যাসের টুকরো হয়ত বিপন্ন দ্বিধায় ঝুলে আছে ড্রাফটবক্সে, কেউ হয়তো মত পাল্টে ফেলছেন পরবর্তী কোন লেখাকে খন্ড করতে গিয়ে।

এমনই পরিস্থিতিতে ঠিক করছি, ধারাবাহিক রহস্যগল্প পোস্ট করা শুরু করবো। রহস্যগল্পের নাম স্থির করা নিয়ে সমস্যায় আছি, তবে নাম আপাতত সমস্যা নয়।

এবার লিখতে গিয়ে শরদিন্দুর ধারাটি অনুসরণের বৃথা চেষ্টা করবো। গল্পের চরিত্রগুলি জটিল, কাহিনী জটিলতর, এবং রহস্যের পেছনে মোটিভগুলো শিশুতোষ গোয়েন্দাগল্পের মত অযৌন নয়।

আমার লক্ষ থাকবে প্রতিদিন এক টুকরো পোস্ট করা। কোনদিন একটা টুকরো মিস করে গেলে তার পরদিনের টুকরোটা বড় থাকবে।

আপনাদের শুভাশিস প্রত্যাশী হয়ে রইলাম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711536 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711536 2007-05-20 01:35:21
জুলভার্নের বেলুনে পাঁচ সপ্তাহ পড়ে ... ...

...

...

...

মনে হয়েছিলো, এরা টয়লেট করতো কিভাবে?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711435 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711435 2007-05-19 15:34:08
হ কমেন্ট্য ফিরিয়ে দাও আন্দোলনে আমিও যোগ দিলাম।

ফিরিয়ে দাও
পুরনো কমেন্টগুলি ফিরিয়ে দাও
ফিরিয়ে দাও
হারানো কমেন্টগুলি এভাবে কেড়ে নিও নাআআআ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711430 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711430 2007-05-19 15:28:07
পিৎজা খাওয়ালে খেতে ভালোই লাগে কেউ পিৎজা খাওয়ালে খেতে ভালোই লাগে। তবে নিজে কিনে খেলে জিনিসটা তেমন আর ভালো লাগে না।

সেদিন আমাকে খাওয়ালো এক বন্ধু। মুখে দিয়ে বললাম, "দোস্ত এরা পিৎজা বানায় ভালো। মাঝে মাঝে খেতে হবে এখানে।"

আর একদিন এক বালিকাকে খাওয়ালাম। সে খাচ্ছিলো চপাচপ, আমি মুখে এক টুকরা দিয়ে বললাম, "ধুর, এটা একটা পিৎজা হলো? আমরা আর কখখনো পিৎজা খাবো না, ঠিকাছে?"

ব্যাপারটা কেমন যেন। কেমনে কী।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711427 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711427 2007-05-19 15:25:13
এইবার কবিতা নামাই [কিঞ্চিৎ শ্লীল পোস্ট।]

কবিতাকে ভালোবাসি
তাকে হাতে নিয়ে পড়তে চাই বলে
কবিতা আমার গালে চড় মেরে বাড়ি গেলো চলে।

আর একদিন ভাবলাম
কবিতাকে হাতে নিয়ে লিখি
কবিতা আমার গালে চড় মেরে বাড়ি গেলো ঠিকই।

তাই পণ করিয়াছি
আর কোন পড়া লেখা নয়
কবিতাকে বাগে পেলে একেবারে ছেপেটেপে দেবো নিশ্চয়!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711423 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711423 2007-05-19 15:20:09
আসেন একটু সাম্প্রদায়িক হই সেদিন ইনডিয়ার এক টিভি চ্যানেলে দেখলাম চশমা পড়া এক গেরুয়াধারী চোখ বুঁজে গান গাইছেন, হাল্লো হাই ছোড়িয়ে জয় মাতাজী বোলিয়ে।

তখন ভাবলাম, কাফের নাসারাদের থ্যাঙ্কিউ ধন্যবাদ আর কত? এইবার আমাদের একটু সাইজে আসতে হবে।

আমার প্রস্তাব, এইসব কুফরী কথাবার্তা দূর করে আমাদের পরিচ্ছন্ন এক্সপ্রেশ্ন বার করতে হবে। যেমন ধরুন, আপনাদের জন্য রয়েছে উত্তম জাঝা! কত সুন্দর। কত মনোরম কথা। একটু বড় যদিও। এটাকে ছোট করে "আজরউজা" বলা যেতে পারে।

কী বলেন আপনারা?

