আমার প্রিয় পোস্ট

অতি দক্ষ মিথ্যুক না হলে সত্যবাদিতা উৎকৃষ্ট পন্থা

আসুন সকাল বিকাল লাথি মারি, বাংলাদেশের ভাবমুর্তি বৃদ্ধি করি

২২ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:১৫

শেয়ার করুন:                   Facebook

রাষ্ট্রযন্ত্র বিভিন্ন সময়েই বলে কতিপয় কাজে দেশের ভাবমুর্তি নষ্ট হয়। বাংলাদেশের ভাবমুর্তি নামক জিনিষটা আমি মরিয়া হয়েই বুঝতে চেষ্টা করি। বাংলাদেশ আসলে নিজের কি ধরণের আন্তর্জাতিক ভড়ং তৈরি করতে চায়।

কিংবা আমাদের যে বহির্বিশ্বীয় পরিচিতি সেটা কেমন এটাই রাষ্ট্রযন্ত্রের কথায় বুঝতে পারি না। তবে যখন তারা বলেন আমাদের ধনাত্মক ভাবমুর্তি তৈরি করতে হবে, তখন নিশ্চিত হই, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে সচেতন এবং রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ হীনমন্যতায় ভুগছে। তার ধারণা বহির্বিশ্বের কাছে তার যে ছবিটা আছে সেটা ঋণাত্মক। সুতরাং আমাদের সমস্ত মানবতা হত্যার গল্পগুলো ধামাচাপা দিতে হবে। আমাদের রাষ্ট্রীয় অপরাধগুলো লুকিয়ে ফেলতে হবে।

রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ ক্রামগত যেসব অপরাধ করছে সেসব অমানবিকতার কোনো স্মারক রাখা চলবে না। আমাদের সংবাদপত্রে কখনই ছাপা হতে পারবে না, কি রকম নির্মম ভাবে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনী আইনের বরখেলাপ করছে। আমাদের রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের পরিচালকেরা রূপকথার যাদুর চাদর খুঁজে পাচ্ছেন না। পেলে ভালো হতো। সেই চাদর দিয়ে সব রক্তের দাগ আড়াল করা যেতো।

তবে দেশটা বাস্তব, মানুষগুলো বাস্তব, রক্তটাও বাস্তব এবং মানুষের হাহাকারও বাস্তব। সংবাদপত্রে যখন অনেক ঢেকে ঢুকে, এই সময়ে অলিখিত একটা নিয়ন্ত্রন এবং রাষ্ট্রীয় চাপ সংবাদপত্রে বিদ্যমান, অমানবিকতার প্রতিবাদ করা হয়, তখন সেটা রাষ্ট্রের পছন্দ হয় না।

আমাদের ভাবমুর্তি নামক একটা মুখোশ আছে। আমরা নিজস্ব পরিচিত পরিবেশের মুখোশটা পড়ে নিয়ে রাস্তায় নামি। আমাদের বিভিন্ন মানুষের কাছে নিজেদের পরিচিত ভাবমুর্তি রক্ষা করতেও নানাবিধ কসরত করতে হয়।

তবে আমাদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনী এবং আমাদের সরকার সব সময়ই তৎপর বাংলাদেশের ভাবমুর্তি রক্ষায়। বাংলাদেশের ৬৩ জেলায় একসাথে বোমা বিস্ফোরিত হয়, সেই বোমায় দু জন বিচারক নিহত হয়, তবে সরকার দেশের অসাম্প্রদায়িক অমৌলবাদী ভাবমুর্তি রক্ষায় ভীষণ রকম তৎপর হয়ে উঠে।

২০০১ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হয় অপারেশন ক্লিন হার্ট, সেখানে অন্তত ৮৩ জন মানুষ নিহত হয় যৌথবাহিনীর হাতে। তবে যেহেতু অপারেশন ক্লিন হার্ট তাই নিহতেরা সবাই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায়। মৃত্যুর সময়ে তাদের হৃদয় পরিচ্ছন্ন ছিলো কি না তা জানা যায় না।

সন্ত্রাসী নিধন এবং জনমালের নিরাপত্তাবিধান করতেই অনেক সময় অবসরপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীদের খুন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনী। অবশ্য সাপের বাচ্চা যদি সাপই হয় তবে প্রাক্তন সাপেরাও বিষাক্ত হতে পারে। পাবনা কিংবা কুষ্ঠিয়ায় সে মানুষটা স্ত্রী পরিবার নিয়ে সংসার শুরু করেছিলো, নতুন একটা জীবন শুরু করেছিলো, সেই মানুষটাকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হলো, লোকটা ফিরলো না, হঠাৎ থানার ভেতরেই কোনো এক সমস্যার কারণে তার হৃদযন্ত্রে সমস্যা হলো, পেছনে পড়ে থাকলো তার অল্পবয়স্ক সন্তান।

