আমার প্রিয় পোস্ট

অতি দক্ষ মিথ্যুক না হলে সত্যবাদিতা উৎকৃষ্ট পন্থা

পুরোনো দিনের কবিতা

০৬ ই জুন, ২০০৬ রাত ৩:০৮

শেয়ার করুন:                   Facebook

সাহিত্যের লক্ষ্য কি হওয়া উচিত এ নিয়ে আমার সাথে বিভিন্ন বন্ধুর মাঝে মধ্যেই তাত্তি্বক আলোচনা হয়ে যেতো। আমি নির্বোধ মানুষ তারপরও মাঝে মাঝে ভালো ভালো কথা বলে ফেলি ভুল করে।এক বন্ধু একদিন বেশ গম্ভির মুখে বললো বাংলা সাহিত্যে হতাশার দীর্ঘস্থায়ি গ্রহন চলছে। সব খানেই বিষাদের গল্প কবিতা। সবাই মুঠো মুঠো হতাশা বিক্রি করছে সাহিত্যের নামে। আমি ওর বক্তব্য মিলিয়ে দেখলাম ভালো মানের সাহিত্য বলতে সাহিত্যবোদ্ধারা যা চালাতে চায় তা আমাদের ভেতরের অন্ধকারের গল্প। সেই রকম ভাবেই পুরস্কার পাওয়া সব উপন্যাসের ভেতরে চোরা বিষাদ থাকে। সিরিয়াস লেখা বলতে যেহেতু জীবনঘনিষ্ঠ সাহিত্যকে চালানো হয় তাই দুঃখি মানুষের করুন কাহিনির মধ্যে শুধু সংগ্রাম এবং হতাশা। এই হতাশার মধ্যে খাবি খায় উপন্যাসের চরিত্রগুলো এবং আমি পাঠক হিসেবে জীবনের কর্কশতায় জীবনবিমুখ হয়ে যাই। এই ফাঁকটাতে সস্তা মাপের লেখা নিয়ে অনেক সাহিত্যিক কোমল হৃদয় মধ্যবিত্তের পকেটের টাকা সাফ করে নিচ্ছে। বন্ধুর দাবি ছিলো লেখা জীবন ঘনিষ্ট হতে হলে শুধু দুঃখের বয়ান থাকবে কেনো, এই জিবনের সংগ্রামের ভিতরে একটা গড়ে উঠার বিষয় থাকবে, একটা আশাবাদ থাকবে। আমি এর পর সিদ্ধান্ত নিলাম যদি লেখায় আশাবাদ বা প্রত্যাশার বিষয় না থাকে তাহলে ভালো মাপের সাহিত্য করা সম্ভব কিন্তু এটা ঠিক যুতসই বিষয় হবে না।
আমার জীবন তেমন আনন্দ উদ্দেল নয়, সুতরাং জীবনে সুখের মূহুর্ত আসে প্রতিদিন কিন্তু এসব সুখের মুহুর্তে বড় কোনো জীবনবোধ নেই। দুপুরে ভাতের সাথে আলুভর্তার বদলে একটু আমিষ জুটলে যে আনন্দ হয় আমার জীবনবোধের আনন্দগুলো সেরকম।

কবিতা লেখা হয় না তার কারন জীবনের আড়ালে আশাবাদের বোধটা চারপাশে খুঁজে পাই না। কবিতা শুধু মাত্র ছন্দ মিলিয়ে শব্দের সাথে শব্দের সঙ্গমজাতিয় একটা বিষয় এমনটা আমার মনে হয় না। কবিতা জীবনবোধের পরিস্ফুটন, কথাটা ফুটানি শোনাতে পারে কিন্তু আমার কাছে কবিতার সংজ্ঞা এরকমই। কবিতা জীবনকে ঘিরে নির্মিত হয়, কবিতা আমার অনুভবের স্ফুটরূপ। যেহেতু সেই জীবনের পাথর ঘষে তেমন উজ্জল আলো আশে না তাই অনেক অপেক্ষা করে শব্দের ভেতরে বোধের ভেতরে আশাবাদ আনার ক্লাতি আমার হজম হয় না। সহজ কথায় বলতে গেলে আশাবাদী কবিতা লিখবো বলেই কবিতা লিখি না এখন।
এখানে যেসব কবিতা আসে সেসব এই পণের পূর্বের কবিতা। সেখানে হতাশার বানী থাকলে আমার কিছু করার নেই, যেহেতু এসব কখনই বাংলাসাহিত্যের মূল ধারায় যাবে না এবং যেহেতু এটা আমার নিজের পাতা তাই এখানে জমিয়ে রাখি আমার আশাহীনতার কালের ছবি।

সম্ভবত 98 এ লেখা একটা কবিতা-

এবং সম্ভবত প্রায় যন্ত্রনাবিহীন মৃতু্য
এবং অসংখ জট
বিচ্ছিন্নতা
সভ্যতা।

প্রায় প্রবৃত্তির মতো, প্রায় যান্ত্রিক
এবং সম্ভবত প্রশ্নবিহীন জীবন যাপনের
স্বাধীনতা
সভ্যতা।