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711410 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711410 2007-05-19 15:04:51
সেদিন আমাকে ড়্যাবে ধরেছিলো সেদিন আমাকে ড়্যাবে ধরেছিলো। আমি কিন্তু কিছু করিনি। এমনিতেই অফিসে যাচ্ছিলাম সিয়েঞ্জি চড়ে। আমাকে দেখে তারা কী মনে করে সিয়েঞ্জি থামালো।

এক আপাদমস্তক অসিতবরণ আমাকে বললো, "আসসালামুআলাইকুম।"

আমি বললাম, "ওয়ালাইকুম সালাম ভাইয়া। কোন সমস্যা?"

সে বললো, "হোলেও হোতে পারে। আপনি কি একটু নামবেন?"

আমি বললাম, "নিশ্চয়ই আমি নামবো।" তারপর নামলাম।

সে বললো, "আপনার ব্যাগে কী"

আমি আমার ব্যাগ খুলে ব্যাগের অসূর্যম্পশ্যা অন্দরমহলে ড়্যাবের আলো ঢুকতে দিলাম।

সে কিছুক্ষণ আঁতিপাঁতি করে খুঁজে বললো, "এসব কী?"

বুঝিয়ে বললাম ওসব কী।

সে বললো, "আর এইটা?"

বুঝিয়ে বললাম, সেইটা কী।

তখন সে বললো, আপনার কোন পরিচয়পত্র আছে সাথে?

পরিচয়পত্র বার করে দেখালাম।

সে সন্দিগ্ধচোখে আমাকে আর আমার পরিচয়পত্রকে মিলিয়ে দেখে বললো, "ঠিক আছে। খোদা হাফেজ।"

আমি বললাম, "যাজাকুল্লাহ খাইরান।"

তারপর সিয়েঞ্জিতে চড়ে বসলাম।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711408 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711408 2007-05-19 14:58:28
এমনও তো পোস্ট হতে পারে
ঘুম থেকে উঠলাম অ্যালার্মের শব্দে। অ্যালার্ম বন্ধ করে দিলাম। বললাম, ধুরো বাল। তারপর আবার ঘুম দিলাম। তারপর একটা ফোন আসলো। ফোন ধরলাম। তারপর উঠলাম। উঠে টয়লেটে গেলাম। টয়লেটে গিয়ে হাগু করতে বসলাম। হাগু করতে গিয়ে দেখলাম খুব ঘুম পাচ্ছে। অনেক কষ্টে হাগু শেষ করে পাকসাফ হয়ে শাওয়ার ছাড়লাম। গোসল করলাম। তারপর দাঁত মাজলাম।

টয়লেট থেকে বের হয়ে বললাম চা খাবো। চা আসলো। বললাম তরমুজ খাবো। তরমুজও আসলো। বললাম নাস্তা খেতে ইচ্ছা করছে না। আম্মা তখন একটা ঠুক্কি দিলো। চা খেয়ে নিচে নামলাম। কিছুক্ষণ ভোদাই হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পর একটা রিকশা ডাকলাম। বললাম চলো সামনে চলো। সে বললো চলেন। রিকশায় উঠলাম। তারপর কিছুক্ষণ চলার পর একটা সিয়েঞ্জি দেখলাম। রিকশাঅলাকে বললাম ঐ রাখো। সে রাখলো। আমি নেমে বললাম, ভাই চলেন অমুক জায়গায়। সিয়েঞ্জঅলা যেতে চায় না। ঘ্যানঘ্যান করে। বললাম চলেন তো ভাই সক্কালবেলা কেন এমন করেন। বখশিস দাবী করলো সে। বললাম আচ্ছা দিবো। সে সিয়েঞ্জি স্টার্ট দিলো। আমিও উঠে বসলাম।

