তারেক জিয়ার মুক্তিতে অগভীর অশালীন ভাবনা ১২
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩২
টিভিতে জিল্লুর রহমানের উল্লসিত আনন্দে ঝিলমিল মুখ দেখে একটা কথাই মনে পড়লো, বৃত্তের পরিধি বরাবর ছুটে লাভ নেই, শেষ পর্যন্ত আবারও সুচনায় পৌঁছাতে হয়।
এত আশা নিয়ে শুরু করা দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, দরকষাকষি, ব্ল্যাকমেইলিং এবং মাইনাস টু ফর্মুলার অবসান হয়ে গেলো আজকে। অবশেষে তারেক জিয়া জামিনে মুক্তি পেয়েছে, তার জামিনের শেষ অনুমতিপত্র আজ আদালত থেকে পৌঁছেছে জেলহাজতের মহাপরিচালকের হাতে।
বাংলাদেশে বসে অনেক কুৎসিত দৃশ্যই দেখতে হয়েছে এত দিন, তবে তারেক পড়ে গিয়ে কোমড়ে ব্যাথা পাওয়ার পর বিএনপি মহিলা দলের কুমারী অকুমারী মেয়েদের চোখের পানি দেখে অশালীন একটা ভাবনা মনে এসেছিলো। আসলেই তো তারেকের মাজা ভেঙে গেলে মহিলা দলের কর্মীনিদের কি হবে?
খালেদা জিয়া এখন সমঝোতায় সম্মত, গতকাল সাখাওয়াৎ হোসেন, এবং নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য সদস্যরাও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন বিএনপির সাথে অতীত আচরণের জন্য। বাংলাদেশে টিকে থাকতে হলে সবাইকে আসলে বিএনপি আর আওয়ামীলীগের নেতাদের মন জুগিয়ে চলতে হয়। সে আর্মি মেজর আর বিগ্রেডিয়ার, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত অধ্যাপক, সবাই একে একে রাজনৈতিক নেতাদের গোয়া চেটে যায়, আমাদের এই চাটাচাটিতেই আনন্দ।
তবুও জিল্লুর রহমানের আনন্দে ঝলমল মুখ দেখে নিজের বিষাদ লুকাতে পারি না। টিভিতে সংবাদ দেখে মা যখন বলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার একদম পঁচে গেছে তখন পঁচনের গন্ধটা নাকে লাগে না, আমি অনেক আগে থেকেই অনুমাণ করেছিলাম এমনটাই ঘটবে, শেষ পর্যন্ত পায়ে ধরে সেধেই বিএনপিকে নির্বাচনে রাজী করতে হবে এই সরকারকে। নিরাপদ এক্সিট কিংবা পলায়নের রাস্তা নির্মাণের জন্য হলেও এই মুক্তি আর জামিনের ছলের প্রয়োজন ছিলো।
আমার মা কোনো রাজনীতি সচেতন মানুষ না, বরং সরকারের নিয়মনীতি মেনে চলতে চান, এমন কি আমার এখনও ভোটার না হওয়ায় আমার উপরে খুব বিরক্ত মা বোধ হয় এবার আমার অনাগ্রহের কারণটা বুঝতে পারবে।
আমি আশাহত হই নি মোটেও তবে আমার মা আশাহত ,তার আশা ছিলো হয়তো অনেক দিন পরে দেশের দুর্নীতিবাজদের উচিত শিক্ষা হবে, তবে এমনটা যে বাংলাদেশের বাস্তবতা নয় তা প্রতি ৫ বছর পর পর ভোট দিয়ে নাগরিক কর্তব্য পালন করা মাকে বুঝানো যাবে না। বুঝানো যাবে না নির্দিষ্ট একটা দলের প্রতি আনুগত্য এবং অন্ধ ভক্তি সব সময়ই আমাদের আতঙ্কিত করে রাখে, একদল অমানুষকে আমাদের নেতা হিসেবে মেনে নিতে হয়, তাদের তাবেদারী হয়ে দাঁড়ায় আমাদের অন্যতম বিনোদন।
তারেক জিয়ার মাজার হাড় ভেঙে যাওয়ায় ক্রন্দসী বিএনপি মহিলা দলের কর্মীদের কান্না দেখে যেমন অশালীন লেগেছিলো আর কালো চশমা পড়া জিল্লুর হোসেনের হাসি মুখ দেখে তেমনও অশালীন অনুভুতি হলো।
জিল্লুর হোসেন কি চেটে আসলেন?
সরপ বলেছেন:
অপরাধ প্রমানিত না হলে জেলে রাখা হোক এটাই আপনি চান? মাইনাস
লেখক বলেছেন: অপরাধ প্রামাণিত হওয়ার আগে চার্জশীট প্রদান করতে হবে, সেটাও এখনও করে নাই, অনেক রকম নিয়ম আছে, সব নিয়মের ফাঁক আছে, অপরাধ করে নাই এমনটাও প্রমাণিত হয় নাই এখনও আসলে।
তবে তার মুক্তি পাওয়া নিয়া আমার সমস্যা নাই, সমস্যা হইলো তারেকের মতো একটা চালিয়াত জোচ্চোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কল্যানে একটা নেতা হয়্যা গেলো এইটাই।
মানুষ জিয়ার জন্যে কাঁদছে, সেইটা দেইখা দুঃখ পাইতাম না, মানুষ আহসানুল্লাহ মাস্টারের জন্য কাঁদছে এইটা দেইখ্যাও দুঃখ পাই নাই, মানুষ কিবরিয়ার জন্য কাঁদছে এইটা দেইখ্যাও দুঃখ পাই নাই,
কিন্তু বিএনপি মহিলা দলের দুধ ঝুলে যাওয়া সব তরুনী এবং যুবতীরা যখন তারেক বাথরুমে পড়ে মাজায় ব্যথা পাইলে রাস্তায় খাড়ায়া কান্দে তখন তারেকের মাজার জোর দেইখ্যা চউখ্যে পানি আয়া পড়ে।
মনে অয় আমাগো আরও লজ্জা পাওন উচিত আছিলো, এক জালিয়াতে জন্য রাস্তায় মাতম কইরা কান্দা পাবলিকেরে এর বেশী কিছু কওনের নাই।
আহ্সান বলেছেন:
জাতি হিসেবে আমাদের লজ্জাবোধ আদৌ হবে কিনা সন্দেহ....।দু:স্বপ্নের জন্য প্রস্তুত হওয়া ছাড়া আমি তো আর কোন পথ দেখিনা....।
আচ্ছা আমরা সাধারণ মানুষরা কেন এভাবে হা হুতাশ করি? আমরা কি পারিনা এই মানুষগুলো ছাড়া আর কাউকে নির্বাচিত করতে?
