দেশদ্রোহীরা নিপাত যাক জাতীয়তাবাদী চেতনার জয় অবসম্ভাবী
২৯ শে জুলাই, ২০০৮ বিকাল ৪:০৯
ব্যর্থ রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা সমার্থক নয়। শব্দ ওলোট পালোট করে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়ে জাতিয়তাবাদী উন্মদদের বিরাগভাজন হওয়ার খোনো খায়েশ আমার নেই। জাতীয়তাবাদী উন্মাদনার মিছিলে শরিক হতে না পারি , তাদের আড়ালে টিটকারি দেওয়ার ধৃষ্টতা করাটাও চরম মুর্খতা। জাতীয়তাবাদী উন্মাদদের চরম ও অগাধ পান্ডিত্যে কোনো সংশয় নেই আমার।
শব্দজব্দ খেলবো না, ব্যর্থ রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতাকে এদিক ওদিক করে, তাদের অগাধ প্রজ্ঞায় তারা এই হীন চক্রান্ত এবং ফাঁকিবাজী ধরে ফেলতে পারেন, তারা প্রচুর বিদ্বান এবং বিদ্যাৎসাহী, তাই তাদের কাছে সবিনয়ে জানতে চাই রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার পরিমাণ মাত্রাগত ভাবে কত শতাংশের কোটা অতিক্রম করলে একটি ধারাবাহিক রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রমাণ রাখা রাষ্ট্রকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বলা যায়?
জাতীয়তাবাদী উন্মাদদের এই ব্যর্থ রাষ্ট্র বিশেষণটা পছন্দনীয় নয়, বরং অধিকতর শোভন দুর্বল রাষ্ট্র বিশেষণে তাদের আপত্তি নেই।স্বজাত্য অভিমান বশত কিংবা পার্শ্ববর্তী আগ্রাসী পূঁজিবাদী কাফির রাষ্ট্র ভারতের পত্রিকা বাংলাদেশের ব্যর্থ রাষ্ট্র বলায় তারা ভীষণ ক্ষিপ্ত এবং তারা অনেকটা জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়েই এর বিরোধী। তারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতাকে অস্বীকার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
কর্পোরেট প্রথম আলো- ডেইলি স্টার গং যখন ভারতের সুরে সুর মিলিয়ে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বলে তখন এই মতবাদও পরিত্যাজ্য। এমন স্থিরপ্রতিজ্ঞ মানস নিয়ে কিছু বলবার নেই।
বাণিজ্য নিয়ম মেনেই প্রতিটা সংবাদ পত্র নিজের ব্রান্ডিং করেছে। অসংকোচ সত্য প্রকাশের সাহস, নির্ভীক সত্য উচ্চারণের সাহস, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষপাতিত্ব, নতুন আগামীর পথে জনগণের পাশে থাকা উন্নত সংবাদপত্র, যা কিছু ভালো তার সঙ্গে সঙ্গে ভেসে যাওয়া জাতীয় দৈনিকগুলোর এইসব শ্লোগান বিপননের বুলি
বাণিজ্যিক বিপননের মনোগ্রাম, মুখরোচক শ্লোগান। তবে এসব মুখরোচক শ্লোগান কার্যকরী। তাই যখন বিজ্ঞাপনে ধারাবাহিক ভাবে প্রচার করা হয় আপনি যদি স্মার্ট, এবং সচেতন পুরুষ হতে চান বিশেষ একটা কোম্পানীর কনডম ব্যবহার করুন, তখন সেটা মানুষের স্মার্ট হতে চাওয়া চেতনায় ঠিকই আঘাত করে, মানুষ কনডম এবং জন্মনিয়ন্ত্রন সামগ্রীর ব্যবহার বাড়িয়েছে, সচেতন নারী এবং আধুনিক নারীরা জন্মনিয়ন্ত্রন বড়ি ব্যবহার করছেন, সীমিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্মনিয়ন্ত্রন বড়িও সচেতনতার প্রতীক, অনেক রকম দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলতে সহায়তা করে।