কিছুদূর গিয়ে সিয়েঞ্জি জামে পড়লো। গরম। ঘামতে ঘামতে আশেপাশে তাকাই। কিছু ভালো লাগে না। এইভাবে কয়েকবার জাম খেয়ে অফিসে গেলাম। বস বললো এত দেরি কেন। আমি বললাম সিয়েঞ্জি পাই না। বস বললো চলো মিটিঙে যাই। আমি বললাম চলেন যাই।

মিটিং শেষ করে দেখি হাতে অনেক কামলা জমে গেছে। বসে বসে কামলা খাটলাম কিছুক্ষণ। তারপর লাঞ্চব্রেকে লাঞ্চ করতে গেলাম। মুরগি দিয়ে ভাত খেলাম। তারপর আবার ডেস্কে আসলাম। এসে দেখি আরো কামলা জমে গেছে।

তারপর আবার কামলা খাটলাম। মাঝে মাঝে ছোট ছোট ব্রেক নিয়ে চা খেলাম। সিঙ্গারা খেলাম। তারপর আবার কামলা খাটলাম। তারপর দেখি ৫টা বাজে। বসকে গিয়ে বললাম বস যাইগা। বস বলে যাবা? যাওগা।

তারপর বের হয়ে কিছুক্ষণ হাঁটলাম। তারপর এক সিয়েঞ্জি মামুকে গিয়ে বললাম চলেন মামু বাসায় যাই। সে গাঁইগুঁই করে বলে জাম। আমি বললাম সারা ঢাকায় এখন জাম, চলেন চলেন। তারপর সিয়েঞ্জি চড়ে জাম ঠেলে বাসায় আসলাম।

বাসায় ঢুকে গোসল করলাম। নাস্তা খেলাম কিছুমিছু। টিভি ছেড়ে দেখি ভালো কিছু নাই। টারজানা নাই। নুবলা নাই। মনের দুঃখে এসে পিসি ছাড়লাম। সামহোয়্যার ইনে ঢুকলাম। ভাবলাম কিছু লিখি। তারপরে ভাবলাম কী লিখবো। এই ভাবতে ভাবতে আজকের দিনের পোস্ট পড়া শুরু করলাম। ভালো পোস্ট, মোটামুটি পোস্ট, বালছাল পোস্ট, সব পড়লাম। পড়তে পড়তে দেখি আর ভালো লাগে না। তখন উঠে পড়লাম। ভাত খেলাম।

শেষমেশ একটা বই নিয়ে বসলাম। পড়তে গিয়ে দেখি ঘুম পায়। তখন ঘুমায় গেলাম।

(হুঁশিয়ার মুর্শেদ, হুঁশিয়ার ...)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711405 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711405 2007-05-19 14:38:27
ম্যানিকিন আর বাস্তবতা যা বলতে চাচ্ছি সেটা হচ্ছে এই দুইটা ব্যাপারের মধ্যে অনেক ফারাক। এই ফারাক ঘোচাতে হবে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711296 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711296 2007-05-18 20:49:49
গল্পঃ কুকুর খেলে মুগুর
আমি সাধারণত পৃথুলা গল্প লিখি। বপু সুবিপুল, ভুঁড়ি বিভীষণ গোছের। শ'খানেক সমাপ্ত অসমাপ্ত গল্পের ভিড় থেকে বেছে বেছে কিছু গল্প আমি সামহোয়্যার ইন ব্লগ আর আমার ব্লগস্পট বাংলা ব্লগ "রয়েসয়ে"তে পোস্ট করেছি।

তবে কিছুটা দুঃখিতচিত্তে লক্ষ করেছি, গল্পগুলো লোকে তেমন একটা পড়ে দেখেনি। সাইজ দেখেই তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। যে দুয়েকজন সাহসী ক্যাপ্টেন কুক গল্পগুলি পড়ে দেখেছেন, তাঁরাও বেদরদী মন্তব্য করে জানিয়েছেন, তাঁদের পরিশ্রম একেবারেই পন্ড হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ছুটির দিনের মূল্যবান কয়েকটি ঘন্টা আমার এই পুষ্টিহীন ছোবড়া গল্পের পেছনে খরচ করে তাঁদের ইহকাল পরকালের ব্যাপক লোকসানও সাধিত হয়েছে। পরবর্তীতে তাঁরা আমার দুই লাইনের গল্পও নাকি পড়ে দেখার আগে চার লাইন ভাববেন।

