সমালোচনা পর্ব 1
০৬ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ৩:২১
আত্মপরিচয় নিয়ে সংকট কাটে না কিংবা আত্মপরিচয়ের গ্লানি বহন করা দুঃসাধ্য বলেই নতুন পরিচয় নির্মাণের চেষ্টা করে মানুষ। এই পরিচয় আর ভাবমুর্তি সংকট এড়ানোর কোনো সামাজিক পন্থা নেই।
আমরা মুখে গামছা বেঁধে বেশ্যা বাড়ী যাই, দুপুরে পাঞ্জাবী চাপিয়ে গায়ে আতরচর্চিত তুলো কানে গুঁজে যাই খোতবা শুনতে আর বিকালে রাস্তায় দাঁড়িয়ে শাড়ীর ফাঁক গলে উপচে পড়া যৌবন চাটি এবং আমাদের ভাবমুর্তি নির্মাণ করি।
সংকটটা ভয়াবহ। নিজের সাথে নিজের দ্বৈরথ, অবশেষে সমাধান আসে, নিজের ভাবমুর্তি নির্মাণের পর ঢাক ঢোল বাজিয়ে সেই ভাবমুর্তি সবাইকে জানানোর কাজটাও নিজেকেই করতে হয়। আমি এলেবেলে কেউ না আমি সেই জন, সেই রকম একজন অতএব আমার কথা শ্রবণ করো তোমরা।
" আবুল হোসেন" নামের একজন কবি বিদ্যমান ছিলো বলেই আমরা " আবুল হাসান" কে পাই, জন্ম হয় শামসুর রাহমান, শফিক রেহমানের। একটা সিল মোহর লাগানো নামের বানানে কিংবা একটা বিশিষ্ঠতা নিয়ে আসা নামে। জীবনানন্দ দাশগুপ্ত নিজের গোপনীয়তা উন্মোচন করে গুপ্ত বিদ্যা ভুলে জীবনানন্দ দাশ হয়ে উঠার পন্থাটা এরকমই।
হয়তো জীবিত মানুষদের ভেতরে বেশী পরিমাণ স্পর্শকাতর হওয়ায় আত্মপরিচয়ের সংকট শিল্পিদের বেশী আক্রান্ত করে, তাই মহনু শাহ, মুজিব ইরম ব্রাত্য রাইসু বিভিন্ন রকম ভাব ও ভাঁজ ছড়িয়ে সামনে আসেন আমাদের।
আমরা নিজেরাও ভাবমুর্তি নির্মাণ করি। আহ্লাদ করে আমি প্রেমিকাকে বলটাম কুন্তলা, আমার লেখ্য সম্বোধনের আড়ালে কুন্তলার ভাবমূুর্তি নির্মাণে এত ব্যস্ত ছিলাম যখন অবশেষ অবসর আসলো, কক্লান্তি আসলো, চেনা প্রেমিকাকে তার রচিত ভাবমূর্তির সাথে মেলাতে পারলাম না কোনো ভাবেই।
নিজের নামকে কেঁটে ছেটে বানানের হেরফেরে ইতর জনের সাথে স্পষ্ট পার্থক্য গড়ে তোলার প্রক্রিয়াটা মোটেও নিন্দনীয় নয়। কারো কারো আবার জুতসই নাম থাকে, খালেদ মইনুদ্দিন কিংবা মাহবুব কায়সার, এমন নামগুলোর ভেতরে একটা আলাদা ভারিক্কি আছে। কিংবা আধুনিক যুগে এটাই রীতি, 2 পর্বের নাম হতে হয়, আবুল কালাম মোহাম্মদমনজুর মোরশেদ নামটা খারাপ না তবে আধুনিক হয়ে উঠতে পারে নি- আধুনিক হতে হলে ম্যাজিক টাচ দিতে হয় নামে।
আহমাদ মোস্তফা কামালের নামাঙ্কন আমাকে আকৃষ্ট করতে পারে নি, এমন কি এখনও আলোচনার সময় ভুলে শামসুর রহমান বলে ফেলি রাহমানের বদলে। আমাদের চোখ চেনা পরিচয় খুঁজে পায় তাই শামসুর রাহমান যে আসলেই রাহমান এটা নিশ্চিত হই যখন গত বছর একজন জানালো তার নামের বানান আসলে রাহমান। একই কারনে আহমাদ শব্দটা চোখে পড়লে সবার শেষে, আমাদের জনাব গল্প লেখক যে মেদ ঝড়িয়ে উন্মাদের উন কামিয়ে ফেলে পুরো মাদ হয়ে আছেন এটা বুঝতে পারি নি।
