আমার প্রিয় পোস্ট

অতি দক্ষ মিথ্যুক না হলে সত্যবাদিতা উৎকৃষ্ট পন্থা

অগভীর মানুষের ভাবনা ৩

১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:৫৯

শেয়ার করুন:                   Facebook

ব্যক্তিকে খারিজ করতে গিয়ে ব্যক্তির গায়ে প্রতিষ্ঠানের পোশাক চাপিয়ে দিতে হয় বাংলাদেশে। যদিও ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় নগন্য। রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সব অঙ্গনেই এই প্রবনতা বিদ্যমান। ব্যক্তির মতবাদ, ব্যক্তির মনোভাব, ব্যক্তির আদর্শ, এবং ক্ষেত্রবিশেষে ব্যক্তিবিযুক্ততার অপরিহার্যতা, ক্ষেত্রবিশেষে আবেগপরিহারের সচেতন প্রয়াস এখানে অনুপস্থিত।

সুতরাং ব্যক্তিকে খারিজ করতে গিয়ে ব্যক্তিগত দুর্গন্ধ ঘাটবার চেষ্টাটাও পরিলক্ষিত হয় এখানে। নিরক্ষর মানুষ আমি অনেক সময়ই ব্যবহৃত জার্গন বুঝি না। বুঝবার প্রচেষ্টা হয়তো থাকে, তবে জার্গনের বিশেষ নির্বাচিত ব্যবহারে যখন যুক্তির অনুপস্থিতি, যখন সেখানে ব্যক্তিকে খারিজ করতে গিয়ে বাগবিস্তারের প্রচেষ্টা দেখা যায় তখন ব্যবহৃত জার্গনগুলো শুধুমাত্র একটা আড়াল, একটা স্পষ্ট ব্যবধান তৈরির চেষ্টা।

প্রতিষ্ঠানের চরিত্র বিষয়ে আলোচনা অনেক ভাবেই হতে পারে, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে সবচেয়ে বেশী নিপীড়ক চরিত্র ধারণ করে, প্রতিষ্ঠানের আধিপত্যবাদিতার নিদর্শন হিসেবে এ কথা সামনে আনা যায়। ব্যক্তির আধিপত্যবাদের সাথে প্রতিষ্ঠানের আধিপত্যবাদ একই পাত্রে স্থাপনযোগ্য জার্গন নয়। শব্দ হিসেবে তারা একই পর্যায়ভুক্ত হলেও তাদের উপস্থাপন এবং তাদের ব্যবহার সম্পূর্ণ আলাদা।

প্রতিষ্ঠান আধিপত্যবাদী, তার ব্যবসার সম্প্রসারণ প্রয়োজন, এবং তার ক্ষমতা চর্চার ক্ষেত্র বৃহৎ হওয়ার প্রয়োজনে সে নির্দিষ্ট একটা প্রক্রিয়ায় বিরুদ্ধ মত নির্মূল করতে চায়, ক্ষেত্র বিশেষে একটা নৃশংস উদাহরণ নির্মানের প্রয়োজনে তার আধিপত্যবাদের প্রতিকৃতি ছাপাতে হয়।
বাগমারায় যে মানুষটাকে খুন করে তার লাশ গাছের সাথে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয়, সেটা একটা ব্যক্তির উপরে নৃশংসতার চিহ্ন নয়, বরং একটা গণবিদ্বেষ, একটা বিক্ষোভ দমনের স্বার্থক প্রয়াস। চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানো- প্রতিরোধ এবং ভিন্ন মত দমনের জন্য যেকোনো পর্যায়ের অমানবিকতা প্রদর্শনে আমরা পিছ পা হবো না।

সর্বহারার রাজনীতি করতে গিয়ে আদর্শচ্যুত যেসব মানুষ নির্বিচার হত্যা চালাচ্ছে, তাদের নৃশংসতাও তাদের অর্থনৈতিক লালসার পরিচায়ক। এসব প্রতিষ্ঠানও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্তি নিরঙ্কুশ রাখবার জন্য নৃশংসতার পথ গ্রহন করে।

তবে বাংলাদেশ রাষ্ট্র যখন অমানবিক নৃশংসতা চালায় তখন সেটা তার অস্তিত্বের শেকড় আরও গভীরে প্রোথিত করবার জন্য নয়, পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর উপরে নৃশংসতা, তাদের নিজস্ব জগতে হানা দিয়ে তাদের জুমের জমি দখল রাষ্ট্রের সম্প্রসারণশীলতা নয়, বরং রাষ্ট্রক্ষমতায় যেসব ব্যক্তি রয়েছে তাদের নিজস্ব লালসা চরিতার্থ করবার বাসনা। এ কাজে রাষ্ট্রের শক্তি এবং লোকবল নিয়োজিত করতে তাদের ভিন্ন মতের মুখোমুখি হতে হয় না।