মানুষ বিজ্ঞাপন পরিচালিত এবং বিজ্ঞাপনের বাইরে গিয়ে ভাবতে পারবার প্রাজ্ঞতা কম এখানে। পূঁজিবাদী ব্যবস্থায় মূলত প্রচারের বাইরে গিয়ে, প্রচলিত মতের বাইরে গিয়ে একটা জগাখিচুড়ী পরিবেশনাও একটা প্রচারণার অংশ, যেমন নোয়াম চামিস্কি।
রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ, বিশেষণ এবং বিশেষ্যের ব্যবহার, ভাষা ব্যবহারের ধাঁচ এবং ভাষার প্রয়োগে ধরা পরে উল্লেখিত ব্যক্তি বিশেষ কোন গোত্রের সংবাদসেবী এবং কোন গোত্রের সংবাদবিদ্বেষী তারা।
বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ব্যর্থ? শোভন ভাষায় বাংলাদেশ দুর্বল রাষ্ট্র। যেখানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ। যেখানে একটা ব্যবসা শুরুর উদ্যোগ নিয়ে সেটাকে শুরু করতে ন্যুনতম ৬০ দিন সময় লাগে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা একটা চাপা গৃহযুদ্ধাবস্থা তৈরি করেছে। দেশের অধিকাংশ মানুষই দুটো শিবিরে ভাগ হয়ে যুযুধ্যমান।
সংখ্যালঘুর নিপীড়ণ, এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের হার আশংকাজনক। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের গ্রাফ উর্ধগামী।
জনগণ অসন্তুষ্ট। সরকার যেভাবে দেশ পরিচালনা করছে তাতে সন্তুষ্ট নয় জনগণ, সরকার দেশের জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ। অধিকাংশ নির্বাচিত প্রতিনিধির প্রতিশ্রুতি পূরণের ব্যর্থতায় বিরক্ত জনগণ। আদালত এবং অন্যান্য সরকারী সংস্থার প্রতি জনগণের আস্থা নিম্নগামী।
অপুষ্টি এবং শিশুমৃত্যুর হার আশংকাজনক। দেশের ৬০ শতাংশ মানুষ অপুষ্টির শিকার এবং এই হার উর্ধমুখী।
তবে বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্র নয় বরং অধিকাংশ মানবিক অধিকার রক্ষা এবং পুরণে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা প্রকট।
জনগণের মর্জি এবং চাহিদা পুরণ না হলে সার্বভৌমত্বের ধারণা জনগণকে সীমান্তে কাঁটাতার ঘেরা বৃহৎ এক কারাগারে যাবজ্জীবন কারাবাসের অসস্তিকর অনুভুতি দেয়। এই অনুভুতির মানসীক পীড়নে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সব সময়ই দুর্বল। নৈতিকতাবোধ দুর্বল, তাদের আত্মমর্যাদা নেই, আত্মমর্যাদাবিহীন একদল দুর্বল পরমুখাপেক্ষী মানুষের কাফেলা রাস্তায় ।
বস্তুত আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সাফল্য মূলত সডার্বভৌমত্বের এবং ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধীতার ধারাবাহিক রাজনৈতিক গলাবাজীর ধারণার সীমিত।
টিভির মনোলোভা বিজ্ঞাপণ , রাজনৈতিক শ্লোগান এবং ধারবাহিক প্রচারণায় কাফিরদের হাতে মুসলমানিত্বে বিলোপের অন্ধভীতি এবং এর প্রতিকারে ইসলামী বিপ্লব বাংলাদেশকে সফল রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করতে পারে।
বাংলাদেশে অর্থনীতি ও খাদ্য পরিপুষ্টি নিয়ে বিভিন্ন উপাত্ত সংগ্রহে নিয়োজিত কতিপয় গবেষণা সংস্থা, তারা সংগৃহীত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘোষণা দিচ্ছে গত ২ বছরে অনেক মানুষ দারিদ্র সীমার নীচে নেমে গেছে।
