somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের হানাহানির সময়েও শ্বাশতের কালঘড়ি ১২টার দিকে ছুটছে টিক টিক টিক টিক

০৫ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১০:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সব কিছুই পণ্য হয়ে যায়, পূঁজিবাদ এমনই ব্যধি। আমার ক্ষোভও পণ্য হতে পারে, আমার প্রতিবাদ কিংবা আমার কান্না , আক্ষেপ সবটুকুই পণ্য হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আ: মামুনের লেখাটা পড়ে ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম। দু:খ পেয়েছিলাম। তবে এই নিয়ে ব্লগে যেমন তর্ক-বিতর্ক আর কাদা ছোড়াছুড়ি হচ্ছে তাতে ভীষণ রকম বিব্রতবোধ করছি।

কৌশিকের লেখাটা পড়ে আঁতকে উঠেছি। মানুষের অমানবিকতায়। শ্বাশত সত্য আসলে একটা বিজ্ঞাপন। সামহোয়্যারের সচেতন ব্লগারদের সচেতনতা আর সহৃদয়তার বিজ্ঞাপন। এটার বাণিজ্যিক মূল্য আছে। এজ এ কম্যুনিটি ব্লগ, এই ব্লগের সদস্যরা বিভিন্ন জনসেবামূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করে। কৌশিকের লেখার এই ভঙ্গিটা আপত্তিকর। আপত্তিকর একই অর্থে দীপুর লেখা। সেখানের একটা শব্দে গিয়ে লজ্জিত হলাম। আঃ মামুনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অনুযোগ তিনি শ্বাশতের টাকা আত্মস্যাৎ করতে চাইছেন।

আজ ভুল বানানে লেখা একজনের ব্লগে গিয়ে দেখলাম কাদা ছোড়াছুড়ির অপূর্ব নজির। কালপুরুষ কিংবা নেমেসিস কিংবা হাসিব কিংবা অন্য সবাই যারা এই কাজটার সাথে জড়িত তাদের সবার হৃদয়বৃত্তিকে অপমান করতে চাইছি না। তবে আমাদের নিজেদের ভেতরে সীমাসচেতনতার স্পষ্ট অভাব দেখলাম।

শ্বাশত সত্য বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৃহীত পদক্ষেপ আমার নিজের বিশেষ পছন্দ নয়। বরং অনেক বেশী স্থবির আর নিস্প্রাণ মনে হয়েছে। শিবলী, উজ্জল কিংবা সালাউদ্দিন কিংবা অন্য যারা যারা রাজশাহী থেকে লিখছেন তাদের সবার আন্তরিকতার অভাব আছে এই অভিযোগ করছি না।

উজ্জলের সাথে প্রথম যেদিন কথা হলো সেদিন জানলাম, উজ্জল আরও আগে থেকে এই প্রক্রিয়া শুরুর অনুরোধ করছিলো। কোনো এক কারণে তাদের এই দীর্ঘসূত্রিতা। এই দীর্ঘসূত্রিতার উৎস কি আমি জানি না। তবে আঃ মামুনের লেখা পড়ে ক্ষুব্ধ আমি কারণ শ্বাশতের ভেলোর যাওয়া এবং সেখান থেকে ফিরে আসবার প্রক্রিয়াটাতে কোনো চিকিৎসা শুরুর উদ্যোগ ছিলো না। ছিলো এসেসমেন্ট আর ফিজিবিলিটি টেস্ট। এই প্রক্রিয়া শুরু করা যায় কি না এটাই যাচাই করা হলো যেনো।

প্রাথমিক পর্যায়ে আমার জানা ছিলো সম্পূর্ন প্রক্রিয়াটা সমাপ্ত হতে লাগবে ১৬ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা। আমাদের উদ্দেশ্যও ছিলো যতটা সম্ভব এই অংকটা ছোঁয়া। তবে শ্রদ্ধেয় শিক্ষক প্রায় ২৫ দিন কোনো রকম সক্রিয়তা ছাড়াই বললেন অনেক ক্ষতি হয়েছে এই অবসর সময়ে, তাই ক্ষতিটা সারাতে এখন আরও বেশী অর্থের প্রয়োজন।