এবং ক্রামাগত ব্যাবহৃত হতে হতে
এবং ব্যাবহৃত হতে হতে
এবং জীর্ন হতে হতে
প্রতিরোধহীন আত্মসমর্পন

এবং ক্রামাগত ক্ষয়ে যেতে যেতে
ক্ষয় হতে হতে
অবশেষে
বীভৎস মৃতু্যর স্বাধীনতা
সভ্যতা


এবং এদিকে ছ আনা
ও দিকে ছ আনা
মানিয়ে নেওয়া এবং মানানো
এবং ওদিকে শাসন
এদিকে তোয়াজ
মানিয়ে নেওয়া এবং মানানো

এবং সবুজ হত্যা
এবং জলহত্যা
এবং বায়ুদুষণ
এবং শব্দ দুষণ
এবং বোধহীন
শহর এবং নাগরিক
রাষ্ট্র এবং শাসক
নেতা এবং রাজনীতি
প্রথা এবং দালালি

এবং এদিকে ছ আনা
ও দিকে ছ আনা
মানিয়ে নেওয়া এবং মানানো।

এবং মাঝরাতে সভ্যতার শবকাঁধে শ্মশানে
এবং একটা শহর চলে যাচ্ছে নিরুদ্দেশে
এবং গলি উপগলি সব ছুটছে
এবং সবাই রূপান্তরিত হচ্ছে
এবং সবাই অবশেষে
মধ্যসত্ত্বভোগী এবং পতিতা
সভ্যতা।


আশ্রয়হীন যৌনতাসর্বস্ব মানুষের
অশ্ল ীল যৌন কাতরতা
সভ্যতা
এবং সম্ভবত প্রায় যন্ত্রনাবিহীন মৃতু্য
এবং যাবজ্জিবন বিষন্নতা
সভ্যতা ।


ধর্ষণের প্রতিবেদন
----------------

অসংখ্য মিথ্যা এবং ভুল বোঝানো ছড়া
অংশ্য মৃতু্য এবং ঘুমপাড়ানি গান
" আয় ঘুম যায় ঘুম বাগদি পাড়া দিয়ে"
খোকা ঘুমানোর পর বর্গি এলো দেশে
এবং শেষ রাতে গৃহবধু ধর্ষিত হলো
এবং এর পর তার ঝলসানো মৃত দেহ
দেখতে এলো প্রশাসন

ক নেতা খ নেতা কর্মি সহকর্মি এবং সহমর্মি
আরো অনেকে এবং অসংখ্য গল্প উপকথা ঘুরছে
" ওদেরই বা দোষ দেই কেনো, মুখিয়েই ছিলো
আজ নয় তো কাল ধর্ষিত হতোই"
যেনো আমাকে ধর্ষণ করো প্লাকার্ড বুকে বেধে
এই ঝলসানো লাশ একদিন শহরের গলিতে হেটেছে

কেউ সাহস করে কোনো প্রশ্ন তুলছে না
পশুত্বের বীজটা আসলে আমাদের রক্তের ভেতরে
এবং যৌনঅতৃপ্তির ধারালো নখর লুকিয়ে
আমরা হাণনটছি,
সময় ও সুযোগমতো স্বভাবে
ধারালো এবং কৌশলি থাবার শিকার করছি নারিদেহ
নয়তো বলুন জনগন.........
কেউ কি নিজ বিছানায় স্ত্র ীকে ধর্ষণ করেন নি কোনো দিন
কোনোদিন অনিচ্ছুক সঙ্গমের পর মুখ লুকিয়ে কাঁদে নি কেউ
রাজপথে হেটেছেন এবং সঙ্গমযোগ্য কোনো কুমারিকে দেখে
গোপনে দীর্ঘশ্বা সফেলেন নি এক দিনও
এবং জীবনের স্খলিত হন নি.......
যদি এমন কেউ কেউ থাকেন
তবে শুনুন উপস্থিত জনগন
যদি আপনাদের ভেতরে এমন কেউ থাকেন যিনি
জীবনে স্খলিত হন নাই
সামনে আসুন .............

অতঃপর সবাই যে যার ঘরে ফিরে গেলো বক্তা স্বয়ং
নিজস্ব লজ্জা নিয়ে ঘষে মেঝে ধর্ষনের প্রতিবেদন লিখলেন
ধর্ষিতার ছবি সহ সেই সংবাদ পড়ে অনেকে গোপনে তৃপ্তির ঢেকুর তুললেন পরদিন।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: কবিতা  বিভাগে ।

 

  • ৯ টি মন্তব্য
  • ৩২৩ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৬ ই জুন, ২০০৬ বিকাল ৫:০৬
comment by: অতিথি বলেছেন: প্রথম টা ভাল লেগেছে।
2য়টার মনে হয় আর একটু ঘষা মাজা দরকার
২. ০৭ ই জুন, ২০০৬ ভোর ৫:০৬
comment by: হযবরল বলেছেন: আমি র্সবক্ষণই দর্ীঘশ্বাস ফেলি, সুন্দরীদের দেখলেই দম বন্ধ হয়ে যায়।

