somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নয় ছয়

১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১. রাত ১০টায় মাঝ রাস্তায় গেইশা দেখে থমকে দাঁড়াই

এ বছর খুব ভালো সিদ্ধান্ত ছিলো কোথাও বের না হওয়ার সিদ্ধান্ত। সকাল থেকে বাসায় বসে কোনো আঁচ গায়ে না মেখে ভালোই কাটালাম সময়।
বৈশাখের বর্ষবরণের ব্যাপ্তি বেড়েছে গত কয়েক বছরে, বিশেষত বেসরকারী টিভি চ্যানেলগুলো সম্প্রচারিত হওয়ার পর থেকে এই উৎসবের জোয়ার লেগেছে। পহেলা বৈশাখ এখন শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বর আর রমনা বটমূলে থেমে নেই সেখান থেকে প্রসারিত হয়ে এখন সম্পূর্ন ঢাকা শহরটাকেই গ্রাস করে ফেলেছে।
এই উৎসবে মাতাল জনতার ভীড় আমি এড়িয়ে চলতে চাই, বর্ষবরণ ফ্যাশানের উৎপাত দেখে নিজের ভেতরে অপরাধবোধে ভুগি। তাই এসব দৃশ্যও দেখতে চাই না মোটেও।
মোট কথা এমন বাস্তব অবস্থায় মানুষ এই বর্ষবরণ ফ্যাশন উপলক্ষে কিছু বাজেট বরাদ্দ রেখেছে সাজসজ্জা এবং পরিচ্ছদ নিয়ে এই বিষয়টাই আমাকে পীড়া দেয়।
তবে একই সাথে আনন্দও লাগে। রাস্তায় লাল পাড় সাদা জমিনের শাড়ীর ভীড় দেখে ভালো লাগে। শাড়ীর দামের তারতম্য আছে তবে উচ্ছ্বাসের খামতি নেই। হ্যান্ড পেইন্টের শাড়ীর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গুলিস্তানের ছাপা শাড়ীর হাসি বিন্দুমাত্র মলিন নয়, বরং তারা আরও উচ্ছল।
এই উচ্ছলতাটুকুই আসলে প্রাপ্তি, ছায়ানটের সানজিদাকে আন্তরিক অভিবাদন, তারা রবীন্দ্র চর্চার সাথে সাথে বাৎসরিক এই উৎসবের প্রচলন না করলে হয়তো আমাদের এই বাৎসরিক উৎসবের সুযোগটা তেমনভাবে তৈরি হতো না।
দেশজ সংস্কৃতি নির্মানের একটা প্রয়াস চলছে, বাঙ্গালী অনেক বেশী ঐতিহ্য আর কৃষ্টি সচেতন হয়েছে এখন, ঘুরিয়ে বললে বাঙ্গালী কর্পোরেটের পকেটে মালপানি জমেছে ভালোই।
তাই ধীরে ধীরে পিঠা উৎসব, নবান্ন উৎসব, বসন্তবরণ, এসব উৎসব আর ফ্যাশনের উদ্ভব হচ্ছে। দেশীয় এসব উৎসবের ভীড়ে পৌষ সংক্রান্তির অভাবটা বোধ করি, চৈত্র সংক্রান্তির মেলার পরেই বর্ষবরণ মেলা- সেই মেলার সাথে বর্তমানের বৈশাখী উচ্ছ্বাসের মিলমিশ নেই।
কৃষ্টি আর সংস্কৃতি চর্চার বাড়তি চাপ থাকে, মানুষকে এসবের জন্য আলাদা করে সঞ্চয় করতে হয়। মানুষ প্রথার সাথে তাল মেলাতে গিয়ে বাংলাদেশের দুই ঈদের সাথে পহেলা বৈশাখের জন্যও কিছু টাকা জমিয়ে রাখে। যদিও পান্তা ইলিশের প্রথাটা আমার কাছে অনেক বেশী উদ্ভট মনে হয়, ঘি দিয়ে পান্তা খাওয়ার মতো বিলাসিতা ,বলা যায় না, হয়তো এমন পান্তা ইলিশ খাওয়ার প্রথাটাও জোতদারী প্রথা
তবে বৈশাখী উৎসবের মূল ভিত্তি এর অসাম্প্রদায়িক গ্রহনযোগ্যতা। তাই রাস্তায় মাথার সিঁদুর আর লাল শাড়ীকে হাসতে দেখে ভালো লাগে। এমন নিসঙ্কোচ উচ্ছ্বাস পূজার পরের দিন থেকে উধাও হয়ে যায় বাংলাদেশের বুক থেকে, বরং পূজাই এখন ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পূজার সময়েও মানুষের চেহারায় খানিকটা আশঙ্কা দেখা যায় এখন। আজ সে আশঙ্কা নেই।