অনেক খেটে, অনেক বাজে বকে, অনেক কষ্টেসৃষ্টে যে কয়েকজন পাঠককে ভুলিয়েভালিয়ে আমার ব্লগে টানতে পেরেছি, আমার আখাম্বা গল্পের অত্যাচারে তাদের এভাবে হারিয়ে ফেলার আশঙ্কায় আমি গল্প পোস্ট করায় ক্ষান্ত দিই, এবং যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বিঘৎ মেপে মেপে পোস্ট দেয়ার অভ্যাস আয়ত্ব করার চেষ্টা করি। তবে খাসলত বলে একটা কথা আছে। তাই মাঝে মাঝেই কিভাবে যেন হাত ফসকে বড়সড় পোস্ট বেরিয়ে যায়।

আজ দীর্ঘদিন পর আমি আবারও একটা বড় পোস্টকে ময়দানে নামাবো বলে মনস্থির করেছি। তবে পাঠকদের অনুদার চিত্তের কথা মাথায় রেখে পোস্টটা করেছি আমার ব্লগস্পট বাংলা ব্লগ রয়েসয়েতে। যাঁরা একেবারেই গোঁ ধরে রেখেছেন যে আমার বড়সড় গল্পগুলি পড়ে আমাকে দু'কথা শুনিয়েই ছাড়বেন, তাঁরা এখানে ঢুঁ মেরে আসতে পারেন। আর যারা বড় লেখায় ঠিক দাঁত বসাতে পারেন না, তাঁদের জন্য আমার এই এক বিঘৎ পোস্ট রইলো।

গল্পের নিচে দেখতে পাচ্ছি লেখা রয়েছে, জুন ০৫, ২০০৪।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711253 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711253 2007-05-18 15:57:54
প্রশ্নোত্তর জ্বিনের বাদশা মাঝে মাঝেই ব্রেইনটীজার উপহার দিয়ে থাকেন আমাদের। আমি সেগুলোর উল্টোপিঠে গল্প লেখার অপচেষ্টা করি। এবারও করেছিলাম। জ্বিনের বাদশা বললেন উত্তরটা পোস্ট হিসেবে দিতে। তাতে নাকি হিট হবে। হিটের লোভে তাই পোস্ট দিয়ে দিলাম।

জ্বিনের বাদশার প্রশ্ন:
-------------------------------------------------

"লাবড়াডাগাবড়া ৪: আপনি কাকে গাড়ীতে নেবেন (ইন্সপায়ারড বাই কৌশিক)
২০০৭-০৫-১৭ ১২:৫৪:৩৩


ঝুমঝুম বৃষ্টির রাতে গাড়ী নিয়ে বাড়ী ফিরছেন।
পথে দেখলেন এক দোকানের ছাউনির নীচে তিনজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে ... কারও ছাতা নেই ...এত বৃষ্টি যে তারা হেঁটে যেতে সাহসও পাচ্ছেনা।
কাছে গিয়ে দেখলেন, তিনজনের

একজন এক বৃদ্ধ (যে কিনা এই বৃষ্টিতে ভিজে অসুস্থ হয়ে পড়েছে, তাকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নেয়া উচিত, মানবতার খাতিরে একে সাহায্য করা উচিত),

একজন এক ব্যবসায়ী (খুব ধনী যার গাড়ীটি পথে বিকল হয়েছে, এই লোকের সাথে সবাই ভাল খাতির রাখতে চায়, কারণ সে অনেক ধনী... তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবে একে সাহায্য করা উচিত)

আর একজন এক সুন্দরী রমনী (প্রচন্ড সুন্দর আর আকর্ষণীয়া, এই মেয়েটিকে আজ সাহায্য করলে হয়ত প্রেমই হয়ে যাবে)

আপনি চাইবেন তিনজনকেই সাহায্য করতে, মানে লিফট দিতে।
কিন্তু ঝামেলা বাঁধালো আপনার গাড়ী।
ওটায় দুজনের বেশী বসা যায়ইনা।

কাকে নেবেন গাড়ীতে?