মানুষের দৈনন্দিন আয় বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফ্রীতির পাগলা ঘোড়ার লাগাম ধরতে পারছে না, মূল্যস্ফ্রীতির হারকে অতিক্রম করতে পারছে না তাদের আয়বৃদ্ধি বরং প্রতিদিন পিছিয়ে পড়ছে তারা। তাদের সঞ্চিতি কমেছে, তারা বিলাসদ্রব্য পরিত্যাগ করে এই অসহনীয় পরিস্থিতি মোকাবেলা করবার চেষ্টা করছে, এবং এরই ধারাবাহিকতায় তারা খাদ্যবাবদ বরাদ্দকে কমিয়ে এনেছে।
অনেকে সুষম খাদ্যের চাহিদা পুরণ করতে পারছে না। শহরগুলোতে সংস্কারের নামে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা অনেকদের দৈনন্দিন আয়ের যোগান কমিয়ে দিয়েছে। শহরের উপকণ্ঠে সরকারী জমিতে অবৈধ বসবাস করা মানুষের বসতি গুড়িয়ে দেওয়ায় অন্তত ৫ শতাংশ মানুষ অনিকেত কিংবা উদ্বাস্তু।
তবে গভীর সন্দেহ এইসব উপাত্ত বিশ্লেষণ ও প্রকাশের কাজটা করছে যেইসব গবেষণা সংস্থা, তারা প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার গংয়ের স্লিপীং পার্টনার। তারা যেনতেন উপায়ে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রের তকমা এঁটে দিতে চায়।
এইসব দেশদ্রোহীরা নিপাত যাক, ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ আজ উন্মোচিত। তাদের প্রতিহত করতে হবে। মেহনতি জনতার জয় হোক।
লেখক বলেছেন: নোয়াম চামিস্কি যুক্তরাষ্ট্রের পূঁজিবাদী আগ্রাসনের বিরোধীতা করে বক্তব্য রাখে নিয়মিত। রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রের বাইরে থাকবার স্বপ্ন নিয়ে লিখে, মানুষের ভাষাদাসত্ব, মানুষের বিজ্ঞাপন দাসত্ব নানাবিধ প্রচলিত মতবাদ এবং বিতর্কে তার একটা একাডেমিক অবস্থান আছে।
এই অবস্থানগ্রহনের জায়গাটা পেশাগত বিশ্লেষণের জায়গা। প্রচলিত মতগুলোর বলিষ্ঠতা এবং দুর্বলতা ধারাবাহিক ভাবে উন্মোচন এবং বিশ্লেষনের ধারাবাহিকতায় একটা জনমত গঠিত হয়।
মার্কিন জনগণের নিষ্পেষণের ধারণার বিপনন পুঁজিবাদী সমাজের দলদ এবং বিজ্ঞাপনী জাঁকজমকের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর নোয়াম চামিস্কি, কোনো না কোন একটা মতবাদ তৈরি করতে সচেষ্ট।
তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, তার গ্রহনযোগ্যতা এবং মতাদর্শিক সাহাবা তৈরি সবই সম্ভব হচ্ছে তার প্রচলিত ধ্যানধারণার বিরোধিতায়। এটাও নোয়াম চামিস্কিয় প্রচারণা।
রাযহান বলেছেন:
এইসব দেশদ্রোহীরা নিপাত যাক, ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ আজ উন্মোচিত। তাদের প্রতিহত করতে হবে। মেহনতি জনতার জয় হোক।
কৌশিক বলেছেন:
কেবল একটু ভিন্নমত। জাতীয়তাবাদী চেতনার বদলে রাষ্ট্রীক বলতে উৎসাহী।