লাল ফিতা আর ইতকর্তব্য স্থির করতে গিয়ে একটা মানুষের জীবন নিয়ে তারা অহেতুক নোংরা কৌতুক শুরু করেছেন এই বোধটা বোধ হয় তাদের নেই। তাদের ৩ মাস আগে যখন এই উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করেছিলো উজ্জল তখন শুরু করলে আমরা কতটা এগিয়ে থাকতাম? শ্বাশতের অস্থি মজ্জায় সংক্রামণ তাহলে আরও একটু আগেই সারানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতো।

তবে আঃ মামুন অপেক্ষা করেছেন। কোনো রকম উপকরণ ছাড়াই প্রাণঘাতী এক রোগের সাথে সম্মুখ সমরে লিপ্ত শ্বাশতকে সামনে রেখে তারা বিভিন্ন আদর্শিক এবং অনাদর্শিক আলোচনা করবার প্রচেষ্টা করছেন। শ্বাশতের কাছে লড়াইয়ের অস্ত্র নেই। নিরস্ত্র শ্বাশত যখন নিজের প্রাণশক্তি ক্ষয় করে সংক্রামনের সাথে লড়ছে শক্তিশালী ব্যাথানাশক খেয়ে হাসিমুখে সবার সামনে দাঁড়াচ্ছে তখন আমাদের সহৃদয় মানুষেরা পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি আর এসেসমেন্ট করতে ব্যস্ত।

জানতে পারলাম অবশেষে রাজশাহী বিভাগের অলস মানুষদের টনক নড়েছে, তারা এবার কোমর বেঁধে অর্থ সংগ্রহে লিপ্ত হবেন। এই কাজটা আমরা যখন শুরু করলাম তার আগে থেকেই তাদের জানা ছিলো টাকার অঙ্কটা। তারা এই সময়টাতে এসেসমেন্ট আর ক্ষণিক মোবাইলে কথা বলা ছাড়া কি বালটা ছিড়েছেন?

এই আক্ষেপটা পোড়াচ্ছিলো পোস্ট পড়বার পর থেকেই।

কৌশিকের পোষ্ট আর দীপুর পোস্ট পড়ে আশ্চর্য হওয়ার বদলে লজ্জিত হলাম। আমাদের প্রচারের লোভ আছে? আমরা দান করে কৃতজ্ঞতার প্রকাশ চাই। আমরা পেপারে ২ কলাম ছবি চাই? কেউ এসে পিঠ থাবরে বলবে যা করেছো ভালো করেছো,

অন্তত একটা সুন্দর হাদিস বলতে পারি। তোমরা এমন ভাবে দান করবে যেনো তোমাদের বাম হাতও জানতে না পারে। দান গ্রহীতা নিতান্ত দায়ে পড়েই দান গ্রহন করতে বাধ্য হয়, তার এই দুরাবস্থার প্রচার তাকে আরও হীন অবস্থায় ফেলে দেয়। তবে আমার সাম্প্রতিক উপলব্ধি হচ্ছে বোধ হয় এখানে যারা কাজ করেছে তাদের সবার দাবি শ্বাশত অন্তত তার এই দুঃসময়ে তার জন্য অর্থ সংগ্রহে যারা ব্যস্ত ছিলো তাদের সবাইকে প্রতি হাজারের জন্য একবার করে পা ছুয়ে সালাম না করলে এই অর্থ গ্রহন তার জন্য বৈধ হবে না।

কিংবা সবাই হয়তো তার পাছায় একটা করে লাথি দিবে, শালা মুরোদ নাই তবুও বড় লোকের অসুখ বাধালি তুই। এরপর লাথি মেরে গরু দানের মতো তার হাতে টাকা তুলে দেওয়া হবে।

কালপুরুষ মামুনকে বলেছেন- তারা কার সাথে কথা বলে একটা সময় নির্ধারণ করেছেন। মজাটা এখানেই, প্রয়োজন শ্বাশতের, সে অসুস্থ এবং অসুস্থতার মাত্রা চিন্তা করেই আমার নিজের ধারণা অন্তত মামুনের লেখা পড়ে, দীর্ঘ কোনো ভ্রমন তার ভঙ্গুর সাস্থ্যকে আরও ভঙ্গুর করবে।

এরপরও দীপুর নাছোরবান্দা দাবি, সাথে কালপুরুষেরও গোপন বাঞ্ছা শ্বাশত সপরিবারে এসে ঢাকায় উপস্থিত হয়ে কৃতজ্ঞতার নাগপাশে নিজেকে বাধুক। আর দে স্টুপিড এনাফ টু থিংক দিস ওয়ে ওর দে আর যাস্ট নাম্বব বাই দেয়ারর সোকল্ড হিউম্যানেটারিয়ান এফোর্ট?