সৌম্য বলেছেন:
মিলিটারি রুলাররা ককলেস হবে না তো কে হবে? আর্মি জেনারেলরা তাদের প্রফেশানে ঠিকই তাকে। গভমেন্ট চালাইতে গেলে তাদের মেরুদন্ড নুডলসের মতো হইতে বাধ্য। সব সময় এমনি হইছে।
দুরের পাখি বলেছেন:
বঙ্কিমচন্দ্র নাকি বলেছিলেন , অবৈধ সঙ্গম আর অপরের মুখ ম্লান করা ছাড়া অন্য কিছুতে বাঙ্গালির আনন্দ নেই । ১/১১ এর পর এই কথাটি আমি অনেক বাঙালিকে বলে বেড়িয়েছি ।আসলে দুর্নীতির প্রতি ঘৃণা, সুন্দর নতুন দিনের স্বপ্ন ওসব কিছুই না, কয়েকটি রুইকাতলাবোয়াল কে আন্ডারমেট্রিক কিছু উর্দিওয়ালা মিলে পেটাচ্ছেতুলছেবসাচ্ছেচুদছে বাঙালির কাছে বড় ভালো লেগেছিল ওইটুকুই । নইলে কটা বাঙালি দুর্নীতি বুঝে ? যেগুলা বুঝে, তারা নিজেরাও করে বলেই বুঝে, দুর্নীতিবাজদের ধরাপড়া দেখে তাদের তো খুশি হওয়ার কোনো কারণ নাই ।
বায়েস্কোপের নেশা বাঙালিরে আজো ছাড়ে নাই ।
প্রতিটা উর্দিওয়ালা এসে এরকম সুইপিং কিছু পদক্ষেপ নেয়, পাবলিকের হাততালি নেয়ার জন্য । ৫৮'র ইয়াহিয়া আমল থেকে ইতিহাসটা একবার ঘেটে দেখুন ।
দুর্নীতি বন্ধ ডান্ডার বাড়িতে হবে না । ভোলই পাল্টাবে শুধু ।
গণতন্ত্র পরিপক্ক হওয়ার জন্য সময় দিতে হবে । গাছ রোপণ করার আগেই ফলের জন্য চিৎকার শুরু করলে কোনো লাভ নাই।
লেখক বলেছেন: এই কথাগুলা পছন্দ হইছে, তবে গণতন্ত্র পরিপক্ক হওয়ার বিষয়টা নিয়া কিঞ্চিৎ সন্দেহ আছে আমার। অন্ধ আনুগত্য আর রাজতান্ত্রিকতার জায়গাতে গণতন্ত্র অসহায়।
তারেক যখন বাংলাদেশের জাতীয় নেতা হয়ে যাবে তখন বুঝতে হবে এই দেশের জনগণের ঘিলুতে না হয় মনঃস্তত্বে বড় ধরণের সমস্যা আছে। গণতন্ত্র চাষাবাদের জিনিষ না, এইটা মানসিকতার পরিবর্তন না করে তৈরি করাও সম্ভব না।
এরপরও আশা কইরা থাকি- হয়তো যোগ্য কোনো নেতাই একদিন এইসব লালু ফালু সালু লাল্টু-পল্টু- অভিদের বদলে দেশে অন্য কোনো নেতা জন্মাবে, সেলিম, শহিদুলের বাইরেও আমাদের জনপ্রতিনিধিদের ভেতরে সম্মানযোগ্য কোনো নেতা আসবে-
ততদিন এই অশালীন দৃশ্য দেখে গালাগালি করে যাইতে হবে।
এস্কিমো বলেছেন:
মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকলাম।
দস্যু বনহুর বলেছেন:
জেলখানার অন্যান্য সব অপরাধীদের ছেড়ে দেয়া হোক। এদেরকে শুধূ শুধু আটকে রাখার কোন মানে হয়না।
লেখক বলেছেন: কবে?
ইশতারি খাইতে চাই, একটা দিন ঠিক করা লাগে, পরশু হইতে পারে, শনি বার হইতে পারে,
সরপ বলেছেন:
বিএনপি মহিলা দলের দুধ ঝুলে যাওয়া সব তরুনী এবং যুবতীরা যখন তারেক বাথরুমে পড়ে মাজায় ব্যথা পাইলে রাস্তায় খাড়ায়া কান্দে তখন তারেকের মাজার জোর দেইখ্যা চউখ্যে পানি আয়া পড়ে।ভাষা ঠিক করেন। আবার মাইনাস



















এডি এইরমই