লেখক বলেছেন: বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিচয় নির্মাণের ধারণাটা আমার কাছে কখনই স্পষ্ট নয়। তাদের জাতিসংঘ সনদের প্রতি ন্যস্ততা, সকল মানবাধিকার সনদে সই করবার ব্যগ্রতা এবং সেই সনদ অগ্রাহ্য করে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস অব্যহত রাখবার প্রবনতা কখনই খুব একটা মানবিক রাষ্ট্র পরিচিতর অনুভব দেয় না আমাকে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিচয় নির্মাণের বদলে একদল মানুষের সম্মিলিত চেতনা অনেক বেশী স্পষ্ট এবং এসবের দালিলিক ভিত্তি আছে, বাংলাদেশ দালিলিক বিচারে মানবিক এবং সমঅধিকারে বিশ্বাসী একটা রাষ্ট্র যে নারীর ক্ষমতায়নের অংশীদার হতে চায়।
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন:
জাতীয়তাবাদী বলতে আপনি ম্যাকিয়াভেলির জাতীয়তাবাদকে বুঝাচ্ছেন নাকি মিলিটারী জান্তা জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদকে বুঝাতে পারেন।
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন:
সরি বুঝাতে চাচ্ছেন।
অরণ্যচারী বলেছেন:
'পূঁজিবাদী ব্যবস্থায় মূলত প্রচারের বাইরে গিয়ে, প্রচলিত মতের বাইরে গিয়ে একটা জগাখিচুড়ী পরিবেশনাও একটা প্রচারণার অংশ, যেমন নোয়াম চামিস্কি।'নোয়াম চমস্কি সম্পর্কে আপনার অজ্ঞতার প্রমাণ। তিনি পুঁজিবাদী ব্যবস্থার প্রচলিত মতের বাইরে মত দিয়েছেন এবং তা মোটেই জগাখিচুড়ী নয়। যে কেউ তাঁর সম্পর্কে জানতে পারেন।
http://en.wikipedia.org/wiki/Noam_Chomsky
লেখক বলেছেন: নোয়াম চামিস্কি সফল, তার বিশ্লেষণের ভক্ত বিদ্যমান। এই প্রচলিত পূঁজিবাদের বিরোধিতাও এক ধরণের অবস্থান গ্রহন। মতাদর্শিক অবস্থান গ্রহনে সম্মতি বা অসম্মতি অনেক বেশী স্পষ্ট। যাদের কোনো অবস্থান নেই তাদের প্রতি একটা সংশয় সব সময়ই থাকে।
এটা যে জগাখিচুড়ী নয়, এই বিশ্বাসটা উৎপাদন করতে চামিস্কি সফল, অন্তত নতুন মোড়কে পরিবেশনার মাধুর্যটা চটক জাগায়।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
আপনার ধারণার কিছু ধারণার সাথে দ্বিমত পোষন করছি।ভারতের বিরোধিতা যারা করে তারা সবাই ভারত'কে কাফির রাষ্ট্র ভাবে,এই কথাটা মনে হয় ঠিক না।দ্বিতীয়ত আপনি যে সব সংজ্ঞায় কোন রাষ্ট্র'কে ব্যার্থ রাষ্ট্র বলতে চান,সেই সংজ্ঞায় তো তাবত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিকে ফেলা যায়।
উদীয়মান পাওয়ার ইন্ডিয়া থেকে আমেরিকার পাশের দেশ মেক্সিকো,পূর্বের ফিলিপাইন থেকে পশ্চিমের কলাম্বিয়া পর্যন্ত সবাই পরে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যার্থতা স্বীকার করতে আমার সমস্যা নাই কিন্তু আধিপত্যবাদী একটা দেশ পলিটিক্যাল হেজেমনি'টাকে সু-সংহত করতে যখন-তখন পাশের দেশগুলিকে ব্যার্থ-রাষ্ট্রের তকমা দেবে এইটা কতটা গ্রহনযোগ্য?
এবং সেই সংজ্ঞাকেই ব্যবহার করে আমরা যদি তাদের ব্যার্থ রাষ্ট্র বলি,তাইলে উগ্র জাতীয়তাবাদী উন্মাদ হয় কিভাবে?
লেখক বলেছেন: রাষ্ট্র আমার বিবেচনায় জনগণের সমষ্টি, সেখানে একটা নির্দিষ্ট ভূখন্ডে নির্দিষ্ট সংস্কৃতি এবং জীবনযাপনে অভ্যস্ত একদল মানুষ নির্দিষ্ট একটা সীমারেখার ভেতরে বসবাস করে।
তাদের নিজস্ব কিছু প্রত্যাশা আছে, তাই তারা নির্দিষ্ট এই রাষ্ট্রের আইন এবং বিধি মেনে তার প্রদত্ত পরিচয় পত্র নিয়ে নিজের দেশপ্রেম বজায় রাখে।