রাস্তায় মানুষ হাঁটছে, রিকশায় যাচ্ছে কেউ কেউ, কেউ কেউ সাধ্যে কুলালে সিএনজি। গাড়ীতে তেমন কেউ যাচ্ছে না। সবার আলাদা আলাদা গন্তব্য, পোশাক শিল্পে কর্মরত মেয়েদের কেউ কেউ আজ ছুটি পেয়েছে বিকেলে, ব্যাগে রাখা লাল পাড় সাদা জমিন পড়েই গার্মেন্ট থেকে বের হয়ে ঢাকার রাস্তায় নেমেছে। তাদের সাথে তাদের আনন্দিত প্রেমিকেরা আছে। তারা হাত ধরাধরি করে হাঁটছে, পৃথিবীটাকে সুখের দেশ মনে হয়। ঢাকা শহরের রাস্তায় এই খা খা বৈশাখে কোকিল ডাকে।
এসব আনন্দিত দৃশ্যের সাথে পথ চলছি। হঠাৎ চমকে গেলাম। এমন পুরু মেকাপ কোথায় দেখেছি? মুখের সম্পূর্ন সাদা, সেই সাথে টুকটুকে লাল ঠোঁট? মেক আপের ফাউন্ডেশন থাকে- এই ঠাঠা গরমে কেউ এত পুরু ফাউন্ডেশন মেখে রাস্তায় নামে না। মুখের কোথাও বাকি নেই , সম্পূর্ন মুখটাই মেক আপে ঢাকা। এর ভেতরে লালা টুকটুক ঠোঁট জ্বলছে। রাতের শরীরে দুরত্ব মেপে মেপে হেঁটে যাচ্ছে মেয়েটা।
পিজি হাসপাতালের সামনের ওভারব্রীজের নীচে প্রথম দেখেছি। বাসের লাইনের প্রচন্ড ভীরের ফাঁকে হঠাৎ ঝলসে উঠা মুখটাকে ঠিকভাবে দেখবো বলেই সিএনজি আর বাসের ফাঁক গলে কোনো মতে নিজের জায়গা খুঁজছি আমি। খানিকটা পথ দ্রুত হেঁটে খুঁজে পেলাম। সে একা না, তার সঙ্গী সাথি অনেক। সবারই একই মাপের মেক আপ। কোথাও যাওয়ার তাড়া নেই, এই রাত ১০টার শহরে কোনো রকম ভ্রুক্ষেপ না করে ৫টা মেয়ে হাঁটছে।
ঢাকা শহরের যে অবস্থা এখন, প্যাকেজ নাটকের মানুষেরা ক্যামেরা ঝুলিয়ে সমস্ত শহরকেই চলমান স্টুডিও বানিয়ে ফেলেছে। আড় চোখে চারদিকে তাকাই। কোথাও কোনো মানুষ নেই ক্যামেরা হাতে, কোনো গাড়ী থেমে নেই।
শেরাটনের সামনে থেমে একজন একটু আড়ালে গিয়ে কথা বলছে একজনের সাথে, তার হাত ধরে চলে যাচ্ছে ।
তবে এমন মানুষেরও প্রেমিক থাকে, তাদেরও মনে বসন্ত আসে। তারা প্রেমিকের হাত ধরে হাঁটছে শহরে।