কিন্তু আপনার 2য় টি পড়লাম দম বন্ধ করে ।
৩. ০৭ ই জুন, ২০০৬ বিকাল ৪:০৬
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: তীব্র লেখা। আংশিক যন্ত্রণা দেয়।
৪. ০৭ ই জুন, ২০০৬ সন্ধ্যা ৬:০৬
comment by: কালপুরুষ বলেছেন: মাঝে মাঝে হিংসে হয়
এতো প্রতিভা যার
কেন সে কবিতাকে
এমন ভাবে করে ছাড়খার।
যার কলমে কবিতা
ফুলে ফেঁপে ওঠে নিত্যকার,
বসে জাকিয়ে কাব্যের আধার,
কেন সে আক্রোশে জ্বালায়
জীবনের পান্ডুলিপি;
সাজায় কবিতার চিতা নগ্ন বেদীতে,
দেখে কবিতার শবদেহ পোড়ে শব্দের অনলে,
কালসিটে ধোঁয়ার ছন্দ ওড়ে লাজুক বাতাসে
তাকিয়ে সে হাসে, হায়েনার উল্লাসে।
৫. ০৮ ই জুন, ২০০৬ সকাল ৭:০৬
comment by: অতিথি বলেছেন: কালপুরুষের সাথে একমত।
৬. ০৮ ই জুন, ২০০৬ সকাল ৭:০৬
comment by: অতিথি বলেছেন: স্বরহীন কথা সত্য আরও গুছিয়ে লিখা উচিত ছিলো, নিজের কাছেও সম্পুর্ন মনে হচ্ছে না কবিতাটা,
তবুও লেখাটার যেই উদ্দেশ্য তা হলো নিজের আয়নায় নিজেকে দেখা, একজনের প্রতি আঙ্গুল তুলে কিছু বলার আগে যাচাই করে দেখা আসলে আমাদের নিজেদের ভেতরে কি আছে, এই অংশটাই মুল সু
র, শব্দ এখন আমার দাস নয়,আমি শব্দের দাসত্ব করি তাই মাঝে মাঝেই সঠিক শব্দ আসে না হাতের নাগালে।
৭. ০৮ ই জুন, ২০০৬ সকাল ৮:০৬
comment by: অতিথি বলেছেন: কালপুরুষ আমার প্রতি উৎসর্গিত কবিতা বলে নয় বরং আমার মনে হচ্ছে আমার প্রতি বর্ষিত হয়ে কবিতাটার নিজের মানহানি হয়েছে। এখন বোধ হয় আপনার নিজের কবিতা সংকলনের সময় হয়েছে, ছন্দের কথা না ভেবে শুধু অনুভবের কথা লিখতে থাকেন, শব্দ আপনাকে খুঁজবে শব্দ খুঁজতে আপনাকে যেতে হবে না
আমি একটা এডিটেড ভার্সন দিচ্ছি এই কবিতাটার যার সাথে প্রাসঙ্গিকতা জুড়ে একটা ভালো কবিতা হয়ে যাবে।
অপচয় ঠিক না


অক্ষম কবি
তার কবিতায় ফুলে ফেঁপে ওঠে
নিত্য জীবনের অন্ধকার
তাই সে আক্রোশে জ্বালায় জীবনের পান্ডুলিপি
সাজায় কবিতার চিতা নগ্ন বেদীতে
দেখে কবিতার শবদেহ পোড়ে শব্দের অনলে
কালসিটে ধোঁয়ার ছন্দ ওড়ে লাজুক বাতাসে
তাকিয়ে সে হাসে হায়েনার উল্লাসে।
৮. ১০ ই জুন, ২০০৬ দুপুর ১২:০৬
comment by: অতিথি বলেছেন: কোথায় আমি ছিলাম? না থেকে ভালই করেছি, পড়েই আবার আমি নাই হয়ে গেলাম।
৯. ১০ ই জুন, ২০০৬ দুপুর ১২:০৬
comment by: কালপুরুষ বলেছেন: রাসেল (8 ডট)ঃ
অক্ষম বা সক্ষম সেটা বিচারবোধের ব্যাপার এবং তাও আবার নিজের অবস্থানে দাঁড়িয়ে। কারো কারো চুলচেরা অক্ষমতা অনেকের সক্ষমতাকেও হার মানায়। কারণ অক্ষমতা তার ভাবনায়, ইচ্ছায় তার সামর্থে নয়। কারন সে জানেনা তার সামর্থের শেষ বিন্দু কোথায়? আপনি শেষ খোঁজেন আর সবাই শুরুটাই জানেনা কোথায়।

 

 


অনেক অনেক চেষ্টা হয়েছে ব্লগানোর বাংলা করা নিয়ে, আমার এখন ব্লগের নতুন বাংলা করতে ইচ্ছা করলো তাই দিলাম এর নাম...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১২৪৩৯৬