আজ যে দুজনের কথা লিখবো তারা দুজনেই নামে অস্ত্রোপচার করেছেন। জনাব আলী মাহমেদ( যদিও নিশ্চিত না এটা মোহাম্মদের শিশ্ন ছেড়া রূপ না মাহমুদের শিশ্নের উত্থান) অন্য জন আহ ম্যাড মোস্তফা কামাল।
আলী মাহমেদের বই পড়া হয়েছে ব্লগের সুবাদে। তার বস্ত্র উম্মোচন পর্ব সমাপ্ত হয়েছে এই বইমেলায়। "কয়েদী" নামের বইটির ঘটনাগুলোও অনেকে পড়েছেন, তবে বইটি কেনো হরতাল বিষয়ক অঘটন সংকলন না হয়ে জাগৃতির ভাষ্যমতো "দেশের একমাত্র হরতাল বিরোধী উপন্যাস" হয়ে উঠলো সেই সমাধান খুঁজে পাই নি এখনও। তাই বিজ্ঞাপনের ভাষ্যমোতাবেক এটাকে হরতাল বিরোধী উপন্যাস হিসেবেই চিহ্নিত করা হবে।
ক্ষীণবপু "কয়েদী" উপন্যাস পড়তে সময় লাগলো 40 মিনিট, যারা আরও দ্রুত পঠনে অভ্যস্ত তাদের হয়তো সময় লাগবে 30 মিনিট।42 পাতার এই উপন্যাসে হরতাল বিষয়ক অঘটন জমা হয়েছে 5টা এবং এগুলো আপাতবিচ্ছিন্ন। বিভিন্ন হরতাল দিনের অলৌকিক মিলন বাদ দিলে অন্য কোনো মিলও খুঁজে পাওয়া যাবে না সাদা চোখে। এবং বিজ্ঞাপন দেখার পর খুঁজে দেখলাম ঘটনাগুলোর উপরে কোনো শিরোনাম নেই- অথর্্যাৎ এটা বিচ্ছিন্ন হরটাল বিষয়ক গল্প নয়।
হরতাল নামক অস্ত্রটা বহুল ব্যভারে ভোঁতা হয়ে গেছে সত্য তবে গনঅনাস্থা প্রকাশের জন্য এক চেয়ে বড় কোনো অস্ত্র নেই এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে। শহুরে মধ্যবিত্তের কিয়দংশ ছাড়া আসলে এখন তেমন ভাবে হরতাল উদযাপণ করে না কেউই। হরতালের দিনও বাজার বসে, পণ্যের পসরা সাজানো হয়,গার্মেন্টস ফ্যাক্টারী ফুল প্রোডাকশনে যায়, ইপিজেডও বন্ধ থাকে না। এবং কৃষক শ্রমিক কামার কুমার সবাই দোকান খুলেই বসতে পারে, ক্ষেতে যেতে পারে। এর পরও জামিল আহমেদ নামের এক অতিশয় সংবেদনশীল গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর অস্তিত্ব খুঁজে পাই উপন্যাসের পাতায়। এটা গল্প উপন্যাসেই সম্ভব। বাস্তবের পোশাক শিল্পের সাথে যুক্ত মানুষগোলো নুন্যতম মজুরি বাড়ালে না খেয়ে মাঠে মরতে হয়ে এবং দাবী দাওয়া নিয়ে দেন দরবার করে এবং সেখানে জামিল আহমেদের অনুপস্থিতি প্রকট ভাবেই ধরা পড়ে।
সেই সংবেদনশীল জামিল আহমেদ কোনো এক হরতালের দিন তার জাপানী ব্যবসায়ী পার্টনারকে আনতে যান এয়ারপোর্টে-সেবার টানা 15 দিন হরতাল ছিলো- এ সময়ই সুশীল সমাজীয় মতের দেখা পাই আমরা উপন্যাসে।