কেন?"


আমার গল্পোত্তর:
----------------------------------------------------

আমি গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে প্রথমে সেই বৃদ্ধকে গিয়ে বললাম, "দাদু চলুন, আপনাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে আসি।"

বুড়ো খ্যাঁক করে উঠলো, "দাদু কী? দাদু কী? ভাই বলো ভাই!"

আমি একটু দমে গেলাম। বললাম, "ভাই, চলুন আপনাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে আসি।"

বুড়ো তো চটে লাল। বলে, "অ্যাতো বছর পর একটা ডবকা মেয়ের সাথে বিষ্টিবাদলের দিনে ঠাসাঠাসি করে ভিজতে পারছি, আর তুমি হতচ্ছাড়া এসেছো আমার মজাটা মাটি করতে! দূর হও!"

আমি অস্ফূটে বললাম, "কিন্তু ... হাসপাতাল ...!"

বুড়ো তেড়ে আসে। "হাসপাতালে আমি ঢের থেকেছি! নার্সগুলি বজ্জাত। চিমটি দিতে গেলেই ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেয়!"

আমি আরো দমে গেলাম। বুড়ো দেখি অতীব ঘাগু!

এবার সেই ধনী লোকের দিকে যাই। "মিস্টার চৌধুরী, হাউ মে আই হেল্প ইউ?"

চৌধুরী দাঁতের ফাঁক থেকে সিগার নামিয়ে বলে, "ইয়ং ম্যান, তোমার কাছে কি নেইল কাটার হবে?"

আমি ঘাবড়ে যাই। বলি, "নেইল কাটার?"

মিস্টার চৌধুরী বলেন, "হুঁ। এই ছেমরিকে তখন থেকে সাইজ করার চেষ্টা করছি, কিন্তু এমন খামচি দেয় যে ধারে কাছে যেতে ভরসা পাচ্ছি না। তুমি যদি নেইল কাটার দিয়ে ওর নখগুলি একটু ছেঁটে দিতে পারতে, দারুণ হতো ব্যাপারটা। বোঝোই তো।"

মেজাজটাই খারাপ হয়ে যায়। এবার যাই সেই সুন্দরীর কাছে। কয়েক হাত দূরে থাকতেই সে নখ বাগিয়ে ফুঁসে ওঠে, "খবদ্দার! কাছে আসবি না শয়তান। খামচে দেবো কিন্তু!"

আমি থতমত খেয়ে বলি, "দেখুন, আমি আপনাকে সাহায্য করতে চাই।"

মেয়েটা ক্ষেপে যায়। "খুব হয়েছে! আমার কারো সাহায্য লাগবে না। সাহায্য করার জন্য এই বুড়ো ভাম আর ঐ টেকো হোঁৎকাটা তখন থেকে আমার আশেপাশে ঘুরঘুর করছে। সাহায্য করতে চায় না ঘেঁচু!"

আমি আমার গাড়িটা দেখাই। বলি, "আপনি চাইলে আমার গাড়িতে আসতে পারেন। আপনাকে নামিয়ে দেবো যেখানে নামতে চান।"

মেয়েটা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আশ্বস্ত হয়। আর হবে না-ই বা কেন। এমন নিষ্পাপ অভিব্যক্তি, এমন সরল ফিলানথ্রপি, এমন ইয়ে আমার চেহারায় ... সে রাজি হয়ে যায়।

বুড়োটা বেঁকে বসে। বলে, "বললেই হলো? হাতের শিকার এভাবে ফসকে যেতে দেবো নাকি আমি?" এই বলে সে হাতের লাঠিটা বাগিয়ে ধরে।

হোঁৎকা মিস্টার চৌধুরীও সিগার দাঁতে কামড়ে বলে, "উঁহু ইয়ংম্যান, এভাবে ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খেতে দেবো না তোমাকে।" এই বলে পকেট থেকে একটা পিস্তল বার করে সে।

আমি মেয়েটার দিকে তাকাই। সে কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে, "দেখলেন তো?"

আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলি, "একা একা দুষ্টুমি করার দিন বুঝি ফুরিয়েই গেলো। দাঁড়ান, নেইলকাটারটা নিয়ে আসি।"


(চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711093 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28711093 2007-05-17 20:13:22
অভিনন্দন বাশারকে অনেকদিন পর একটু হাল ধরে পাল খুলে খেললেন অধিনায়ক। একদিনের ক্রিকেটে ক্যারিয়ারের শেষ রাতে একটু ওস্তাদি করলেন। ৪৩ রান এমন আহামরি কিছু নয়, কিন্তু বাশারের হাতে ৪৩ মানে অনেক কিছু। আজকে তাঁর হাবভাবই ছিলো অন্যরকম। এমন লড়াকু বাশারকে হারিকেন দিয়ে খুঁজতে খুঁজতে হয়রান হয়ে কত না গালমন্দ করেছি।

অভিনন্দন অধিনায়ককে। ব্রাভো।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28710264 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28710264 2007-05-12 17:16:46
তাসনীম খলিলকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়া হোক
সিএনএনের কাছে তাসনীমের স্ত্রী জানিয়েছেন, জয়েন্ট টাস্ক ফোর্সের সদস্য পরিচয় দিয়ে সাদা পোশাকের চারজন এসে তাসনীমকে গ্রেফতার করে, এবং কী অপরাধে তাঁকে গ্রেফতার করা হচ্ছে তা বলতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা আরো হুমকি দেয়, এ ব্যাপারে চুপ না থাকলে আরো অনেক কিছু ঘটতে পারে। তারা সারা বাড়ি সন্ধান করে তাসনীমের পাসপোর্ট, সেলুলার ফোন, দু'টি ডেস্কটপ কম্পিউটার এবং যাবতীয় কাগজপত্র আর সিডি নিয়ে যায়। সম্ভবত তাসনীমকে সংসদভবনসংলগ্ন আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।


তাসনীম খলিল একের পর এক অনুসন্ধানী রিপোর্ট দিয়েছেন বাংলাদেশে মানবাধিকার লুণ্ঠন ও আইনশৃঙ্খলারক্ষায় নিয়োজিত সশস্ত্র শক্তির হাতে নিগৃহীত বা নিহত মানুষদের ওপর। রাজনৈতিক লুটেরাদের নিয়েও তাঁর সাহসী লেখাগুলি আমাদের মুগ্ধতা জয় করেছে। তাসনীম একজন সাহসী মানুষ, যে সাহস আমরা অনেকেই নিজের মধ্যে লালনে অক্ষম।


তাসনীম খলিলকে অবিলম্বে বিনা নির্যাতনে মুক্তি দেয়া হোক।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28710132 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28710132 2007-05-11 16:05:14
ক্লোজআপওয়ানে রবি ...

রবীন্দ্রনাথ পুনরুত্থিত হয়ে দেখলেন, বেশ ছোকরামতো চেহারা ফিরে পেয়েছেন তিনি। পথে বের হতে না হতেই একজন তাকে জোর করে পাকড়ে ক্লোজআপওয়ানে ভর্তি করে দিলো।

খানিকটা খোদার রহমতে, খানিকটা চেহারার জোরে, খানিকটা গান গেয়ে তিনি চূড়ান্ত পর্বে উঠে গেলেন।

ল্যাবাশিস বললো, "রবি, তুমি কী গান গাইতে চাও?"

