কবি ও কবিতা-1
১৫ ই জুন, ২০০৬ সন্ধ্যা ৬:২৩
সমকালিনতা অতিক্রম না করলে কেউ বড় মাপের কবি হয়ে উঠতে পারে না।সার্বজনীনতা কিংবা চেতনায় মহাকাল ধরে রাখা কবির কাজ। পূর্ব যুগে কবি শব্দটা যেই অর্থে ব্যাবহৃত হতো আমরা এখনও কবি সেই অর্থে ব্যাবহার করতে পারি। প্রকৃত কবিরা তাদের সময়ের খোলস ছিড়ে ফেলে আমাদের সর্বকালীন সহযাত্রি। আমরা বর্তমানেও তাদের ভাবনার প্রতিফলন দেখতে পাই, যেমন ভাবনার প্রতিফলম দেখতো পাবো ভবিষ্যতে কিংবা আমাদের আগের যুগেও একই কবিতা পান করে মাতাল হয়ে যাওয়া যুবাদের পাওয়া যাবে। এভাবেই কবিরা একটা পর্যায়ে গিয়ে মিথিক্যাল চরিত্র হয়ে যান। একটা ধারা তৈরি করে ফেলেন। সে ভাবধারার সহগামি অনেকেই। যুগের ফ্যাশানের ঝলক না থাক, আটপৌরে সাধারনতা, বা চিরকালিনতা নিয়ে তারা সব সময় আমাদের মুখে প্রিয় ভাষা সরবরাহ করে যান অবলীলায়।
কবিতার ব্যাবচ্ছেদ সম্ভব, কবিতা খুঁড়ে কবির মনস্তত্ত্ব যাচাই করে নেওয়া চলতে পারে কিন্তু মৌলিক যে সুর কবিতার প্রান তা হত্যা করা যায় না। আমার নিজের কিছু পছন্দের চীনা কবিতা আছে-চিননাদের মতোই ছোটোখাটো এবং পরিপূর্ন। চৈনিক যুবতিদের মতোই টানটান যৌবন চৈনিক কবিতার।
অথচ আমি নিজে চীনা ভাষার চ'ও জানি না। কবিতার প্রান অনুবাদে নিহত হয় না তাই অনুবাদে কবিতা পড়েও আমি বুঝে যাই চীনা যুবতির মনের রং, চিননা যুবকের বিরহ আর প্রেম, প্রতিশ্রুতি আর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের গোপন কারন। আমার ছোটো খাটো এক চৈনিক কবির সাথে পরিচয় হয়েছিলো। আমরা দুজন মাঝে মাঝে কবিতার কথা বলতাম। তার বসবাস চীনের কোনো এক শহরে যেখানে শীতকালে বরফ পড়ে, সেই কুয়াশার ভেতরে হেঁটে হেঁটে তাকে যেতে হয় কারখানায়। সপ্তাহে একদিন মাত্র ছুটি, সেই একদিনের কয়েকটা ঘন্টা আমার জন্য আলাদা করে রাখতো সেই কবিবন্ধু। তার লেখা ওসুর করা গান পাঠিয়েছিলো আমাকে আমার শোনা হয় নি। অনেক রকম জটিলতায় জড়িয়ে যাওয়ায় তার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এর পরও তার নতুন কোনো কবিতা আসলে আমাকে অনুবাদ করে পাঠিয়ে দেয়-জানি না এখন কি করছে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উকিল হওয়ার নাইট স্কুলে রাত্রিযাপন এবং দিনের বেলা কারখানায় জীবনপাত এই ছিলো তার দৈনন্দিন কাজ। সে কারখানায় নারী অধিকার নেই। মেয়েরা নিগৃহিত হয়, এইসব দুঃখের খবরও জানাতো। কিভাবে তত্ত্বধায়কের চোখ ফাঁকি দিয়ে এক লাইন টুকে রাখা দিনলিপির পাতায়- কবিতার সাথে বসবাস এরকম গোপন প্রেমের মতোই। কালার প্রতি রাধার নিষিদ্ধ প্রেমের মতোই মাদকতাময় সুখ।যার আগুনে সময় পুড়ে যায় অনায়াসে। এবং আমাদের চেতনাও পুড়তে থাকে প্রতিদিন, আমরা দৈনন্দিন জীবনকে কবিতার উনুনে চাপিয়ে একএকটা অনুভব লিখে রাখি, পাঠক সেই অনুভবের ব্যাবচ্ছেদ করে। মাঝে মাঝে গালি দেয়, মাঝে মাঝে প্রশংসাও জুটে। কিন্তু এই নিজস্ব প্রেমের দায় এড়ানো সম্ভব নয়। কবিতা কবিকে গিলে খায়।