বাংলাদেশ সম্ভবনাময় দেশ, সেই সম্ভবনা নিহত হচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিরতায়। হবে হয়তো, পেশাদার আমলাতান্ত্রিক দূর্নীতি আর লাল ফিতার দৈরাত্বে যখন বাংলাদেশর পরিচয় এখানে ব্যবসা শুরু করতে সবচেয়ে বেশী সময় লাগে, যখন কোনো রকম রাজনৈতিক অস্থিরতা ছাড়াই দেশের সাম্প্রতিক এডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যায়- তখন সুশীল সমাজের এই মত ন্যাংটা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে অধোবদনে। কিংবা এখন রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই এর পরও সাধারন মানুষ বাজার থেকে মুলধন সরিয়ে নিচ্ছে , এই সব অহেতুক কারণগুলোতে রাজনীতি বা হরতাল নেই। দেশে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য মইন উদ দৌলা দেশের আনাচে কানাচে ঘুরে আমাদের সহবত শিষ্ঠাচার আর ন্যায়নীতির পাঠ দিচ্ছেন,মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন বাবুর্চির রন্ধনশালায় সুপক্ক উন্নয়ন সেদ্ধ হচ্ছে,দূর্নীতির ভেজালবিহীন বাংলাদেশ সিদ্ধ হচ্ছে, সিদ্ধ হচ্ছে হলি ডে মার্কেট। আর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষের দাম বাড়ছে। তেলের দাম, চালের দাম ডালের দাম, সবজীর দাম বাড়ছে এবং বাড়ছে, কোনো সিন্ডিকেট নেই এর পরও মুল্য ঝুলিয়ে দিলেও পাইকারী বাজারে আর খুচরা বাজারে কোথাও সেই দামে জিনিষ পাওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভবনা রাজনৈতিক অস্থিরতা ছাড়াই খাবি খাচ্ছে যখন নোবেল মেডেল ঝুলিয়ে আসলেন ইউনুস। হরতাল না হলে অবশ্যই উন্নয়নের জোয়ারে আমরা ডুবে মারা যাবো।
সংবেদী জামিল সাহেব জাপানী ভাষায় আমার সোনার বাংলা পড়ে কাঁদতে কাঁদতে শেরাটন হোটেল ছাড়লে চিরতরে হারিয়ে যান এই উপন্যাসের পাতা থেকে। তার চিরবিলুপ্তির দুঃখ ঘুচিয়ে দিতে আসেন সাকিব সাহেব। রেলগাড়ী ঝমাঝম না করে দাঁড়িয়ে থাকে রেল লাইনে, ক্ল্যাস্টোফোবিয়ার জন্ম হয়, তিনি মানসিক অস্থিরতায় শেষ পর্যন্ত রাঁচি কিংবা পিজিতে আশ্রয় নিয়েছেন হয়তো।
এর পর দৃশ্যপটে লেখক দাঁড়ান বুক চিতিয়ে। বাংলাদেশের রাজনীতি আর রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের উপর শ্রদ্ধাবোধ নেই তেমন ভাবে।তাই কোনও নির্দেশনা না দিয়েই লেখক তথ্য-প্রমাণ হাজির করেন হরতাল আসলেই খারাপ। গার্মেন্টস, চিংরী, ট্রাক ভর্টি পন্য সবই আটকে আচে, সীমান্ত অতিক্রম করতে পারছে না, তাই হরতাল খারাপ।