এই অপারেশন বেশী দিন চলে নি তবে এরপরেই সংসদে এই বিচারবহির্ভুত সবকটা হত্যাকান্ড আইনসিদ্ধ করা হয়। তাদের হাতে নিহত এবং আহত কয়েক হাজার মানুষ আইনের সহায়তা নিতে পারবে না। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় ভাবে এমন একটা পরিচিতি পেলো যে এখানে রাষ্ট্র সন্ত্রাসের মদদদাতা। তবে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি রক্ষার জন্য সদাসচেষ্ট চার দলীয় ঐক্যজোট সে সময়ের বোমা হামলায় নিহত ১০ জনের বিচারের সময় এটাকে দেশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করবার বিরোধী দলীয় চক্রান্ত হিসেবে প্রচার করে।

বেশ কিছু বিরোধী দলীয় কর্মীকে আটক করে রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং তারা নাকি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও দিয়েছে। রমনা বটমূলে বোমা হামলা হলো। সেটাও দেশের ভারমুর্তি ক্ষুন্ন করবার চক্রান্ত। তৎকালীন দোষী ব্যক্তিরা কেউই আদতে দোষী না। বরং এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সক্রিয় ইসলামী জঙ্গী গোষ্ঠী।

দেশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয় না, দেশের আনাচে কানাচে ইসলামপন্থী জঙ্গীরা তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত করে, তারা বিভিন্ন জেলায় অত্যাচারের রাজত্ব কায়েম করে, তবে এইসব খবর প্রচার করলেই দেশের ভাবমুর্তি নষ্ট হয়। তাই সম্পাদকদের ডেকে এনে হুমকি দেওয়া হয়।

বাংলা ভাই, ইংলিশ ভাই এইসব সংবাদপত্রসৃষ্ট দুবৃত্তেরা পুলিশের কাছে ধরা পরে, তাদের নিতান্ত হেলাফেলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের যে পরিমাণ শাস্তি হওয়া প্রয়োজন তা হয় না, বরং সামান্য মুচলেকা দিয়ে তারা আদালত থেকে রেহাই পায়।

দেশের ভাবমুর্তি অক্ষুন্ন থাকে। মানবাধিকারের ধারাবাহিক লঙ্ঘনের প্রতিবাদ করে না রাষ্ট্র, রাষ্ট্র মানবাধিকার লঙ্ঘন করতে থাকে, তারা এলিট বাহিনী গঠন করে সন্ত্রাসী হত্যা করে, সেই এলিট বাহিনী মাঝে মাঝেই ভাড়াটে গুন্ডার কাজ করে, তারা চাঁদাবাজি করে, এবং নিয়ম করে বলা হয় এরপর থেকে র‌্যাব কোনো জমিজমা সংক্রান্ত এবং অর্থ সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে কাজ করবে না।

তবে এরপরও র‌্যাব বাহিনী চাঁদা নিয়ে কিংবা পরিচিতির খাতিরেই বিচারবহির্ভুত হত্যা করে, কয়েক দিন আগে একজনকে হত্যা করতে গিয়েও হত্যা না করে পুলিশে সোপর্দ করে, পুলিশ তাকে অন্য অপরাধের আসামী বললেও র‌্যাবের দাবি সে ২৫ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজির সাথে যুক্ত।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো নিয়মিতই এই বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, সরকারের কাছে জবাবদিহিতা দাবি করেছে। সরকার মানবাধিকরা পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটিয়ে তাদেরও দোষারোপ করেছেন, তারা দেশের ভাবমুর্তি নষ্ট করছে।

অন্ধ হলেও প্রলয় আটকায় না। ধারাবাহিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে, মানুষজন অজানা শঙ্কায় নীল হয়ে থাকে সব সময়, কোথায় কখন রাষ্ট্র নিজের ভাবমুর্তি শোভন রাখতে হানা দিবে বলা মুশকিল।