সামহোয়্যারের কতৃপক্ষ কৌশিকের লেখাটাকে মুছে দেওয়ার কোনো তাগিদ বোধ করেন নি, অন্তত তারা এই বিষয়টা বিজ্ঞাপনের উপযুক্ত ভাবছেন কি না এই বিষয়ক কোনো বক্তব্য তাদের নেই। তারা এই বিষয়ে কোনো আপত্তি জানান নি, তারা কি মৌন ভাবে এটাকে বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহারের আগ্রহ দেখাচ্ছেন না কি তারা কৌশিকের মারাত্মক মানসিক বৈকল্যকে আপত্তিকর ভাবছেন? কোনো স্পষ্ট বক্তব্য এখনও নেই। অথচ এই নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি চলছেই।

আজকে কিংবদন্তী গিয়েছিলাম সন্ধ্যায়। রাহার সাথে কথা হলো, খুব বেশী সময় কথা হয় নি, তবে যেটুকু জানলাম, সেই প্রথম দিন কোনো এক সহৃদয় ব্লগার কিছু টাকা দিয়ে সবার জন্য ইউনিফর্ম তৈরি করে দিয়েছিলেন, এরপরে শেরিফ নিজ উদ্যোগে কিছু টি শার্ট নিয়ে গেলেও আদতে সামহোয়্যারের সহৃদয় ব্যক্তিরা তেমন ভাবে টি শার্ট কিনতে আগ্রহ দেখান নি। হতে পারে আজিজ মার্কেটের দুর্নাম এ জন্য দায়ি।

তবে ফেসবুকে এই অনুরোধ রাখবার পড়ে তার পরদিন থেকেই ফেসবুকের বন্ধুরা আসছে এই উদ্যোগে অংশগ্রহন করতে। আর সামহোয়্যারের মানুষেরা আপাতত চরম ব্যস্ত কারণ কোনো এক ব্লগ সাইট এটাকে নাকি নিজেদের বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যবহার করছে।

সু-শান্ত নিজের বক্তব্য পরিস্কার করতে চেষ্টা করেছেন, তবে যখন তাল গাছ আমারই তুমি যাই বলো না কেনো অবস্থানে মানুষের বৈকল্য পৌঁছে যায় তখন কোনো বক্তব্যই কোথাও পৌঁছাতে পারে না।

আমার ব্লগ, সুশান্ত সেখানেই নিয়মিত লেখেন, তারা যে উদ্যোগ নিয়েছেন এবং তারা শ্বাশতের জন্য যে কয়টা টাকাই সংগ্রহ করতে পেরেছেন তার জন্য তাদের প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা।

আমি কৃতজ্ঞ অন্যসব মানুষেরা যারা নিজেরাই এই উদ্যোগে সামিল হয়েছেন এবং যারা এখনও গোপনে কাজ করছেন শ্বাশতের জীবন বাঁচানোর জন্য। তাদের সবাইকে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
তারাই আমাদের আনসাঙ হিরো। আমাদের সাধারণ মানুষ। এবং যদি এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত কেউ আমার লেখায় কষ্ট পেয়ে থাকে কিংবা আহত হয়ে থাকে তাদের কাছে অগ্রিম ক্ষমা প্রার্থনা।

আমাদের নিজেদের অন্ধকার কাটলো না, নিজের সীমাবদ্ধতা আর স্বার্থান্ধতা প্রচারের মোহ কাটিয়ে না উঠতে পারার ব্যর্থতা অতিক্রম করতে হবে সংশ্লিষ্ট মানুষদেরই।

আমি আশা করতে পারি- হয়তো রাজশাহীর মানুষেরা যখন গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছেন কোমরে নেংটি বেধে হয়তো তারা বেশ বড় অংকই সংগ্রহ করতে পারবেন। আজকের সুখবর ছিলো ইতিমধ্যে আমাদের ২৫ শতাংশ অর্থ জোগাড় হয়ে গেছে। আমরা ৬ লক্ষ জোগাড় করতে পেরেছি। যদি আন্তরিক ভাবে চেষ্টা করি তবে ২০ লক্ষও সংগ্রহ করতে পারবো। তবে আমাদের সময় সীমিত। শ্বাশতের কালঘড়ি টিক টিক করে ১২টার দিকে ছুটছে।

টিক টিক টিক টিক টিক টিক টিক টিক
৬৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×