এসব পড়ে মনে হয়, সংবাদ পত্রের পাতায় বাংলাদেশ দেখুন শীর্ষক রচনা প্রতিযোগীতা চলছে। ব্যবসায়ী মহলের কথা আসা, এদের সাথে আসে অর্থনীতি এবং উন্নয়নের প্রলাপ। তবে সংবাদ পত্রে বাংলাদেশ দেখার ভেতরের ভিত্তিহীন আবেগটা ন্যাংটা পাগল হয়ে রাস্তায় ঘুরে। মানুষের সংবেদন জাগানো বা মানুষের চিত্তকে হরতালের প্রতি বিষিয়ে তোলার ক্ষমতা নেই বইটার ভেতরে।
হরতাল বিরোধী এই "উপন্যাসে" আবেগ সংবেদনশীলতা,মমত্ববোধ, অক্ষমতার আক্ষেপ , সব রকম ট্রাজিক উপাদান ঢুকিয়ে দেওয়ার পরও কোনো এক অজানা কারণে এটা উপন্যাসে উত্তির্ণ হতে পারে না।
ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করলে বোধ হয় পারস্পর্যহীনতাকে প্রধান খল হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে। গঠন শৈলীতে সমসয়া, সমস্যা ঘটনা নির্মাণে। বিষয়টা অদক্ষ হাতের মোজাইক হয়ে যায় হরতাল দিনের ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন অংশ জুড়ে সামগ্রীক কোলাজ হয়ে উঠে না।
হরতাল আধিক্য অন্য একটা কারণ হতে পারে- কিংবা হরতালজনিত বিপত্তি সংকলন না হয়ে দক্ষ রূপায়নে হরটালের ঘটনাগুলোকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ব্যবহার করা যেতো। মূল উপজীব্য হরতালই হতো তবে চরিত্রগুলোকে আরও ছড়িয়ে দিলে ভালো হতো।
যদি আমি লিখতাম একই ঘটনাগুলো নিয়ে তবে জামিল আহমেদ চরিত্রটাকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত নিয়ে যেটাম, সেখান থেকে কোনো এক সিগন্যালে জামিল আহমেদের সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে দিতাম শহীদ সাহেবকে। সেই রেল লাইন ধরে যেটাম সাকিবের কাছে- সাকিবকে ছুঁয়ে আসতাম লেখকের কাছে- একই মাল মশলা ব্যবহার করে বিভিন্ন বিন্যাসে সাজিয়ে হরতালের বিভীষিকা তুলে ধরার চেষ্টা করতাম।
এখানে এক খাবলা রং ওখানে এক খাবলা এমন না করে বিভিন্ন রং এর প্রলেপ দিতাম যত্ন নিয়ে। নির্মাণ সব সময় পিরামিড হওয়া ভালো, বিশাল ভিত্তি নিয়ে শুরু হবে, ধীরে ধীরে সেটা চুড়ান্ত শীর্ষে আরোহন করবে।
অতিথি বলেছেন:
তাতেও কি বিচ্ছিন্নতা থেকে বের হওয়া যেত যদি বিষয়টা দেখাই হয়ে থাকে অপূর্ণভাবে! আমি তার লেখার একটা বিষয় দেখেছি দারুন আকর্ষণীয়, সেটা হচ্ছে শব্দের খেলা যা কথোপকথনে ও বর্ণনায় একটা দু্যতি ছড়ায়। অবশ্য এটা প্রায়শই না এগিয়ে কেমন যেন বিষয়হীন হয়ে পড়ে অপ্রসাঙ্গিক একটা চিত্রকল্প তৈরী করে বা হারিয়ে ফেলে প্রধান বিষয় যা তিনি বলতে চাইছেন এবং পাঠক খুঁজতে থাকে কি যেন বিষয়!