আমাদের শান্তিপ্রিয়, অসাম্প্রদায়িক, এবং সহনশীল ভাবমুর্তি অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। যখন আইন শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যর্থতায় মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নিয়েছে তখন থেকেই জোড় যার মুল্লুক তার অবস্থা। এক একজন অলিখিত সামন্তরাজ বিভিন্ন জেলা শহরে গড়ে উঠেছে, তাদের মুখের কথাই সেখানে আইন, তাদের অনুমতি ব্যতিরকে আসলে সেখানে পাতাও নড়তে ভয় পায়।

আমাদের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীরা এদের প্রশয় দিয়েছেন , কারণ তাদের মনে হয়েছে এই নিষ্পেষনে তাদের দখলে থাকবে সংসদের আসন। মূলত মানুষগুলো সেখানে নাগরিক নয়, এক একটা ভোট, এবং এই ভোটগুলো সংসদ নির্বাচনে নিজের দলীয় প্রতীকে যেনো আসে এই নিয়েই যাবতীয় আশঙ্কা ,প্রতিশ্রুতির পাহাড় এবং বিভিন্ন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।

প্রথম বার যখন বিএনপি নির্বাচিত হলো, অনেক দিন সামরিক শাসনের কবলে থাকবার পর বাংলাদেশের গণতন্ত্র যখন মুক্তি পেলো, সে সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়ে গণআন্দোলন হয়েছিলো। সে আন্দোলনে সমস্ত বাংলাদেশ গর্জে উঠেছিলো। সে সময়ে যারা এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি করেছিলো তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হয়েছিলো।
রাষ্ট্রের ভাবমুর্তি নষ্ট করা এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সম্মানহানী করবার মতো কাজটা তারা করেছিলেন, অন্তত আদালতের পরিভাষা তাই বলে। সেই রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায় নিয়েই মরে গেলেন জাহানারা ইমাম।

জোট সরকারের আমলে দেশের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংখ্যালঘু নিষ্পেষণের হার বেড়ে গেলো। কুমিল্লার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রামে গ্রামে টহল দিলো সন্ত্রাসী বাহিনী, তারা আবার সরকারী দলের সমর্থক ছিলো, তারা নিজেদের ইচ্ছা মতো যেকোনো বাড়ীতে ঢুকতো এবং সে বাড়ীর মেয়েদের ধর্ষণ করত. অবশ্য এটাকে ধর্ষণ বললে ভুল বলা হবে, সংখ্যালঘুদের জন্য এটা নিরাপত্তা কর। সে সময়ে অসংখ্য হিন্দু পরিবার ভারতে পালিয়ে যায়, কিংবা তাদের কিশোরী মেয়েদের পাঠিয়ে দেয় ভারতে।

এইসব প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে সংবাদপত্রে, তবে যখন শাহরিয়ার কবির এই সংবাদের সাথে মানবাধিকার হানির প্রতিবেদন নিয়ে দেশে আসলেন ২২শে নভেম্বর ২০০১ তাকে এয়ারপোর্ট থেকে আটক করা হলো রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে। তাকে জামিন দেওয়া হলো তবে তার মামলা এখনও মীমাংসা হয় নি, এখনও রাষ্ট্রের বিবেচনায় সে একজন রাষ্ট্রদ্রোহী। তার অসংখ্য অপরাধের একটা অপরাধ বাংলাদেশে যেভাবে মানবাধার লুণ্ঠিত হয় সেটা প্রকাশ করে দেশের শোভন এবং সুন্দর ভাবমুর্তি সে নষ্ট করবার চক্রান্ত করেছিলো।

শাহরিয়ার কবির অবশ্য ব্রান্ডেড মানুষ। তিনি অনেক দিন ধরেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি করছেন, তেমনই একজন মুনতাসির মামুন, তিনিও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান, তাই তাদের রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে আটক করে অত্যাচার করা যায়, এবং এই অত্যাচার করে আমাদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত বাহিনী।

রাষ্ট্র যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি করাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে গ্রহন করতে চায় তখন সেই রাষ্ট্রের কোথাও গলদ আছে।

তবে সেলিম সামাদের গল্পটা অন্য রকম। বাংলাদেশে ইসলামী জঙ্গীবাদের উত্থান এবং এর পরিসর যাচাই করবার পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তাকে আটক করে বাংলাদেশ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা তার মুখের সামনে পিস্তল ধরে বলেন, আপনি দেশদ্রোহী, আপনি আপনার দেশের সাথে বিশ্বাসঘতকতা করেছেন। আপনি দেশের ভাবমুর্তি নষ্ট করছেন। বাংলাদেশের সম্মানহানী করেছেন।