রবীন্দ্রনাথ গম্ভীর, মৃদু গলায় বললেন, "আমি স্বরচিত, স্বসুরারোপিত কিছু গান গাইতে চাই।"

সবাই খুব ওয়াহ ওয়াহ দিলো।

রবি একটা গান খুব দরদ দিয়ে গাইলেন, কেন বাণী তব নাহি শুনি নাথ হে।

গান শেষে মাহমুদ চিমটিয়াজ চুলবুল চুল ঝাঁকিয়ে বললেন, "বাহ রবি বাহ। চমৎকার হয়েছে। এমন দরদ নিয়ে নিজের সুর করা গান আমি নিজেও গাইতে পারতাম না। তোমাকে দিয়ে হবে রবি। তোমাকে দিয়ে হবে। রোজ সকালে লবণ চামচে দুই চামচ লবণ খাবে। দেখবে গলা আরো ফুটে উঠেছে। বরই থাকলে বরই দিয়ে খাবে। জলপাই থাকলে জলপাই দিয়ে খাবে। দেখবে, হবে।"

রবি বললেন, "ধন্যবাদ স্যার।"

কামার চন্দ্রজিৎ কিন্তু একটু চটেই গেলেন। বললেন, "দ্যাখো রবি, আজকাল এইসব ভক্তিমূলক গান লোকে শুনতে চায় না। মানুষ চায় স্পাঙ্কি গান। যে গান শুনলে যৌবন জেগে ওঠে। আর ওভাবে চোখ মুদে গাইবে না। ওটা একটা দোষ। নিমীলক। ভেরি ব্যাড। ওকে?"

রবি বললেন, "ধন্যবাদ স্যার।"

কামিনী চৌধুরি বললেন, "রবি তোমার গানের গলা যেমন তেমন খোমাটা তো মাশাল্লাহ! একদিন অবসর করে বাসায় এসো, তোমাকে কিছু কায়দাকানুন শিখিয়ে দেবো। গানের কায়দা কানুন আর কি। ভয় পাবার কিছু নেই।"

রবি বললেন, "ধন্যবাদ স্যার।"

ল্যাবাশিস ফিসফিস করে বললো, "আব্বে ম্যাডাম ক ম্যাডাম।"

রবি বললেন, "ল্যাবা, অফ যা।"

এরপর রবি দেশবাসীর কাছে এসএমএসের জন্য আবেদন করলেন ভরাট গলায়। "যদি আমার গান আপনাদের ভালো লাগে, আর এ বি আই লিখে এসএমএস করুন অমুক নাম্বারে।"

...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28709656 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28709656 2007-05-08 17:05:49
ট্যাঁশগরু গরু নয়, আসলেতে পাখি সে কষ্ট করে আমাকে আর হারুদের আপিসে যেতে হয় না। ট্যাঁশগরু, ট্যাঁশছাগু, ট্যাঁশসাধুদের একটা ধৈর্য নিয়ে বসলে এই ব্লগেই মাঝে মাঝে দেখা যায়।

এই ট্যাঁশগরুদের কয়েকজন ব্লগের শুরু থেকেই খুব পরিস্কার ভাষায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে কটাক্ষ করে আসছে। তখন দুয়েকজন ব্লগার ক্ষীণকন্ঠে তাঁদের সাধ্যমতো প্রতিবাদ করেছেন সেইসব পাকমনপেয়ারদের (ধন্যবাদ শিমুলকে এই শব্দসজ্জার জন্য)। মাসখানেকের মধ্যে ব্যাপারটা উল্টে যায়, ব্লগে শূকরের তুলনায় মানুষের অংশগ্রহণ বেড়ে যায় এবং মুক্তি সংগ্রাম নিয়ে যে কোন ধরনের ইতরামোকে কঠোর ভাষায় তিরস্কার একটা নিত্যকালীন ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এর পরেই ব্লগে আগমন ঘটে সাবানের-স্যুপ-আর-মোমবাতিখোর ট্যাঁশগরুদের।