অতিথি বলেছেন:
বইটি পড়িনি,তবে আপনার লেখাটি অদ্ভুত ভাল লাগলো।
'যাহা যাহা, তাহাকে তাহা' বলার সাধ্য আপনার মতো এই ব্লগে আর কারো নেই।
পথিক!!!!!!! বলেছেন:
শিরোণামে বোধ সিদ্ধ হলোনা..আরে তাইতো কিসের সমালোচনা---না পড়তেই হবে। অষ্টডট রাসেল সাহেবের লেখা। যত বড়ই হোক, পঠনে সুস্বাদু হবে বিশ্বাস নিয়ে শুরই করলাম পড়া।....শুরুতেই হোঁচট ...নতুন পরিচয় নির্মাণের দুটো কারন উল্লেখ পূর্বক শুর হয়েছে সামলোচনার এই বিস্তর পসার।
কারন 1ঃ আত্ম পরিচয় নিয়ে না কাটা সংকট
কারন 2ঃ আত্ম পরিচয়ের গ্লানি বহনের দুঃসাধ্যতা।
ছোট জ্ঞানে বড় কথা , কিন্তু কারন কি আসলেই কেবল তাই।
আত্ম পরিচয় সংকট বা গ্লানি ছাড়াও তো হতে পারে ক্ষুদ্র, হতে পারে সীমনার আবদ্ধতা। যার কারনে পরিধী বাড়াতে মানুষ নতুন পরিচয় এর দিকে ছোটে।
আত্মপরিচয় যার জন্যে গ্লানি নয় সেও কিন্তু নতুন পরিচয়ের সন্ধানে ছোটে , ভাবমূর্তি বাড়াতে দৌড়ায় অনবরত..কেনো কারন অনেকের মাছে নিজেক উজ্জ্বল দেখা মানুষের সহজাত তাড়না।
সংকট বা গ্লানি তে নয় উজ্জ্বলতা র ক্রম বৃদ্ধি এব ং দীপ্তীময় হতে গিয়ে নতুন এর মাঝে মানুষ ছোটে।
এই ছোটা থামলে পৃথিবীর গতিও থেমে যাবে। মানুষ আর কোন কাজই করবনো। ....
এবং এর অন্তরালের ঘনঘটায় পৃথিবীর মানুষ সব কখনও সমান হবেনা। .....
সে যা হোক ...ধেির ধীরে পোষ্ট বড় হয়েছে ..সমসাময়িক বাংলাদেশের পৃথল আলোচনা সমালোচনা হয়ে ফুটে উঠেছে...
এবং তারপর বুঝতে পারলাম
শুভ নামক ব্লগারের লেখা কয়েদী নামক বইটির সমালোচনাই মুখ্য এই পোষ্টে......
বইটি পড়া ইচ্ছে ছিল। শেষে আর মেলায় যাওয়া হয়নি । কেনাও হয়নি। ....
আমার মনে আমাদের সবার হরতালের তিক্ত তিক্ত এত অভিজ্ঞতা আছে যে বই এর র পাতায় স্বল্প আসরে দেখে পুর্ণতা আসেনা। ....
পরিশেষে লেখার মাঝে মাঝে গজাল গুলো জটিল হইছে বলতেই হয়।
রঙহীন বলেছেন:
পুরোটা পরে পরুম, প্রথম অংশ জবর হৈছে।
কালপুরুষ বলেছেন:
ক্ষুরধার লেখা। অনেকের নাম কামিয়ে ফেলা হয়েছে। মাথাও মুড়ানো হয়েছে দারুন সব পোচ মেরে।
অতিথি বলেছেন:
ভালো লিখেছেন ডটু মোল্লা।একটা কথা বলি, সবারই তো নিজস্ব একটা স্টাইল আছে লেখার। আপনার স্টাইলটা পিরামিডাকৃতির, কেউ হয়তো লেখে বৃত্তাকার। 'কয়েদী' লেখার সময় লেখক বোধকরি তাঁর স্টাইলটাই অনুসরণ করেছেন, তাঁর ভাবনার গন্ডিতেই গল্পের বিন্যাস ঘটিয়েছেন, ঘটনার অ্যানেকডোট গুলো একের পর এক সাজিয়েছেন। মোদ্দাকথা, লেখক যা-ই করেছেন, তা তাঁর ভাবনাগুলোকে প্রতিফলিত করার জন্যই। আমরা যারা পাঠক, আমাদের এক্সপেক্টেশন সবসময়ই অনেক উঁচুতে থাকে, তার জন্য খড়গের নিচে পড়তে হয় লেখকের।