মানুষের প্রত্যাশা এবং চাহিদাগুলো অনেক রকম হতে পারে, তবে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি সংবিধানে লিপিবদ্ধ, বাংলাদেশ সংবিধানের কতিপয় নাগরিক অধিকার দিতে ক্রমাগত ব্যর্থতার পরিচয় রাখছে।
ক্ষুদ্র বিবেচনায় পরিস্থিতির সমার্থক একটা পরিস্থিতি হতে পারে ঢাকা ওয়াসা, তারা ঢাকা শহরের নাগরিকদের নির্দিষ্ট একটা সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এখন ওয়াসা যদি সেই সেবা প্রদানে ব্যর্থ হয়, ওয়াসাকে ব্যর্থ বলতে সমস্যা কোথায়? এই ব্যর্থতা পক্ষান্তরে গিয়ে বর্তাবে ঢাকা সিটিকর্পোরেশনের ঘাড়ে।
ভারতীয় আগ্রাসন অর্থনৈতিক, সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে নেই, বাংলাদেশ নামক এই বোঝা ভারত গ্রহন করবে না। তারা এখানে ব্যবসা করবে, তাদের পূঁজির বাজার হবে এটা। আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা এই অর্থনৈতিক আগ্রাসনের বিরোধিতা আমরা করতে পারছি না।
ভারতীয় পত্রিকার প্রতিবেদন বাংলাদেশকে বিরুপ ভাবে পরিচিত করতে চায় কারণ বাংলাদেশে বিশাল একটা বাজার আছে ভারতের, বাংলাদেশের অস্থিরতা ভারতের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রন করে যারা তাদের স্বার্থের বিরোধী।
বাংলাদেশে যে কারণে ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রুথ কমিশন গঠিত হয় সেই একই কারণে ভারতীয় পত্রিকা উদ্বিগ্ন হয় বাংলাদেশের অস্থিরতায়। সারাক্ষণ এই উন্মাদনার শিকার হয়ে প্রলাপ বকা উগ্র জাতীয়তাবাদ। আমার বিবেচনায়।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
"সারাক্ষণ এই উন্মাদনার শিকার হয়ে প্রলাপ বকা উগ্র জাতীয়তাবাদ"।সারাক্ষণ মনে হয় কেউই প্রলাপ বকেনা।বাংলাদেশে যেরুপ ঘটনা ঘটলে ভারতীয় মিডিয়ি বাংলাদেশ ট্যাগিং নেমে পড়ে,সেই একই ঘটনা ভারতে ঘটলে একই থিওরি দিয়ে মানুষ ভারত'কে ট্যাগিং করবে।এইটা প্রলাপের কি হলো?সাধারণ মানুষতো আর ফেরেশতা কিংবা নবী-রাসূল(আক্ষরিক অর্থে নিবেন,ফেরেশতা,নবী-রাসুলের নাম নেওয়া(যে অর্থেই হোক) তো আবার মৌলবাদ) নয়,তাদের মধ্যে প্রতিশোধ প্রবণতা থাকবেই।এবং মওকা বুঝে তারা যে ঝাল ছাড়বে এইটাই তো স্বাভাবিক।
নোয়াম চমস্কি সম্পর্কে আপনার অনুসিদ্ধান্ত জানলাম।অনুসিদ্ধানের পরেই আসে প্রয়োগ।তাইলে বলেন,নোয়াম চমস্কি সম্পর্কে আমরা কি ডিশিসন নিবো,তার বই পড়া বাদ দিবো যেহেতু সে নিজেই একটা মতবাদ কিংবা প্রতিষ্ঠান, নাকি সতর্কতা'র সহিত তাকে পাঠ করবো নাকি আপনে তার লেখা পড়বো কি পড়বো না,কিছুই বলবেন না।নোয়াম চমস্কি যেভাবে পুজিবাদের বিপরীতে লিখে চটকদার মাধূর্য (আপনার ভাষায়)পরিবেশন করে,তাইলে আমি কি ধরে নিবো,আপনি নোয়াম চমস্কি'কে ট্যাগিং করে আমাদের শুধুই চমক দিতে চেয়েছেন।
লেখক বলেছেন: শেষ পর্যন্ত এই সম্পূর্ণ লেখাটাই আমার একটা অনুভব। আমার অভিমত এবং আমার প্রতিক্রিয়া।
আমার সাহাবাকূল থাকলে এবং আমার আন্তর্জাতিক পরিচিত থাকলে এই লেখাটার জনগুরুত্ব হয়তো আলাদা রকম হতো, আমার বুদ্ধিজীবি তকমা লাগানো থাকলে এই মতামতের উপরে হয়তো সামাজিক স্বীকৃতির তকমা লাগানো থাকতো। এবং অনেকে হয়তো এই মতামতের উপর ভিত্তি করে তর্ক বিতর্ক করতো