অবশ্য তখন বাংলাদেশের সবাই জানতো এখানে ইসলামী জঙ্গীরা ছড়িয়ে পড়েছে, তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র মহড়া দিচ্ছে এবং তারা নিজেদের সংগঠিত করছে। শুধুমাত্র অবগত ছিলো না বাংলাদেশ রাষ্ট্র। রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তখনও জোর গলায় বলছে এইসব অপপ্রচার আসলে বাংলাদেশের সুনামহানী এবং আওয়ামী লীগের চক্রান্ত।

যেভাবেই হোক এই মানুষটার সাথে থাকা ৩ বিদেশী সাংবাদিককেও আটক করে ৫ দিন পরে ছেড়ে দেওয়া হয়, সালিম সামাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের মর্যাদা ক্ষুন্ন করবার অভিযোগ আনা হয়। তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে তবে এখনও তার অভিযোগ উঠিয়ে নেওয়া হয় নি।

একই ঘটনা ঘটলো তাসনীম খলিলের সাথে। মানবাধিকার কর্মী এবং সাংবাদিক, তার অপরাধ ছিলো, র‌্যাবের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সে লেখালেখি করতো। তার নিজের অভিজ্ঞতার বয়ান পড়ে বিস্মিত হলাম। আমাদের বর্তমান যৌথবাহিনী অত্যাচারে দক্ষতা অর্জন করেছে। তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রাষ্ট্রের সুনাম নষ্ট করবার।

আমরা মেনে নিলাম বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুন্ন হয়ে যায় যখন আমরা দেশের এলিট এবং বলিষ্ট দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী কিংবা র‌্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার হরণের অভিযোগ করি। তারা আসলে কাদের উপরে এই চর্চা করছে, কতিপয় সন্ত্রাসীর উপরে, তাদের আইনী অধিকার থাকে কিভাবে? বাংলাদেশের আরও বেশী উন্মাদ জনগণের কিয়দংশ এটার সমর্থক, তারা পেপারে চিঠি লিখে আরও খুন করবার অনুপ্রেরণা জোগায়। এদের খুব করাটা অপরাধ নয়, এদের মেরে ফেললে আরও কিছু সন্ত্রাসী হয়তো ভয় পেয়ে সন্ত্রাস বন্ধ করবে। অপারেশন মোরালিটি ক্রাশ।

তবে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনীর ভাবমুর্তি নষ্ট হয় না যখন তারা নিজেরা বৃদ্ধ সাংবাদিকের উপরে ঝাপিয়ে পড়েন, তাদের বুট কিংবা রাইফেলের বাঁট দিয়ে পিটিয়ে ভর্তা করবার সময় বাংলাদেশের ভাবমুর্তি নষ্ট হয় না।

বাংলাদেশে মনে হয় সংগ্রাম একমাত্র পত্রিকা যারা বলেছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদে যে মানুষটা লাঞ্ছিত হলো সেটা একটা সাজানো ঘটনা। এটা একুশে টিভির চক্রান্ত, জামায়াতের মুখপত্রের এই বক্তব্যে সন্দিহান হয়ে একজন অনেক বড় একটা মানবীয় লেখাও লিখেছেন,

সেই সংশয় নিয়েও বলছি, ইসলামী মূল্যবোধের জয়গান গাওয়া এই পত্রিকা উপদেশ দেয় ইসলাম বাবা মাকে সম্মান করতে বলেছে, বয়োজোষ্ঠ্যদের সম্মান প্রদর্শন করা উত্তম আদব, এটা রসুলের সুন্নত। মানুষকে সম্মান দেওয়ার আদবটা থাকা উচিত।

সংগ্রাম শেষ পর্যন্ত দাবি করেছে এই ছবিটাই বানোয়াট, পুরোটাই কম্পিউটারের কারসাজি,এটা জামায়াত শিবিরের ভাবমুর্তি নষ্ট করবার চক্রান্ত। তবে এই ফুটেজটা সরাসরি প্রচারিত হয়েছে ।

একজন বৃদ্ধকে পিঠে লাঠি মারাটা কোনো সামাজিক অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না? এটাতে দেশের কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনীর সম্মানহানী হয় না, কারণ তাদের এমন কাজের পুর্ব ইতিহাস রয়েছে।

এ বিষয়টা নিয়ে যত প্রতিবাদ হচ্ছে তার অধিকাংশই ছাত্র এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক। তেমন ভাবে গণদাবি এখনও হয়ে উঠে নি। এবং অধিকাংশ সময়ই এটা যুদ্ধাপরাধী বিবেচনায় সচেতনতা।