তারা প্রতিরোধের মুখোমুখি হয় না সাধারণ সমতলের মানুষদের কাছ থেকে, তাদের প্রতিরোধ করে আক্রান্ত মানুষ, এবং সামরিক বাহিনী নির্দ্বিধায় অন্তত ১০ হাজার মানুষকে হত্যা করতে পারে, সামরিক বাহিনী এবং তাদের সহায়তায় এবং তাদের সমর্থনে সমতলের মানুষগুলোও হত্যা এবং অমানবিকতার চর্চা করতে থাকে, তারা ধর্ষণ, অপহরণ করতে থাকে, এবং সমতলের অধিকার আক্রান্ত হচ্ছে বিধান সামরিক বাহিনী এসে অগ্নিসংযোগে সহায়তা করে। পাহাড়ীদের গ্রাম পুড়ে যায়।

রাষ্ট্র কেনোই বা তবে সমতলের বাসিন্দাদের উপরে নিপীড়ন চালায়, কেনোই বা গত ৪ বছরে বিভিন্ন আইনরক্ষাকারী বাহিনী ৯৫০ জনের বেশী মানুষকে বিনা বিচারে হত্যা করে, কেনো একই সময়ে পুলিশের তত্ত্বাবধানে, আইন রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে আরও ৩০০ জন মানুষ খুন হয়, কেনোই বা পুলিশ লাথি মেরে ৬ তলা ভবন থেকে ফেলে দেয় বৃদ্ধকে, কেনোই বা আর্মির ধাওয়া খেয়ে মানুষ ৬ তলা থেকে লাফিয়ে মরে যায়, কেনোই বা মিলিটারি ভ্যান থেকে মৃত মানুষ লাফ দিয়ে রাস্তায় পড়ে-

এইসব অমানবিকতা আমাদের সমতলের অধিবাসীদের শংকিত করে,

সাধারণ মানুষ এসবে আনন্দিত হয়? শক্তের উপরে ভক্তি নয় বরং ভীতিমিশ্রিত শ্রদ্ধার অনভুতি জাগে? দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চলছে, এটা একটা যুদ্ধ, কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ, কি জন্য যুদ্ধ?
প্রতিপক্ষ কারা? দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ? তবে নিশ্চিত ভাবেই ব্যবসায়ীদের কেশাগ্রও স্পর্শ্ব করে না প্রশাসন, রাজনৈতিকদের সসম্মানে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাদের বৈদেশযাত্রার যাবতীয় আয়োজন করে রাষ্ট্র।

এমন সময়ে সম্মানিত ব্যক্তি হোসেন জিল্লুর রহমার স্পষ্ট অভিযোগ করেন গণমাধ্যম মুক্তি প্রবনতায় ধোঁয়াশা তৈরি করছে, খালেদা জিয়ে ঘোষণা দেন তিনি কোনো মতেই নিজের মুক্তির জন্য আবেদন করবেন না, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো বানোয়াট, ব্যক্তিগত অসুয়া প্রসুত এবং তার কোনো অপরাধই জামিন অযোগ্য নয়। অর্থ্যাৎ খালেদা জিয়া স্পষ্ট একটা অবস্থান গ্রহন করেন, রাষ্ট্রের বর্তমান তত্ত্বাবধায়কদের বিরুদ্ধে। রাষ্ট্র তাকে নির্মূল করতে সাহস পায় না, খালেদা জিয়াকে ক্রস ফায়ারে ফেলবার হ্যডম নেই সরকারের, তারা আপাত নিরীহ মানুষদের হত্যা করতে ভাবে না মোটেও, তবে যাদের চরিত্র এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা হরণের জন্য সংবাদপত্রকে নিয়মিত রপোর্ট প্রকাশে বাধ্য করে সরকার, যাদের নষ্ট এবং ভ্রষ্ট প্রমাণ করে তাদের উপস্থিতি এবং অস্তিত্বের পক্ষে সাফাই গাইতে চায় ১০ নিপীড়ক, সেই যুদ্ধের প্রধান বিরোধী পক্ষকে সসম্মানে মুক্তি দিতে এখন পাগল হয়ে গেছে সরকার। এমন অবস্থা এখন তারা পারলে খালেদা জয়ার পা চেয়ে হলেও তাকে মুক্তি দিবে, প্রয়োজনে ১০ উপদেষ্টা সংসদ ভবন থেকে মইনুল সড়কে খালেদা জিয়ার বাসা পর্যন্ত সমস্ত রাস্তার ধুলি আর আবর্জনা চেটে চেটে খাবে, এরপরও তারা চাইবে খালেদা জিয়ার সম্মতি।
খালেদা জিয়ার অসম্মতিতে তাকে মুক্তি দিলে, কোনো রকম প্রার্থনা ব্যতিত খালেদা জিয়াকে সম্মানে মুক্তি দিলে সরকারের এত দিনের ভাবমুর্তি হাওয়ার উবে যাবে।

বেচারা জিল্লুর রহমান ব্যক্তিমানুষ হিসেবে চমৎকার, তবে যখন তিনি প্রতিষ্ঠানের অংশ তখন তার ভেতরেও প্রাতিষ্ঠানিক বিকৃতি জাগ্রত হয়, তিনিও হুমকি ধামকি দিয়ে ক্ষমতার চর্চাটা করতে চান।

যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবন।

 

 

  • ০ টি মন্তব্য
  • ১২১ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ২ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি

 



 


অনেক অনেক চেষ্টা হয়েছে ব্লগানোর বাংলা করা নিয়ে, আমার এখন ব্লগের নতুন বাংলা করতে ইচ্ছা করলো তাই দিলাম এর নাম...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১১২৭২৬