আমি নোয়াম চামিস্কি না, এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতির আলো আমার উপরে নেই, তাই আমি নোয়াম চামিস্কিকে চটকদার বললে সেটা একটু ঔদ্ধত্য হয়ে যায় বোধ হয়।
এটাকে গ্রহন করা কিংবা বর্জন করা কিংবা অবজ্ঞা করা কোনোটাতেই কিছু পরিবর্তন আসে না। মতামত থাকবে, উন্মুক্ত লেখার অবকাশে নিজস্ব মন্তব্য প্রতিক্রিয়া লেখা যাবে, তবে এটাকে পাঠক কিভাবে গ্রহন করবে এই নির্দেশনা দেওয়াটা আরও বেশী বিড়ম্বনার কাজ হবে।কিংবা পাঠকের পঠনাভ্যাসকে নিয়ন্ত্রন করবার মন্ত্রনা দেওয়াটাও বোধ হয় আমার অবস্থান থেকে সম্ভব না।
মানুষের নিজস্ব মতামত গড়ে উঠবে, মানুষ একটা অবস্থান নিবে এটাতে আমার ভুমিকা কোথায়? আমি নিজেকে খলিফা দাবি করছি না, এই লেখার কোথাও খলিফাগিরি প্রকাশ পেলে সেটা আমার প্রকাশের ভ্রান্তি হতে পারে।
তবে সচেতন ভাবে বলতে হলে এটা সম্পূর্ণই আমার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ব্যর্থতা বিষয়ে।
বুমবুম বলেছেন:
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন: জাতীয়তাবাদী বলতে আপনি ম্যাকিয়াভেলির জাতীয়তাবাদকে বুঝাচ্ছেন নাকি মিলিটারী জান্তা জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদকে বুঝাতে চাচ্ছেন?
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
জিয়াউর রহমান কি আদৌ কোন জাতিয়তাবাদী নেতা? বাংগালী থেকে বাংলাদেশি শব্দের প্রচলণ করলেই কি কেউ জাতীয়তা হয়ে যায়।জাতিয়তাবাদের সমর্থক হই বা না হই,জিয়াউর রহমান'কে আমি বড়জোর চালাক(ধূর্ত) সামরিক শাসকের মর্যাদা দিতে পারি,জাতিয়তাবাদি নেতা নয় অবশ্যই।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
"তর্ক-বিতর্ক আমার বরদাস্ত হত না,ও জিনিস আমি মন দিয়ে অনুধাবনই করতে শিখিনি।উত্তেজিত চিন্তার অবাধ্য লাফ-ঝাঁপের সংগে তাল রেখে চলা আমার পক্ষে কঠিন;আর তর্ক-রসিকদের উলংগ আত্মম্ভরিতা দেখে বরাবরই আমার বিরক্তি জাগত মনে"।না বুঝেই গোর্কি'কে কোট করলাম। দোয়া করি,"আপনার সোনার দোয়াত কলম হোক"।আপনার উপর আন্তর্জাতিক লণ্ঠনের আলো এসে পড়ুক।ততক্ষণ পর্যন্ত আমি চমস্কি পাঠ করতে থাকি।আপনার উপযুক্ত সাহাবকূল তৈরি হলেই,আমি আপনার তত্ত্ব বিনাবাক্যে মেনে নিবো;আমি আবার একটু জাতিয়তাবাদী কিনা আর আপনি বাংলাদেশেরই লোক(অন্ততঃ বাহ্যিভাবে,মানসিকভাবে হয়তোবা আপনি পুরাদস্তুর আন্তর্জাতিকতাবাদী)
লেখক বলেছেন: আশা করি আপনার নিজস্ব মতবাদ তৈরি হবে একদিন।
গাছের ছায়ার নীচে না কটিয়ে গাছের পাশে অন্য একটা গাছ হয়ে বেড়ে উঠবার সামর্থ্য হোক আপনার। ধন্যবাদ।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