আমরা ঘটনাটাকে অন্য ভাবে দেখি একটু। একজন বৃদ্ধ মানুষ সময়ের সাক্ষী, সে যুদ্ধাপরাধীর বিচার চেয়েছে। এই সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় সেই বৃদ্ধ মানুষটাকে লাথি দেওয়া হয়েছে।

আমাদের সুশীল বৃদ্ধ আমলারা এবং সমসাময়িক বৃদ্ধরা এই বিষয়ে উদাসীন। তারা কি এটাকে অপরাধ ভাবছেন না?

নুর মোহাম্মদ এবং তার অনুগত পুলিশ বাহিনী এটাকে অপরাধ ভাবে না। তারা এখনও কোনো পদক্ষেপ নেয় নি এই অপরাধীকে ধরতে। বাংলাদেশের ভাবমুর্তি উন্নত হয়েছে অনেক। এই দেশে বৃদ্ধদের পিঠে লাথি দেওয়ার সংস্কৃতি আরও বেশী প্রচলিত হোক। আমরা সব বৃদ্ধদের সকাল বিকাল লাথি মেরে দেশের ভাবমুর্তি উজ্জল করি।

 

 

  • ৮ টি মন্তব্য
  • ২৬৫ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৫ জনের ভাল লেগেছে, ২ জনের ভাল লাগেনি
১. ২২ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:২৫
comment by: এস্কিমো বলেছেন: আছি।
২২ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:২৮

লেখক বলেছেন: আরও লাগবে।

একটা লিস্টি করে ফেলা দরকার,

বড় বড় মানুষদের লাথি মারতে পারলে সেটা আরও দ্রুত ভাবমুর্তির সূচক উপরে উঠাবে।

২. ২২ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:২৬
comment by: আরণ্যক যাযাবর বলেছেন:
আজকে প্রথম আলোতে আসছে, ওয়েবে নাকি রাজাকারদের অপমান করে কে বা কারা লেখা দিচ্ছে, ছবি দিচ্ছে। তাদের নাকি সরকার ব্লক করছে কিন্তু, কিছু বলছে না।
আপনার লেখাটা দেখেই বুঝলাম, কাদের কথা বলা হয়েছে।

রাজাকারদের অপমান করছেন কেনো?
মাইনাস।
২২ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৩০

লেখক বলেছেন: মাইনাসে কাজ হবে না। সহযোগিতা দরকার। বুট কিনে লাথি মারতে ঝাপিয়ে পড়তে হবে। এটা সময়ের দাবি।

৩. ২২ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৩১
comment by: কৌশিক বলেছেন: তোমার অবগতির জন্য জানাই, এ বিষয়ে আমি সম্ভাব্য একটা ফিউচারিস্টিক ড্রামা লিখেছিলাম। য়্যাস ফর্মুলা -১ । দেখতে পারো।
৪. ২২ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৪৪
comment by: মেঘ বলেছেন: বৈঠা দরকার। পল্টনে ছ্যাঁচড়ায়ে জামাতীদের ২৮অক্টোবর মেরে ফেলতে পারলে দেশ মুক্ত হতো। আমার টাকায় খায় পরে, আমারেই লাথি মারে। কত সাহস বাড়ছে শুযোরের বাচ্চাদের। আমি গ্রেনেড হামলা করতে চাই জামাতের মগবাজার কার্যালয়ে যখন মজলিশে শূরা কমিটির মিটিং হয়। আমাকে কেউ সাহার্য্য করেন।
৫. ২২ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১:১২
comment by: দ্বিতীয়নাম বলেছেন: মেঘ আমাগো অনেকের স্বপ্নের কথা কইলো।
যেই দেশে থাকি সেই দেশের আশপাশের মানুষ আমাগো দেশরে চিনে না আর, যে কয়জন হাতে গোনা জানে তারা ঐ ভাবেই জানে।
৬. ২২ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:৩৭
comment by: মেহরাব বলেছেন: একজনকে দিয়ে এমন বিচার করা ঠিক না। মুরুব্বীরা যা করছেন তা ভালোর জন্যই করছেন।

 



 


অনেক অনেক চেষ্টা হয়েছে ব্লগানোর বাংলা করা নিয়ে, আমার এখন ব্লগের নতুন বাংলা করতে ইচ্ছা করলো তাই দিলাম এর নাম...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১১২৭৩০