এমন একজন কবির কবিতা অনুবাদ করবো ভাবছি, উইলিয়াম ব্লেক। প্রথাবিরোধিতার চুড়ান্ত করেছেন জীবনে। জেলখানা ভেঙেছেন বন্দিদের ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করেছেন। তার সতীর্থ কবি ও চিত্রশিল্পিদের শিল্পের শত্রু ঘোষনা দিয়ে তাদের এড়িয়ে চলেছেন। বলেছেন শিল্পে সার্বজনীন সত্য বা সার্বজনীন সৈন্দর্যবোধ বলে কিছু নেই। চেনা দৃশ্যের বিমূর্তায়ন মানুষের কল্পনার শ্রেষ্ঠ উদাহরন। সবাই মিলে একটা সাধারন সত্য পৌছানোর চেয়ে একক প্রচেষ্টায় নিজের স্বর পরিচ্ছন্ন পরিশ্রমে প্রকাশ করতে পারাটাই শিল্পির কাজ।
মানুষের ইন্দ্রিয়জাত উপলব্ধির চেয়ে বেশি শক্তিশালী তার কল্পনা-আমাদের কল্পনার চোখ বাস্তবের অভিঘাত এড়িয়ে সত্য নির্নয়ে আমাদের সাহায্য করে- এমন কোনো বানী হয়তো পাওয়া যাবে না ব্লেকের নিজের ভাষ্যে। কিন্তু তার মুক্ত চিন্তার সীমা পরিসীমা এমন সংলাপ তার মুখে মানানসই করে তুলে।
চিন্তার এবং কল্পনার স্বাধীনতা চাওয়া এই কবি এবং চিত্রকর তার সময়ে মোটেও জনপ্রিয় ছিলেন না। তার অবদান বোঝা গেলো তার মৃতু্যর পর এবং কবিতায় তার আপাত বিমূর্ততার ধাঁচ নতুন ধরনের কবিতার প্রসুতিকক্ষ।
যেহেতু পোষ্ট সংশোধনের কোনো ব্যাবস্থা এখনও হয় নাই। একবার সংশোধন করতে গেলেই হাজার রকম ফ্যাঁকরা বাধে তাই এর মন্তব্যে ব্লেকের কবিতার অনুবাদ ছাড়া হবে।
প্রকাশ করা হয়েছে: কবিতা বিভাগে ।
অতিথি বলেছেন:
কথা সত্য উইলিয়াম ব্লেক সাহেব,খোদাই শিল্প তার প্রথম পেশা- তবে খোদাই শিল্পের চেয়ে গুরুত্বপূর্ন হলো তার পুস্তক অলংকরন।
অতিথি বলেছেন:
আরে না গুরু- এক রামছাগলকে নিয়ে আর কত লেখা যায়, নতুন কেউ তো উঠে আসতেছে না যাকে নিয়া একটু কাজ করা যায়। আর নতুন কয়েক জন আসছে তাদের ভাবসাব বুঝতে সময় লাগবে খানিকটা- এই অবসরে একটু হাত পাকানো আর কি।
অতিথি বলেছেন:
যদি আমার ভূল না হয়, আপনি ইংলিশ কবি উইলিয়াম ব্লেক এ র কথা লিখছেন । তাই কি?যতটুকু জানি ব্লেক একাধারে কবি,চিত্রকর ও খোদাইশিল্পী ছিলেন । এবং তার সময়ে তিনি মোটে ও জনপ্রিয় ছিলেননা ।
অভিনন্দন রাসেল । ভালো লাগলো ।
অতিথি বলেছেন:
সমকাল অতিক্রম করতে না পারলে বড়ো মাপের কবি হওয়া যায় না.....মেীলিক যে সুর কবিতার প্রাণ তা হত্যা করা যায় না....কথাগুলো নিদারুণ সত ্য ও শাশ্বত সুন্দর। ভালো লাগলো।
বেশি দূরে যেতে চাই না। বাংলা কবিতা ঘাঁটলেও এর দু'চারটে উদাহরণ পাই।
জীবনানন্দ দাশও জীবদ্দশায় জনপ্রিয় ছিলেন না..কিন্তু তাঁর কবিতা আমরা এখনও চিবিয়ে খাই....হয়তো একদিন আবিদ আজাদকেও মানুষ স্মরণ করবে।
অতিথি বলেছেন:
আপনি ভালো লেখেন এবং সম্ভবত যা বলেন তা যাপনের চেষ্টা করেন। তাই উপলব্ধিগুলো ইথারে নিস্পন্দ রোগীর মত সত্য । ধন্যবাদ, আপনাকে।
অতিথি বলেছেন:
অন্য সব অনুবাদের মতো এটাও খানিকটা ভাবানুবাদ। ব্লেক যা বলেছে তা বলে ফেললে আমার কৃতিত্ব কৈ থাকে-দি লিটল বয় লস্ট কবিতার অনুবাদ
পিতা ও পিতা কোথায় যাচ্ছো?