২ জলপাই বাগানের বানী অমৃতসমান, সেনাপ্রধান ভনে শুনে পূণ্যবান

ধর্মবেত্তারা একদা শিষ্যগণকে বৃক্ষতলে ডেকে এনে উপদেশ শোনাতেন। বিদ্যা গুরুমুখী, তবে বাজারে গুরুমুখের বদলে দেসমুখ আর যুক্তামুখীর রাজত্ব। এখন গুরুরা ভাষণ দিতে পারেন না, সে জায়গায় নানাবিধ সুশীল উপস্থাপনায় ভরে থাকে পহেলা বৈশাখের সংবাদের বিশেষ ক্রোড়পত্র।
দিনের শুরুটা হয়েছিলো চমৎকার কৌতুকে। আমাদের বর্তমান ছায়া সরকারের প্রধান এবং নতুন ধারার গণতন্ত্রের প্রবক্তা মইন উ আহমেদের নববর্ষের প্রত্যাশা লেখা পড়ে আমোদিত হলাম। হাঁটু থেকে উঠে আসা ভাবনাগুলো চমৎকার। মজ্জা, রস সবই থকথকে। " আমাদের কি নেই? সোনার একটি দেশ আছে। সোনা ফলানো মাটি আছে।"
চট্টগ্রাম আর সিলেটে সোনা ফলানো মাটির সোনাগুলো ত্যাঁদর ভীষণ, তারা জন্মনিয়ন্ত্রন মানতে চায় না। তাই সেখানে প্রজননক্ষম সকল নারীই গড়ে ৩ থেকে ৪ সন্তানের জননী। তবে এ কাজে সহায়ক হিসেবে সোনা ফলানো মাটির আধিক্যকে দোষারোপ করা যেতে পারে।
৭১এর সাড়ে সাত কোটি মানুষের সাথে আরও সাড়ে সাত কোটি মানুষ যুক্ত হয়েছে। এই ১৫ কোটি মানুষের ৩০ কোটি হাত। চরম কৌতুকের শুরু এখান থেকেই-
" এই হাতগুলোকে অলস অথবা অকর্মন্য হতে দেওয়া যায় না।" হাতগুলো কি করতে পারে? ক্যান্টনমেন্টে গিয়ে ঘাস কাটতে পারবে না, সেনা জাওয়ানেরাই ঘাস কাটার দায়িত্ব পালন করছে, বাংলাদেশে নতুন আসা ৬টা ঘোড়ার খোরাকি তদারকের কাজে নিয়োজিত সেনা জাওয়ানেরা ঘোড়ার ঘাস কাটছে। অন্তত প্রবাদের অসারতা প্রমাণিত করেছে মইন উ আহমেদ- ঘোড়ার ঘাস কাটা যে আদতে ফালতু একটা কাজ নয় এটা যে সেনা জাওয়ানেরা দায়িত্ব নিয়ে করতে পারে এ বিষয়টা সামনে নিয়ে এসেছেন তিনি।
তিনি বলেছেন, যে শিশু তার হয়তো ক্ষমতা নেই ( আরে শালার চরম রগড়, শিশুর হাতে ক্ষমতা নেই, এত এত গৃহপরিচারিকা শিশুরা তাহলে কি করছে? শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করেও সেটা বাস্তবায়ন করতে পারে নি প্রশাসন, শিশু কর্মসহকারী[ খুব বেশী উন্নয়ন সহযোগী শব্দ হয়ে গেলো বোধ হয়] পিটিয়ে মেরে ফেলছেন পুলিশ কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী, সরকারী চাকুরে। এরা কিভাবে শ্রম দিচ্ছে? )
যে বৃদ্ধ তারও হয়তো শক্তি নেই( তার অবসরে যাওয়া উচিত, তবে মইন উ আহমেদ নিজেকে বৃদ্ধ ভাবেন না। এরশাদ চাচা শেষ বয়েসে বারুদ নিয়ে খেলছেন, বিয়ে করেছেন তার হাঁটুর সমান বয়েসের এক মেয়েকে। একটা সন্তানেরও জন্ম দিয়েছেন। মইন উ আহমেদ কি এতটা বৃদ্ধ। তিনি আরও ১ বছর মেয়াদ বৃদ্ধি করেছেন।
তাই তার প্রস্তাব, যারা কাজ করতে পারে, যে যতটুকু করতে পারে তাকে , তাদের সেই কাজই করতে দেওয়া উচিত। আমি সাহায্যের নামে কর্মের হাতকে ভিক্ষুকের হাত বানানোর পক্ষপাতি নই।