মানুষের কোন জ্ঞ্যানই মৌলিক নয়,তেমনি নয় কোন আবিষ্কার।সবাই কবি নয়,কেউ কেউ কবি।তেমনি সবাই বিশ্লষক নয়,কেউ কেউ বিশ্লষক।আমি বড়জোর পাঠক।কিছু কিছু গাছ(মানে ওই প্রজাতি ভুক্ত) কিন্তু আপনা থেকেই বেড়ে উঠেনা,তাদের বেড়ে উঠার জন্য কোন অবলম্বনের প্রয়োজন হয়,যেমন স্বর্ণলতা,লাউ,কুমড়ো।আমি ওইভাবেই বেড়ে উঠতে চায় কিন্তু কোন বটবৃক্ষ আমাকে আশ্রয়,কিংবা ছায়া দিলে আমি আপত্তি করিনা,বরং সুবিধাই হয়।বট'কে আবার ছোটবেলা থেকে দেখতে দেখতে আমার একান্ত ভাবে দেশী বৃক্ষ মনে হয়।
ধন্যবাদ।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন: জাতীয়তাবাদী বলতে আপনি ম্যাকিয়াভেলির জাতীয়তাবাদকে বুঝাচ্ছেন নাকি মিলিটারী জান্তা জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদকে বুঝাতে চাচ্ছেন?বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ নামের একটা ধারণা প্রচলিত আছে, জাতীয়তাবাদের সীমানার ভেতরে যে ধরণের ধারণাগুলোর উপর ভিত্তি করে একটা জাতি গড়ে উঠে, তাদের ভেতরে ভাষার ঐক্য থাকতে হয়, একটা নির্দিষ্ট সংস্কৃতির চর্চা থাকতে হয়, একটা নির্দিষ্ট ভুখন্ডের অধিবাসী হতে হয়। সেই সংজ্ঞায় বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ চিত্রিত হয় বিশেষত মুসলিম অধ্যুষিত একটি সীমিত অঞ্চল যেখানে মূলত অধিকাংশ মানুষই বাংলা ভাষায় কথা বলে-
সাংস্কৃতিক ঐক্য বিবেচনা করে না, ধর্মীয় বিভাজনটা বজায় রাখে, পশ্চিম বাংলার সাথে একটা স্পষ্ট বিভেদ রেখা গড়ে তুলে এবং শেষ পর্যন্ত মূলত একটা প্রশ্নে এসে থেমে যায়, আমাদের লোকঐতিহ্য কিংবা আমার পূর্বপুরুষের ইতিহাস- আমাদের নির্দিষ্ট একটা জাতিসত্ত্বার অভাব আমরা ধর্মীয় ঐক্যের সম্মিলনে ঘুচাতে চাই।
তবে প্রায়োগিক ভাবনায় এই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ- পশ্চিম বাংলার সাথে আমাদের নিজেদের ব্যবধানটা স্পষ্ট করবার প্রচেষ্টা। আমার কাছে এই ধারণাটাকে সাম্প্রদায়িক বিচ্ছিন্নতার ধারণা মনে হয়, যদিও জাতীয়তাবাদ ধারণাটাই একটু বিচ্ছিন্নতাবাদী ধারণা।
তবে আমাদের তুলনায় চাকমা কিংবা মুরংরা অনেকবেশী জাতীয়তাবাদের দাবিদার, তাদের সংস্কৃতি ভাষা, স্থানিক অবস্থান এবং জাতিসত্ত্বা বিবেচনা করলে তাদের একটা জাতি বলতে বিন্দুমাত্র সমস্যা নেই, তবে বাংলাদেশের বিবেচনায় তারা চিত্রিত হয় ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা হিসেবে এবং রাষ্ট্র তাদের ভাষার উপরে আগ্রাসন চালায় নির্মম ভাবে।
দস্যু বনহুর বলেছেন:
উপভোগ্য পোস্ট। তবে আমার মনে হয় রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সীমানার মধ্যে জাতিসত্তা এবং জাতীয়তা দুটি ভিন্ন ধারনা।
লেখক বলেছেন: রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সীমানায় ভিন্ন ভিন্ন জাতিসত্ত্বা, ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির সম্মিলন সম্ভব, সেটা আত্তীকরণের নীতি, সবাই নিয়ে একটা সম্মিলিত বোধ তৈরি। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের জায়গাটাতে এই কমতিটা আমার মনে হয় সব সময়ই আছে। এটা সব সময়ই মুসলিম প্রধান একটা মতবাদ। অন্তত আমার সামান্য পাঠে এমনটাই মনে হয়েছে।



















এই বিষয়টা কি আরেকটু কিলিয়ার করবার পারেন?