হেঁটো না কো এতো জোড়ে
সাড়া দাও পিতা সন্তান ডাকে
হারিয়ে যাবো অাঁধারে-
আন্ধাার রাত, পিতাও ছিলো না কাছে
শিশিরে আদ্্র হয়েছিলো সন্তান
কাঁদা ঢেকে ছিলো দ্্বিধার চরনে
সন্তান কেঁদেছিলো
চোখের অশ্রু চোখেই শুকালো
বিষন্ন আলোড়নে।
অতিথি বলেছেন:
লিটল বয় ফাউন্ড এর ভাবানুবাদ আলেয়ার পিছে পিছে ছুটে
পথ হারিয়ে ছোটো ছেলে
কাঁদছিলো ভয়ে , দাঁড়ান নিকটে
শুভ্র ইশ্বর আলো জ্বেলে
হাত ধরে তার পিতার আদরে ফেরালেন তারে
জননীর কোলে কপালে চুমিয়া,
আকুল জননী, শঙ্কিত হিয়া ,
খুঁজছিলো তাকে আলো ও আঁধারে।
অতিথি বলেছেন:
Little Fly,Thy summer's play
My thoughtless hand
Has brushed away.
Am not I
A fly like thee?
Or art not thou
A man like me?
For I dance
And drink and sing,
Till some blind hand
Shall brush my wing.
If thought is life
And strength and breath,
And the want
Of thought is death,
Then am I
A happy fly,
If I live
Or if I die.
অতিথি বলেছেন:
লেখাটি ভাল লাগলো খুব। নিজের কবিতার শেষ কয়েকটি ছত্রে তা প্রতাশ করলাম...........
মুহুর্তকে হাতে করে
তক্ষুনি কবি বলেন,
কবিতা শধুই কবিতা নয়।
কবিতা মানে
শরীর থেকে তেটে নেয়া
এক টুকরো নিদারুন সময়...
কনফুসিয়াস বলেছেন:
রাসেল ভাই,ঠিক এরকম লেখাই চাই। অনুবাদগুলাও জটিল।
দি ডিভাইন ইমেজ আর সংস- এর অনুবাদ চাই আপনার কাছে। আমার খুব পছন্দের কবিতা। সবার ভালো লাগার কথা। অথবা ফ্রম জেরুসালেম। দারুন!
অতিথি বলেছেন:
দি ডিভাইন ইমেজ, কিংবা সংস কিংবা ফ্রম জেরুসালেম কোথায় পাওয়া যাবে?হাতের কাছে পেলে একটা চেষ্টা করে দেখতাম। আমার কাছে এখন আছে দি ম্যারেজ ওফ হ্যাভেন এন্ড হেল- ওটার ভাবগতিক বোঝার চেষ্টা করছি।
অতিথি বলেছেন:
দেখি আরও একটা দুইটা কবি ধরবো এর পরের মুভমেন্টটা ছিলো মনে হয় রোমান্টিক মুভমেন্ট- কীটসরে নিয়া কিছু গুতায়া এর পর ইয়েটসরে নিয়া গুতামু যদি হাতে সময় থাকে- তবে সব পারবো না-ইয়েটসের সমগ্র দেখছিলাম ভয়ংকর সাইজ।
কনফুসিয়াস বলেছেন:
রাসেল ভাই,আমার কাছে যেগুলা আছে ওগুলা আপনারে লিখে পাঠাইয়া দিবো নে।
এই ওয়েবসাইটে মনে আছে সব। আমি একবার দেখে নিবো ভালো করে। যদি না থাকে, আমার গুলা দিবো আপনারে।
এই সিরিজটা অসম্ভব ভালো হচ্ছে, চালাইয়া যান।
অতিথি বলেছেন:
আর উত্তর পাইলেন না বুঝি কিছু? নাকি এড়ায় গেলেন? 'কবিতা' কিন্তু শুধু একটা নাম না , একটা গোটা আইডিয়া! আর আপনার দু-চারটা যা পড়লাম , তাতে মনে হল , আপনার লিখার ভংগি সেই আইডিয়াটারে কোয়েশ্চেন করতে আছে! তাই কইলাম , কবিতা লেবেল আটকায়েন না!এহন , আপনার গোরু , আপনি ল্যাজে কাটেন আর মুড়োয় কাটেন !
অতিথি বলেছেন:
ল্যাখেন তো ভালাই ! তাইলে কবিতা কবিতা কইর্যা হ্যাদায় মরেন ক্যান? কবিতা ছাড়েন মিয়া , ল্যাখার কথা লিখ্যা যান , হেইডারে কবিতা কইবেন , না পুটকি কইবেন , তাইতে কি আসে যায়?
অতিথি বলেছেন:
ঠিক, নামে কি যায় আসে, মিচকে না হইয়াও পিচকে ডিচকে হইলেও কোনো সমস্যা নাই, কিন্তু এর পরও মানুষজন আয়েশ কইরা নামাঙ্কন করে। মানুষ হইলো গাধা।
অতিথি বলেছেন:
মিচকা সঠিক ।



















চালিয়ে যান কাব্যবথার ডেইলি ডোজ।