চরম সত্য ভাষণ। তাই সিডর চলে যাওয়ার পরে কত ৮ সপ্তাহ গেলো এখনও সবাই ত্রাণ পেলো না, সহায়তা পেলে এই নিরন্ন নিরাশ্রয় মানুষগুলোর কর্মের হাত স্থবির হয়ে যেতে পারে। গৃহায়ন ঋণ বরাদ্দ হয়েছিলো মাঠা পিছু ১০ হাজার, তবে এই বাজারে ১০ হাজারে দেয়াল উঠে না ঘরের, চালা দিয়ে চারপাশে প্লাস্টিকের ঢাকনাও দেওয়া যাবে না ১০ হাজারে। ন্যুনতম প্রয়োজন ২৫ হাজার টাকা একটা বাসযোগ্য বাসা নির্মাণে। তবে এই সরকারী সহায়তাও সব দুঃস্থ মানুষেরা এখনও পায় নি। সেনাবাহিনী সকল ত্রান সরবরাহের কাজের তদারকিতে ছিলো। তাদের প্রধান এমন ত্রাণ কিংবা সাহায্য দিতে নারাজ। কর্তার ইচ্ছায় কর্ম।
তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন আমাদের দেশের ভুখন্ড বাড়ছে না, বাড়ছে মানুষ। দেশের ভুখন্ড বাড়ানোর একটা পরিকল্পনা ছিলো একদা, বিশাল একটা বাধ দিয়ে সমুদ্রশাসন করে খুলনা থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিশাল ভুভাগ নির্মাণ। সেই প্রস্তাবনার সাম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছিলো, সাম্ভাব্যতা যাচাই করে কেনো এই পরিকল্পনা বাস্তাবায়িত হলো না এরশাদ চাচার সময়ে বলা মুশকিল।
তিনি সিলেটে গিয়ে দেখেছেন হাজার হাজার একর জায়গা পড়ে আছে। পানির অভাবে চাষ হয় না, অথচ মাত্র ২ কিলোমিটার দুরে নদী- ইচ্ছে করলেই তারা সেই নদী থেকে পানি এনে জমিগুলোকে চাষযোগ্য করে তুলতে পারে।
শালার ভাষণটা শুনেই মনে হলো এইবার তিনি স্বেচ্ছা শ্রমে খাল কাটবার কথাটা বলবেন। বললেন না, সামনের বাজেটে কাবিখা কাবিটা প্রকল্প নেওয়া হবে, সেখানে হয়তো এই ২ কিলোমিটার খাল খোড়ার কথাও থাকবে।
আমাদের দেশ নদীর দেশ, মাছের দেশ, তবে নদীগুলোতে পানি নেই। পানি নেই তবে সেনাপ্রধান আর সেনা জাওয়ানেরা মুতেই নাব্যতা বাড়িয়ে দেবে নদীর, সেখানে ইলিশের চাষ হবে। আমরা থাইল্যান্ডের মতো দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে মাছ রপ্তানি করতে পারবো।
আরও অনেক চমৎকার কথা আছে এই বক্তব্যে। শেষ পর্যন্ত তিনি উপসংহারে পৌঁছেছেন। আমরা ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পেরেছি দুর্নীতি আমাদের অগ্রগতির পথে প্রধান বাধা। দুর্নীতি থেকে সবাইকে মুক্ত করে আনতে হবে। মালদ্বীপ এগিয়ে গেলো কেনো? শুধু সততা আর আন্তরিকতা দিয়েই দেশ ও মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব- যদিও এর আগে কিংবা পড়ে কোথাও বলা নেই মালদ্বীপের এই উন্নতির পেছনে শুধুমাত্র তাদের সততাই দায়ী। তাদের মাথাপিছু আয় ৩৯০০ ডলার।
এবং তিনি সার্বজনীন উপদেশ দিয়েছেন- আমাদের লোভ সংবরণ করতে হবে, হিংসা পরিহার করতে হবে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
লোভ সংবরণ করছে না এমপি হোস্টেল বরাদ্দ নেওয়া মেজর জেনারেলরা। তারা সাংসদদের বরাদ্দকৃত বাজেটে মুখ ডুবিয়ে আরাম খাচ্ছেন। সবার ঘরেই এসি লাগিয়েছেন, সোফা লাগিয়েছেন। লোভ সংবরণ করতে পারছেন না মাসুদ মিয়াও। তিনি গুরুতর অপরাধ দমন কমিটির প্রধান হয়েও নিজেই গুরুতর অপরাধ করে যাচ্ছেন। হিংসা হানাহানি পরিহার করতে পারছে না সেনাবাহিনী, তবে এটা উপদেশ, মাননিয় সেনাপ্রধান বললেই তারা এসব নয়ম অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে।