এদের অ্যাঙ্গল অফ অ্যাটাক ছিলো ভিন্ন। নিজেকে বিভ্রান্ত দাবী করে নানারকম মন্তব্য করে যাওয়াই ছিলো তাদের খুনসুটি। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে কি আসলেই বিভ্রান্তির তেমন কোন সুযোগ আছে, যদি স্বেচ্ছায় কেউ বিভ্রান্ত থেকে যেতে না চায়? খুনসুটির জোয়ারে একসময় তাদের বিভ্রান্তির তাঁবু থেকে বেরিয়ে পড়ে মওদুদিবাদী উট। দেখা যায় বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসপাঠে অনিচ্ছুক কোন মুহতারামার বালিশের নিচ থেকে বেরিয়ে পড়ে গোলাম আজমের জীবনী, "পাকিস্তানকে সমর্থন করা কোন অপরাধ নয়" গোছের কথাবার্তাও যেন কীবোর্ড ফসকে ছিটকে এসে পড়ে পোস্টে, আর ট্যাঁশসাধুরা প্রশ্ন তোলে ১৯৭১ এর নয়মাসের হত্যাযজ্ঞে নিহতদের সংখ্যা নিয়ে। তিন লক্ষ নাকি তিরিশ লক্ষ? যেন তিন লক্ষ মানুষ মারা গেছে এটা প্রমাণিত হলেই পাকিস্তানী সেনাবাহিনী, রাজাকার বাহিনী, আলবদর, আলশামস, বিহারী মিলিশিয়া, স্থানীয় দালাল, এদের সবার পাপ লঘু হয়ে যায়।

এ নিয়ে বিতন্ডা কম চলেনি। আমরা সাধ্যমতো প্রতিবাদ করেছি এই বিভ্রান্তিবণিকদের প্রলাপের। অমি রহমান পিয়াল তখন দিনের পর দিন পোস্ট করে গেছেন মুক্তিযুদ্ধকালীন বাস্তবতা নিয়ে। তথ্যের স্রোতে ভেসে যাবার সময় থেকে মঞ্চে আগমন ঘটে স্পিনার ট্যাঁশছাগুদের।

ট্যাঁশছাগুরা কোমর বেঁধে নেমে পড়ে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধকে ইসলামবিরোধী একটি কর্মকান্ড হিসেবে প্রতিপন্ন করার। তাদের স্বীকার্য ফরমূলা হচ্ছে অনেকটা এমন, ইসলাম = জামাতে ইসলাম। এ কথা সত্য যে মুক্তিযুদ্ধ আর জামাতে ইসলাম দুটি পরস্পরবিরোধী ব্যাপার, এমনকি জামাতে ইসলামের কর্মকান্ডের সাথে ইসলামের মূলধারার কতখানি যোগ তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। ট্যাঁশছাগুরা তাদের স্বল্প মেধার আস্তিনের নিচ থেকে একের পর এক তাস বের করার চেষ্টা করে, যার বেশির ভাগই ছিলো জোকার নয়তো দুই নাম্বার। এ নিয়ে ব্লগে হাস্যরসও গড়িয়েছে অনেক, ধন্যবাদ দিতে হয় ত্রিভুজকে।

নিজের মাতৃভূমির খেয়েপরে যারা একটি নৃশংস রক্তলোভী খুনীবাহিনীর সমর্থন যুগিয়েছিলো কথায় ও কাজে, তাদের পুত্রকন্যারা যদি তাদের সেই কলঙ্ককে ধর্মের সাবান দিয়ে ধোয়ামোছার চেষ্টা করেন, তাহলে অপমানটা বর্তায় ধর্মের ঘাড়েই। নিজেদের চামড়া বাঁচানোর জন্যই তাদের এই মরিয়া হাল, আমরা বুঝি। নানাভাবে তারা আমাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন, ৩৬ বছর আগের সেই ঘটনাটির কথা ভুলে গিয়ে সামনে তাকাতে, আবার পরক্ষণেই বিশ্লেষণ করতে বসেন সাহাবাদের কীর্তিকাহিনীর। যার পরিবারের্‌ একটি মানুষও নিহত হয়েছে সেই বর্বরদের হাতে, সে কি এসব কথায় ভোলে?

ক্ষমা নাই সেইসব হন্তারকদের। হন্তারকের নতুন প্রজন্মের ল্যাংবোটরা পারবেন না তাদের বাপচাচাদের পাপ মাটিচাপা দিতে। সেই পাপের অংশীদার তারা না হোন, সেই অনুরোধ করি।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28708721 http://www.somewhereinblog.net/blog/jongliblog/28708721 2007-05-02 16:53:31