অতিথি বলেছেন:
পড়লাম
শুভ বলেছেন:
জনাব রাসেল,আপনি আমাকে জনাব বলে সম্মান দিয়েছেন- আমি আপনাকে সম্মান না দেখালে অন্যায় হয় বৈকি।
প্রথমেই ক্ষমা চাচ্ছি, মন্তব্যটা শুভ নামে করতে হচ্ছে বলে। টেকনিক্যাল কারণে আলী মাহমেদ নামে লগ ইন করলে সামপ্রতিক মন্তব্য বা সামপ্রতিক লেখা ব্যতীত অন্য লেখায় মন্তব্য করতে সমস্যা হয় বিধায়।
এবং আমি লজ্জিত আপনার এ লেখাটা আমার চোখ এড়িয়ে গেছে বলে- এক্ষণ আমার এক সুহৃদ ফোন করায় জানলাম।
প্রথমেই আসি 'কয়েদী'র উপন্যাস সংক্রান্ত তকমা বিষয়ে।
এটা উপন্যাস বলে আমি নিজেও মনে করি না। বিজ্ঞাপন দেন প্রকাশক।
দেখুন, আমাদের মতো অখ্যাত লেখকদের অনেক কিছুতেই হাত থাকে না- যেমন থাকে না প্রচ্ছদ নির্বাচনের বেলায়।
প্রকাশক তাঁর বই বিক্রির জন্য অনেক কিছুই করেন যাতে আমাদের খুব একটা ইচ্ছা অনিচ্ছা কাজ করে না। আমি তো বেচারাদের খুব একটা দোষ দেই না- এই বিপুল ইনভেস্ট উঠে না আসলে পরবতর্ীতে তিনি তো আর বই ছাপাতে আগ্রহী হবেন না।
কয়েদী বইটির লেখার বিষয়বস্তু, দৃষ্টিভঙ্গি বা ছোপ ছোপ রঙ এই সব বিষয়ে আমি আপনার সঙ্গে বিতর্কে যেতে চাচ্ছি না- কারণ, দু কলম লিখি বলে আপনার সঙ্গে ক্ষ ুরধার বিতর্ক করতে পারব আমার পক্ষে এটা ভাবা বাতুলতা মাত্র। সবার মনন কি আর সবাই ছুঁতে পারে!
এমনিতে একজন পাঠক, সমালোচকের কেন একটা লেখা ভালো লাগল না এ নিয়ে একজন লেখকের হা হুতাশ করার কোন কারণ দেখি না- এটা লেখকের ব্যর্থতা, পাঠকের না।
ওয়েল, এবার আসি আলী মাহমেদের নাম বিষয়ে...
এখানে আপনি যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, এর জন্য শিশ্ন শব্দটা খুব জরুরী ছিল বলে আমি মনে করি না।
আপনি একটা লেখা যখন লিখছেন, আপনার পাঠককে এতোটা নির্বোধ ভাবার কোন কারণ নেই যে যত্রতত্র শিশ্ন শব্দটার ব্যবহার না করলে একজন প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকের বুঝতে বেগ পেতে হবে।
পরিশেষে, আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি আপনার মতো পিরামিডাকৃতির মানুষ আমার মতো অভাজনের জন্য এতোগুলো বাক্য খরচ করে, সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে সদয় কলম চালিয়েছেন বলে।
ধন্যবাদ আপনাকে।
অতিথি বলেছেন:
ধুসর কাহা একটু টেকনিক্যাল সমস্যা আছে আমার। নিজের বাসায় কম্পিউটার নাই তাই ঘুইরা ঘুইরা লিখি। আর হাজার দুয়ারীতে লিখার আগ্রহ থাকলেও এই টেকনিক্যাল সমস্যার কারনে সম্ভব হবে না বেশ কিছু দিন।তবে সুযোগ পাওয়া মাত্রই লিখা পাঠাবো।
আর উপন্যাসের বিষয়ে আমার সমস্যার মনে হয়েছে যেটা তা হলো, লেখাটার মূল উদ্দেশ্য ছিলো আসলে হরতালের বিপক্ষে জনমত তৈরিতে ভূমিকা রাখা।