৩. সড়কদ্বীপের ছোটো ফোয়ারায় পদ্ম পাতায় চাঁদ ঝিলকায়

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এবং হিসাবে গরমিল করা এর বর্তমান মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বিভিন্ন সড়কে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করেছেন। কোনোটা দেখতে ভালো লাগে। কোনোটা অহেতুক বাহুল্য মনে হয়।


সংসদ ভবনের সামনের রাস্তায় অনেক আয়োজন করে একটা সড়কদ্বীপ বানানো হয়েছে, সুন্দর একটা নামও দেওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়ে সেই ফোয়ারার উদ্দেশ্যের হদিশ পাই না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনের রাস্তায় চওড়া ব্যরিকেড, ব্যারিকেড না ওগুলো সড়ক দ্বীপ, কার মাথা থেকে এই আইডিয়া এসেছে জানি না। মাঝে ৪ ফুট উঁচু আর ৪ ফুট প্রশস্ত একটা কিছু দাঁড়া করিয়ে দেওয়ার ভেতরে কোনো নান্দনিকতার পরিচয় নেই। আগে ন্যাড়া ব্যারিকেড দেখে যেমন দুর্গ মনে হতো এখন তেমনটা মনে হয় না, বরং সেখানে পরিকল্পিত বনায়ন চলছে।
এমন সব চৌরাস্তায় বানানো স্মারক আর সৌধগুলোর কার্যকরণ খুঁজে পাই না আমি, দৈনিক বাংলা মোড়ের সামনে কিছু একটা নির্মিত হয়েছে। অনেকগুলো রিং দুটো দেখায়ের মাঝে গাঁথা- দৃশ্যটা অস্বাভাবিক রুগ্ন লাগে মৃদু অন্ধকারে। অবশ্য সিটি কর্পোরেশনের বাজেটের টবরাদ্দ টাকা কিভাবে শহরের সৈন্দর্য্য বর্ধনের কাজে ব্যয়িত হবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আছে সিটির মেয়রের। মশা মারতে সফল না হলেও তিনি রাস্তার মোড়ে মোড়ে কামান খাড়া করিয়ে দিতে পারেন। সেটাও সৈন্দর্য্য বর্ধনের কাজে লাগতে পারতো।

আমি মাদুর পেতে আদুর গায়ে বৃষ্টিবাদল বাঞ্ছা করি
-------------------------------------------------------
দুপুরে প্রবাসী বন্ধু ফোন করেছিলো। বন্ধু ভিনদেশের নাগরিক হয়েছে। নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছে -
কথা হলো অনেকক্ষণ। বললাম কি করিস এখন?
উত্তর আসলো চ্যানেল আই দেখি। রবীন্দ্র সঙ্গীত হচ্ছে।
দেখ দেখ, দেশের সংস্কৃতির সাথে তো কোনো যোগাযোগ রাখলি না, একটু সংস্কৃতিমনা হ, একটু সংস্কার হোক তোর।
ঝাল শুটকি ভর্তা দিয়ে পান্তা খেয়ে ঠোঁট জ্বলছে ,
কতদিন শুঁটকি খাই না। আক্ষেপটা পেটের উপরে গিয়ে পড়ে, প্রবাসী জীবনের প্রায় সব কষ্টই পেটের কষ্ট। পেটে খেলে পিঠে সয় কথাটা মিথ্যা না।
রবীন্দ্র সঙ্গীত শেষ হলে কি করবি?
খবর শুনবো।
আরেক যন্ত্রনা, প্রবাসী বাঙ্গালীর ভেতরে সুপ্ত সাংবাদিক থাকে। তারা সারাক্ষণ দেশের খবর জানতে চায়, অহেতুক পেপার-পত্রিকা পড়ে- দেশের চলমান গজব আর গুজব তাদের কাছেই জানা যায় প্রথমেই। ফোন করলেই প্রথম যে শব্দটা আসে- কি খবর বল-
আরে বাল এইখানে আমি কি বাসসের সদর দপ্তর খুলছি, ফোন কইরাই তোমারে নিউজ আপডেট দিবো।
কোথাও যাইস নাই।
নাহ পোষায় না, বয়েস হইছে এই বয়েসে এত হুড়াহুড়ি পাড়াপাড়ি বালো লাগে না।
আমিতো লুঙ্গি পড়ে আছে-
শুধু লুঙ্গিতে হবে না, শালা একটা গামছা ময়ানেজ করে মাথায় বাইন্ধা বইয়া থাক।
নাহ মামা গামছা পাবো কই, এই লুঙ্গি আনছি ২ বছর আগে, পড়তে পড়তে ত্যানা হইয়া গেছে-
আমার কাছে আরও এক বন্ধুর ফোন নাম্বার চাইলো।
দিলাম , দিয়ে বললাম, ফোন করবার আগে লুঙ্গিটাতে শক্ত কইরা মালকোঁচা বান্ধ, শালার আবার এখন যখন তখন হোগা মারবার ইচ্ছা হয়।
------------------------------------------------------------------
বৈশাখের শুস্ক বাতাসে শরীর জ্বলে। আমি আদুর গায়ে মাদুর পেতে বৃষ্টির প্রতীক্ষা করি। অপ্রত্যাশিত শীতল হাওয়া গায়ে লাগে। প্রত্যাশিত বৃষ্টি কি আসবে?
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×