হরতাল বাজে বিষয় তবে হরতালের ভয়াবহতা সৃষ্টির জন্য হলেও একটা নু্যনতম নির্মাণের প্রয়োজন আছে।
হরতাল তেমন কার্যকর কিছু নয় এখন তাই হরতাল সমর্থক গোষ্ঠির যে উপেক্ষা আর উদাসীনতা সাধারন মানুষের প্রতি তার বিন্দুমাত্র চিত্রায়ন নেই।
আসলে পার্থক্য কিংবা ভিলেন তৈরির জন্য হলেও হরতালের প্রভাবে একজন সাধারন মানুষ কিভাবে ভুক্তভোগী হয়, কিভাবে তার চরিত্র আর চেতনা বদলে যায় এসব বিষয় সামনে না আনলে আসলে কখনই সামগ্রিক ভাবে সফল হবে না হরতাল বিরোধী প্রচারণা।
নিস্পৃহতার ভয়াবহতা অনেক বেশী। একদল মানুষ নিস্পৃহ ভাবে পান চিবাতে চিবাতে মানুষ খুন করছে এটার পাশবিকতার বিষয়টা প্রকট, তবে এই সাধারন মানুষটাই হরতালের আগে আগে খুবই সজ্জন মানুষ ছিলো,শুধু হরতাল সফল করবার নেশায় সে মানুষ থেকে দানবে রূপান্তরিত হচ্ছে
এই পর্যায়টা সামনে আসলে শুধুমাত্র হরতালটাকেই সব কিছুর সূচক মনে করা যেতো।
যাই হোক, এই যে আলতো ছোপছাপ, তাতে ঘটনায় মানুষের বিড়ম্বনা অসহায়ত্বই প্রকাশ পেয়েছে। তবে আসলে যারা হরতাল করে, যারা পিকেটার এবং যারা হরতালের ভুক্তভোগী সবাই সমান রকম অসহায় এটাই বাস্তবতা। এটাকে স্পষ্ট করতে হলেও আরও কিছুটা পরিশ্রম করা প্রয়োজন ছিলো।
নির্মানটা পিরামিড হওয়ার কথা বলছি এই জন্যই, সেখানে চুঁড়া হলো হরতাল দানব এটাকে প্রতিষ্ঠা করা, তার জন্য ভিত্তিটা বানানো হয় নি ঠিক মতো।
অতিথি বলেছেন:
শুভ এত কষ্ট করে তৈরি করা কৌতুকটা মাঠে মারা গেলো। মাহমুদের শিশ্নোত্থান ঘটলে কিভাবে তা মাহমেদ হয় এটা পরিশ্রম করে ভেবে বের করছিলাম, কাজে আসলো না। যাই হোক নাম বিষয়ক কাঠামোতে শিশ্ন সংক্রান্ত ভনিতার কারন এটুকুই ছিলো।আর কয়েদী সংক্রান্ত বিষয়াসয়ে আমার বিবেচনা হলো বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে উঠে নি তেমন ভাবে।
সমালোচনার প্রয়োজন আছে এটা মেনে চলি আমি, তবে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিটাকে লেখা ছাপানোর পর সামনে আনলে সেটা লেখাটাকে আরও ক্ষীনজীবি করে দেয়। লেখার বিস্তারে লেখাক নিজের বক্তব্য প্রকাশ করতে না পারলে দায়স্খলননিমিত্তে তার বাড়তি কথা যুক্ত করতে হয়। সেটা না করে আপনি যে শিল্পিসুলভ ভঙ্গি বজায় রাখলেন তা চমৎকার লাগলো।
আর অন্য বিষয়টা হলো আসলে নিজের অনুভব, সমালোচনা লিখিত হয় যেভাবে সেখানে নিজস্ব অনুভব, অনুভুতিই প্রকাশ পায় বেশী, আর 10টা মানুষের অনুভব যেহেতু জানা সম্ভব না এমন কোনো সমীক্ষার প্রয়োজনও নেই, তাই নিজস্ব বিবেচনায় যা মনে হয়, যেসব দুর্বলটা চিহি্নত হয় সেটাই নিজস্ব সমালোচনা।


















